গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ২২
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
রাত এখন এগারোটা। এশার নামাজ আদায় করে ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে নিশি আর ইউভি। টানা দুই দিন কথা বলার সুযোগ হয়নি তাদের। আজ এই নিস্তব্ধ রাতে, চারপাশে কেউ নেই—সেই সুযোগেই দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছাদের পাঁচিলে ভর দিয়েছে।
আকাশে চাঁদ সবে দু’তিন দিন হলো উঠেছে। পূর্ণ না হলেও আলোটা বেশ কোমল। হালকা বাতাসে নিশির চুলগুলো উড়ছে, কিছু এলোমেলো গোছা এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে ইউভির চোখ-মুখ। ইউভি মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার প্রিয়তমার দিকে—যেন এই মুহূর্তটাই ধরে রাখতে চায় চিরদিনের জন্য।
হঠাৎ নিশির চোখে চোখ পড়ে যেতেই সে ভ্রু উঁচু করে মৃদু হাসিতে বলল,
“এভাবে কি দেখছেন মশাই? হুম?”
ইউভির ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল। সে ধীর স্বরে বলল,
“আমার ব্যক্তিগত চাঁদকে দেখছি।”
উত্তরটা শুনেই নিশির গাল লাল হয়ে উঠল। লজ্জায় সে চোখ নামিয়ে নিল। নিশির এই লাজুক চেহারা দেখে ইউভি ঠোঁট কামড়ে হেসে আবার বলল,
“আমার চাঁদটা লজ্জা পেলে আরও সুন্দর লাগে।”
নিশি আজকাল সত্যিই একটু বেশিই লজ্জা পায়। কথা জড়িয়ে আসে, চোখ তুলে তাকাতেও সংকোচ হয়। ইউভি এবার ঘুরে পাঁচিলে কোমর ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় ডাকল,
“নিশি।”
“হুম।”
“এখন কী মাস চলছে?”
“কেন? ফেব্রুয়ারি।”
“ইংরেজি না, বাংলা?”
“ফাল্গুন।”
একটু থেমে ইউভি আকাশের দিকে তাকাল, তারপর নরম গলায় বলল,
“এই ফাগুনী পূর্ণিমার রাতে, চল পলাইয়া যাই?”
নিশি মুচকি হেসে তার দিকে তাকাল। সেই হাসিতে ছিল ভালোবাসা, ছিল নিশ্চিন্ত ভরসা।
“পালিয়ে নয়… সাজিয়ে আপন করে নেন।”
ইউভির চোখে গভীরতা নেমে এলো। সে আরও কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,
“নিবো একদম নিজের করে নিবো। তোর শরীরের প্রতিটা ভাঁজে শুধু আমার স্পর্শ থাকবে। তুই শুধুই আমার হবি জান পাখি। ”
নিশি লজ্জায় মাথা নিচু করল, কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে হাসি লুকোনো রইল না। ফাল্গুনের হালকা বাতাসে, অর্ধেক জোছনায় দাঁড়িয়ে দুজনের নীরবতাই যেন বলে দিচ্ছিল—ভালোবাসা কখনও পালিয়ে যাওয়ার নয়, তাকে আপন করে নেওয়ার। নিশি এতোটাই লজ্জা পাচ্ছে, নিজেকে লুকাতে ইউভির বুকে মুখ রাখলো। নিশির এমন কান্ডে ইউভি,হু হা করে হেসে উঠলো। নিশি একটু পা উচু করে ইউভির গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। ইউভি দুষ্টুমি করে বলে,
“ এভাবে কাছে আছিস না, কন্ট্রোললেস হয়ে যাবো। অঘটন ঘটে যাবে। ”
নিশি ইউভিকে ছেড়ে দূরে দাঁড়িয়ে পড়ে। এভাবেই কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে নীরবতা থাকে। অনেক রাত হয়েছে নিচে চলে আসলো।
~~
আইলিন কিছুক্ষণ আগেই বাবা–মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছে। কথা শেষ হতেই তার মনটা হালকা হয়ে গেল। বাবা বলেছে, তার জন্য একটা নতুন জামা কিনেছে—সেই কথা মনে পড়তেই মুখে লেগে আছে সুখের হাসি। ত্রিয়াশ অনেকক্ষণ ধরে মুগ্ধ হয়ে সেই হাসিমাখা মুখটাই দেখছিল।
আইলিন একপাশে শুয়ে ফোনে স্ক্রল করছে, আর তার ঠিক পাশেই শুয়ে আছে ত্রিয়াশ। হঠাৎ ফোনে একটি মেসেজ এলো। এত রাতে কে মেসেজ করল ভেবে আইলিনের ভ্রু কুঁচকে গেল। মেসেজে গিয়ে দেখে, ত্রিয়াশ! পাশেই তো শুয়ে আছে, তাহলে মেসেজ কেন?
মেসেজে লেখা,
“তোমার কি কোনো এক্স আছে?”
এমন প্রশ্নে আইলিন হতবাক। কপালে ভাঁজ ফেলে সে উত্তর দিল,
“এক্স নেই, বয়ফ্রেন্ড আছে। তার সাথে পূর্ণিমার রাতে ভেগে যাবো।”
মেসেজটা পড়তেই ত্রিয়াশের মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল। হঠাৎই সে ফোনটা সরিয়ে রেখে তড়িৎগতিতে আইলিনকে বিছানার সঙ্গে চেপে ধরল। দাঁত কটমট করে বলল,
“ঠ্যাং ভেঙে ঘরে বসিয়ে রাখবো!”
আইলিন ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করেও পারল না। ত্রিয়াশ এত জোরে চেপে ধরেছে যে ব্যথায় তার চোখ লাল হয়ে উঠল। এমন আচরণ তার একদমই পছন্দ নয়। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সে অবশেষে ত্রিয়াশকে সরিয়ে দিল। উঠে বসতেই তার ভেতরে জমে থাকা রাগ বিস্ফোরিত হলো।
ত্রিয়াশ আবার তার বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিতেই, আচমকা আইলিন তার কলার চেপে ধরল। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সে চেচিয়ে বলল,
“আপনার কথা শুনে সত্যিই আমার খুব রাগ লাগে। আপনি এখনো আপনার এক্সের সাথে ডলাডলি করেন, অথচ আমি কোনো অভিযোগ করি না। কিন্তু একসাথে দুই দিক সামলানো যায় না—একদিকে এক্সকে ধরে রাখা, আর অন্যদিকে আমাকে বউ হিসেবে চাওয়া। সম্পর্কে স্বচ্ছতা আর সম্মান দুটোই দরকার। আমি অযথা ঝগড়া করতে চাই না, শুধু চাই আপনি পরিষ্কারভাবে ঠিক করুন—আপনার জীবনে আসলে কে থাকবে?”
গলা কাঁপছে, কান্না পাচ্ছে। ত্রিয়াশের কলার ঝাকিয়ে আবারও বলে,
“কেন, কেন, কোন অপরাধে আপনি আমায় ভালোবাসেন না। স্বামী কে ভালোবাসবো বলে কখনো নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়ায়নি। আমার...আপনার সাথে বিয়ে না হলেও পারত। আপনার জীবনে যেখানে আগে থেকেই অন্য কারোর বসবাস, সেখানে নিজের জায়গা যে কোনোদিনই হবে না। একটা কথা শুনে রাখুন এই আইলিন মেহনাজ কখনো ভাগাভাগি করে থাকবে না। হারিয়ে যাবে সমুদ্রের গহীন অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।”
কথাগুলো বলেই আইলিন হঠাৎ ডুকরে কেঁদে উঠল। বিছানা ছেড়ে দৌড়ে বারান্দার দিকে চলে গেল সে। দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে শব্দ করে কাঁদছে—অসহায়, ভাঙা এক কান্না। এমন টানাপোড়েনের সম্পর্ক তার আর একটুও ভালো লাগছে না। এই অনিশ্চয়তা, এই অদৃশ্য দূরত্ব তাকে ভেতর থেকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
আইলিনের পেছন পেছন ত্রিয়াশও এসে দাঁড়াল। নিঃশব্দে তার কাঁধে হাত রাখতেই আইলিন ঝাড়ি দিয়ে সেই হাত সরিয়ে দিল। কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
“ছুঁবেন না।”
ত্রিয়াশ থামল না। জোর করেই তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বুকের মধ্যে টেনে নিল। প্রথমে একটু ছটফট করলেও শেষ পর্যন্ত আইলিন তার বুকেই মুখ গুঁজে দিল। যেন বহুদিনের চেনা আশ্রয় পেয়ে গেছে। সে শব্দ করে কাঁদছে; কান্নার চাপে কথা বেরোচ্ছে না। অতিরিক্ত কান্নায় তার হেঁচকি উঠে গেছে। হেঁচকি তুলতে তুলতে ভাঙা গলায় বলল,
“কেন এই শরীরের ঘ্রাণে ডুবিয়ে দিচ্ছেন? কেন আমাকে পাগল করে দিচ্ছেন? যখন ফেলে রেখে চলে যাবেন, তখন আমি থাকব কী করে?”
ত্রিয়াশ আরও শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরল, যেন একেবারে নিজের ভেতর মিশিয়ে নিতে চায়। আইলিনের চুলের ওপর মাথা নত করে আলতো চুমু দিল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে নরম স্বরে বলল,
“সব কথা প্রকাশ করে বলতে হয় না, আইলিন। কিছু অনুভূতি শব্দের চেয়েও গভীর। আমার অপ্রকাশিত শব্দ গুলোর সাথে সারাজীবন থেকো, পৃথিবীর সব সুখ এনে দিতে পারবো কিনা জানি না,
তবে তোমার দুঃখগুলো কাঁধে নেওয়ার সাহসটা আমৃত্যু রাখবো। ”
“ ভালোবাসেন না, তাহলে কেন প্রতিশ্রুতি দেন? ”
ত্রিয়াশ খুব ভালো করে বুঝলো এই মাথা মোটা মেয়ে কে কিছু বুঝিয়ে লাভ নেই। কথা না বাড়িয়ে, আইলিন কে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে ঘরের উদ্দেশ্য পা রাখলো। আকস্মিক ঘটনায় আইলিন ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে,সাথে ত্রিয়াশের কলার আঁকড়ে ধরে। বিছানায় শুয়ে দিল, কোনো কথা ব্যয় না করে নিজেও আইলিনের বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে। আইলিন কেঁপে উঠে, ত্রিয়াশের চুল খামচে ধরলো, ত্রিয়াশের গরম নিঃশ্বাস তার গলায় পড়ছে। আইলিন আনমনে ত্রিয়াশের চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। স্বস্তি অনুভব করায় কখন ঘুমিয়ে পড়েছে ত্রিয়াশ। আইলিন বুঝলো ত্রিয়াশ ঘুমিয়ে পড়েছে, বিড়বিড় করে বলে,
“ মির্জা সাহেব, আপনি কাছে থাকলে সুখ সুখ লাগে, দূরে গেল জ্বালা বাড়ে এ কেমন অনুভূতি। যতদিন যাচ্ছে ততই আপনার প্রতি অবসেশন হয়ে যাচ্ছি। আপনি আমার গোপন নেশা হয়ে গেছেন। ”
~~
কেটে গেছে তিন দিন। লজ্জায় আইলিন আর ত্রিয়াশের সঙ্গে কথা বলেনি। অথচ সেদিন কত কথাই না বলেছিল! ত্রিয়াশ তার সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করছে, এমনকি খেয়ালও রাখছে অনেক। তবু অকারণ সংকোচে আইলিন নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে এই ক’দিন।
এই তিন দিনে তারা কেউ কোথাও যায়নি। আজ সবাই মিলে যাচ্ছে তাদের বাগানে, যা বাড়ি থেকে একটু দূরে। সামনে সামনে হাঁটছে ইউভি, নিভান আর নিলয়। মাঝখানে মেয়েরা, আর পেছনে নিজেদের মতো গল্পে মশগুল ত্রিয়াশ আর রাফসান।
হাঁটতে হাঁটতে আইলিনের চোখ বারবার গিয়ে থামছে রিদিশার দিকে। শুধু আজ নয়, গত তিন দিন ধরেই সে বিষয়টা খেয়াল করছে। রিদিশা কেমন চুপিচুপি ইউভির দিকে তাকিয়ে থাকে। ইউভি সামনে পড়লেই তার চোখে-মুখে লজ্জার আভা ফুটে ওঠে। সেই দৃষ্টিতে লুকানো অনুভূতি আইলিনের চোখ এড়ায়নি— ওখানে স্পষ্ট ভালোবাসা আছে।
কিন্তু আইলিন বুঝতে পারে, এ পথটা ঠিক নয়। রিদিশা হয়তো ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে— একতরফা ভালোবাসার পথে, যে পথ শেষমেশ শুধু কষ্টই দেয়। ইউভির দিক থেকে তেমন কোনো ইঙ্গিত সে দেখেনি। দেখবে কি করে, সে তো নিশিকে ভালোবাসে।
মনে মনে আইলিন সিদ্ধান্ত নেয়, রিদিশার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবে। তাকে বোঝাবে, সময় থাকতে নিজেকে সামলে নিতে। কারণ কিছু অনুভূতি যতই সুন্দর হোক, ভুল জায়গায় জন্ম নিলে তা কেবল যন্ত্রণাই বয়ে আনে।
কিছু দূর এগোতেই তাদের সামনে এসে দাঁড়াল চেয়ারম্যানের ছেলে শিফাত। এই এলাকার প্রায় সবাই তার চরিত্র সম্পর্কে অবগত—তাই তাকে দেখলে অনেকেই এড়িয়ে চলতেই স্বস্তি বোধ করে। রাফসানরা নিজেদের মতো করেই হাঁটছিল, যেন তাকে দেখেনি।
হঠাৎ শিফাত শিস বাজিয়ে ব্যঙ্গের সুরে বলল,
“কিরে রাফসান, এই সুন্দরী মেয়েটা কে? বাকি গুলো তো মির্জা বাড়ির মেয়ে।”
রাফসান কোনো উত্তর দিল না। এমন মানুষের সঙ্গে কথায় জড়ানোর চেয়ে নীরব থাকাই যে ভালো, সেটা সে ভালো করেই জানে। কিন্তু ত্রিয়াশের ভেতরে যেন আগুন জ্বলে উঠল। রাগে তার শরীর কাঁপছে, তবুও এই মুহূর্তে সে কোনো ঝামেলা করতে চাইল না। দাঁত চেপে কিছু না বলে আবার হাঁটা শুরু করল।
পেছন থেকে শিফাত আবার চিৎকার করে উঠল,
“লম্বা বিনুনি মেয়েটা তো বেশ মায়াবী! প্রথম দেখাতেই মায়ায় পড়ে গেলাম।”
কথাগুলো যে আইলিনকে উদ্দেশ্য করেই বলা, তা বুঝতে কারও বাকি রইল না। ত্রিয়াশের রাগ এবার চরমে পৌঁছাল। চোখেমুখে কঠিন ছায়া নেমে এলো। তবুও সে নিজেকে সামলে নিল—এখানে কিছু বলবে না। তবে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, সুযোগ এলে শিফাতকে ঠিকই জবাব দেবে। তার স্ত্রীর দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার ফল যে কী হতে পারে, সেটা সে সময়মতো বুঝিয়ে দেবে।
অবশেষে তারা বাগানে পৌঁছাতে পারল। চারপাশের সবকিছু দেখে আইলিনের মন ভরে গেল আনন্দে। বাগানটি তার আগে দেখা না —তবুও তার মনে হচ্ছে কত চেনা লাগছে। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল নাহিদ মির্জা, নিখিল মির্জা আর রহিম মিয়া। বাগানের ভেতর সারি সারি নানা ধরনের ফলের গাছ, আর একপাশ জুড়ে রঙিন ফুলের সমারোহ।
রোজা না থাকলে আইলিন নিশ্চয়ই গাছে উঠে পা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে পেয়ারা খেত—এ কথা ভাবতেই তার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল। তারা অনেক ফল পেড়ে নিল, ইফতারের সময় বাড়িতে নিয়ে খাবে বলে। এদিকে বাগানের ফুলের গাছগুলোর পাশে গিয়ে ইউভি সবার অগোচরে একটি ফুল ছিঁড়ে নিশির চুলে গুঁজে দিল। ঘটনাটি আইলিনের চোখ এড়াল না। তাদের নীরব ভালোবাসা দেখে তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ল।
এভাবেই গল্প-হাসি-আনন্দে সময় কেটে গেল, কেউ টেরই পেল না কতটা সময় পেরিয়ে গেছে। হঠাৎ ইউভি চারদিকে তাকিয়ে বলল,
“আরে, আসার পর থেকে তো ত্রিয়াশকে দেখছি না। কোথায় গেল?”
পেছন দিক থেকে ভেসে এল কণ্ঠস্বর,
“এই যে, আমি এখানে।”
সবাই ঘুরে তাকিয়ে দেখল, ত্রিয়াশ দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে আর কেউ কিছু বলল না। অনেকক্ষণ হয়ে গেছে, তাই সবাই বাড়ির পথে হাঁটা ধরল।
হাঁটতে হাঁটতে আইলিনের পায়ে ব্যথা শুরু হলো। তার আর হাঁটতে ইচ্ছে করছে না। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ত্রিয়াশ একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“কোলে নিয়ে হাঁটতে হবে নাকি?”
আইলিন মুখ মোচড় দিয়ে বলল,
“পা আছে আমার।”
এই বলে সে আবার সামনে এগিয়ে গেল।
ফেরার পথে তারা শিফাতকে দেখে থমকে দাঁড়াল। তার শরীরজুড়ে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন—কোথাও নীলচে দাগ, কোথাও চামড়া ছড়ে গেছে। দৃশ্যটা অস্বস্তিকর হলেও আশ্চর্যজনকভাবে সবার মাঝে তেমন কোনো আলোড়ন দেখা গেল না। যেন এসব তাদের কাছে এসব কিছু নয়। এখানে শুধু লিসা অনুপস্থিত।
ইউভির চোখ এড়িয়ে গেল না কিছুই। শিফাতের গায়ের দাগগুলো ভালো করে দেখে সে ধীরে ধীরে ত্রিয়াশের কাছে এগিয়ে এলো। কণ্ঠ নিচু করে বলে,
“এই কাজ তুই করেছিস?”
ত্রিয়াশ ভান করা বিস্ময়ে তাকাল। “কোন কাজ?”
ইউভি বিরক্ত হলো।
“হেয়ালি করিস না, ত্রিয়াশ। তুই কি শিফাতকে মেরেছিস?”
ত্রিয়াশ ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,
“না, একটু যত্ন করে দিয়েছি।”
কথাটার ভেতরের বিদ্রূপ ইউভির অজানা নয়। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। খুব ভালো করেই জানে, এ কাজ ত্রিয়াশই করেছে। তবু আর কথা বাড়াল না। ঠিক হয়েছে অন্যের বউয়ের দিকে চোখ দিলে এমনই অবস্থা হবে। ইউভি একটু মজা ছলে বলে,
“ আইলিনকে তো ভালোবাসিস না, তাহলে ওর জন্য আবার মারপিট করতে যাস কেন?”
“ কারণ সে, নাভিয়ান ত্রিয়াশ মির্জার ওয়াইফ — মিসেস মির্জা। আমার বউয়ের দিকে যে কুদৃষ্টি দিবে তার এ অবস্থা হবে। ”
ত্রিয়াশ হনহনিয়ে চলে যাচ্ছে। ইউভি তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো, মনে মনে বলে,
“ চান্দু প্রেমে পড়েছে অথচ শিকার করছে না। ”
চলবে,,
[ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]