ফন্ট সাইজ:
থিম:
অধিনায়ক সাদমান শেখ

৪র্থ পর্ব

লেখক: আরিভা
 পর্ব: ০৪
রাত তখন প্রায় একটা। সাদমানের কক্ষে সবাই মিলে গোল হয়ে বসল সেই প্রাচীন 'হেরিফেলো' বইটা ঘিরে। সবার চোখে-মুখে এক অদ্ভুত কৌতূহল ও চাপা উত্তেজনা। সাদমান বইটির শক্ত কভার পেজটা খুলল। ঠিক তখনই কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে সুনেহরা বলে উঠল, — "সাদমান, তোর কি ভয় লাগছে? যদি বেশি ভয় লাগে, আমার পাশে এসে বসতে পারিস। বইটা পড়ার সময় এক হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখিস, দেখবি আর একটুও ভয় করবে না।"
বিরক্ত হয়ে সাদমান তাকাল তার দিকে, — "এই সুনেহরা, থাম তো! নিজেও ভয় পাচ্ছিস আবার আমাকেও ভয় দেখাচ্ছিস।" — "আরে ধুর, আমি কই ভয় পাচ্ছি? একদম না!" — "উফ! বুঝেছি। তার চেয়ে বরং তুই-ই আয় আমার পাশে, আমাকে জড়িয়ে ধরে বস।"
ইকবাল আর সহ্য করতে পারল না, — "এই তোদের এই ন্যাকা ভালবাসার পর্ব এবার শেষ কর ভাই! তাড়াতাড়ি 'হেরিফেলো' পড়া শুরু কর।" তিতলি আর রবিনও একসুরে সায় দিল, — "হ্যাঁ সাদমান, আর দেরি করিস না, পড়া শুরু কর।"
সুনেহরা আর কথা না বাড়িয়ে সোজা গিয়ে সাদমানের একদম ঘেঁষে বসল। সাদমান বইটার প্রথম পাতা উল্টে পড়া শুরু করল:
“পৃথিবীর মানচিত্রে এমন কিছু জায়গা আছে, যাদের অস্তিত্ব সাধারণ মানুষ জানে না—আর এমন কিছু মানুষ আছে, যারা পৃথিবীর সৃষ্টির আগের ইতিহাস নিজেদের বুকে লুকিয়ে রেখেছে।” অনুবাদক: মাহমুদ শেখ।
তিতলি সাথে সাথে সাদমানকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল, — "সাদমান! এই বইটা কি তোর দাদা অনুবাদ করেছেন?" — "হ্যাঁ, মনে তো তাই হয়। এখানে তো স্পষ্ট ওনারই নাম খোদাই করা।" — "বেশ, তারপর পড়।"
সাদমান আবার পড়তে শুরু করল:
নোট: এই পাণ্ডুলিপিটি আমি প্রথম হাতে পাই দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রথমে এটিকে নিছক কোনো লোককথা ভেবেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন নথি, মানচিত্র, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং স্থানীয় মানুষের বর্ণনা মিলিয়ে দেখার পর বুঝতে পারি—‘হেরিফেলো’ কোনো সাধারণ গল্প নয়। আমাজনের গহিন অরণ্যের এমন এক অঞ্চলের কথা এখানে বলা হয়েছে, যেখানে বহির্বিশ্বের মানুষের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। সেখানে বসবাস করে এক প্রাচীন জনগোষ্ঠী—যাদের সম্পর্কে আধুনিক পৃথিবীর কোনো নির্ভরযোগ্য ইতিহাসে কোনো উল্লেখ নেই।
হেরিফেলো—কিংবদন্তি বলে, সেই রাজ্যের মাটির নিচে এমন একটি বস্তু সংরক্ষিত আছে, যার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলে পৃথিবীর ইতিহাসের বহু প্রচলিত ধারণা বদলে যেতে পারে। আমি জানি না এই পাণ্ডুলিপি সত্য, নাকি কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি নিখুঁত মিথ। কিন্তু একটি বিষয় আমি নিশ্চিতভাবে জানি—আমি হেরিফেলোর সন্ধান পেয়েছি। আর যদি এই পাণ্ডুলিপির শেষ কথাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে—হেরিফেলোও একদিন আমাকে খুঁজে পাবে। — মাহমুদ শেখ
প্রথম পাতার এই লেখাগুলো শেষ করে সাদমান সবার দিকে তাকাল। রবিন বেশ গম্ভীর হয়ে ভাবুক গলায় বলল, — "আমি আমাজন নিয়ে অনেক বই পড়েছি, কিন্তু 'হেরিফেলো' নামটা কখনো শুনিনি। তাছাড়া আমাজনের গহিন জঙ্গলে এমন অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী আছে, যারা মূলত নরখাদক।" তিতলি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করল, — "নরখাদক মানে?" — "নরখাদক মানে যারা মানুষের মাংস খায়।"
সাদমান বই থেকে চোখ সরিয়ে বলল, — "এমন রোমাঞ্চকর গল্প আমিও পড়েছি। তবে হেরিফেলো নিয়ে রহস্যটা সত্যিই অন্যরকম। আচ্ছা, পরের পৃষ্ঠাগুলো উল্টে দেখি কী আছে।"
বইয়ের পরের পৃষ্ঠা উল্টাতেই সবাই থমকে গেল। পাতাটি পুরোপুরি সাদা, কোনো লেখা নেই! তাড়াহুড়ো করে পরের পৃষ্ঠাগুলো উলটাতে লাগল সাদমান, কিন্তু ফল সেই একই—পুরো বইটাই ফাঁকা, কোথাও কোনো হরফের বা লেখার নামগন্ধ নেই। রবিন ও ইকবাল একসাথে চেঁচিয়ে উঠল, — "কী ব্যাপার সাদমান? বইয়ে কিছু লেখা নেই কেন?" — "না! একদম সাদা, সবকটি পৃষ্ঠাই আশ্চর্যেররকম ফাঁকা।"
ঠিক তখনই সবার নজর গেল সুনেহরার দিকে। সে ইশারায় একটা পুরোনো হলুদ খাম বের করে সেটি খোলার চেষ্টা করছে। সাদমান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, — "তোর হাতে ওটা কী?" — "তুই যখন বইটা উলটাচ্ছিলিস, তখন এটার ভেতর থেকে খামটা খসে পড়ে গেছে। ওপরে লেখা—প্রফেসর ফয়েজ আব্বাস।" — "এদিকে দে তো দেখি।"
সুনেহরা চিঠিটা সাদমানের হাতে তুলে দিল। খামটির ওপর তারিখ স্পষ্ট লেখা—২৫ জুন, ১৯৯৫। প্রেরক: প্রফেসর ফয়েজ আব্বাস। প্রাপক: মাহমুদ শেখ। ঠিকানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি এলাকার নাম উল্লেখ রয়েছে।
সাদমান খাম থেকে ভাঁজ করা হলুদ রঙের পুরোনো কাগজটি বের করে পড়া শুরু করল:
প্রিয় বন্ধু মাহমুদ শেখ, 
অনেক দিন হলো তোমার সঙ্গে সরাসরি দেখা নেই। আশা করি গবেষণার কাজে ভালো আছো। তোমার আমেরিকার শেষ চিঠিটা পাওয়ার পর থেকেই তোমাকে কিছু একটা জানানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু বিষয়টি এতটাই অদ্ভুত যে, চিঠিতে সবকিছু লিখে পাঠানোর সাহস পাচ্ছিলাম না। তুমি নিশ্চয়ই মনে রেখেছ—প্রায় দুই বছর আগে তুমি আমাকে ‘হেরিফেলো’ নামের সেই অদ্ভুত পাণ্ডুলিপির কথা বলেছিলে। তখন আমি বিষয়টিকে নিছক একটি প্রাচীন কিংবদন্তি বলেই ধরে নিয়েছিলাম।
কিন্তু মাহমুদ... আমি ভুল ছিলাম। হেরিফেলো কাল্পনিক কোনো রাজ্য নয়—অন্তত আমার হাতে আসা প্রমাণগুলো সেটাই বলছে। গত কয়েক মাস ধরে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো সংগ্রহশালা, ব্রিটিশ আমলের কয়েকটি নথি এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা কিছু অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র ঘেটে দেখেছি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিভিন্ন সময়ে লেখা কয়েকটি আলাদা নথিতে একই নামের উল্লেখ পেয়েছি—হেরিফেলো। শুধু নাম নয়, তাদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু অস্পষ্ট বর্ণনাও রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, প্রায় প্রতিটি নথিতেই একই কথা বলা হয়েছে—“যে পথ হেরিফেলোর দিকে যায়, সে পথ কোনো মানচিত্রে নেই।”
আমি আরও কিছু পেয়েছি। একটি পুরোনো চিত্রলিপিতে এমন একটি প্রতীক দেখেছি, যেটা তোমার পাঠানো পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদের প্রতীকের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আর সেই প্রতীকের পাশে লেখা ছিল এমন একটি বাক্য, যার অর্থ আমি পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। তবে যতটুকু বুঝেছি, তার অর্থ দাঁড়ায়—“যে উত্তরাধিকারীকে তারা অপেক্ষা করে খুঁজছে, সে তাদের রক্তের নয়।” এই কথাটির অর্থ কী, আমি জানি না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, তুমি যে পাণ্ডুলিপির পেছনে এত বছর ধরে গবেষণা করছ, তার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তোমাকে অনুরোধ করছি, যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে এসো। আমার সঙ্গে সরাসরি দেখা করো। এই বিষয়ে চিঠিতে আর কিছু লেখা নিরাপদ মনে করছি না। আর একটা কথা—তোমার গবেষণার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ যেন ঘুণাক্ষরেও জানতে না পারে। গত সপ্তাহে আমার কক্ষের কিছু নথি কেউ ঘাঁটাঘাঁটি করেছে। কিছুই চুরি হয়নি, কিন্তু একটা বিষয় আমাকে গভীরভাবে চিন্তায় ফেলেছে। আমার মনে হচ্ছে, শুধু আমরাই একা হেরিফেলোর সন্ধান করছি না। তাই দেরি করো না। ২৫ জুনের পর যেকোনো দিন  আমার সঙ্গে দেখা করো। তোমার অপেক্ষায় রইলাম। — 
তোমার বন্ধু,
প্রফেসর ফয়েজ আব্বাস
চিঠিটি পড়া শেষ হওয়ার পর পুরো ঘরে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। সবাই বড় বড় চোখে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। কৌতূহল এখন চরমে। সাদমান চিঠিটা যত্ন করে আবার খামে ভরে রেখে সবার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখল, — "কী মনে হচ্ছে তোদের?"
ইকবাল গম্ভীর গলায় বলল, — "নানাভাই সাধারণ কোনো গবেষক ছিলেন না। তাঁর জীবন ও এই হেরিফেলোর রহস্য সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানা জরুরি। তোরা কী বলিস?" তিতলি মাথা নেড়ে সায় দিল, — "অবশ্যই! মাহমুদ নানার অতীত আমাদের জানতেই হবে।"
সাদমান সিদ্ধান্ত জানাল, — "কালকে সকালেই আমরা প্রফেসরের সেই ঠিকানায় যাব। যদি তাঁকে একবার খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সব রহস্যের জট এমনিতেই খুলে যাবে।" হঠাৎ সুনেহরা একটা বাস্তবসম্মত পয়েন্ট তুলে ধরে বলল, — "যেহেতু প্রফেসর ফয়েজ আব্বাস নানার বন্ধু ছিলেন, সে দীর্ঘকাল আগের কথা। এত দিনে তিনি বেঁচে আছেন কি না, সন্দেহ আছে।"
সাদমান মুগ্ধ ও অবাক দৃষ্টিতে সুনেহরার দিকে তাকিয়ে রইল, — "বাহ সুনেহরা! আমি তো তোকে বরাবরই মাথামোটা ভেবে এসেছি, কিন্তু তুই তো আজ বেশ কাজের একটা পয়েন্ট ধরেছিস!" সুনেহরা মুচকি হেসে ভাব নিয়ে বলল, — "সে কি আর এমনি! আমি কে সেটা তোকে আগেই বোঝা উচিত ছিল।"
রবিন তাড়া দিয়ে উঠল, — "আচ্ছা থাক বাহাদুরি! এখন বল, কাল আমরা ওই ঠিকানায় যাচ্ছি তো?" — "হ্যাঁ! কাল বিকেলেই আমরা ওই ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা দেব। এখন অনেক রাত হয়েছে, যার যার রুমে গিয়ে ঘুমা যা।"
ইকবাল বলে উঠলো , — "আজ রাতে আর কার মাথায় ঘুম আসবে বল! কী এক রহস্যের জালে জড়িয়ে গেলাম আমরা।" — "বেশি ওভারথিংক করিস না, আরামসে ঘুমা। কাল আশা করি সব রহস্যের জট খুলে যাবে।"—সাদমানের কথায় বাকিরা যে যার মতো নিজেদের ঘরে ফিরে গেল।
সবাই যাওয়ার পর সাদমান আরামদায়ক পোশাক পরে বারান্দায় গিয়ে একটা সিগারেট ধরাল। সিগারেটের ধোঁয়া কুঁকড়ে আকাশে মেলতে মেলতে সে পুরো রহস্যটা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে লাগল। ঠিক তখনই তার ঘরের দরজা খোলার মৃদু শব্দ হলো। — "কে ওখানে?" — "আমি।" — "আমি কে?" — "আমি সুনেহরা।" — "ওহ! আয় এদিকে।"
সুনেহরা নিঃশব্দ পায়ে বারান্দায় এসে সাদমানের পাশে দাঁড়াল। — "কী ব্যাপার সুনেহরা? এত রাতেও ঘুমাসনি?" — "না।" — "কেন?" — "তুই জাগনা ছিলি তো, তাই আমারও ঘুম আসেনি।" — "আমি যে জেগে আছি, সেটা তুই বুঝলি কী করে? আর হঠাৎ আমার রুমে এলি কেন?" — "তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করল তাই।"
সাদমান সিগারেটে দীর্ঘ একটা টান দিয়ে অবশিষ্টাংশ ফেলে দিল এবং মৃদু হেসে বলল, — "তবে কি ভয় করছে খুব?" মাথা নিচু করে ফিসফিস করে সুনেহরা বলল, — "হুম।"
সাদমান হাত বাড়িয়ে সুনেহরাকে নিজের দিকে টেনে এনে বুকের সাথে আগলে ধরল। সুনেহরা কোণায় মুখ গুঁজে চুপ করে রইল। — "এই পেতনি, এত ভয় পাস কেন বল তো? আমরা সবাই  আছি তাইনা? আর আমি তো সবসময় তোর পাশেই আছি।" খুব ছোট করে সুনেহরা জবাব দিল, — "হুম।" — "আচ্ছা সুনেহরা!" — "হু বল।" — "তুই না আমার কাঠগোলাপ?" — "হু।" — "তাহলে আমি তোর কে বল তো?" — "তুই আমার খুশির ডিব্বা।"
সাদমান হেসে ফেলল, — "বাইরের আকাশটার দিকে তাকিয়ে দেখ, কত সুন্দর জোছনা ছড়িয়ে আছে। লক্ষ কোটি তারা মিটিমিটি করে হাসছে। আর তুই এমন সুন্দর রাতে ভয় পাচ্ছিস?" — "আচ্ছা, আর ভয় পাব না। একটা কথা বলব? তোকে একটু জড়িয়ে ধরতে পারি?" এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটল সাদমানের মুখে, — "আহা, মানা করল কে? আয়।"
সুনেহরা আর দ্বিতীয়বার ভাবল না, সামনে এসে সাদমানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। প্রায় ছয় ফুট লম্বা সাদমানের সামনে পাঁচ ফুট এক ইঞ্চির সুনেহরাকে বেশ মানাল। সুনেহরা স্পষ্ট শুনতে পেল সাদমানের বুকজুড়ে দ্রুত স্পন্দিত হওয়া হৃদপিণ্ডের শব্দ। জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় সে ফিসফিস করে বলল, — "সাদমান, আমি কি আজ তোর এই ঘরেই থাকতে পারি?" — "কেন হঠাৎ?" — "একা একা আমার খুব ভয় করছে, নিজের রুমে ঘুমাতে পারব না।" — "আচ্ছা ঠিক আছে, চল ভেতরে গিয়ে শুই, অনেক রাত হয়েছে।"
তারা বারান্দা থেকে ঘরে ফিরে এল। সাদমান বিছানার দিকে ইশারা করে বলল, — "তুই খাটে গিয়ে ঘুমা, আমি সোফাতেই ম্যানেজ করে নিচ্ছি।" — "ঠিক আছে।"—বলে সুনেহরা গিয়ে সাদমানের নরম বিছানায় শুয়ে পড়ল।
সাদমানের স্বভাব ছিল খালি গায়ে ঘুমানোর। আর সুনেহরা যেহেতু ঘুটঘুটে অন্ধকারে একটু ভয় পায়, তাই সাদমান ঘরের কর্ণারে মৃদু আলোর ডিমলাইটটা জ্বেলে দিল। বিছানায় শোয়ার পর সুনেহরা আবার কৌতূহলী হয়ে ডাকল, — "সাদমান!" — "বল, আবার কী হলো?" — "তোর সেই প্রমিকানি নিহারিকা তোকে কেন ছেড়ে চলে গিয়েছিল রে?" — "পরিবার থেকে অল্প বয়সে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল, তাই।" — "মিথ্যা কথা বলিস না তো সাদমান!" হালকা হেসে সাদমান পাল্টা প্রশ্ন করল, — "তাহলে সত্যিটা কী, মিস সুনেহরা?" — "নিহারিকা তোর পাশাপাশি অন্য এক ছেলের সাথে গোপনে রিলেশনে জড়িয়েছিল, সেই কারণেই তোদের ব্রেকআপ হয়েছিল—তাই না?" — "হু।" — "তারপর তো আর কাউকেই ভালোবাসার চেষ্টা করিসনি?" — "দুই বছর তো হয়েই গেল। এখন আর এসব ফালতু বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই না। সময় হলে পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করে নেব।" — "সব বুঝলাম, কিন্তু এই নিহারিকার জন্যই তো তুই ওই বাজে সিগারেটের নেশাটা ধরেছিস! এটা ছাড়বি কবে বল তো?" — "বিয়ে করলে সেদিনই ছেড়ে দেব। এখন থাম তো পেতনি! অনেক বকবক করেছিস, এবার আমাকে একটু শান্তিতে ঘুমাতে দে।"
এরপর আর কেউ কোনো কথা বাড়াল না, গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল সাদমান।
পরদিন সকাল প্রায় নয়টা। ঘুম ভাঙার পর চোখ মেলতেই সাদমান এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে পড়ে গেল। সে দেখল, সুনেহরা তার খোলা বুকের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন এবং তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। সুনেহরা ছড়িয়ে থাকা চুল আর তার গায়ের মিষ্টি সুবাস সাদমানকে যেন আচ্ছন্ন করে ফেলল। সাদমান মনে মনে ভাবল, এই অবস্থায় যদি বাড়ির কেউ এসে পড়ে, তবে আস্ত একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে!
সে আলতো হাতে সুনেহরার চুলে বিলি কেটে নরম স্বরে ডাকল, — "সুনেহরা! ও সুনেহরা, ওঠ এবার।" ঘুমজড়ানো কণ্ঠে চোখ না খুলেই সে বিড়বিড় করল, — "না, আর একটু ঘুমাই না প্লিজ!"
হঠাৎ যেন হুশ ফিরল সুনেহরা। সে চোখ বড় বড় করে তাকাতেই বুঝতে পারল সে ঠিক কোথায় এবং কার ওপর শুয়ে আছে! লজ্জায় লাল হয়ে সে এক লাফে সাদমানের শরীর থেকে সরে বসল। — "সরি, সরি সাদমান! আসলে আমার ঘুম আসছিল না, তোর ভয় করছিল দেখে তোর পাশে এসে শুয়েছিলাম, কখন যে তোর বুকের ওপর চলে গেছি টেরই পাইনি! সরি..."
কথাগুলো বলেই নিজের জিভে কামড় দিয়ে এক দৌড়ে সাদমানের ঘর থেকে পালিয়ে গেল সুনেহরা। আর বিছানায় শুয়ে থাকা সাদমান টের পেল, তার নাকে এখনো লেপ্টে আছে সুনেহরার শরীর ছোঁয়া সেই মোহনীয় সুবাস—যে মোহ কাটিয়ে ওঠা তার পক্ষে এই মুহূর্তে অসম্ভব প্রায়।
[চলবে...]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন