ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

২৬তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ২৬

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

মেবাইলের পাওয়ার বাটন অন করে দেখে, সকাল সাতটা বাজে। এই মাত্র ঘুম ভাঙলো আইলিনের। মাথাটা কেমন ভারী লাগছে। কাল রাতে কখন ঘুমিয়েছে তার কিছুই মনে নেই। উঠতে গিয়েও উঠতে পারলো না। পাশেই ত্রিয়াশ গভীর ঘুমে আছন্ন। সেহরির পর ঘুমিয়ে গেছে। কাত হয়ে শুয়ে আইলিন ঘুমন্ত ত্রিয়াশকে দেখছে। কাঁপা কাঁপা হাতে আলতো করে তার চুল গুলো ছুয়ে দিল। হঠাৎ সে নিজেকে খেয়াল করে দেখলো তার পোশাক অন্য, যা ত্রিয়াশের টিশার্ট পড়ে আছে। এটা দেখে তার চোখ কপালে। তার স্পষ্ট মনে আছে সে ত্রিয়াশের পোশাক পরেনি। আইলিনের এটুকু মনে আছে, বাগানে বসে সে জুস খেয়েছিল এরপর মাথাটা ভারী হয়ে আসে। তারপর আর কিছু মনে করতে পারলো না। লজ্জা ভয়ে আইলিন আড়ষ্ট হয়ে রইলো।

প্রায় দশ মিনিট ধরে আইলিন চুপচাপ শুয়ে রইল। লজ্জায় নিজের মনেই গুটিয়ে আছে সে; ত্রিয়াশের দিকে একবারও তাকানোর সাহস হলো না। মাথাটা ভারী লাগছে, তাই উঠতেও ইচ্ছে করছে না। ঠিক তখনই ঘুমের ঘোরে ত্রিয়াশ এসে আইলিনের বুকে মাথা রাখল। মুহূর্তেই আইলিন যেন বরফ হয়ে গেল।

ত্রিয়াশকে ঠেলে সরিয়ে দিতে গেলে সে ঘুমঘুম কণ্ঠে বলল,

“ছটফট করছো কেন? ঘুমাতে দাও।”

আইলিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

“সরে গিয়ে ঘুমান, আমি উঠবো।”

ত্রিয়াশ কোনো কথা না বলে বালিশে মাথা রেখে আবার শুয়ে পড়ল। আইলিন ধীরে ধীরে উঠে বসল। ঠিক তখনই পাশ ফিরে শুতে শুতে ত্রিয়াশ বলল,

“বাইরে যাওয়ার আগে শাওয়ার নিও।”

কথাটা শুনে আইলিনের কপালে ভাঁজ পড়ল। তার মনে হঠাৎ অদ্ভুত একটা সন্দেহ জাগল। বুকের ভেতরটা কেমন কাঁপতে লাগল। মনে মনে ভাবল, তাহলে কি রাতে কিছু হয়েছে? ভয় আর অস্বস্তিতে সে ঢোক গিলল। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে ত্রিয়াশকে জিজ্ঞেস করল,

“বাইরে যাওয়ার সাথে শাওয়ারের কি সম্পর্ক?”

একটু থেমে খুব আস্তে, প্রায় মিনমিন করে আবার বলল,

“কাল রাতে কি আমাদের মধ্যে কিছু হয়েছে?”

বলেই চোখ শক্ত করে বন্ধ করে রইল সে, যেন উত্তরটা শুনতে ভয় পাচ্ছে।

ত্রিয়াশ তার দিকে ঘুরে তাকাল। ঠোঁটের কোণে দুষ্টু একটুখানি হাসি ফুটে উঠল। সে ধীরে বলল,

“হয়েছে তো অনেক কিছুই!”

আইলিন চমকে উঠে বলল,

“কি হয়েছে?”

ত্রিয়াশ কোনো উত্তর দিল না, শুধু চুপ করে আইলিনের মুখভঙ্গি লক্ষ্য করতে লাগল। অস্থির হয়ে আইলিন আবার বলল,

“বলেন না… কিছু হয়েছে কি?”

হঠাৎ তড়িৎগতিতে উঠে ত্রিয়াশ আইলিনের কাছে এসে বসল। তার কাঁধে থুতনি রেখে মৃদু স্বরে বলল,

“কিছু কি হতে পারে না? সেই অধিকার তো আছে।”

এই কথা শুনে আইলিন আর এক মুহূর্তও বসে থাকতে পারল না। লজ্জা আর অস্বস্তিতে মুখ লাল হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি উঠে সে দৌড়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। আইলিনের চলে যাওয়া দেখে ত্রিয়াশ মাথা চুলকে মুচকি হাসলো।

আইলিন শাওয়ার নিয়ে ধীরে ধীরে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। ভেজা চুল থেকে এখনো ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে। তার ভীষণ লজ্জা লাগছে, যেন কাউকে সামনে পড়তে ইচ্ছে করছে না। দরজা খুলে বাইরে এসে সে দেখল ত্রিয়াশ খাটের উপর বসে আছে। আইলিনকে বের হতে দেখেই ত্রিয়াশ দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল, যেন তাকে অস্বস্তিতে ফেলতে না চায়।

আইলিন একটু থেমে দাঁড়িয়ে রইল। তখন ত্রিয়াশ নরম কণ্ঠে বলল,

“এখন ফ্রেশ লাগছে? ওখানে খাবার রাখা আছে, খেয়ে নাও।”

আইলিন একটু চুপ থেকে বলল,

“আজও সেহরির সময় ডাকেননি কেন?”

ত্রিয়াশ শান্ত স্বরে জবাব দিল,

“অসুস্থ ছিলেন তাই।”

কথাটা শুনে আইলিন আর কিছু বলল না। নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। ত্রিয়াশ তখন উঠে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। এত ভোরে এখনো বাড়ির কেউ ঘুম থেকে ওঠেনি। চারপাশে এক ধরনের শান্ত নীরবতা ছড়িয়ে আছে।

আইলিন ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। সকালের নরম আলো, হালকা ঠান্ডা বাতাস আর দূরে পাখির ডাক—সব মিলিয়ে দৃশ্যটা তার কাছে খুব সুন্দর লাগছে। সে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করতে লাগল।

এরই মধ্যে ত্রিয়াশ ফ্রেশ হয়ে এসে তার পাশে এসে দাঁড়াল। দু’জনেই কিছু না বলে সামনে তাকিয়ে রইল।

ত্রিয়াশ একটু দূরে দাঁড়িয়ে আইলিনের ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে পানি পড়া দেখছিল। দৃশ্যটা যেন তাকে অদ্ভুত এক ভাবনায় ডুবিয়ে দিল। ঠোঁটের কোণে হালকা এক হাসি ফুটে উঠল তার। ধীরে ধীরে কয়েক কদম সামনে এগিয়ে এসে গুনগুনিয়ে বলতে শুরু করল—

“কেনো আজকাল সন্ধ্যে সকাল,

আসছে মনে শুধু তোমারি খেয়াল।

বেহিসাবি স্বপ্নগুলো দিয়েছে উড়াল,

নিজের কাছে নিজেই হয়েছি আড়াল।”

গানের প্রতিটি লাইন আইলিনের কানে যেতেই তার বুকটা কেঁপে উঠল। অদ্ভুত এক অনুভূতি গ্রাস করল তাকে। এখানে আর দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে যেন বুকের ভেতরটা কেমন অচেনা অনুভূতিতে ভরে যাচ্ছে। সে নিজেই বুঝতে পারছে না কেন এমন হচ্ছে।

অস্বস্তি এড়াতে দ্রুত সেখান থেকে সরে যেতে চাইলো আইলিন। কিন্তু কয়েক পা এগোতেই হঠাৎ ত্রিয়াশ তার হাত ধরে হেঁচকা টানে নিজের দিকে টেনে নিল। মুহূর্তের মধ্যেই আইলিন গিয়ে পড়ল তার বুকে।

আইলিনের পিঠ ঠেকল ত্রিয়াশের বুকে। ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে আইলিনের ঘাড়ের ওপর পড়ে থাকা ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিল। তারপর কাঁধে থুতনি রেখে নরম স্বরে বলল,

“কোথায় পালানো হচ্ছিল?”

কিছুক্ষণ থেমে আবার মৃদু হাসল সে। তারপর একটু দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল,

“যেভাবেই হোক, এখন তো আপনি এই ত্রিয়াশের বউ হয়েছেন। এত পালাই পালাই করলে কিন্তু চলবে না, ম্যাডাম।”

ত্রিয়াশের কথায় আইলিন হালকা হাসল। মৃদু স্বরে বলল,

“ধরে রেখেই ছিলেন বুঝি?”

ত্রিয়াশও হাসল। শান্ত গলায় জবাব দিল,

“ছেড়েও তো দিইনি।”

আইলিন ভ্রু তুলে বলল,

“সম্পর্কটা তো বেশ নড়বড়ে।”

“তুমি চাইলে শক্ত করার দায়িত্ব আমি নিতে পারি।”

“নিজের ইচ্ছে তে নেওয়া যায় না।”

ত্রিয়াশ দৃঢ় স্বরে বলল,

“হুম, যায়।”

এরপর আইলিন আর কথা বাড়াল না। কিন্তু তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ধুকপুক করতে লাগল। যেন নিজের হৃদস্পন্দন নিজেই শুনতে পাচ্ছে। ত্রিয়াশও সেটা বুঝতে পারছিল। আইলিনকে স্বাভাবিক করতে হালকা মজা করে বলল,

“না ধরলাম, না ছুঁলাম—কিছুই তো করলাম না। তবুও বুকের মধ্যে এমন ধুকপুক করছে কেন? তাকে বলো একটু চুপ করে থাকতে।”

কথাটা শুনে আইলিনের লজ্জা আরও বেড়ে গেল। এতটাই অস্বস্তি লাগছিল যে সেখানে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। চলে যাওয়ার জন্য নড়তেই ত্রিয়াশ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,

“কাল রাতের কথা জানেন, ম্যাডাম?”

আইলিন ভ্রু কুঁচকে তাকাল। অবাক হয়ে বলল,

“কেন? কী হয়েছে?”

ত্রিয়াশ নিজের গত রাতের পাগলামির কথা বলল না—কারণ সেটা বললে আইলিন হয়তো আরও বেশি লজ্জা পাবে। তাই একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে, বুকে হাত গুঁজে শান্তভাবে বলল,

“কাল রাতে ইউভি আর নিশির বিয়ে হয়েছে।”

কথাটা শুনে আইলিন যেন আকাশ থেকে পড়ল। এত বড় ঘটনা ঘটে গেল, আর সে কিছুই জানে না! কেমন করে বিয়ে হলো, কখন হলো—কিছুই তো তার জানা নেই।

ত্রিয়াশের কথা শেষ হওয়ার আগেই সে দৌড়ে চলে গেল, আসল ঘটনা জানার জন্য।

আইলিন তাড়াহুড়ো করে পা চালিয়ে আসছিল। হঠাৎ সামনে থাকা ইউভির সঙ্গে ধাক্কা লেগে সে পড়ে যেতে নিল। ঠিক তখনই ইউভি দ্রুত হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল। পুরো ঘটনাটা দূর থেকে দেখে ফেলেছিল ত্রিয়াশ। সে তড়িঘড়ি করে এগিয়ে এসে আইলিনকে ইউভির কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে বলল,

“খবরদার! আমার বউকে ধরবি না। তোর বউ আছে, তাকে গিয়ে ধর।”

ইউভি কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই আইলিন অবাক হয়ে বলল,

“ইউভি ভাইয়া, আপনি কখন বিয়ে করলেন? আমাকে রেখেই এত আয়োজন হলো?”

ইউভি মুখটা ভোতা করে নিজের ছেঁড়া টি-শার্টের দিকে তাকিয়ে বলল,

“কোনো আয়োজন হয়নি। এই যে দেখছো, এই ছেঁড়া টি-শার্ট পরেই বিয়ে হয়ে গেছে।”

আইলিন হেসে খুশি হয়ে বলল,

“যেভাবেই হোক বিয়েটা তো হয়েছে! আপনাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেয়েছে—আলহামদুলিল্লাহ।”

ইউভি এবার অস্বস্তি নিয়ে ত্রিয়াশের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলল। ত্রিয়াশও তার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

“আমার বোনের সঙ্গে প্রেম করবি, ভাবছিস আমি কিছু জানি না? সবই জানি। আমার বোনকে সারাজীবন সুখে রাখবি, গাধা।”

ইউভি একটু বিরক্ত হয়ে বলল,

“তাহলে আইলিনের আশেপাশে এলেই লুচির মতো ফুলে উঠিস কেন?”

এর মধ্যেই আইলিন সেখান থেকে চলে গেছে। ত্রিয়াশ আবার ইউভির দিকে তাকিয়ে বলল,

“বউয়ের পাশে আসবি আর আমি বরফ হয়ে থাকব নাকি? খবরদার, আশেপাশে ঘেঁষবি না।”

এই বলে ত্রিয়াশ চলে গেল।

ত্রিয়াশের পেছনের দিকে তাকিয়ে ইউভি মুখ ভেংচি কেটে বিড়বিড় করে বলল,

“হুঁ! আমারও কিন্তু বউ আছে।”

কাল রাতের সব ঘটনা পৃথার মুখে শুনল আইলিন। তবে একটা বিষয় কেউই জানে না—গত রাতে আইলিনের নিজের সঙ্গে কী ঘটেছিল। তবুও আজ তাকে বেশ খুশি দেখাচ্ছে। ভালোবাসার পূর্ণতা দেখতে তার ভীষণ ভালো লাগে।

দুই বান্ধবী বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দিল। পৃথা আইলিনের ভেজা চুল নিয়ে অনেকক্ষণ মজা করল। পরে তারা নিশির সঙ্গেও কিছুক্ষণ গল্প করল। গল্প করতে করতেই সময় গড়িয়ে সকাল সাড়ে এগারোটা বেজে গেল। অনেক দিন হয়ে গেছে তারা গ্রামে এসেছে, এবার আবার শহরে ফিরে যেতে হবে।

আড্ডা শেষে আইলিন যখন ফিরছিল, তখন রিদিশার ঘরের সামনে এসে থামল। ভেতরে ঢুকে দেখল, রিদিশা মন দিয়ে কাঁথা সেলাই করছে। আইলিনকে দেখে সে হাসিমুখে বলল,

“ওখানে দাঁড়িয়ে কেন, ভেতরে আসেন ভাবি।”

আইলিন কাছে গিয়ে কাঁথাটা দেখে একটু অবাক হয়ে বলল,

“এত ছোট কাঁথা দিয়ে কী করবে?”

রিদিশা মৃদু হেসে জবাব দিল,

“আইরা ভাবিকে দেবো। সে তো এখন অন্তঃসত্ত্বা।”

আইলিন কিছুক্ষণ সেখানে বসে রিদিশার সঙ্গে গল্প করল, তারপর আবার চলে গেল। তবে একটা বিষয় তার নজর এড়াল না—ইউভির বিয়ে হয়ে গেছে, তবুও রিদিশা হাসিমুখে আছে। হয়তো এটাই একতরফা ভালোবাসার নিঃশব্দ কষ্ট।

বিকাল ঠিক চারটা। রান্নাঘরে গিন্নিরা ইফতারের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত—কেউ ফল কাটছে, কেউ শরবত বানাচ্ছে, আবার কেউ রান্নার শেষ প্রস্তুতিতে মগ্ন। আর ড্রয়িংরুমে এই মুহূর্তে পরিবারের প্রায় সবাই একসাথে বসে আছে। সারাদিন রোজা রেখে ক্লান্ত হয়ে নিয়তি নিজের ঘরে ঘুমিয়ে আছে। অন্যদিকে নিশি আজ সারাদিন কারোর সাথেই তেমন কথা বলেনি, চুপচাপ নিজের ঘরেই আছে।

ড্রয়িংরুমের সোফায় বড়রা বসে গল্প করছেন। একটু দূরে মেঝেতে মাদুর পেতে বসেছে রিদিশা, পৃথা আর আইলিন। তারা তিনজন মিলে ইফতারের জন্য ফল কাটাকাটি করছে আর মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে হালকা গল্পও করছে।

ঠিক তখনই ত্রিয়াশ ফোনে কারোর সাথে কথা শেষ করে ড্রয়িংরুমে ঢুকল। ভেতরে এসে সে সরাসরি তার বাবা নাহিদ মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল,

“তুমিও যাবে নাকি, আমার একাই যেতে হবে?”

নাহিদ মির্জা কিছু বলার আগেই তিশা বেগম সেখানেই এসে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন,

“কই যাবি বাপ?”

ত্রিয়াশ শান্ত গলায় বলল,

“কাল আমার বিজনেসের কাজে সিঙ্গাপুরে যেতে হবে।”

এটা অবশ্য তিশা বেগমের কাছে নতুন কিছু নয়। ব্যবসার প্রয়োজনে মাঝেমধ্যেই এদের বিদেশ যেতে হয়—তিনি সেটা ভালো করেই জানেন।

ফল কাটতে কাটতে আইলিনও কথাটা শুনল। অজান্তেই তার বুকের ভেতর কেমন একটা অদ্ভুত কষ্ট জমে উঠল। কেন এমন লাগছে, সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারল না।

ত্রিয়াশ হঠাৎ একবার আইলিনের দিকে তাকাল। চোখাচোখি হতেই মুহূর্তের জন্য দুজনেই থমকে গেল। এরপর ত্রিয়াশ আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেল।

তাদের দুজনের চোখাচোখি ইউভি দেখলো, নিলয়ের কাছে এসে ফিসফিস করে বলে,

“ ভাই, ওই বেডা চলে যাওয়ার আগে এদের মধ্যে কিছু ঘটানো দরকার। ”

“ কি ঘটাবি তুই? ”

“ দেখোই না কি করি। ”

“ উল্টো পাল্টা কিছু করিস না, ত্রিয়াশ রেগে যাবে। ”

“ রাগতে থাকুক, আমি আমার কাজ করবোই।

নিলয় কিছু বলল না। তার জানা আছে এর মাথায় যা ভর করবে তাই করবে।

চলবে,,

[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন