ফন্ট সাইজ:
থিম:
মনের রঙে তুমি

১৩তম পর্ব

লেখক: সুমনা সাথী

#মনের_রঙে_তুমি

#লেখনীতে:সুমনা সাথী

[১৩]

রাহেলা বেগম তাড়াতাড়ি এক গ্লাস পানি এনে ধরলেন। আহির পানি খেতে খেতে কপাল ঘেমে উঠলো। একটু পর, নুহা বেরিয়ে এলো। তার হাতে আধভেজা তোয়ালে ধীর পায়ে সে উঠোনের দড়িতে সেটি মেলে দিলো। আহির তাকিয়ে রইলো একদৃষ্টে। নুহার মুখে গোমরা ভাব, দেখে আহিরের হালকা হাসি পেল । তবে সে হাসিটা চেপে রেখে কৌশলে বলল,

‘কার যেন চলে যাওয়ার কথা ছিলো, মনে আছে?’

নুহা একবার চোখ তুলে তাকালো। ঠোঁটে চাপা ক্ষোভ। ঘরের ভেতরে চলে যেতে যেতে শুধু বলল,

‘এসেছি নিজের ইচ্ছেতে, যাবও নিজের ইচ্ছেতেই। কারো কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার দায় নেই আমার।’

দুপুর গড়িয়ে বিকেল। সূর্য ঢলে পড়ে পশ্চিম আকাশে। রঙিন আলো ছড়িয়ে পড়েছে দিগন্তজোড়া আকাশজুড়ে। হালকা সোনালি আভায় ভরে উঠছে চারপাশ। উঠোনের ধারে রোদ মরে আসছে, গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রশ্মিরা ছায়া-আলো খেলছে মাটির ঘরে। নুহাকে পুকুরঘাটে খুঁজে পেল আহির। পুকুরঘাটের ধারে বসে নুহা, গালে হাত দিয়ে উদাস চোখে তাকিয়ে আছে স্থির জলের দিকে। পরনে রাহেলার দেওয়া শাড়ি। আসার সময় নিজের কিছুই নিয়ে আসেনি, তাই গোসলের পর নতুন করে পরার মতো পোশাকের অভাবে সেটাই পরে আছে। চুলগুলো খোলা, হালকা বাতাসে দুলছে অবাধে।

আহির ধীর পায়ে এগিয়ে এল। এসে নুহার পাশে বসে একপলক তাকিয়ে বলল,

‘আচ্ছা, ওইখানে কি চমৎকার কিছু দেখা যাচ্ছে? আমাকে যদি বলা হতো, আমিও উপভোগ করতে পারতাম।’

নুহা কিছু বলল না। আহির তার মাটিতে রাখা হাতের উপর আলতো করে হাত রাখতেই, নুহা চট করে হাত সরিয়ে নিলো। চোখ দুটো রাগে জ্বলজ্বল করে উঠল। গলা কাঁপিয়ে বলল,

‘খবরদার! আমাকে ছোঁবেন না।’

আহির একটুও উত্তেজিত না হয়ে শান্ত গলায় বলল,

‘কেনো?’

নির্লিপ্ত সুর যেন আরও উসকে দিলো নুহাকে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

‘আপনার সাথে কি আমার ছোঁয়াছুঁয়ির সম্পর্ক?’

আহির মুচকি হেসে বলল,

‘হতে কতক্ষণ?’

নুহা কপাল কুঁচকে তাকাল,

‘কি হতে কতক্ষণ?’

আহির নির্লিপ্ত স্বরে বলল।

‘ছোঁয়াছুঁয়ির সম্পর্ক!’

নুহা চোখ বড় করে তাকাল,

‘আপনি সিরিয়াস?’

আহির চোখে চোখ রেখে বলল,

‘আমার কি মজা করার বয়স আছে? আমি শতভাগ সিরিয়াস। বলো, তুমি রাজি?’

নুহা ঠোঁট টিপে হাসল,

‘ইস! শখের কোনো শেষ নেই! আপনি ফ্যাল্টিং এ বড্ড কাঁচা ডাক্তার!’

আহির এমন এক হাসিতে হেসে উঠল যে পুকুরে সাঁতার কাটতে থাকা হাঁসগুলো থেমে তাকিয়ে রইল তাদের দিকে। নুহাও হাসি চেপে রাখতে পারল না। তারপর ধীরে মাথাটা রাখল আহিরের কাঁধে। আহির যেন মুহূর্তে অবশ হয়ে গেল। শরীর কেঁপে উঠল এক ঝাঁকুনিতে। মুচকি হেঁসে বলল,

‘এখন আর দোষ হবে না? এক অবিবাহিত ছেলের কাঁধে মাথা রেখে বসে আছো? এই তো হবে কলঙ্ক তাও আমার?’

হেঁসে উঠলো নুহা,

‘ইস! কী সর্বনাশ হবে বলুন তো ! আপনার তো বিয়েই হবে না!’

দু’জনেই হেসে উঠল। কিছুক্ষণ পর নুহা গম্ভীর কন্ঠে বলল,

‘আমি বুঝতে পারছি, আপনি কষ্ট পাচ্ছেন। আপনি অনুতপ্ত। উনি আপনার দাদু ছিলেন, জানি। কিন্তু পালিয়ে থেকে তো সব কিছু ঠিক হয় না, তাই না? সত্যি করে বলুন, আপনি কি ডাক্তারি ছেড়ে দিতে পারবেন? আন্টির মুখে শুনেছি এটা আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এতদূর এসে হঠাৎ করে থেমে যাবেন?’

আহির চুপ। মুখে কোনো কথা নেই। শুধু চোখ দুটো যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে। খানিক পর বলল,

‘এই গ্রামটা অনেক সুন্দর, তাই না?’

নুহা একটু অবাক হলেও ধীরে মাথা নেড়ে বলল,

‘হুম, খুবই সুন্দর। শহরে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। এখানে এসে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছি।’

আহির হালকা হেসে বলল,

‘তাহলে চল, এখানে একটা ছোট্ট বাড়ি বানিয়ে ফেলি। আমি মতিন দাদুর মতো মাঠে কাজ করব, তুমি রান্নাঘরে থাকবে, আমার জন্য অপেক্ষা করবে... এই জীবনের চেয়ে আর কী চাও বলো?’

নুহা হেসে বলল,

‘তা মন্দ শোনায় না। তবে বরাবর থাকার বদলে বরং বছরে একবার করে আসা যাক। ওইটায় বেশি আনন্দ হবে। আপনার পরিবার আছে তাদের সাথে স্বার্থপরের মতো আচারণ আপনি করতে পারলেও আমি পারবোনা। আমি ওদের ভীষণ ভালোবাসি। আর আপনি? আপনাকে মাঠে কাজ করতে একদমই মানাবে না। আচ্ছা, একটা সত্যি কথা বলবেন?’

‘কি?’

‘ভালোবাসেন আমায়?’

‘সন্দেহ আছে?’

নুহা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

‘তাহলে এখান থেকে ঢাকা ফিরে বিয়ে করবেন আমায়।’

আহির থমকে গেল। বুঝে উঠার চেষ্টা করলো এই মেয়ের মাথায় চলছে টা কি। নুহার ব্যবহার কেমন আজব লাগছে তার কাছে। কোনোভাবে কি নুহা আহিরকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এই মেয়ের পক্ষে সবই সম্ভব। সারাক্ষন তো আহিরকে বেকার, স্বার্থপর আরও না জানি কি কি নামে ভূষিত করে। আহির একটু হেসে বলল,

‘এত তাড়া কীসের ম্যাডাম? আমার বুড়ো হওয়ার ভয় পাচ্ছো নাকি?’

‘আমি সিরিয়াস, ডাক্তার। আপনি বারবার নিজেকে বুড়ো বলে কী প্রমাণ করতে চান? দাঁড়িয়ে থেকে আমাকে বিয়ে দিয়ে দায়িত্ব সেরে ফেলবেন? আপনার বয়স এতই বেশি হয়েছে?’

আহির একটু হেসে বলল,

‘ওকে, সিরিয়াস। তাহলে চলো এখনই বিয়ে করে ফেলি।আমি দাদি-দাদু কে বলছি চলো। ’

নুহা ভ্রু কুঁচকে তাকাল,

‘আমি তো বললাম, আমি সিরিয়াস।’

আহির কিছুক্ষণ নুহার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

‘তুমি কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তায় আছো? তোমার কি মনে হয়, আমি তোমার সাথে সাথে প্রেম প্রেম খেলা খেলতে আগ্রহী? তুমি কি ভাবছো আমি তোমাকে ঠকাবো?সিরিয়াসলি তোমার আমাকে ওই ধরনের ছেলে মনে হয়?’

নুহা মাথা নাড়িয়ে বলল,

‘না তো! তবে আপনার আমাকে বিয়ে করতে সমস্যা কোথায় বলুন তো? ওই হেনা? নাকি…’

আহির আর বলতে দিলো না। একহাতে নুহার মুখ চেপে ধরল, কণ্ঠ ভার করে বলল,

‘বিয়ে করলে, তোমাকেই করবো। এক্ষুনি বললে, এক্ষুনি করবো।’

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন