ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৩১তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৩১

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

সময়, মাস, বছর কখন যে কিভাবে কেটে যায়, তা বুঝে ওঠা যায় না—চোখের পলকেই যেন সব বদলে যায়। এভাবেই কেটে গেছে বারোটি দিন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আইলিন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। এই পুরো সময়টাতে ত্রিয়াশ একটুও অবহেলা করেনি তাকে। নিজের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ঘরের ভেতর আইলিনের যত্নও সে খুব সুন্দরভাবে সামলেছে।

দেখতে দেখতে এসে গেছে ঈদুল ফিতর। আজ চাঁদ রাত—পুরো মহল্লা যেন আনন্দে আর সাজসজ্জায় মুখর হয়ে উঠেছে। কোথাও গান বাজছে, কোথাও আবার ছোট ছোট বাচ্চারা উৎসাহ নিয়ে মেহেদি দিচ্ছে হাতে। চারদিকে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

নিশি আর নিয়তিও মেহেদি দিতে ব্যস্ত। কিছুক্ষণ আগেও আইলিন তাদের পাশে বসে ছিল, তাদের আনন্দে সঙ্গ দিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তার শরীরটা ভালো লাগছিল না, তাই ধীরে ধীরে উঠে নিজের ঘরে চলে গেল।

আইলিন গুটি গুটি পায়ে ঘরে ঢুকে দেখে, আজও ত্রিয়াশ ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে। এত কাজ কী করে—এই প্রশ্নটা তার ছোট্ট মাথায় কিছুতেই ঢোকে না। অভিমানে কিছু না বলে সে খাটের হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে পায়ের ওপর কাঁথা টেনে বসে মোবাইল টিপতে থাকে।

বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে, সঙ্গে দক্ষিণা বাতাস ঢুকে ঘরটা একেবারে ঠান্ডা করে দিয়েছে। শীত শীত লাগায় আইলিন ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ে। এদিকে ঠান্ডা হাওয়া টের পেয়ে ত্রিয়াশ উঠে গিয়ে জানালাগুলো বন্ধ করে দেয়।

বিছানার দিকে তাকিয়ে সে দেখে, আইলিন জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে। একটু চিন্তিত হয়ে ত্রিয়াশ কাছে এসে তার কপালে হাত দিয়ে দেখে—জ্বর এসেছে কি না। না, তেমন কিছু না। তবুও আইলিনের অভিমান কমেনি; সে এখনো ত্রিয়াশের সঙ্গে কথা বলেনি।

ত্রিয়াশের ছোঁয়ায় আইলিন একবার চোখ খুলে তাকায়, তারপর আবার সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ত্রিয়াশ নরম কণ্ঠে বলে,

“হাতে মেহেদি পড়বে না?”

আইলিন কোনো উত্তর দেয় না—না হ্যাঁ, না না। চুপচাপ চোখ বন্ধ করে থাকে। তার এই নীরবতায় ত্রিয়াশ নিঃশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর ধীরে ধীরে তার পাশে বসে আইলিনের চুলে আলতো করে বিলি কেটে দেয়।

প্রায় দশ মিনিট পর ত্রিয়াশ খেয়াল করল, আইলিন ঘুমিয়ে গেছে। তার ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসির ঝলক ফুটে উঠল। নিঃশব্দে উঠে সে কাবার্ডের কাছে গেল। ড্রয়ার খুলে মেহেদি বের করল। তারপর আবার আস্তে করে আইলিনের পাশে ফিরে এসে খুব যত্ন করে তার হাতে মেহেদি লাগাতে শুরু করল।

আইলিন ঘুমের মধ্যে একটু নড়েচড়ে উঠতেই ত্রিয়াশ আরও সাবধান হয়ে গেল। ধীরে ধীরে তার হাতের তালুতে গোটা গোটা অক্ষরে লিখে দিল—

“আমি ত্রিয়াশের বউ”

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে দেখল, মেহেদি লাগাতে লাগাতে রাত দেড়টা বেজে গেছে। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে, অনেক জায়গায় মেহেদি লেগে গেছে। তবুও তার ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি।

মেহেদি দেওয়া শেষ করে আইলিনের হাতের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বিড়বিড় করে বলল—

“এই হাতটা এখন শুধু আমার নামেই রাঙা থাকবে।”

ত্রিয়াশ আইলিনের পাশে বসে তার হাতে আলতো করে বাতাস করতে থাকে, যেন মেহেদীটা দ্রুত শুকিয়ে যায়। যত্ন আর ভালোবাসা মিশে আছে তার প্রতিটি নড়াচড়ায়। এভাবে প্রায় বিশ মিনিট বাতাস করার পর সে আবার হাতটা পরিষ্কার করে দেয়। তারপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিজেও আইলিনের পাশে এসে শুয়ে পড়ে।

আজ তার মনটা ভীষণ হালকা আর আনন্দে ভরা। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল—নিজ হাতে তার প্রিয় মানুষটিকে মেহেদী পরিয়ে দেওয়ার। অবশেষে সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। এক অদ্ভুত তৃপ্তি আর সুখে ভরে ওঠে তার মন।

এই ভাবনাগুলো নিয়েই চোখ বন্ধ করে সে ধীরে ধীরে ঘুমের দেশে পাড়ি দিল।

।

।

সকালবেলার সেই চেনা সোনালি রোদের দেখা আজ মেলেনি। চারপাশে মেঘের গুমোট ভাব, যেন প্রকৃতিও একটু নীরব। খুব ভোরেই ত্রিয়াশ উঠে পড়েছে—ফজরের নামাজ আদায় করে আর ঘুমায়নি। অন্যদিকে, ঘুমের মাঝেই হঠাৎ আইলিনের মনে পড়ে যায়—আজ ঈদের দিন! সে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে।

তার মনে পড়ে, গতকাল সবাই হাতে মেহেদি দিলেও সে দেয়নি। একটু অভিমান নিয়ে ঠোঁট উল্টে নিজের হাতের দিকে তাকাতেই যেন চারশো ভোল্টের শক খেলো—তার হাত তো মেহেদির রঙে রাঙানো! হাতের তালুতে চোখ আটকে যায়, যেখানে সুন্দর করে লেখা— “আমি ত্রিয়াশের বউ”। মুহূর্তেই সব বুঝে ফেলে সে। বিশ্বাসই হচ্ছে না, ত্রিয়াশ এত সুন্দর করে মেহেদি দিতে পারে! অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক মায়াবী হাসি।

ঠিক তখনই ত্রিয়াশ ওয়াশরুম থেকে বের হয়, চুল মুছতে মুছতে। আড়চোখে আইলিনের সেই হাসিটুকু দেখে তার মন ভরে যায়। ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সে—পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে, সময় তখন প্রায় পৌনে আটটা।

আইলিন তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। তার মা আগেই বলে দিয়েছিলেন—আজকের দিনে যেন জামাইকে ঠিকমতো প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। দ্রুত ফিরে এসে সে ত্রিয়াশের হাতে জায়নামাজ, টুপি আর হাতঘড়ি তুলে দেয়। ত্রিয়াশ এতটাই খুশি হয়, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বের হওয়ার আগে সে আইলিনের কপালে একটুখানি চুমু এঁকে দেয়।

ড্রয়িংরুমে তখন সবাই জমায়েত। নামাজে যাওয়ার আগে সবাই মিষ্টিমুখ করে নেয়, তারপর একে একে বেরিয়ে পড়ে। এদিকে রান্নাঘরে ব্যস্ত তিশা বেগম আর মুনিরা বেগম—রান্না প্রায় শেষের পথে।

ছেলেরা নামাজে চলে যেতেই বাড়ির মেয়েদের গোসল করতে বলা হয়। কিন্তু বৃষ্টি নামায় চারপাশে হালকা শীত শীত ভাব, তাই আইলিনের একদমই ইচ্ছে করছে না গোসল করতে। বারবার বুঝিয়ে তিশা বেগম বলে ওঠেন,

“নতুন জামা পরো। যদি তোমার শ্বশুর এসে দেখে এখনো আগের পোশাকেই আছো, তাহলে কিন্তু রাগারাগি করবে। আর ত্রিয়াশও খুশি হবে না। ওর দেওয়া পোশাকটা পরো—আমার ছেলেটা খুব খুশি হবে।”

আইলিন শাশুড়ীর কথা অমান্য করল না; সে চুপচাপ চলে গেল। এদিকে নিশি আর নিয়তি নতুন পোশাক পরে প্রস্তুত হয়ে গেছে। নিজের ঘরে যাওয়ার পথে আইলিন আইরার ঘরে উঁকি দিয়ে দেখল—সেও নতুন জামা পরে নিয়েছে।

আইলিনও ফ্রেশ হয়ে নতুন পোশাক পরার জন্য এগিয়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে চুলে শ্যাম্পু করে ত্রিয়াশের দেওয়া অফ-হোয়াইট রঙের একটি থ্রি-পিস পরে বের হলো। মুখে হালকা প্রসাধনী, ঠোঁটে নুড লিপস্টিক আর চোখে কাজল—সব মিলিয়ে তাকে ভীষণ সুন্দর লাগছিল।

এরই মধ্যে নিচ থেকে হট্টগোলের শব্দ ভেসে এলো, বুঝা গেল তারা নামাজ শেষ করে ফিরে এসেছে। আইলিন মাথায় ওড়না টেনে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেল।

আইলিন নিচে নেমেই দেখল ঘর ভরে গেছে কোলাহলে—সবার মুখে হাসি, আর সালামি দেওয়ার হইহট্টগোল। সে সিঁড়ি বেয়ে নামতেই একে একে সবাই তাকে সালামি দিতে শুরু করল। এত সালামি জীবনে এই প্রথম—খুশিতে তার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তবে সেই আনন্দের মাঝেই একটুখানি খচখচানি রয়ে গেল—ত্রিয়াশ এখনো তাকে কিছুই দেয়নি।

অভিমানে গাল ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকল আইলিন। বিষয়টা ত্রিয়াশ ঠিকই বুঝল, আর মনে মনে মজা নিল। কিছুক্ষণ পর আইলিন আবার তাকিয়ে দেখে, ত্রিয়াশ আশেপাশে নেই—সম্ভবত ঘরে চলে গেছে। এরই মধ্যে তার বাবা-মায়ের সাথেও কথা বলা শেষ। শ্বশুরবাড়িতে প্রথম ঈদ, তাই সবার কাছ থেকেই বেশ ভালো পরিমাণ সালামি পেয়েছে সে।

সবগুলো গুছিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে পা ফেলে নিজের ঘরের দিকে এগোল আইলিন।

ঘরে ঢুকে দেখে ত্রিয়াশ নেই। একটু ইতস্তত করে বেলকনির দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখে, সে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। বুকের ভেতরটা হালকা ধুকপুক করতে থাকে, তবুও সাহস সঞ্চয় করে পেছন থেকে নরম স্বরে বলে উঠল—

“ঈদ মোবারক।”

ত্রিয়াশ ঘুরে তাকিয়ে মুচকি হাসল। তার কণ্ঠেও মিশে ছিল কোমলতা— “ঈদ মোবারক, বউ।”

‘বউ’ শব্দটা শুনে আইলিনের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। শব্দটা তার খুব ভালো লাগে—এক অদ্ভুত আপন অনুভূতি জড়িয়ে থাকে এতে। কিন্তু সে চুপ করে রইল। হাতের ওড়নার কোণা নিয়ে কখনো গিঁট দিচ্ছে, আবার খুলছে—অস্থিরতা স্পষ্ট।

ত্রিয়াশ বুঝে ফেলল সবই। সে কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে ঘরে ঢুকে গেল। আইলিনও তার পিছু পিছু গেল।

ত্রিয়াশ আলমারি থেকে একটি ছোট বাক্স বের করে আইলিনের হাতে ধরিয়ে দিল।

কৌতূহল আর হালকা উত্তেজনা নিয়ে আইলিন বাক্সটা খুলল। ভেতরে সুন্দর করে রাখা চকচকে নতুন এক হাজার টাকার নোটের একটি বান্ডেল। তার সাথে একটি ছোট চিরকুট…সেখানে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা,

“প্রিয় বেগম, আপনার সালামি—মায়া, স্নেহ আর আন্তরিক অনুভূতির এক সুন্দর প্রকাশ।একান্তই আপনার জন্য।”

চিরকুটটা পরে আপনা আপনি তার ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি দেখা গেল। ত্রিয়াশ ওই ঠোঁটের হাসি দেখে দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে,

“ ঈদ উপলক্ষে আমাকে কি দিবেন ম্যাম? ”

চোখ তুলে ত্রিয়াশের দিকে তাকিয়ে দেখলো। ত্রিয়াশ ভ্রু জোড়া নাচিয়ে আবারও ইশারায় বুঝালো। আইলিন মনকাড়া হেসে বলে,

“ আপাতত কিছুই নাহ। ”

বলেই খিলখিল করে হাসলো যা মুগ্ধ নয়নে ত্রিয়াশ দেখতে ব্যস্ত। এ হাসিতে সে শতবার খু"ন হচ্ছে।

।

।

ড্রয়িংরুমে সোফায় গাল ফুলিয়ে বসে আছে ইউভি। মুখটা ভার করে রেখেছে—তার অভিমানের কারণও যথেষ্ট। নিশি তার কাছ থেকে সালামি নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিনিময়ে একটা শুকনো চুমুও দেয়নি। এই অন্যায় সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।

এমন সময় ত্রিয়াশ এসে ইউভির পাশে বসল। হাতে ফোন, অন্যমনস্কভাবে স্ক্রল করতে করতে একবার তাকিয়ে বলল,

“মুখে ঠাটা পড়ছে নাকি?”

ইউভি বিরক্ত গলায় উত্তর দিল,

“ঠাটা না, মি'সাইল পড়ছে! বা'লের বউ সালামি নিয়ে পালিয়েছে, আমাকে একটা শুকনো চুমুও দেয়নি।”

ত্রিয়াশ একটু গলা খাঁকারি দিয়ে সোজা হয়ে বসল, কিন্তু কিছু বলল না। ইউভি কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর হঠাৎ শব্দ করে হেসে উঠল।

ত্রিয়াশ ভ্রু কুঁচকে তাকাল, বুঝতে পারছে না হঠাৎ হাসির কারণ কী।

ইউভি হাসি থামিয়ে বলল,

“তোর বউও কিছুই দেয়নি, তাই না? এখন আমার শান্তি লাগছে—অভাগার দলে শুধু আমি না, তুইও আছিস!”

ত্রিয়াশ এবারও কিছু বলল না, শুধু চুপচাপ মুখ ফিরিয়ে রইল। দু’জনেরই কথা যেন কোথাও গিয়ে আটকে গেল।

ঠিক তখনই নাহিদ মির্জার ডাক শোনা গেল—সবাইকে খাবার টেবিলে আসতে বলা হচ্ছে। আজকের দিনে সবাই একসাথে, পাশাপাশি বসে খাবে।

বিশাল বড় টেবিলে একে একে সবাই এসে বসে পড়ল। হাসি-আনন্দে ভরে উঠল চারপাশ। জড়িনাকেও বসতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সে টেবিলে বসতে অভ্যস্ত নয়। তাই খাবার নিয়ে চুপচাপ নিজের ঘরে চলে গেল।

আজকের খাওয়াটা একটু আলাদা—সবাই হাত দিয়ে, একসাথে ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। পরিবারে এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই যেন আনন্দকে আরও গভীর করে তুলছে। এটাই হয়তো জয়েন ফ্যামিলির অন্য রকম এক আনন্দ।

খাবারের পর্ব শেষ হতেই সবাই নিজ নিজ ঘরে চলে গেল। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে—যেন পুরো পরিবেশটা আরও শান্ত, স্নিগ্ধ হয়ে উঠেছে। আজ ঈদের দিন, সবারই পরিকল্পনা ছিল একসঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার। কিন্তু এই বৃষ্টির কারণে আপাতত বাইরে যাওয়া স্থগিত রাখা হলো। ঠিক হলো, বিকেলে একটু বিশ্রাম নিয়ে তারপর বের হওয়া যাবে।

ত্রিয়াশ নিজের ঘরে এসে পাঞ্জাবি খুলে বিছানার ওপর ধপ করে শুয়ে পড়ল। মাথাটা বেশ ধরেছে তার। চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতেই আইলিনও ঘরে ঢুকল। তাকে দেখে ত্রিয়াশ নরম গলায় বলল,

“মাথাটা খুব ব্যথা করছে… একটু টিপে দাও তো।”

আজ আইলিনের মনে কোনো অভিমান নেই। সে চুপচাপ ত্রিয়াশের মাথার পাশে বসে আলতো করে মাথা টিপে দিতে লাগল। লিসা কিছু দিনের জন্য চলে যাওয়ায় তার মনও এখন অনেকটা হালকা।

বাইরের ঠান্ডা, বৃষ্টিভেজা আবহাওয়া আর আইলিনের স্নেহমাখা স্পর্শে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ল ত্রিয়াশ। কিছুক্ষণ পর সেই শান্ত পরিবেশে আইলিনও তার পাশে শুয়ে পড়ল, যেন নিঃশব্দে ভাগ করে নিল সেই প্রশান্ত মুহূর্তটা।

চলবে,,

[বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনাদের ঈদ কেমন কাটছে,সবাই কে ঈদ মোবারক ❤️ অনেক দিন পর পর্র দিলাম সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন