ফন্ট সাইজ:
থিম:
মনের রঙে তুমি

১৮তম পর্ব

লেখক: সুমনা সাথী

#মনের_রঙে_তুমি

#সুমনা_সাথী

[১৮]

' ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করা আর অতিরিক্ত মানসিক চাপে মেয়েটা ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে টানা দুইদিন ছিলো । ডাক্তাররা বলেছে শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি ওকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি। আর এই সময় ওর ওই নির্বোধ, অহংকারী বাবা ঘোষণা দিয়েছে মেয়ের জন্য তার ঘরে আর কোনো জায়গা নেই। গ্রামজুড়ে মানুষ নানারকম কথা বলছে। তুই যেসব বলেছিস আর করেছিস তার ভিত্তিতে মেয়েটাকে বাজে ভাবে কথা বলে অপমান করছে। তবু থাকার জায়গার অভাব ছিলনা ওর। ওর ভাই চাইলে ওকে জোর করে বাড়িতে রাখতে পারতো। কিন্তু এই অবস্থায় মানুষের এসব কটু কথা ওকে আরো ভেঙে ফেলতো। ওর ভাই নিজে আমাকে ফোন করে অনুরোধ করেছে আমি যেন নুহাকে এখানে নিয়ে আসি। কারণ ওর বিশ্বাস তোর সামনে থাকলে নুহা মানসিকভাবে সুস্থ হবে। আহির তোর এসব বেপরোয়া কাজের প্রভাব মেয়েটার জীবনে কতটা ভয়ঙ্করভাবে পড়েছে তা বুঝতে পারছিস? আশা করি তোকে আলাদা করে বোঝাতে হবে না। তুই নিজেও তো ডাক্তার।'

কথাগুলো শুনে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো আহির। চোখে-মুখে হালকা দ্বিধা। তারপর মুহূর্তেই নিজের অভিব্যক্তি কঠিন করে বলল,

' তুমি শুধু আমার ভুলটাই দেখছো আম্মু। নুহার তার পরিবারের ভুলগুলো দেখছো না কেন? তারা কীভাবে তোমাদের অপমান করতে পারে। ওরা তোমাদের অপমান করেছে। আমাকে ঠকিয়েছে। আর আমি চুপচাপ মেনে নেব? ও আমাকে রিজেক্ট করে কিভাবে অন্য কাউকে বিয়ে করতে গেল? আমি শুধু প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম ব্যাস। ভুল কোথায় করেছি? আমি শুধু বিয়ে করেছি আর রেখে এসেছি। এইটুকু অপমান ওদের প্রাপ্য ছিলো। আর হ্যাঁ ওর সেই হবু বর তারও একটা ঘুষি পাওনা আছে আমার কাছে।সময় হলে ওটা ও ফেরত দেব। '

আরিফা বেগম ক্রোধভরা চোখে তাকালেন। কণ্ঠ আরও ভারী হলো,

' তোর সাথে যুক্তি করা বৃথা। যা হয়েছে হয়ে গেছে। কিন্তু মনে রাখিস আজ থেকে নুহার সাথে কোনো রকমের বাজে ব্যবহার সহ্য করবো না। মেয়েটা অসুস্থ ওকে আগে সুস্থ করা আবশ্যক।সকাল থেকে আবার জ্বর এসেছে। ডাক্তাররা বলছিলো হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা করা উচিত। আমি-ই জোর করে এখানে এনেছি। ওই পরিবেশে মেয়েটা আরো ভেঙে যেতো। তাছাড়া ডাক্তার তো আমার ঘরেই আছে। তুই গিয়ে একবার ওর জ্বরটা চেক কর।'

আহির একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটা দিলো। মুখ ঘুরিয়ে নিচু স্বরে বলল,

' আমি ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছি আম্মু। ওর জন্য অন্য ডাক্তার ডেকে আনো।'

আরিফা বেগম তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন। তারপর রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে বললেন,

' ফ্রেশ হয়ে ওকে একবার চেক করে দেখবি। তারপর নিচে আয়। আমি খাবার বাড়ছি।”

আহির নিরাসক্ত কণ্ঠে উত্তর দিলো,

'আমার খিদে নেই।'

_________

আহির ঘরে ঢুকতেই থমকে দাঁড়াল। খাটে আধশোয়া নুহা। বালিশে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছে। পাশে চেয়ার টেনে বসে আছে আরোশ। দুজনের কথোপকথনে নুহার ঠোঁটে একটুকরো মৃদু হাসি।দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আহির শোনার চেষ্টা করলো। কী এমন মজার কথা চলছে!নুহা অবাক দৃষ্টিতে আরোশের দিকে তাকিয়ে বলল,

' তুমি সত্যিই আমাকে মিস করেছিলে? বিশ্বাসই হচ্ছে না। তুমি তো আমাকে একদম অপছন্দ করতে।'

আরোশ চশমাটা আঙুল দিয়ে ঠিক করল। গম্ভীর মুখে বলল,

' হ্যাঁ, প্রথমে তোমাকে ভালো লাগেনি। কিন্তু ধীরে ধীরে আই থিংক আই লাইক ইউ। তুমি আসলে মোটেও খারাপ না। বরং দেখতে একেবারে পুতুলের মতো তার থেকেও সুন্দর তোমার ব্যবহার। জানো আমার ক্লাসের সব মেয়ের থেকেও তুমি সুন্দর। আর তুমি যতটা আমাকে ছোট ভাবো আমি আসলে এতটা ছোট নই। আমি তোমাকে নোটিশ করি।'

নুহা মৃদু হেসে বলল,

' ধন্যবাদ ছুটু।'

আরোশ কপাল কুঁচকে বলল,

' ধন্যবাদ কেনো? আর তুমি আমার নামটা পছন্দ করো না বুঝি? ঠিক আছে মানছি আমি তোমার থেকে বয়সে ছোট। কিন্তু সামান্য ছোট।'

নুহা মুচকি হেসে মাথা নেড়ে বলল,

' সামান্য নয়। তুমি অনেকটা ছোট।'

আরোশ দম নিলো। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

' ব্যাড লাক আমার। আরেকটু বড় হলে কোনোভাবেই তোমাকে ভাইয়ার জন্য স্যাক্রিফাইস করতাম না। আচ্ছা তুমি ভাইয়াকে কেন চুজ করলে? তোমার নিজের বয়সী কাউকে তো পেতে পারতে। ভাইয়া তো প্রায় বুড়ো হয়ে গেল।'

নুহা হঠাৎ খিলখিল করে হেসে উঠলো। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আহিরের চোখ মুহূর্তেই বড় হয়ে গেল। দরজায় নক করলো।নুহা চমকে উঠে মুহূর্তেই মুখ গম্ভীর করে ফেলল। আহির ঘরে ঢুকে গম্ভীর দৃষ্টিতে আরোশের দিকে তাকাল।কণ্ঠ শক্ত করে বলল,

' তোর পড়াশোনা নেই? পরের সপ্তাহেই তো তোর পরীক্ষা। পড়াশোনার বদলে এখানে গল্পগুজব করছিস কেন?'

আরোশ চশমা ঠিক করে শান্ত কণ্ঠে বলল,

' ভাইয়া তুমি ভালো করেই জানো আমি এক সপ্তাহ না পড়লেও নব্বই প্লাস মার্ক পাবো। শুধু বাড়াবাড়ি করে চিন্তা করছো। নুহা অসুস্থ। আমি ওকে সঙ্গ দিচ্ছি। আর হ্যাঁ আমি তোমার উপর রেগে আছি। নিজের একমাত্র ভাইকে ধোঁকা দিয়ে। না জানিয়ে। তারই পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে ফেললে! এটা কতটা লজ্জাজনক কাজ জানো?'

আহির ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আরোশের কান টেনে ধরল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

' খুব সাহস বেড়েছে না তোর? ভাইয়ের সাথে বেয়াদবি করছিস! বয়স কত তোর? এই বয়সে পড়াশোনার বদলে মেয়ে দেখা হচ্ছে? আর কী বলছিলি? আমি বুড়ো?'

আরোশ বিন্দুমাত্র ভড়কালো না। গম্ভীর স্বরে বলল,

' ভুল হয়ে গেছে ভাইয়া। সরি। কিন্তু বড় হয়েছো বলে যা খুশি তাই করবে? আমি ভুল বললে আমাকে একটা চড় মারতে পারতে। কিন্তু একটা লেডিসের সামনে কান ধরা? এটা কি তোমার মানায়? তোমারই জানা উচিত কারো কথা লুকিয়ে শোনা অন্যায়। আর নুহাকে ওই অবস্থায় ফেলে আসাটা ভুল ছিল তোমারই। তোমার জায়গায় আমি হলে ওকে কোলে করে নিয়ে আসতাম।'

না চাইতেও আহিরের হাসি পেল। হাসিটা লুকিয়ে ফেলল সে। মুখ গম্ভীর রেখেই আরোশের কান ছেড়ে দিয়ে বলল,

' তোকে চড়িয়ে গাল লাল করে দেওয়ার আগে এক্ষুনি বের হয়ে যা ঘর থেকে।'

আরোশ চশমা আবার চোখে ঠিক করে নিলো। তারপর নুহার দিকে তাকিয়ে মৃদু গলায় বলল,

' তুমি শুয়ে পড়ো নুহা। কেউ যদি তোমাকে বিরক্ত করে চুপচাপ উঠে আগের ঘরে চলে যেও। আমি তোমাকে চিনি। তুমি খুব স্ট্রং। কারো কথায় মন খারাপ করবে না। তোমাকে হাসিখুশিই সবচেয়ে ভালো লাগে।'

নুহা চোখ নামিয়ে মৃদু হাসি দিয়ে মাথা নাড়ল। আরোশ বেরিয়ে যাওয়ার আগে আহিরের দিকে একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। আহির সেই দৃষ্টি লক্ষ্য করল। তবে কিছু না বলে শুধু চুপচাপ তাকিয়ে রইল। আরোশ বেরিয়ে গেলে আহির পেছনে ঘুরে তার চলে যাওয়া দেখল। তারপর একবারও নুহার দিকে না তাকিয়ে সোজা ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকে গেল। নুহা আহিরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে এক লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই মানুষটার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা তার। অথচ এখন তার সাথেই এক ঘরে থাকতে হচ্ছে! আন্টির জন্যই এই বাড়িতে আসতে হলো। তবুও নুহার মাথায় ঢুকলো না কেনো উনি জোর করে এই ঘরেই থাকতে বললেন? আগের ঘরে থাকলেই হতো। আহিরকে ভাবলেই বুকটা ভার হয়ে আসচ্ছে। এমন একটা কাজ সে করতে পারে তা নুহা ভাবতেও পারিনি।

ভাবনার ঘোর ভেঙে গেল দরজার শব্দে। আহির ঘরে ঢুকতেই নুহা হঠাৎ কেঁপে উঠল। তড়িঘড়ি করে চাদর টেনে মুখটা অর্ধেক ঢেকে অন্যদিকে ফিরিয়ে শুয়ে পড়ল। আহির আরচোখে নুহার দিকে তাকিয়ে দরজা বন্ধ করে সোফায় গা এলিয়ে দিল। সারাদিনের নতুন চাকরির অভিজ্ঞতা ক্লান্তি বাড়িয়ে দিয়েছিল তার উপর এই মেয়েটার উপস্থিতি তাকে আরও অস্থির করে তুলছে।খাটের মাঝখানে নুহাকে দেখে বিরক্তি ছুঁয়ে গেল আহিরের মনে। এখন কি তবে খাটেও শুতে পারবে না? নুহাকে দেখলেই বুকের ভীতরে তীব্র ক্ষোভ বেরিয়ে আসতে চাইছে। একবার মনে পড়ল নুহার জ্বরের কথা। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই রাগ আর ইগো আহিরকে গ্রাস করল।এই মেয়ে তার কোনো সেবার যোগ্য না। থাকুক যেভাবে খুশি।

শেষমেষ সোফায় টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল আহির। কিন্তু বলিষ্ঠ,বিশাল শরীরটা সোফায় পুরোপুরি মানলো না। তার কষ্ট হচ্ছিলো বেশ। চোখ বুজতেই ঘুম এসে হানা দিল। হঠাৎ ঘুমের ঘোরে হাতের আঘাতে টেবিলে রাখা কাচের শো-পিস মেঝেতে পড়ে ভেঙে গেল। আঁতকে উঠে বসল আহির। নিজের উপরই রাগ হলো এভাবে কি ঘুমানো যায়! বিরক্ত চোখে খাটের দিকে তাকাতেই ড্রিম লাইটের হালকা আলোয় নুহার মুখটা ধরা পড়ল তার চোখে। নুহা মুখ ঘুরিয়ে আহিরের দিকেই শুয়ে ছিল। ঠোঁট নড়ছে। ঘুমের মধ্যে যেন কিছু বলছে। না চাইতেও আহির এগিয়ে গেল। কপালে হাত রাখতেই টের পেলো তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। জ্বরটা প্রচণ্ড। এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাড়াতাড়ি জলপট্টি বানিয়ে এনে নুহার পাশে আধশোয়া হয়ে বসে পড়ল। বিরক্ত মুখে হলেও যত্ন নিয়ে জলপট্টি দিতে লাগল।

অজান্তেই চোখ পড়ে গেল নুহার মুখে। শুকিয়ে যাওয়া চেহারা। ফ্যাকাশে ঠোঁট। কেমন অচেনা মনে হচ্ছিল। রাগটা তরতর করে বাড়লো আহিরের। ভাবলো ‘আমাকে নিয়ে এত ভাবত তাহলে ডাং ডাং করে বিয়ে করতে গেল কেনো?!’ নুহা তখনো ঘুমের ঘোরে বিড়বিড় করে কীসব বলছে। আহির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

' আমাকে ছেড়ে বিয়ে করতে গেলে কেনো বলো তো? আনসার মি! এত বিশাল কারণটা কি ছিলো?তোমাকে একদম বেচারি মনে হয় না। তাহলে? আবার বলবে না আমাকে ভালোবাসো না। আমাকে ছাড়া কেমন ছিলে বোঝা যাচ্ছে। তুমি নিজের চেহারা একবার আয়নায় দেখে নিয়ো কেমন হাল করেছো।বিয়াদপ। আমাকে রিজেক্ট করলে। অপমান করলে। ধোঁকা দিলে। তাও ইগো কমেনি তোমার! উল্টে এখন আমাকে দিয়ে সেবা করাচ্ছো। ইচ্ছে করছে ধাক্কা দিয়ে খাট থেকে ফেলে দিই তোমাকে। কিন্তু আমি নেহাত…'

হঠাৎই ঘুমের ঘোরে নুহা আলতো করে হাত বাড়িয়ে আহিরের গলা জড়িয়ে ধরল। আহির থমকে গেল মুহূর্তে। হঠাৎ পাওয়া স্পর্শ বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত কাঁপন তুলল। নুহার মুখের দিকে তাকলো। গভীর ঘুমে ডুবে আছে মেয়েটা। ছোট্ট একটা শিশুর মতো নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। আহির একটু সন্দেহে হলো ‘নাটক করছে না তো?’এক মুহূর্ত দোটানায় ভূগলো। ইচ্ছে করেই নুহাকে আরেকটু কাছে টেনে নিল সে। ধীরে ধীরে ঝুঁকে নুহার ঘাড়ে মুখ গুঁজে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো সেখানে।নুহা তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। ঘুমের ভেতর থেকেই আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আহিরকে। মনে হলো ভয় পাচ্ছে আহিরকে হারানোর। যেন ছেড়ে দিলেই সে হারিয়ে যাবে।আহির অবাক হয়ে স্থির হয়ে গেল। বুকের ভেতর যে ঝড়টা ছিল তা হঠাৎ থেমে গিয়ে অন্য এক শান্তি নেমে এল। নুহার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা তার মুখে স্পর্শ করছে। চোখ বন্ধ করল আহির। অনেকদিন পর মনে হলো এই মেয়েটার স্পর্শে যেন বুকের সমস্ত যন্ত্রণা খানিকটা হলেও গলে যাচ্ছে। কিন্তু মুহুর্তেই কিছু তিক্ত সৃতিচারণ হতেই আহিরের মুখ কঠিন হয়ে উঠল আবার। মনে মনে বলল,‘এসবে সত্যিটা বদলাবে না নুহা। তবুও…! একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলল আহির। নুহার হাতটা সরাতে গিয়েও শেষমেশ কিছু করল না। শুধু চুপচাপ শুয়ে রইল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন