গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ৩০
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
ঈদের আনন্দে চারপাশ সেজে উঠেছে। কোথাও কেনাকাটার ভিড়, কোথাও পরিবার-পরিজনের হাসি–খুশি। মানুষ নতুন জামা পরে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—ঈদ সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনে না। কারও কারও জীবনে এই উৎসবের দিনেও নেমে আসে গভীর শোক আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার।
হাসপাতালের আইসিইউ রুমের পাশের ছোট্ট ওয়েটিং রুমটিতে বসে আছে ত্রিয়াশ। দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে, দুই হাঁটুর ওপর হাত রেখে, কপালে হাত ছুঁইয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে সে। তার প্রিয়তমা স্ত্রী আইলিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে আইসিইউতে। প্রায় ছয় ঘণ্টা হয়ে গেছে—আইলিন হাসপাতালের বেডে নিথর পড়ে আছে, আর প্রতিটি মুহূর্ত যেন ত্রিয়াশের হৃদয়কে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
রাত তখন প্রায় দশটা। দেড় ঘণ্টা আগেই ত্রিয়াশ সিঙ্গাপুর থেকে এসে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছেছে। সবকিছু যেন খুব দ্রুত ঘটে গেছে, কিন্তু তার কাছে সময়টা মনে হচ্ছে অসীম দীর্ঘ।
ছয়ঘন্টা আগের দৃশ্য যেন এখনও তাদের চোখে ভাসছে। পিচঢালা রাস্তায় আইলিনের নিথর দেহ পড়ে ছিল। ইউভি তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছুটছিল। রাস্তার ধারে পড়ে ছিল আইলিনের ফোন, যা একটানা বেজেই চলছিল। নিশি কাঁপা হাতে ফোনটি তুলে নেয়। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ত্রিয়াশের নাম।
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ত্রিয়াশ কিছু বলার আগেই নিশি কাঁপা গলায় শুধু বলতে পেরেছিল,
“ভাইয়া… ভাবি এক্সিডেন্ট করেছে।”
একটি বাক্যই যেন ত্রিয়াশের পুরো পৃথিবী ওলটপালট করে দিয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে বুকের ভেতর সবকিছু ভেঙে পড়েছিল। আর কোনো কিছু না ভেবে তড়িঘড়ি করে টিকিট বুক করে সে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে আসে—সরাসরি হাসপাতালে।
এসে থেকেই সে ওই ওয়েটিং রুমে বসে আছে। চোখ দুটো অসম্ভব লাল, যেন অনেকক্ষণ ধরে কান্না চেপে রেখেছে। চুলগুলো এলোমেলো, মুখে ক্লান্তি আর ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। তার সমস্ত মন, সমস্ত প্রার্থনা এখন আইসিইউর ওই দরজার ওপারে—যেখানে আইলিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে।
টলমল পায়ে ধীরে ধীরে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল ত্রিয়াশ। এখনো পর্যন্ত সে আইলিনকে দেখেনি, তবে মনে একটু আশার আলো জ্বলছে। ডাক্তার বলেছে ভাগ্য সহায় ছিল বলেই বড় কিছু হয়নি। কপাল, হাত আর পায়ে বেশ কয়েকটা কেটে গেছে—অনেক র'ক্তও পড়েছে, কিন্তু আপাতত বিপদের কিছু নেই।
ত্রিয়াশকে উঠতে দেখে ইউভি এগিয়ে এলো। নিঃশব্দে এসে তার কাঁধে হাত রাখল। ত্রিয়াশ একটু ঘাড় বাঁকিয়ে তার দিকে তাকাল। তারপর খুব শান্ত, প্রায় নিস্তেজ স্বরে বলল,
“আমি না আসা অব্দি ওকে দেখে রাখিস।”
ইউভি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“কোথায় যাবি?”
ত্রিয়াশের চোখে তখন অন্যরকম একটা কঠিন ছায়া। সে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
“কিছু কাজের হিসাব দিতে।”
কথা শেষ করেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। হনহনিয়ে হেঁটে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে গেল ত্রিয়াশ।
এই মুহূর্তে হাসপাতালে শুধু ইউভি আর নিভান আছে। তারা বাকি সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ত্রিয়াশ এই সময়ে কোথায় গেল, কী করতে গেল—সেটা দু’জনের কারোরই ঠিক বুঝে উঠতে পারল না।
।
।
পুরো বাড়িটা নিস্তব্ধ। চারপাশে মৃদু আলো জ্বলছে, কিন্তু আশেপাশে কারও উপস্থিতি নেই। নিঃশব্দ পায়ে সিঁড়ি বেয়ে করিডোর পেরিয়ে সে বাম পাশের ঘরের সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আস্তে করে দরজাটা ঠেলে খুলে ভেতরে ঢোকে। ঘরের ভেতর বিছানায় একজন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
হঠাৎ করেই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘুমন্ত ব্যক্তির গলা চেপে ধরে।
হঠাৎ আক্রমণে ঘুমন্ত ব্যক্তি ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। লিসা চোখ মেলে সামনে তাকাতেই দেখে—তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ত্রিয়াশ। তার চোখে জ্বলছে তীব্র রাগ।
লিসা কষ্টে গলায় হাত দিয়ে কাশতে কাশতে বলে, “কি করছো? পাগল হয়ে গেছো নাকি?”
কিন্তু ত্রিয়াশের রাগ তখন চরমে। কোনো কথা না শুনেই সে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় লিসার গালে। রাগে গর্জে উঠে বলে,
“পাগল আমি নাকি তুই হয়েছিস? তোর সাহস দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেছি!”
লিসা বিস্মিত আর ব্যথিত চোখে তাকিয়ে বলে, “আমি আবার কী করেছি?”
ত্রিয়াশ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“কি করিস নি সেটা বল! আমার নামে আইলিনের কাছে কীসব উল্টোপাল্টা কথা বলেছিস! আমার আর আমার বউয়ের মধ্যে ঝামেলা লাগিয়ে দিয়ে তুই এখানে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিস? হোয়াই দা হেল ডিড ইউ ডু দ্যাট? আনসার মি!”
ত্রিয়াশ রাগান্বিত হয়ে চেচিয়ে শেষ কথা গুলো বলল। তার চোখের মধ্যে এমন ক্রোধ দেখা গেল যে লিসা ভয়ে সটান সরে গেল। আগে কখনো ত্রিয়াশকে এমন রাগান্বিত দেখেনি সে। ত্রিয়াশের রাগ এতটাই তীব্র যে, লিসার চুল ধরে বাম গালে পরপর দুইবার থাপ্পড় মারল। তারপর দুই গাল চেপে ধরে বলল,
“প্রথমবার কিছু বলেনি বলে এই না, তোর জন্য আমার ভালোবাসা উতলা পড়ছে। তোর মতো মেয়েকে ত্রিয়াশ কখনো ভালোবাসেনি, আর কখনো ভালোবাসবো না। তোর প্রতি আমার কোনো ফিলিংস কাজ করে না।”
লিসাকে ঝাড়ি মেরে ফেলে দিল। লিসার গালে র'ক্ত ঝরছে। সে ভালোভাবে বুঝতে পারছে যে, এখন ত্রিয়াশকে আরও রাগান্বিত করা সম্ভব নয়। ত্রিয়াশ নিজের অনুভূতি বোঝে, তাই লিসা পা ধরে ধরে অনুরোধ করতে থাকে,
“আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার ভুল হয়েছে।”
“ভুল জায়গায় ভুল করেছিস। নেক্সট টাইম আমার বউয়ের আশেপাশে দেখলে তোকে জানে মে'রে,”
ত্রিয়াশ শীতল স্বরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলল।
ঝাড়ি মেরে লিসাকে নিজের পায়ের কাছে থেকে সরিয়ে দিয়ে ঘর থেকে চলে গেল। লিসা কাঁদছে, তবে তার মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে।
কিছুক্ষণ আগেই ত্রিয়াশ বাসায় এসে সব সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছে—কেন হঠাৎ আইলিন তার সাথে রাগারাগি করছিল। বেডরুমে সিসিটিভি না থাকলেও প্রতিটি ঘরের দরজার সামনে ক্যামেরা ছিল যা চোখে পড়ে না। ফুটেজ দেখে ত্রিয়াশ বুঝতে পারল, সব নাটের মূল লিসাই। তার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল।
ত্রিয়াশ আবার গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে চলে গেল। তার মন চাচ্ছে আইলিনকে একবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে। জীবন যতই কঠিন হোক, চোখে কখনো পানি ঝরে না ত্রিয়াশের, কিন্তু আজ গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল ঘুরাতে ঘুরাতে বাম চোখের পানি অজান্তে ঝরে পড়ল। নিজের দুঃখকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে স্টিয়ারিং হুইলে সজোরে আঘাত করল।
বাম হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে, সেই পানির দিকে তাকিয়ে বলে,
“ত্রিয়াশের চোখেও আজ পানি জমে তার ল্যাভেন্ডারের জন্য। আমার অভিমানী বউ, আমাকেও একটু বোঝো, একটু কাছে টেনে নাও না…
তুমি যখন অভিমান করে দূরে সরে যাওয়ার চিন্তা করো , তখন মনে হয় বুকের ভেতরটা কেউ নিঃশব্দে ভেঙে দিচ্ছে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, চারপাশের সবকিছু ফাঁকা ফাঁকা লাগে।
ল্যাভেন্ডার, তুমি শুধু আমার ভালোবাসা নও—
তুমি আমার শান্তি, আমার হাসি, আমার বেঁচে থাকার কারণ। তুমি রাগ করো, অভিমান করো, তবুও আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা আর বলো না।
কারণ তোমাকে হারানোর ভয়টা আমার বুকের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা হয়ে বাজে। আমি সত্যিই তোমাকে ছাড়া অসহায়…তুমি ছাড়া আমার পৃথিবীটা অসম্পূর্ণ। ল্যাভেন্ডার, আমার অভিমানী বউ—
ভালোবাসি তোমাকে, খুব বেশি ভালোবাসি। ”
।
।
আধঘন্টার পথ পেরিয়ে ত্রিয়াশ হাসপাতালে পৌঁছালো। দ্রুত পায়ে আইসিইউর দিকে এগোচ্ছিল সে। আইসিইউয়ের সামনের একটি কেবিনে নিভান আর ইউভি বিশ্রাম নিচ্ছিল—আসলে তাদেরই বুকিং করা হয়েছিল। আর আইলিনকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল, ডাক্তাররা বলেছিলেন, যদি কালকের মধ্যে সে জ্ঞান ফিরে পায়, তখন অন্য বেডে নেওয়া হবে।
ত্রিয়াশ আজ কিছু খায়নি, শুধু খেজুর আর পানি দিয়ে ইফতার করেছে। তার ধীর ধাপে আইলিনের বেডের দিকে এগিয়ে চলা, চোখে পড়ল নিথর শরীর। বাম হাতে ক্যানোলা, মুখ নীলচে রঙে রঙিন, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যান্ডেজ। সবকিছু দেখে ত্রিয়াশের বুক ভরে উঠল এক অদ্ভুত যন্ত্রণা ও দুঃখে।
ধীরে ধীরে সে আইলিনের পাশে চলে এলো, হালকা করে টুল টেনে বসল। কাঁপা হাত দিয়ে আইলিনের মুখ স্পর্শ করল। তারপর নিজের মুখের উষ্ণতা দিয়ে আইলিনের কপালের কাছে ঠোঁট লাগাল। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু নেমে গিয়ে আইলিনের গালে ছুয়ে আসে।
আইলিনের ডান হাত নিজের কপালের সঙ্গে ঠেকিয়ে বসে আছে, ত্রিয়াশ। নিজেকে সে বড্ড অপরাধী মনে করছে। একবার আইলিনের হাত গালে ছোঁয়াচ্ছে,
তো একবার হাতের উল্টো পিঠে চুমু দিচ্ছে। এতো অস্থিরতা হয়তো আগে কখনো হয়নি। চুল উষ্কখুষ্ক হয়ে আছে, গায়ের গোছানো শার্ট এলোমেলো হয়ে গেছে।
কপালের সঙ্গে হাত ঠেকিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
“লিসার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আর কোনো অনুভূতিই কখনো কাজ করেনি। হ্যাঁ, এক সময় আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি—এই কারণটাই তোমাকে বলতে চাই।
তুমি শুধু একবার চোখ খুলো, সুস্থ হয়ে আমার বুকে ফিরে আসো, আমার প্রিয় ল্যাভেন্ডার, আমার জান বাচ্চা।”
এতটুকু বলে দীর্ঘশ্বাস ফেললো, চোখ বন্ধ করে আবারও বলে,
“তোমার নীরবতা আমাকে যন্ত্রণা দেয় পাখি। আমি যে কথা তোমাকে বলতে পারিনি সেই সত্যটাই হলো ভালোবাসা ঘৃণা করা আমি টা, তোমাকে ভীষণ রকমের ভালোবাসি, আমার বকুল ফুল।”
ত্রিয়াশ মাথা তুলে দেখল—আইলিন চোখ পিটপিট করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতে পারল না, আইলিন তার বলা কথাগুলো শুনেছে কি না। তবে এই মুহূর্তে সেটা জানারও ইচ্ছে হলো না তার। আইলিনের জ্ঞান ফিরেছে—এই আনন্দেই সে নরম করে আইলিনের চোখের পাতায় চুমু এঁকে দিল।
আইলিনের পুরো শরীরটাই ব্যথায় টনটন করছে। তবুও অভিমানে সে ত্রিয়াশের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য পাশে তাকিয়ে রইল। বিষয়টা ত্রিয়াশের চোখ এড়াল না। সে আইলিনের হাতটা শক্ত করে ধরে ভাঙা গলায় বলল,
“আমার প্রতি বড্ড অভিমান জমে গেছে, তাই না? আমি বকি… ভালোবাসতে জানি না। ঠিক আছে, সেই অভিমান থেকে আমাকে যত খুশি শাস্তি দাও। কিন্তু কখনো দূরে চলে যাওয়ার কথা ভেবো না।”
ত্রিয়াশের কণ্ঠে এমন অসহায়তা আইলিন এই প্রথম শুনল। তার চোখ ভরে উঠল পানিতে। ধীরে ধীরে সেই অশ্রু গড়িয়ে বালিশ ভিজিয়ে দিল। ত্রিয়াশ আবারও নরম গলায় বলল,
“তোমার চোখের পানি আমি সহ্য করতে পারি না…প্লিজ স্টপ ক্রাইং। ”
আইলিন যেন কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারলো না। গলা দিয়ে যেন সর বেরোচ্ছে না,এ-র মধ্যে শরীরে ব্যথা করছে। হালকা চাপা কান্নার আওয়াজ এখনো ভেসে আসছে। এটা ত্রিয়াশের সহ্য হচ্ছে না তবে রাগও দেখালো না। যত্ন করে আইলিনের মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে নরম কন্ঠে বলে,
“ আমি কি তোমাকে বকেছি? কাঁদছো কেন? আমি পাশে বসে আছি, তুমি ঘুমাও তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে হবে তো। ”
আইলিন চোখ বন্ধ করে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে ছিল। চোখের কোণ বেয়ে নীরবে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু। ত্রিয়াশ খুব যত্ন করে নিজের ডান হাত দিয়ে আইলিনের ডান হাতটি ধরে রাখল, আর বাম হাত দিয়ে আলতো করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। তারপর স্নেহভরে আইলিনের হাতের উল্টো পিঠে একটা চুমু দিল। ওষুধের প্রভাবে কিছুক্ষণ পর আইলিন আবার গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
।
।
রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেছে। এখন প্রায় সকাল এগারোটা। আইলিনকে অন্য একটি বেডে শিফট করা হয়েছে। পৃথা কিছুক্ষণ হলো হাসপাতালেই পৌঁছাল —সেই আসার পর থেকেই আইলিনের হাত ধরে বসে আছে। অনেক কাঁদার কারণে মেয়েটার চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ পর আইলিনের ঘুম ভাঙে। সামনে পৃথাকে বসে থাকতে দেখে সে মৃদু করে হাসল। কিন্তু কথা বলার মতো শক্তি তার মধ্যে নেই। পৃথা চোখের পানি মুছে কাঁপা গলায় বলল,
“তোকে বলেছিলাম, রাস্তায় বের হলে আমার হাত ধরে থাকবি। একা একা কেন রাস্তার মাঝে গেলি? এখন যদি কিছু হয়ে যেত, বিশ্বাস কর—নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারতাম না।”
কথা বলতে বলতেই পৃথা আবার কান্নায় ভেঙে পড়ে। আইলিন খুব আস্তে করে পৃথার ধরা হাতটা একটু শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বলল,
“কিছু হয়নি তো…”
পৃথা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
“যদি হয়ে যেত?”
আইলিন আর কিছু বলল না। তার শরীরটা খুব খারাপ লাগছে, পুরো শরীর জুড়ে ব্যথা। এর মধ্যেই তার বাবা-মা এসে পৌঁছালেন। সঙ্গে আইরাও এসেছে। আইরা আসার জন্য পাগল হয়ে ছিল। যদিও সে অন্তঃসত্ত্বা—এই অবস্থায় তাকে আসতে দিতে চাইছিল না নিলয়। কিন্তু তার জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনে তাকেও নিয়ে এসেছে।
বোনকে ব্যান্ডেজে মোড়া অবস্থায় দেখে আইরা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। আবার এক দফা কান্নায় ভেঙে পড়ল। তবে আইলিন এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয় বলে ডাক্তার বেডের কাছে বেশি ভিড় করতে নিষেধ করলেন। তাই একে একে সবাই বাইরে চলে গেল। আইলিনকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হলো। ওষুধের প্রভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই সে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।
চলবে,,
[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]