ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ০৬

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

আইলিন আর পৃথা একসাথে মেঘছোঁয়া নামে ক্যাফেটাতে এসে পৌঁছাল। ভেতরে ঢুকেই তারা দেখতে পেল, আহান স্যার আগেই এসে বসে আছেন—স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে তিনি তাদেরই অপেক্ষায় ছিলেন।

পৃথা স্বাভাবিকভাবেই আইলিনের হাত ধরে সামনে এগিয়ে গেল। সামনে গিয়ে সে বিনয়ের সঙ্গে সালাম দিল। আহান স্যারও হাসিমুখে সুন্দর করে সালামের জবাব দিলেন। তারপর দুজনকেই বসতে ইশারা করলেন।

একজন ওয়েটারকে ডেকে তিন কাপ কফির অর্ডার দিলেন আহান স্যার। কফি আসা পর্যন্ত টেবিলজুড়ে অদ্ভুত এক নীরবতা ছড়িয়ে পড়ল। তিনজনই চুপচাপ বসে রইল।

নীরবতা ভাঙতে আহান স্যার হালকা করে গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,

— “প্লিজ, কফিটা খাও।”

আইলিন এদিক-ওদিক তাকিয়ে একটু অস্বস্তি নিয়ে নম্র স্বরে বলল,

— “আপনাদের যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকে, তাহলে তাড়াতাড়ি শেষ করেন। আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে।”

পৃথা ভ্রু কুঁচকে আইলিনের দিকে তাকিয়ে বলল,

— “তুই কি একাই বাড়ি যাবি নাকি? আমিও তো যাবো। এত টেনশন নিচ্ছিস কেন? আমি আন্টিকে বলে দেবো।”

পৃথা জানে না আইলিনের জীবনে কত বড় পরিবর্তন এসে গেছে—আইলিন এখন বিবাহিত। এইভাবে বাইরে বসে থাকা, বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে, ঠিক না। কেউ দেখলে অন্য কিছু ভাবতেই পারে।

আইলিন তাই চুপচাপ বসে রইল।

এবার আহান স্যার সরাসরি পৃথার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় প্রশ্ন করলেন,

— “পৃথা, তুমি কি এই বিয়েতে রাজি আছো? দেখো, আমি চাই আমাদের মাঝে কোনো কথা গোপন না থাকুক।”

পৃথা একটু সাহস সঞ্চয় করে স্পষ্টভাবে বলল,

— “আমি আসলে কোনো স্যারকে বিয়ে করতে চাই না।”

এই কথার মাঝেই আইলিন হঠাৎ বলে উঠল,

— “স্যার তো কী হয়েছে? স্যারেরাও তো ভালোবাসতে পারে।”

পৃথা রাগ নিয়ে আইলিনের দিকে তাকিয়ে বলল,

— “তুই কর।”

আইলিন চোখ নামিয়ে আস্তে আস্তে বিরবির করে বলল,

— “আমি তো করেছি… এই জন্যই চাই তুইও কর।”

পৃথা সন্দেহভরা চোখে তাকিয়ে বলল,

— “কিছু বললি?”

আইলিন তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলল,

— “কই না তো!”

হঠাৎ পৃথা দাঁড়িয়ে পড়ল,

— “এক্সকিউজ মি”আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি।”

এই কথা বলেই সে দ্রুত ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।

পৃথা চলে যেতেই আহান স্যার কিছুক্ষণ তার যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে রইলেন। তারপর হালকা দ্বিধা নিয়ে আইলিনের হাত ধরে বললেন,

— “আইলিন, প্লিজ… তোমার বান্ধবীকে একটু বুঝাও যেন সে বিয়েতে রাজি হয়ে যায়।”

আইলিন মুচকি হেসে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে উত্তর দিল,

— “ঠিক আছে স্যার, চিন্তা করবেন না।”

প্রায় আধঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সে এসে দাঁড়ায় একটি পরিচিত ক্যাফের সামনে। ক্যাফেটার নাম “মেঘছোঁয়া”। ত্রিয়াশ ক্যাফের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। ভেতরে তাকাতেই তার চোখ আটকে যায় এক জায়গায়।

আইলিন সেখানে বসে আছে।

ত্রিয়াশের চোখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে ওঠে। দৃষ্টিতে জমে ওঠে রাগ, বিরক্তি আর অজানা এক অস্থিরতা। তার হাত দুটো মুঠো হয়ে যায়, নখগুলো তালুর ভেতর গেঁথে যায়। বুকের ভেতরটা রাগে ফুঁসতে থাকে, শ্বাস ভারী হয়ে আসে।

ক্যাফের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সে একদৃষ্টিতে আইলিনের দিকেই তাকিয়ে থাকে—

এই প্রথম তার রাগের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে অদ্ভুত এক অস্বস্তি, যা সে নিজেও ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারে না।

ত্রিয়াশের রাগে গোটা শরীর কাঁপছে। চোখের সামনে যে দৃশ্যটা সে দেখছে, সেটাই তার সহ্যের শেষ সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। আইলিনের হাত ধরে বসে আছে আহান স্যার—এই দৃশ্যটাই ত্রিয়াশের ভেতরের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

রাগ সামলে ত্রিয়াশ সোজা গিয়ে দাঁড়ালো তাদের টেবিলের সামনে।

হঠাৎ ত্রিয়াশকে দেখে আহান স্যার চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। মুখে কৃত্রিম হাসি এনে বলল,

— “আরে! ত্রিয়াশ স্যার! আপনি এখানে? বসুন না, একসাথে কফি খাই।”

ত্রিয়াশ কপালে ডান হাত বুলিয়ে চুল এলোমেলো করে বলল,

— “একই প্রশ্ন তো আমারও। আপনি এখানে কী করছেন? আপনার তো এই সময় ক্লাস থাকার কথা।”

ত্রিয়াশের উপস্থিতি টের পেয়েই আইলিনের বুক ধক করে উঠল। যেন প্রাণপাখি উড়ে যাওয়ার উপক্রম। ভয় আর দুশ্চিন্তায় গলা শুকিয়ে এসেছে তার। কী বলবে, কী করবে—কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। মাথার ভেতর হাজারটা চিন্তা একসাথে ঘুরছে।

আইলিনের সেই অস্বস্তিকর নীরবতার মাঝেই আহান ত্রিয়াশের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল,

— “হবু বউয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি।”

এই কথা শুনে ত্রিয়াশের কপাল কুঁচকে গেল। গলার স্বর ঠান্ডা হলেও ভেতরে আগুন জ্বলছে।

— “হবু বউ মানে? কাকে বোঝাতে চাচ্ছেন?”

ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াশরুম থেকে ফিরে এল পৃথা। আহান হাত তুলে তাকে দেখিয়ে বলল,

— “ওই তো।”

ত্রিয়াশ সামনে তাকিয়ে দেখে পৃথা দাঁড়িয়ে আছে। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল সে। কোনো কথা না বলে আইলিনের হাত শক্ত করে ধরল। বলল,

— “চলো, বাড়ি যেতে হবে।”

পৃথা একটু এগিয়ে এসে বলল,

— “আইলিন আমার সাথে বাড়ি ফিরবে। আপনি ওকে আপনার সাথে নিয়ে যেতে পারেন না, ত্রিয়াশ স্যার।”

ত্রিয়াশ এক পা সামনে বাড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

— “তুমি তোমার হবু বরের সঙ্গে যাও। আর আইলিন ওর স্বামীর সাথেই বাড়ি যাচ্ছে।”

এক মুহূর্তও দেরি করল না সে। আইলিনের হাত ধরে সোজা বেরিয়ে গেল।

পৃথা যেন পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মাথার ভেতর শুধু একটা কথাই ঘুরছে—‘আইলিন ওর স্বামীর সাথেই বাড়ি যাচ্ছে।’

কয়েক সেকেন্ড পর কথাটার মানে পুরোপুরি বুঝতে পারল সে।আইলিনের ত্রিয়াশ স্যারের সাথে বিয়ে হয়ে গেছে!মনে হলো যেন চারশো ভোল্টের শক খেল। বিশ্বাসই করতে পারছে না।

পৃথাকে এভাবে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আহান জিজ্ঞেস করল,

— “কী হয়েছে পৃথা? এমন চুপ করে আছো কেন?”

পৃথা চমকে উঠে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,

— “শয়তান ছেমরি! আমার কাছেই নিজের বিয়ের কথা লুকালো!”

আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সে। দ্রুত পা বাড়িয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে গেল।

আহান একা দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ভাবল—তারও এখানে আর কিছু করার নেই। সেও ধীরে ধীরে সেখান থেকে চলে গেল।

ত্রিয়াশের রাগ একটুও কমেনি। বরং রাগের আগুনে সে আরও উন্মত্ত হয়ে উঠল। পায়ের চাপ বাড়িয়ে দিল অ্যাক্সিলারেটরে। গাড়ির গতি হু হু করে বাড়তে লাগল। চারপাশের দৃশ্যগুলো ঝাপসা হয়ে ছুটে যাচ্ছে, আর সেই গতির ভেতর আইলিনের বুকটা যেন কাঁপতে কাঁপতে উঠে আসছে গলায়। মনে হচ্ছিল, এই বুঝি তার আত্মাটাই শরীর ছেড়ে উড়ে যাবে।

ভয়ে কাঁপা গলায় আইলিন একনাগাড়ে বলতে লাগল

—“আস্তে গাড়ি চালান। এভাবে চালালে দুর্ঘটনা হতে পারে। প্লিজ, স্পিড কমান। আর… আমরা কোথায় যাচ্ছি? এটা তো বাড়ির রাস্তা নয়।”

কিন্তু ত্রিয়াশ যেন তার কথা একেবারেই শুনতে পেল না। চোখ দুটো সামনে গেঁথে রেখে, দাঁত শক্ত করে চেপে সে নিজের মতো করে গাড়ি চালাতে লাগল। আইলিনের কথা, তার ভয়—কিছুই যেন তার কানে পৌঁছাচ্ছিল না।

আর সহ্য হলো না আইলিনের। ভয় আর অসহায়ত্ব মিলেমিশে সে ডুকরে কেঁদে ফেলল।

হঠাৎ করে একটা ফাঁকা জায়গায় এসে ত্রিয়াশ গাড়ি থামাল। ব্রেকের শব্দে আইলিন চমকে উঠল। ত্রিয়াশ রাগে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল। তারপর হঠাৎ করেই স্টিয়ারিং হুইলে নিজের হাত দিয়ে সজোরে আঘাত করল। গাড়ির ভেতরে ভারী নিস্তব্ধতা নেমে এলো, শুধু আইলিনের কান্নার শব্দ ছাড়া।

আইলিন ভয়ে তখনো কাঁদছে। দাঁত চেপে, কণ্ঠে জমে থাকা রাগ উগরে দিয়ে ত্রিয়াশ বলল

—“পরপুরুষের হাত ধরে কেন বসে ছিলে?”

এই কথাটা শুনে আইলিনের ভেতরটা জ্বলে উঠল। যে মানুষটা কখনো স্বামীর দায়িত্ব পালন করে না, কাছে টেনে নেয় না, ভালোবাসার একটুও প্রকাশ করে না—সেই মানুষটার এই রাগ কেন? এই অধিকারবোধই বা কোথা থেকে এলো?

রাগ আর অভিমানে গলা শক্ত করে আইলিন বলল

—“ঘরের স্বামী ভালোবাসে না।”

কথাটা শেষ হতেই ত্রিয়াশ হঠাৎ করে আইলিনকে নিজের দিকে টেনে নিল। দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরল। দাঁত কটমট করে, চোখে আগুন নিয়ে বলল

—“তাই বলে অন্য পুরুষের কাছে যাবি? শোন, আমি ভালোবাসি আর না-বাসি, আমার সঙ্গে থাকতে হবে। আমার নামে যখন কবুল বলেছিস, তখন আমার সঙ্গেই থাকতে হবে।”

এত জোরে বাহু চেপে ধরায় আইলিনের শরীর ব্যথায় শিউরে উঠল। চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে সে কেঁদে উঠল

—“আমার লাগছে…”

এক ঝটকায় ত্রিয়াশ তাকে ছেড়ে দিল। বিরক্ত ভঙ্গিতে গাড়ির দরজা খুলে নেমে গেল। পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরাল। গভীর মনোযোগে ধোঁয়া ছাড়তে লাগল, যেন ধোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাগটাও একটু একটু করে বেরিয়ে যাচ্ছে।

গাড়ির ভেতরে আইলিন চুপচাপ বসে রইল। মুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাখল, যেন চোখের পানি কেউ দেখতে না পায়। বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট আর অপমান নিঃশব্দে তাকে ভেঙে দিচ্ছিল।

কিছুক্ষণ পর সিগারেট শেষ করে ত্রিয়াশ আবার গাড়িতে উঠল। কোনো কথা না বলে স্টার্ট দিল। তারপর নীরবতার মাঝেই গাড়িটা চলতে লাগল—নিজেদের গন্তব্যের দিকে, অথচ দুজনের মন যেন দুই ভিন্ন, অজানা দিকেই হারিয়ে

মাত্রই ত্রিয়াশ আর আইলিন বাড়িতে ফিরেছে। বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে চারপাশে। দরজা পেরিয়েই ত্রিয়াশ গম্ভীর মুখে ড্রয়িংরুম অতিক্রম করে সোজা নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। তার পেছনে নিঃশব্দে আইলিনও অনুসরণ করল। ড্রয়িংরুমে তখন তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন। দুজনকে দেখলেও কেউ কিছু বললেন না, যেন মুহূর্তের নীরবতাটুকু সবাই বুঝে নিয়েছেন।

সিড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে হঠাৎ আইলিনের মুখোমুখি হলো আইরা। আইলিন চোখ তুলে তাকাল না, কোনো কথা না বলে চুপচাপ নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। আইরা শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল—বোনের মুখের অভিমান আর ভাঙা মনটা সে ঠিকই বুঝতে পারল।

ঘরে ঢুকে ত্রিয়াশ প্রথমেই ফ্রেশ হয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর আইলিন ওয়াশরুমে গেল, কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফিরে এলো। ঘরে ফিরে এসে দেখে ত্রিয়াশ মনোযোগ সহকারে ল্যাপটপে কাজ করছে। আর আইলিন খাটের একপাশে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে—চোখেমুখে অভিমান আর কষ্টের ছাপ স্পষ্ট।

ঠিক তখনই জরিনা এসে দরজায় দাঁড়িয়ে বলল,

—“ছোট ভাই ভাবি , নিচে সবাই ডাকছে। তাড়াতাড়ি আসেন।”

ত্রিয়াশ ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল। তার সাথে আইলিনও নিচে নামল। নিচে এসে তারা দেখে আইলিনের বাবা আফজাল হোসেন আর মা মাহিরা বেগম সদ্য এসে পৌঁছেছেন। অথচ বাবা-মাকে দেখেও আইলিন এগিয়ে গেল না। ত্রিয়াশের বকুনি এখনও তার মনে ভার হয়ে বসে আছে।

আফজাল হোসেন বিষয়টা লক্ষ করলেন। মেয়ের চোখে-মুখে জমে থাকা কষ্ট তিনি এক ঝলকেই বুঝে নিলেন। তিনি নিজেই এগিয়ে এসে স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন,

—“আম্মু, বাবার ওপর রেগে আছো?”

বাবার কণ্ঠে সেই আদরের ডাক শুনেই আইলিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল এবং বাবাকে জড়িয়ে ধরল। আফজাল হোসেনও মেয়েকে শক্ত করে বুকে টেনে নিলেন। তার চোখের কোণেও অজান্তেই জল জমে উঠল।

এই দৃশ্য দেখে আইরাও আর স্থির থাকতে পারল না। সে এগিয়ে এসে বাবা আর বোন—দুজনকেই জড়িয়ে ধরল। বাবা-মেয়ে আর বোনের এমন আবেগঘন মুহূর্ত দেখে ঘরে উপস্থিত সবার মুখেই মুচকি হাসি ফুটে উঠল।

ঠিক তখনই তিশা বেগম খাবার নিয়ে এসে হাসিমুখে বললেন,

—“এই খুশির সময় কান্নাকাটি কিসের? চলো চলো, সবাই আগে মিষ্টিমুখ করবে।”

তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম মিলেই সবাইকে খেতে বসালেন। অন্যদিকে নাহিদ মির্জা আর নিখিল মির্জা আফজাল হোসেনকে ঘিরে গল্পে মেতে উঠলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরের পরিবেশটা ভরে উঠল হাসি, গল্প আর পারিবারিক উষ্ণতায়।

খাওয়া–দাওয়া শেষ করে আফজাল হোসেন বিদায়ের প্রস্তুতি নিলেন। ঘরে উপস্থিত সবার কাছ থেকেই আলাদা করে বিদায় নিলেন তিনি। মেয়েদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলেন, কিন্তু মেয়ের জামাইরা এতে রাজি হলো না। আফজাল হোসেনও আর জোর করলেন না।

আফজাল হোসেন আর মাহিরা বেগম যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আইলিন দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে আবেগভরা কণ্ঠে বলল

—“বাবা, আমাকে তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও।”

মেয়ের কথায় আফজাল হোসেন থমকে গেলেন। কী বলবেন, কীভাবে বলবেন—কিছুই যেন ঠিক করে বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তিনি কিছু বলার আগেই গম্ভীর কণ্ঠে ত্রিয়াশ বলে উঠল

—“এক পা যেন কোথাও না যাওয়া হয়।”

কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সে। হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল।

আইলিন রাগে ফুঁসতে লাগল। কিন্তু কী-ই বা করার আছে? মন খারাপ নিয়েই বাবা-মাকে বিদায় জানাল।

এরপর রাগে-দুঃখে নিজের ঘরে এসে আইলিন কম্ফর্টার গায়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। ত্রিয়াশ একবার চোখ তুলে তাকাল মাত্র, তারপর আবার নিজের কাজে মন দিল। তার এই নির্লিপ্ত আচরণে আইলিনের রাগ আরও বেড়ে গেল।

কম্ফর্টারের ভেতর থেকেই রাগে চেঁচিয়ে উঠল আইলিন

—“ফাটা কপাল আমার! কপালে একটা আনরোমান্টিক জামাই জুটেছে!”

ঘরজুড়ে তার বিরক্তি আর অভিমানের শব্দ ছড়িয়ে পড়ল, কিন্তু ত্রিয়াশের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখা গেল না।

চলবে.....

[ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই রেসপন্স করো। জানি আমার ফলোয়ার্স কম তবুও যারা দেখো তারা রিয়েক্ট করো পাশে থাকো প্লিজ। গল্প সম্পর্কে কিছু বলো।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন