গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ০৯
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
বাইরে এখনো দিনের আলো পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। আকাশজুড়ে হালকা অন্ধকারের আস্তরণ, যেন রাত আর ভোরের মাঝখানে এক নীরব দ্বিধা। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু দূরে দূরে কিছু পাখির কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে—তারা খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে, নতুন দিনের প্রথম দায়িত্ব নিয়ে। সেই মৃদু শব্দগুলোই জানিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃতি ধীরে ধীরে জেগে উঠছে, যদিও মানুষের ঘরগুলো এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
সবাই তখনো ঘুমিয়ে আছে। চারপাশে নিস্তব্ধতার রাজত্ব। সেই নিস্তব্ধতার মধ্যেই আইলিন ঘুমের ভেতর অস্বস্তি অনুভব করছে। হঠাৎ করে তার পেটে ব্যথা উঠেছে। গভীর ঘুমের মাঝেও ব্যথার তীব্রতা তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। অজান্তেই তার চোখ-মুখ কুঁচকে যাচ্ছে যন্ত্রণায়, কপালে ভাঁজ পড়ছে। ঠোঁট দুটো শক্ত হয়ে আছে, যেন অবচেতন মনেই সে ব্যথার সঙ্গে লড়াই করছে। নিস্তব্ধ ভোরের সেই মুহূর্তে, ঘুম আর যন্ত্রণার মাঝামাঝি এক অদ্ভুত অবস্থায় পড়ে আছে আইলিন—যেখানে চারপাশ শান্ত, কিন্তু তার ভেতরে অস্বস্তির ঢেউ থেমে নেই।
আইলিন তড়িৎ গতিতে চোখ খুলে উঠে বসে। বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে ওঠে। ঘুমের রেশ পুরো কাটার আগেই তলপেটে তীব্র ব্যথার ঢেউ উঠতে থাকে। অজান্তেই সে দুই হাত দিয়ে পেট চেপে ধরে, মুখটা যন্ত্রণায় কুঁচকে যায়। মনে পড়ে—কাল রাতে তারা লাইট নিভায়নি। ঘরটা এখনো ফিকে আলোয় ভেজা।
হঠাৎ একটা অস্বস্তিকর অনুভূতি তাকে পাশ ফিরে তাকাতে বাধ্য করে। তাকিয়েই বুকের ভেতরটা হিম হয়ে আসে। সাদা বিছানার চাদরের ওপর ছোপ ছোপ র*ক্তের দাগ। চোখের পলক ফেলার আগেই সব বুঝে যায় আইলিন—তার পিরিয়ড হয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে তার মাথার ভেতর যেন ঝড় বয়ে যায়। হাত-পা ছুঁড়ে জোরে কেঁদে উঠতে ইচ্ছে করে। অসহায়তা, লজ্জা আর যন্ত্রণার এক অদ্ভুত মিশ্রণ তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। একবার চাদরের দিকে তাকায়, আবার পাশেই ঘুমিয়ে থাকা ত্রিয়াশের মুখের দিকে। যদি ও দেখে ফেলে? কী ভাববে সে?
একদিকে তলপেটের তীব্র যন্ত্রণা, অন্যদিকে ভয়ংকর একটা বাস্তবতা—তার কাছে ব্যবহার করার মতো একটা প্যাডও নেই। এত ভোরে এখনো কেউ ঘুম থেকে ওঠেনি। কার কাছে যাবে? কাকে ডাকবে? কিছুই মাথায় আসছে না।
আইলিন পেটের ওপর হাত রেখে নিঃশব্দে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।
কারোর চাপা কান্নার শব্দে ত্রিয়াশের ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে সে বুঝতে পারে না, স্বপ্ন নাকি বাস্তব। কান্নার শব্দটা আবার ভেসে আসে—এইবার আরও স্পষ্ট, আরও কাছ থেকে। ত্রিয়াশ ধড়মড় করে উঠে বসে।
ঘরের নরম আলোয় তাকিয়ে সে দেখে, আইলিন মেঝেতে বসে আছে। হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছে নিঃশব্দে, যেন কান্নাটাও কাউকে বিরক্ত করতে চায় না। তার কাঁধ কাঁপছে, হাত দুটো শক্ত করে আঁকড়ে ধরা।
ত্রিয়াশ কিছু বুঝতে পারে না। এই সকাল সকাল হঠাৎ এমন কান্না কেন? কী হয়েছে? মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। সে উঠে দাঁড়ায়, আইলিনের কাছে গিয়ে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই চোখ পড়ে বিছানার চাদরের দিকে।
সাদা চাদরের উপর ছোপ ছোপ লালচে র*ক্তের দাগ।
এক মুহূর্তেই সব বুঝে ফেলে ত্রিয়াশ। আর কোনো প্রশ্ন থাকে না, কোনো ব্যাখ্যার দরকার হয় না। সে কিছু বলে না। একটুও দেরি না করে চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।ত্রিয়াশকে যেতে আইলিন দেখলো।
ঘরে শুধু আইলিনের কান্না আর নীরবতা রয়ে যায়।
ঠিক দশ মিনিট পর দরজার শব্দ হয়। ত্রিয়াশ ফিরে এসেছে। তার হাতে একটা প্যাকেট। সে ধীরে আইলিনের সামনে এসে দাঁড়ায়, প্যাকেটটা তার দিকে বাড়িয়ে দেয়।শান্ত স্বরে বলে।
“ ফ্রেশ হয়ে নাও। ”
আইলিন মাথা তুলে লজ্জায় ত্রিয়াশের দিকে না তাকিয়ে প্যাকেটা হাতে নিল।লজ্জাও পাচ্ছে আবার বলতেও মন চাচ্ছে — আইলিন প্যাকটা হাতে নিয়ে আস্তে করে বলল।
“ কোথায় পেলেন? ”
ত্রিয়াশ চুলে হাত দিয়ে ব্রাশ করতে করতে বলল
“ এই সকাল সকাল ফার্মেসির ছেলেটা কে তুলে তারপর নিয়ে আসলাম।এসব তোমার জানতে হবে না, ফ্রেশ হয়ে নাও। ”
আইলিন আর বাক্য ব্যয় করলো না ওয়াশরুম চলে গেল। ত্রিয়াশ বাগানের দিকে গেল সকাল সকাল এক্সারসাইজ করতে।
ধীরে সুস্থে প্রস্তুত হয়ে ত্রিয়াশ নিচতলায় নেমে এলো। বাগান থেকে ফিরে এসে আইলিনকে কোথাও দেখতে পেল না সে। প্রথমে মনে হলো, হয়তো ড্রয়িংরুমেই আছে। কিন্তু সেখানে গিয়েও আইলিনের কোনো দেখা মিলল না। চারপাশটা একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে ত্রিয়াশ হাতঘড়ির দিকে তাকাল। সময় বেশ এগিয়ে গেছে—ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় প্রায় হয়ে এসেছে। অজানা এক অস্থিরতা বুকের ভেতর হালকা করে নাড়া দিল। ক্লান্ত মনে ত্রিয়াশ একটি চেয়ার টেনে নিয়ে বসে পড়ল, ত্রিয়াশ একটা স্যান্ডউইচ খেতে খেতে গম্ভীর কণ্ঠে বললো।
“ মা,আইলিন কোথায়? ”
ছেলের কথা শুনে তিশা বেগম মনে মনে ভীষণ খুশি হলেন। এর মানে তার ছেলে বউকে নজর দিচ্ছে এবার তাহলে সংসারী হবে। নানা ধরনের কথা ভেবে তিশা বেগম হাতের কাজ করতে করতে বলল।
“ আইলিন তো ভার্সিটি চলে গেছে। ”
ত্রিয়াশ আর কিছু বললো না। চুপচাপ হাতের খাবার টুকু শেষ করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে চলে গেল।
দুই দিন হলো আইরার শরীর টা ভালো লাগছে না। কেমন দুর্বল, ক্লান্ত আর বমি বমি পাচ্ছে। এখন খাওয়ার মাঝে উটকি তুলে মুখ চেপে ধরে বেসিংয়ের কাছে এসে গলগল করে বমি করে দিল। ব্যপারটা তিশা বেগম লক্ষ করলো। হাতের তরকারির বাটিটা রেখে আইরার কাছে এসে বলে উঠে।
“ কি হয়েছে? এমন বমি করছো কেন? ”
আইরা নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল।
“ বড় মা, জানি না তবে দুই দিন হলো এমন হচ্ছে।
তিশা বেগম কিছু একটা ভেবে বলল।
“প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করো। মনে হচ্ছে নতুন সদস্য আসার আগমন হবে। ”
চোখে মুখে খুশি নিয়ে কথা গুলো বললেন।আইরার চোখে মুখে লজ্জা চলে এল। আইরাকে ঘরে পাঠিয়ে দিল। কিছু ফল মূল কেটে জরিনার কাছে দিল যেন আইরাকে দিয়ে আসে।
~~~
ভার্সিটির প্রথম ক্লাস শেষ হয়েছে। পৃথা আর আইলিন একসাথে বসে হালকা আড্ডা দিচ্ছিল। আজকের সেই লজ্জাজনক ঘটনার কথা আইলিন ভুলেও পৃথাকে বলেনি। হঠাৎ ক্লাস রুমে প্রবেশ করলো ত্রিয়াশ।
আইলিন ত্রিয়াশের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। ত্রিয়াশের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্লাস নীরব হয়ে যায়। সবাই হা করে তাকিয়ে থাকে ত্রিয়াশকে দেখতে ব্যস্ত। কিন্তু ত্রিয়াশ কোনো দিকে তাকিয়ে কথা বলল না, পড়ানো শুরু করলো।
হাঁটতে হাঁটতে সে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখছিল। কিছুক্ষণ পর ত্রিয়াশ আইলিনের বেঞ্চের কাছে এসে থামল।ত্রিয়াশকে নিজের সামনে দাড়াতে দেখে আইলিনের হাত থেকে কলমটা পড়ে গেল। কলমটা তোলার জন্য আইলিন নিচে ঝুঁকে পড়ল।
ত্রিয়াশ পড়ানো বন্ধ না করে বেঞ্চের এক কোণে হাত দিয়ে দাঁড়াল যেন আইলিন ব্যথা না পায়।
মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করছিল ত্রিয়াশ, তবুও চোখে চোখে ছিল তার বিশেষ নজর—আইলিনের প্রতি।
ত্রিয়াশ পড়ানোর মাঝে ঘুরে ফিরে আইলিনের কাছে এসে দাড়াচ্ছে তো আবার সামনে যাচ্ছে এভাবে চল্লিশ মিনিট ক্লাস শেষ করে বেড়িয়ে গেল।
আইলিন ধৈর্য সহকারে একে একে সবগুলো ক্লাস শেষ করেছে। আইলিন আর পৃথা ভার্সিটির মাঠ পেরিয়ে রাস্তার দিকে যাচ্ছে — বাড়িতে যাবে। দোতলায় থেকে ত্রিয়াশ একনজর দেখলো,এরপর নিজের কাজে চলে গেল কারোর সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে।
আইলিন আর পৃথা হাঁটতে হাঁটতে এসে রাস্তার পাশে দাঁড়াল। এতক্ষণ ধরে প্রায় একতরফাভাবে কথা বলে যাচ্ছে পৃথা—আজ তার মুখ এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি। অথচ আইলিন আজ অদ্ভুত রকম চুপচাপ। না হাসি, না পাল্টা কোনো বকবক—শুধু মৃদু একটা উপস্থিতি।
পৃথার কাছে ব্যাপারটা ভালো লাগল না। আইলিন এমন নীরব হয় খুব কমই। কথা বলতে বলতে হঠাৎই একটা জিনিস তার চোখে পড়ল—আইলিনের দু’গাল লাল হয়ে উঠেছে, যেন কেউ ভেতর থেকে আলতো করে রং ঢেলে দিয়েছে। কিন্তু কেন? কোনো কারণ তো সে বুঝতে পারছে না।
কিছুক্ষণ ভাবল পৃথা। তারপর ঠোঁটের কোণে দুষ্টু একটা হাসি ফুটিয়ে আইলিনের দিকে তাকিয়ে মজা করে বলল—
“বান্ধবী, ব্যাপারটা কী? মনে হচ্ছে দুলাভাইয়ের প্রেমে পড়েছিস! বলছিলাম আজকে কি দুলাভাই একটু বেশি ভালোবেসেছে নাকি? তাই তো একটু পর পর এমন ব্লাশ করছিস?”
পৃথার কথার দুষ্টুমিতে বাতাসে হালকা হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ল, আর আইলিনের গাল দুটো যেন আরও একটু গাঢ় লাল হয়ে উঠল…তবে আইলিন নিজেকে সামলে নিয়ে বলল।
“ এমন কিছু না। কিছু হলে তো জানতি।চল যাওয়া যাক। ”
আইলিনের কথা শুনে পৃথা ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলে।
“ এই.. এই তুই আমার সাথে কোথায় যাবি? তোর শ্বশুর বাড়ির রাস্তা তো ওদিকে তাহলে এদিকে আজ কেন? ”
“ মা বাবার বাড়িতে যাবো। অনেক দিন হলো বাবা মা কে দেখি না। ”
“ ত্রিয়াশ স্যার জানে তুই যে বাপের বাড়ি যাচ্ছিস। ”
“ জানা, না জানাতে আসে যায় না। এখন চলতো। ”
আইলিন পৃথার হাত ধরে একটু সামনে গেল।সেখানে থেকে একটা রিকশা করে দুজনে চলে গেল।
~~
বিকেল চারটা বাজতে না বাজতেই ত্রিয়াশ বাসায় এসে পৌঁছাল। সারাদিনের ক্লান্তি গায়ে মেখে আছে, তাই কারও সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে সোজা নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল। এখন তার সবচেয়ে বেশি দরকার একটু ফ্রেশ হওয়া।
প্রায় বিশ মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এল সে। ভেজা চুলে তোয়ালে জড়িয়ে মাথা মুছতে মুছতে হঠাৎই তার চোখ পড়ল সেন্টার টেবিলের ওপর রাখা এক মগ কফির দিকে। হালকা ধোঁয়া উঠছে এখনো। ত্রিয়াশ বুঝতে দেরি করল না—এটা নিশ্চয়ই তিশা বেগম রেখে গেছেন। আর কেউ না জানলেও, তিনি ঠিকই জানেন তার ছেলের এই সময়টায় এক কাপ কফি কতটা প্রয়োজন।
মগটা হাতে নিয়ে ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে বেলকনিতে এসে দাঁড়াল। বাইরে নরম বিকেলের আলো, হালকা বাতাস। চুমুক দিতে দিতে কফি শেষ করল সে, কিন্তু মনটা কেমন যেন অস্থির লাগছিল।
কফি শেষ করে সে নিচে নেমে এলো। ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই ত্রিয়াশকে দেখে তিশা বেগম জিজ্ঞেস করলেন—
“আইলিন কই? তোরা সবাই আসলি, আর মেয়েটা এখনো আসলো না কেন?”
মায়ের কথা শুনে ত্রিয়াশের বুকের ভেতরটা হঠাৎ ছ্যাঁৎ করে উঠল। আইলিন তো সারাদিন ক্লাসেই ছিল, তাহলে হঠাৎ এখন কোথায় গেল? মাথার ভেতর অজস্র প্রশ্ন ঘুরতে লাগল। সে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই, তার আগেই আইরা সামনে এসে বলল—
“বড় মা, আইলিন বাবা-মায়ের কাছে গেছে। এই মাত্র আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। আজ রাত নাকি ওখানেই থাকবে।”
তিশা বেগম একটু বিরক্তির সুরে বললেন—
“আমাদের বলে গেলে হতো। এভাবে কেউ চিন্তায় ফেলে?”
কথাটা শেষ করেই তিনি রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন।
ত্রিয়াশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। মনে মনে অকারণেই রাগ জমে উঠল—কার ওপর রাগ, সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারল না। ঠিক তখনই ইউভি নিভানের দিকে এসে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
“মনে হচ্ছে ত্রিয়াশ বেবি খুব কষ্ট পাচ্ছে। আজ রাতে বউ ছাড়া ঘুমাতে হবে যে!"
কথাটা বলেই ইউভি আর নিভান দু’জনেই ঠোঁট চেপে হেসে উঠল। নিভানের হাসিটা খুব একটা প্রকাশ করলো না —ত্রিয়াশ দেখলে কিমা করে খাবে, আর ইউভির হাসিতে ছিল দুষ্টুমি আর খুনসুটি। মুহূর্তটুকু যেন হালকা হয়ে উঠল।
ইউভি ধীরে ধীরে ত্রিয়াশের দিকে এগিয়ে গেল। খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার কাঁধে হাত রেখে একটু ঝুঁকে এসে বলল—
“আরে ভাই, আজ রাতই তো। কালই তো তোর বউ চলে আসবে। আর তুই কিনা মুখটা এমন পেঁচার মতো করে বসে আছিস! আগে তো বউ ছাড়া কত ঘুমিয়েছিস আজও সেভাবে ঘুমিয়ে নে,এত ভারী ভাব নিয়ে থাকলে ভালো দেখায় নাকি?”
“শাট আপ। নো মোর ওয়ার্ডস।”
“ ঠিক আছে, আমি কোন কথা বলবো না কিন্তু তুই তো আইলিনকে ভালোবাসিস তাই খোঁজ করছিস।”
“ এই নাভিয়ান ত্রিয়াশ মির্জা ভালোবাসা ঘৃণা করে। ”
ত্রিয়াশ হনহনিয়ে ওপরে চলে গেল। ইউভি ত্রিয়াশের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিরবির করলো।
”মুখে যতই বলিস—ভালোবাসা ঘৃণা করি,
ভালোবাসা থেকে যতই পালাস।
একদিন ক্লান্ত হয়ে থামবি তুই,
আর তখন বুঝবি—
আইলিনকে তুই চোখে হারাস,
নিজের অস্তিত্বের চেয়েও বেশি ভালোবাসিস। ”
চলবে,
[ ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আর গল্প সম্পর্কে কিছু বলবেন। বেশি বেশি কমেন্ট করবেন। ]