ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৪৪তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৪৪

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

প্রায় বিশ মিনিট ধরে ত্রিয়াশ দরজার পাশেই বসে আছে। বসে আছে বললে ঠিক বলা হয় না। একটা অস্থিরতা তাকে ভেতর থেকে খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে। বারবার উঠে দাঁড়াচ্ছে, আবার বসছে, আবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে। ভেতরে আইলিন নিঃশব্দ। কোনো সাড়া নেই, কোনো শব্দ নেই, এমনকি দরজা খোলার কোনো ইঙ্গিতও নেই।

ত্রিয়াশের ভেতরের ধৈর্যটা যেন প্রতিটা মিনিটে একটু একটু করে ভেঙে পড়ছে। রাগে তার শরীর দপদপ করছে। চোখের কোণে জমে থাকা অস্থিরতা আর অভিমান একসাথে মিশে গেছে। মনে হচ্ছে, মেয়েটা কি ভেবেছে? সে এত সহজে সব এড়িয়ে যাবে?

শেষে আর নিজেকে সামলাতে পারল না সে। দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে সজোরে ঘুষি মারল। শব্দটা পুরো করিডোরে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এলো। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে সে আবারও ভারী শ্বাস নিল। তারপর কণ্ঠ শক্ত করে বলল,

“আজ আমার কথা তোমাকে শুনতেই হবে, আইলিন। ইউভির বিয়ের দিন যা ঘটেছিল, সব মিথ্যে। আইলিন, চোখে দেখা জিনিস সবসময় সত্যি হয় না। আজ তুমি সেদিনের পুরো ঘটনাটা শুনবেই।”

তার কণ্ঠ ভাঙা ভাঙা, কিন্তু দৃঢ়। কথা বলতে বলতে ত্রিয়াশ নিজের শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছে ফেলল। সেখানে জমে থাকা অশ্রু সে আর লুকাতে পারছে না।

তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র, রাত্রি আর তাদের মা রানিয়া চৌধুরী। সবাই চুপচাপ। কারও মুখে কোনো কথা নেই। শুধু চোখে আছে গভীর উদ্বেগ আর করুণ দৃষ্টি। তারা দেখছে অসহায়ত্ব ত্রিয়াশকে,

সে একটু সময় নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নিল। তারপর শুরু করল সেই দিনের কথা…

ফ্ল্যাশব্যাক....

সারাদিন বিয়ের ব্যস্ততায় আইলিনের সাথে ত্রিয়াশের ঠিকভাবে দেখা করার সুযোগ হয়নি। দিনটা যেন এক দম বন্ধ করা ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে চলে যাচ্ছিল।

রাত নামতেই যখন সব আনুষ্ঠানিকতা শেষের পথে, তখন ত্রিয়াশের ভেতরে জমে থাকা অন্য এক অনুভূতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। আজ সে আইলিনকে কিছু বলবেই। অনেকদিন ধরে বুকের ভেতরে জমে থাকা কথাগুলো আজ না বললে হয়তো আর কখনো বলা হবে না।

আগে থেকেই বাগানের দক্ষিণ পাশে সে সব গুছিয়ে রেখেছিল। একটু নিরিবিলি জায়গা যেন কথাটা বলার মতো একটা সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করা যায়।

ঘড়ির দিকে তাকাল ত্রিয়াশ। আটটা বা সাড়ে আটটা বাজে। বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। ফোন বের করে দ্রুত আইলিনকে মেসেজ পাঠাল,“বাগানের দক্ষিণ পাশে আসো, আমার জরুরি কথা আছে।”

মেসেজ পাঠানোর পর থেকেই তার অস্থিরতা আরও বেড়ে গেল। সে একবার বসে, আবার উঠে, আবার ঘড়ি দেখে। মনে হচ্ছে সময়টা যেন থেমে গেছে। প্রতিটা সেকেন্ড অসহ্য দীর্ঘ।

পাঁচ মিনিট কেটে গেল। তারপর হঠাৎ তার কানে ভেসে এলো নুপুরের শব্দ।

সে মুহূর্তে ত্রিয়াশের ঠোঁট একটু কেঁপে উঠল। ওই শব্দটা সে খুব ভালো চেনে। কাল রাতেই এই নুপুরের জোড়া সে আইলিনকে দিয়েছিল। শব্দটা যত কাছে আসছে, ততই তার বুকের ভেতর উত্তেজনা বাড়ছে।

নুপুরের শব্দ ধীরে ধীরে কাছে এসে থেমে গেল। ত্রিয়াশ তখনও পিছন ফিরে তাকায়নি। সে শুধু দাঁড়িয়ে আছে, যেন এই মুহূর্তটাকে মনে গেঁথে নিতে চায়।

চোখ বন্ধ করে এক গভীর শ্বাস নিয়ে সে বলল,

“আমি তোমার সাথে নতুন একটা জীবন শুরু করতে চাই… একটা সুন্দর সংসার—তোমার আর আমার সংসার। খুব বড় কিছু না, ছোট্ট, শান্ত একটা ঘর। আমি খুব একটা ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি না, শব্দে তা বোঝাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না… কিন্তু তোমাকে আমি চাই, ভীষণভাবে চাই। এত কথা বাড়াতে চাই না… শুধু এটুকুই বলি আমি তোমাকে চাই। উইল ইউ ম্যারি মি?”

ঠোঁটে হালকা হাসি রেখে ত্রিয়াশ যখন পেছন ফিরে তাকায়, তখনই তার চোখে পড়ে লিসা দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তেই তার মুখের হাসি মিলিয়ে যায়। কপালের ভাঁজ গভীর হয়ে ওঠে, চোখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে। এই মুহূর্তে, এই জায়গায় লিসাকে সে একদমই আশা করেনি। অপ্রস্তুত কণ্ঠে, কিছুটা চাপা রাগ নিয়েই ত্রিয়াশ বলে ওঠে,

“তুই এখানে?”

লিসা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, যেন কিছুই হয়নি এমনভাবে উত্তর দেয়,

“এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম। তোমাকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটু এগিয়ে এলাম।”

ত্রিয়াশের বিরক্তি আরও বেড়ে যায়। সে একপ্রকার জোর করে নিজের ধৈর্য ধরে রেখে বলে,

“এখন এখান থেকে যা, প্লিজ।”

লিসা এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকে তার দিকে। তারপর শান্ত স্বরে শুধু বলে,

“ঠিক আছে।”

বিরক্তিতে ত্রিয়াশ কপালের পাশে চেপে ধরে। এর মধ্যে লিসা হালকা মৃদু স্বরে বলে উঠে,

“ আহ্, ত্রিয়াশ দেখো না আমার চোখে কি যেন পড়ছে। ”

নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও লিসার চোখে দেখে। কিছু না পেয়ে ত্রিয়াশ লিসার থেকে দূরে সরে আসে। লিসাও সেখান থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ঘড়ির দিকে তাকায় সে। আইলিন এখনো আসেনি।

হালকা উদ্বেগ আর অস্থিরতা নিয়ে সে ফোন বের করে আইলিনকে কল দিতে দিতে বাগানের দিকে হাঁটতে শুরু করে।

আরও একটু সামনে এগোতেই তার চোখে পড়ে জারুল গাছের নিচে পড়ে আছে একটি ফোন।

ত্রিয়াশ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ফোনটি তুলে নেয়। একবার ভালো করে দেখে বুঝতে পারে এটা আইলিনের ফোন।

তার বুকের ভেতরটা অস্বস্তিতে কেঁপে ওঠে। চারপাশে তাকিয়ে সে দ্রুত আইলিনকে খুঁজতে শুরু করে।

“আইলিন… কোথায় তুমি?”

সে বাগানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যায়। পুরো বাড়ির প্রতিটি কোণা, প্রতিটি ঘর, এমনকি আঙিনার শেষ সীমানাটুকুও তন্নতন্ন করে খুঁজে ফেলে। কিন্তু কোথাও কোনো সাড়া নেই, কোনো চিহ্ন নেই — না আইলিন, না তার কোনো উপস্থিতি।

বর্তমান.....

ত্রিয়াশ দরজার সামনে হাঁটু ভেঙে বসে পড়েছে। পুরো শরীরটা যেন ভেঙে যাচ্ছে ভেতর থেকে, অস্থিরতা আর অপরাধবোধে ভারী হয়ে আছে তার বুক। নিজের মেয়েকে এত কাছে পেয়েও সে তাকে স্পর্শ করতে পারছে না—ভালোবাসাটা যেন হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যায়, অথচ কোনো অদৃশ্য দেয়াল তাকে আটকে রেখেছে। কাঁপা কাঁপা গলায় সে বলে উঠল,

“আইলিন… যা শাস্তি দিতে চাও দাও, আমি সব মেনে নেব। কিন্তু আমাকে আমার মেয়ের থেকে দূরে সরিয়ে দিও না। শুধু একবার… একটিবার আমাকে ওর মুখে ‘পাপা’ ডাকটা শুনতে দাও। আমার এই শুকনো, তৃষ্ণার্ত বুকে একটু শান্তি দাও…”

তার কণ্ঠটা ভেঙে গেল শেষ কথায়। মনে হলো, এতদিনের জমে থাকা কষ্টটা একসাথে গলায় এসে আটকে গেছে। ঠিক তখনই খট করে দরজা খুলে গেল। ত্রিয়াশ দ্রুত মাথা তুলে তাকাল। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আইলিন, পাশে ছোট্ট ত্রিয়া। আইলিনকে একদম এলোমেলো লাগছে। চোখ ফুলে লাল, কান্নায় ভেজা মুখ, যেন অনেক কষ্ট বুকে চেপে রেখেছে।

ত্রিয়াশ আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। হাঁটু গেড়ে বসেই দুই হাত বাড়িয়ে দিল মেয়ের দিকে।

“আমার সোনা মা… পাপার কাছে এসো। একবার শুধু পাপা বলে ডাকো…”

ছোট ত্রিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বড় বড় চোখে একবার সবার দিকে তাকাল, যেন বুঝতে চাইছে আসলে হয়েছে কি? একে একে সবাই কে দেখল,

তারপর দৃষ্টি গেল রুদ্রের দিকে। ত্রিয়ার চোখে প্রশ্ন, অবিশ্বাস আর দ্বিধা। রুদ্র মাথা নেড়ে নীরবে ইশারা করল হ্যাঁ, এটাই তোমার পাপা।

তবুও ত্রিয়ার মন মানতে চাইল না। এতদিন যাকে সে শুধু গল্পে বা দূর থেকে অনুভব করেছে, তাকে হঠাৎ বিশ্বাস করা সহজ ছিল না। সে আবার তাকাল আইলিনের দিকে।

আইলিন চোখ নামিয়ে নিয়েছে, যেন নিজের মেয়ের চোখে চোখ রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সে আর মেয়েকে বাবার ভালোবাসা থেকে দূরে রাখতে চায় না। আস্তে করে মাথা নেড়ে সে বোঝাল—সব সত্যি, ও-ই তোমার বাবা।

এই ছোট্ট ইশারাটাই যেন সব দ্বিধা ভেঙে দিল।

ত্রিয়ার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল। পরক্ষণেই ঝড়ের বেগে সে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল ত্রিয়াশকে।

ত্রিয়াশ মুহূর্তেই মেয়েকে বুকে টেনে নিল। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সে কেঁদে ফেলল, অনেকদিনের জমে থাকা কান্না।

তারপর মেয়ের মুখটা দুই হাতে ধরে সে একের পর এক চুমু দিতে লাগল—কপালে, গালে, চোখের পাশে, যেন সে নিশ্চিত হতে চাইছে এটা সত্যি, স্বপ্ন না।

“পাপা বলে ডাকো আমার সোনা মা…”

“পাপা…”

“আরেকবার বলো…”

“পাপা…”

ত্রিয়া এবার ছোট হাত দিয়ে ত্রিয়াশের চোখের পানি মুছে দিল। তারপর তার পুরো মুখে ছোট ছোট চুমু দিতে লাগল, যেন বাবাকে চিনে নিয়েছে সে এখন পুরোপুরি।

ত্রিয়াশ আবারও মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,

“এটা আমার মেয়ে… আমার ত্রিয়া। আমি সবাইকে বলব আমারও একটা মেয়ে আছে। আমার ত্রিয়া।”

মেয়েটা হঠাৎ আরও শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,

“পাপা… তুমি আমাদের রেখে আর কোথাও যেও না। আমি আর মাম্মা একা থাকতে চাই না…”

ত্রিয়াশ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলল,

“না মা… আমি তোমাদের কখনোই ছেড়ে যাব না। কখনো না। এই পাপা এখন শুধু তোমাদের সাথে থাকবে।”

বাবা-মেয়ের ভালোবাসার মুহূর্তটা শেষ হতেই রুদ্র ত্রিয়াকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল। রাত্রি রানিয়া চৌধুরীও ধীরে ধীরে সরে গেলেন, যেন ত্রিয়াশ আর আইলিন একা কথা বলতে পারে।

ঘরের ভেতর অনেকক্ষণ আগেই আইলিন এসে দাঁড়িয়ে ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্রিয়াশও এসে পেছনে দাঁড়ায়। সে এগিয়ে আইলিনের সামনে দাঁড়ায়। এতদিন পর সামনে থেকে তাকে দেখে ত্রিয়াশের চোখে পানি চিকচিক করতে থাকে। অন্যদিকে আইলিনও আর নিজেকে সামলাতে পারে না—চোখের কোণে জমে থাকা কান্না বাধ মানে না, গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে।

কাঁপা কাঁপা হাতে ত্রিয়াশ এগিয়ে এসে আইলিনের গালে আলতো করে হাত রাখে। তাকে জড়িয়ে ধরার জন্য হাত বাড়াতেই আইলিন দ্রুত এক পা পিছিয়ে যায়। কান্না গিলে কঠিন গলায় বলে ওঠে,

“চলে যান… এখানে কেন এসেছেন? কী চাই আপনার?”

ত্রিয়াশ শান্ত গলায় উত্তর দেয়,

“বউ আর বাচ্চা।”

আইলিন মুখ ঘুরিয়ে নেয়। গলায় জেদ মিশিয়ে বলে,

“চলে যান। আর কখনো আসবেন না।”

ত্রিয়াশ একটু থেমে হালকা হাসির আড়ালে ব্যথা লুকিয়ে বলে,

“যাওয়ার আগে তো নিজের জিনিসটা নিয়ে যাবো। একা তো যেতে পারি না।”

“নিয়ে যাওয়ার মতো এখানে কিছু নেই আপনার,”

ত্রিয়াশ সামনে এগিয়ে এসে নরম গলায় বলে,

“আছে… একটা অভিমানী বউ আছে, আর আছে একটা পরীর মতো রাজকন্যা।”

এই কথায় আইলিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। খাটের কিনারায় বসে চুপচাপ অশ্রু ফেলতে থাকে। ঘরটা যেন ভারী হয়ে ওঠে নীরব কান্নায়।

ত্রিয়াশ আস্তে করে তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। কণ্ঠটা ভেঙে আসা সুরে বলে,

“আমাকে শাস্তি দাও… শাস্তি হিসেবে তোমার কাছেই রেখে দাও আমাকে।”

আইলিন একটু চেঁচিয়ে বলে উঠে,

“ চলে যান। ”

ত্রিয়াশ যেন অবাক না হয়ে পারলো না। একটা মানুষ বুঝি এতো অভিমান করতে পারে। আইলিন শব্দ করে কান্না করছে। ত্রিয়াশ তার চোখে পানি মুছে দিয়ে শান্ত গলায় বলে,

“ চলে অবশ্যই যাবো, মনে রেখো নিজের জিনিস সাথে নিয়েই যাবো। ”

“ খবরদার আমার মেয়ের দিকে হাত বাড়াবেন না। ”

“ ও আমারও মেয়ে। ”

“ এক ফোটা লেবুর রস দিলেই পুরো শরবত আপনার বলে দাবি করতে পারেন না। ”

“ এই এক ফোটা লেবুর রস দিতে অনেক ঘাম ঝরেছে।”

ত্রিয়াশ মিটমিটিয়ে হাসছে, বউটা তার কথার পৃষ্ঠে কথা বলছে এতেই যেন সে শান্তি খুঁজে পাচ্ছে। আইলিন কান্না থামিয়ে চুপ করে বসে আছে। কিসব বলছে বুঝতে পেরে কথা থামিয়ে দিয়েছে। একহাতে চোখের পানি মুছে কড়া কন্ঠে বলে,

“ আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা নেই। চলে যান। ”

“ আমি কোথাও দূরে যেতে চাই না। তুমি তোমার কাছে আমাকে রেখে দাও। তোমার ভালোবাসার মধ্যেই আমি থাকতে চাই। ”

“ বেহায়াপনা করছেন কেন?”

“ তোমার বুকে নিজের ঠাই চাই। যেখানে শুধু ভালোবাসা থাকবে, থাকবে নির্ভরতার শান্ত আশ্রয়। পৃথিবীর সব কোলাহল পেছনে ফেলে আমি শুধু সেই জায়গাটুকুই চাই, যেখানে তোমার হৃদয়ের ধুকপুকানির সাথে আমার নাম জড়িয়ে থাকবে। ”

আইলিন স্থির হয়ে চুপ করে বসে রইলো। আর ভালো লাগছে না, কথা বাড়াতে মন চাচ্ছে না। ত্রিয়াশ তার আপাদমস্তক প্ররখ করলো, আগের থেকে হেলদি হয়েছে একটু বড়ও হয়েছে। এই নতুন আইলিনকে দেখে ত্রিয়াশের আদর করে দিতে মন চাচ্ছে। বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে একটু ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলে,

“পারবোনা আমি ছাড়তে তোকে, যতই দূরে যেতে বলিস না কেন, মনটা তোকে আঁকড়ে ধরেই থাকবে।”

আইলিনের গাল চেপে ধরে কথাটা বলল ত্রিয়াশ। গালটা একটু চেপে ধরতেই আইলিনের ঠোঁট দুটো স্বাভাবিকভাবেই সামান্য উঁচু হয়ে গেল।

ঠিক সেই মুহূর্তেই, কোনো দ্বিধা না করেই ত্রিয়াশ আরেকটু ঝুঁকে তার উঁচু হয়ে থাকা ঠোঁটে একটুখানি শব্দ করে চুমু এঁকে দিল। তারপর দ্রুত ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেল, যেন কিছুই হয়নি।

সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে আইলিন ঠিক বুঝে উঠতেই পারল না কী হয়ে গেল। কিছুক্ষণ সে স্থির রইল, ঠোঁটে হাত দিয়ে ত্রিয়াশের চলে যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে রইল। মনে মনে বিরক্তি আর অবাক হওয়া মিশিয়ে শুধু একটাই শব্দ এল—“অসভ্য।”

চলবে,,,,

[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন