ফন্ট সাইজ:
থিম:
ঝরা শিউলির দিনে

৯ম পর্ব

লেখক: তামান্না ইসলাম শিমলা

#ঝরা_শিউলির_দিনে

#পর্ব ৯

#তামান্না_ইসলাম_শিমলা

_______________________

অপরূপার জন্য বরাদ্দকৃত কেবিনটা এখন বেশ গোছগাছ। সকালবেলার ব্যস্ততা ধীরে ধীরে স্থিরতায় নেমে এসেছে। চারপাশে কিবোর্ডের মৃদু টিপটাপ শব্দ, ছন্দময় কর্মপরিবেশ। অভ্র কিছুক্ষণ আগেই সব বুঝিয়ে দিয়ে গেছে অপরূপাকে। কাজের ধরন, প্রজেক্টের নিয়ম, কার সাথে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে সবকিছু খুব পরিষ্কারভাবে সাজিয়ে দিয়েছে। অনলাইনেও ফাইলটা সেন্ড করে দিয়েছে সে। এখন অপরূপা নিজের ডেস্কে বসে আছে। সামনে ল্যাপটপ খোলা। স্ক্রিনে প্রজেক্ট ফাইল। মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। নতুন কাজ, নতুন দায়িত্ব তাই তার চোখে-মুখে একটা সতর্কতা। সাথে মনোযোগী স্থিরতা।

পাশেই দু-সিটের ছোট্ট সোফায় বসে আছে পিহু।

তার সামনে কাঁচের টি-টেবিল। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা তার ছোট ছোট খেলনা। ছোট গাড়ি, একটা পুতুল, কিছু রঙিন ব্লক। পিহু নিজের মতো করে খেলছে। মাঝেমধ্যে নিজেই কথা বলছে, নিজেই হাসছে। অপরূপা একবার তাকিয়ে দেখে নিল পিহুকে, অতঃপর আবারও কাজে মন দিল। তার দৃষ্টি হঠাৎ চলে গেল সামনে।

কাঁচের দেয়ালের ওপারে একটা ভারী পর্দা টাঙানো। গাঢ় রঙের, পুরোপুরি ঢাকা। এই কেবিন থেকে ওপারের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। যাক, বিষয়টা অপরূপার জন্য ভালোই হয়েছে। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ কর্ণে এলো অপরূপার। অপরূপা চমকে উঠে তাকাল সেদিকে। দেখতে পেল অভ্রকে। পরপর ভেসে এলো তার কণ্ঠস্বর,

“আসব?”

অপরূপা ক্ষীণ হেসে অনুমতি দিল,

“জি, আসুন।”

অভ্র ঢুকল ভেতরে। বলে উঠল,

“বিরক্ত করছি?”

অপরূপা হেসেই জবাব দিল,

“না না, আসুন।”

অভ্র এগিয়ে এসে কম্পিউটারের দিকে তাকাল।

“আপনার সিস্টেমে একটু ইস্যু হচ্ছিল মনে হয়, আইটি থেকে বলছিল।”

অপরূপা উপর নিচ মাথা নাড়ল। বলল,

“ হ্যাঁ, একটু স্লো লাগছিল।”

অভ্র চেয়ার টেনে বসল। দ্রুত কিছু সেটিংস চেক করতে লাগল। কাজে মনোযোগ রেখেই অপরূপাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“এই লাইনটা আপডেট হচ্ছিল না, আমি ঠিক করে দিচ্ছি।"

অপরূপা জবাব দিল না। চুপচাপ তাকিয়ে আছে সে। মুহূর্তেই অপরূপার শ্রবণে এসে আঘাত হানল অভ্রের প্রশ্ন,

“আপনি কমফোর্টেবল?”

অপরূপা নিজের অস্বস্তি কাটিয়ে একটু হেসে বলল,

“হ্যাঁ, প্রথম দিন হিসেবে ভালোই লাগছে।”

“কোনো সমস্যা হলে বলবেন। আর ব্রেক টাইমে পিহুকে নিয়ে ক্যান্টিনে খেয়ে আসবেন।”

অপরূপা তেমন কিছুই চেনে না। ক্যান্টিন কোথায় সেটাও জানা নেই। তাই জানার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল,

“আমি তো চিনি না। কোথায় ক্যান্টিন?”

অভ্রের দৃষ্টি স্থির। সেভাবেই জবাব দিল,

“নিচ তলায়। টিমের ক্যান্টিন আলাদা। আর বাকি স্টাফদের ক্যান্টিন নিচে একদম। আপনার চিন্তা করতে হবে না, আমার সাথে বা ইধিকার সাথে যাবেন।”

অপরূপা লম্বা শ্বাস টানল। জবাব দিল না। অভ্র আবারো কাজে মনোযোগ দিল। অতঃপর কাজ হতেই কম্পিউটারটা ঘুরিয়ে দিল অপরূপার দিকে।

“ঠিক আছে, হয়ে গেছে। এখন আর সমস্যা হবে না।”

অপরূপা কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে তাকাল। ছোট্ট করর টলল,

“ধন্যবাদ।”

“ইটস ওকে।”

বলেই উঠে দাঁড়াল অভ্র। এগিয়ে এলো পিহুর দিকে,

“হেই ম্যাডাম?”

পিহুর মনোযোগে বিঘ্ন ঘটল। চোখ তুলে তাকাল অভ্রের দিকে। মুচকি হেসে বলল,

“হুম।”

“কী করছেন আপনি, হুঁ?”

পিহু নিচের দিকে এক পলক তাকিয়ে জবাব দিল,

“পিহু কেলা কেলা করছে।”

হেসে উঠল অভ্র। পিহুর বলা কথাটায় উচ্চারণ করল,

“কেলা কেলা করছে?”

অবুঝ পিহু উপরনিচ মাথা দুলাল। অভ্র হাত বুলিয়ে দিল পিহুর চুলে। বলল,

“তবে খেলা খেলাই করো।”

পিহু ঘাড় বাঁকিয়ে সম্মতি জানিয়ে আবারো ব্যস্ত হলো খেলায়। বাচ্চাটা খুব মায়াবী। এমন একটা প্রাণবন্ত বাচ্চা কি-না বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে! কথাটা ভাবলেই কেমন একটা লাগে অভ্রের। অপরূপার সকল ইনফরমেশন অভ্রের জানা, আর সবটা তাকে বলেছিলেন ইরফান এহসান। আভিয়ান এহসানের দাদু। মূলত মাস চারেক আগে তিনি সব গুলো শাখায় গিয়ে ঘুরে এসেছেন। তখনই অপরূপার প্রেজেন্টেশন তার মনে ধরে। পরপর দায়িত্বরত হেইডকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি অপরূপার সম্পর্কে সবটা বলেন ইরফান এহসানকে। মেয়েটা তার ষোলো দিনের বাচ্চাটিকে নিয়ে এই পর্যন্ত কতটা স্ট্রাগল করেছে সবটাই বলেন তাকে।

অতঃপর তিনিই সিদ্ধান্ত নেন অপরূপার প্রমোশন করাবেন। এবং টিমেও দুজন লোকের দরকার এটা জানার পর তিনি অপরূপাকে সরাসরি এখানেই প্রমোশন দিয়ে দেন। অভ্রের সাথে ইরফান এহসানের ভালো সম্পর্ক। আভিয়ার আর ইরফান দুজনেরই বিশ্বাসযোগ্য অভ্র। তাইতো নির্দ্বিধায় অভ্রকে সবটা জানিয়ে ছিলেন। সাথে এটাও বলে দিয়েছিলেন অপরূপার মেয়েকে নিয়েই সে অফিস করবে। কারণ তার নাতি তো নিজেই ভবঘুরে। একদিন অফিসে আসলে ছয়দিনই আসে না। যদিও বা না এসেই সবটা সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে আভিয়ান। এত বড় কোম্পানি, এত গুলো ব্রাঞ্চের সবকিছুই তো এখন তার কাঁধে।

ইরফান এহসান তো সেই একবছর আগেই ঝাড়া হাত পা হয়ে কাজ ছেড়েছেন। তবুও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে চক্কর কাটেন। দেখেন তার নাতি কীভাবে সামলাচ্ছে এই গোটা কোম্পানির ভার। আভিয়ান যতই গা ছাড়া ভাব নিয়ে চলুক, নিজের কাজের প্রতি সে স্ট্রিক্ট। কোম্পানির হাল ধরার পর উন্নতি বৈকি অবনতি হয়নি। অভ্রের ভাবনা কাটল পিহুর ডাকে,

“তোমার নাম কী?”

অভ্র ছোট্ট শ্বাস ফেলল। জবাব দিল,

“অভ্র সরকার।”

“কে কে আচে তোমার বাসায়?”

পিহুর কৌতুহল দেখে হাসল অভ্র। জবাব দিল,

“আমি আর মা।”

পিহুকে ভাবুক দেখাল। সে সময় নিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে তারপর বলল,

“তুমি গুড বয়।”

মুহূর্তেই হেসে উঠল অভ্র। হাসলে গালে টোল পড়ে তার। মুখ ভর্তি চাপ দাঁড়ি। হেসেই শুধালো,

“কেন গুড বয়?”

পিহু চোখ নামিয়ে নিল। ব্যস্ত হলো খেলায়। জবাব দিল,

“এমনি।”

অভ্রের নজর গেল অপরূপার দিকে। তার মনোযোগ সম্পূর্ণ কাজের দিকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল অভ্র। আর কিছু না ভেবে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। পরপর ডাক এলো আভিয়ানের। অভ্র দরজা ঠেলে ঢুকতেই দেখতে পএল ভেতরের পরিবেশটা একটু অন্যরকম। ডেস্কের সামনে বসে আছে আভিয়ান। চোখ দুটো ল্যাপটপের স্ক্রিনে স্থির। অভ্রের অস্তিত্ব অনুভব করতেই সে চোখ না তুলেই বলল,

“ক্লায়েন্টদের থাকার সব ব্যবস্থা দুদিনের মধ্যে করে ফেলো।”

আভিয়ানের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গভীর ও শীতল। কোনো আবেগ নেই তার মাঝে। অভ্র মাথা নাড়ল। জবাব দিল,

“জি স্যার।”

কথা শেষ হওয়ার আগেই আভিয়ান চোখ তুলে তাকাল। মুহূর্তেই চোখ-মুখ কুঁচকে গেল তার। তার মুখভঙ্গিতে প্রকাশ পেল বিরক্তি। পরপর গলার স্বর আরো ভারি হলো,

“আই’ভ ওয়ার্নড ইউ বিফোর, ডোন্ট এভার কল মি দ্যাট এগেইন।”

অভ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর মৃদু হেসে বলল,

“যতই হোক, আপনি আমার বস। শত চেষ্টা করেও নাম ধরে ডাকাটা সম্ভব না।”

আভিয়ান বিরক্ত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল।

“তাহলে কোনো কিছু বলেই ডাকার প্রয়োজন নেই।”

অভ্র গোল গোল চোখে তাকিয়ে দেখছে আভিয়ানকে। সে বুঝে উঠতে পারেনা, স্যার ডাকলে সমস্যা কী? আর এত রেগে যাওয়ারই বা কী আছে? মূলত আভিয়ানের এসব ফরমালিটির সম্পর্ক পছন্দ নয়। না ছিল কোনো কালে। অভ্রকে এখনো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আভিয়ান চোখ তুলে তাকাল। বলল,

“আমার জন্য কফি পাঠিয়ে দাও। আর গত পাঁচদিনের সব রিপোর্ট চেক করে আমাকে সেন্ড করো।”

অভ্র মাথা নাড়ল এ পর্যায়ে। ছোট্ট করে জবাব দিল,

“ওকে, স্যার।”

অতঃপর বেরিয়ে গেল অভ্র। পরপর আভিয়ানও ব্যস্ত হলো নিজের কাজে।

_____

ছোট্ট ছোট্ট পায়ে এদিক ওদিক হাঁটছে পিহু। দেখছে সকলের কার্যক্রম। যদিও বা তার মাম্মা ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে তাকে চুপচাপ বসতে বলেছে, তবে তা কি সে শোনার মত মেয়ে? সে গুটিগুটি পায়ে এসে দাঁড়াল একটি বড় কাঁচের দরজার সামনে। বাইরে থেকে ভেতরটা দেখা যাচ্ছে। তবে পর্দা টাঙানো অর্ধেক অংশে। পিহুর নজরে পড়ল ভেতরে বসে থাকা লোকটার দিকে। পরপর নজর পড়ল তার ফ্যাকাসে সবুজ রাঙা চোখ জোড়ার উপর। পিহুর ছোট্ট মস্তিষ্ক মুহূর্তেই উচ্ছ্বসিত হলো কোনো এক কারণে। চটজলদি দরজা খোলার চেষ্টা করল,

"ইয়ান, পিহু এসেছে।"

ঠিক সেই সময়েই আভিয়ানের নজর পড়ল দরজার কাছে। পিহুকে দেখা মাত্রই সে চমকে উঠল। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সে। কয়েকমুহূর্ত সময় নিল পরিস্থিতি বুঝতে। সব সত্যি নাকি ভ্রম বুঝে ওঠার আগেই পিহু বুকে হাত বেঁধে ঠোঁট উল্টে নিল। ভেংচি কেটে বলে উঠল,

"ইয়ান পঁচা, ইয়ান দরজা কুলে না।"

আভিয়ানের ঘোর কাটে। না এটা তার ভ্রম না। বড্ড চমকায় সে। চটজলদি উঠে দৌড়ে এলো দরজার কাছে। দরজা খুল দিতেই পিহু আবারো ভেংচি কেটে চোখ সরিয়ে নিল। আভিয়ানের বিস্ময় যেন কাটছেই না। অবাক হয়ে আওড়াল,

"লিটেল কিটেন!"

মুহূর্তেই ভেসে এলো পিহুর অভিমানী কণ্ঠস্বর,

"পিহু রাগ করেচে, পিহু ইয়ানের সাথে আঁড়ি।"

আভিয়ান এগিয়ে গিয়ে কোলে তুলে নিল পিহুকে। কিছুটা সময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

"তুমি এখানে কী করছো?"

পিহু জবাব দিল না। সে রেগে আছে। তা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল আভিয়ান। শুধালো,

"বলো, লিটেল কিটেন?"

পিহুর রাত কমল। তবুও গাল ফুলিয়ে জবাব দিল,

"মাম্মার সাতে।"

বিস্ময় এবার আকাশ ছুঁলো আভিয়ানের। অবশ্য মুখভঙ্গি তার অত্যন্ত স্বাভাবিক। প্রশ্ন করল,

"মাম্মা মানে? কে তোমার মাম্মা?"

পিহু এদিক ওদিক তাকাল। তারপর জবাব দিল,

"ওইযে সুন্দর দেকেতে শাড়ি পরা সেই আমার মাম্মা।"

আভিয়ান আন্দাজ করল। তবুও নিশ্চিত হতো জিজ্ঞেস করল,

"নাম কি তোমার মাম্মার?"

"অপলুপা।"

আধো স্বরে নামটা স্পষ্ট উচ্চারণ করতে না পারলেও জবাবটা সে দ্রুত দিল। এ পর্যায়ে আভিয়ানের কাছে সবটা পরিষ্কার হলো। তাহলে পিহু অপরূপার মেয়ে। কেমন অদ্ভুত কঠোরতার দেখক মিলল আভিয়ানের মুখশ্রীতে। এক দৃষ্টে দেখল সে পিহুকে। চেহারাতেও খানিক মিল আছে, তবে চেনার মত না। বরং আভিয়ানের নিকট পিহুর মুখশ্রীটা হুট করেই তার অতিপরিচিত এক মুখশ্রীর সাথে মিল অনুভব হলো। এতটা কেন মিল? কেন থাকবে? থাকার তো কথা না। কেমন অস্থির অনুভব করল আভিয়ান। সেদিন তো পিহুকে এতটা ভালো মত খেয়াল করেনি, তবে আজ করেছে। সাথে এই বাচ্চা মেয়েটাকে তার চেনা জানা লাগছে, খুব চেনা-জানা। যা তার মন-মস্তিষ্ক উতলা করে তুলছে। গাঢ় শ্বাস টানল আভিয়ান। অস্থিরতা বাড়ছে তার। যার কারণ টা একটা নয়, বরং অধিক!

নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে পিহুকে নিয়ে প্রবেশ করল নিজ কেবিনে। নিজের সিটে বসে পিহুকে বসাল ডেস্কের উপর। পিহু নিজের হাত দেখাল। তাতে সে একা একাই মেহেদী দিয়েছে। যা অবশ্য কোনো আকারেরই হয়নি।

"ইয়ান, পিহু একা একা দিয়েচে।"

আভিয়ান দেখল পিহুর হাতটা। পরপর কিছু না ভেবেই মনের ইচ্ছেটা পূরণ করল। চুমু খেল পিহুর ছোট্ট হাতের পাতায়। বলল,

"সুন্দর হয়েছে।"

"শুদু সুন্দর?"

আভিয়ান হাসল। ক্ষীণ সেই হাসি। জবাব দিল,

"অনেক বেশি সুন্দর।"

খুশি হলো পিহু। হুট করেই একটা প্রশ্ন এসে মস্তিষ্কে হানা দিল আভিয়ানের। পরপর পিহুকে প্রশ্নটা করেই বসল,

"তুমি চিনলে কী করে আমাকে?"

পিহু মিটিমিটি করে হাসলো। জবাব দিল,

"তোমার চোক দেকে।”

অবাক হলো আভিয়ান। চোখ দেখেও মানুষকে চেনা যায়? যদিও বা ভিন্নতা আছে, তাই বলে এই বাচ্চা মেয়েটা তাকে চিনে নিল? আভিয়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল পিহুর দিকে। অতঃপর বলল,

“তুমি কি ভয় পাও না?”

“কাকে?”

“আমাকে।”

পিহু অবাক হয়ে বলল,

“কেন? তুমি কি বাঘ?”

আভিয়ান হাসল, ক্ষীণ সেই হাসিটা নজরে পড়ল পিহুর। পিহু আভিয়ানের দু গালে হাত রাখতেই আভিয়ান জবাব দিল,

“না, বাঘ কেন হবো?”

“তাহলে ভয় পাবো কেন?”

পিহুর এই সরল প্রশ্নের কোনো জবাব তার কাছে নেই। আভিয়ান ছোট্ট শ্বাস ফেলে বলল,

“তোমার পুরো নাম কী, লিটেল কিটেন?”

পিহু তৎক্ষনাৎ জবাব দিল,

“অর্নিশা পিহু।”

আভিয়ানের মনে পড়ল সেদিন তার দাদু তাকে ডেকেছিল। কিছু বলতে চেয়েছিল অপরূপার বিষয়ে। তবে সে ব্যস্ততা দেখিয়েছে বলে ইরফান এহসান কেবল বলেছেন অপরূপা হাওলাদার নামক একটি মেয়ে আসবে সাথে তার মেয়ে। তাকে যেন প্রেজেন্টেশনের দায়িত্বটা দেওয়া হয়। আভিয়ান বিজনেস বা কোম্পানি কোনো কিছু নিয়েই তেমন গুরুত্ব দেখায় না। কেবল নিজের দায়িত্ব যতটুকু ততটুকুই পালন করে। আর টিমের এমপ্লয়ির ইন্টারভিউ গুলোও ইরফান এহসান নেন। তাই আভিয়ান আর কিছু বলেনি। তবে এখন তার কৌতুহল হচ্ছে। তবে কৌতুহলটা অন্যকিছুতে। কোনো এক সন্দেহে! তাই তো কৌতুহল দমাতে না পেরে প্রশ্ন করল,

“তোমার বাড়িতে কে কে আছে?”

পিহু টেবিলের উপর রাখা জিনিস গুলো দেখতে দেখতে জবাব দিল,

“আমি আর মাম্মা। নানু বাসায় নানুমনি, মামু, মামনি, দুটো পুচকু আছে।”

পিহু থামল। হাতের ইশারায় দেখাল পেপারওয়েটটা। পরপর আভিয়ানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

“ওতা নেই?”

আভিয়ানও আঙুল অনুসরণ করল। কিছু না বলে পেপার ওয়েটটা নিজে হাতে নিয়ে পিহুর সামনে ধরে। পিহু খুশি হয়। উচ্ছ্বাসিত মুখশ্রী তার। পেপারওয়েটটা হাতে নিতেই আভিয়ান প্রশ্ন করে,

“এন্ড হোয়াট এবাউট ইউর ড্যাড?”

পিহু না বুঝে ফ্যালফ্যাল করে তাকাল আভিয়ানের দিকে। কিছু সময় তাকিয়ে থেকে সরল চিত্তে বলল,

“বাঙলা বলো, ইনজেরি বুজি না।”

নিজের প্রতি নিজেই বিরক্ত হলো আভিয়ান। এটুকু মেয়ে ইংরেজি বুঝবেই বা কী করে? তবে অন্থিরতা কমল না তার।ঠোঁট কাঁমড়ে নিজের ভুল শুধরে শুধালো,

“তোমার বাবা? সে কোথায়? সে থাকে না তোমার সাথে?”

পিহু কিছু বলার আগেই ফাইল নিয়ে কেবিনে ঢুকল অভ্র। জবাব দিল,

“মিস অ্যাপোরূপা ইজ আ ডিভোর্সড উম্যান।”

ভ্রু কুঁচকে গেল আভিয়ানের। সবুজ চোখ জোড়ার আদল পাল্টে গাঢ় হলো। সুক্ষ্ম ভাঁজের দেখা মিলল কপাল বরাবর। পিহু ব্যস্ত হয়েছে খেলায়। অভ্র ফাইলটা এগিয়ে দিল। আভিয়ান ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“হোয়াট?”

অভ্র অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দিল,

“হার এক্স-হাজব্যান্ড চিটেড অন হার। অ্যাজ ফার অ্যাজ আই নো, পিহু ওয়াজ বেয়ারলি ফিফটিন অর সিক্সটিন ডেজ ওল্ড ব্যাক দ্যেন।”

আভিয়ানের মুখভঙ্গি আগের ন্যায় নির্লিপ্ত আকার ধারণ করল। পিহুকে দেখে নিল সে। পরপর অভ্রের দিকে তীর্যক চাহনি নিক্ষেপ করে বলল,

“অনেক কিছুই জানো দেখছি।”

অভ্র গলা ঝেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। চোখ নামিয়ে বলল,

“ইরফান স্যারই জানিয়েছিলেন।”

আভিয়ান দৃষ্টি নামাল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“সবুরকে বলো পিহুর জন্য জুস, চিপস আর চকলেট নিয়ে আসতে।”

অভ্র দুদিকে মাথা দুলাল। আভিয়ানকে পিহুর সাথে এত সহজ ভাবে দেখে কিছু অবাক অবশ্য হয়েছে সে। তবে তা প্রকাশ করল না। বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলল,

“রিপোর্ট ফাইলটা।”

“দেখে নেব। আসতে পারো।”

অভ্র কথা বাড়ালো না। বিনাবাক্যে প্রস্থান করল। পিহুর সম্পূর্ণ মনোযোগ খেলার দিকে। আর আভিয়ানের মনোযোগ পিহুর দিকে। হুট করেই চোয়াল শক্ত হলো তার। মস্তিষ্কে জ্বলে উঠল অঙ্গারের ন্যায়। কপালে আঙুল ঘঁষে বিড়বিড় করল,

“সাম ম্যান ডোন্ট ডিজার্ভ টু বি কলড হিউম্যান। হি’স নাথিং বাট আ ড্যাম বাস্টার্ড।"

থামল আভিয়ান। হুট করেই ঘাড় বাঁকাল সে। ভাবল কিছু একটা সময় নিয়ে। অতঃপর ওষ্ঠপুটের বিস্তৃতিতে বোঝা গেল তার ক্ষীণ হাসি। বিড়বিড় করল,

"ওকে, দ্যাটস ফাইন। মেইবি গড উইল গিভ মি আ চান্স টু প্রুভ মাইসেল্ফ।"

_____

অপরূপা ওয়াশরুম থেকে বের হলো মাত্র। ওয়াশরুমে যেতেই কল লক হয়ে গিয়েছিল। তাই এতটা দেরি হলো। তবে সে কেবিনে এসে থমকে গেল। পিহু ঘরে নেই। বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল মুহূর্তেই। দ্রুত বেরিয়ে এল কেবিন থেকে। চোখে মুখে চিন্তিত ভাব, উদ্বেগ। এই মেয়েটা না বলে গেল কেন? ইধিকার কেবিনে গেল কি-না সেটা ভেবেই সে ইধিকার কেবিনের দিকে যেতে নিল। ঠিক তখনই তার নজর পড়ল কাঁচের ওপারে। পর্দার ফাঁক দিয়ে দৃশ্যটা স্পষ্ট নজরে পড়তেই বিস্ময়ে ঠোঁটের পাতা ফাঁক হলো।

আভিয়ান, আর তার সামনে বসে আছে পিহু। অপরূপা যেন হকচকিয়ে উঠল। হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে এল। সে কি রাগ করবে? পিহু কি কিছু করেছে? অফিসের প্রথম দিনেই যদি আভিয়ান বিরক্তবোধ করে তাহলর বিষয়টা কেমন দাঁড়াবে? মেয়েটার চঞ্চলতায় বড্ড রাগ হলো অপরূপার। দ্রুত এগিয়ে গেল দরজার সামনে। দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে আভিয়ান একপলক তাকাল। পিহুও তাকাল। অপরূপা কিছু বলার আগেই আভিয়ান গম্ভীর স্বরে বলল,

“কাম ইন।”

অপরূপা হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল। পিহুর দিকে একপলক তাকিয়ে দ্রুত ভীতু নয়নে তাকাল আভিয়ানের মুখপানে। উচ্চারণ করল,

“সরি, আসলে ও….. না মানে আমি বুঝতে পারিনি ও চলে আসবে। আই’ম এক্সট্রেমলি সরি, মিস্টার আভিয়ান। আমি এখনই ওকে নিয়ে যাচ্ছি, ও আর আপনাকে বিরক্ত করবে না। আমারই দেখে রাখা উচিত ছিল।”

দম নেওয়ার ফুরসত মিলল না অপরূপার। অনর্গল বলে চলল নিজের মতো। কী বলবে না বলবে গুছিয়েও উঠতে পারেনি। আভিয়ান অত্যন্ত স্বাভাবিক। শীতল অথচ ধারালো তার চাহনী। পিহু নিজেও গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে আছে আভিয়ানের দিকে। আভিয়ান ছোট্ট শ্বাস ফেলে বলল,

“ডোন্ট ওয়্যারি, সি'জ অ্যা গুড গার্ল।”

অপরূপা তবুও অস্বস্তি বোধ করছে। ভ্রু উঁচিয়ে বলল,

“আই'ম সরি স্যার, আমি ওকে নিয়ে যা….”

অপরূপাকে থামিয়ে দিল আভিয়ান। ভারিক্কি স্বরে বলল,

“আপনার সাথে পরিচয় হওয়ার আগে থেকেই আমি পিহুর সাথে পরিচিত।”

কথাটা কর্ণকুহর হতেই অপরূপা আশ্চর্য হলো। সময় নিয়ে বোঝার চেষ্টা চালাল তারা পরিচিত মানে কী? অপরূপার মস্তিষ্কে চলা প্রশ্নের জবাব মিলল পিহুর মাধ্যমে। পিহু খুশি হয়ে হাসি হাসি মুখ করে বলল,

“মাম্মা! এটাই আমার ইয়ান!”

অপরূপা স্থবির! একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সে অবাক চিত্তে। বিস্ময় স্পষ্ট তার চোখে মুখে। পিহু আবারো আভিয়ানের দিকে তাকাল। ডাকল তাকে,

“ইয়ান?”

আভিয়ানোর দৃষ্টি নরম হলো। তাকাল তার লিটেল কিটেনের দিকে। জবাব নিল,

“হুঁ?”

আনন্দেন উত্তেজনা কাজ করছে পিহুর মাঝে। হাসি হাসি মুখ করে বলল,

“এটা আমার মাম্মা হয়।”

“হুম, আচ্ছা।”

গুমট বাঁধা অস্বস্তি আরো গাঢ় আকারে রূপ নিল অপরূপার। চোখ নামিয়ে বলল,

“আমি পিহুকে নিয়ে যাচ্ছি।”

আভিয়ান কিছু বলার আগেই পিহু গলা জড়িয়ে ধরল আভিয়ানের। দু'দিকে মাথা দুলিয়ে বলল,

“না, যাবো না।”

অপরূপা থমকাল। এভাবে কখনো না বলেনি সে। অথচ এক দিনের পরিচয়েই কিনা মেয়েটা তার অবাধ্য হচ্ছে! অপরূপা অবাক হবে নাকি রাগ করবে বুঝতে পারছে না। সে চোখ-মুখ কুঁচকে কিছুটা রুক্ষ স্বরেই পিহুকে উদ্দেশ্য করে বাক্য ছুড়ল,

“পিহু চলো, এভাবে বিরক্ত করলে আমি তোমাকে নানুমনির কাছে রেখে আসব।”

পিহু শুনল না। উল্টো ঠোঁট উল্টে তাকাল তার দিকে। বলে উঠল,

“না, আমি ইয়ানের কাছে থাকবো।”

এ পর্যায়ে অপরূপা আরও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। অস্থিরতা, অস্বস্তি দ্বিগুণ হলো। অপরূপা ফের কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই তার কর্ণে এসে আঘাত হানল আভিয়ানের ধীর স্থির শীতল কণ্ঠস্বর।

“ও থাকুক।”

“হুঁ?”

“পিহু থাকুক আমার সাথে যদি না আপনার কোনো সমস্যা থাকে।”

এই মুহূর্তে অপরূপার কী বলা বা করা উচিত? অফিসের প্রথম দিনেই মেয়েটা তাকে এ কেমন অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে ফেলে দিল। অপরূপা শান্ত হলো। শ্বাস টেনে বলল,

“ও বিরক্ত করবে আ…”

পুরো বাক্য সমাপ্ত হওয়ার আগেই ভেসে এলো আভিয়ানের ভারি স্বর,

“করবে না।”

“কিন্তু…”

“কাজে ফাঁকি দেওয়া আমার পছন্দ নয়, মিস অপরূপা। কাজের ক্ষেত্রে আমি ছাড় দেই না। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন আমার কথার মানে?”

থেমে গেল অপরূপা। সে ভালো মতোই বুঝেছে কথার মানে। এটাও বুঝেছে তাকে তার কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এখানে সময় নষ্ট করা বোকামি। অপরূপা যখন ভাবনায় মত্ত আভিয়ান তখন পিহুকে কোলর তুলে নিয়ে হাঁটা ধরল বিশাল কাঁচের দেওয়ালটার দিকে। পর্দা সরাতেই মুহূর্তেই দৃশ্যমান হলো এত ব্যস্ত শহরের অস্থির চিত্র।

যতদূর চোখ যায় ততদূর কেবল ইট পাথরের তৈরি বড় বড় দালান আর রাস্তা। দূর থেকে পিহুর নজরে সবটাই খেলনা জগত। এক নতুন শহর। সেই শহরটা উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দিল তার। খিলখিলিয়ে হাত তুলে আভিয়ানকে দেখাল দূরের সকল দৃশ্য, যা নজর পড়ছে পিহুর। আভিয়ানও আজ অপরিচিত হয়ে পরিচিত হলো পিহুর কথায়। অপরূপার নিগূঢ় দৃষ্টি স্থির রইল দুটো মানুষের দিকে। অথচ না দেখেও যেন সবটাই দেখে নিল আভিয়ান। না তাকিয়েই উচ্চারণ করল,

“মিস অপরূপা, কাজে মনোযোগী হোন। দায়িত্ব বেড়েছে আপনার।”

অপরূপা নিশ্চুপ, নির্লিপ্ত। মেয়ের হাস্যজ্জ্বল মুখটা শত রাগ অভিমান ভুলিয়ে দিল তার। বিনা বাক্যর প্রস্থান করল সে। আঁড়চোখে গ্লাসের প্রতিবিম্বে অস্পষ্ট সেই দৃশ্য দেখে নিল আভিয়ান। পিহুর বাঁধবিহীন কথোপকথনে মনোযোগ রেখেই ফোন বের করল। পরপর জাওভানের নাম্বারটা ডায়াল করল। কয়েকবার রিং হতেই রিসিভ হলো। ওপাশ থেকে ভেসে এলো জাওভানের কণ্ঠ,

“হ্যাঁ, বল।”

“আই ওয়ান্ট এভরি সিঙ্গেল ডিটেইল অ্যাবাউট সামওয়ান, নাথিং লেফট আউট।”

আভিয়ানের সরাসরি আদেশ পেয়ে জাওভানের ভ্রু কুঁচকে গেল। সোজা হয়ে বসল সে। নিজের কাজে বিরতি নিয়ে কপালে ভাজে আঙুল ছুঁইয়ে শুধালো,

“হুজ?”

“চেক ইয়োর ইমেইল,এভরিথিং’স দেয়ার।”

আভিয়ানের তৎক্ষনাৎ জবাব। জাওভান ইমেইল চেক করল। এক সুন্দর রমণীর বায়োডাটা দেখে কপালের ভাজ আরো গাঢ় হলো। ভ্রু উঁচিয়ে কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করল,

“হু ইজ শি, আভি?”

আভিয়ান দূর আকাশে উড়ে চলা উড়োজাহাজের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। জবাব দিল,

“দ্যাটস নান অফ ইউর বিজনেস। যতটুকু বলা হচ্ছে ততটুকুই কর।”

কৌতুহল বাড়ল জাওভানের। বিরক্ত স্বরে বলল,

“না, না। কাহিনী আছে, ঘাপলা আছে। সত্যি করে বল তো কে এই মেয়ে?”

বিরক্ত হলো আভিয়ান নিজেও। চোয়াল শক্ত হলো মুহূর্তেই। জবাব দিল,

“নো ওয়ান।”

“দ্যেন?”

“কিউরিওসিটি।”

জাওভানের মুখাবয়ব বিকৃত হলো। চোখ মুখ কুঁচকে গেল তৎক্ষনাৎ। বিকৃতভাষ্যে বলে উঠল,

“কিউরিওসিটি আবার কী? মাথা ঠিক আছে তোর? একজনের ব্যক্তিগত বিষয় জেনে তোর কী লাভ?”

“কিছুই না।”

“তবে?”

বিরক্তিটা রাগে পরিণত হলো আভিয়ানের। এত কথা বলার ধৈর্য্য তার নেই। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“ স্টপ আস্কিং কোয়েশ্চন্স অ্যান্ড ডু ইয়োর জব।”

জাওভান খপ করে শ্বাস ফেলল৷ আবারো মুখ কুঁচকে বলল,

“তুই একটা চিজ মাইরি, দুইন্নার স্বার্থপর।”

আভিয়ান জবাব দিল না। হেসেই বিনাবাক্যে ফোনটা কেটে দিল। পরপর তাকাল পিহুর দিকে। পিহু তার টাই-এ লাগানো প্ল্যাটিনামের ক্লিপটা দেখছে। আভিয়ান ডাকল তাকে,

“লিটেল কিটেন।”

পিহু চোখ তুলে তাকাল তার দিকে। জবাব দিল,

“হুঁ?”

আভিয়ান হাসে। ঠোঁট ছোঁয়ায় পিহুর ফোলা ফোলা গালে। পিহু নিজেও হাসলো। আভিয়ানের দু গালে হাত রেখে বলে উঠল,

“পিহু রোজ ইয়ানের সাথে কেলা কেলা করতে চায়।”

“খেলবে।”

“কালকেও কেলব, তিক আচে?”

আভিয়ান হাসে। মেয়েটাকে ভালো করে দেখে। পরপর তার সোনালী চোখজোড়া। বুকের ভেতরটা ধুক করে উঠল আভিয়ানের। আবারো অস্থির হলো সে। মস্তিষ্ক ছুট লাগাল কিছু দৃশ্য দেখাতে। অস্থিরতা মাত্রা ছড়ানোর আগেই পিহুকে জড়িয়ে ধরল আভিয়ান। অস্থির তার বুকের উঠানামার গতি, ব্যকুল তার মস্তিষ্ক। চোখ বুঁজে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে আওড়াল,

“খেলব, রোজ খেলব সোনা।”

পিহু মাথা তুলল। আভিয়ানের অস্থিরতা না বুঝলেও কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন ঠিকই লক্ষ্য করল সে। প্রশ্ন করল,

“তোমার কী হয়েচে, ইয়ান? তোমার কি মন কালাপ?”

শুঁকনো ঢোক গিলল আভিয়ান। চোখ মেলে তাকাল। অস্থিরতা দমিয়ে ক্ষীণ হাসিতে প্রসস্থ করল ওষ্ঠপুট। জবাব দিল নরম স্বরে,

“আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় এক মানুষের প্রতিচ্ছবি তুমি, লিটেল কিটেন। অদ্ভুত সাদৃশ্য তোমার মধ্যে, ঠিক যেন হারিয়ে যাওয়া কোনো স্মৃতির পুনরাবির্ভাব। তুমি নিজেও জানো না, এই আভিয়ান এহসানের কাছে অপরিচিত হয়েও কতটা গভীরভাবে পরিচিত তুমি। অচেনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চেনা অনুভূতির নাম তুমি।”

আভিয়ানের পুরো কথার সমার্থক না বুঝলেও কিছুটা বুঝল ছোট্ট পিহু। চোখ পিটপিট করে শুধালো,

"কী? কী বললে?"

"মিল, খুব বেশি মিল।"

“মিল? কার সাতে মিল, ইয়ান?”

কে জানে কী হলো আভিয়ানের। কঠোরতার আবরণ সরে কোমলতা এসে ভর করল পুরো মন মস্তিষ্ক জুড়ে। সবুজ দৃষ্টি জোড়া বড্ড চকচকে আকার ধারণ করল রোদের আলোয়। লেগে এলো তার গলা। ছোট্ট করে জবাব দিল,

“মা, আমার মা।”

________

#চলবে

বিশাল একটা পর্ব দিলাম। হ্যাপি রিডিং।🤍

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন