গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ০৪
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
এখন রাত আটটা বাজে। মহিলা সদস্যরা ড্রয়িং রুমে একসাথে সময় কাটাচ্ছে। তিশা বেগম এবং মুনিরা বেগম মিলিতভাবে স্টার জলসায় একটি সিরিয়াল দেখছে। এই সময় আইরা কফি বানিয়ে নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে বসে সিরিয়াল উপভোগ করতে শুরু করে।
এখনো বাড়ির কর্তারা, নাহিদ মির্জা এবং নিহাল মির্জা, অফিস থেকে বাড়িতে ফিরেননি। অফিসে বর্তমানে নিলয় ও ত্রিয়াশ দুজনেই রয়েছেন। সম্ভবত তারা নয়টার মধ্যে বাড়িতে ফিরে আসবেন।
আইলিন এতক্ষণ পৃথার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল। পৃথা এখনো জানে না যে আইলিনের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই বান্ধবী টুকটাক কথা বলছিল, ঠিক তখন নিয়তি এবং নিশি আইলিনের ঘরে প্রবেশ করল তাদেরকে দেখে কল কেটে দিল। তাদের দেখে আইলিন খুশি হয়ে উঠল। একদিনের ব্যবধানে আইলিন নিয়তি এবং নিশিকে বন্ধু করে ফেলেছে।বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠল।
কথা বলতে বলতে হঠাৎ আইলিন বলল,
-“আচ্ছা নিশি আপু, তোমার ত্রিয়াশ ভাইয়া কি আগে থেকে এমন গোমড়ামুখো?”
নিয়তি কিছু বলতে গেলে নিশি থামিয়ে দিয়ে বলল,
-“আরে হ্যাঁ, ভাইয়া এমনই। এজন্যই আমরা ভয়ে তার সঙ্গে বেশি কথা বলি না।”
তারপর নিশি আবার বলে উঠল,
-“আমাদের গোমড়ামুখো ভাইয়া তো ভার্সিটির ইংলিশ লেকচারার। আজকে ক্লাস কেমন হল?”
আজকের সকালের কথা মনে পড়ে আইলিন হঠাৎ মুখ ছোট করে বসে রইল। নিজের স্বামীকে ভার্সিটির ইংলিশ লেকচারার হিসেবে দেখে সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল—এটা তো কারো সামনে বলা সম্ভব নয়!
আইলিন মেকি হাসি দিয়ে বলল,
-“ভালো, খুব ভালো।”
কিন্তু মনে মনে সে চিন্তায় ডুবে ছিল, আর ভাবছিল,
-“আগে যদি জানতাম ওই খাটাশটা ভার্সিটির লেকচারার, জীবনেও সেই ভার্সিটিতে ভর্তি হইতাম না।”
আইলিনকে অন্যমনষ্ক দেখে নিয়তি জিজ্ঞেস করল,
-“কি হলো, ছোট ভাবি? কি ভাবছো?”
নিশি মজার ছলে বলল,
-“আরে, বুঝিস না, নিশ্চয় ভাইয়ার কথা ভাবছে।”
বলেই নিশি হেসে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে হেসে উঠল নিয়তিও।
আইলিন মাথা নিচু করে মুখ মোচড় দিয়ে মনে মনে ভাবল,
-“ওই হুনুমানের কথা ভাবতে বয়ে গেছে, হুহ।”
নিয়তি আর নিশি কিছু না বলেই আইলিনকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে আসে। ড্রয়িং রুমে তাদের মা-চাচি প্রিয় সিরিয়াল দেখতে ব্যস্ত। এই সময় তাদের বিরক্ত করলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না পিঠে পড়বে—এটা তারা ভালভাবেই জানে।
ড্রয়িং রুমে আইলিন, নিয়তি আর নিশি আসতেই আইরা তাদেরকে সোফায় বসতে বলল। আইলিন চলে গিয়ে আইরার পাশে বসল। ঘড়িতে নয়টা বাজতে চলেছে, কিন্তু এখনো কেউ খেতে যায়নি। এদিকে আইলিনের ক্ষুধা শুরু হয়েছে। পেট ধরে বসে থাকা আইলিনকে দেখে আইরা ধীরে ধীরে বলে উঠল,
-“বোন, খিদে পেয়েছে? আর একটু অপেক্ষা কর। আমাদের শ্বশুরমশাইরা এলে একসাথে খাবো। এই বাড়িতে সকলে এভাবেই খায়।”
আইলিন মাথা নাড়ে বোঝালো, ঠিক আছে।
কি আর করা, বাবার বাড়ি আর শ্বশুর বাড়ির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে—এটি আইলিন ভালোভাবে বুঝেছে। এতক্ষণ যদি সে বাবার বাড়িতে থাকত, হয়তো নিজে নিজে খাবার খেতে বসে যেত। কিন্তু এখন এটি শ্বশুর বাড়ি। এখানে নিয়ম আর অভ্যস্ততা অন্যরকম।
আইলিনের মনে তার বাবার বাড়ির কথা ভেসে উঠল। সেখানে খাওয়ার ধারা, হাসি-ঠাট্টা, ঘরের উষ্ণতা—সবকিছু আলাদা। কিন্তু এখন তাকে শ্বশুরবাড়ির নিয়ম মানতেই হবে। এই ভিন্নতা অনুভব করেও সে শান্ত হয়ে বসেছিল, কেবল অপেক্ষা করতে হলো।
এর মধ্যেই বাইরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল। বুঝতে অসুবিধা হলো না—অফিস থেকে সবাই ফিরে এসেছে। এতক্ষণে তিশা বেগম আর মুনিরা বেগমের সিরিয়াল দেখা শেষ। দুজনেই এখন রান্নাঘরে টুকিটাকি কাজে ব্যস্ত—খাবার গুছাচ্ছে, থালা-বাসন ঠিক করছে। আজ সবাই একসাথেই ডিনার করবে। তাদের কাজে সাহায্য করছে আইরা।
ড্রয়িংরুমের সোফায় পাশাপাশি বসে আছে নিয়তি আর নিশি। তাদের সঙ্গে আছে আইলিন। ঘরজুড়ে একটা শান্ত, পারিবারিক আবহ।
এমন সময় হঠাৎ করেই ত্রিয়াশ হনহনিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেল। তবে যাওয়ার আগে এক ঝলক আইলিনের দিকে তাকাতে ভুলল না সে। ঠিক তখনই দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আইলিন চোখ নামিয়ে নিল, যেন কিছুই হয়নি।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে নাহিদ মির্জা আর নিহাল মির্জা নিচে নেমে এলেন। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে পড়লেন। একে একে সবাই এসে যোগ দিল। যার যার সঙ্গীর পাশে বসে সবাই একসাথে খেতে শুরু করল। বাড়ির বাচ্চারা এক পাশে বসেছে। তবে একটি চেয়ার খালি পড়ে রইল—নিভানের।
খাওয়ার মাঝেই নাহিদ মির্জা জিজ্ঞেস করলেন, -“নিভান খাবে না?”
তিশা বেগম মৃদু রাগ চেপে বললেন, —“আপনার ছেলের পেট খারাপ হয়েছে। ঘরের খাবার খাবে না, বাইরে গিয়ে সব ঘাসপাতা গিলে আসে, তারপর পেট খারাপ বাঁধিয়ে নিয়ে ফেরে!”
ঠিক তখনই নিভান খেতে খেতে আসতে আসতে বলল, —“মা, তুমি কি আমার মান-সম্মান একেবারে শেষ করে দেবে নাকি?”
নিলয় হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই বলল, —“তোর সম্মান বহু আগেই ধুলোয় মিশে গেছে। এক কাজ কর—কুত্তার সঙ্গে বন্ধুত্ব কর। দেখ, কুত্তার পেটে যেমন ঘি হজম হয় না, তেমনি তোর পেটেও রেস্টুরেন্টের খাবার হজম হয় না!”
এই কথা বলেই নিলয় আবার জোরে হাসতে লাগল। নিভান মুখ কাচুমাচু করে চুপচাপ বসে রইল। সকালে সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর থেকেই সারাদিন তার পেট খারাপ চলছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিভান মুখ বাঁকিয়ে বলল, —“সব তোমার চোখ লাগার কারণেই হয়েছে।”
সবার কথাবার্তার মাঝেই হঠাৎ করে ত্রিয়াশ গম্ভীর কণ্ঠে আইলিনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
-“খাচ্ছো না কেন? এভাবে বসে আছো কেন?”
ত্রিয়াশের কথায় মুহূর্তেই টেবিলের সবাই আইলিনের দিকে তাকাল। দেখা গেল, আইলিন এক হাতে নিজের পেট চেপে ধরে চুপচাপ বসে আছে—থালার খাবারে একটুও হাত দেয়নি। বিষয়টি চোখ এড়াল না তিশা বেগমের। তিনি চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠলেন,
-“কি হলো আইলিন মা? পেট ধরে বসে আছো কেন?”
একজনের প্রশ্নের পর আরেকজন—চারদিক থেকে প্রশ্ন আসতে লাগল। আইলিন কী বলবে বুঝে উঠতে পারছিল না। লজ্জা আর অস্বস্তিতে তার গলা যেন আটকে এসেছে। অসহায় দৃষ্টিতে সে আইরার দিকে তাকাল। আইরা চোখের ইশারায় তাকে আশ্বস্ত করে সবার উদ্দেশে শান্ত স্বরে বলল,
-“আসলে আইলিনের বেশি খিদে লাগলে ও কিছুই খেতে পারে না। তাই এমন করছে।”
আইলিন লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখল। কিছু বলার সাহস তার হলো না। ঠিক তখনই ত্রিয়াশ খাওয়া শেষ করে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল। সিড়ির দিকে যেতে যেতে আবারও সেই গম্ভীর কণ্ঠেই বলল,
-“মা, এসব নিয়ম বাদ দাও। স্বামী অফিস থেকে আসবে বলে পরে খেতে হবে—এমন কোনো নিয়ম যেন এই বাড়িতে আর না দেখি।”
কথা শেষ করেই ত্রিয়াশ হনহন করে সিড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেল। ছেলের এমন কথায় নাহিদ মির্জার ঠোঁটে একফোঁটা মুচকি হাসি ফুটে উঠল।
খাওয়ার মাঝেই নিভান হঠাৎ মজার ছলে বলে উঠল,
-“বুঝলে নিলয় ভাইয়া, বিয়ে করবে না বলে ত্রিয়াশ ভাইয়া কী রাগারাগি করত! আর এখন দেখো—বিয়ের একদিনও পেরোয়নি, তার আগেই বউয়ের জন্য কী ভীষণ ভালুপাশা!”
নিভানের কথায় আইলিন ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেল। লজ্জায় সে চোখ নামিয়ে নিল, গাল দুটো হালকা লাল হয়ে উঠল। তার সেই অপ্রস্তুত ভাব দেখে তিশা বেগম হেসে নিভানের পিঠে আলতো করে চাপর মেরে বললেন,
-“বউয়ের জন্য ভালোবাসা থাকবে না তো কার জন্য থাকবে বল তো? তুই বিয়ে কর, তখন দেখা যাবে—বউয়ের আঁচলের তলায় তোকে খুঁজে পাওয়া যাবে!”
তিশা বেগমের কথায় নিভান সবগুলো দাঁত বের করে হেসে বলল,
-“তা তো অবশ্যই!”
এই কথার পরই খাবার টেবিলে সবাই একসঙ্গে শব্দ করে হেসে উঠল। হাসির রোল উঠলেও নাহিদ মির্জা আর নিহাল মির্জা তুলনামূলকভাবে চুপচাপই রইলেন। দু’জনেই শুধু মুচকি হাসলেন—বাচ্চাদের সামনে বেশি জোরে হাসা যাবে না, তাতে ওরা আরও উৎসাহ পেয়ে যাবে। যদিও সম্পর্কের দিক থেকে তারা বাবা–ছেলে, চাচা–ভাতিজা হলেও আসলে সবাই বন্ধুদের মতোই।
হাসি-ঠাট্টা আর আনন্দের পরিবেশে অল্প সময়ের মধ্যেই সবার খাওয়া শেষ হয়ে গেল। এরপর তিশা বেগম আইলিনের দিকে তাকিয়ে স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন,
-“তুমি ওপরে যাও মা।”
সঙ্গে সঙ্গে আইরাকেও উদ্দেশ্য করে বললেন,
“ তুমিও যাও নিলয় অপেক্ষা করছে ।”
নতুন বউদের স্বামীকে সময় দেওয়া উচিত—এই বিশ্বাস থেকেই তিশা বেগম এমন সিদ্ধান্ত নিলেন। অন্যদিকে, তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম দু’জনেই খাওয়ার টেবিল গুছিয়ে নেওয়ার কাজে লেগে পড়লেন। বাসনপত্র সরাতে সরাতে তাদের মুখেও সন্তুষ্টির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল।
ছেলে মেয়েদের নিয়ে টুকটাক কথা বলতে বলতে কাজ শেষ করে ঘুমানোর জন্য তারাও ঘরে চলে গেল।
আইলিন ঘরে এসে দেখে ত্রিয়াশ ল্যাপটপে কাজ করছে।
ত্রিয়াশ হোয়াইট রঙের টিশার্ট আর ধূসর রঙের টাউজার পরে আছে দেখতে সুন্দর লাগছে।
ত্রিয়াশ ল্যাপটপে কাজের ফাকে ফাকে হঠাৎ করে ডান হাত দিয়ে চুলে ব্রাশ করছে — ডান হাতে ব্রেসলেট চুলে ব্রাশ করার ফলে একদম চকোলেট বয় লাগছে আইলিনের কাছে।
আইলিনের তাকানোর মাঝে হঠাৎ ত্রিয়াশ ল্যাপটপে দৃষ্টি রেখে আইলিন কে বলে।
-“ আই নো, আমি সুন্দর তাকিয়ে না থেকে ঘুমিয়ে পড়ো।”
ত্রিয়াশের কথায় আইলিন অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। এদিকে সেদিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে।
-“ আ..আমি কি আপনাকে দেখছি নাকি আমি তো আপনার গালে মশা বসে আছে সেটাই দেখছি। ”
আইলিন একটু থেমে বিছানার আদর ঠিক করতে করতে আবারও বলল,
-“ আপনি দেখতে অনেক সুন্দর নাকি — যে তাকিয়ে থাকবো। আপনি শুধু সাদা মুলার মতোই সাদা এর থেকে কিছু না। ”
ত্রিয়াশ ল্যাপটপটা সাইডে রেখে কপাল কুঁচকে বলে।
-“ কি বললে?”
-“ সাদা মুলা। ”
-“ হোয়াট দ্য....”
আইলিন ত্রিয়াশ কে মুখ ভেঙ্গচি দিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে।
ত্রিয়াশও কিছু বললো না সেও পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে — কাল আবার ভার্সিটিতে যেতে হবে।
আইলিন পাশ ফিরে থেকে বলল,
-“ “ভাগ্যিস কালা জামাই পাইনি। যার ওপরে কালো, তার নিচেও কালোই হবে—নিচে আর কী মেকআপ করা থাকবে!”
ত্রিয়াশ প্রথমে আইলিনের কথার মানে বুঝতে না পারলেও পরে ঠিক বোঝে কি বলছে।ত্রিয়াশ আইলিনের দিকে ঘুরে দেখে — আইলিন তার দিকে তাকিয়ে আছে। শীত কাল থাকার জন্য দুজনেই একই কম্ফর্টারের মধ্যে আছে। আইলিন ত্রিয়াশ কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে হেসে হেসে আবারও বলে।
-“ আপনি পুরাই সাদা মুলা। আপনার ওপরেও সাদা নিচেও সাদা।
ত্রিয়াশ কপালে ভাজ ফেলে বলে।
-“ ইউ আর আ স্টুপিড গার্ল!”
ত্রিয়াশের কথায় আইলিন অপমান বোধ করে — হালকা চেচিয়ে বলে।
-“ আপনার বউ একটা স্টুপিট গার্ল, ন*টি গার্ল,ডিসরেসপেক্টফুল গার্ল এমনকি আপনার বউ একটা গাধা। ”
আইলিনের কথায় ত্রিয়াশের প্রচুর হাসি পাচ্ছে তবে কন্ট্রোল করলো। সহজ ভাবে বলে।
-“ জানি। ”
আইলিন কি বলে ফেলেছে ভেবে লজ্জা পেল তবে ত্রিয়াশের সামনে প্রকাশ করলো না। অন্য দিকে ঘুরলো — এমন ভাবে ঘুরলো ত্রিয়াশের গায়ের কম্ফর্টার সব নিজের দিকে নিয়ে নিল।ত্রিয়াশ বিরক্ত হয়ে টানতে থাকলো। একবার আইলিন টানছে তো একবার ত্রিয়াশ টানছে।
শেষমেস বিরক্ত হয়ে ত্রিয়াশ বিছানা ছেড়ে ব্যালকনিতে এসে দাড়ালো।
ত্রিয়াশকে চলে যেতে দেখে আইলিনের একটু মন খারাপ হলো — অর্ধেক কম্ফর্টার ত্রিয়াশের পাশে রেখে বাকি অর্ধেক নিয়ে আইলিন ঘুমিয়ে পড়ে।
বিশ মিনিট পর ত্রিয়াশ এসেও ঘুমিয়ে পড়ে।
~~
সকাল আটটা বাজতে বসেছে। আইলিন ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে, কারণ পৃথা তাকে ডেকেছে।
আইলিন ধীরে ধীরে সাজসজ্জা করতে করতে আয়নার দিকে তাকালো। চোখ পড়ল ত্রিয়াশের দিকে—সে ফরমান ড্রেসে চমৎকার লাগছে। কান আর কাধের সঙ্গে ফোন ধরে কথা বলছে, এক হাতে ঘড়ি পড়তে ব্যস্ত।
আইলিন ত্রিয়াশকে যত দেখছিল, ততই মনে হচ্ছিল, হৃদয়ে এক অন্যরকম ভালো লাগা জন্ম নিচ্ছে—এক অজানা আকর্ষণ, যা তার মনকে হঠাৎ করেই আলোকিত করে তুলেছে।
ত্রিয়াশ কল কেটে পকেটে ভরলো— ড্রেসিংটেবিলের কাছে এসে পারফিউম লাগাচ্ছে।
আইলিন গুনগুনিয়ে গান বলল,
**ফাগুন মাসে কাচা বাঁশে।
গুনগুনিয়ে ভ্রমর আসে..
প্রেমের লাগে বুকটা করে
আ,আ,উ
দুষ্ট কোকিল ডাকে রে.......
কুকু,কুকু,কুকু,কুকু
মনে বাঁশি বাজে রে........
কুকু,কুকু,কুকু,কুকু
চলবে..............
(ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে। সকলে সাপোর্ট করো রেসপন্স করো। গল্প কেমন হয় সেটাও বলো প্লিজ। তোমরা যদি রেসপন্স না করো তারমানে কি আমার গল্প আমিই পড়বো, তোমরা পড়তে চাও না। )