ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৪১তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৪১

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

তপ্ত দুপুরের রোদ এসে জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরের এক কোনে পড়েছে। কিছু সময়ের ব্যবধানে রোদও বিলিন হয়ে যাবে। সূর্য ডুবে যাবে পশ্চিম আকাশে, নেমে আসবে গাঢ় অন্ধকার। দিন পেরিয়ে রাত আসবে, আবার রাত পেরিয়ে দিন। এভাবেই তো জীবন এগিয়ে চলে, থেমে থাকে না কখনো।

আয়নার সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিল আইলিন। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে হালকা এক মুচকি হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে। সে হাসি কি নিজের জন্য, নাকি কারও স্মৃতির জন্য, তা বোঝা দায়। তবে চোখের নিচে জমে থাকা ক্লান্তির ছাপ লুকোনো যায় না। নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বিড়বিড় করে বলল,

“যার বিরহে হৃদয় পোড়ে, আমার কথা কি তাহার মনে পড়ে? নিশীথের নীরবতায়, যখন সবকিছু থেমে যায়, আমার স্মৃতিরা কি ভেসে আসে তার নিঃশ্বাসে?

নাকি আমি শুধু এক ভুলে যাওয়া গল্প,

যার কোনো অস্তিত্ব নেই তার বর্তমানের ভিড়ে?”

ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে এল মিষ্টি এক কণ্ঠ,

“মাম্মা… মাম্মা…”

হঠাৎ সেই ডাক শুনে ধ্যান ভাঙল আইলিনের। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখল, তার তিন বছরের ছোট্ট রাজকন্যা ত্রিয়া গাল ফুলিয়ে কোমরে দুই হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েকে দেখে তার মুখে আবার কোমল হাসি ফুটে উঠল। আইলিন তাকে কাছে টেনে নিয়ে আদুরে স্বরে বলল,

“আমার মাম্মার কী হয়েছে? গাল ফুলিয়ে আছে কেন?”

ত্রিয়া অভিমানী গলায় বলল,

“মাম্মা, পাপা আসে না কেন? আমি পাপার কাছে যাবো।”

এই প্রশ্নের উত্তর আইলিনের জানা নেই—অথবা হয়তো জানলেও বলতে পারে না। মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে, তার ফর্সা মুখটা রাগে আর অভিমানে লাল হয়ে উঠেছে। নতুন কিছু নয়—প্রায়ই সে পাপার কথা বলে। আগের চেয়ে এখন সে একটু পরিষ্কার করে কথা বলতে পারে, যদিও মাঝে মাঝে আধভাঙা শব্দ উচ্চারণ করে। তবুও সেই কথাগুলো শুনতে আইলিনের কাছে অপার মধুর লাগে।

চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আইলিন ধীরে বলে,

“পাপা ব্যস্ত, তাই আসে না। যাও, মিমির সাথে খেলা করো।”

ত্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“না, না… আমি পাপার কাছে যাবো।”

মেয়ের একগুঁয়েমিতে বিরক্ত হয়ে আইলিন একটু জোরে বলে উঠল,

“ত্রিয়াআআ!”

মায়ের ধমক খেয়ে ঠোঁট কাঁপিয়ে কেঁদে উঠল ত্রিয়া। এতক্ষণ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল রুদ্র। ত্রিয়ার কান্না সহ্য করতে না পেরে দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে কোলে তুলে নিল। আদুরে কণ্ঠে বলল,

“কাঁদে না মা… মাম্মাকে বকবো আমরা।”

ত্রিয়া রুদ্রের গলায় মুখ গুঁজে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল। রুদ্র বিরক্ত চোখে আইলিনের দিকে তাকিয়ে বলল,

“মেয়ে কি তার পাপাকে চাইতে পারে না? তুই কেন এত নিষ্ঠুর হচ্ছিস?”

আইলিন গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিল,

“আমি চাই না মেয়ের সম্পর্কে সে জানুক। হয়তো সে তার বর্তমান জীবন নিয়ে খুব ভালো আছে তার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে।”

রুদ্র কিছুটা ধৈর্য ধরে বলল,

“আইলিন, আমি আবারও বলছি এমনও তো হতে পারে তুই ভুল ভাবছিস।”

আইলিন বিরক্ত হয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“হ্যাঁ, হ্যাঁ… আমি ভুল। প্লিজ, আমাকে একা থাকতে দাও।”

এরপর আর কিছু না বলে রুদ্র ত্রিয়াকে কোলে নিয়েই ঘরের বাইরে চলে গেল।

রান্নাঘর থেকে হাত মুছতে মুছতে বাইরে এলেন রানিয়া চৌধুরী। বাইরে এসে দেখলেন, রুদ্রের কোলে ছোট্ট ত্রিয়া ফুঁপিয়ে কাঁদছে। দৃশ্যটা দেখে তিনি উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে,

“কি হয়েছে? ও এভাবে কাঁদছে কেন?”

রুদ্র কপালে ভাঁজ ফেলে গভীর স্বরে বলল,

“আর কি হবে! রোজকার একই ঘটনা। আমি বুঝতে পারছি না, আইলিন কেন এতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে এই ছোট্ট বাচ্চাটার ওপর। ওরও তো অধিকার আছে বাবার ভালোবাসা পাওয়ার।”

রানিয়া চৌধুরী এ বিষয়ে আর কিছু বললেন না। তিনি বুঝতে পারছিলেন, আজ রুদ্র আইলিনের ওপর বেশ রাগ করেই আছে। ঠিক তখনই রাত্রি এগিয়ে এসে ত্রিয়ার কান্না দেখে তাকে কোলে তুলে নিল। আদর করতে করতে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগল। ত্রিয়া যেন এই বাড়ির সবার প্রাণ ওর কান্না কেউই সহ্য করতে পারে না।

রাত্রি নরম কণ্ঠে আদর করে বলল,

“কাঁদে না সোনা, আমরা সমুদ্রের ঢেউ দেখতে যাবো, ঠিক আছে?”

ত্রিয়া কান্না মিশ্রিত স্বরে বলল,

“ঠিক আছে...”

“তবে তার আগে আমাদের শপিং করতে হবে। বাবাইকে বলো যেন আমাদের শপিং করে দেয়।”

রাত্রির কোলে বসেই ত্রিয়া বড় বড় চোখে রুদ্রের দিকে তাকাল। তারপর আবদারের সুরে বলল,

“বাবাই, শপিং করে দাও।”

রুদ্রের মুখ নরম হয়ে এল। সে ত্রিয়ার কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে বলল,

“অবশ্যই দেবো মা। এখন তুমি যাও, সুন্দর করে রেডি হয়ে আসো।”

~~~

এয়ারপোর্ট থেকে কালো রঙের একটি মার্সিডিজ দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে মির্জা বাড়ির উদ্দেশ্যে। শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে গাড়িটি এগিয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে। ড্রাইভিং সিটে বসে শেখর মনোযোগ দিয়ে স্টিয়ারিং ঘুরাচ্ছে। তার পাশে সামনের সিটে ত্রিয়াশ বসে আছে—মুখভর্তি গম্ভীরতা, চোখে যেন অজানা কোনো চিন্তার ছাপ। পেছনের সিটে পাশাপাশি বসে আছে ইউভি, নিলয় আর নিভান। এয়ারপোর্টে নিলয় আর নিভান এসেছিল তাদেরকে রিসিভ করতে। এখন সবাই মিলে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছে।

গাড়ির ভেতরটা বেশ কিছুক্ষণ ধরেই নীরব। শুধু বাইরের হর্নের আওয়াজ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। শেখর নিজের মতো করে গাড়ি চালাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তার কানে ভেসে আসে এক গম্ভীর, ভারী কণ্ঠ,

“গাড়ি থামাও, শেখর।”

ত্রিয়াশের কণ্ঠে এমন এক দৃঢ়তা ছিল, যা শুনে কোনো প্রশ্ন না করেই শেখর তৎক্ষণাৎ ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে দিল। গাড়ি থামতেই সে অবাক দৃষ্টিতে ত্রিয়াশের দিকে তাকালো—হঠাৎ মাঝরাস্তায় গাড়ি থামানোর কারণটা যেন তার বোধগম্য হচ্ছে না।

পেছন থেকে নিলয় একটু এগিয়ে এসে কৌতূহল আর চিন্তার মিশ্র স্বরে বলে উঠল,

“গাড়ি থামাতে বললি কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে?”

ত্রিয়াশ ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের সিটের দিকে তাকাল। তার চোখে তখন এক অদ্ভুত শূন্যতা। শান্ত গলায় সে বলল,

“তোরা বাড়ি চলে যা।”

তার এই কথায় সবাই আরও বেশি অবাক হয়ে গেল। ইউভি কপাল কুঁচকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

“তুই কোথায় যাবি?”

“জানি না…”

তার এই অস্পষ্ট উত্তরে ইউভির ভ্রু আরও কুঁচকে গেল। সে একটু বিরক্ত আর চিন্তিত স্বরে বলল,

“জানি না মানে কি?”

ত্রিয়াশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সেই নিঃশ্বাসে যেন জমে থাকা অনেক কষ্ট একসাথে বেরিয়ে এলো। কিছুটা নিচু গলায়, কিন্তু স্পষ্ট করে সে বলল,

“বাড়িতে তোর জন্য নিশি অপেক্ষা করছে… সাথে তোদের পুতুল মেয়ে ইউশা। দিন শেষে তোরা তোদের বাচ্চাকে বুকে আগলে নিবি… কিন্তু আমার জন্য তো কেউ নেই। আমার ঘরটা… একেবারেই শূন্য। এই শূন্যতা আমাকে একেবারেই পুড়িয়ে মারবে। ”

মুহূর্তের মধ্যেই নীরবতা নেমে এলো চারদিকে। কেউ আর কিছু বলতে পারল না। নিলয় আর নিভান একে অপরের দিকে তাকাল, ইউভির বুকটা হঠাৎ করেই ভারী হয়ে উঠল। ইউভি কথা বলতে মুখ খুলবে তার আগেই ত্রিয়াশ হাত দিয়ে ইশারা করে। ত্রিয়াশ সামনের দিকে তাকিয়ে স্বভাব সুলভ গম্ভীর কণ্ঠে আবার বলে,

“ কথা বাড়াস না, প্লিজ লিভ। ”

তারা কেউ কথা বাড়ালো না, চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। তারা গাড়ি থেকে নামতেই শেখর পুনঃরায় গাড়ি স্ট্রাড করলো। মূহুর্তে গাড়ি চোখের আড়ালে চলে গেল।

শেখর গাড়ি চালানোর মাঝে ত্রিয়াশকে জিজ্ঞেস করলো,

“ স্যার এখন আমরা কোথায় যাবো?”

“ চট্টগ্রাম। ”

কেন? কিসের জন্য? সেখানে অফিসের তো কোন কাজ নেই! এসব একটা কথাও শেখর বলতে পারলো না। কিন্তু বলার জন্য উশখুশ করছে, পেটে কথা না রাখতে পেরে বলেই ফেলে,

“ সেখানে আমাদের তো কোনো কাজ নেই। না কি নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন? ”

“ বুঝলে শেখর, সবসময় এতো কাজ করতে নেই। কিছু কিছু সময় সমুদ্রের ঢেউয়ে হারিয়ে যেতে হয়। এই জন্য কিছু দিনের জন্য নিজেকে সমুদ্রের মাঝে বিলীন করতে চাই, ঢেউয়ের সাথে মিশে গিয়ে সব কষ্ট ভাসিয়ে দিতে চাই। ”

শেখর বেশ বুঝলো এই মূহুর্তে তার স্যার নিজের প্রিয় মানুষ কে মিস করছে। দেখার তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছে। একবার ত্রিয়াশের দিকে তাকিয়ে দেখলো সিটে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। শেখর আস্তে করে বলে,

“ কোন হোটেল বুকিং করবো?"

“ রেডিসন ব্লু। ”

~~

সন্ধ্যা তখন প্রায় সাড়ে ছয়টা বাজে। চট্টগ্রামের বিখ্যাত আফিম প্লাজার ভেতর তখন ক্রেতাদের ভিড় জমে উঠছে, আলো ঝলমল করছে চারপাশে।

রুদ্র তার সঙ্গে নিয়ে এসেছে ত্রিয়া, রাত্রি আর আইলিনকে। অনেকক্ষণ ধরে ঘুরে ঘুরে শপিং চলছে, কিন্তু এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। রুদ্র হঠাৎ করেই তাদের লেডিস শপের পাশে রেখে কোথায় যেন চলে গেছে, ফিরতেও দেরি হচ্ছে।

রাত্রি এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে ঘুরে নিজের জন্য আর ত্রিয়ার জন্য সুন্দর সুন্দর ড্রেস দেখছে। পাশে আইলিন দাঁড়িয়ে আছে, তার কোলে ছোট্ট ত্রিয়া। হঠাৎ করেই পেছন থেকে একজন তাকে ডেকে উঠল

“আইলিন।”

ডাকটা শুনে আইলিন চমকে উঠে দ্রুত পেছনে ঘুরে তাকায়। সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন তরুণী, কোলে তারও প্রায় দেড় বছরের একটি বাচ্চা। মেয়েটির মুখে পরিচিত হাসির ছাপ, কিন্তু আইলিন কিছুতেই মনে করতে পারছে না—এই মানুষটিকে সে কোথায় দেখেছে।

মেয়েটি হাসিমুখে আরও একটু এগিয়ে এসে বলল, “আমি শিরিন। আমরা একই ভার্সিটির ছাত্রী ছিলাম।”

তবুও আইলিনের মনে কোনো স্মৃতি ভেসে ওঠে না। ভ্রু সামান্য কুচকে সে তাকিয়ে থাকে। শিরিন বিষয়টা বুঝতে পেরে আবার মৃদু হেসে বলে,

“জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম আমি। নতুন ভর্তি হওয়ার পর তোমাকে একবার দেখেছিলাম। তারপর আমার বিয়ে হয়ে যায়, তখন থেকেই এখানে থাকি।”

একটু থেমে শিরিন আশেপাশে চোখ বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“আচ্ছা, ত্রিয়াশ স্যার কোথায়?”

এই নামটা শোনামাত্রই আইলিনের বুকের ভেতরটা যেন এক মুহূর্তে ধক করে ওঠে। এক অদ্ভুত অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

শিরিনের চোখ তখন আইলিনের কোলে থাকা বাচ্চাটির দিকে যায়। একটু ঝুঁকে সে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলে, “এটা তোমার মেয়ে?”

আইলিন শান্ত গলায় উত্তর দেয়, “হ্যাঁ।”

“পুরোপুরি ত্রিয়াশ স্যারের কার্বন কপি মনে হচ্ছে। মাশাআল্লাহ… নাম কী রেখেছো?”

এক মুহূর্ত থেমে আইলিন বলে, “মেহরিন ত্রিয়া।”

এরপর দু’জনের মধ্যে আরও কিছুটা টুকটাক কথা হয়, সাধারণ কুশল বিনিময়। ঠিক সেই সময় শিরিনের স্বামী সেখানে এসে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি বুঝে শিরিন আইলিনের কাছ থেকে বিদায় নেয়।

ত্রিয়াকে কোলে নিয়ে আইলিন হাঁটছে। হঠাৎ তার নাকে পরিচিত এক ঘ্রাণ ভেসে আসে। সেই ঘ্রাণ যেন তাকে অতীতে টানছে। এত বছর পরে, সেই পরিচিত ঘ্রাণ। আইলিনের বুকের মধ্যে ধুকপুক করছে। পিছনে ফিরতে ভয় করছে। ভয়ে ভয়ে সে পিছনে ফিরে কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কেউ নেই, দুই তিনজন মহিলা ছাড়া। অথচ তার মনে হলো তার পাশ কেটে কোনো বলিষ্ঠ পুরুষ চলে গেছে। এ-র মধ্যে রুদ্র আর রাত্রি চলে আসে। আইলিন নিজের মনের ভুল ভেবে বিষয় টা ভাবলো না। এরপর তারা বাড়ির রাস্তায় রওনা দেয়।

চলবে,,,,

[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন