ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৮ম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ০৮

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

আইলিন সেই যে ঘর থেকে বের হয়েছে, আর ঘরে প্রবেশ করেনি।

ত্রিয়াশ মুখে কিছু না বললেও চোখের ইশারায় বুঝিয়ে দিয়েছে— দেখে নেবো।

সেই ইশারা আইলিনের বুকের ভেতর অজানা একটা অস্থিরতা ঢেলে দিয়েছে।

কিছুক্ষণ পরই জুম্মার নামাজ শুরু হবে।

বাড়ির সবাই যে যার ঘরে চলে গেছে।

ড্রয়িংরুমে এখন শুধু আইলিন—নীরব, চিন্তিত, সোফায় বসে আছে সে।

এদিকে তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম রান্নাঘরের সব কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন।

হাতে গোনা কয়েকটা কাজ বাকি, সেগুলো শেষ করে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়বেন তারা।

আইরাকেও ফ্রেশ হওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে তিশা বেগম চোখে পড়তেই দেখলেন—

আইলিন সোফায় বসে গভীর চিন্তায় ডুবে আছে।

তার মুখে চাপা উৎকণ্ঠা, চোখে অস্থিরতা।

তিশা বেগমের হাতে তখনো ধোঁয়া ওঠা এক মগ কফি।এটা অবশ্য ত্রিয়াশের জন্য সে যখন তখন কফি খায়।

তিনি ধীরে ধীরে আইলিনের দিকে এগিয়ে এসে স্নেহভরে বললেন—

“আইলিন মা, এই কফিটা ত্রিয়াশকে দিয়ে আসো।”

আইলিনের বুকটা ধক করে উঠল।

ত্রিয়াশের সামনে যেতে সে মোটেও চায় না,

আবার শ্বাশুড়ির কথার বিরোধিতা করার সাহসও তার নেই।

কি আর করার—চুপচাপ কফির মগটা হাতে নিয়ে সে ঘরের দিকে হাঁটা ধরল।প্রতিটি পা যেন ভারী হয়ে উঠছে। যাওয়ার সময় ঠোঁটের নিচে ফিসফিস করে দোয়া-দরুদ পড়তে লাগল আইলিন—নিজেকে শক্ত রাখার শেষ ভরসা যেন সেগুলোই।

আইলিন কফির মগ টা হাতে নিয়ে ঘরের দরজার কাছে এসে উঁকি দিল। দেখলো ত্রিয়াশ পাঞ্জাবি পরে আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল সেট করতে ব্যস্ত। এখন জুম্মা নামাজ শুরু হবে। নামাযে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। ত্রিয়াশ আয়নার মধ্যে দেখলো আইলিন দরজায় দাঁড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি মারছে। ত্রিয়াশ গম্ভীর কণ্ঠে বললো।

“ কফি কি ঠান্ডা হওয়ার পর দিবে?”

আইলিন অন্যমনষ্ক থাকায় চমকে উঠে। ঢোক গিলে আস্তে করে এসে কফির মগ টা ত্রিয়াশের হাতে দিল। ত্রিয়াশ মগ টা হাতে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আইলিনের হাত চেপে ধরে। আইলিন ছাড়ানোর জন্য ছটফট করছে। ত্রিয়াশ হাতের মগটা সেন্টার টেবিলে রেখে আইলিন কে শক্ত করে চেপে ধরে বলে উঠে।

“ সেই গানটা বলো? ”

“ পারি না!”

ত্রিয়াশ একটু ভেবে বলে।

“ ঠিক আছে গান বলতে হবে না। (A + B)² এর সূত্র বলো? ”

আইলিন পড়েছে মহা বিপদে।গান বলা সহজ হলেও বীজগণিতের সূত্র বলা এতো সহজ না। আইলিনের এখন হাত পা ছুড়ে কান্না করতে মন চায়ছে। আইলিন একটু ভেবে দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে।

“ I love u....

“ ওয়াট দ্য। ”

আইলিন দুষ্ট হাসি ঠোঁটে রেখে বলে।

“ আচ্ছা আপনি ভার্সিটির কোন বিষয়ের লেকচারার।?”

ত্রিয়াশ সঙ্গে সঙ্গে বলে ফেলে।

“ ইংরেজি। ”

“ এই জন্য তো আমি ইংরেজিতে বললাম। হলো না হিসেব বরাবর। ”

ত্রিয়াশ রাগে আইলিন কে দেওয়ালের সঙ্গে আরো চেপে ধরে। আইলিন নিজেকে বাঁচানোর জন্য মৃদু চেচিয়ে বলে উঠে।

“ মা, ওখানে দাঁড়িয়ে কেন?ভেতরে আসো। ”

ত্রিয়াশের হাত আলগা হতেই আইলিন ভৌ দৌড়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায় খিলখিল করে হাসতে হাসতে।

~~

আইলিন নামাজ শেষ করে ধীর পায়ে ড্রয়িংরুমে এসে সোফায় বসে পড়ে। ঘরটা এখনো খানিকটা নীরব। বাড়ির ছেলেরা নামাজ শেষ করে এখনো ফেরেনি। ডাইনিংয়ের দিকে মুনিরা বেগম আর তিশা বেগম ব্যস্ত হাতে টেবিল সাজাচ্ছেন—সবাই একসাথে লাঞ্চ করবে বলে।আইলিন চুপচাপ বসে আছে, চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ।

ঠিক তখনই হঠাৎ পেছন দিক থেকে একটা শক্ত, পুরুষালি হাত এসে তার চোখ দুটো চেপে ধরে।

আইলিন চমকে ওঠে।

হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়।

ত্রিয়াশ হলে তো সে বুঝতে পারত—ওর পারফিউমের পরিচিত ঘ্রাণেই।

কিন্তু এখন… কোনো সেই পরিচিত ঘ্রাণ নেই।

ভয় ধীরে ধীরে বুকের ভেতর ঢুকে পড়ে।

কে হতে পারে? এই দমবন্ধ করা মুহূর্তের মাঝেই পেছন থেকে ভেসে আসে এক অচেনা, দুষ্টু কণ্ঠ—

“নিশি… আমি কে দেখি বল?”

আইলিন কিছু বলার আগেই ঠিক তখনই সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে দৃশ্যটা দেখে ফেলে নিশি।

সে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে, চোখ বড় বড় হয়ে যায়।

তারপর একরাশ বিরক্তি আর অবাক হওয়া নিয়ে বলে ওঠে—

“ইউভি ভাই! আমি এখানে—ওখানে নয়!”

নিশির কথা পাশ থেকে কানে যেতেই ইউভি চমকে ওঠে।সে সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নেয়, দ্রুত পাশে ঘুরে দাঁড়ায়।সামনে তাকিয়ে সে নিশিকে দেখে।

এক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর ধীরে ধীরে প্রশ্নটা চোখে-মুখে ফুটে ওঠে—তাহলে… এটা কে?

নিশির মুখে হঠাৎ করে ‘ইউভি’ নামটি শুনে তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম দু’জনেই ড্রাইনিং টেবিলের দিক থেকে চোখ তুলে ড্রয়িংরুমের সোফার দিকে তাকালেন। এক মুহূর্তের জন্য যেন বিশ্বাসই করতে পারলেন না—সত্যি সত্যিই ইউভি এসেছে! চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটিকে দেখে দু’জনের মুখেই বিস্ময় আর আনন্দ একসঙ্গে ফুটে উঠল।

ইউভি তাদের একমাত্র ননদের ছেলে। অনেক ছোট বয়সেই বাবা–মাকে হারানোর পর থেকেই মামু বাড়িতেই তার বেড়ে ওঠা। এই বাড়ির প্রতিটি কোণায় তার শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। পড়াশোনা শেষ করার উদ্দেশ্যে চার বছর আগে সে লন্ডন গিয়েছিল। দীর্ঘ এই চারটি বছর পরিবারের সবার কাছেই ছিল অপেক্ষা আর প্রতীক্ষার সময়।

আজ কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইউভির হঠাৎ ফেরা যেন পুরো বাড়িটাকে আনন্দে ভরিয়ে দিল। তার এই ফিরে আসা ছিল পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য এক বিশাল সারপ্রাইজ। আবেগে আপ্লুত তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম আর স্থির থাকতে পারলেন না—দু’জনেই দ্রুত এগিয়ে এলেন ইউভির দিকে, চোখভরা ভালোবাসা আর মুখভরা হাসি নিয়ে।

তিশা বেগম হাত মুছে ইউভির কাছে এসে ইউভির গালে হাত দিয়ে আদরের কন্ঠে বলে।

“ মনে পড়লো তাহলে আমাদের কথা। ”

আইলিন এখনো ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। এর মধ্যে নিয়তি আর আইরা চলে আসে।নিয়তি ইউভি কে দেখে খুশিতে চেচিয়ে উঠে। ইউভি থাকলে তাদের ঘোরাঘুরি আনন্দের যেন শেষ হয় না। আইরার সাথে ইউভির কথা হয়েছিল খুব সহজে সে চিনতে পেরেছে।ইউভি তিশা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল।

“ মামনি, উনি কে?চিনলাম না তো। ”

ইউভির কথা শুনে নিয়তি হেসে বলে।

“ আরে ভাইয়া এটা আমাদের ত্রিয়াশ ভাইয়ার বউ, আইলিন ভাবি। ”

ইউভি অবাক হয় বলে উঠে।

“ কিহ! ত্রিয়াশ বিয়ে করেছে আর আমি কিছু জানতে পারলাম নাহ। কবে হলো বিয়ে? "

নিশি এগিয়ে এসে বলে।

“ পনেরো দিনের মতো হবে।”

তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম সব বলল।কবে বিয়ে হয়েছে? আইলিন আইরার বোন ইত্যাদি আরও নানা ধরনের কথা বলল।ইউভি এতোটাই মিশুক দশ মিনিটের মধ্যে আইলিনের সাথে মিশে গেছে। আইলিনও ইউভির সাথে সহজ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাড়ির ছেলে গুলো জুম্মা নামাজ শেষ করে বাড়ির ড্রয়িংরুমে এসে উপস্থিত হয়। সকলে ইউভি কে দেখে খুবই খুশি হয়ে যায়। আইলিন দেখলো ইউভিকে দেখে ত্রিয়াশও খুশি হয়ে গেছে তার মানে এটাই তার বেস্ট ফ্রেন্ড। সকলে একসাথে দুপুরের লাঞ্চ শেষ করলো। ইউভি কে পেয়ে সকল ভাই বোন মিলে আড্ডার আসর বসালো। আইলিন আইরার সাথে টুকটাক কাজ করছে। ত্রিয়াশ খাবার খেয়ে ঘরে চলে গেছে। এদিকে নিয়তি,নিশি,নিভান,নিলয় মিলে ইউভি কে নিয়ে নিশির ঘরে আড্ডার আসর জমালো।

আড্ডার মাঝে হঠাৎ ইউভি বলে উঠে।

“ ত্রিয়াশ কি আইলিন কে ভালোবাসে?”

এই কথাটা শুনে সকলের মুখটা চুপসে গেল। নিলয় একটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মুখে তুলে খেতে খেতে বললো।

“ তোর কি মনে হয়?”

ইউভি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে।

“ মনে হয়, না!সে ভালোবাসা ঘৃণা করে। কেন করে? কি কারণ? আমি তুমি সবই জানি। ”

নিভান কিছু একটা ভেবে উচ্ছ্বাস গলায় বলে উঠে।

“ আমরা এমন কিছু করি যেন তাদের মধ্যে প্রেম হয়। ”

ইউভি নিভানের দিকে তাকিয়ে সেও ভাবলো সত্যি কিছু একটা করা যায়। পাচ মাথা একসাথে হয়ে কিছু একটা পরামর্শ করলো। যা শুধু তাদের পাচ জনের মধ্যে রয়ে গেল।

নিয়তি একটু ভেবে বলে।

“ ত্রিয়াশ ভাইয়া এসব জানলে আমাদের কি হবে!”

নিশি নিয়তির মাথায় টোকা দিয়ে বলে।

“ কি আর হবে হয়তো দু একটা বকা খাবো কিন্তু আমাদের প্ল্যান যদি কাজে লাগে তাহলে লাভের লাভ ত্রিয়াশ ভাইয়ার বুঝলি পাগলি।”

নিলয় উঠতে উঠতে বলল।

“ আজ থেকে তোর কাজ শুরু, ইউভি। দেখবো ভালো না বেসে থাকে কি করে। ”

একের একে সবাই চলে গেল। এমন একটা ভাব ধরলো যেন তারা এতক্ষণ আড্ডা দিচ্ছিল না কোনো এমপি মন্ত্রীর মিটিং করছিল। ইউভি শিষ বাজাতে বাজাতে নিজের জন্য বরাদ্দ কৃত ঘরে গেল। এই মূহুর্তে আগে রেস্ট করার প্রয়োজন।

~~

দুপুরের খাবার খেয়ে এসে সেই থেকে ত্রিয়াশ ল্যাপটপে কাজ করছে। কিছুক্ষণ আগে আইলিন রুমে চলে আসে। আইলিন এতক্ষণ আইরার সাথে বসে দুই বোন মিলে বাবা মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিল।

আইলিন নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে পৃথার অনেক গুলো মেসেজ। পৃথাকে রিপ্লাই দেওয়ার সাথে সাথে পৃথা দেখে। পৃথা আইলিনকে কল করে। আইলিন কলটা রিসিভ করে বেলকনিতে চলে গেল। প্রায় দশ মিনিট পর কথা শেষ করে ঘরে আসলো। আইলিন এসে দেখে ত্রিয়াশ সেভাবে বসে কিন্তু এখন ল্যাপটপ টিপছে না। ত্রিয়াশ সোফায় আধশোয়া হয়ে গা এলিয়ে দিয়ে আছে। আইলিন নিজের ফোনটা সোফায় রেখে ওয়াশরুম চলে গেল।

মিনিট দুয়ের মধ্যে আইলিন এসে দেখে ত্রিয়াশ তার ফোনের দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। কিছু একটা মন পড়তেই আইলিন এক ঝটকায় নিজের ফোন নিজের কাছে নিয়ে নেয়। ত্রিয়াশ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বুকে দুই হাত ভাজ আইলিনের দিকে তাকিয়ে বলে।

“ বিটিএস লাভার বুঝি? ”

“ আপনাকে বলতে বাধ্য নই।”

ত্রিয়াশ ল্যাপটপটা হাতে নিয়ে সামনে এগোতে এগোতে বলল।

“ রেডি হয়ে নাও। তোমাকে রেখে আসি।”

আইলিন কপালে ভাজ ফেলে বলে উঠে।

“ কোথায়? ”

ত্রিয়াশ পিছনে ফিরে বলল।

“ সাউথ কোরিয়া।”

“ আপনাকে রেখে আসতে হবে না। একদিন আমিই চলে যাবো। হুহ। ”

আইলিন কথা শেষ করে ঘরের বাইরে চলে যেতে পায়ের সাথে পা বারি লেগে পড়তে নেয়। আইলিন নিজেকে বাচাতে গিয়ে ত্রিয়াশের হাত খামছে ধরে।

ত্রিয়াশ সঙ্গে সঙ্গে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে। আইলিন নিজেকে স্বাভাবিক করে দাড়িয়ে যায়। ত্রিয়াশ চোখ বন্ধ করে আছে। আইলিন একবার ত্রিয়াশের মুখের দিকে একবার হাতের দিকে তাকিয়ে কেঁপে উঠে। তার নখের সাথে ত্রিয়াশের হাত অনেক জায়গায় কে'টেছে।ত্রিয়াশ চোখ খুলে হাতের দিকে তাকিয়ে আইলিন কে ধমকে বলে উঠে।

“ স্টুপিট গার্ল! এগুলো কি করেছো জংলী বিড়াল। ”

“ আপনি জংলা বিড়াল।"

“ মানে!”

“ মেল ভার্সন। ”

আইলিন কথা বলার মাঝখানে ঘর থেকে ভৌ দৌড়ে পালিয়ে গেল। ত্রিয়াশ নিজে নিজেই কিছুক্ষণ বিরবির করলো।

~~

রাত নয়টা বাজে। ত্রিয়াশ হাতে কিছু ফাইল নিয়ে নাহিদ মির্জার ঘর থেকে বের হলো। পুরো -সন্ধ্যা ধরে বাবা ও ছেলে অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের ব্যস্ততায় যুক্ত ছিল। দমে দমে কাজ শেষ করে সে এখন নিজের ঘরে ফিরছিল।

কিন্তু পথে হঠাৎ কিছু শুনতে পেল—মৃদু, কিন্তু স্পষ্ট হাসির শব্দ। পরিচিত একটি হাসি। আইলিনের হাসি।

ত্রিয়াশ কৌতুহল বশত এবং অজানা এক অস্বস্তি অনুভব করে ধীরে ধীরে খোলা বারান্দার দিকে এগোতে লাগল। বাতাসে হালকা ঠাণ্ডা ভেসে আসছিল, এবং তার পদক্ষেপের সঙ্গে মিলেমিশে ভেসে আসছিল হাসির ধ্বনি।

বারান্দায় পৌঁছতেই সে যা দেখল, তা সহ্য করা সহজ নয়। ইউভি কিছু একটা বলছে, আর আইলিন হাসছে—খিলখিল করে, যেন পুরো মুহূর্তটা আনন্দের ভেতর ডুবে আছে।

ত্রিয়াশের রক্তে উত্তেজনার ঢেউ উঠল। হাতে থাকা ফাইলগুলো সে মুঠোতে আরও শক্তভাবে চেপে ধরল, যেন নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে। চোখে এক অদ্ভুত রাগ, মিশ্রিত হতাশা, আর অপ্রকাশিত বেদনার ছায়া।

ইউভি ত্রিয়াশকে দেখেছে কিন্তু আইলিন খেয়াল করেনি। ইউভি গলা খাঁকারি দিয়ে একটু উঁচু স্বরে বলে।

“ কি যেন পোড়া পোড়া গন্ধ বেরোচ্ছে। আইলিন তোমার নাকে কোনো গন্ধ যায়নি?”

আইলিন বারবার নাক টেনে টেনে বোঝার চেষ্টা করছে আসলে কি পুড়ে গেছে। আইলিন কোন গন্ধ না পেয়ে বলল।

“ আমি তো কোনো গন্ধ পাচ্ছি না। ”

এদিকে ত্রিয়াশ রাগে হনহনিয়ে চলে গেল। ইউভির প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে তবে কোনরকম চেপে রাখলো।ইউভি আইলিনের থেকে বিদায় নিয়ে ঘরে চলে গেল। আইলিন ঘরে এসে দেখে কম্ফোর্টার গায়ে দিয়ে ত্রিয়াশ শুয়ে পড়েছে। অনেক রাত হয়েছে বিধায় আইলিন নিজেও শুয়ে পড়ে। আইলিন শুয়ে পড়ার সাথে সাথে ঘুমের দেশে পারি জমায়। ত্রিয়াশ আইলিনের দিকে তাকিয়ে বিরবিরিয়ে আইলিনকে বকলো। না এই বকা আইলিন শুনলো আর না তর্ক করলো।

চলবে,

[ ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আর গল্প সম্পর্কে কিছু বলবেন। বেশি বেশি কমেন্ট করবেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন