#মনের_রঙে_তুমি
#সুমনা_সাথী
[১৭]
বিয়ের মঞ্চে বধূবেশে বসে থাকা নুহার কাছে চারপাশের কোলাহল। হাসি-মজা। খুনসুটি। অস্পষ্ট দূরের শব্দের মতো মনে হচ্ছে। পাথরের মতো অচল হয়ে বসে আছে সে। হঠাৎ বিয়ে বাড়ির জাঁকজমকের মধ্যে প্রবেশ করল চার-পাঁচজন পুলিশ। সকলেই চমকে তাকালো একে অপরের দিকে। নুহার চোখ মুহূর্তে চঞ্চল হয়ে উঠলো।কিন্তু আরও চমকপ্রদ হলো পুলিশদের সঙ্গে আহিরকে দেখা। আহিরের দৃঢ় ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নুহার দিকে তাকালো। পুনরায় পেছন ফিরে পুলিশদের উদ্দেশ্যে বলল,
' অফিসার গ্রেফতার করুন আমার শ্বশুরকে! আমার অনুপস্থিতিতে উনি আমার বউয়ের অন্যত্র বিয়ে দিচ্ছেন!'
আহিরের কণ্ঠের গর্জন চারপাশে প্রতিধ্বনি হলো। তারপর আবারও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নুহার দিকে তাকিয়ে বলল,
' আর তুমি! তোমার এত সাহস হলো কী করে? আমার বউ হয়ে তুমি অন্য কারো বউ হওয়ার সাজে এখানে বসে আছো? কাকে ফাঁকি দিতে এসেছো নুহা? আমাকে; নাকি নিজেকেই?'
বিয়ের আসরে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। কোলাহল মিলিয়ে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এলো। সবাই নিঃশব্দে চাওয়াচাওয়ি করছে। আহির আবার গর্জে উঠলো। পুলিশ অফিসারদের দিকে চোখ রেখে বলল,
' কি দেখছেন অফিসার? এখনও দাঁড়িয়ে আছেন কেন? গ্রেফতার করুন এই শ্বশুর নামের অসুরটাকে! তাকে থানায় নিয়ে যান। সব ধরনের মামলা দেবেন। টাকা যা লাগে আমি দেব। তিন-চার বছর পর্যন্ত যেন বাইরে বের হতে না পারে।'
ফায়েজ ওয়ালী চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে গেলেন। নওয়াজ ছুটে এসে আহিরের কলার ধরে দাঁত চেপে বলল,
'খবরদার! ফালতু কথা বলবি না। কীসের বউ তোর?'
একজন পুলিশ বলল,
' আপনি ছাড়ুন ওনাকে।'
আহির নওয়াজকে ধাক্কা দিয়ে থামিয়ে বলল,
' সবাই শুনুন। নুহা আমার বিয়ে করা বউ। আমরা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। কাবিন নামা ও আছে। সংসারও করেছি। এতদিন সে আমার বাড়িতেই থাকতো। কি হলো আপনারায় বলুন থাকতো না?'
নওয়াজ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
' কীসের বিয়ে হ্যাঁ! কোনো বিয়ে-টিয়ে হয়নি ও তো পড়াশোনার…'
নওয়াজ কথা শেষ করার আগেই আহির একটা কাগজ দেখালো। কাবিন নামা। নুহার স্বাক্ষর পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। মুহুর্তে নওয়াজ নুহার দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠলো,
'এসব কি নুহা? আমি জিজ্ঞেস করছি এসব কি?'
নুহার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সব কিছু মিলিয়ে কিছুই মাথায় ঢুকছে না। ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে কাগজে চোখ বুলিয়ে নওয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল,
' ভাইয়া, বিশ্বাস করো এসব মিথ্যে।'
'একদম চুপ! লজ্জা করলো না তোর? বাবার মান-সম্মানের কথা একবারও ভাবিস নি? ইচ্ছে তো করছে তোকে…'
নওয়াজ নুহাকে চড় মারতে যেতেই আহির দ্রুত তার হাত ধরে ফেলল,
' খবরদার, যদি নুহার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেছেন। আমি সামনে আমার স্ত্রীর গায়ে কেউ হাত তুলবে আমি কিন্তু বরদাস্ত করবো না। ও আমাকে ভালোবাসে তাই বিয়ে করেছে। এতে দোষ কোথায়?'
নুহা ধীরে ধীরে আহিরের দিকে এগিয়ে গিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো। আহির চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকাল। নুহা কাঁপা গলায় বলল,
' আপনি এসব কেনো করছেন? কখন বিয়ে করেছি আমি আপনাকে? আমি তো আপনাকে বলেছিলাম… আমি আপনাকে ভালো…'
আহির নুহাকে বলতে না দিয়ে বললেন,
'তুমি কি বলবে? জানিনা ঢাকা থেকে আসার পর তোমার কি হয়েছে। জানিনা তোমার বাবা-ভাইয়া পরিবারের সবাই তোমাকে কি বলে আমার বিরুদ্ধে করেছে। আমরা কিন্তু একে অপরের জন্য ছিলাম নুহা৷ তুমি অস্বীকার করতে পারো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো না।'
হঠাৎ তুষার চেঁচিয়ে উঠলো।
'এইসব নাটক বন্ধ কর বুঝেছিস? আমি নুহাকে ভালো করে চিনি। যখন সে বলছে এসব মিথ্যা;তখন তার মানে মিথ্যা। তুই ওকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছিস। এইসব ভালোবাসা-টালোবাসা সব মিথ্যা!'
আহির ব্যঙ্গত্বক হাসলো। বলল,
' আচ্ছা এসব মিথ্যা। তাহলে নুহাকে জিজ্ঞেস কর। সে আমাকে ভালোবাসে না। আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই তাহলে আমার সাথে এক ঘরে রাত কাটিয়েছে?হ্যাঁ আমরা ঠিকই শুনছেন আপনারা। বিশ্বাস না হলে নুহাকে জিজ্ঞেস করুন। এসব কেনো? এমনি কি?'
বিয়ে বাড়িতে এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন হঠাৎ হৈচৈ করে উঠলো। সবাই কানাঘুষা করতে শুরু করলো। ফায়েজ ওয়ালী মাথা নিচু করে ফেললেন।
নুহার চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। আচমকা আহিরের কলার ধরে বলল,
'কেনো করলেন আহির? কিভাবে পারলেন? আপনাকে ভালোবাসার প্রতিদান দিলেন? ছিহ! আমার সম্পর্কে এমন নোংরা কথা বলতে বিবেগে বাঁধলো না আপনার? আমার দুর্বলতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে লজ্জা করলো না আপনার?আপনার মানসিকতা এতটা নিচ? আমি ভাবতে পারছিনা। এসব করে কি ভেবেছেন আপনি আমাকে পাবেন? কখনোই না। আজ যা করলেন আজকের পর আপনার জন্য আমার কাছে শুধুই ঘৃনা থাকবে।'
নুহা হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে বলল,
' ভাইয়া, আব্বু বিশ্বাস করো। হ্যাঁ আমি সত্যিই এই লোকটাকে ভালোবাসতাম। একটা কারন বসত একঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু এই বিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যে…'
বাকি কথা শেষ করার আগেই আচমকা একটা শক্ত চড়ের আঘাতে চুপ করে গেল নুহা। ফায়েজ ওয়ালী দ্বিতীয়বার আঘাত করার আগে নওয়াজ তাকে আটকালেন। তিনি গর্জে উঠলেন,
'এ আমার মেয়ে হতেই পারে না। আর যদি হয়ে থাকে আজকের পর আমি ওর মুখ দেখতে চাই না। আমি ওকে মৃ'ত ঘোষনা করলাম। ওকে আমার চোখের সামনে থেকে বের হয়ে যেতে বল।'
তারপর সবার সামনে হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে বললেন,
' আপনাদের কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। কোনো বিয়ে হবে না। আপনারা এখন যেতে পারেন। তবে আজ থেকে চল্লিশ দিন পর আমার একমাত্র মেয়ের চল্লিশায় অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। সবাইকে আমি খোলা নিমন্ত্রণ করলাম।'
কথা শেষ করে ফায়েজ ওয়ালী বাড়ির ভিতরে চলে গেলেন। নুহা ধপ করে মাটিতে বসে পড়লো। আহিরও বেরিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই তুষার এগিয়ে এসে আহিরের হাত ধরে ধরল। সবাইকে লক্ষ্য করে ধীর কণ্ঠে বলল,
' আপনারা প্লিজ কেউ যাবেন না। আমরা ভীষণ দুঃখিত ওদের বিয়ের বিষয়টা আমরা আগে জানতাম না।তাই এই ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা চাই আরও একবার আমাদের নুহাকে বিয়ে দিয়ে তার স্বামীর হাতে তুলে দিতে।'
তারপর তুষার আহিরের দিকে তাকিয়ে হালকা মৃদু হাসি দিয়ে বলল,
'কোথায় যাচ্ছো, আহির? বউকে নিয়ে যাবে না? আচ্ছা মানলাম নুহা আর তুমি বিবাহিত। এক বউকে দুইবার বিয়ে করতে তোমার নিশ্চয়ই আপত্তি নেই। তুমি তো ভালোবাসো ওকে। আমরা সবাই নিজের চোখে তোমাদের বিয়ে দেখতে চাই। তারপর না হয় একবারে নিজের বউ সাথে নিয়ে যাবে। '
_________
এতকিছুর পরেও বিয়েটা হয়ে গেল। নুহার হাজার মানা সত্ত্বেও বাড়ির মান-সম্মান আর বাবার মুখ কিছুটা রক্ষার্থে সবার চাপে শেষমেশ বিয়েটা সম্পন্ন হলো। কিন্তু যে বিয়ে নুহার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত হওয়ার কথা ছিল সেটার কিছুই অনুভব করতে পারলো না নুহা।
যাকে সবচেয়ে বেশি চেয়েছিল আজ তাকেই বিয়ে করছে তবুও বুক ভরে আনন্দ আসছে না। চোখে মুখে শুধু হাহাকার। আহিরের মুখেও ছিল একই রকম গাম্ভীর্য। বিরক্তি আর অস্বস্তি স্পষ্ট। অথচ আজ তো ওর খুশি হওয়ার কথা বিয়ে করে পৃথিবী জয় করার মতো উচ্ছ্বাস দেখানোর কথা। কিন্তু মুখভঙ্গি বলে দিচ্ছে এই বিয়ে ওর কাছেও জোর করে চাপিয়ে দেওয়া। বিয়ে শেষ হতেই তুষার গম্ভীর মুখে এগিয়ে এসে বলল,
'এবার তো সত্যি কথাটা শোনা দরকার আহির। আগের বিয়ের বিষয়টা আসলে কী ছিল? আমি নিশ্চিত তোমার ওই কথিত বিয়েটা একতরফা ছিল। নুহা এতে কখনো জড়িত ছিল না। আর যে কাগজ দেখিয়েছিলে, সেটা জাল তাই না?'
সবার দৃষ্টি মুহূর্তেই গিয়ে পড়ল আহিরের দিকে। পরিবেশ হঠাৎই ভারী হয়ে উঠল। আহির ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। ঠোঁটের কোণে টানল তাচ্ছিল্যের একরাশ হাসি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নুহার দিকে তাকিয়ে বলল,
'তোমাদের সত্যিই মনে হয় এত নাটক আমি করেছি এই মেয়েটাকে বিয়ে করে সংসার করার জন্য? ও যেটা আমার সঙ্গে করেছে… ওর মতো ছলনাময়ী কাউকে আমি শুধু ঘৃণা করি। হ্যাঁ আমি এই সব করেছি শুধু প্রতিশোধের জন্য। আমার আর আমার পরিবারের যে অপমান হয়েছিল তার জবাব দেওয়ার জন্য। যাই হোক অন্তত এই বিয়েটা করে তোমাদের অসম্মান কিছুটা হলেও ঢেকে দিলাম। কিন্তু এই বিয়ে সারাজীবন বয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। খুব শিগগিরই ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেব।'
কথা বলে আহির দরজার দিকে হাঁটা দিল। কিন্তু কয়েক পা গিয়েও থেমে গেল। চোখে অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে আবারও নুহার দিকে তাকাল। নুহা উদাসীনভাবে চুপচাপ বসে আছে। চারপাশের কোনো শব্দই যেন তার কানে পৌঁছাচ্ছে না। আহির ছোট্ট এক নিঃশ্বাস ছাড়ল। তারপর বলল,
'আর হ্যাঁ… ওই পুলিশগুলোও ছিল নকল। তুষার, আমি ডিভোর্স পাঠানোর পর তুমি অবশ্যই ওকে বিয়ে করবে। ও তোমার মতো কারও যোগ্য। আহির ইবনান মীরের ভালোবাসা পাওয়ার কোনো যোগ্যতা ওর নেই।'
নওয়াজ সামনে দাঁড়িয়ে পথ আটকালো। অনুনয় করে বলল,
'দেখো আহির, মানছি আগে অনেক কিছু ঘটেছে। কিন্তু এখন নুহা তোমার বউ। তুমি ওকে এভাবে ফেলে রেখে কিভাবে চলে যেতে পারো? আর সবচেয়ে বড় সত্যি হলোও তোমাকে ভালোবাসে। এই বিয়েতে ওর মত ছিল না। আর কতটা পোড়াতে চাও তুমি ওকে। এতকিছু তো করলে এবার অন্তত্য ওকে সাথে নিয়ে যাও।'
আহির ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত মুখে বলল,
'পথ ছাড়ুন তো। এসব সস্তার ভালোবাসা আমার একদম লাগবে না।'
নওয়াজ অনুরোধের সুরে বলল,
'আহির আমি তোমার কাছে অনুরোধ করছি।প্লিজ ওকে তোমার সাথে নিয়ে যাও। জানি না এতকিছুর পর আব্বু ওর সাথে কী করবেন। মেয়েটা ছোট থেকে শুধু কষ্টই পেয়েছে। তুমি তো ওকে ভালোবাসো তাই না?'
পেছন দিক থেকে রিমার ভয়ার্ত চিৎকার ভেসে এল,
' ভাইয়া! নুহা আপু অজ্ঞান হয়ে গেছে!'
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো মুহূর্তেই। চারদিক থেকে মানুষ ছুটে এলো। কেউ পানি ছিটালো। কেউ হাত-পা ঝাঁকাতে লাগলো। কথাটা আহিরের কানে পৌঁছালো কিনা কে জানে। সে একবারও পেছন ফিরে তাকালো না। দ্রুত পায়ে বিয়ে বাড়ির দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে গেল।
________
তিনদিন কেটে গেছে। আহির সবকিছু স্বাভাবিক করে আবার আগের মতো জীবনযাপন শুরু করেছে। সেদিন বেশ রাত করে ঘরে ফিরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই খাটে শুয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে সে হঠাৎ থমকে গেল।গায়ে কম্বল জড়িয়ে গভীর ঘুমে ডুবে আছে নুহা আহিরের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। প্রথমে ভেবেছিলো এটা নিশ্চয়ই কোনো ভ্রান্তি। গত কয়েকদিন ধরে মাথার ভেতরে যতটা অস্থিরতা জমেছে হয়তো তারই প্রতিচ্ছবি। কিন্তু কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই বুঝলো এ ভ্রম নয়। এ সত্যি। মুহূর্তেই প্রচণ্ড রাগ আর ক্ষোভ তার ভেতর দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো। দরজাটা প্রচণ্ড শব্দে বন্ধ করে দিয়ে গর্জে উঠলো,
' আম্মু! আম্মু কোথায় তুমি?'
চিৎকার শুনে রান্নাঘর থেকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে এলেন আরিফা বেগম। মুখে বিস্ময়। আহির এগিয়ে গিয়ে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলল,
'ওই মেয়েটা আমার ঘরে কী করছে আম্মু? আমি ওকে…'
কথাটা শেষ করার আগেই আহিরের গালে প্রচণ্ড জোরে চড় বসালেন আরিফা বেগম। মুহুর্তে আহির স্তম্ভিত হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। চোখে অবিশ্বাস। আরিফা বেগমের তীব্র ক্ষোভ নিয়ে বললেন,
' তুই যে আমার ছেলে এটা ভাবতেই আমার ঘৃণা হচ্ছে! এমন নোংরা কাজ করার সাহস কোথা থেকে পেলি? এই শিক্ষায় তোকে বড় করেছি আমি? তোর মতো ছেলেকে পেটে ধরেছি এ ভেবেই লজ্জায় মরে যাচ্ছি আমি।'
আহির দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
' তুমি শুধু আমার দোষটাই দেখছো আম্মু। আর ও? ও আর ওর পরিবার আমার সাথে যা করেছে সেটা কী? আচ্ছা বাদ দাও সেসব। আমি শুধু একটা জিনিস জানি ওর সাথে এক ছাদের নিচে থাকতে পারবো না। হয়তো ও থাকবে, নয়তো আমি!'
আরিফা বেগম গর্জে উঠলেন,
' মেয়েটা ম'রতে বসেছিলো আহির! হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে লড়ছিলো ও। আমি ওকে সেখান থেকে তুলে এনেছি। এখনো তুই নিজের নিকৃষ্ট কাজের পরিনতি বুঝতে পারছিস না?'