গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ২১
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
তাড়াহুড়ো করে ছাদের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল ত্রিয়াশ। তার মাথায় একটাই চিন্তা—যেভাবেই হোক আইলিনের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নিতে হবে আজই। এতদিনের দূরত্ব আর ভুল ধারণা যেন তাদের সম্পর্কটাকে গ্রাস না করে। দ্রুত পায়ে নামতে নামতে তার ভেতরে অস্থিরতা আরও বাড়ছিল।
ঠিক তখনই পেছন থেকে এসে লিসা তার হাত চেপে ধরে। আকস্মিক স্পর্শে থমকে দাঁড়ায় ত্রিয়াশ। মুহূর্তেই তার মুখ রাগে রক্তিম হয়ে ওঠে। সে হাত ঝটকা মেরে সরিয়ে নিতে চাইলে লিসা আরও শক্ত করে ধরে ফেলে। কাঁপা অথচ জেদি কণ্ঠে বলে ওঠে,
“আমি তোমাকে ভালোবাসি, ত্রিয়াশ। তুমি শুধু আমার।”
কথাগুলো যেন আগুনে ঘি ঢালে। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ত্রিয়াশ বাম হাতে সজোরে একটি থাপ্পড় বসিয়ে দেয় লিসার গালে। দাঁত চেপে, রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলে,
“এই নাভিয়ান ত্রিয়াশ মির্জা তার স্ত্রীর ছাড়া আর কারোর নয়। কান খুলে শুনে রাখো—মির্জা বাড়িতে দ্বিতীয় বিয়ের কোনো স্থান নেই। আমরা আমাদের একমাত্র স্ত্রীকেই প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি।”
কথা শেষ করেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না সে। হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায়, তার একমাত্র লক্ষ্য আইলিন।
অন্যদিকে লিসা গালে হাত দিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। চোখেমুখে অপমান আর ক্রোধের ছাপ স্পষ্ট। ঠোঁট কামড়ে ধীরে ধীরে বিড়বিড় করে বলে,
“আমিও দেখব কতদিন সংসার টেকে। লিসা তার উদ্দেশ্য সফল না করে ফিরবে না।”
ত্রিয়াশ তাড়াহুড়ো করে করিডোর পেরোতে গিয়েই হঠাৎ তার বাবার সামনে পড়ে গেল। তাকে দেখে নাহিদ মির্জার মুখে একগাল হাসি ফুটে উঠল। স্নেহভরে ছেলের কাঁধে হাত রেখে তিনি বললেন,
“তুমি এখানে চলো, বাপ–বেটা নামাজটা পড়ে আসি।”
ত্রিয়াশ কিছু বলতে মুখ খুলতেই না খুলতেই ইউভি, নিভান, আহান—এমনকি বাড়ির অন্য ছেলেদেরও সেখানে এসে হাজির হতে দেখা গেল। মুহূর্তেই পরিবেশটা যেন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠল। সবার মুখে হাসি, চোখেমুখে একরাশ উচ্ছ্বাস।
এরপর সবাই একসাথে পাশের মসজিদের দিকে রওনা হলো নামাজ আদায়ের জন্য। একসঙ্গে নামাজে যাওয়ার সেই অনুভূতি সত্যিই আলাদা—ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা আর শান্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। যেন ছোট্ট একটি পথচলাই হয়ে উঠল হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো একটি সুন্দর মুহূর্ত।
এদিকে বাড়ির সব মহিলারা এক ঘরে একসাথে নামাজ আদায় করতে বসেছে। দৃশ্যটা দেখে আইলিনের মনটা ভরে গেল। তার কাছে যৌথ পরিবার মানেই একসাথে থাকা, একসাথে ইবাদত করা, একসাথে সুখ–দুঃখ ভাগ করে নেওয়া। এই মিলেমিশে থাকার অনুভূতিটা তাকে ভীষণ টানে।
ফজরের নামাজ শেষ করে সবাই কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করল। ভোরের নরম, পবিত্র সময়টুকু যেন আরও প্রশান্ত হয়ে উঠল। তারপর যে যার ঘরে চলে গেল—এখন একটু ঘুমানোর সময়, তেমন আর কোনো কাজও নেই। ঘুমকাতুরে পৃথা সবার আগে ঘুমাতে গেল। নিয়তি আর নিশিও ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়ল।
আইলিন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর নিজের ঘরে এসে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। সকালের স্নিগ্ধ আলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। পাখিদের কিচিরমিচির ডাক ভোরের নিস্তব্ধতাকে মধুর করে তুলেছে। এই ভোরের আলো তার খুব প্রিয়—মনে হয় যেন নতুন করে শুরু করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে।
হঠাৎ করেই কী এক অচেনা ভাবনা তার মনে উঁকি দিল। মুহূর্তেই মুখে নেমে এল বিষাদের ছায়া। চোখের কোণে অশ্রু জমে উঠল, ঠোঁট দু’টি কেঁপে উঠল। ঠোঁট চেপে সে কান্না থামানোর চেষ্টা করল। বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে দূরের একটি নারিকেল গাছের ডালে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসার দিকে তাকিয়ে সে আস্তে করে বিড়বিড় করে বলতে লাগল,
“ভাবিনি ভালোবাসবো কখনও, তবু হঠাৎই তুমি হলে আপন। অচেনা পথের বাঁকে দাঁড়িয়ে মনটা কেন যে হলো গোপন বন্ধন। কষ্ট যতই গভীর হোক, মন বলে ছাড়তে পারব না, ভালোবাসা মানেই নতুন প্রহরের অপেক্ষা। ”
কথাগুলো বলেই নিজের চোখের পাতা বন্ধ করে নিল। গাল বেড়ে গড়িয়ে পড়লো নোনাপানি। বারান্দার গ্রীলে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। মাথাটা ভারী লাগছে একটু ঘুমানো দরকার। আইলিন একটু পিছাতেই শক্ত পোক্ত কিছু সাথে ধাক্কা খায়। পিছনে তাকিয়ে দেখে ত্রিয়াশ দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গেই আইলিন চোখ সরিয়ে নিল। কখন এসে সে জানে না। তার বিড়বিড় করে বলা কথাগুলো শুনেছে কি না বুঝলো না। মাথা নিচু করে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় সঙ্গে সঙ্গে ত্রিয়াশ হাত টেনে ধরে। এমন হাত ধরা আইলিনের পছন্দ হলো না, ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো,কিছু বলতে চেয়েও পারলো না। গলা দিয়ে যেন কথা বের হচ্ছে না। কয়েবার শুকনো ঢোক গিললো। অনেক কষ্টে আস্তে করে বলে,
“ হাত ছাড়েন, ভালো লাগছে না। ”
“ কি হয়েছে? ”
“ মাথা ব্যথা করছে। ”
ত্রিয়াশ কিছু বললো না। হাত ছেড়ে দিল, আইলিন গিয়ে শুয়ে পড়ে। রোজা না হলে ঔষধ খাওয়া যেত,তাই এখন ঘুমাও প্রয়োজন। ত্রিয়াশ আস্তে ধীরে এসে আইলিনের পাশে খাটের হেড বোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে বসে। কোনো অনুমতি ছাড়া আইলিনের মাথা টিপে দিতে থাকে। এমন ঘটনায় আইলিন হকচকিয়ে উঠে, চোখের পাতা খুলে কপালে ভাজ ফেলে বলে,
“ কি করছেন টা কি? ”
“ বউয়ের সেবা। ”
“ দরকার নেই, হাত সরান! "
“ আমার অসুস্থ বউয়ের সেবা আমি করবো , এতে তোমাকে কে কথা বলতে বলেছে? চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকো।”
আইলিনও আর কথা বাড়ালো না। যত কথা বলবে ততই কথা বাড়বে। এছাড়া মাথা টিপে দেওয়াতে ভালোই লাগছে। চোখ বন্ধ করে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়ে। আইলিনের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে হাসলো। ঘুমন্ত আইলিনের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলো,” রোজা না চললে ইচ্ছে মতো চুমু খেতাম। চু'রি করে খেতে বেশি মজা।”
~~
এখন সম্ভবত সকাল এগারোটা বাজে। রমজান মাস বলে বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। চারদিক নিস্তব্ধ, যেন পুরো বাড়িটাই ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু এই নিশ্চুপ সময়েও ইউভি আর নিভানের দুষ্টুমির শেষ নেই। হাঁটতে হাঁটতে তারা দু’জন ছাদে উঠে গেল।
ছাদে পা রাখতেই দু’জনের চোখ কপালে উঠল। সামনে যে দৃশ্য, তাতে যেন মুখটা ইয়া বড় হয়ে গেল—মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীই ঢুকে যাবে! ছাদের এক কোণে বসে লিসা দিব্যি আরামে জুস আর চিপস খাচ্ছে। রমজান মাসের এই সময়ে এমন দৃশ্য দেখে তারা তো অবাক হবেই।
হঠাৎ দু’জনকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লিসা হকচকিয়ে গেল। ইউভি ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে মজা করে বলল,
“আপা, আপনার এ পর্যন্ত কয়টা হলো? মানে রোজা—রোজা?”
কথাটা শুনে লিসার মুখ লাল হয়ে উঠল। অপমান আর রাগে সে ফুঁসতে লাগল। রাগী গলায় বলল,
“তোমাদের আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না।”
নিভান মুখ বাঁকিয়ে ঠাট্টার সুরে বলল,
“কে তুমি যে তোমাকে নিয়ে আমরা ভাববো?”
কথা শেষ হতেই লিসা হনহনিয়ে ছাদ থেকে নেমে যেতে লাগল। তার পায়ের শব্দে বোঝা যাচ্ছিল, সে ভীষণ রেগে আছে। পেছন থেকে ইউভি আবার শয়তানি ভরা কণ্ঠে সুর দিয়ে বলে,
”শয়তান জুস-চিপস হাতে হাঁটে দুলে দুলে,
রোজার দিনেও নাকি উঠেছে ছাদে চুপে চুপে।
গিলতে গিয়ে দেখে সবাই তাকিয়ে আছে পাশে—
বেচারী লজ্জায় পড়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। ”
ইউভির এমন কথা শুনে নিভান হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। শুধু হাসিতেই থেমে থাকেনি, এইসব কিছু ভিডিও করে নিয়েছে। এমন সিন সে একা কেন উপভোগ করবে, তাই একে একে সকলের মেসেজে দিল। ত্রিয়াশকে এসব দেওয়ার সাহস তার নেই। ইউভি ছাদের পাঁচিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বলে,
“ সবাই কে দিলি আমার সুন্দর গানটা, ত্রিয়াশকেও দে! একটু মন ভালো হবে। ”
“ পারবো না, পারলে তুমিই দেও।”
ইউভি নিজেই ত্রিয়াশকে ভিডিও টা সেন্ট করে,সাথে মেসেজে কিছু একটা লিখে দিল। ইউভি মুখ টিপে হাসলো।
~~
মাত্র ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে আইলিন ঘরের ভেতর প্রবেশ করল। ভেজা চুলের ডগা থেকে টুপটাপ পানি ঝরছে, মুখে এখনও ঘুম ঘুম ভাব। এদিকে ত্রিয়াশ অনেক আগেই উঠেছে। সকালটা সে ল্যাপটপে কাজ করেই কাটাচ্ছিল। হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ টোন বেজে উঠতেই তার মনোযোগ সেদিকে সরে গেল। ফোনটা হাতে নিয়ে মেসেজ খুলতেই দেখতে পেল একটি ভিডিও।
ভিডিওটি প্লে করতেই উচ্চস্বরে অদ্ভুত এক গান ভেসে উঠল। কণ্ঠস্বর শুনেই আইলিন বুঝতে পারল—এটা ইউভির গলা। গানের কথা আর সুর এতটাই আজব যে আইলিন না হেসে থাকতে পারল না; ফিক করে হেসে উঠল সে। কিন্তু ত্রিয়াশের মুখে হাসির ছিটেফোঁটাও নেই। সে ভ্রু কুঁচকে মনোযোগ দিয়ে ভিডিওটি দেখছে।
ভিডিওর নিচে একটি মেসেজ লেখা, “তুই শয়তানকে এক্স বানালি, আর ভালোকে বউ। আইলিনকে তুই বিয়ে না করলে আমি করতাম। এতদিনে ওকে নিয়ে সুইজারল্যান্ডে হানিমুনেও যাইতাম।”
মেসেজটা পড়তেই ত্রিয়াশের রাগ মাথায় চড়ে গেল। তার স্ত্রীকে নিয়ে এমন কথা বলার সাহস কীভাবে হয়! চোয়াল শক্ত করে সে দ্রুত রিপ্লাই দিল, “আমার বউয়ের দিকে নজর দিবি না। তাহলে চোখ তুলে এনে লুডু খেলবো।”
মেসেজ পাঠিয়ে ত্রিয়াশ ফোনটা পাশে রাখল, কিন্তু তার চোখেমুখে তখনও স্পষ্ট জ্বালা আর অধিকারবোধের ছাপ। আইলিনের দিকে তাকিয়ে অধিকার নিয়ে বলে,
“ তুমি ইউভির থেকে দূরে দূরে থাকবে। ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড?”
আইলিন যেন হঠৎ এমন কথায় কিছু বুঝলো না। বলছেটা কি? সে কি ইউভির কোলে উঠে থাকে নাকি, যে দূরে দূরে থাকতে বলে। রোজা রেখে কি সব উল্টো পাল্টা বকছে। আইলিন মুখ বাকালো মনে মনে বলে, “ অদ্ভুত মানব।”
।
দেখতে দেখতে সারাদিন কেটে গিয়ে এখন ইফতারে আছে আর দশ মিনিট বাকী । বাড়ির সকলে একসাথে বসেছে ইফতার করতে, আজানের জন্য অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে হঠাৎ ইউভি বলে,
“ আজকের রোজাটা অনেক বড় বড় লাগলো, সবচেয়ে বড় রোজা লেগেছে লিসার। ”
লিসা যে আজ রোজা ছিল না, ছাদে বসে চুপিচুপি খেয়েছে এটা যারা জানে তারা ঠোঁট টিপে হাসলো। লিসাকে তারা কখনো রোজা থাকতে দেখে নাই। তার চলা ফেরা বিদেশিদের মতো। সে নাকি এগুলো মানে না। তার এসব ডং কেউ পছন্দ করে না। এই জন্য মাঝে মাঝে ইউভি এমন খুঁচিয়ে কথা বলে, ইউভির এসব কথা শুনে লিসার রাগে ফুঁসছে তবুও চুপচাপ বসে আছে।
ইফতারের আগে এতো কথা নাহিদ মির্জার পছন্দ হচ্ছে না। সে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
“ আহ, ইফতারের আগে এতো কথা বলতে নেই। সবাই দোয়া দরুদ পাঠ করো। ”
সবাই চুপ হয়ে গেছে। মনোযোগ দিয়ে দোয়া পাঠ করছে। এর মধ্যে মাগরিবের আজান পড়ে যায়। তৃপ্তি নিয়ে সবাই ইফতার করে।
।
ইফতার শেষ করে নামাজ আদায় করে, আইলিন শুয়ে শুয়ে মোবাইল টিপছে তার পাশে ত্রিয়াশ শুয়ে আছে। ইফতারের পরে অনেক ক্লান্ত লাগে। আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে আইলিন মোবাইলে কি দেখে। আসলে সে মোবাইলে ড্রেস দেখছে। এর মধ্যে তার একটা শাড়ি পছন্দ হয়। এই মূহুর্তে তার কাছে এতো টাকাও নেই। মনটা খারাপ হয়ে গেল। এ-সব ত্রিয়াশ দেখলো। ত্রিয়াশ স্বাভাবিক করে বলে,
“ এই শাড়ি পছন্দ হয়েছে? ”
“ কেন? কিনে দিবেন নাকি। "
“ দিতেও পারি। ”
আইলিন হা হা করে হেসে উঠলো। চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে। কোনো রকম হাসি থামিয়ে বলে,
“ আগে মনে হয় এক্সের জন্য খুব শাড়ি কেনা হয়েছে? ”
“ এই প্রথম কিনবো তবুও বউয়ের জন্য। ”
আইলিন চুপ করে রইলো কিছু বললো না। চোখ বন্ধ করে আছে। ত্রিয়াশ আইলিনের দিকে ঘুরে বলল,
“ তুমি কি আমার ওপর রেগে আছো?”
আইলিন সেভাবেই আছে কোনো শব্দ করলো না। এটা ত্রিয়াশের পছন্দ হলো না। বিরক্ত নিয়ে আবারও বলে,
“ কি হলো উত্তর দাও।"
আইলিন চোখ বন্ধ অবস্থায় বলে,
“ ভালোবাসার মানুষ কে জড়িয়ে ধরলে বুঝি খুব শান্তি পাওয়া যায়? ”
ত্রিয়াশ কথার মানে বুঝলো না। পলকহীন তাকিয়ে আছে। আগের মতো করে আবারও বলে,
“ আপনার বুকে যখন লিসা মাথা রেখেছিল, আপনি হয়তো শান্তি অনুভব করছিলেন তাই না। ”
আইলিনের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে, তাকে নিজের বুকের ওপর নেয়। এমন ঘটনায় আইলিন হকচকিয়ে যায়। আইলিনের মাথা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বলে,
“ এখন শান্তি পাচ্ছি খুব শান্তি পাচ্ছি। ”
আইলিনের গরম নিশ্বাস ত্রিয়াশের বুকের ওপর পড়ছে। আইলিন কাপা স্বরে বলে,
“ ছা..ছাড়েন। ”
“ ছাড়ার জন্য ধরিনি। আমি যতক্ষন চায়বো ঠিক এভাবেই থাকতে হবে বউ।”
আইলিন কেঁপে উঠে একটা শব্দে, "বউ"। বউ শব্দ তার কানে বারবার বাজছে, এ কেমন অনুভূতি হচ্ছে। এই প্রথম ত্রিয়াশের মুখে বউ ডাক শুনলো। আইলিনের হৃৎস্পন্দন কাপছে যা ত্রিয়াশ টের পাচ্ছে। আইলিন ছাড়া পাওয়ার জন্য বলে,
“ আপনি আমার শিক্ষক, আর শিক্ষক পিতার সমতুল্য দয়া করে ছেড়ে দিন।”
এ কথা শুনে ত্রিয়াশের চোখ কপালে উঠে যায়। মুখটা রাগী করে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
“ থাপ্পড় মেরে চোপার দাত ফেলে দিব। বেয়াদব, আমি তোমার হাজব্যান্ড। এসব উল্টো পাল্টা বললে স্বামীর অধিকার দেখিয়ে দিবো। ”
“ মানে! "
আইলিনের কানের কাছে এসে নেশাত্বক গভীর কন্ঠে ফিসফিস করে বলে,
“বদ্ধ ঘরে দু’টি নরনারীর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে, চারপাশে শুধু ভালোবাসার মধুর সুর বাজে, দু'জনে ভালোবাসায় উন্মাদ হয়ে যায়, আর হৃদয় শুনে কেবল একে অপরের স্পন্দন।”
এই কথার মানে বুঝে ত্রিয়াশের গলার কাছে টি-শার্ট খামচে ধরে, আইলিন চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়। ত্রিয়াশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো।
চলবে,
[ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]