ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৩৬তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৩৬ ( প্রথম অংশ)

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

সময় বহমান। সে কারোর জন্য অপেক্ষা করে না, নিজের গতিতে বয়ে চলে। কখন কি ভাবে কেটে যায় তা বোঝা যায় না। এভাবে দেখতে দেখতে কেটে গেছে এক মাস পনেরো দিন। আইলিনের ইয়ার পরীক্ষাও শেষ হয়েছে দুই দিন আগে।

এই দেড় মাসে ত্রিয়াশের সঙ্গে তার দিনগুলো কাটেছে নানা খুনসুটির মধ্য দিয়ে। আর আজ সেই দিনটি, যার জন্য সে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছিল—আজ নিশি ও ইউভির গায়ে হলুদ।

পুরো বাড়ি ঝাকজমক করে সাজানো হয়েছে। আত্মীয় স্বজনরা আসছেন, অতিথি দিয়ে বাড়ি ভরে গেছে। কয়েকটি ছোট ছেলে-মেয়েরা চারপাশে দৌড়াদৌড়ি করছে। এই ভীড়ে আইলিন কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করছিল। তাই বাগান থেকে ঘরে চলে আসে। বাগানেই নিশি ও ইউভির হলুদ সাজানো হয়েছে।

আইলিন নিজের ঘরের বেলকনি থেকে একবার বাগানটা দেখল। গত কিছু দিন তার শরীর ভালো লাগছিল না। দুই দিন আগে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল, কিন্তু এখনো কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি; ডাক্তার বলেছিল কাল পাঠাবে। এই রিপোর্ট নিয়ে তার মাথা ভারী হয়ে আছে। সে চুপচাপ খাটের এক কোনায় বসে রইল।

আইলিনকে নিচে কোথাও না পেয়ে, ত্রিয়াশ ঘরে চলে আসে। ঘরে ঢুকে সে খাটের কোনায় বসে থাকা আইলিনকে দেখে। আস্তে করে এগিয়ে এসে নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

“মন খারাপ কিসের কারণে?”

আইলিন একটু স্থির হয়ে উত্তর দিল,

“মন খারাপ না। আসলে এতো ভীড় ভালো লাগছিল না, তাই চলে আসছি।”

“নিশি তো তোমাকে খুঁজছিল।”

“কেন?”

“তোমাদের গ্রুপ ডান্স আছে, ভুলে গেলে।”

আইলিনের মনে পড়তেই সে চুপ হয়ে গেল। তার মন চাইছিল না নাচতে। কিন্তু সবাইকে কথা দেওয়া হয়েছে। চুপচাপ উঠে আবার নিচে নামার জন্য পা বাড়ায়, তখনই ত্রিয়াশ বলে উঠল,

“ইচ্ছে না থাকলে দরকার নেই।”

আইলিন ত্রিয়াশের দিকে ঘুরে কোমরে দুই হাত দিয়ে বলল,

“শুনুন, আমরা মেয়েরা ছেলেদের কাছে হারছি না ওকে।”

“জোড়ায় জোড়ায় ডান্স হবে, হার-জিতের কি হলো?”

আইলিন বিরক্ত হয়ে বলল,

“যেভাবেই হোক, জেতা টা আসল।”

এবার আর অপেক্ষা না করে, আইলিন চুপচাপ আবারও নিচে চলে গেল।

আইলিন সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে নিচে নামছে—তার গন্তব্য বাগান। পেছন পেছন ত্রিয়াশও ছুটে আসছে। আইলিনকে এভাবে ছুটতে দেখে ত্রিয়াশ হালকা চিৎকার করে বলে ওঠে,

“সাবধানে যাও! পড়ে যাবে!”

কিন্তু কে শোনে কার কথা! আইলিন লেহেঙ্গার ঘের সামলে তুলে ধরে এক দমে বাগানে পৌঁছে যায়। দৌড়ে আসার কারণে তার শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠেছে, বুক উঠানামা করছে ছন্দহীনভাবে।

বাগানে এসে দেখে চারপাশে আনন্দের ঢেউ—অনেকে বিভিন্ন গানের তালে নাচছে। পরিবেশ যেন উৎসবের রঙে রাঙা। আইলিন দেরি না করে সরাসরি মিউজিকের কাছে গিয়ে নিজের পছন্দের গান চালাতে বলে। গান বাজতেই সে আবার বাগানের মাঝখানে ফিরে আসে, আর শুরু করে তার প্রাণভরা নাচ,

“Bole chudiyan, bole kangna

Haai main ho gayi teri saajna…”

নাচতে নাচতে হঠাৎ সে পেছন ফিরে তাকায়। বাগানের সব চোখ এখন তার ওপর স্থির। ত্রিয়াশ ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে, বুকের ওপর হাত রাখা—দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত মুগ্ধতা।

আইলিন পিছনে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে আগাতে থাকে, তাল মিলিয়ে এক পা, দুই পা… আর গেয়ে ওঠে,

“tere bin jiyo naiyo lagda, main te margaiya…”

এমন সময় গায়ে হলুদের অতিথিরা সবাই দৌড়ে এসে তাকে ঘিরে ধরে। মুহূর্তেই একসাথে নাচ আর গানের ঝড় বয়ে যায় চারপাশে,

“Le jaa le jaa, dil le jaa le jaa

Le jaa le jaa, soniye le jaa le jaa…”

আইলিন হঠাৎ দৌড়ে এসে ত্রিয়াশের চারপাশে ঘুরে নাচতে শুরু করে। তার হাতের চুড়িগুলো ঝনঝন শব্দ তুলে যেন গানের সাথে তাল মিলিয়ে বাজতে থাকে। হাসিমুখে সে আবার গেয়ে ওঠে,

“Bole chudiyan, bole kangna

Haai main ho gayi teri saajna…” (2)

তারপর আবার ছুটে গিয়ে মেয়েদের দলে মিশে যায়। নিশি, নিয়তি, এমনকি পৃথাও নাচে যোগ দিয়েছে। সবাই মিলে একাকার আনন্দে মেতে ওঠে। আশেপাশের মানুষ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে—এ যেন এক প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বসিত দৃশ্য।

সবাই একসাথে গেয়ে ওঠে,

“tere bin jiyo naiyo lagda, main te margaiya…

Le jaa le jaa, soniye le jaa le jaa…

Dil le jaa le jaa… ho…”

বাগানের মাঝখানে গিয়ে থেমে দাঁড়ায় ত্রিয়াশ। তার ঠিক পেছনেই একে একে এসে দাঁড়ায় ইউভি, নিভান, নিলয়—এমনকি তাদের ছোট ভাই-বোন, কাজিন আর বন্ধুদের পুরো দল। মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশ যেন উৎসবের রঙে ভরে ওঠে। হালকা বাতাসে গাছের পাতা দুলতে থাকে, আর সেই সঙ্গে শুরু হয় সুরের মায়াজাল। হঠাৎ ত্রিয়াশ গানের তালে তালে গেয়ে উঠে,

“Bole chudiyan bole kangna,

haai main ho gayi teri saajna…”

গানের তালে তালে সবাই নাচে মেতে ওঠে। কেউ তাল মিলিয়ে, কেউ বা এলোমেলোভাবে—কিন্তু সবার মুখেই খাঁটি আনন্দের ঝিলিক। ত্রিয়াশ ধীরে ধীরে দৌড়ে গিয়ে আইলিনের সামনে দাঁড়ায়। একটুখানি দুষ্টু হাসি দিয়ে সে আইলিনের ওড়নার কোণা ধরে টেনে নিজের কাছে আনে, আবার মজা করে দূরে সরিয়ে দেয়।

তার চোখে চোখ রেখে গেয়ে ওঠে,

“Tere bin jiyo naiyo lag da, main te margaiya…

Le jaa le jaa, soniye le jaa le jaa,

dil le jaa le jaa… ho ”

চারপাশে তখন মিউজিকের আওয়াজ আরও জোরে বাজতে থাকে। বিটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবাই একসঙ্গে নাচতে শুরু করে। ছেলে-মেয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই—সবাই একই ছন্দে, একই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। কেউ হাত তুলে নাচছে, কেউ ঘুরছে, কেউবা বন্ধুদের টেনে নিয়ে হাসতে হাসতে তাল কাটছে। যারা নাচছে না, তারাও হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে।

এই বিশৃঙ্খল অথচ আনন্দভরা নাচের মাঝেই ত্রিয়াশ আবার আইলিনের কাছে এসে তার হাত ধরে। দু’জন একসঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে থাকে—কখনো ধীরে, কখনো দ্রুত। তাদের চোখে চোখে এক অদ্ভুত বোঝাপড়া, যেন পুরো পৃথিবীটা এই মুহূর্তে থেমে গেছে, শুধু তাদের দু’জনের ছন্দই চলছে।

হঠাৎ করেই মিউজিক থেমে যায়।

চারপাশে এক মুহূর্তের নীরবতা—তারপরই ভেঙে পড়ে জোরে করতালির শব্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই তাদের এই প্রাণবন্ত পারফরম্যান্সের জন্য হাততালি দিতে থাকে।

নাচতে নাচতে বেশ হাঁপিয়ে গেছে আইলিন। সে ধীরে ধীরে বাগানের একপাশে গিয়ে একটি চেয়ারে বসে পড়ে। তার বুক উঠানামা করছে, কপালে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু জমেছে। ঠিক তার পাশেই এসে বসে ত্রিয়াশ। দু’জনেই ক্লান্ত, কিন্তু মুখে তৃপ্তির হাসি—একসঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তটা যেন তাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে চিরকাল।

পৃথা হাতে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এলো আইলিনের দিকে। এই মুহূর্তে ঠিক এই শরবতটিই যেন ভীষণ প্রয়োজন ছিল আইলিনের—একটানা নাচতে নাচতে তার গলা একেবারে শুকিয়ে গেছে। পৃথার বাড়িয়ে দেওয়া গ্লাসটি হাসিমুখে হাতে নিয়ে আইলিন এক নিঃশ্বাসে প্রায় পুরোটা খেয়ে ফেলল। শরবতের শীতলতা যেন মুহূর্তেই তার ক্লান্ত শরীরে একটু স্বস্তি এনে দিল।

এদিকে ত্রিয়াশ অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত। রাত প্রায় দশটা বাজতে চলেছে। কিছু অতিথি খাওয়া-দাওয়া সেরে ইতোমধ্যেই চলে গেছেন, তবে এখনও বাড়ি ভর্তি মানুষের কোলাহল। হাসি-আড্ডা আর গল্পে মুখর চারপাশ।

পৃথা এসে আইলিনের পাশে বসতেই গল্পের আসর জমে উঠল। ঠিক তখনই নিয়তি ছুটে এসে যোগ দিল তাদের সঙ্গে। নিয়তি তো আইলিনের নাচ দেখে একেবারে মুগ্ধ। তার চোখ-মুখে সেই মুগ্ধতার ছাপ স্পষ্ট।

খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে নিয়তি বলল,

“ছোট ভাবি, তোমার নাচের প্রেমে পড়ে গেছি!”

নিয়তির কথা শুনে পৃথা খিলখিল করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই সে মজা করে বলল,

“খোঁজ নিয়ে দেখো, আজকে তোমার মতো অনেক ছেলেই কিন্তু আইলিনের প্রেমে পড়ে গেছে!”

আইলিন একটু লজ্জা পেয়ে মৃদু বিরক্তির সুরে বলল,

“চুপ কর তোরা!”

তার কথা শুনে পৃথা আর নিয়তি দুজনেই থেমে গেল। তারপর নিয়তি আবার কথার মোড় ঘুরিয়ে উৎসাহভরা কণ্ঠে বলল,

“এই, তোমার কাপল ডান্সটা কবে হবে? ইশশ, আমি তো অপেক্ষা করেই আছি তোমাদের দুজনকে একসাথে নাচতে দেখার জন্য!”

এইটুকু বলেই সে আবার দৌড়ে চলে গেল নিশির কাছে।

এরই মধ্যে আইরা ধীরে ধীরে, পেটটা সামলে, আইলিনের কাছে এসে দাঁড়াল। সে-ও আইলিনের নাচের ভূয়সী প্রশংসা করল। যদিও অনেকেই আইলিনের নাচের প্রশংসা করছিল, তবুও কিছু কাকিমা আড়ালে-আবডালে মুখ বেঁকিয়ে নিজেদের মতো ফিসফাস করছিল—সেই চিরচেনা সমালোচনার সুরে।

এদিকে অতিথিদের খাওয়া-দাওয়া প্রায় শেষের দিকে। ত্রিয়াশ তখন কারো সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে এদিকেই আসছিল। হঠাৎ একজন মহিলা তাকে ডেকে বললেন,

“তুমি কি ত্রিয়াশ?”

ত্রিয়াশ ভদ্রভাবে উত্তর দিল,

“জ্বি, আন্টি।”

মহিলাটি মিষ্টি করে হেসে বললেন,

“তোমার সাথে একটু আগে যে মেয়েটা নাচ করল, সে কি তোমার কাজিন? মেয়েটা কিন্তু ভীষণ মিষ্টি!”

মহিলার কথাগুলো ত্রিয়াশের মোটেও ভালো লাগল না। তবুও ভদ্রতার খাতিরে সে হালকা একটা হাসি দিল। কিন্তু মহিলা থামলেন না, নিজের মতো করে আবার বলতে শুরু করলেন,

“আসলে মেয়েটাকে আমার ছেলের জন্য খুব পছন্দ হয়েছে। আমি চাই ওকে আমার ছেলের বউ করতে। তো বলো, তোমার বোনকে কি এখন বিয়ে দেবে?”

নিজের স্ত্রীকে ‘বোন’ বানিয়ে দিয়ে তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব—পরিস্থিতিটা ত্রিয়াশের কাছে এতটাই অস্বস্তিকর আর বিরক্তিকর হয়ে উঠল যে, তার মনে হচ্ছিল রাগে ফেটে পড়বে। নিজের বউয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিজের কাছেই আসছে—এ যেন এক অদ্ভুত, অসম্ভব এবং হাস্যকর পরিস্থিতি!

সে নিজেকে কোনোমতে সামলে রাখছিল। কিন্তু মহিলা যখন আবার কিছু বলার জন্য মুখ খুললেন, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না ত্রিয়াশ।

গম্ভীর কণ্ঠে সে বলল,

“আপনার স্বামীর বিয়ের প্রস্তাব যদি আপনার কাছেই আসত, তাহলে আপনি কী করতেন?”

মহিলা দাঁত চেপে রাগান্বিত স্বরে বললেন,

“যে বা যার জন্য আনত, দুজনকেই শীলপাটায় পিষে দিতাম!”

ত্রিয়াশের চোখে তখন রাগ স্পষ্ট। সে কঠিন কণ্ঠে বলল,

“তাহলে এখন আপনাকেই পিষে ফেলি? দাওয়াত খেতে এসেছেন, খেয়ে চুপচাপ চলে যান। অন্যের বউয়ের ওপর নজর দেওয়া বন্ধ করুন। নেক্সট টাইম কিন্তু আমি ছেড়ে দেব না।”

এই কথা বলেই ত্রিয়াশ রাগে হনহনিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।

আর মহিলা? তিনি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন—পুরো ঘটনাটা যেন হজম করতে পারছিলেন না। তার মুখে তখন এক ধরনের ভ্যাবাচেকা ভাব, যেন বুঝতেই পারছেন না ঠিক কী ঘটে গেল।

এসময় মঞ্চের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে, হাতে মাইক তুলে নিয়ে নিভান আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে চারদিকে তাকাল। চারপাশে জমে ওঠা উচ্ছ্বাস আর আনন্দের আবহ যেন তার কণ্ঠে নতুন মাত্রা যোগ করল। হালকা হাসি দিয়ে সে বলল,

“লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, অ্যাটেনশন প্লিজ! অনেকক্ষণ ধরে নাচ-গান আর আনন্দ তো হলোই। কিন্তু এবার আমরা শুরু করতে যাচ্ছি আরও একটি বিশেষ আয়োজন—কাপল ডান্স!

এখন সবাই নিজেদের পার্টনারের সঙ্গে জুটি বেঁধে নাচবে। তবে এই আয়োজনের একটা ছোট্ট চমকও আছে—সবাইয়ের মধ্য থেকে সেরা এক জোড়া কাপলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে!

তাই আর দেরি না করে, সবাই দ্রুত নিজেদের পার্টনারকে নিয়ে প্রস্তুত হয়ে যান। আজ ছোট-বড়, সবাই অংশ নেবে এই আনন্দে, সবাই নাচবে নিজের প্রিয় সঙ্গীর সঙ্গে।

তাহলে আর অপেক্ষা কেন? শুরু করা যাক আমাদের কাপল ডান্স!”

নিভানের কথা শেষ হতেই পুরো বাগান জুড়ে করতালির শব্দ বেজে উঠল। উচ্ছ্বাসে ভরে উঠল চারপাশ। সবাই হাসিমুখে নিজেদের পার্টনারের হাত ধরে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেল।

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৩৬ ( দ্বিতীয় অংশ)

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

নিভানের উচ্ছ্বসিত ঘোষণা শোনামাত্রই বাগানের চারপাশে যেন এক মুহূর্তে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত সবাই হইহই করে উঠল। বিয়ে মানেই তো আনন্দ, হৈ-হুল্লোড় আর হাসি-খুশির এক অনন্য মেলবন্ধন। যদিও কেউ কেউ এখনো নাচ-গান পছন্দ করেন না, তবে এই নতুন প্রজন্ম—যাদের আমরা “কাট জেনারেশন” বলি—তারা এসব বাধা মানে না। তাদের কাছে আনন্দ মানেই স্বাধীনভাবে উপভোগ করা, আর সেই আনন্দকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।

নিভান মাইকে ঘোষণা করল, আজকের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ—“কাপল ডান্স”। উপস্থিত প্রতিটি দম্পতিকে এই নাচে অংশগ্রহণ করতে হবে। ঘোষণাটি শোনার পর কেউ উচ্ছ্বাসে ভেসে উঠল, আবার কেউ একটু সংকোচে পড়ল। তবুও চারপাশের আনন্দঘন পরিবেশে সেই দ্বিধা ধীরে ধীরে গলে যেতে লাগল।

গ্রাম থেকে রহিম মিয়াও তার পুরো পরিবার নিয়ে নিশির হলুদের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এই শহুরে আয়োজনে তাদের চোখে-মুখে মিশে আছে বিস্ময় আর আনন্দের ছাপ। অন্যদিকে, রিদিশা বাগানের এক কোণে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে সবার নাচ-গান দেখছে।

এদিকে একে একে দম্পতিরা বাগানের মাঝখানে জড়ো হতে শুরু করল। আজকের বিশেষত্ব হলো—শুধু তরুণ-তরুণীরাই নয়, তাদের বাবা-মায়েরাও এই কাপল ডান্সে অংশ নিচ্ছেন। তিশা বেগম ও নাহিদ মির্জা, মুনিরা বেগম ও নিখিল মির্জা—তারাও এগিয়ে এলেন, নিজেদের ছেলে ও পুত্রবধূদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে। বয়স যেন আজ কোনো বাধা নয়, বরং আনন্দের স্রোতে সবাই একাকার।

পৃথা ও আহান, ইউভি ও নিশি—এভাবেই একের পর এক জুটি বাগানের মাঝে এসে দাঁড়াল। শেষমেশ ত্রিয়াশ ও আইলিনও যোগ দিল। এতগুলো কাপলের মাঝে আজ একজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, তবে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে অংশগ্রহণের আনন্দ।

বাকি অতিথিরা চারপাশে বসে গভীর আগ্রহে এই মনোমুগ্ধকর কাপল ডান্স উপভোগ করবে। করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। হলুদের অনুষ্ঠান যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে—আরও বেশি জমজমাট, আরও বেশি প্রাণবন্ত।

এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, এই আনন্দ, এই মিলনমেলা—এটাই যেন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর রঙ।

বাগানের চারপাশে হঠাৎ করেই সব লাইট নিভে গেল, আর মুহূর্তের মধ্যেই রঙিন আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। সেই নরম, মোহনীয় আলোয় আলোকিত হয়ে উঠলো প্রতিটি কাপল—আজকের রাতটা যেন শুধুই তাদের জন্য। সবাই নিজেদের পার্টনার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে, যেন এক অদ্ভুত প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে পরের মুহূর্তটার জন্য।

ঠিক তখনই মিউজিকের মৃদু টোন বেজে উঠল। সুরটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল চারপাশে। সেই সুরের টানে, একে একে সবাই এগিয়ে এলো নিজেদের প্রিয় মানুষের দিকে। ত্রিয়াশ এগিয়ে এসে আইলিনের কোমড়ে আলতো করে হাত রাখল, আর আইলিন তার কাঁধে হাত রেখে নরম হেসে তাকালো তার চোখে। গানের সুর ভেসে উঠলো—

Tumko paya hai toh

Jaise khoya hoon

Kehna chahoon bhi toh

Tumse kya kahoon..(.2)

Kisi zabaan mein bhi

Woh lafz hee nahin

Ki jinme tum ho kya

kya Tumhein bata sakun

Main agar kahoon

Tumsa haseen

Kayanat mein

Nai hai kaheen

Tareef yeh bhi toh

Sach hsin kuch bhi nahin

. Tumko paya hai toh

. Jaise khoya hoon

গানের প্রতিটি লাইনের সাথে সাথে তাদের দৃষ্টির গভীরতা যেন আরও বাড়তে লাগল। আইলিন ত্রিয়াশের পায়ের সাথে পা মিলিয়ে তাল মিলিয়ে নাচছে। ত্রিয়াশ একসময় আলতো করে আইলিনের কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিল। তারপর তাকে ঘুরিয়ে নিজের বুকে টেনে নিল, এমনভাবে যে আইলিনের পিঠ এসে ঠেকে তার বুকের সাথে। মুহূর্তটা যেন থেমে গেল, সময় যেন তাদের জন্য একটু থামল।

চারপাশে অন্যান্য কাপলরাও নাচে মগ্ন, তবে একে একে অনেকে আউট হয়ে গেছে।

গানের পরের অংশ বাজতেই পরিবেশটা আরও রোমান্টিক হয়ে উঠলো—

shokhiyon mein

Dooobi yeh aadayein

Chehre se jhalki hui hain

Zulf ki ghani ghani ghatayein

Shaan se dhalki hui hain

. Lehrata aachal

. Hai jaise badal

Bhaahon mein bhari

. Hai jaise chandani

Roop ki chandani

♪ ♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪

. Main agar kahoon

Yeh dilkashi

. Hai nahi kahin

Na hogi kabhi

Tareef yeh bhi toh

Sach hsin kuch bhi nahin

. Tumko paya hai toh

Jaise khoya hoon

এই সময় ইউভি নিশিকে ঘুরিয়ে নিজের কাছে টেনে নিয়ে খুব আস্তে করে তার কানে ফিসফিস করে বলল,

“গানের প্রতিটা লাইন তোর জন্যই লেখা বউ।”

নিশি লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নিচু করে ফেলল।

অন্যদিকে পৃথা আহানের গলা জড়িয়ে ধরে নাচছে। আহান হেসে নাচের মাঝেই বলল,

“আমি সারাজীবন তোমাকে পাশে চাই।”

পৃথার চোখে ঝিলিক খেলে গেল, যেন সে এই কথাটাই শুনতে চেয়েছিল অনেকদিন ধরে।

একসময় একে একে সব কাপল আউট হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত মঞ্চে রয়ে গেল মাত্র দুই জোড়া—ত্রিয়াশ-আইলিন আর ইউভি-নিশি। আইলিন ত্রিয়াশের চোখের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে আছে, আর গানের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে গেয়ে উঠল—

Tum hue meherbaan

To hai yeh dastan

Hoo tum hue merherbaan

To hai yeh dastan.. (2)

. . Abb tumhara mera

Ek hai karwaan

Tum jahan mein wahahoo

৷ ♪♪♪♪♪♪♪♪

. . Main agar kahoon

Humsafar meri

Apsara ho tum

Ta koi pari

Tareef yeh bhi toh

Sach hsin kuch bhi nahin

Tumko paya hai toh

Jaise khoya hoon

Kehna chahoon bhi toh

Tumse kya kahoon

Kisi zabaan mein bhi

Woh lafz hee nahin

Ki jeenmein tum ho

Kya tumhein bata sakun

Main agar kahoon

Tumsa haseen

Kaynaat mein

Nai hai kahin

Tareef yeh bhi

Sach hai kuch bhi nahi

ত্রিয়াশ যেন পুরোপুরি হারিয়ে গেছে সেই সুন্দর মুহূর্তে।

ঠিক তখনই হঠাৎ ইউভি আর নিশি তাল হারিয়ে ফেলে আউট হয়ে যায়। চারপাশে হালকা উল্লাস শোনা যায়। এখন বাগান জুড়ে শুধুই ত্রিয়াশ আর আইলিন। তারা নিজেদের মতো করে, নিজেদের জগতে ডুবে গিয়ে নাচতে থাকে। ত্রিয়াশ আইলিনকে বুকের সাথে জড়িয়ে রেখে ধীরে ধীরে ঘুরছে, আর আইলিন চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে সেই নিরাপত্তা, সেই ভালোবাসা।

হঠাৎ করেই মিউজিক থেমে গেল।

সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে হৈচৈ পড়ে গেল—তালি, চিৎকার, উল্লাসে ভরে উঠল পুরো বাগান। সেই শব্দেই যেন তাদের ঘোর কাটল। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে ফেলল।

এই কাপল ডান্সে বিজয়ী হলো ত্রিয়াশ আর আইলিন।

বাড়ির সবাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠল। চারদিকে উৎসবের আমেজ, হাসি, গল্প আর খুনসুটি চলতে থাকল অনেকক্ষণ। নাচ-গান আর আনন্দের মাঝেই কখন যে রাত বারোটা বেজে গেল, কেউ খেয়ালই করেনি।

পরদিন বিয়ে—তাই শেষে সবাইকে বিশ্রামের জন্য পাঠানো হলো। ধীরে ধীরে বাগান ফাঁকা হয়ে গেল।

~~~~~~~~

লেহেঙ্গার ঘের সামলে, ক্লান্ত শরীরটাকে যেন কোনোমতে টেনে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে আইলিন। প্রতিটি ধাপে তার হাঁটার ভঙ্গিতে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। ঠিক তার পেছনেই ধীর পায়ে উঠে আসছে ত্রিয়াশ, হাতে আইলিনের জুতা—যত্নে তার সঙ্গেই নিয়ে আসছে ।

ঘরে ঢুকেই আর নিজেকে সামলাতে পারল না আইলিন। দরজা পেরিয়ে সরাসরি গিয়ে বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিল। মনে হচ্ছিল, আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি নেই তার। ফ্রেশ হওয়া তো দূরের কথা, সে যেন এইভাবেই ঘুমিয়ে পড়তে চায়। চোখ দুটো বন্ধ করে নিঃশব্দে শুয়ে রইল।

আইলিনের এই অবস্থা দেখে ত্রিয়াশ কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল। তারপর গম্ভীর, কিন্তু যত্নমাখা কণ্ঠে বলল,

“যাও, আগে ফ্রেশ হয়ে এসো। তারপর ঘুমাবে।”

কিন্তু আইলিন যেন কিছুই শুনছে না—একই ভঙ্গিতে শুয়ে রইল। ত্রিয়াশ বুঝতে পারল, এভাবে বললে কাজ হবে না। সে এগিয়ে এসে আলতো করে তাকে ঠেলে তুলল, প্রায় জোর করেই ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে গেল।

আইলিন অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকে দিল। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনে ত্রিয়াশ একবার নিঃশ্বাস ফেলল, তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

প্রায় পনেরো মিনিট পর আইলিন ফ্রেশ হয়ে বাইরে এলো। চুলে হালকা ভেজাভাব, মুখে ক্লান্তির ছাপ এখনও স্পষ্ট। ঘরে ঢুকে চারদিকে তাকিয়ে দেখল—ত্রিয়াশ নেই। তবে সেটা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই। শরীর এতটাই অবসন্ন যে অন্য কিছু ভাবার শক্তিও নেই।

ধীরে ধীরে এসে আবার বিছানায় শুয়ে পড়ল সে। চোখ বন্ধ করতেই ক্লান্তি তাকে গ্রাস করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল আইলিন।

রাত তখন দুইটা বাইশ মিনিট। চারপাশ নিস্তব্ধ, অথচ কিছুক্ষণ আগেও এই বাড়িটা ছিল উৎসবের কোলাহলে ভরা। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে সাড়ে বারোটার দিকে। একে একে সব অতিথি চলে গেছে, শুধু দূরের কিছু আত্মীয়স্বজন ঘুমিয়ে আছে বাড়ির ভেতরে। বাতাসে এখনো লেগে আছে হলুদের গন্ধ, ফুলের মিষ্টি সুবাস, আর হাসির ক্ষীণ প্রতিধ্বনি।

ছাদের পাঁচিল ধরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে ত্রিয়াশ আর ইউভি। তাদের শরীরে এখনো অনুষ্ঠানের পোশাক—হলুদের রঙ যেন এখনো লেগে আছে তাদের চারপাশে। আকাশে তারারা ঝিলমিল করছে, হালকা বাতাস এসে দুজনের নীরবতা আরও গভীর করে তুলছে।

ইউভি ত্রিয়াশের দিকে তাকাল। তার চোখে ছিল একধরনের কৌতূহল আর মৃদু হাসি। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে হঠাৎই জিজ্ঞেস করল—

“আইলিনকে ভালোবাসিস?”

প্রশ্নটা শুনে ত্রিয়াশ যেন একটু থমকে গেল। সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না। দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন নিজের ভেতরেই কিছু খুঁজে বেড়াচ্ছে। কয়েক মুহূর্তের নীরবতার পর সে ধীর কণ্ঠে বলল—

“জানি না…”

ইউভি হালকা হেসে মাথা নেড়ে বলল—

“দেখ, এই প্রশ্নের উত্তর তোর কাছেই আছে। তুই যা-ই বলিস না কেন, তুই আইলিনকে ভালোবাসিস।”

ত্রিয়াশ এবার একটু নরম হয়ে গেল। তার চোখে একধরনের স্বীকারোক্তির ছায়া ফুটে উঠল। সে ছোট করে বলল,

“হুম… বাসি।”

এই কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইউভির ঠোঁটের কোণে একচিলতে আনন্দের হাসি ফুটে উঠল। সে যেন ভেতর থেকে খুশি হয়ে উঠল।

“আইলিনকে তোর মনের কথা জানিয়েছিস?”

“না… সুযোগ হয়ে ওঠেনি।”

ইউভি এবার একটু এগিয়ে এসে ত্রিয়াশের কাঁধে হাত রাখল,

“জানিয়ে দে। সব ব্যবস্থা আমি করে দেবো।”

“আমি ওকে স্পেশালি ভাবে জানাতে চাই…”

ইউভির চোখে এবার দুষ্টু ঝিলিক দেখা গেল। সে বলল,

“বাগানের দক্ষিণ পাশে তো ফাঁকা জায়গা আছে। কালই জানিয়ে দে। সব ব্যবস্থা আমি করে দেবো।”

ত্রিয়াশ আবার আকাশের দিকে তাকাল। তার চোখে যেন হাজারো স্বপ্ন ভাসছে। গভীর একটা নিঃশ্বাস নিয়ে সে ধীর কন্ঠে বলল,

“ওকে পেয়ে আমি সত্যি ভালোবাসার মানে খুঁজে পেয়েছি… আমি ওকে আমার মনের সব কথা বলতে চাই… ওর সাথে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই…”

তার কথাগুলো ইউভি মন দিয়ে শুনল। ত্রিয়াশের এই অনুভূতি তাকে ভীষণ আনন্দ দিল। সে কিছু বলল না, শুধু মৃদু হাসল।

তারপর দুজনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। চারপাশে নীরবতা নেমে এল, শুধু হালকা বাতাস আর দূরের কোনো কুকুরের ডাক সেই নীরবতাকে ভাঙছিল।

কিন্তু তারা জানত না—তাদের এই ব্যক্তিগত কথোপকথন সম্পূর্ণ গোপন থাকেনি।

ছাদের দরজার আড়াল থেকে কেউ একজন সবকিছু শুনছিল। হঠাৎই ছায়াটা নড়ে উঠল…

আর নিঃশব্দে সরে গেল অন্ধকারের।

চলবে,,

[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। আমি সম্পন্ন নতুন লিখি সে হিসাবে কেমন লিখি ছোট করে মন্তব্য করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। আমি নবীন লেখিকা আপনাদের ভালোবাসা আমার প্রেরণা। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন