ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

১১তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ১১

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

লাইট পিঙ্ক রঙের নরম জর্জেট চুরিদারটায় আইলিন যেন আরও আলাদা করে ফুটে উঠেছে। হালকা সাজ, চোখে-মুখে সফট গ্লো—সব মিলিয়ে ওকে আজ অসম্ভব মিষ্টি লাগছে। আয়নার সামনে শেষবার নিজের চুলটা ঠিক করে নিয়ে সে একটু পরে মেলায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

ঘরের এক কোণে, বিছানায় বসে ত্রিয়াশ এতক্ষণ আড়চোখে সবটাই দেখছিল। বাইরে থেকে সে একদম স্বাভাবিক, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিরক্তিটা চাপা দিয়ে রাখা তার পক্ষে খুব সহজ নয়। আইলিন আজ ইউভির সাথে মেলায় যাচ্ছে—এই ভাবনাটাই তার বুকের ভেতর কোথাও খচখচ করে উঠছে। তবুও সে কিছুই প্রকাশ করছে না, না মুখে, না আচরণে।

আসলে মেলায় শুধু ইউভি আর আইলিন একা যাচ্ছে না। তাদের সঙ্গে যাচ্ছে নিয়তি, নিশি, নিভান আর নিলয়। শুধু আইরা যেতে পারছে না। সবাই একসাথেই যাবে—জানার পরও ত্রিয়াশের মনটা কেন যেন শান্ত হচ্ছে না। যুক্তি বলে, এটা তো ভাইবোনদের আড্ডা, কিছুই হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মন যুক্তি মানে না।

ইউভিকে আইলিনের পাশে কল্পনা করলেই ত্রিয়াশের বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্বস্তি জমে ওঠে। সে জানে, এই অনুভূতির নাম কী, অথচ স্বীকার করতে চায় না। চোখের সামনে আইলিন হাসছে, আলো ঝলমলে হয়ে উঠছে—আর ত্রিয়াশ নীরবে শুধু ভাবছে, কেন যেন আজ এই দৃশ্যটা তার সহ্য হচ্ছে না।

ত্রিয়াশ আর চুপ থাকতে পারল না। বিরক্তি আর দমে রাখা রাগ একসাথে বিস্ফোরিত হলো তার ভেতরে। হঠাৎ করেই বিছানা থেকে উঠে বসলো সে। দুই হাত বুকে ভাঁজ করে গম্ভীর, কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠে বলল—

“আইলিন, তুমি মেলায় যাচ্ছো না।”

আইলিন অবাক হলেও ভয় পেল না। শান্ত গলায় পাল্টা প্রশ্ন করল

“কেন?”

ত্রিয়াশ এক মুহূর্ত দেরি না করে বলল

“আমি বলেছি তাই।”

আইলিনের চোখে এবার বিরক্তির ঝিলিক। ঠোঁট বাঁকিয়ে সে বলল

“আপনি বললেই মানতে হবে? কে আপনি?”

‘কে আপনি’—এই দুটো শব্দ ত্রিয়াশের মাথায় আগুন ধরিয়ে দিল। এতক্ষণ যে রাগটা সে চেপে রেখেছিল, তা মুহূর্তেই ছুটে বেরিয়ে এলো। ঝড়ের গতিতে সে এগিয়ে গেল আইলিনের দিকে। এক হাত দিয়ে তাকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে, দাঁত চেপে শক্ত গলায় বলল

“আই অ্যাম ইয়োর হাজব্যান্ড।”

আইলিন ভয় পেল না। বরং ঠোঁটে ফুটে উঠল এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি। সে ধীরে ধীরে ত্রিয়াশের চোখের দিকে তাকাল, চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কণ্ঠে বলল

“আপনি যাবেন না বলে আমিও বসে থাকব নাকি? আমি মেলায় যাবো। আপনার ইচ্ছে হলে আপনিও আসতে পারেন।”

কথা শেষ করেই সে নিজেকে ত্রিয়াশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিল। এক মুহূর্তও পেছনে তাকাল না। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল আইলিন।

ঘরে একা দাঁড়িয়ে রইল ত্রিয়াশ। বুকের ভেতর রাগ আর অজানা অস্থিরতা একসাথে খেলা করতে লাগল। কিছু একটা গভীরভাবে ভাবল সে। তারপর নিঃশব্দে দরজা পেরিয়ে সেও নিচে নেমে গেল।

হলরুমে তখন সবাই উপস্থিত। শুধু একজনের জন্যই অপেক্ষা—আইলিন। কথাবার্তা থমকে আছে, দৃষ্টিগুলো বারবার সিঁড়ির দিকেই যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আইলিন নিচে নেমে এলো। তার সঙ্গে ত্রিয়াশকেও দেখে সবাই খেয়াল করল, কিন্তু কেউ কিছু বলল না। যেন অঘোষিত নীরবতাই তখন সবচেয়ে নিরাপদ।

আইলিনের ঠিক পেছন পেছন ত্রিয়াশকে আসতে দেখে ইউভির ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি খেলল। সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আইলিনের দিকে এগিয়ে এসে বলল

“আইলিন, তুমি আমার পাশে বসে যাবে। ঠিক আছে?”

আইলিন এক মুহূর্তও দেরি না করে শান্ত গলায় উত্তর দিল

“ঠিক আছে, ভাইয়া।”

এই কথাটুকুতেই ত্রিয়াশের ভেতরটা যেন হু হু করে জ্বলে উঠল। আইলিন ইউভির পাশে বসবে—এই ভাবনাটাই তার মাথার ভেতর আগুন ধরিয়ে দিল। চোখে মুখে চাপা বিরক্তি, কণ্ঠে গাম্ভীর্য টেনে এনে সে বলল

“আমি থাকতে আইলিন তোর পাশে কেন বসবে?”

কথাটার ভেতরে শুধু প্রশ্ন নয়, ছিল অধিকারবোধ আর দমিয়ে রাখা জেলাসির স্পষ্ট ছাপ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়তি একটু এগিয়ে এসে হালকা স্বরে বলল

“ভাইয়া, তুমি কি আমাদের সাথে যাচ্ছো?”

ত্রিয়াশ ছোট করে উত্তর দিল

“হুম।”

এই একটা শব্দেই যেন সবাই সব বুঝে গেল। আগে যখন যাওয়ার কথা উঠেছিল, তখন ত্রিয়াশ একেবারেই গুরুত্ব দেয়নি। অথচ এখন, যখন শুনেছে তার বউ অন্য ছেলের পাশে বসতে পারে, ঠিক তখনই যাওয়ার সিদ্ধান্ত! চারপাশে থাকা সবাই মিটমিট করে হাসল। কেউ কিছু বলল না, কিন্তু ত্রিয়াশের জেলাসি যে চোখে পড়ার মতো—সেটা কারও বুঝতে বাকি রইল না।

নীরব হাসি, চাপা দৃষ্টি আর অদ্ভুত এক উত্তেজনা নিয়ে তারা সবাই গুরুজনদের বিদায় জানাল। তারপর ধীরে ধীরে মেলার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

~~~

কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সবাই মেলার ভেতরে এসে পৌঁছাল। আলোঝলমলে মেলা চত্বর, চারদিকে মানুষের কোলাহল, হাসি–আনন্দ আর রঙিন দৃশ্যে ভরে উঠেছে পরিবেশ। আইলিনের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক স্পষ্ট। অনেক দিন পর এমন খোলা হাওয়ায়, এত আনন্দের ভিড়ে এসে তার মনটা যেন হালকা হয়ে গেছে।

চারপাশে সারি সারি দোকান—কোথাও রঙিন চুড়ির দোকান, কোথাও বাহারি শাড়ি ঝুলছে, আবার কোথাও অলংকার, খেলনা, নানান রকমের হাতের তৈরি জিনিসপত্র। একপাশে বসেছে ভাজাপোড়ার দোকান—ঝাল মুড়ি, আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি—তেলে ভাজার ছ্যাঁক ছ্যাঁক শব্দ আর লোভনীয় গন্ধে পুরো জায়গাটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

আইলিন মেলায় পা দিয়েই যেন অন্য এক জগতে চলে এসেছে। তার মনটা ফুরফুরে লাগছে। চারদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সে সবকিছু উপভোগ করছে। সবাই যার যার মতো কেনাকাটায় ব্যস্ত। কেউ দরদাম করছে, কেউ হাসতে হাসতে ছবি তুলছে।

নিয়তি আর নিশি তো একেবারেই ছাড়াছাড়ি অবস্থায়। যা চোখে পড়ছে, ভালো লাগছে—সব কিনছে। এমনকি যেগুলো খুব একটা পছন্দ হয়নি, সেগুলোও “পরে কাজে লাগবে” ভেবে ব্যাগে ভরছে। তাদের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছে, মেলা যেন তাদের জন্যই বসেছে।

কিন্তু এই ভিড় ত্রিয়াশের একদমই সহ্য হচ্ছে না। এত মানুষের গাদাগাদি, ঠেলাঠেলিতে তার বিরক্তি চরমে। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে সে। তবু কিছু করার নেই, সবাই এসেছে—তাকে থাকতেই হবে।

হঠাৎ ত্রিয়াশের ফোন বেজে ওঠে। স্ক্রিনে তাকিয়ে সে একটু বিরক্ত মুখে ফোনটা ধরে।ভিড়ের মাঝ থেকে সরে গিয়ে একটু পাশের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ায়।

এদিকে আইলিন এসে দাঁড়িয়েছে একটি চুড়ির দোকানের সামনে। রঙিন কাচের চুড়িতে দোকানটা ঝলমল করছে। নীল, লাল, সবুজ, সোনালি—নানান রঙের চুড়ি সাজানো। আইলিন মন দিয়ে একটার পর একটা চুড়ি দেখছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইউভি।

হঠাৎ ইউভি একটি চুড়ির বক্স তুলে আইলিনের দিকে এগিয়ে দেয়।

“আইলিন, এটা দেখতে পারো”

হালকা হাসি নিয়ে বলে সে। আইলিন ইউভির হাত থেকে বক্সটা নেয়। চুড়িগুলো বের করে হাতে পরতে যায়। চুড়ি পরাতে একটু কষ্ট হচ্ছিল, তখন ইউভি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আইলিনের হাতটা ধরে তাকে সাহায্য করে। মুহূর্তটা খুবই স্বাভাবিক হলেও, দূর থেকে দেখলে অন্যরকম লাগার মতো দৃশ্য।

ঠিক তখনই ফোনে কথা শেষ করে ত্রিয়াশ ফিরে আসে। ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে এসে সে হঠাৎই এই দৃশ্যটা দেখে ফেলে—ইউভি আইলিনের হাত ধরে আছে, খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে।

তার চোখ মুহূর্তের মধ্যে রাগে জ্বলে ওঠে। বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। কোনো কথা না বলে, হনহনিয়ে আইলিনের দিকে এগিয়ে আসে ত্রিয়াশ।

ত্রিয়াশ আচমকাই আইলিনের হাত থেকে চুড়িটা ছিনিয়ে নিল। কোনো সতর্কতা নেই, কোনো কোমলতা নেই—সরাসরি পাশের টেবিল থেকে আরেকটা চুড়ির বাক্স তুলে নিল সে। আইলিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ত্রিয়াশ নিজেই জোর করে তার হাতে চুড়ি পরাতে শুরু করল।

হঠাৎ টানাটানিতে আইলিনের কবজিতে তীব্র একটা ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল। সে ব্যথায় চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল, ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে বলে উঠল

“কি করছেন আপনি, কী?”

ত্রিয়াশ নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়েই রইল, যেন কিছুই হয়নি। ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল—

“কেন? দেখতে পাচ্ছো না—চুড়ি পরাচ্ছি।”

আইলিনের কণ্ঠে এবার প্রতিবাদ আর যন্ত্রণা মিশে গেল।

“এভাবে কেউ চুড়ি পরায় না।”

ত্রিয়াশের চোখে মুহূর্তে একটা কটু ঝিলিক খেলল। ঠোঁট বাঁকিয়ে সে বলল—

“তাহলে অন্য পুরুষ পরায় বুঝি?”

কথাটার ধারালো আঘাতে আইলিনের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। রাগ আর কান্না একসাথে গলা অবধি উঠে এলো। চোখ ভিজে গেল, কিন্তু সে কিছু বলতে পারল না। শব্দগুলো যেন ভয়েই আটকে গেল। ইউভি পুরো ঘটনাটা চুপচাপ দেখছিল। ত্রিয়াশের ভয়ে সেও কোনো কথা বলল না। অস্বস্তিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে দাঁত দিয়ে নিজের নখ কাটতে লাগল—ভেতরের চাপ আর অসহায়ত্বটা যেন ওই অভ্যাসের ভেতর দিয়েই বেরিয়ে আসছে।

আইলিন এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বলে।

“ উফ্ জ্বলছে, ঢুকবে না ছেড়ে দিন প্লিজ। ব্যাথা পাচ্ছি এভাবে জোড় করতে পারেন না। ”

কিন্তু ত্রিয়াশ শোনার ভানও করল না। দাঁত চেপে ধরে আইলিনের কবজি আরও শক্ত করে চেপে ধরে বলল,

“এই তো হয়ে আসছে চুপচাপ সহ্য করো। আর একটা কথা বললে থাপড়ে গাল লাল করে দিবো।”

চুড়ির শক্ত কিনারা আইলিনের হাতের চামড়ায় ঘষা খেয়ে আগুনের মতো জ্বালা ধরাচ্ছিল। চোখে জল চলে এলো তার। আর সহ্য না করে সে হঠাৎ করে ত্রিয়াশের হাত ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় নিজেকে। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে বলে,

“ হাত ছাড়েন, সাইজে ছোট চুড়ি, আপনার চুড়ি আপনি পড়েন বেয়াদব, বজ্জাত লোক। ইশ হাত আমার শেষ হয়ে গেছে।”

আইলিন মেলার অন্য দিকে চলে গেল। ত্রিয়াশকে তার এখন সহ্য হচ্ছে না। ত্রিয়াশ দোকানের সামনে দাড়িয়ে আছে। এর মধ্যে মধ্য বয়সের দুটো লোক চলে আসে। আইলিন ত্রিয়াশের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে চলে গেল এতটুকু তারা দেখেছে — কি কথপোকথন হয়েছে তারা শুনেনি। এতটুকু দেখে অনেক কিছু ভেবেছেন। দু’জন লোকের মধ্যে একজন উচাটন কণ্ঠে বলল:

“ ছিঃ তোমার বউ তোমার সাথে এমন ব্যবহার করে। তোমার মত জোয়ান ব্যাডাকে দেখে বউ ভয় পায় না। আমার বউ তো আমাকে দেখে ভয়ে কাঁপতে থাকে কারণ আমি হলাম সিংহের বাচ্চা। ”

ত্রিয়াশ লোকটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপালের একপাশে চুলকে বলে উঠে।

“ আঙ্কেল ,সিংহ আপনার মায়ের কাছে এসেছিল নাকি আপনার মা সিংহের কাছে গিয়েছিল? ”

লোকটা একটু হতভম্ব হয়ে গেল। ইউভি তো ঠোঁট জোড়া চেপে হাসে আটকে রাখছে। ত্রিয়াশ চোখে চিকন ফ্রেমের গ্লাস পড়ে চলে গেল। এখন আইলিনকে খুজতে হবে। ত্রিয়াশ একটু যেতেই দেখতে পায় আইলিন গাছের চারপাশে সান দিয়ে বাধায় করা স্থানে গাল ফুলিয়ে বসে আছে। ত্রিয়াশ আইলিনের দিকে এগিয়ে আসলো।আইলিনের হাতের দিকে তাকিয়ে তার বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠে। হাতের অনেক স্থানে ছিলে হালকা রক্ত বেরিয়ে শুকিয়ে গেছে।

ত্রিয়াশ নরম হয়ে শান্ত মৃদু গলায় বলে।

“ চলো, বাড়ি যাই। ”

আইলিনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই, ত্রিয়াশ একটু ঝুঁকে আইলিনকে কোলে তুলে নিল। তারপর সরাসরি গাড়ির দিকে হেঁটে যেতে শুরু করল। এদিকে ত্রিয়াশকে আইলিনকে কোলে নিয়ে এগোতে দেখে বাকিরাও একে একে তার পেছনে চলে এল।

বাকিরা পেছনে বসেছে। ত্রিয়াশ ড্রাইভ করছে তার পাশে আইলিন। আইলিন নিজের চোখের পানি মুছে শক্ত গলায় বলে।

“ গাড়ি থামান, আমি নামবো। ”

সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। ত্রিয়াশ এক হাত দিয়ে ড্রাইভ করছে। বাম হাত দিয়ে আইলিন কে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে। আইলিন যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। এই প্রথম ত্রিয়াশের এত কাছে — আইলিনের শরীরে হালকা কম্পন শুরু হয়। এই দৃশ্যটা দেখে সকলে মিটিমিটি হাসলো। নিলয় ইউভির কানে ফিসফিস করে বলে।

“ জেলাসের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এবার তো প্রনয় ঘটবে। ইউভি দেখে নিস এদের ভালোবাসার ইতিহাস হবে। ”

ইউভি দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে

“ প্ল্যান কাজ করছে। এবার নেক্সট প্ল্যান।”

চলবে,

[ ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন