ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

১২তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ১২

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

দক্ষিণের হালকা বাতাস ঘরে ঢুকেছে, সমস্ত কোণকে ঠান্ডা আর নীরবতার স্পর্শে ভরিয়ে দিচ্ছে। খাটের হেডবোর্ডের পাশে হেলান দিয়ে আইলিন বাইরে তাকিয়ে আছে। জানালার পাড়ে ছাপানো আলো আর ছায়া যেন তার চোখে মৃদু নাচ করছে। বাইরের দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে তার মন এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে যাচ্ছে।

মেলার সেই দিনটির পরে কেটে গেছে পনেরো দিন। এই সময়ে পৃথা আর আহান স্যারের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সেই আনন্দময় দিনে আইলিনের মন ছিল বিষণ্ণ, শরীর ক্লান্ত। বিয়েতে আসার ইচ্ছা ছিল না তার, কিন্তু পৃথার জোরাজুরি তাকে বাধ্য করেছিল উপস্থিত হতে। বিয়ের আনন্দ সে নিতে পারল না, শুধু ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়ে অনুভব করল জীবনের এক অদৃশ্য পরিবর্তন।

পৃথার বিয়ের পর থেকে আইলিন শশুরবাড়ি যায়নি। আজ সাত দিন হলো সে বাবার বাড়িতে রয়েছে। বাবার বাড়ির নীরবতা, পরিচিত গন্ধ আর নিঃসঙ্গতা যেন তাকে আড়ম্বরহীন শান্তি দেয়। এই সময়ে তার বড় বোন আইরাও চলে এসেছে। তবে বোনের উপস্থিতি ছাড়া আইলিনের মন শান্ত ছিল না, আর আইরারও ভালো লাগছিল না। একে অপরের নিঃশব্দ উপস্থিতি যেন দুজনকেই অদ্ভুতভাবে সংযুক্ত করে। আইলিন এখন অনেক টা সুস্থ।

একটি ডালে দুটি পাখি বসে আছে। আইলিন নিঃশব্দে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে যেন অগণিত ভাবনার ঝড়ো ঢেউ। সাতদিন পার হয়েছে, ত্রিয়াশ একবারও তার খোঁজ নেয়নি। মনে মনে আইলিন নিজেকে বোঝাতে চায়, “হয়তো ব্যস্ত, হয়তো সময় নেই।” কিন্তু হৃদয় বলে—আমি কি তার কেউ হই যে খোঁজ করবে।

কালই তো শশুরবাড়ি যেতে হবে। আইরার কাছ থেকে শোনা খবর আবার মনে চঞ্চলতা ছড়ায়—আজকে নিলয়, ইউভি, নিভান, নিয়তি, নিশি তারা সবাই তাদেরকে নিতে আসবে। আইলিনের মনে উঁকি দেয়, “হয়তো ত্রিয়াশও আসবে।” কিন্তু সে আশা, হায়, ফিকে হয়ে যায়। ব্যস্ততার আড়ালে ত্রিয়াশ নেই।

স্মৃতিরা তখনো পালিয়ে যায়নি। কলেজ থেকে চারদিন আগে সবাই পিকনিকে গিয়েছিল সিলেটে। ত্রিয়াশও গিয়েছিল। আইলিন অসুস্থতার কারণে যেতে পারেনি। সেই দিন পৃথাও যায়নি; প্রিয় বান্ধবী ছাড়া সে কখনো কোথাও যাবে না। হয়তো আহান স্যারও গিয়েছিলেন।

হঠাৎ, মুহূর্তের এক অদৃশ্য শক্তি তাকে ফোনটি হাতে নিতে বাধ্য করে। ফেসবুকে ঢুকে ত্রিয়াশের প্রোফাইলের দিকে তাকিয়ে থমকে যায়। মনটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। চোখে পানি ভেসে ওঠে, অজান্তেই মুখে ফুটে ওঠে অল্পস্বল্প নিঃশব্দ কান্না।

আইলিন চুপচাপ বসে ছিল। চোখের কোণে অচেনা জল জমে এসেছে, কিন্তু সে কাঁদল না। হাতে থাকা ফোনটা হালকা কাঁপছিল। স্ক্রিনে ত্রিয়াশের ছবি—এবার তার পাশে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে একজন অচেনা মেয়ে।

একসাথে অনেক ছবি তোলা হয়েছিল, ছাত্রছাত্রী সবাই মিলে। কিন্তু প্রতিটি ছবিতে মেয়েটি ছিল ত্রিয়াশের কাছে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। আইলিন এক মুহূর্তের জন্য চেয়ে রইল—মেয়েটি কলেজের কেউ নয়। সেই পরিচয়হীনতা আরও ঘিরে দিল তার হৃদয়কে নিঃশব্দ ব্যথায়।

সে কাঁদেনি। ঠোঁট চেপে ধরে, চোখের জল নিঃশব্দে ভেতরে আটকে রাখল। আইলিন চাইনি বেশি কিছু। শুধু স্বামীর ভালোবাসা—একটা স্পর্শ, একটুখানি আন্তরিকতা। কিন্তু কেন ত্রিয়াশ তাকে কাছে টেনে আনছে না? কেন এই দূরত্ব?

মনের ভিতরে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল এক প্রশ্ন—শ্যামবর্ণ বলেই কি এত দূরত্ব?

আইলিন বসে রইল, নিঃশব্দে। চোখের জল ধীরে ধীরে ঝরে পড়ল। সে জানত, এই মুহূর্তের ব্যথা শীঘ্রই শেষ হবে না। কিন্তু সে শিখল, কখনো কখনো ভালোবাসা চাওয়া মানেই শুধু নিঃশব্দে প্রতিক্ষা করা, আর নিজের হৃদয়কে ধীরে ধীরে গুছিয়ে রাখা।

~~~

এখন সন্ধ্যা ৬:১৩ মিনিট। নিলয়, ইউভি, নিভান, নিশি আর নিয়তি—পাঁচজনই আইলিনের বাড়িতে চলে এসেছে। এসেছে ঠিক যেন ভিড়ের মধ্যে আলোর ঝলক, হাসি ঠাট্টা আর আড্ডার আবহ। তবে নিলয়ের মন একটু সরম করছে—শশুর বাড়ি, ভাবলেই অদ্ভুত একটা লাজ।

আড্ডা শুরু হলেও আইলিনের চোখে যেন এক ফাঁকফোকর, একরাশ বিষন্নতা। সবাই আসার পর থেকে সেটা খেয়াল করেছে, কিন্তু কেউ সরাসরি প্রশ্ন করেছে না।

ইউভি কিন্তু ভালোভাবে বুঝতে পারল, আইলিন ত্রিয়াশের আপলোড করা ছবি দেখেছে। এতদিন ব্যস্ততার মধ্যে সে আইলিনকে নিয়ে ত্রিয়াশের মনে কিছুটা জেলাসি তৈরি করতে পারছিল না। এখন, এই ক্ষুদ্র সুযোগটা ইউভি মনে মনে কাজে লাগানোর চিন্তায় ডুবে যাচ্ছে।

ইউভিকে ভাবনায় ডুবে যেতে দেখে নিলয় সতর্কতার সাথে ফিসফিস করে বলল,

“ কি ভাবছিস? ”

নিলয়ের মতো ইউভি ফিসফিস করে বলে

“ ভাবছি তো অনেক কিছু দেখোই না কি করি। ”

নিলয় আর কথা বাড়াল না। ঘরের ভেতর তখন এক ধরনের নরম নীরবতা নেমে এসেছে। ঠিক সেই সময়েই আইলিনের মা টেবিলে খাবার সাজিয়ে ফেললেন। ঘড়িতে রাত প্রায় নয়টা ছুঁইছুঁই। সবাই একে একে খাবার টেবিলে এসে বসল।

খাওয়ার টেবিলে বসতেই বোঝা গেল, আইলিনের বাবা-মা মানুষ হিসেবে কতটা সহজ আর আপন। নতুন লোকজন হলেও তাঁদের ব্যবহারে কোথাও এক ফোঁটা জড়তা নেই। হাসি, যত্ন আর আন্তরিকতায় খুব স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে আপন করে নিলেন তাঁরা। কথাবার্তার ফাঁকে ফাঁকে হাসির রেশ, সাধারণ পারিবারিক গল্প—সব মিলিয়ে পরিবেশটা হয়ে উঠল ঘরোয়া আর উষ্ণ।

খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ হতে হতে রাত বেশ গভীর হয়ে এসেছে। সবাই ক্লান্ত, তবু মনটা ভরা। এরপর যার যার বরাদ্দ করা ঘরের দিকে পা বাড়াল সবাই।

আইলিনের ঘরেই রাতে থাকবে আইলিন, নিয়তি আর নিশি—তিনজনের হাসি-ঠাট্টায় ঘরটা যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। ইউভি আর নিভান একসাথে অন্য ঘরে চলে গেল। আর নিলয়, সে তার বউয়ের সাথে ঘুমাবে।

নিয়তি আর নিশির সাথে গল্প করতে করতেই হঠাৎ আইলিনের মনে একটা কথা উদয় হলো। সে একটু দ্বিধা নিয়েই প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল—

“নিয়তি, তোমার ভাইয়া আসলো না?”

আইলিনের কথা শুনে নিশি হালকা হাসি মুখে এগিয়ে এসে তাকে একপাশ থেকে জড়িয়ে ধরলো। আদর আর স্নেহে ভরা কণ্ঠে সে বলল—

“ভাইয়া খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে। তুমি কষ্ট পেও না ভাবি।”

নিশির কথা শেষ না হতেই নিয়তিও আইলিনের অন্য পাশ ঘেঁষে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলো। চোখেমুখে ছিল আন্তরিক ভালোবাসার ছাপ।নিয়তি নরম স্বরে বলল।

“তোমাকে ছাড়া এতদিন আমাদের একদমই ভালো লাগেনি,”

দুই ননদের এমন আচরণে আইলিন মুচকি হেসে উঠলো। বুকের ভেতর কোথাও একটা উষ্ণ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়লো। সে ধীরে ধীরে বিছানার মাঝখানে শুয়ে পড়লো। নিশি আর নিয়তি দু’পাশে এসে শুয়ে পড়ল, যেন আইলিনকে ঘিরে রাখার অদৃশ্য এক নিরাপত্তার বলয়।

শ্বশুরবাড়ির সবার কাছ থেকেই আইলিন পেয়েছে অগাধ ভালোবাসা, সম্মান আর যত্ন। তবুও বুকের ভেতর একটা শূন্যতা রয়েই গেছে। এখনো পর্যন্ত সে তার স্বামীর কাছ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসাটা পায়নি—যেটা একজন স্ত্রী নিঃশব্দে প্রতিদিন অপেক্ষা করে।

আইলিন দীর্ঘশ্বাস ফেললো। চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু ঘুমের আড়ালেও তার মনে ভাসতে থাকলো না বলা অনেক কথা, না পাওয়া অনেক অনুভূতির গল্প।

~~~

রাত এগারোটা বাজতে চলেছে। পুরো মির্জা বাড়ি নিস্তব্ধ হলেও রান্নাঘর থেকে এখনো টুকটাক শব্দ ভেসে আসছে। আজ বাড়িতে কোনো বাচ্চা নেই, তবুও কাজ যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। মৃদু হলুদ আলোয় রান্নাঘরে ব্যস্ত তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম। থালাবাসনের শব্দের ফাঁকে ফাঁকে যেন চাপা উত্তেজনাও জমে আছে।

মুনিরা বেগম এঁটো প্লেট ধুতে ধুতে হঠাৎ মুখ খুললেন। তার মুখভঙ্গিতে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ।

“তোমাকে আমি কখনো বড় জা না, বোন হিসেবেই দেখি। শোন আপা, রাগ করো না,”

একটু থেমে তিনি আবার বললেন,

“তুমি তো জানোই লিসা ত্রিয়াশের সাথে কী করেছে। তারপরও কেন তুমি ওকে এই বাড়িতে ঢুকতে দিলে? বোনের মেয়ে বলেই কি সব ভুলে গেলে?”

তিশা বেগম শান্ত গলায় উত্তর দিলেন,

“এভাবে বলিস না। ছোট মানুষ, ভুল তো হতেই পারে।”

মুনিরা বেগমের বিরক্তি যেন আরও বেড়ে গেল।

“আইলিন কিন্তু খুব ভালো মেয়ে। যেখানে তুমি নিজে আইলিনকে এই বাড়ির বউ করে এনেছো, সেখানে তোমার উচিত হয়নি ওই মেয়েটাকে আবার এখানে এলাও করা।”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারও বলতে শুরু করলেন তিনি—

“আইলিনের বয়স কম, মেয়েটা একেবারে সরল-সোজা। আপা, আমার কথা শোনো—তুমি লিসাকে বাড়ি পাঠিয়ে দাও। ওর ত্রিয়াশের পেছনে পেছনে ঘোরাঘুরি আমার একদমই ভালো লাগে না। আর ত্রিয়াশও কিছু বলে নাহ— এতো ভালোমানুষি হওয়া ভালো না। ”

তিশা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

“চিন্তা করিস না ছোট, কিছু হবে না।”

মুনিরা বেগম হাতের কাজ থামিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন।

“তাই যেন হয়। তবে মনে রেখো, যদি কোনো উল্টোপাল্টা কিছু হয়, এর দায় কিন্তু তোমরাই নেবে।”

সব কাজ শেষ করে তিনি আর একটি কথাও না বলে রান্নাঘর ছেড়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর তিশা বেগমও নীরবে রান্নাঘরের আলো নিভিয়ে বেরিয়ে এলেন।

রান্নাঘর ফাঁকা হলেও কথাগুলো যেন দেয়ালের ভেতর আটকে রইল—নীরব, কিন্তু ভীষণ ভারী।

~~

সকাল সকাল আইলিন আর আইরাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই পুরো ড্রয়িংরুম যেন হঠাৎ করে প্রাণ ফিরে পেল। এতদিনের নীরব, ভারী বাতাসটা মুহূর্তেই কেটে গিয়ে জায়গা নিলো হাসি, আর বাচ্চাদের হইহট্টগোলে। মনে হচ্ছে, সত্যিই মির্জা বাড়িতে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে

চারপাশে এত আনন্দ, এত কোলাহলের মাঝেও আইলিনের মনটা যেন কোথাও আটকে আছে। তার দু’চোখ বারবার একজনকেই খুঁজছে—ত্রিয়াশকে।

ঠিক তখনই, সিঁড়ির দিক থেকে কারও কথা বলার আওয়াজ ভেসে এলো। ফোনে কথা বলতে বলতে ত্রিয়াশ নিচে নামছে। আইলিনের বুকটা হালকা করে কেঁপে উঠলো… কিন্তু পরক্ষণেই সেই কাঁপুনি আরও গভীর হয়ে গেল।

ত্রিয়াশের পাশে একজন অপরিচিত রমণী।

আইলিনের চোখে ধাঁধা আর বিস্ময় একসঙ্গে জমে উঠলো। এই মুখটা সে চেনে… হ্যাঁ, এই মেয়েটিকেই সে আগে ত্রিয়াশের পাশে ছবিতে দেখেছিল। ত্রিয়াশ ফোনটা কানে থেকে নামিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে নিলো। অথচ আশ্চর্যের বিষয়—একবারের জন্যও আইলিনের দিকে তাকালো না সে।

রমণীটি এগিয়ে এসে নির্লজ্জ ভঙ্গিতে বলে উঠলো—

“ত্রিয়াশ, এটা তোমার বউ? তোমার থেকে তোমার বউয়ের গায়ের রঙ তো চাপা!”

একটু থেমে হালকা হাসি দিয়ে যোগ করলো,

“যাই হোক, হাই—আমি লিসা।”

এই বলে সে আইলিনের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।

আইলিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। হাত বাড়ালো না, কিছু বললোও না। লিসার কথায় ঘরে উপস্থিত সবার মুখেই বিরক্তির ছায়া স্পষ্ট। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না দেখে হঠাৎই ইউভি এগিয়ে এলো।

ঠান্ডা অথচ কটাক্ষভরা গলায় সে বললো—

“শোন মেয়ে, যদি সাদা চামড়ার এত দাম হতো, তাহলে বাজারে মুলার দামই থাকতো সবচেয়ে বেশি।”

চারদিকে তাকিয়ে হেসে বললো,

“দেখো না, মুলার থেকে গাজরের দাম বেশি। এর মানে কী বুঝায় বাচ্চারা?”

এক সেকেন্ডও দেরি না করে নিয়তি, নিশি আর নিভান একসঙ্গে বলে উঠলো—

“লিসা আপু, সাদা মুলা তার কোনো দাম নাই!”

লিসার মুখটা রাগে লাল হয়ে গেল। অপমানে তার চোখে আগুন জ্বলে উঠলো। সে ত্রিয়াশের দিকে ফিরে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই—

ত্রিয়াশ হনহন করে সেখান থেকে চলে গেল।

লিসা যেন আরও অপমানিত হয়ে পড়লো।

এই সময় ইউভি সোফায় বসে পায়ের ওপর পা তুলে, একেবারে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে উঠলো—

“এই যে মিস লিসা, মুরগির লেগ-পিছের মতো ঠ্যাং বের করে না রেখে সেলোয়ার পরেন।

আর সেলোয়ার না থাকলে বলেন—আমার কাছে টাউজার আছে।”

আর কিছু শোনার আগেই লিসা অপমানে ফুঁসতে ফুঁসতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গেল।

তার যাওয়া মাত্রই ড্রয়িংরুম জুড়ে একসঙ্গে হাসির বিস্ফোরণ ঘটলো। সবাই হেসে উঠলো উচ্চস্বরে—

আর সেই হাসির মাঝে আইলিন দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ, বুকের ভেতরে জমে থাকা না-বলা কথাগুলো নিয়ে।

চলবে,

[ ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন