#মনের_রঙে_তুমি
#লেখনীতে: সুমনা সাথী
[২১]
আহির ভ্রু জোড়া কিনচিৎ কুঁচকে নুহার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
"অনেক হয়েছে নাটক। এখানে এসেছো সুস্থ হতে না উৎচিংড়ে পনা দেখাতে? নিজের অসুস্থতার খবর নেই অথচ বাকি সবদিকে দারুণ খেয়াল। তেজও কম নয়। অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন তোমার হয় নাকি? সুস্থ হতে এসেছো। তাড়াতাড়ি সুস্থ হও তারপর বিদায় নাও।"
আহিরের কথা শেষ হতেই নুহা তড়িঘড়ি করে উঠে বসল। অভিমান আর রাগ একসাথে চেপে ধরেছে বুকের ভিতরটা। যেমন গরম রোদ্দুর হঠাৎ গায়ে পড়ে জ্বালা ধরায় তেমনি অনুভব হলো। ভীষণ ইচ্ছে করলো লোকটার মুখে জোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে তার মুখের ত্যাচ্ছিল্য ভাঙতে। তবে নেত্রযুগল বেইমানি করলো। ইতোমধ্যে জ্বলে টই-টুম্বুর করে উঠেছে। আহির একবারও তাকাল না নুহার দিকে। নির্লিপ্ত মুখে উঠে যেতেই নুহা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
"আপনার সমস্যা আসলে কী? আসার পর থেকে দেখছি বারবার খারাপ ব্যবহার করছেন। সব দোষ কি কেবল আমারই? আপনার কোনো ভুল নেই? এত কিছু ঘটার পরেও আমি আপনার সামনে এসে ক্ষমা চাইতে চাইছি। সবকিছু ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর আপনি আপনার এই অহংকার নামাতে পারছেন না! আচ্ছা একটা কথা আজকে সত্যি করে বলুন তো আপনার কি এখন আর আমাকে ভালো লাগে না? এটাই কি আসল কারণ?"
আহির থেমে ঘুরে দাঁড়াল। ঠোঁট বাঁকিয়ে একফোঁটা ত্যাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
"আমার ভুল? হ্যাঁ আমার ভুল হয়েছে বটে। সেই ভুলের মাসুলই আমি দিচ্ছি। আমার তোমাদের অপমান করা উচিত হয়নি তাইনা। তোমাকে বিয়ে করাও উচিত হয়নি। আমার উচিত ছিলো কাচ্চি-পোলাও আর রোস্ট পেট পুরে খেয়ে তোমাকে মন থেকে দোয়া দিয়ে চলে আসা। তাই না? কিন্তু বিশ্বাস করো আমি আমার কোনো কাজের জন্য এতটুকুও অনুতপ্ত নই। তাই মাফও চাইতে পারব না। যা ইচ্ছে করে নাও।"
নুহার মুখটা মুহূর্তে তেঁতো হয়ে উঠল। এই মানুষের সঙ্গে তর্ক করা যে একেবারেই বৃথা তা হাড়ে হাড়ে টের পেল। মাথাটাও ভারী লাগতে শুরু করল। আবার সোফায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ল। নিস্প্রভ কন্ঠে বলল,
"আমি আপনাকে কী করব বলুন? খুন করা তো আর এত সহজ না।"
আহির নির্লিপ্তভাবে জবাব দিল, "সেটা আগেই করে ফেলেছো। এবার চুপচাপ শুয়ে থাকো। এতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে। আমি-ও মুক্তি পাব।
কথাগুলো বলে আহির চলে গেল।নুহা শূন্য দৃষ্টিতে আহিরের যাওয়ার পানে চেয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। বুকের ভেতর অজস্র অভিমান গুঞ্জন তুলল। আহিরের তিক্ত কথাগুলোর থেকে আহিরের সাথে যে কথা হলো এই বিষয়টা নুহাকে ভিতর থেকে প্রশান্তি দিল। তেঁতো হোক। রাগ দেখাক। কঠিন হোক তাও তো কথা বলল।
__________
সোফাতেই গুটিসুটি মেরে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলো নুহার খেয়াল নেই। ঘুম ঘোর থেকে তাকে টেনে বের করে আনলো রান্না ঘর থেকে আসা ছোট একটা আওয়াজে। নুহা বিড়াল ভেবে তাড়াতাড়ি করে রান্না ঘরে ঢুকে দেখলো আহির। নুহার মনে পড়লো তাড়াহুড়োতে আরিফা বেগম রান্না করে রেখে জাননি। নুহা রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাতেই দেখলো ঘন অন্ধকার। মুহুর্তেই আরও একটু চমকালো নুহা রাত হয়ে গেছে। তারমানে আহিরের নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে। দুপুরে হয়তো ইগোর চোটে নিচেই আসেনি৷ আর এখন যখন এসেছে তো এসে কিছুই পায়নি। নুহা এগিয়ে গিয়ে বলল,
"ওই আম্মু কিছু রান্না করে জাননি। আমার ও খেয়াল ছিলোনা ৷ আপনি বাহিরে গিয়ে একটু অপেক্ষা করুন আমি ব্যবস্থা করছি।"
আহির নুহাকে একবার দেখে বসার ঘরে গিয়ে বসলো। নুহার মেজাজ খারাপ করা ছাড়া এই লোকের আর কোনো কাজ নেই। এমন ভাবে তাকানোর কি আছে। মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গু'লি করবে।খবিস,খচ্চর একটা। নুহা মনে মনে আহিরের গুষ্টি উদ্ধার করতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল। রান্নার দায়িত্ব তো নিয়ে নিয়েছে কিন্তু রান্না কিভাবে করবে। আর এই সাহেব ও একবার ও মানা করলো না। নীরব আছে মানে সম্মতির লক্ষণ৷ এখন যদি নুহা কিছু না করতে পারে সেটা ভীষণ বড় অপমান হবে। হুট করে নুহার মনে হলো খিচুড়ি বানালে কেমন হয়। এমনিতে খিচুড়িতে সবকিছু একসাথে দিয়ে দিলেই হয়ে যাবে। আর তাড়াতাড়ি ও হয়ে যাবে। সবকিছু ভেবে নুহা তাড়াতাড়ি করে খিচুড়ি রান্না শুরু করলো। প্রায় দেড়ঘন্টা সময় নিয়ে খিচুড়ি রান্না শেষ হলো তার। রিতীমত জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে নুহা। অসুস্থ শরীরে ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। তবুও মনে মনে একটা প্রফুল্লতা কাজ করছে। নুহা রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে বলল,
"এবার খাওয়ার জন্য আসা হোক।"
আহির ফোন হাতে বসে ছিলো। একটু মৃদু হেসে উঠে গিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসলো। নুহা সুন্দর মতো প্লেটে খিচুড়ি নিয়ে আহিরের সামনে রাখলো। খিচুড়ির সাথে বেগুন ভাজা ও করেছে। এই বেগুন নিয়ে ও তার সাথে আরেক কাহিনি ঘটেছে। প্রথম বারের বেগুন গুলো সব পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিলো। পরের বার অনেক কষ্টে বেগুন গুলোকে সাদা সাদা রেখেছে। আহির খাবারের দিকে তাকিয়ে একবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নুহার দিকে তাকালো নুহার মুখের চাপা হাসিটা আহিরের চোখ এড়ালো না। বোঝাই যাচ্ছে মনে মনে ভীষন খুশি সে। আহির কিছুনা বলে খাওয়া শুরু করলো। খাওয়া শেষ হয়ে গেলেও বেগুন গুলো থালার এক কোনে পড়ে থাকলো৷ আহির উঠতে উঠতে বলল,
"অবশ্যি খু'ন করার এই পদ্ধতিটা ও ভালো ছিলো।বেগুনে আমার সাংঘাতিক এলার্জি। তাও বেগুন দেওয়া হলো। এর পরেও কি আমি বিশ্বাস করবো এটা জেনে বুঝে করা হয়নি?"
নুহার ঠান্ডা মাথাটা আবারও কৌশলে খুব সুন্দর মতো গরম করলো এই লোক। এত বড় কথা নুহা তাকে মা'র'তে চাইবে। কোথায় খাবার খেয়ে প্রশংসা করবে তা না খোটা দিচ্ছে। এর জন্য এত কষ্ট করে রান্না করলো। সবাই সব কিছুর যোগ্য না নিজেকে এটা বলেই শান্ত করলো নুহা। শুধু কথা বাড়াতে ইচ্ছে করলো না তার ও বেশ খিদে পেয়েছে। খাবার বেড়ে নিয়ে খেতে বসলো। আহির তখনো দাঁড়িয়ে নুহা একবার আহিরের দিকে আঁড়চোখে তাকালো। আহির ফোনে মনোযোগ দিয়ে কিছু করছে। খাবারের প্লেটে হাত দিতেই হাতটা পুনরায় ছিটকে সরিয়ে নিলো নুহা। মনে পড়লো তখন আলুর সাথে কাটাকাটির যুদ্ধ করতে গিয়ে হাতেটা বিশ্রিভাবে কেটে ছিলো তার। আহির ফোনটা রেখে আচমকা নুহার হাতটা ধরে দেখতে লাগলো। নুহা অবাক হয়ে আহিরের দিকে তাকালো। আহির হাতের দিকে তাকিয়েই বলল,
"বেশ অনেকটাই কেটেছে। ব্যান্ডেজ করা জরুরি৷ একটু আমার সাথে আসা হোক। আম্মুকে কথা দিয়েছি তার মেহমানের খেয়াল রাখবো৷ এই অতিরিক্ত খারাপ মানুষটকে তার মাকে দেওয়া কথা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।"
নুহা অবাকের চরম সীমায়। নুহা ভালো করেই জানে লোকটা নুহার জন্য বেশ ব্যাকুল। তখন জ্ঞান ফেরার পর আহিরের অস্থির চোখ দুটো দেখেছিল সে। তাও মুখে স্বীকার করবেনা। ঠিকআছে কতক্ষণ এসব চলে সেটা নুহা ও দেখে নেবে। আপাতত চুপচাপ আহিরের পিছু পিছু ঘরে পৌঁছালো। আহির বেশ সময় নিয়ে নুহার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো। তারপর ফোন চেক করে বলল,
"আমি না আসা অব্দি যেন এখানেই যেন বসে থাকা হয়।"
কথাটা বলেই বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। নুহা অবাক চোখে আহিরের যাওয়া দেখলো। চাইছেটা কি এই লোক। মাথায় কি ঘুরছে তার। আহির বেশকিছুক্ষণ পর ফিরে আসলো হাতে খাবারের প্লেট। নুহা খেয়াল করলো প্লেট ভর্তি কাচ্চি বিরিয়ানি। প্লেটটা নিয়ে নুহার পাশে বসতেই নুহা বলল,
"খাবার অলরেডি রান্না করা আছে তো এসবের মানে কি?"
আহির একলোকমা খাবার নুহার মুখের কাছে এগিয়ে দিয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল,
"কেউ আমাকে এত কষ্ট করে এতকিছু রান্না করে খাওয়ালো তাই আমি ও কৃতজ্ঞতা থেকে তার জন্য এইটুকু করছি। বেশি না বকে খেয়ে নিলে ভালো হয়। নিচের থালা-বাসন গুলো ও তো আমাকেই ধুতে হবে। রান্না ঘরে ও একটা ছোটখাট ঝড় বয়ে গেছে ওইগুলো গুছাতে হবে। অনেক রাত হয়েছে।"
নুহা খাবার টা মুখে নিয়ে মাথা নিচু করে ফেলল।আসলেই রান্না ঘরের অবস্থা খারাপ। কিন্তু আহিরের হঠাৎ করে বিরিয়ানি নিয়ে আসার কারনটা নুহা বুঝলো না৷ নুহার বিরিয়ানি পছন্দ হলেও এখন খেতে তেমন ইচ্ছে করছে না। জীবনে প্রথমবার এত কষ্ট করে নিজের হাতে রান্না করেছে ওইটাই খেতে ইচ্ছে করছে তবে আহিরের সামনে আর কিছু বলল না। চুপচাপ খেতে লাগলো। খাওয়া শেষ হতেই আহির প্লেট নিয়ে নিচে নেমে এলো। নুহা ও পেছন পেছন এলো কিছুটা সাহায্য করার জন্য। আহিরকে মনোযোগ দিয়ে থালা ধুতে দেখে নুহার কেনো যেন ভীষন হাসি পেল। নুহা খেয়াল করলো আহির নুহার প্লেটের খাবার গুলো ফেলতে যাচ্ছে। নুহা ছুটে গিয়ে আহিরের হাত ধরে বলল,
"কি করছেন আপনি?এগুলো ফেলছেন কেনো?"
আহির নির্লিপ্ত ভাবে জবাব দিল, "এমনি। তোমার সমস্যা কি?"
"আমার সমস্যা কি মানে এগুলো আমি কষ্ট করে রান্না করেছি। এগুলো ফ্রিজে রেখেদিন আমি সকালে খাব।"
"এগুলো সকালে কেনো কখনোই খাওয়া যাবে না।কোনো সাধারন মানুষ এগুলো খেতেই পারবে না।"
"কেনো?এটা আমি রান্না করেছি তাই। জঘন্য লেগেছে আপনার কাছে? তাহলে খেয়েছেন কেনো? আমার সাথে সাথে এখন আমার সমস্ত জিনিস ও আপনার কাছে বিরক্তিকর হয়েগেছে। আমাকে মেহমান মনে করে আমার খেয়াল রাখছেন। আমার ভালোবেসে করা কাজের আবার অন্যভাবে প্রতিদান দিচ্ছেন। আমি এতটা কষ্ট করে যদি পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য খাবারটা কারো জন্য বানাতাম তাহলেও সে খুশি খুশি খেয়ে নিতো। আর আপনি?আচ্ছা এসব করে কী প্রমান করতে চাইছেন?আমি আপনার......"
বাকি কথা শেষ করার আগে আহির নুহার গালে একচামপ খিচুড়ি পুরে দিতেই নুহা অবাক হয়ে আহিরের দিকে তাকালো। মুহুর্তে প্রচন্ড ঝাল আর একদমই নুন ছাড়া অতি-বিশ্বাদ খাবার তার গলা দিয়ে নামতেই চোখেমুখের রং বদলে গেল। আহির তার সামনে পানির গ্লাস ধরতেই নুহা একদমে পুরোটা শেষ করে অপরাধীর চোখে আহিরের দিকে তাকালো। আহির গ্লাসটা নুহার হাত থেকে নিয়ে টেবিলে রেখে বলল,
"কি হলো কথা বন্ধ হয়ে গেছে?কি যেন বলা হচ্ছিলো?"
মুহুর্তেই নুহা মাথা নিচু করে ফেলল। সমস্ত কথায় যেন ভুলে বসেছে সে। এতটা জঘন্য খাবার আহির চুপচাপ খেয়ে নিয়েছে। এটা ভাবতেই নুহার নিজের উপর নিজের রাগ হলো। সামান্য রান্নাটুকু সে করতে পারেনা। একটা খাবার এতটা জঘন্য কীভাবে হতে পারে। প্রচন্ড রাগে চোখে পানি চলে এলো নুহার। আহির ত্যাচ্ছিলের হাসি দিয়ে বলল,
"কথাটা ঠিক। পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য খাবার তুমি বানালে ও তোমার এক্স হবু বর বোধহয় খুশি খুশি খেয়ে নিতো। প্রচন্ড ভালো যে বাসে। কিন্তু কি বলোতো আমি তার মতো এতটা মহান আর সাহসী নইতো তাই কাঁচা বেগুনটা খাওয়ার মতো সাহস দেখাতে পারলাম না। আর না তো দ্বিতীয় বার এই খাবার খাওয়ার সাহস দেখাতে পারবো।"
আহিরের খোঁচাপূর্ন কথাটা নুহার বুকে তীরের মতো বিধঁলো। একটু চুপ থেকে বলল,
"অদ্ভুত এসবের মধ্যে তুষার ভাই কোথা থেকে এলো আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না। আপনি খামোখা ওকে টানছেন কেনো?আপনার খারাপ লাগলে আপনি বলতে পারতেন। আপনি....!
বাকি কথা শেষ করার আগেই আহির হঠাৎ নুহার বাহু শক্ত করে টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো তাকে। নুহা টের পেলো আহিরের শরীর কাঁপছে রাগে। চোখ দুটো যেন লাল আগুনের মতো জ্বলছে। আচমকা এতটা ক্রোধ কেন নুহা বুঝে উঠতে পারলো না। বুকের ভেতর অজানা ভয় দানা বাঁধলো। দাঁতে দাঁত পিষে আহির গর্জে উঠল,
" ওকে টেনেছি বলে এত গায়ে লেগেছে? এজন্য ওর কাছে সরি চাইতে হবে? বলো তো ও তোমাকে এমন কী দিয়েছে যা আমি দিতে পারিনি? টাকা? আচ্ছা আমার ভালোবাসার চেয়ে টাকা বড়? তাহলে এখনো আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছো কেন? কেন আমার জন্য এত কষ্ট করছো?শোনো একটা কথা পরিষ্কার বলি এসব করে কোনো লাভ নেই… আই হেট ইউ! আমি তোমাকে আমার জীবন থেকে জাস্ট বের করতে চাই। আমি তোমাকে......'
আহিরের বাক্য শেষ হওয়ার আগেই ভয়ংকর সাহসী এক কাজ করলো নুহা। সমস্ত অভিমান,সমস্ত যন্ত্রণা ভেঙে দিয়ে নিজের গোলাপের মতো কোমল ওষ্ঠজোড়া চেপে ধরলো আহিরের শুকনো, পুরুষালী ঠোঁটে। মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গেল যেন। আহির স্তব্ধ হয়ে গেল। মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে শুধু নুহার বন্ধ চোখের পাপড়ির কাঁপন দেখলো।মুহূর্তে আহিরের হাত থেকে কড়ির প্লেটটা মাটিতে আছড়ে পড়ল। ঝনঝন শব্দে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।