ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

১৫তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ১৫

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

সময় সকাল সাতটা। পূর্ব আকাশে সূর্যের কোমল আভা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে শহরের ব্যস্ত অট্টালিকাগুলোর ওপর। সোনালি রোদ জানালার ফাঁক গলে ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। বাইরে যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন শব্দ— গাড়ির হর্ন, দূরে কোথাও রিকশার ঘণ্টি—সব মিলিয়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শহর জেগে উঠেছে। নতুন দিনের কোলাহল ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।

এই কোলাহলের মাঝেও ঘরের ভেতর এক অন্যরকম নীরবতা। আইলিন এখনও আধো ঘুমে আচ্ছন্ন। স্বপ্ন আর জাগরণের মাঝামাঝি এক অদ্ভুত অনুভূতিতে তার চেতনা দুলছে। হঠাৎ সে অনুভব করে, তার বুকের ওপর যেন ভারি কিছু চাপা পড়ে আছে। কিন্তু অনুভূতিটা অদ্ভুত—উষ্ণ, নরম, এবং জীবন্ত।

ধীরে ধীরে সে চোখ খুলে তাকায়। সকালের আলোয় দৃশ্যটা পরিষ্কার হতেই আইলিন বিস্ময়ে স্থির হয়ে যায়। ত্রিয়াশ তার বুকের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা আইলিনের ত্বকে লাগছে, প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে হালকা ওঠানামা করছে তার বুক। ত্রিয়াশের চুল এলোমেলো হয়ে আইলিনের গালে ছুঁয়ে আছে, আর মুখে ঘুমের নিষ্পাপ শান্তি।

এক মুহূর্তে আইলিনের ভেতর যেন ঝড় বয়ে যায়। তার হার্টবিট অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এতোদিনেও এমন মুহূর্ত কখনও আসেনি—একবারও নয়। হঠাৎ আজ, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই, এমন কাছাকাছি অবস্থান! বিস্ময়, লজ্জা, আনন্দ আর অচেনা এক কাঁপুনি মিলেমিশে তার বুকের ভেতর ড্রামের মতো শব্দ তুলছে। মনে হচ্ছে, তার হৃদস্পন্দনের শব্দ ঘরের নীরবতা ভেদ করে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে যাবে—রাস্তার ব্যস্ত মানুষজনও যেন শুনতে পাবে সেই তীব্র ধুকপুকানি।

আইলিন নড়তে চায়, কিন্তু সাহস পায় না। যদি ত্রিয়াশ জেগে যায়? আবার মনে হয়, এই মুহূর্তটা কি সত্যিই ঘটছে? নাকি এখনও স্বপ্নের ভেতর আছে সে? তার আঙুলগুলো কাঁপতে কাঁপতে ধীরে ত্রিয়াশের চুলের দিকে এগোয়, কিন্তু স্পর্শ করার আগেই থেমে যায়। বুকের ভেতর শুধু একটাই শব্দ—ধুকধুক, ধুকধুক—আর তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অজানা, মিষ্টি অনুভূতির আবেশ।

আইলিন সাহস করে ত্রিয়াশের মাথাটা সরিয়ে দিতে নেয়, হঠাৎ ত্রিয়াশ ঘুমের মধ্যে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আইলিন কে। আইলিন ফ্রিজ হয়ে যায়। ত্রিয়াশ ঘুমের মধ্যে বিরবির করে বলে।

“ একটু শান্তিতে ঘুমাতে দাও। ”

আইলিনের গলা শুকিয়ে আসছে।এখন যদি ত্রিয়াশ জেগে যায়, ইশ কি লজ্জায় পড়তে হবে। আইলিন লজ্জায় পড়তে চায় না। আইলিন এবার ত্রিয়াশকে বালিশে শুয়ে দিয়ে কোনো রকম ঘর থেকে পালিয়ে গেল। আইলিনের বুকের ধুকপুকানি এখনো কমেনি। এ কেমন অনুভূতি, এ কেমন অস্থিরতা আইলিনের জানা নেই।

~~

ত্রিয়াশ শাওয়ার নিয়ে এসেছে। ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সাদা শার্ট পড়েছে, তবে বোতামগুলো খোলা আছে। হাতে রয়েছে রোলেক্সের ঘড়ি। চুল সুন্দরভাবে সেট করা। সবই নিখুঁত—শুধু বোতামগুলো লাগানো বাকি। ২৯ বছরের জীবনে নিজেই সব বোতাম লাগিয়েছে, কিন্তু এখন বউ হয়েছে, তাই মনে করছে, বোতাম লাগানোও বউয়ের কাজ।

এতক্ষণ ত্রিয়াশ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ আয়নায় আইলিনের মুখ দেখতে পায়। আইলিনও ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ত্রিয়াশ লক্ষ্য করলো, আজ আইলিনের চোখ-মুখে লাজ — শুধু লাজ না এ যেন লাল নীল লাজুক লতা।

আইলিন নিজের ব্যাগ গোছাচ্ছে। ত্রিয়াশ আইলেন কে ডেকে উঠে।

“ আইলিন! ”

আইলিন চমকে গেল। সকালের ঘটনা নিয়ে আবার কিছু টিছু বলবে নাকি ভেবে আইলিনের গলা শুকিয়ে আসছে। এই লোক আবার লজ্জা টজ্জা দিবে নাকি। আইলিন সাত পাচ ভাবছে। এরপর আবারও ডাক পরে।

“ আইলিন! ”

আইলিন সঙ্গে সঙ্গে উত্তর করলো।

” হুম। ”

“ এদিকে আসো। ”

আইলিন ভয়ে ভয়ে ত্রিয়াশের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। ত্রিয়াশের এরপরের বাক্য শোনার জন্য আইলিন যেন প্রস্তুত ছিল না। ত্রিয়াশ স্বাভাবিক ভাবে বলে।

“ কাছে এসে দাড়াও। শার্টের বোতাম গুলো লাগিয়ে দাও। ”

এমনিতেই আইলিন সকাল থেকে লজ্জা পাচ্ছে। এ-র মধ্যে এখন ত্রিয়াশ শার্টের বোতাম লাগাতে বলছে। এ কেমন অত্যাচার আইলিন বুঝতে পারছে না। ত্রিয়াশ এবার একটু হালকা ধমকে বলে।

“ কি হলো, খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে না থেকে জলদি করো দেরি হচ্ছো। ”

আইলিনও ত্রিয়াশের কথা মতো শার্টের বোতাম গুলো লাগাতে শুরু করে। একে একে প্রায় সবগুলো লাগায় শুধু বুকের কাছে দুটো বাকি আছে। ত্রিয়াশের থেকে আইলিন শর্ট। আইলিন পা দুটো উচু করে লাগানো শুরু করে। আইলিনের সুবিধার জন্য ত্রিয়াশ আইলিনের কোমড় জড়িয়ে ধরে উচু করে। আইলিনের লজ্জা লাগে আবার ত্রিয়াশের পারফিউমের ঘ্রাণে মাতাল মাতাল লাগছে। মনে হচ্ছে ওই প্রশস্ত বুকে নাক ডুবিয়ে ঘ্রাণ নিতে। ত্রিয়াশ একটু ঝুকে ফিসফিস করে বলে,

“ তোমার বুকের মধ্যে যে ড্রাম বাজছে, তাকে বলো আস্তে শব্দ করতে। বাইরের লোকজন শুনবে তো। ”

আইলিন সঙ্গে সঙ্গে নিজের বুকে হাত রাখলো। আসলেই কি খুব বেশি শব্দ হচ্ছে। আইলিনের কান্ডে ত্রিয়াশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। আইলিনকে লজ্জা দিতে ত্রিয়াশ আবারও বলে।

“ তোমার মন চাচ্ছে আমার বুকে নাক ডুবিয়ে ঘ্রান নিতে। ত্রিয়াশকে কাছে পেতে মন চাচ্ছে। ”

আইলিন ত্রিয়াশের কাছে থেকে দূরে সরে এসে আমতা আমতা করে বলে।

“ আ..আপ..আপনাকে কে বলেছে? ”

“ জানি আমি। ”

“ মোটেও নাহ। আপনার মতো গোমড়ামুখোর কাছে এসব আশা করি নাহ। ”

আইলিন আর দাড়ালো না। ব্যাগটা নিয়ে কোনো রকম ঘর থেকে চলে গেল। ত্রিয়াশের সামনে আর এক মূহুর্ত থাকা যাবে না।

আইলিনের চলে যাওয়া দেখে ত্রিয়াশ ফিক করে হেসে ফেলে।

~~~

পৃথাকে আইলিনের কাছে আজ ভীষণ সুন্দর লাগছে। যেন তার সৌন্দর্যের এক নতুন রূপ ফুটে উঠেছে। সত্যিই, মেয়েদের জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়—বিয়ে—তাদের মাঝে এক অন্যরকম দীপ্তি এনে দেয়। শুধু সাজসজ্জা নয়, মনের ভেতরের প্রশান্তি, ভালোবাসা আর নিরাপত্তার অনুভূতিই যেন তাদের মুখে আলাদা এক আলো ছড়িয়ে দেয়।

মনে হয়, স্বামীর যত্ন আর ভালোবাসা মেয়েদের সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। সেই যত্নে থাকে নিশ্চিন্ততা, থাকে আপন করে নেওয়ার আশ্বাস; আর সেই ভালোবাসায় ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাস, কোমলতা আর গভীর প্রশান্তি। পৃথার মাঝেও আজ সেই তৃপ্তির ছাপ স্পষ্ট। তার চোখেমুখে এক প্রশান্ত হাসি, যেন জীবনের নতুন পথচলার আনন্দ সেখানে নীরবে কথা বলছে।

পৃথা নিঃসন্দেহে একজন ভালো জীবনসঙ্গী পেয়েছে—এ কথা তার অবয়বই বলে দিচ্ছে। তার মুখের উজ্জ্বলতা, ভরসাভরা দৃষ্টি আর স্বতঃস্ফূর্ত হাসি প্রমাণ করে, সে ভালোবাসায় ঘেরা। বিশেষ করে তার নাকের ফুলটা ঝকঝক করে জ্বলছে, যেন তার সৌন্দর্যের সঙ্গে এক অপূর্ব সামঞ্জস্য তৈরি করেছে। ছোট্ট সেই অলংকারটিও আজ আলাদা করে নজর কাড়ছে, তার লাবণ্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আইলিন কে নিজের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে পৃথা ভ্রু নাচিয়ে বলল,

“ কি দেখছিস?”

“ তোকে। ”

“ আজ নতুন দেখছিস। ”

“ নাহ, তবে আজ নতুন ভাবে দেখছি। তোকে আজ মিষ্টি বউ বউ লাগছে। তোরা দুজন খুব ভাগ্যবান। তোদের জুটিটা বেশ মানিছে। ”

পৃথা আইলিনকে নিয়ে শান দিয়ে বাধায় করা স্থানে বসে পড়ে। পৃথা আইলিনের দিকে তাকিয়ে বলে।

“ জুটি তো উপর ওয়ালা ঠিক করেন। ওই একই কথা আমিও বলতে চাই, ত্রিয়াশ স্যারের পাশে তোকে অনেক সুন্দর লাগে। যাকে ইংরেজিতে বলে মেইড ফর ইচ আদার। ”

আইলিন সামনে তাকিয়ে দেখে ত্রিয়াশ হাতে কিছু ফাইল নিয়ে প্রিন্সিপালের রুমের দিকে যাচ্ছে। ত্রিয়াশকে দেখে আইলিন মুচকি হাসলো, যা পৃথার চোখ এড়ালো না। পৃথা দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে।

“ উহুম উহুম, বান্ধবীর মন উড়ু উড়ু করছে। ”

আইলিন অপ্রস্তুত হয়ে এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখে। পৃথা একটু ঝুকে এসে বলে।

“ বান্ধবী, দুলাভাই দিনে কয়বার গোসল করাই। ”

আইলিন প্রথমে পৃথার কথা বুঝেনি,যখন বুঝলো চোখ পাকিয়ে বলে।

“ অসভ্য মাইয়া ভালো হো।”

“ বান্ধবীদের কাছে কখনো ভালো হতে নেই। এদের সাথে সবসময়ই অসভ্য করতে হয়। ”

তাদের কথা মধ্যে আহান স্যার চলে আসে। আহান তাদের দিকে এগিয়ে এসে আইলিনকে দেখে লম্বা হাসি মুখে রেখে বলে।

“ শালিকার কি খবর? ”

“ আলহামদুলিল্লাহ, আপনার? ”

আহান পৃথার দিকে তাকিয়ে বলে।

“ হুম,আমিও ভালো।

টুকটাক কথা শেষ করে পৃথাকে উদ্দেশ্যে করে বলে,

“ পৃথা তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে একটু আসো।”

আহান স্যার চলে যায়। আইলিন পৃথার কানের কাছে এসে বলে,

“ যা, তোকে গোসল করাবে।”

“ ভালো হয়ে যা, আইলিন।”

“ বান্ধবীদের কাছে কখনো ভালো হতে নেই। ”

পৃথার কথা পৃথাকে ফিরিয়ে দিল। পৃথা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেল।

এদিকে আইলিন একা একা বসে আছে। আইলিন হঠাৎ অনুভব করে তার পাশে কেউ বসে আছে। আইলিন ফিরে দেখে ইউভি। আইলিন মুখ ঘুরিয়ে নেয়। কালকের ঘটনার পর আইলিন আর ইউভির সাথে কথা বলছে নাহ। এখন যদি ত্রিয়াশ দেখে আরেক ঝামেলা করবে।আইলিন উঠে পরে, ইউভি আইলিনের সামনে দাড়িয়ে পড়ে বলে,

“ আইলিন,আমাকে ভুল বুঝো না।আমি তোমাকে ভালোবাসি না। কালকের জন্য সরি। তোমাকে একটা সত্যি কথা বলি, যা কাউকে বলা হয়নি। আমি নিশি কে ভালোবাসি। ”

আইলিন চমকে ইউভির দিকে তাকালো। ইউভি বুঝতে পারছে আইলিন অবাক হয়েছে। ইউভি আবারও বলে।

“ কাল প্র্যাঙ্ক করিছি। আসলে নিলয় ভাইয়ের সাথে বাজি ধরে প্র্যাঙ্ক করেছি। ”

“ তাই বলে এমন প্র্যাঙ্ক কেউ করে। আর একটু হলেই আমার সংসার ভাঙ্গত।”

“ ভাঙ্গেনি তো, বরং ত্রিয়াশ আজকে অন্য রকম ব্যবহার করেছে। ”

আইলিন আর কিছু বললো না। দুজনেই টুকটাক কথা বলছে। তাদের দুজনকে ত্রিয়াশ একসাথে দেখে রেগে এদিকে আসে। রাগে মুখ রক্তিম বর্ণের হয়েছে। ত্রিয়াশ ইউভির সামনে দাড়িয়ে বলে,

“ এখানে তোর কি কাজ? ”

“ এমনি আসছিলাম। ”

“ এমনি কেউ আসে? ”

এর মধ্যে নিশি আর নিভান চলে আসে। নিশি একটু ভয়ে বলল,

“ আমিই আসতে বলেছি। আসলে আজকে একটু আমরা সকলে বাহিরে খেতে যাবো। ”

ত্রিয়াশ কিছু বললো না। তবে আইলিনকে তাদের সাথে একা ছাড়বে না। তাদের সাথে ত্রিয়াশও যোগ হয়। এটা দেখে ইউভি ঠোঁট চেপে হাসলো।

পৃথা আহান স্যারও কথা শেষ করে চলে আসে। এই মূহুর্তে সকলে চললে বাহিরে খেতে। তবে শর্ত কোনো বড় রেস্টুরেন্টে না, আজকে রাস্তার ধারে বসা ফাস্ট ফুড খাবে। এটা শুনে ত্রিয়াশ নাক কুচকালেও যাবে। মোদ্দাকথা আইলিনকে একা ছাড়বে না।

ইউভি কপাল চুলকে নিজে নিজেই বিরবির করলো,

“ পোড়া পোড়া গন্ধ পাচ্ছি। ভালোবাসিস তবুও শিকার করিস না। মির্জা সাহেব কে দিয়ে শিকাক্তি করাবো। ”

চলবে,

[ ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পদ নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন