গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ১৯
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
এইমাত্র পর পর তিনটি বড় গাড়ি এসে থামল গ্রামের বিশাল বাড়িটির সামনে। বাড়িটির নকশা দেখলেই বোঝা যায়, এটি অনেক পুরোনো—দেখতে যেন একেবারে রাজবাড়ির মতো। এই বাড়ি ত্রিয়াশে দাদা প্রাচীন আমলে গড়েছিলেন। সময় তখন সন্ধ্যা ছয়টা। চারপাশে নরম আলো নেমে এসেছে, আর সেই আলোয় বাড়িটা আরও গম্ভীর ও রহস্যময় লাগছে।
এক এক করে সবাই গাড়ি থেকে নামতে শুরু করল। আইলিন তখনও ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ ঘুম ভেঙে সে বুঝতে পারল, এতক্ষণ সে ত্রিয়াশের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিল। বিষয়টা টের পেয়ে সে একটু লজ্জা পেল। আস্তে করে সরে গিয়ে মাথায় আচল টেনে নিল, তারপর ধীরে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল।
এরই মধ্যে বাড়ির বড়রা ভেতরে ঢুকে গেছেন। বিশাল বাড়িটিতে দেখাশোনার দায়িত্বে আছে রহিম মিয়া। সে তার পুরো পরিবারসহ এখানেই থাকে। মির্জা পরিবারের সবাই তাকে আপনজনের মতোই মনে করে। টানা বিশ বছর ধরে রহিম মিয়া বিশ্বস্ততার সঙ্গে এই বাড়ির দেখভাল করে আসছে। এই বাড়ির প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে যেন তারও এক গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে সবাই গ্রামে পৌঁছেছে। দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তি এখন সবার চোখেমুখে স্পষ্ট। তাই ঠিক হলো, আগে সবাই নিজ নিজ ঘরে গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নেবে, তারপর একসাথে বসে খাবার খাওয়া হবে। তাদের সঙ্গে জড়িনাকেও নিয়ে আসা হয়েছে। একে একে সবাই নিজেদের বরাদ্দকৃত ঘরে চলে গেল।
এদিকে রহিম মিয়ার স্ত্রী ফরিদা আর মেয়ে রিদিশা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে খাবার টেবিল সাজাতে। আজকের আয়োজনটা একটু বিশেষ। অতিথিদের জন্য তারা রান্না করেছে নানা ধরনের নদীর মাছ—টাটকা ইলিশ, রুই, কাতলা আর শোল মাছের সুস্বাদু পদ। রান্নাঘর জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে মসলার ঘ্রাণ, যা সবার ক্ষুধা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মির্জা পরিবারের সদস্যদের আনন্দ যেন একটু বেশিই। কারণ বহু বছর পর তারা গ্রামের বাড়িতে প্রথম রোজা পালন করবে। সেই অনুভূতিতে সবার মনেই এক ধরনের আনন্দ আর উচ্ছ্বাস কাজ করছে।
রহিম মিয়ার ছেলে রাফসান সবার ব্যাগপত্র যার যার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। বাড়ির বড় ছেলে হিসেবে সে দায়িত্ব নিয়ে সবকিছু গুছিয়ে দিচ্ছে। নাহিদ মির্জা রাফসান আর রিদিশাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক, তবুও হালকা ঠান্ডা এখনো টিকে আছে। গ্রামের খোলা হাওয়ায় মাঝে মাঝে শীতল বাতাস বইছে, চারপাশে এক ধরনের নীরব শীতলতা ছড়িয়ে আছে।
আইলিন সবে ফ্রেশ হয়ে শাড়ি বদলে থ্রি-পিস পরেছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে চুল আঁচড়াচ্ছে। তার ভঙ্গিতে একরকম উদাসীনতা, যেন আশপাশে কী ঘটছে তা তার কাছে গুরুত্বহীন।
ত্রিয়াশ খাটের উপর বসে চুপচাপ তাকে দেখছিল। কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে উঠে এসে আইলিনের ঠিক পেছনে দাঁড়াল। কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“পাঞ্জাবির বোতামগুলো খুলে দাও।”
আইলিন কোনো উত্তর দিল না। যেন শুনতেই পায়নি—নিজের মতো করেই চুল আঁচড়াতে থাকল।
ত্রিয়াশ একটু বিরক্ত হয়ে আবার বলল,
“কী হলো? কথা কানে যায় না? বোতামগুলো খুলে দাও।”
আইলিন এবার শান্ত কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল,
“আমি আপনার কেউ না যে আপনার কাজ করবো।”
কথাটা শুনে ত্রিয়াশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আর কিছু বলল না। নিজের বাম হাত দিয়েই ধীরে ধীরে পাঞ্জাবির বোতাম খুলতে লাগল। ডান হাতটা কাটা থাকায় ঠিকমতো কোনো কাজই করতে পারছে না। অনেক কষ্টে ছাই রঙের টি-শার্ট আর ট্রাউজার হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।
আইলিন একবার তার যাওয়ার দিকে তাকাল। চোখে এক ঝলক অদ্ভুত অনুভূতি ভেসে উঠলেও মুহূর্তেই সে মুখ ফিরিয়ে নিল।
~~
রাতের খাবারের সময় পুরো বাড়িটা যেন একসাথে প্রাণ ফিরে পেল। বিশাল ডাইনিং টেবিল ঘিরে সবাই বসেছে একসাথে। রাতের খাবারটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে—কারণ আবার সেহেরির জন্য উঠতে হবে ভোরে।
নিশি আর ইউভি পাশাপাশি বসেছে। ইউভির ঠিক সামনে রিদিশা, তার পাশে নিয়তি, নিভান—এক এক করে সবাই জায়গা নিয়েছে। আইলিন আর ত্রিয়াশও পাশাপাশি বসেছে, ত্রিয়াশের ডান পাশে লিসা। আইরা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এতটা পথ জার্নি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় সে নিচে নামেনি। নিলয় এক প্লেটে করে নিজের আর আইরার জন্য খাবার ওপরে নিয়ে গেছে।
সবাই অনেক মজা করে খেতে শুরু করেছে। শুধু ত্রিয়াশ একটু চুপচাপ। কাটা হাতটা নিয়ে অস্বস্তিতে আছে, তবুও মুখে গম্ভীর ভাব ধরে রেখেছে।
এদিকে আইলিন মাছ বেছে খেতে পারে না। তাই সে শুধু মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাচ্ছিল। সাধারণত আইরা পাশে থাকলে মাছ বেছে দিত, কিন্তু আজ সে নেই। বিষয়টা চোখ এড়াল না তিশা বেগমের।
ভ্রু কুঁচকে তিনি বললেন,
“আইলিন, তুমি মাছ খাচ্ছো না কেন?”
হঠাৎ প্রশ্নে আইলিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। লজ্জায় ইতস্তত করে বলল,
“আসলে মা, আমি মাছ বেছে খেতে পারি না।”
তিশা বেগম সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
“আমাকে আগে বলবে না? আমি মাছ বেছে দিচ্ছি। তুমি খাও, আর ত্রিয়াশকেও খাইয়ে দাও।”
শাশুড়ির কথার ওপর না বলতে পারল না আইলিন। হালকা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
মায়ের কথা শুনে ত্রিয়াশের মনটা ভরে উঠল অদ্ভুত এক ভালোলাগায়। তবে সে কিছুই প্রকাশ করল না। বাইরে থেকে আগের মতোই গম্ভীর, স্থির—কিন্তু ভেতরে ভেতরে নীরব আনন্দে ভরে উঠল তার মন।
এত মানুষের সামনে ত্রিয়াশকে খাওয়াতে গিয়ে আইলিন ভীষণ লজ্জা পাচ্ছিল। কিন্তু শাশুড়ির কথা তো আর ফেলা যায় না—তাই চুপচাপ বসে তাকে খাইয়ে দিচ্ছিল। ত্রিয়াশও যেন সুযোগ পেয়ে আরও দুষ্টুমি শুরু করল। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে সে বারবার আইলিনের হাতে কামড় বসাচ্ছিল। প্রথমে আইলিন ভেবেছিল, হয়তো ভুল করে লেগেছে। কিন্তু যখন দেখল একই ঘটনা বারবার ঘটছে, তখন বুঝতে পারল—এটা ত্রিয়াশের ইচ্ছে করেই করা দুষ্টুমি।
চারপাশে এত মানুষ থাকায় সে কিছু বলতে পারল না। এমনিতেই অস্বস্তিতে ছিল, তার ওপর কিছু বললে যদি সবাই তাকায়—এই ভেবেই চুপ করে রইল। কষ্ট আর লজ্জা চেপে রেখে কোনো রকমে খাওয়ানো শেষ করল। তারপর আর এক মুহূর্তও সেখানে না থেকে ধীর পায়ে নিজের ঘরে চলে গেল।
রাত আটটার মতো বাজে সবাই মিলে একটু আড্ডা দিচ্ছে। ফরিদা বেগম চা করে দিয়েছে জড়িনা আর রিদিশা সকলের হাতে হাতে দিয়ে দিল। কাল থেকে রোজা থাকতে হবে এই জন্য রাফসান গাছের ডাব নিয়ে আসছে। বর্তমান তারা ডাব খাচ্ছে আর গল্প গুজব করছে। ত্রিয়াশ প্রথমে ছাদে আসতে চায়নি তার আইলিনের সাথে কথা বলাটা প্রয়োজন ইউভি আর রাফসান জোর করে নিয়ে আসছে। আইলিন ঘরে আছে নিয়তি ডাকতে গিয়েছিল বলেছে,' মাথা ব্যাথা করছে'। নিয়তি আর বিরক্ত না করে চলে আসে।
~~
আইলিন চুপচাপ শুয়ে আছে। তার কাছে কিছুই ভালো লাগছে না। মনটা অকারণে অস্থির হয়ে উঠেছে। তার মনে হচ্ছে চারপাশে কেউ নেই শুধু একাই অন্ধকারে পড়ে আছে। তার খুব কান্না পাচ্ছে। অন্য পাঁচ দশটা দাম্পত্যির মতো তার আর ত্রিয়াশের জীবন কেন স্বাভাবিক না? কেন সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল পরে আছে? বারংবার সেই মোবাইলের ফটো গুলো মনে পড়ছে। চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। একফোঁটা নোনাপানি গড়িয়ে পড়ে বালিশ ভিজে গেল।
পৃথা দরজা পর্যন্ত এসে দেখে আইলিন শুয়ে আছে। অনেকটা পথ জার্নি করে ঘুমিয়ে পড়েছে বিধায় আর বিরক্ত করলো না। দরজার কাছ থেকে পৃথা চলে গেল।
করিডোর পেড়িয়ে হাসি মুখে কারোর সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে এদিকে যাচ্ছিল লিসা। আইলিন কে ঘরে শুয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গেল। কল কেটে দিয়ে সোজা আইলিনের ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল। আইলিন কে দেখে মনে মনে শয়তানি হাসি হাসলো। আইলিনের চোখের পাতা নড়ছে, বুঝলো ঘুমায়নি। আইলিনের মাথার কাছে এসে পাশে বসে আস্তে করে ডাকলো,
“ আইলিন। ”
আইলিন চট করে চোখ খুলে তাকালো। লিসাকে এই মূহুর্তে তার দেখতে মন চাচ্ছে না। লিসার চেহারাটা দেখলেই গত রাতের কথা মনে পড়ে। আইলিন শোয়া থেকে উঠে বসে, শক্ত গলায় বলে,
“কিছু বলবেন? ”
“ হ্যাঁ, কালকের কথা বলতে আসলাম। তুমি এখন বিশ্বাস করেছো তো আমি মিথ্যা কথা বলিনি। ”
আইলিন ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বলে,
“ এধরনের ছবি ভিডিও তো অসংখ্য তৈরি করা যায়। আপু, এখন এআই এর যুগ যখন তখন এধরনের ছবি ভিডিও তৈরি করা যায়। বিশ্বাস ঐ দিনই করবো যেদিন নিজের চোখে দেখবো। এখন আসতে পারেন, আমি একা থাকতে চাই। ”
লিসা আর একটা বাক্য ব্যয় করলো না। সুড় সুড়িয়ে চলে গেল। মনে মনে আইলিন কে গালি দিল। এই মেয়ে ভাঙ্গবে তবুও মচকাবে না ভালোই বুঝলো। লিসার রাগ লাগছে এত কিছু করেও যেন কিছু করতে পারলো না।
লিসা চলে যেতেই আইলিন মাথা চেপে ধরে বসে থাকে। খুব সহজেই বলে দিল ছবি গুলো এআই দিয়ে করা অথচ তার ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে,মানতে পারছে না। তার মন বলছে এই নিয়ে ত্রিয়াশের সঙ্গে কথা বলা উচিত। যদি এমন কিছু থেকে থাকে তাহলে সে তাদের জীবন থেকে চলে যাবে। কখনো ফিরবে না এই নীড়ে।
রাত প্রায় নয়টা বাজে ত্রিয়াশ মাত্র ঘরে আসলো, তারা সবাই গ্রামের মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিল। নামাজ শেষ করে ঘরে এসে দেখে, আইলিন খাটের হেড বোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। কেমন ক্লান্ত লাগছে, বুকের মধ্যে ছ্যাত করে উঠে। আইলিন তাকে ভুল বুঝেছে এমনকি এখনো বুঝছে। আইলিন কে সে কিছু বলতে চায়। ধীর পায়ে এগিয়ে এসে নরম কন্ঠে ডেকে উঠে,
“ আইলিন। ”
আইলিন আগের মতো বসে আছে। আবারও আগের মতো আবেগ মিশিয়ে নরম কন্ঠে ডেকে বলল,
“ আইলিন, মন খারাপ। কি কারণে মন খারাপ আমাকে কি বলা যায় না? আমি সব ঠিক করে দিবো। ”
চোখ বন্ধ অবস্থায় প্রশ্ন করে,
“ আপনি লিসা আপুকে ভালোবাসেন? ”
ত্রিয়াশ এই কথা শুনে শক্ত করে চোখ বন্ধ করে ফেলে। এমন প্রশ্ন করবে এটা আগেই জানা ছিল। জীবনের এমন কথা থাকে যা সবসময় সব পরিস্থিতিতে বলা সম্ভব হয় না। ত্রিয়াশের ক্ষেত্রেও তেমনি। ত্রিয়াশের দিক থেকে কোনো উত্তর না আসায়, আইলিন আবারও বলে,
“ মির্জা সাহেব, আপনার নীরবতা অনেক প্রশ্নের উত্তর দিল। ”
ত্রিয়াশ খাটের এক পাশে বসে পড়ে। আইলিনের গালে হাত দিয়ে বলে,
“ আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই। ”
“ ছুবেন না আমায়, সবকিছু বিষাক্ত লাগছে। আপনার ছোঁয়া আমি নিতে পারছি না। ”
ত্রিয়াশ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল আইলিনের দিকে। কথাগুলো শুনে সে অবাক হয়নি—বরং যেন আগে থেকেই জানত, এমন কিছু তাকে শুনতেই হবে। তবু বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকার করে উঠল।
মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো, আইলিনের হাত নিজের দুই হাতের মধ্যে নিয়ে নরম কন্ঠে বলে,
“ আমার কথাটা শোনো, প্লিজ! ”
আইলিন ঝটকা মেরে হাত সরিয়ে নিল।
আইলিনের এ ব্যবহার ত্রিয়াশকে কষ্ট দিচ্ছে। অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে, তার অভিমানি বউটার দিকে। আইলিন নিজের চোখের পানি মুছে শক্ত গলায় বলে,
“ আপনার কোনো কথা আমার শোনার ইচ্ছে নেই। আপনি ওই লিসা কে ভালোবাসেন, সেটা আপনার ব্যবহারে বোঝা যায়। ভালোবাসেন বলেই সিলেট পিকনিকে ওই মেয়েও গিয়েছিল। ”
আইলিন ডুকরে কেঁদে উঠে। কেন কাদছে? সে জানে না। সে তো ত্রিয়াশকে ভালোবাসে না তবুও কেন কষ্ট হচ্ছে? নাকি তিন কবুলের বন্ধনে ভালোবাসা টা সৃষ্টি হয়েছে। কান্নার ফলে কথা বোঝা যায় না, তবুও কান্না করতে করতে বলে,
“ খুব কি দরকার ছিল জোর করে আমার নামে তিন কবুল বলা। কেন এই বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। যে বন্ধনে ভালোবাসা নেই আছে শুধু দায়বদ্ধতা। আমি না এসব দায় দায়িত্ব চাই না, আমি ভালোবাসা চাই, যত্ন চাই, হাত ধরে বৃদ্ধ বয়সে চলতে চাই। কিন্তু... কিন্তু আপনার কাছে এগুলো নেই। চলে যান আমার চোখের সামনে থেকে। ”
হাঁটুতে মুখ রেখে শব্দ করে কান্না করছে। আইলিনের বুকেতে মনে হচ্ছে কেউ হাজার কেজি পাথর তুলে রাখছে। এত কেন কষ্ট হচ্ছে? আইলিনের এই কথা, এই কান্না ত্রিয়াশকে ভেতর থেকে তোলপাড় করছে। ত্রিয়াশ উঠে বেলকনিতে চলে গেল। বেলকনির গ্রিল ধরে আকাশ পানে তাকিয়ে আছে। ওই ছোট মেয়েটাকে কি খুব বেশি কষ্ট দিচ্ছে। ত্রিয়াশ চোখ বন্ধ করে গ্রিলে মাথা ঠেকিয়ে বিড়বিড় করে,
“ভালোবাসি কি না জানি না, তবু তোমার কান্না সহ্য করতে পারছি না। তোমার চোখের প্রতিটি অশ্রু আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করছে। তোমার দুঃখে আমার ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। হয়তো এ অনুভূতির নাম এখনো দিইনি ভালোবাসা। তবু তুমি কাঁদলে, আমার পৃথিবীর সব আলো নিভে যায়।”
চলবে,,
[ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]