গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ১৩
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
সন্ধ্যা ছয়টা ত্রিশ মিনিট।আনন্দময় এক সন্ধ্যা।
বাবার বাড়ি থেকে ফিরে এসে আইলিনের মন খুব খারাপ ছিল। কিন্তু তা দুই মিনিটও স্থায়ী হলো না—ইউভি তার মনের মেঘ সরিয়ে দিয়ে হাসি ফোটাল।
এখন ড্রয়িংরুমটা যেন আনন্দের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নিভান, নিয়তি, নিশি, ইউভি আর আইলিন আড্ডায় মেতে আছে। তাদের মধ্যে হাসির শব্দ গড়িয়ে যাচ্ছে, আর ইউভির একেকটা মজার কথায় সবাই গড়াগড়ি খাচ্ছে। সত্যিই, এই ছেলে পারদর্শী—সবার মুখে হাসি ফোটাতে সে কখনো পিছপা হয় না।
আইরার শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা, তাই নিলয় তার পাশে ঘরে বসে আছে।
অন্যদিকে নিহাল মির্জা আর নিখিল মির্জা অফিস থেকে এখনো ফেরেননি।
ত্রিয়াশ অনেক আগেই পৌঁছেছে, এখন হয়তো ঘরে ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত।
রান্নাঘরে তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম নানা ধরনের ভাজা-পোড়া তৈরি করছেন। জরিনা সেগুলো সবাইকে দিয়ে যাচ্ছে , এই মূহুর্তে সকলের মন যেন আনন্দের অংশ হয়ে উঠেছে।
ত্রিয়াশ ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে করতে বোরিং হচ্ছিল। একটা কফি হলে মন্দ হয় না। কফি খাওয়াটা প্রয়োজন। ল্যাপটপটা বন্ধ করে ত্রিয়াশ চললো কফি খাওয়ার উদ্দেশ্যে। ত্রিয়াশ করিডোর পেরোতেই সিড়ির কাছে এসে হাত মুঠোয় চেপে দাঁড়িয়ে পড়ে।। রাগে ফুঁসছে চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে। আইলিন ইউভির সাথে হেসে হেসে কিছু একটা বলছে যা ত্রিয়াশের সহ্য হলো না। আইলিন বাবার বাড়ি থেকে আসার পর একবারও ত্রিয়াশের সামনে যায়নি এমনকি কথাও বলেনি আর এখন ইউভির সাথে হেসে হেসে কথা বলছে এতেই ত্রিয়াশের রাগ হয়।
ত্রিয়াশের মনে হচ্ছে আইলিনকে দুটো থাপ্পড় দিতে।
লিসা ফোন স্ক্রল করতে করতে এদিক দিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ ত্রিয়াশকে সিড়ির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসে। লিসাকে নিজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও ত্রিয়াশ ফিরে তাকানোর প্রয়োজন বোধ মনে করলো না।
আড্ডা দেওয়ার মাঝে হঠাৎ আইলিনের চোখ ওপরে সিড়ির পাশে যায়। লিসা আর ত্রিয়াশকে একসাথে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বুকের মধ্যে অদ্ভুত এক যন্ত্রণা অনুভব হলো।ত্রিয়াশ আইলিনকে নিজের দিকে তাকানো দেখে নিজের অনিচ্ছা সত্বেও লিসার সাথে হাসি দিয়ে কথা বলে। এই দৃশ্য দেখে আইলিনের মুখ কালো মেঘে ঢেকে গেল বুকের ভেতর যেন বজ্রপাতের ন্যায় শব্দ হতে শুরু করলো। আইলিনের চোখের কোনে পানি চিকচিক করছে।
ত্রিয়াশ ট্রাউজারের পকেটে দু’হাত ঢুকিয়ে ধীর, ভারী পদক্ষেপে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল। তার মুখে অদ্ভুত এক গাম্ভীর্য, চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। ড্রয়িংরুমে বসে সবাই যখন আড্ডায় মশগুল, হাসি-ঠাট্টায় ব্যস্ত, তখনও সে কারও দিকে না তাকিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে রইল। ঘরভর্তি কথাবার্তার মাঝেও তার উপস্থিতি যেন এক মুহূর্তে পরিবেশটাকে থমথমে করে তুলল।
গম্ভীর কণ্ঠে, সংক্ষিপ্ত অথচ দৃঢ় স্বরে সে বলল,
“মা, আমার জন্য এক কাপ কফি পাঠিয়ে দাও। মাথাটা প্রচণ্ড ব্যথা করছে।”
কথাগুলো বলার ভঙ্গিতে ছিল ক্লান্তি, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল একরকম কঠোরতা। যেন আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার ইচ্ছে নেই তার। কথা শেষ করেই সে আর কারও প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করল না। যেভাবে নীরবে নেমে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। তার পদচারণার শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল ওপরতলার নিস্তব্ধতায়।
ঘরে উপস্থিত কেউই তাকে আড্ডায় যোগ দিতে বলার সাহস পেল না। ত্রিয়াশের স্বভাব সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানে—তার মেজাজের ওঠানামা, তার নীরব রাগ, তার অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া। তাই এক অদৃশ্য সংকোচ যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল।
লিসা মনে মনে ভেবেছিল ত্রিয়াশের পিছনে পিছনে তার ঘরে চলে যাবে কিন্তু ত্রিয়াশ যখন বলল "প্রচন্ড মাথা ব্যাথা " এটা শুনে যাওয়ার সাহস পেল না। বেশি বিরক্ত করলে ত্রিয়াশ কি করতে পারে এটা লিসা খুব ভালো করে জানে।
যত্ন করে তিশা বেগম ছেলের জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে আসেন। আইলিনের কাছে এসে তিশা বেগম কমল স্বরে বলল,
“ আইলিন মা,কফিটা ত্রিয়াশকে দিয়ে আসো। ”
আইলিন হ্যা না কিছু না বলেই কফির মগ টা হাতে নিয়ে চলে গেল ত্রিয়াশকে দিতে। আইলিন ঘরের দরজার কাছে এসে দেখে ত্রিয়াশ সোফার ওপর মাথা হেলিয়ে চোখ বন্ধ করে কপালে হাত দিয়ে বসে আছে। আইলিন ধীরে ধীরে ত্রিয়াশের কাছে এসে ধীর কন্ঠে বলে উঠে।
“ আপনার কফি।”
ত্রিয়াশ সেভাবেই বসে আছে। আইলিন আর একটু জোড়ে বলল।
“ এই নিন, আপনার কফি।”
ত্রিয়াশ চট করে চোখ খুলে আইলিনের দিকে তাকালো। একটু এগিয়ে এসে আইলিনের হাত থেকে কফির মগ টা নিয়ে সেন্টার টেবিলে ঠাশ করে রেখে দিল। ত্রিয়াশ রাগ করে উচ্চ গলায় বলে।
” কেন এসেছো? দূর হও আমার চোখের সামনে থেকে। ”
এই কথাটা আইলিনের বুক চিরে গেল। কান্না গুলো দলা পাকিয়ে গলায় আটকে রইলো — কিন্তু আইলিন মোটেও ত্রিয়াশের সামনে কান্না করবে না। আইলিন বার কয়েক ঢোক গিললো— হঠাৎ আইলিন কিছু বলতে মুখ খুলবে তার আগেই ত্রিয়াশ আবারও আগের ন্যায় বলে উঠে।
“ এতক্ষণ অন্য ছেলের সাথে হাসি তামাশা করতে মুখতো উজ্জ্বল ছিল। স্বামী কে কফি দিতে আসতেই মুখ কালো মেঘে ঢেকে গেল। আই হেট ইউ, আইলিন। ”
আইলিনের গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে অবাধ্য চোখের নোনাপানি। এই তিক্ত কথা আইলিনের মন কে ক্ষতবিক্ষত করলো। আইলিনের গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না তবুও ভাঙা গলায় শক্ত কন্ঠে বলল,
“ আমিও আপনাকে ঘৃণা করি। আপনি আমাকে যতটা বেশি ঘৃণা করেন তার থেকে অনেক অনেক বেশি। ”
আইলিন দাড়ালো না দৌড়ে ঘর থেকে চলে গেল ছাদের দিকে। এতক্ষণ আড়ালে থেকে ইউভি সকল কথায় শুনছিল। ইউভির রাগ লাগছে এই ত্রিয়াশের প্রতি। মেয়েটাকে ভালোবেসে কাছে টেনে নিলে কি হয়? ত্রিয়াশ কেন বুঝেনা আইলিন শুধু তার স্বামীর ভালোবাসা চায় অন্য কারোর না। ইউভি নিজে নিজেই বিরবির করে বলে।
“থাকতে মূল্য দিতে শেখ, ত্রিয়াশ।
ভালোবাসার মানুষ একবার হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজে ফিরেও আর আগের মতো পাওয়া যায় না। শূন্যতা তখন শুধু বুকের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে। তাই সময় থাকতে ভালোবাসাকে আগলে রাখ, অবহেলায় দূরে ঠেলে দিস না। তোর তৃষ্ণান্ত, ক্লান্ত বুকে আইলিনকে জড়িয়ে নে— কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা অপেক্ষা করতে জানে, কিন্তু চিরকাল অপেক্ষা করে না।”
ইউভি সেখানে আর এক মূহুর্তের জন্য দাড়ালো না। মনে মনে কিছু ভাবতে ভাবতেই নিজের ঘরের চলে গেল।
~~~
রাত প্রায় বারোটা বাজে। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু দূরে কোথাও কুকুরের ক্ষীণ ডাকে নীরবতা আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। আকাশভরা চাঁদের আলো ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা আইলিনের মুখে পড়ে তাকে আরও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। অনেকক্ষণ ধরেই সে ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল—নিঃশব্দ, নিশ্চুপ। রাতের খাবারও খায়নি। মন যেন ভারে ডুবে আছে, চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু শুকিয়েও শুকোয় না।
অবশেষে ধীরে ধীরে সে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে। ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখে হালকা আলো জ্বলছে। নরম হলুদ আলোয় ঘরটা শান্ত, কিন্তু সেই শান্তির ভেতরেও যেন এক অদৃশ্য দূরত্বের দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। ত্রিয়াশ বিছানায় পিছ ফিরে শুয়ে আছে। সে ঘুমিয়ে আছে কি না বোঝা যাচ্ছে না, তবে তার স্থির দেহভঙ্গি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—আজ আর কোনো কথা হবে না।
আইলিন কিছু বলে না। কোনো শব্দ না করে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ঘরের এক কোণে রাখা সোফাটায় বসে পড়ে। তার চোখ-মুখ ফুলে গেছে অতিরিক্ত কান্নায়। চোখদুটো লালচে, পাপড়িগুলো ভারী। মাঝে মাঝে নাক টেনে সে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বুকের ভেতরের চাপা কষ্টটা কিছুতেই কমে না।
একসময় আর বসে থাকতে পারে না। ক্লান্ত শরীরটাকে সোফার ওপর এলিয়ে দেয়। মাথাটা কুশনের সঙ্গে ঠেকিয়ে শুয়ে পড়ে চুপচাপ। চোখ বন্ধ করলেও ভেতরের অস্থিরতা থামে না। তবু শরীর তো আর মনের কথা শোনে না—সারাদিনের মানসিক যন্ত্রণা আর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি মিলিয়ে ধীরে ধীরে তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।
কখন যে চোখ লেগে আসে, সে নিজেও টের পায় না। অশ্রুভেজা মুখেই ঘুমিয়ে পড়ে আইলিন।
ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে বসল। এতক্ষণ সে নিঃশব্দে, পিঠ ফিরিয়ে শুয়ে ছিল। ঘরের নরম আলোয় তার ছায়াটা দীর্ঘ হয়ে বিছানার চাদরে লেগে আছে। সে স্পষ্টই টের পেয়েছিল—আইলিন ঘরে এসেছে। দরজা খোলার ক্ষীণ শব্দ, পায়ের মৃদু চলাচল—সবই তার কানে এসেছিল। তবু সে কোনো কথা বলেনি, কোনো সাড়া দেয়নি। বুকের ভেতর জমে থাকা অদ্ভুত এক ভার তাকে নীরব করে রেখেছিল
ত্রিয়াশ নীরবে বিছানা থেকে নেমে আসে। তার পদক্ষেপগুলো ভারী, কিন্তু যত্নশীল। ধীরে ধীরে আইলিনের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। কাছে গিয়ে সে আরও স্পষ্ট দেখতে পায়—আইলিনের চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ, মুখে অব্যক্ত অভিমান আর অবসাদের রেখা। ঘুমন্ত অবস্থাতেও তার মুখটা অদ্ভুত শান্ত লাগছে।
ত্রিয়াশের বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে ওঠে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে—নিঃশব্দ, গভীর। সেই দীর্ঘশ্বাসে যেন অনুশোচনা আছে, মায়া আছে, না বলা হাজারো কথা আছে।
অতঃপর খুব সাবধানে সে আইলিনকে কোলে তুলে নেয়। আইলিন অচেতন ঘুমে সামান্য নড়ে ওঠে, কিন্তু জেগে ওঠে না। ত্রিয়াশ তাকে শক্ত করে নয়, বরং আশ্রয়ের মতো করে আগলে রাখে। কয়েক পা হেঁটে বিছানার কাছে এসে ধীরে ধীরে তাকে শুইয়ে দেয়। বালিশটা ঠিক করে দেয়, চাদর টেনে দেয় বুক পর্যন্ত।
এক মুহূর্ত থেমে সে আইলিনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঘরের আলোয় তার নিঃশ্বাসের ওঠানামা স্পষ্ট দেখা যায়। ত্রিয়াশের চোখে তখন একরাশ কোমলতা। হাত বাড়িয়ে সে আইলিনের কপালের উপর পড়ে থাকা চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দেয়।
এরপর সে নিজেও বিছানার অন্য পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
।
নতুন দিনের সূচনায় সকালটা ছিল অদ্ভুত রকমের শান্ত আর স্নিগ্ধ। জানালার ফাঁক গলে নরম রোদ এসে পড়েছে ড্রয়িং রুমের মেঝেতে, সাদা পর্দাগুলো হালকা বাতাসে দুলছে। বাইরে পাখির কিচিরমিচির, ভেতরে চায়ের কাপে ধোঁয়া—সব মিলিয়ে এক শান্ত, পরিপাটি সকালের আবহ।
বাড়ির সবাই ড্রয়িং রুমে একত্র হয়েছে। কেউ খবরের কাগজে চোখ বুলাচ্ছে, কেউ মুঠোফোনে ব্যস্ত, কেউবা চায়ের কাপ হাতে গল্পে মশগুল। কিছুক্ষণের মধ্যেই যার যার কর্মস্থলে ছুটতে হবে—তাই সকালের এই অল্প সময়টুকুই যেন সবার একসাথে থাকার একমাত্র সুযোগ। তিশা বেগম সোফার একপাশে বসে ধীরে ধীরে চা খাচ্ছেন, মাঝে মাঝে সবার দিকে স্নেহভরা দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন।
ইউভিও সবার সঙ্গে আছে, তবে আজ তার মুখে স্বাভাবিক সেই নিশ্চিন্ত ভাবটা নেই। সে চুপচাপ বসে আছে, কিন্তু মনে যেন ঝড় বইছে। তার বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। সে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিল, যেন নিজেকে সামলে নিচ্ছে।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। পায়ের শব্দ খুব হালকা, কিন্তু তার মনের ভেতরের শব্দ যেন অনেক বেশি জোরে বাজছে। সে এগিয়ে গেল তিশা বেগমের দিকে। তার চোখে তখন একসাথে ভয়, দৃঢ়তা আর ভালোবাসার মিশ্র ছাপ।
ইউভি কোনো কথা না বলে তিশা বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। দু’হাতে তিশা বেগমের হাত ধরে ফেলল। হাত দুটো কাঁপছে সামান্য। আবার একবার গভীর শ্বাস নিল সে। তারপর গলায় জমে থাকা কথাগুলো সাহস করে উচ্চারণ করল—
“মামনি… আমি আইলিনকে ভালোবাসি। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।”
কথাগুলো যেন এক মুহূর্তে পুরো ঘরের বাতাস বদলে দিল। সময় থমকে গেল। কারও হাতে ধরা চায়ের কাপ মাঝআকাশে থেমে রইল, কারও চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল। খবরের কাগজের পাতাটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে এল।
এই এক বাক্য যেন সবার মাথায় বজ্রপাতের মতো আঘাত হানল। সকালের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠল। কেউ কিছু বলছে না, কিন্তু সবার চোখে-মুখে বিস্ময়, প্রশ্ন আর অজস্র অপ্রকাশিত ভাবনা।
ইউভি তখনও তিশা বেগমের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে দৃঢ়তা—সে আজ নিজের ভালোবাসার কথা লুকাবে না। যা-ই হোক, আজ সে সত্য বলেছে।
চলবে,
[ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পদ নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। গল্প দিতে একটু দেরি হয়ে গেছে ]