গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ০৩
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
ত্রিয়াশ ড্রাইভিং সিটে বসে আছে। একে একে সবাই এসে গাড়িতে উঠে বসেছে—শুধু আইলিন ছাড়া। বাইরে খেতে যাওয়া নিয়ে তার কোন ইচ্ছে নেই, তাই চুপচাপ গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে।
আইলিনকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিয়তি মুচকি হেসে বলল।
-“কি হলো ছোট ভাবি? গাড়িতে উঠে বসো।”
আইলিন কোনো উত্তর দিল না, শুধু নিস্তব্ধ মুখে দাঁড়িয়ে রইল। শব্দহীন নীরবতাও যেন তার পক্ষ হয়ে কথা বলছিল।
আইলিন কে এভাবে চুপ করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আইরা গাড়ির মধ্যে থেকে বলে উঠে।
-“ কি হলো! আইলিন। দাড়িয়ে আছিস কেন? গাড়িতে উঠে বস। ”
আইলিনও চায় না তার জন্য সবাই অপেক্ষা করোক। এমন সময় আইলিন নরম চোখে আইরার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল—
-“তুমি তো জানো আপু, আজ আমার ভার্সিটির প্রথম ক্লাস। আর আমি সত্যিই সেই ক্লাসটা মিস করতে চাই না। তাই সরি… আজ তোমাদের সঙ্গে যেতে পারব না। তোমরা সবাই যাও, ভালোভাবে ঘুরে মজা করো। আর আমাকে যেতে হবে আমার ভার্সিটিতে।”
আইলিনের কণ্ঠে ছিল নতুন পথচলার উত্তেজনা আর সামান্য অপরাধবোধের মিশেল— তবে সে জানত, আজকের দিনটা তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আইলিন এই দিনটার জন্য কত অপেক্ষা করছে কবে ভার্সিটি যাবে— এই নিয়ে পৃথার সাথে কত প্ল্যান করেছে।হঠাৎ বিয়ে হওয়ায় সব ভেস্তে গেল কিন্তু তবুও আইলিন চায় ভার্সিটি যাবে। আইলিনের কথায় নিশি বলে।
-“ আরে আমিও তো আজ ভার্সিটি যাবো না, এমনকি নিভানও যাচ্ছে না। গাড়িতে উঠে বসো একদিন না গেলে কিছু হবে না। ”
আইলিনকে খাম্বার মতো নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ত্রিয়াশের রাগ চুপচাপ ফুটে উঠতে লাগল। স্টিয়ারিং হুইলে বিরক্তি ভরা আঙুলের টোকা দিচ্ছিল সে—হালকা, কিন্তু স্পষ্ট অস্থিরতার প্রকাশ। কয়েক মুহূর্ত সামনে তাকিয়ে চুপ করে থাকার পর হঠাৎই বলল—
-“যার ইচ্ছে হবে যাবে, না হলে যাবে না। এতো তেল দিতে হবে কেন?”
ত্রিয়াশের কথাটা আইলিনের কানে পৌঁছাতেই তার বুকের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠল। কিছু একটা বলতে যাবে—মুখ খুলেছে ঠিক তখনই—ত্রিয়াশ হঠাৎই ধুলো উড়িয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। কোনো কথার সুযোগ না দিয়ে মুহূর্তেই দূরে চলে গেল সে।
আচমকা ঘটনার ধাক্কায় আইলিন স্থির দাঁড়িয়ে রইল। যেন পুরোটা সময়টুকু সে শুধু তাকিয়েই থাকল—বোকা বনে যাওয়া মানুষের মতো। তার চোখের সামনে মিলিয়ে যাওয়া গাড়িটা যেন তার ভাবনা, রাগ আর অভিমান সবকিছুই সঙ্গে করে নিয়ে চলে গেল।
আইলিন হা করে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক সেই মুহূর্তে তার হাতে ধরা ফোনটা ঝংকার তুলে বেজে ওঠে। চমকে উঠে সে ফোনের স্ক্রিনে তাকায়—পৃথা কল করেছে। মুহূর্তেই সব ভাবনা এলোমেলো হয়ে যায়। তবুও আর দেরি না করে রিসিভ বাটন টিপে কল ধরল সে।
আইলিন কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে পৃথার তাড়াহুড়া ভরা কণ্ঠ ভেসে আসে—
-“কি রে? কোথায় আছিস? তাড়াতাড়ি ভার্সিটিতে আয়। আমি শিফু কাকার টঙের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন তোকে নিতে তোর বাড়ি যেতে পারবো না। তুই এখানেই আয়, তারপর আমরা একসঙ্গে যাবো।”
পৃথার কণ্ঠে এক ধরনের ব্যস্ততা আর হালকা অধৈর্য ফুটে ওঠে। আইলিন ফোনটা কানে চেপে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকে, তারপর ধীরে ধীরে বাস্তবে ফেরা মানুষটার মতো নড়ে ওঠে। পৃথার ডাকে সাড়া দিয়ে সে এগোতে শুরু করে, মনে মনে ভাবতে থাকে—আজকের দিনটা যেন শুরু থেকেই খুব অদ্ভুত লাগছে।
এদিকে আইলিনের কোনো সারা না পেয়ে পৃথা আবারও বলে উঠে।
-“ কি হলো বা*ল, এমন ভেটকাইয়া আছোস কেন? কথা বল। ”
-“ তুই দাড়া, আমি আসছি। ”
-“ তাড়াতাড়ি আয় অনেক দরকারী কথা আছে— বলার জন্য পেটের মধ্যে গুরগুর করছে। ”
-“ আমারও কথা আছে। ”
আইলিন কল কেটে সামনে কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে তড়িঘড়ি করে একটি রিকশা থামালো। রিকশায় উঠে মুহূর্তেই চোখের আড়াল হয়ে গেল সে। প্রায় বিশ মিনিট পর এসে শিফু কাকার টং দোকানের সামনে থামল আইলিন। দেরি করায় পৃথা বিরক্তিতে নিশ্বাস ছেড়ে “চ্!” শব্দ করে উঠল। তবু সময় নষ্ট না করে দু’জন আবার হাঁটা ধরল ভার্সিটির দিকে।
প্রথম ক্লাস যে মিস হয়ে গেছে, তা দু’জনেই জানত। কিন্তু অন্তত দ্বিতীয় ক্লাসটি তারা করবেই—এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত পা চালাচ্ছিল। রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে আইলিন হঠাৎ পৃথার দিকে তাকিয়ে বলল—
-“কি কথা আছে তোর? বল এবার।”
পৃথা মলিন মুখে, বিষাদের আভায় ভরা কণ্ঠে ধীরস্বরে উত্তর দিল—
- “দ্বিতীয় ক্লাসের পর বলি। আগে ক্লাসটা শেষ করি… এখন এসব কথা বলে মনটা আরও খারাপ করতে চাই না।”
আইলিন আর কিছু বলল না। দু’জনই নীরবে হাঁটতে হাঁটতে ভার্সিটির গেটের কাছে এসে পৌঁছালো। দ্বিতীয় ক্লাস শুরু হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। তাই আর দেরি না করে তারা সোজা ক্লাসের উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেল।
ক্লাসরুমে ঢুকে আইলিন আর পৃথা পেছনের দিকের দুই নম্বর বেঞ্চে গিয়ে বসল। হাঁপ ছেড়ে বসতেই তারা শুনল—প্রথম ক্লাস নাকি হয়নি। খবরটা শুনে দু’জনেই খুশিতে মুখ চাওয়া–চাওয়ি করল; এত দৌড়ঝাঁপ করে আসার পর অন্তত মিস হয়নি জেনে মনে হল এটাই দিনের প্রথম ভালো খবর।
কিন্তু ঠিক পরেই আরেকটা আলোচনা কানে এলো। সবাই ফিসফিস করছে—ভার্সিটির ইংলিশ স্যার নাকি খুবই কড়া, রাগও নাকি তীব্র! আবার শোনা যায় দেখতে নাকি একেবারে হিরোদের মতো—স্টাইল, ব্যক্তিত্ব সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে তিনি নাকি এক কথায় সবার ক্রাশ।
ক্লাসের সামনে, মাঝখানে, এমনকি জানলার পাশে বসা মেয়েরাও উত্তেজিত স্বরে তার গল্প করছে।
কিন্তু আইলিন আর পৃথা তাতে খুব একটা পাত্তা দিল না। অন্যদের উচ্ছ্বাস, কৌতূহল, হাহাকার—সবই যেন তাদের কানে ঢুকেও ঢুকে না। তারা দু’জনই নিজের নিজের ভাবনায় ডুবে ছিল। পৃথার মনটা ভারী, আইলিনও বুঝতে পারছিল—কিছু একটা ঠিক নেই। তাই অচেনা কোনো স্যারের রূপ বা রাগ তাদের চিন্তার তাল কাটাতে পারল না।
চুপচাপ, নিঃশব্দে তারা ক্লাস শুরু হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগল।
এদিকে হঠাৎই ক্লাসরুমে ইংলিশ স্যার চলে আসে। গম্ভীর উপস্থিতি নিয়ে ইংলিশ স্যার ভেতরে প্রবেশ করতেই পুরো ক্লাস একসাথে দাঁড়িয়ে পড়ল। মুহূর্তেই ঘরে একটা চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে গেল—মনে হলো সবাই চোখ দিয়ে স্যারকে একেবারে গিলে খেতে চাইছে। এমন লুক, এমন ব্যক্তিত্ব—এতো হ্যান্ডসাম স্যার থাকলে ছাত্রীরা পাগল হবেই, এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু আইলিনের প্রতিক্রিয়া বাকিদের থেকে পুরোপুরি আলাদা।
সবার মতো হিরো-দর্শন করতে গিয়ে তার চোখ হঠাৎই থমকে গেল… বড় বড় হয়ে গেল দু’চোখ। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্যারকে দেখে যেন তার শ্বাস আটকে এলো। এ কি সত্যি?
স্যারের রূপে… নাভিয়ান ত্রিয়াশ মির্জা?
এক ঝলকে পরিচিত সেই মুখ, যার সাথে কাল তার বিয়ে হয়েছে । চারপাশের শব্দ, ক্লাসরুমের ফিসফাস, স্যারের গম্ভীর দৃষ্টি—সবকিছুই আইলিনের চোখে ঝাপসা হতে শুরু করল। নিজের দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে সে।
ইতিমধ্যে সবাই বসে পড়েছে। কিন্তু আইলিন বসার আগেই দেহটা হঠাৎই ঢলে পড়ে গেল—মাটিতে লুটিয়ে পড়ার শব্দে পুরো ক্লাস স্তব্ধ হয়ে গেল।
আইলিনের বান্ধবী পৃথা প্রথম মুহূর্তেই সব বুঝতে পারল না। কিন্তু পরের সেকেন্ডেই তার বুক কেঁপে উঠল—আইলিন নিস্তেজ!
পৃথা আইলিন বলে চিৎকার দিয়ে উঠল—তার কণ্ঠে আতঙ্ক, ভয় আর অসহায়তা একসাথে কেঁপে উঠল। পুরো ক্লাসরুম তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
ত্রিয়াশ স্বাভাবিক ভাবে তাদের দিকে এগিয়ে এসে আইলিনের মুখে পানি ছিটিয়ে দেয় — কিছু সময়ের মধ্যে আইলিনের জ্ঞান ফিরে আসে। ত্রিয়াশ একটু দূরে দাঁড়িয়ে বুকে হাত ভাজ করে দাড়িয়ে থেকে বলে।
-“ মিস পৃথা, আপনার বান্ধবী কে নিয়ে বাহিরে চলে যান। আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি কাইন্ড অফ ডিস্টার্ব্যান্স ইন দা ক্লাস। ”
আইলিনের মনো হলো তাকে অপমান করলো। কিছু বললো না চুপচাপ পৃথার সাথে বাহিরে চলে গেল। দুজনে হাটতে হাটতে ভার্সিটির পেছনের দিকে বকুল তলায় গিয়ে বসলো। আইলিন এখনো ঘোরপর মধ্যে আছে। পৃথা ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে আইলিনের দিকে এগিয়ে দিল।আইলিন পানি খেয়ে নিল।পৃথা দম নিয়ে বলে।
-“ তোর বোনের বজ্জাত দেবরটাই আমাদের ইংলিশ স্যার হতে হলো। ”
আইলিন কিছু বলছেনা। দেবর হলে মানা যেত কিন্তু এটা তো তার জামাই। যেখানে আইলিনের স্যারকে বিয়ে করা নারাজ ছিল — আজ তারই স্যারের সাথে বিয়ে হয়েছে। আইলিনের এখন হাত পা ছুরে কান্না করতে মন চায়ছে। আইলিন কে এভাবে চুপ করে থাকতে দেখে পৃথা বলে।
-“ কি হলো!এভাবে চুপ করে গেলি কেন? যাক সেসব বাদ দে — তুইও তো কিছু বলতে চেয়েছিলি সেটা বল? ”
আইলিন মনোযোগ ভেঙে পৃথাকে বলে।
-“ তোর টা আগে শুনি, কি বলতে চাইলি বল? ”
পৃথা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে।
-“ কাল আমাকে দেখতে এসেছিল।শুধু ছেলের মা বাবা আর বোন দেখে গেছে। তাদের আমাকে পছন্দ হয়েছে। ”
এটুকু বলে পৃথা থামলো। আইলিন পৃথার কাঁধে হাত দিয়ে বলে।
-“ আরে এটা তো খুশির খবর। আমি তোর বিয়ে খাবো বলে অপেক্ষা করছি।বিয়ে টা কবে হচ্ছে।
-“ বা*ল!”
-“ আরে কি হলো, এমন মুখ করে বসে আসিস কেন? ”
পৃথা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে।
-“ সমস্যা একটাই যার সাথে বিয়ে — সে ভার্সিটির টিচার। তুই তো জানিস আমি এই টিচার ফিচার কে বিয়ে করতে চাই না। বিয়ের পর এরা শুধু পড়ার প্যারা দিবে। পড়তে কি ভালো লাগে বল? ”
-“ হুম বুঝলাম, কোন ভার্সিটির টিচার? ”
-“ আমাদের ভার্সিটির। ”
-“ ওহ! নাম কি? ”
-“ আহান। ”
আইলিনরা যেখানে বসে আছে, সেখান থেকে ভার্সিটির মাঠের ভেতরে বসে থাকা মানুষদের স্পষ্ট দেখা যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে হাতে কয়েকটা ফাইল নিয়ে সেখানে দিয়ে হেঁটে যায় আহান। আর তখনই পৃথা আঙুল তুলে তাকে দেখিয়ে দেয়।
আইলিন মুচকি হাসলো হেসে বললো।
-“ বিয়েতে হ্যা বলে দে।”
-“ তুই বন্ধু না শত্রু?”
-“ দেখ আমার মনে হয় আজকালকার যুগে এমন সুপাত্র পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আহান স্যারকে দেখতেও মাশাআল্লাহ। তোর সাথে ভালোই মানাবে রাজি হয়ে যা। ”
-“ কাল রেস্টুরেন্টে আমাকে ডেকেছে কথা বলবে। আমি যাবো না। ”
-“ ভয় পাস না আমি আছি তো — অবশ্যই কাল তুই যাবি। ”
-“ দুঃখের কথা তোকে বলতে আসলাম আর সেই তুই বলছিস বিয়ে করতে ধূর কেউ আমার কষ্ট বোঝে না। ”
পৃথা রাগ করে উঠে চলে যায়। আইলিন পৃথার পেছনে ডাকতে ডাকতে চলে আসে। পৃথা কোনো কথা না বলেই রিকশা নিয়ে চলে যায় আইলিনকে রেখে।
আইলিনও অন্য রিকশা ভাড়া করে চলে যায়।
প্রায় আধঘন্টা পড়ে বাড়িতে এসেই আইরা কে ডাকতে থাকে। আইরা আইলিনের ডাক শুনে রান্নাঘর থেকে চলে আসে তার সাথে তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম ও চলে আসে। আইলিন রাগ নিয়ে আইরাকে বলে।
-“ তোমার দেবর ভার্সিটির টিচার এটা আমাকে আগে জানাওনি কেন? তোমরা তো বলেছিলে সে বিজনেস ম্যান তাহলে টিচার হয় কেমনে? আপু তুমি তো জানো আমি স্যার ট্যার কে বিয়ে করতে চাই নাই — তাহলে কেন প্রতারণা করলে তোমরা? ”
আইরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই তিশা বেগম বলে।
-“ তুমি কোনো ভুল শোনোনি, আইলিন! আমার ছেলে দুই পেশায় আছে। বিজনেস করার সাথে সাথে টিচারও। রাগ করোনা মা, আমার ছেলে তোমাকে অনেক ভালো রাখবে। তুমি সুপাত্রের হাতে আছো।”
আইলিন কিছু বললো না — তার চোখে পানি টলমল করছে। টলমল চোখে আইরার দিকে তাকিয়ে সোজা নিজের ঘরে চলে গেল।
আইলিন ঘরে এসেই সোজা ওয়াশরুম চলে গেল। আইলিন ওয়াশরুমের দরজা সাথে হেলান দিয়ে বসে কান্না করে হঠাৎ তার মনে পরে পৃথারও তো টিচারের সাথে বিয়ে এই ভেবে হেসে উঠে।
আইলিন শাওয়ার ছেড়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তার পুরো শরীর ভিজে গেল এই শীতে তবুও ভিজছে। বান্ধবীরও স্যারের সাথে বিয়ে হবে ভেবে তার নাচতে মন চাচ্ছে।
আইলিন শ্যাম্পু করতে করতে ফেনা দিয়ে দাড়ি মোচ বানিয়ে আয়না দেখে খিলখিল করে হাসতে লাগলো। আইলিনের মনে হচ্ছে গান নাচ করতে। মন চায়ছে একটু ঝাকানাকা গান গায়তে। আইলিন মাথায় শ্যাম্পু করতে করতে বেসুরে গান শুরু করলো।
** আয়ায়া আয়ায়া,,
এমন নাচ নাচিয়া, নেব মন কারিয়া।
ছম ছম ছম ছমা ছম ঘুঙুর বাজাইয়া....
এমন নাচ নাচিয়া, নেব মন কারিয়া।
ছম ছম ছম ছমা ছম ঘুঙুর বাজাইয়া....
এই রংমহলে ছোট বড় সকলে,
আমি সবার চোখে দেবো তাক লাগাইয়া।
ক্লান্ত শরীর নিয়ে মাত্রই ত্রিয়াশ নিজের ঘরে আসে। হাত ঘড়ি খুলতে খুলতে ওয়াশরুমের সামনে এসেই — আইলিনের বেসুরে গান শুনতে পেয়ে কপাল কুঁচকে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। ত্রিয়াশ মনে মনে বলে— সকালেই জ্ঞান হারিয়ে উল্টো হয়ে পরে ছিল এখন কোন সুখে এমন কা কা করছে। ” তার ছেঁড়া ” শেষমেশ আমার কপালেই জুটলো।
ত্রিয়াশ ফ্রেশ হবে ওয়াশরুম যাওয়া প্রয়োজন— এদিকে আইলিন মনের সুখে গান গায়ছে তবে ত্রিয়াশের মনে হচ্ছে কাক ডাকছে।
ত্রিয়াশ একটু সামনে এসে ওয়াশরুমের দরজার কাছে এসে আইলিনের উদ্দেশ্য করে বলে।
-“ শোনো মেয়ে আমার মতো সুদর্শন পুরুষের মন কারতে পারলে না — সেখানে বড় বড় চুল দাত ওয়ালা জ্বীন-ভূতের মন কারার জন্য নাচগান করছো। তোমার মতো পেত্নীর প্রেমে কেউ পরবে না বের হও। ”
ত্রিয়াশের কথায় আইলিনের রাগ লাগছে।বিরবির করে আইলিন মুখ মোচড় দিয়ে ত্রিয়াশকে শখানেক গালি দিল।আইলিন কে এখনো বের হতে না দেখে — ত্রিয়াশ আবারও বলে।
-“ বের হও, জ্বীন-ভূত দের এতো নাচ গান দেখাতে হবে না। ”
ভেতর থেকে আইলিন বলে উঠে।
-“ কি করবেন? ”
ত্রিয়াশ দাঁতে দাঁত চেপে বলে।
-“ ইয়ে করবো! বের হও।
-“ আশ্চর্য ইয়ে করবেন আমি বের হয়ে কি করবো? ইয়েটা বিছানায় গিয়ে করেন। ”
-“ হোয়াট দ্য?”
এ-র মধ্যে আইলিন খট করে ওয়াশরুমের দরজা খোলে। ত্রিয়াশ আইলিনকে কিছু বলতে যাবে — আইলিনের স্নিগ্ধ ভেজা মুখ দেখে কিছু বলতে পারলো না। আইলিনকে দেখতে মিষ্টি লাগছে। চোখের ভেজা পাপড়ি দেখতে আকর্ষণ লাগছে।ত্রিয়াশ না চায়তেও মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দেখছে।
আইলিন ওয়াশরুমের দরজা থেকে দুই পা পেরুতেই পা পিছলে পড়তে যাবে সঙ্গে সঙ্গে ত্রিয়াশ ধরে ফেলে।আইলিন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ত্রিয়াশের শার্টের কলার আকড়ে ধরে।
আইলিন আস্তে আস্তে চোখ খুলে দেখে ত্রিয়াশ তার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। এই মূহুর্তে দুজন দুজনকে অপলক দৃষ্টিতে দেখছে।
আইলিন লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলে— ত্রিয়াশের হুশ আসতেই আইলিন কে সোজা দাড় করিয়ে নিজে ওয়াশরুমে চলে যায়। ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে আইলিন মুচকি হেসে ফেলে। আইলিনের মনে কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছে।
চলবে............
(ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে। সকলে সাপোর্ট করো রেসপন্স করো। এটা নতুন লিখছি গল্প কেমন হয় সেটাও বলো প্লিজ। তোমরা যদি রেসপন্স না করো তারমানে কি আমার গল্প আমিই পড়বো, তোমরা পড়তে চাও না। )