গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ৩৩
(⚠️ সতর্কতা:
এই পর্বে কিছু রোমান্টিক দৃশ্য রয়েছে। তাই সবাই নিজের বিবেচনায় পড়বেন।)
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
রাত অনেকটা গভীর হয়ে এসেছে। চারদিকে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা—শুধু মাঝে মাঝে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মৃদু শব্দ সেই নীরবতাকে ভাঙছে। হালকা ঠান্ডা বাতাসও মাঝে মধ্যে জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকে পরিবেশটাকে আরও শীতল করে তুলছে।
ত্রিয়াশ দ্রুত পায়ে এসে নিজের ঘরের দরজার সামনে থামল। তার বুকটা অদ্ভুতভাবে ধড়ফড় করছে, শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে। কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরছে। কী হচ্ছে তার সঙ্গে—সে নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। শুধু মনে হচ্ছে, ভেতরের কোনো অজানা তাড়না যেন তাকে গ্রাস করে নিচ্ছে।
ধীরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামে বিছানায় ঘুমন্ত আইলিনের ওপর। নরম আলোয় আইলিনকে আরও বেশি কোমল, আরও বেশি আপন লাগছে। তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে বালিশে ছড়িয়ে আছে, ঠোঁট দুটো হালকা ফাঁক, আর নিঃশ্বাসের মৃদু ওঠানামা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
ত্রিয়াশ দরজাটা বন্ধ করে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বারবার নিজের মনকে বোঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু শরীর যেন কোনো কথাই শুনছে না। এক অচেনা আকর্ষণ বারবার তাকে টেনে নিচ্ছে। ধীরে ধীরে এক পা করে এগিয়ে আসে সে। আইলিনের কাছে গিয়ে একটু ঝুঁকে তার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে—চোখে এক ধরনের নেশা ভর করেছে।
আস্তে আস্তে নিজের ঠোঁট এগিয়ে নিয়ে যায় আইলিনের ঠোঁটের দিকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ যেন কিছু মনে পড়ে যায় তার। চমকে উঠে দ্রুত সরে দাঁড়ায়। ক্রমাগত মাথা নাড়িয়ে নিজের সঙ্গেই বিড়বিড় করে বলে ওঠে—
“না… না… আমি কী করতে যাচ্ছিলাম!”
ত্রিয়াশ এবার বুঝতে পারে, তার বিয়ারে নিশ্চয়ই কেউ কিছু মিশিয়েছিল। তা না হলে হঠাৎ করে এমন নিষিদ্ধ বাসনা জাগবে কেন? গরমে সে ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। নিজেকে সামলাতে আর ঠান্ডা করতে তড়িঘড়ি করে ওয়াশরুমে চলে যায়। শাওয়ার ছেড়ে নিচে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন ঠান্ডা পানি তার ভেতরের অস্থিরতাকে ধুয়ে মুছে ফেলবে।
প্রায় আধঘণ্টা পর ওয়াশরুম থেকে বের হলো ত্রিয়াশ। কোমড়ে জড়ানো সাদা টাওয়াল, আর হাতে আরেকটা টাওয়াল দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে ধীর পায়ে ঘরের ভেতর ঢুকল সে। এতক্ষণ ঠান্ডা পানির নিচে দাঁড়িয়ে থেকেও যেন শরীরের ভেতরের উত্তাপটুকু একটুও কমাতে পারেনি। বুকের ভেতর অকারণ এক অস্থিরতা ঘুরপাক খাচ্ছে—যেন নিজেকেই নিজের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চাইছে সে।
ত্রিয়াশ চুল মুছতেই ব্যস্ত, কিন্তু তার খেয়াল নেই—এই সময়েই আইলিনের ঘুম ভেঙে গেছে। বিছানার উপর গোল হয়ে বসে, দুই হাঁটু জড়িয়ে, পিটপিট চোখে তাকিয়ে আছে সে ত্রিয়াশের দিকে। ঘরের হালকা আলোয় ত্রিয়াশের উন্মুক্ত পিঠে ছোট ছোট পানির বিন্দুগুলো চিকচিক করছে, যেন ক্ষুদ্র নক্ষত্রের মতো ঝিলমিল করছে।
আইলিন কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকলেও খুব দ্রুতই বুঝতে পারল—কিছু একটা ঠিক নেই। ত্রিয়াশের ভঙ্গিতে এক ধরনের অস্থিরতা স্পষ্ট। তার শ্বাস-প্রশ্বাস, চোখের চাহনি—সবকিছুতেই যেন অদ্ভুত এক অশান্তি।
হঠাৎই দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল।
ত্রিয়াশের চোখ দেখে আইলিন থমকে গেল। চোখ দুটো অস্বাভাবিক রকম লাল, যেন জ্বরে পুড়ছে, কিংবা ভেতরে জমে থাকা কোনো অনুভূতির তাপে দগ্ধ হয়ে উঠেছে। তাকে কেমন অসুস্থ লাগছে—অচেনা, অস্থির, আর একটু ভয়েরও।
আইলিন তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে নেমে এল। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
“কি হয়েছে আপনার? এমন করছেন কেন?”
ত্রিয়াশ চোখ সরিয়ে নিল। যেন আইলিনের চোখের দিকে তাকানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে। নিম্ন স্বরে বলল,
“কিছু হয়নি… তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।”
এই উত্তর আইলিনের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য হলো না। তার মনে হলো, ত্রিয়াশ কিছু লুকোচ্ছে—আর সেটাই তাকে আরও বেশি অস্থির করে তুলছে। সে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে ত্রিয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে গেল।
আইলিনকে এত কাছে দেখে ত্রিয়াশের ভেতরের অস্থিরতা যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দটা যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। নিজেকে সামলাতে না পেরে সে আবার মুখ ফিরিয়ে নিল অন্য দিকে।
এই আচরণে আইলিনের ভ্রু কুঁচকে গেল। তার মনে হলো, ত্রিয়াশ ইচ্ছে করেই তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে—যেন তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আর সেই অনুভূতিটাই তার ভেতরে ক্ষীণ এক রাগের সঞ্চার করল।
সে এগিয়ে এসে ত্রিয়াশের কাঁধে হাত রাখল। একটু জোর করেই তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল। কণ্ঠে রাগ আর অভিমান মিশিয়ে বলল
“বারবার এদিকে-সেদিকে তাকিয়ে কী দেখছেন? আপনার সমস্যা কী, সেটা বলুন!”
ত্রিয়াশ যেন তার কথা ঠিকমতো শুনছেই না। অথবা শুনলেও বুঝতে চাইছে না। তার সমস্ত মনোযোগ এখন আইলিনের ওপর—তার চোখে, তার মুখে, তার এত কাছাকাছি উপস্থিতিতে।
তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে বদলে গেল—নেশাগ্রস্ত, গভীর, আর অদ্ভুতভাবে তীব্র।
এই দৃষ্টি হঠাৎই আইলিনকে অপ্রস্তুত করে দিল। সে খানিকটা কেঁপে উঠল। গলা শুকিয়ে এলো। মনে হলো—এই চোখের ভাষা সে বুঝতে পারছে… আর সেই বোঝাটাই তাকে অদ্ভুত এক অজানা অনুভূতিতে আচ্ছন্ন করে ফেলছে।
আইলিন অজানা এক ভয়ে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছিল, আর ত্রিয়াশ স্থির, ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছিল। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আইলিনের বুকের ধড়ফড়ানি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। পিছাতে পিছাতে একসময় তার পিঠ গিয়ে ঠেকে ঠাণ্ডা, নির্লিপ্ত দেওয়ালে। আর যাওয়ার জায়গা নেই—এই উপলব্ধিটাই যেন তাকে আরও স্থির করে দেয়।
ভয়ে তার শরীর শক্ত হয়ে যায়। সে নড়তে পারছে না, শুধু বারবার শুকনো ঢোক গিলছে। তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে, অথচ সে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে।
ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে কাছে আসে। তারপর দেওয়ালের দুই পাশে হাত রেখে আইলিনকে ঘিরে ফেলে। তার এই ঘনিয়ে আসা উপস্থিতিতে চারপাশের বাতাস যেন ভারী হয়ে ওঠে। আইলিন চোখ বন্ধ করে ফেলে, নিজের জামা মুঠো করে ধরে রাখে—যেন সেটাই তার শেষ আশ্রয়।
তার ঘাড়ে ত্রিয়াশের গরম নিশ্বাস পড়তেই আইলিন কেঁপে ওঠে। শরীর আরও কুঁকড়ে আসে, যেন সে নিজেকে যতটা সম্ভব ছোট করে ফেলতে চাইছে।
ত্রিয়াশ একটু ঝুঁকে আসে, তার কণ্ঠ নরম, কিন্তু গভীর—এক অদ্ভুত নেশা মিশে আছে তাতে। সে ফিসফিস করে বলে,
“আই নিড ইউ।”
কথাগুলো যেন সরাসরি আইলিনের ভেতরে গিয়ে লাগে। সে কোনো উত্তর দিতে পারে না, শুধু স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার বুকের ওঠানামা আরও দ্রুত হয়ে ওঠে।
ত্রিয়াশ আবারও ঝুঁকে আসে, তার কণ্ঠ এবার আরও গভীর, আরও মোহময়,
“আই ওয়ান্ট ইউ ক্লোজ টু মি… ডিপলি।”
আইলিন হালকা কেঁপে ওঠে। তার ভারী নিঃশ্বাসে বুক অস্বাভাবিকভাবে উঠানামা করছে। তার ভেতরে যেন এক অজানা অনুভূতির ঢেউ খেলে যাচ্ছে—ভয়, অস্বস্তি, আর অচেনা এক টান একসাথে মিশে গিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করে তুলছে।
চারপাশ নিস্তব্ধ, কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেই যেন তাদের দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আইলিন চোখ বন্ধ রেখেই দাঁড়িয়ে থাকে—কিছু বলার মতো শব্দ খুঁজে পায় না, শুধু অনুভব করে, এই মুহূর্ত তাকে এক অচেনা দিকের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
চোখ বন্ধ রেখেই আইলিন অনুভব করছিল—তার ওষ্ঠদ্বয় এক বলিষ্ঠ পুরুষের দখলে। সেই মানুষটি তার স্বামী, ত্রিয়াশ। যেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা তৃষ্ণা মেটাতে উন্মাদের মতো নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে সে। তার স্পর্শে ছিল এক অদ্ভুত তাড়না, এক ধরনের অধিকারবোধ। কিন্তু আইলিনের কাছে তা ধীরে ধীরে অসহ্য হয়ে উঠছিল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার, বুকের ভেতরটা হাঁসফাঁস করছিল। একসময় তার বাম গাল বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়ল।
আর সহ্য করতে না পেরে হঠাৎই সে ধাক্কা দিয়ে ত্রিয়াশকে সরিয়ে দিল। মুক্ত হতেই হাঁপাতে লাগল সে, যেন অনেকক্ষণ পানির নিচে ডুবে থাকার পর হঠাৎ ভেসে উঠেছে। ত্রিয়াশ তখন বুকের ওপর হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে, গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সেই চোখে যেন অদ্ভুত এক মিশ্র অনুভূতি—আকাঙ্ক্ষা, অধিকার, আর কিছুটা কঠোরতা।
হঠাৎই চোখাচোখি হয়ে যেতেই আইলিন দৃষ্টি সরিয়ে নিল। এখনও সেই চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকার সাহস তার হয়নি। বুকের ভেতরটা কেমন অজানা আতঙ্কে কেঁপে উঠল। কোনো কথা না বলে সে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে দৌড় দিল, যেন পালিয়েই বাঁচবে।
কিন্তু তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলো। কয়েক পা যেতেই ত্রিয়াশ তাকে ধরে ফেলল। এক ঝটকায় টেনে এনে নিজের উন্মুক্ত, বলিষ্ঠ বুকে চেপে ধরল। আইলিনের পিঠ গিয়ে ঠেকল তার শক্ত বুকে। তার চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিল ত্রিয়াশ, তারপর নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“কোথায় পালানো হচ্ছিল?”
আইলিন কাঁপা কণ্ঠে আমতা আমতা করে বলল,
“কো... কোথাও না।”
ত্রিয়াশ ভ্রু কুঁচকে একটু ঝুঁকে এল তার দিকে।
“এভাবে তোতলাচ্ছো কেন?”
আইলিন চোখ নামিয়ে বলল,
“আপনার এমন আচরণে... কেমন যেন ভয় লাগছে।”
ত্রিয়াশ মৃদু হাসল, কিন্তু কিছু বলল না। হঠাৎ সে আইলিনের ঘাড়ে গভীর এক চুম্বন এঁকে দিল। আইলিন কেঁপে উঠল। ত্রিয়াশ আবার ফিসফিস করে বলল,
“আই নিড ইউ।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আইলিন একটু দুষ্টুমি করে বলল,
“লিসাকে গিয়ে বলেন।”
এই কথা শুনে ত্রিয়াশের মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তেই বদলে গেল। তার মেজাজ চড়তে শুরু করল। এক ধাক্কায় আইলিনকে দেয়ালে চেপে ধরে দাঁত চেপে বলল,
“বউ লিসা, নাকি তুই? বল!”
আইলিন ভয়ে কেঁপে উঠল। তার চোখে পানি চলে এলো। ত্রিয়াশের শক্ত করে ধরা হাত যেন তাকে আরও ভীত করে তুলছিল। সে কাঁদতে শুরু করতেই ত্রিয়াশ বিরক্ত হয়ে ধমক দিল,
“কি হলো? উত্তর দে!”
কাপা গলায় ভেঙে ভেঙে বলল,
“আ... আমি...”
কথা শেষ করেই সে ডুকরে কেঁদে উঠল।
ত্রিয়াশ একটু থেমে গেল। তার রাগ ধীরে ধীরে নরম হয়ে এল। আইলিনকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
“হুঁশ... আর কাঁদবে না। বকবো না। যা চাই, তাই দাও।”
আইলিন কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কি... কি চান?”
“আই ওয়ান্ট ইউ ক্লোজ টু মি… ডিপলি।”
আইলিন আর কথা বলতে পারলো না। সে চুপচাপ, ত্রিয়াশের লোমযুক্ত বুকে মাথা রেখে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা হালকা শরীর কাঁপছে, বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে, ঠান্ডা বাতাসে জানালার পর্দাগুলো দুলছে। পুরো ঘরটি শীতল হাওয়ায় ভরে গেছে।
আইলিনকে চুপচাপ থাকতে দেখে ত্রিয়াশ ফিসফিস করে বলল,
“তাহলে কি ধরে নিবো, নীরবতা সম্মতির লক্ষণ?”
তবুও আইলিন চুপচাপ রইল। অজানা ভয়ে তার শরীর বারবার কেঁপে উঠছে।
ত্রিয়াশ আর কিছু বলল না। ঝুঁকে আইলিনকে কোলে তুলে বেডের দিকে এগিয়ে গেল।
সযত্নে আইলিন কে বেডে শুয়ে দিল। আইলিন লজ্জায় শক্ত করে চোখের পাতা বন্ধ করে আছে। ত্রিয়াশ নিজের সমস্ত ভড় আইলিনের ওপর দিল। দক্ষিণা বাতাস এসে ঘর শীতল করে দিচ্ছে । ত্রিয়াশ হাত বাড়িয়ে ল্যাম্প লাইট টা নিভিয়ে দিল। ঘরে হালকা আলো জ্বলছে। দক্ষিণা জানালার ফাক দিয়ে দেখা যাচ্ছে মেঘের ভেলা চাঁদের কোনো দেখা নেই। মেঘের আড়ালে ঢেকে গেছে।
এতক্ষণ না বুঝলেও এখন বুঝতে পারছে ত্রিয়াশের কিছু টা মাতলামি, তবে পুরো পুরি মাতাল হয়নি। নিজের ভাবনার মাঝে বুঝতে পারে ত্রিয়াশ তার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়েছে। সে খুব ভালোই বুঝেছে আজ ত্রিয়াশের উন্মাদনা তাকে সহ্য করতে হবে।
নিজের সমস্ত ভালোবাসা আইলিন কে দিতে ব্যস্ত হয়ে গেছে। গলায় থেকে মুখ তুলে আইলিনের নাকে গালে চুমু একে দিল। আইলিন ত্রিয়াশের ভালোবাসায় কেঁপে উঠে চুল খামছে ধরে। ত্রিয়াশ আস্তে করে তার কানের লতিতে ভেজা ঠোঁটের স্পর্শ দিল।
একটু নিচের দিকে এসে আইলিনের বুকে বাম পাশের তিলে গভীর ভালোবাসার স্পর্শ দিল। আইলিন শক্ত করে ত্রিয়াশের চুল খামছে ধরলো। চোখের কোন বেয়ে নোনাপানি গড়িয়ে পড়লো। এটা দুঃখের কান্না না, এটা আনন্দের কান্না তার ভালোবাসার মানুষ তার গভীর কাছে। চোখ বন্ধ অবস্থায় মনে মনে আওড়ালো,
“যেভাবেই হোক, এই শেষ চৈত্রের দিনে আপনি আমার অন্তরে প্রবেশ করেছেন। এই রাত ভুলবার নয়—এটি আমার ভালোবাসার রাত, আপনার ছোঁয়ায় মিলনের রাত। আজ থেকে নতুন গল্পের সূচনা, তাই আমি এ গল্পের নাম রাখলাম—#শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোয়া।”
ত্রিয়াশ নিজের গভীর ভালোবাসায় আইলিনকে আলোকিত করতে ব্যস্ত। সে সমস্ত উন্মাদনা, সমস্ত উদ্দীপনা নিয়ে এক অদ্ভুত উত্তাপের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে, আর আইলিন সেই উত্তাপের প্রতিটি মুহূর্ত দাঁত চেপে সহ্য করছে—যদিও তার মনে আছে কিছুটা কষ্ট, তবু ভালোবাসার আবেগ তাকে ধীরে ধীরে শান্ত করছে।
একটি রাত—যে রাতটি শুধুই তাদের জন্য তৈরি, যেখানে সময় থমকে গেছে। একটি ভালোবাসার রাত, যেখানে দুই হৃদয় এক হয়ে গেছে। এই রাত তাদের দম্পত্তির পূর্ণতা, একসাথে থাকা এবং একে অপরের স্পর্শে, চোখে, নিঃশ্বাসে মিলনের সৌন্দর্য।
ত্রিয়াশের উন্মাদনা এবং আইলিনের ধৈর্য—এই মিলনকে করে তুলেছে চূড়ান্ত, পূর্ণ এবং অবিস্মরণীয়। এক রাত্রি, যা শুধু ভালোবাসার নামেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
চলবে,,
[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]