গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ২৫
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
ত্রিয়াশ দ্রুত পায়ে করিডোর পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ভাবছিল—আইলিন হঠাৎ এমন ডিংক করল? পেলোই বা কোথায়? আর এইসব ছাইপাশই বা এলো কোথা থেকে? অস্বস্তি আর দুশ্চিন্তা একসঙ্গে ভর করেছিল তার মনে। বড় বড় পা ফেলে সে রান্নাঘরের দিকে গেল। উদ্দেশ্য একটাই—লেবু পানি বানিয়ে আইলিনকে খাওয়াবে, যেন ও একটু সুস্থ হয়।
রান্নাঘরে ঢুকে চারপাশে তাকাল সে। কাউকে দেখা গেল না। ত্রিয়াশ নিজেই লেবু পানি বানিয়ে গ্লাস হাতে দ্রুত ঘরে ফিরে এল। এই মুহূর্তে তার একমাত্র চিন্তা আইলিনকে সুস্থ করে তোলা।
ঘরে ঢুকে গ্লাসটা সেন্টার টেবিলে রাখল। তারপর আস্তে করে আইলিনকে ডাকতে লাগল। কয়েকবার ডাকতেই আইলিন হালকা করে চোখ মেলল। ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে তাকে লেবু পানি খাইয়ে দিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আইলিন বমি করে দিল—এতটাই যে ত্রিয়াশের পুরো শরীর ভিজে গেল। তবুও তার ভ্রুক্ষেপ নেই; তার সমস্ত মনোযোগ আইলিনের দিকেই।
বমির পর ক্লান্ত হয়ে আইলিন আবার অজ্ঞান হয়ে পড়ল। তার শরীরও নোংরা হয়ে গেছে। ত্রিয়াশ এক মুহূর্ত দ্বিধায় পড়ল—কাউকে ডাকবে, নাকি নিজেই সব সামলাবে? শেষ পর্যন্ত কাউকে না ডেকে নিজেই আইলিনকে পরিষ্কার করে, কাপড় বদলে দিল।
সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে ক্লান্ত আইলিনের দিকে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল সে। তারপর ধীরে ঝুঁকে তার কপালে নিজের ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিল—নিঃশব্দ, গভীর ভালোবাসার এক স্পর্শ। এরপর নিজেও ফ্রেশ হতে চলে গেল, তবে মন পড়ে রইল আইলিনের কাছেই।
দ্রুত ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এল ত্রিয়াশ। টাওয়ালটা বারান্দায় মেলে দিতে গিয়েই হঠাৎ খেয়াল করল—বাগানের ভেতর অদ্ভুত এক সোরগোল। কিছুক্ষণ আগেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, হঠাৎ এমন কী ঘটল?
কৌতূহল আর অজানা আশঙ্কা নিয়ে সে নিচে নামার জন্য পা বাড়াল। যাওয়ার আগে আইলিনের গায়ে কম্ফর্টারটা ভালো করে জড়িয়ে দিল, ঘরে ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে দিল। তারপর দ্রুত পায়ে বাগানের দিকে এগোল।
সামনে গিয়ে যা দেখল, তাতে সে স্তব্ধ হয়ে গেল।
গ্রামের কয়েকজন লোক নিশির দিকে আঙুল তুলে ফিসফিস আর তির্যক কথায় বলছে, “এই মেয়েকে এখন কে বিয়ে করবে?” তাদের সামনে বাবা আর চাচা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটা দেখে ত্রিয়াশের কিছুই বোধগম্য হলো না। কী এমন হয়েছে, যে নিশিকে এভাবে অপমান করা হচ্ছে?
মুহূর্তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে এল। ভেতরে জমে উঠল তীব্র রাগ। মির্জা বাড়ির মেয়ের দিকে আঙুল তোলার সাহস এরা পায় কী করে!
ত্রিয়াশ চেঁচিয়ে উঠল—
“কী হয়েছে এখানে? কার এত বড় সাহস যে আমাদের বাড়ির মেয়ের দিকে আঙুল তোলে?”
পাশে থেকে হঠাৎ এক মহিলা চিৎকার করে উঠল,
“তোমাগোর বাড়ির মাইয়া চেয়ারম্যানের পোলার লগে ন'ষ্টামি কইরা আইছে!”
কথাটা যেন আ'গুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। রাগে ত্রিয়াশের পুরো শরীর কাঁপছে, চোখ দুটো র'ক্তলাল। সে তাকিয়ে দেখল, একটু দূরে নিভানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইউভি—হাত দুটো শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ, চোয়াল শক্ত। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিশি কাঁদতে কাঁদতে চোখ-মুখ লাল করে ফেলেছে।
ত্রিয়াশ দ্রুত গিয়ে নিশির পাশে দাঁড়াল। তাকে দেখেই নিশি হাউমাউ করে কেঁদে উঠে ভাইয়ের বুক জড়িয়ে ধরল।
“বিশ্বাস করো ভাইয়া, আমি কিছুই করিনি। আমি ন'ষ্টা না।”
ত্রিয়াশ আলতো করে বোনের মাথায় হাত রাখল। নিজের ভেতরের ঝড় চাপা দিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“আমি আমার বোনদের বিশ্বাস করি। কী হয়েছে, আমাকে খুলে বল।”
নিশি কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করল,
“আমি রিদিশাকে নিয়ে বাড়ির পেছনের পদ্মপুকুরে গিয়েছিলাম। রিদিশা পুকুরের সিঁড়ির কাছে নামতেই হঠাৎ কয়েকটা ছেলে এসে আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের ছেলের কাছে। সে আমাকে দেখে কী যেন বলে তাদের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। কিছুক্ষণ পর ওরা আমাকে আবার পুকুরের কাছেই রেখে যায়। তারপর থেকেই সবাই এসব কথা বলছে…”
কথা শেষ করেই নিশি আবার ভেঙে পড়ে।
ত্রিয়াশ বাইরে থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত রাখল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার রাগ আগুন হয়ে জ্বলছে। শিফাতকে সে ছেড়ে দিবে না—এটা সে মনে মনে নিশ্চিত করল।
কিছুক্ষণ আগের ঘটনা।
বাড়িতে আজ অনেক মানুষ, কোলাহল আর ব্যস্ততা। সেই ভিড় এড়িয়ে একটু শান্তি খুঁজতেই নিশি আর রিদিশা রাতে বের হয়েছিল তাদের পদ্মপুকুরের পাড়ে। পুকুরটা তাদেরই, আর রাতে সেখানে হালকা লাইট জ্বলে—নরম আলোয় চারপাশটা অন্যরকম মায়াবী সুন্দর লাগে। পানির উপর আলো ঝিলমিল করে, হালকা বাতাসে ঢেউ খেলে যায়।
রাতে পুকুরে দুটো হাঁস দেখে নিশির মনটা হঠাৎই ভালো হয়ে যায়। হাঁস দুটো রিদিশার খুব আদরের। রিদিশা সিঁড়ির কাছে নেমে তাদের ডাকতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ পিছনে ফিরে দেখে—নিশি নেই!
মুহূর্তেই তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। বুক ধড়ফড় করতে থাকে। সে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে,
“নিশি আপু কই আপনি? নিশি আপু! নিশি আপু!”
চারদিকে নিস্তব্ধতা। কোনো সাড়া নেই। ভয় আর দুশ্চিন্তায় রিদিশার চোখে পানি চলে আসে। সাহস সঞ্চয় করে একটু সামনে এগোতেই দেখে একটা গাড়ি দ্রুত চলে যাচ্ছে। গাড়িটা তার চেনা—শিফাতের গাড়ি। অজানা আশঙ্কায় তার বুক কেঁপে ওঠে। সে কাঁপা গলায় চিৎকার করে বলে,
“জা'নোয়ারগুলো, নিশি আপুকে ছেড়ে দে!”
তারপর আর কিছু করার সাহস পায় না। বাড়ির গেট থেকে একটু দূরে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। কীভাবে বাড়ির সবাইকে বলবে, কীভাবে এই ভয়ংকর কথাটা জানাবে—কিছুই বুঝে উঠতে পারে না।
এদিকে নিশি মুক্ত হওয়ার জন্য ছটফট করছে। ধস্তাধস্তিতে তার চুল এলোমেলো হয়ে গেছে। হঠাৎ এক ছেলে রাগে তার গালে জোরে থাপ্পড় মারে। ঠোঁট কেটে র'ক্ত ঝরতে থাকে। আরও দুজন অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। আতঙ্ক আর অপমানে নিশির চোখ ভরে ওঠে জল।
প্রায় আধঘণ্টা পর সেই ছেলেগুলো আবার নিশিকে পুকুরপাড়ে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাটা কয়েকজন মানুষ দেখলেও, সাহায্যের হাত বাড়ানোর বদলে তারা নিজেদের মতো গল্প বানিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকে। এসব কথা রিদিশা ভাবছিল, মানুষ না জেনে কত কথায় না বলে।
এর মধ্যে আরেকজন মহিলা বলে উঠে,
“ এই মাইয়াডারে এহন কেডা বিয়া করবো? সবাই তো ছিঃ ছিঃ করবো।”
সবার কটু কথা আর অপমান নিশির সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল। চারদিকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর ফিসফাস তাকে যেন শ্বাসরুদ্ধ করে তুলছিল। মনে হচ্ছিল, এই মুহূর্তে যদি কোথাও পালিয়ে যেতে পারত! আর এক মুহূর্তও এখানে দাঁড়িয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। উপায় না দেখে সে দৌড়ে সরে যেতে উদ্যত হলো।
ঠিক তখনই হঠাৎ ইউভি এগিয়ে এসে তার হাত শক্ত করে ধরে ফেলল। সবার সামনে নিশিকে দাঁড় করিয়ে সে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“নিশিকে আমি বিয়ে করব। এতে কারও কোনো আপত্তি আছে? তাকে বিয়ে করতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই।”
চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে গেল। উপস্থিত মানুষজন বিস্ময়ে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল।
ইউভি তখন নিশির বাবা নিখিল মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ছোট মামু, আমাকে জামাই হিসেবে মেনে নিতে তোমার কোনো আপত্তি আছে?”
নিখিল মির্জা ধীর পায়ে এগিয়ে এসে ইউভিকে জড়িয়ে ধরলেন। আবেগমাখা কণ্ঠে বললেন,
“আমার কোনো আপত্তি নেই।”
ইউভি তখন সবার উদ্দেশে স্পষ্ট কণ্ঠে ঘোষণা করল,
“তাহলে কাজি ডাকুন। আজ গ্রামের সবার সামনে নিশিকে আমার স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেব।”
এর মধ্যে কাজিকে ডাকা হয়েছিল। পাশেই ছিল তার বাড়ি, তাই বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয়নি। কোনো রকম সাজসজ্জা ছাড়াই শান্ত, সাদামাটা পরিবেশে সম্পূর্ণ হলো নিশি আর ইউভির বিয়ে।
আজ ইউভি ভীষণ খুশি। নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আনন্দে তার মন ভরে গেছে। মনে মনে যেন আনন্দে নেচে উঠছে—কোনো বাধা, কোনো ঝামেলা ছাড়াই সে নিশিকে নিজের করে পেয়েছে। বিয়ের কাজ শেষ হতেই গ্রামের লোকজন একে একে বিদায় নিল।
এখন ড্রয়িংরুমে পরিবারের সবাই আছে, শুধু নিশি ছাড়া। নিশি আর ইউভির বিয়ে নিয়ে আজ রিদিশার মনে একটুও কষ্ট নেই। বরং ঠোঁটের কোণে ফুটে আছে হালকা এক মুচকি হাসি। সবাই মিলে আলোচনা করছে—ঢাকায় ফিরে আরও বড় করে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান করা হবে।
হঠাৎ তিশা বেগম চারদিকে তাকিয়ে বললেন,
“আইলিন কোথায়? ওকে তো দেখছি না।”
ত্রিয়াশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“ও একটু অসুস্থ। তাই ঘুমিয়ে আছে।”
আইরা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, বোনের অসুস্থতার কথা শুনে উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠল।
“কি হয়েছে আইলিনের?”
ত্রিয়াশ একটু নড়েচড়ে বসে শান্ত স্বরে বলল,
“তেমন কিছু না। মাথা যন্ত্রণা করছে, তাই ঘুমাচ্ছে।”
তার কথা শুনে আর কেউ বিষয়টা বাড়ালো না। রাত অনেক হয়ে গেছে। তখন নাহিদ মির্জা সবার উদ্দেশ্যে বললেন,
“সবাই নিজ নিজ ঘরে চলে যাও। অনেক রাত হয়েছে, ঘুমিয়ে পড়ো।”
তার কথা অনুযায়ী একে একে সবাই নিজেদের ঘরের দিকে চলে গেল।
ইউভি ঘরে ঢুকতেই দেখে, নিশি খাটের একপাশে চুপচাপ বসে কাঁদছে। ঘরটা নিস্তব্ধ, শুধু তার চাপা কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। ইউভির বুকটা হালকা কেঁপে ওঠে। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে নিশির পাশে বসে। কোনো কথা না বলে আলতো করে তার হাতটা নিজের মুঠোয় নেয়। তারপর নিশির হাতের উল্টো পিঠে একটুখানি চুমু খেয়ে নরম স্বরে বলে,
“এখনো কাঁদবি? দেখ, আজ থেকে তুই শুধু আমার। আমার বউ হতে চেয়েছিলি—আজ তুই সত্যিই আমার বউ। তুই শুধু ইউভি তালুকদারের বউ।”
নিশি ভেজা চোখ তুলে তাকায়। কণ্ঠ কেঁপে ওঠে তার,
“তুমিও কি সবার মতো আমাকে ভুল বুঝছো?”
প্রশ্নটার মধ্যে অভিমান, ভয় আর অসহায়ত্ব মিশে আছে। ইউভি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে নিজের বুকের ভেতর জড়িয়ে নেয়। নিশির মাথায় আলতো করে চুমু খেয়ে মৃদু স্বরে বলে,
“তুই আমার পবিত্র ফুল। যে ফুলে আমি ছাড়া আর কারও ছোঁয়া নেই। তোকে ভুল বোঝার প্রশ্নই আসে না।”
নিশি এবার আর নিজেকে আটকে রাখতে পারে না। সে ইউভিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, যেন আর কখনো ছাড়বে না।
~~
লিসা নিজের ঘরের ভেতর অস্থির পায়চারি করছে। তার হাতে ধরা ফোনটা একটানা কাঁপছে—বারবার একই নাম্বারে কল দিচ্ছে সে। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া নেই। কল যাচ্ছে, কেটে যাচ্ছে, আবার যাচ্ছে—তবু রিসিভ হচ্ছে না। প্রতিটা ব্যর্থ চেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরের রাগ যেন আরও দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে।
তার মাথার ভেতর যেন আগুন জ্বলছে। মনে হচ্ছে নিজের চুল নিজেই ছিঁড়ে ফেলে। এতদিন ধরে করা সব পরিকল্পনা মুহূর্তেই ভেস্তে গেছে—এই ভাবনাই তাকে পাগল করে দিচ্ছে। হঠাৎ ক্ষোভে ফোনটা ছুড়ে ফেলে দিল বিছানার ওপর। দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলল,
“শিফাতের বাচ্চা, একটা কাজও ঠিক করে করতে পারলি না।”
রাগে তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। মেঝেতে জোরে লাথি মেরে আবার বলল,
“আইলিন, আমিও দেখব তুমি আর ত্রিয়াশ কী করে সুখের সংসার করো!”
বিছানার উপর ধপ করে বসে পড়ে। বিছানার চাদর খামছে ধরে বলে উঠে,
“ আজ আইলিনকে শিফাত কিডন্যাপ করলে রাস্তা ফাকা হতো, আর জুসটা ত্রিয়াশ খেলে, মাতলামি করতো, আর সেই সুযোগে আমি ত্রিয়াশকে নিজের করতাম। উফ একটা কাজও হলো না। কিন্তু আমিও ছাড়বো না সবাই কে দেখে নিবো।
এখন রাত দুটো। কিছুক্ষণ আগেই ত্রিয়াশ বাড়ি ফিরেছে। দরজা খুলে নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকে সোজা শাওয়ারে চলে গিয়েছিল সে। শাওয়ার শেষে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে ঘরে ঢুকেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল আইলিনের মুখে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সে—নিশ্চিন্ত, শান্ত, যেন পৃথিবীর কোনো ঝড়ই তাকে ছুঁতে পারেনি।
অথচ এই এক রাতেই কত কিছু ঘটে গেল! যার কিছুই আইলিন জানে না। ত্রিয়াশের ঠোঁটে ভেসে উঠল এক রহস্যময় বাঁকা হাসি। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল দুইটা বিশ মিনিট । আর কিছুক্ষণ পরই সেহরির সময় হবে। তার আগে সামান্য একটু ঘুম দরকার।
নরম পায়ে বিছানার পাশে এসে ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ল সে। আইলিনের কাছে সরে গিয়ে আলতো করে তাকে বুকে টেনে নিল। ঘুমন্ত আইলিন অচেতনেই আরও একটু গা এলিয়ে দিল তার দিকে। ত্রিয়াশ মৃদু স্বরে বিড়বিড় করে কিছু বলল,
“এই ফুলটি আমার, সম্পূর্ণ আমার। তার সৌন্দর্য আমার অন্তরের প্রতিটা স্পন্দনে জাগে। আমার সম্মান, আমার অনুভব, আমার অস্তিত্ব সবটা ঘিরে শুধু তুমি বউ। ”
চলবে,
[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]