গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ৪৬
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
দুই দিন কেটে গেছে। এই দুই দিনে ত্রিয়াশ একবারও আসেনি। এমনকি ত্রিয়ার সঙ্গেও দেখা করেনি। মনে মনে যতই অভিমান করে থাকুক না কেন, আইলিন ঠিকই এই দুই দিন ত্রিয়াশকে খুঁজেছে।
ত্রিয়া তো আরও বেশি কষ্ট পেয়েছে। পাপাকে না পেয়ে সে বারবার কান্না করছে,“পাপা যাবো, পাপা যাবো” এই বলে। ছোট্ট মেয়েটার এই আকুলতা আইলিনের মনটা ভেঙে দিচ্ছে। আইলিন রুদ্রকে জিজ্ঞেস করেছিল ত্রিয়াশের কথা, কিন্তু সেও কিছু জানে না।
আজও একই অবস্থা। ত্রিয়া সকাল থেকে কিছুই খায়নি। কেউ জোর করেও তাকে খাওয়াতে পারেনি। খাটের এক কোণায় বসে ঠোঁট উল্টে জোরে জোরে কাঁদছে। রাত্রি ভার্সিটিতে গেছে, আর সামনে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র, রানিয়া চৌধুরী আর আইলিন তিনজনই বিরক্ত আর অসহায় চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে।
অবশেষে ধৈর্য হারিয়ে আইলিন ধমক দিয়ে বলে ওঠে,
“ত্রিয়া, কান্নার শব্দ বের হলে কিন্তু মারবো। বলছি না, পাপা আসবে!”
কিন্তু ত্রিয়া কিছুতেই থামার পাত্রী না। কান্নার মাঝেই বলে ওঠে,
“পাপা চলে গেছে… পাপা চলে গেছে। আমি পাপার কাছে যাবো। পাপাকে আসতে বলো।”
এটুকু বলেই আবার হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। আইলিন বুঝতে পারে, ত্রিয়া মনে করছে—তার পাপা হয়তো তাদের ছেড়ে আবার কোথাও চলে গেছে, আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
রুদ্র এবার এগিয়ে এসে নরম গলায় বলে,
“ত্রিয়া, সোনা মা… পাপা আসবে। তুমি আগে খেয়ে নাও, তারপর আমরা ঘুরতে বের হবো।”
কিন্তু ত্রিয়া মাথা নাড়িয়ে জেদ করে বলে,
“পাপা আসবে না… পাপা আসবে না। আমাকেও রেখে আসো…”
রুদ্র অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কোথায় রেখে আসবো তোমাকে?”
ত্রিয়া কাঁদতে কাঁদতেই বলে,
“মাম্মার পেটে… আমাকে মাম্মার পেটে রেখে আসো। আমি পাপার সাথে রাগ করছি। পাপা আমাকে রেখে চলে গেছে…”
আবারও তার কান্না আরও জোরে বেড়ে যায়।
এবার আইলিনের নিজেরও রাগ হতে থাকে—ত্রিয়াশের ওপর। কোথায় গেছে, একটু বলে গেলে কি এমন ক্ষতি হতো? অন্তত এই ছোট্ট মেয়েটাকে এতটা কষ্ট পেতে হতো না।
নিজেকে সামলে আইলিন সামনে এগিয়ে আসে। ত্রিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে রুদ্রকে বলে,
“রুদ্র ভাই, তুমি তোমার কাজে যাও। এই মেয়ের জন্য দেরি করো না। আমি সামলে নেবো।”
রুদ্র একটু দ্বিধা নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“পারবি?”
আইলিন দৃঢ় গলায় বলে,
“হুম, পারবো।”
তারপর রুদ্র রানিয়া চৌধুরীকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। আজ রানিয়া চৌধুরীর চেক-আপ করাতে হবে। অনেকদিন ধরেই তার বাতের ব্যথা বেড়েছে, তাই রুদ্র তাকে নিজের সঙ্গেই নিজের হাসপাতালেই নিয়ে যাচ্ছে।
বের হওয়ার আগে রুদ্র আইলিনকে সাবধানে থাকতে বলে যায়।
আইলিন মেয়েকে বুকে নিয়ে আদর করতে থাকে। এদিকে ত্রিয়া কান্না করার ফলে পুরো শরীর কাপছে। বেশি কান্নার জন্য ত্রিয়ার হেঁচকি উঠে গেছে, হেঁচকি তুলে বলে,
“ মাম্মা, পাপা কখন আসবে? ”
“ তুমি লক্ষী মেয়ের মতো খেয়ে নাও পাপা চলে আসবে। ”
আইলিন মেয়ের মাথায় চুমু একে দিল। ভাত এনে কোলে নিয়ে খাওয়াচ্ছে। ত্রিয়া মায়ের ফোন থেকে পাপার একটা ছবি বের করে তাকিয়ে আছে। পাপাকে দেখছে আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে। এটা দুই দিন আগের ছবি তাকে কোলে নিয়ে তুলেছে। ত্রিয়া নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে নাক টেনে বলে,
“ পাপা কে তুমি ভালোবাসো না, তাই কি পাপা চলে গেছে। ”
মেয়ের কথা শুনে আইলিনের বুকের মধ্যে ধক করে উঠে। আইলিনের হঠাৎ মনে পরে ত্রিয়াশের বলা কথা, কতো কতো যন্ত্রণা দিয়েছো সেই সব সুদে আসলে ফিরিয়ে দিলে সইতে পারবে। ” তাহলে কি যন্ত্রণা দিতেই দূরে সরে গেল। না না আইলিন নিজের জন্য ভাবছে না, মেয়ের জন্য হলেও এই বর্তমানে ত্রিয়াশকে সে চায়।
আইলিন মেয়েকে চুপচাপ খাইয়ে দিয়ে, খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে আসলো। মেয়েকে শান্ত করার একমাত্র উপায় পাপার গল্প বলা। হাঁটতে হাঁটতে মেয়েকে পাপার গল্প শোনাচ্ছে।
~~~~
তিন দিন হয়ে গেছে—শাওনের ত্রিয়াশের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। শত চেষ্টা করেও সে ব্যর্থ হয়েছে। ফোন, মেসেজ, সবকিছুতেই যেন এক অদ্ভুত শূন্যতা। ভয় তার ভেতরে জায়গা করে নিচ্ছে। ত্রিয়াশ কোথায়, কেমন আছে—কিছুই জানা নেই। অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগে শাওনের মনটা ভারী হয়ে উঠেছে।
কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে শেষমেশ গতরাতে ঠিক বারোটার সময় সে ইউভিকে সব খুলে বলে। কিন্তু এত রাতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসা তো সহজ নয়। রওনা দিলেও পৌঁছাতে অনেক সময় লাগবে। তবুও কিছু একটা করার তাগিদে শাওন সমুদ্রের পাড়ে এসে বসে থাকে। বিশাল সমুদ্রের ঢেউ যেন তার ভেতরের অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি, বারবার মনে হচ্ছে, “স্যারের কিছু হয়ে গেল না তো?”
হঠাৎই সে অনুভব করে, তার পাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখে—রিদিশা। তাকে দেখেই শাওন আবার মুখ ফিরিয়ে নেয়। এই মুহূর্তে ঝগড়া করার মতো মানসিক অবস্থায় সে নেই।
রিদিশা কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“ত্রিয়াশ ভাইয়ার কোনো খবর পেলেন?”
শাওন সংক্ষেপে উত্তর দেয়,
“না।”
“ওহ।”
শাওন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকে। দুই মিনিট কেটে যায়, কিন্তু রিদিশার কোনো শব্দ নেই। কৌতূহলবশত আবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে—রিদিশা চলে যাচ্ছে। শাওনের একটু অবাক লাগে। এই মেয়েটি গত দুই দিন ধরে শুধু ঝগড়াই করেছে, আর আজ এত চুপচাপ! বিষয়টা তার মনে একটা খটকা জাগায়।
সে একটু দৌড়ে রিদিশার পাশে গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলে,
“কী ঝাঁচিকি রানী, আজ মুখে কথা নেই কেন?”
রিদিশা সংক্ষিপ্ত জবাব দেয়,
“এমনি।”
হঠাৎই সে থেমে যায়। শাওনের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলে,
“যে যাকে ভালোবাসে, সে তাকে পায় না কেন?”
শাওন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
“সব কিছু পেয়ে গেলে মানুষ আফসোস করবে কী নিয়ে?”
রিদিশা মুচকি হাসে। শাওন আবার বলে,
“যা আপনার না, তা একসময় আপনার জীবন থেকে চলে যাবে। আর যা আপনার, সেটা সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে হলেও আপনার কাছে ফিরে আসবে। বিশ্বাস রাখুন, আপনার জীবনেও কেউ না কেউ সুখের ঢেউ হয়ে আসবেই।”
“অপেক্ষায় রইলাম।”
বলেই সে শব্দ করে হেসে ওঠে। তার হাসিতে যেন কিছুটা কষ্ট মিশে আছে, আবার কিছুটা আশাও। শাওনও অজান্তেই হেসে ফেলে।
সমুদ্রের ঢেউ তখনো আছড়ে পড়ছে তীরে। বালুকোনার ওপর দিয়ে দুজনে হাঁটতে থাকে।
হাঁটতে হাঁটতে রিদিশা হালকা হেসে বলল,
“আপনার কেউ আছে? মানে… প্রেম-ট্রেম করেন?”
শাওন পকেটে হাত ঢুকিয়ে ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতেই উত্তর দিল,
“না, তেমন কেউ নেই। প্রেম করার বিশেষ ইচ্ছে নেই… তবে ভালোবাসবো—খুব ভালোবাসবো, আমার অর্ধাঙ্গিনীকে।”
রিদিশা মুচকি হেসে বলল,
“লাকি গার্ল।”
শাওন একটু অবাক হয়ে তাকাল,
“কে?”
“যাকে আপনি ভালোবাসবেন,”
রিদিশা ফের বলল,
“উমম, মেয়েরা আসলে সেই জায়গাতেই আটকে যায়, যেখানে তারা সত্যিকারের ভালোবাসা পায়।”
কেউ কিছু বললো না। হাজারও কথা অজস্র প্রশ্ন থাকলেও কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মনে হয় কথাগুলো যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। বলার ইচ্ছেটুকুও আর জাগে না।
রিদিশা চুপ হয়ে গেল। অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটতে লাগল।
ভালোবাসা—অদ্ভুত এক অনুভূতি। যেমন তা মানুষকে ভরিয়ে তোলে সুখে, তেমনি কখনো কখনো নিঃশব্দে ডুবিয়ে দেয় গভীর দুঃখে।
হাঁটতে হাঁটতে তারা হোটেলের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
~~~~
রাত তখন প্রায় তিনটা। হঠাৎ শাওনের ফোন পেয়ে আর দেরি করেনি ইউভিরা ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে। মূলত পরিকল্পনা ছিল ইউভি আর নিভান যাবে, কিন্তু ত্রিয়াশের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না শুনে নিলয়ও আর বসে থাকতে পারেনি, সেও যোগ দেয় তাদের সঙ্গে।
এ খবর খুব দ্রুতই পৌঁছে যায় নিয়তির কানে। ভাই নিখোঁজ এই চিন্তাটা তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে ভাইকে সামনাসামনি দেখেনি সে। এতদিন পর দেশে ফিরেও বাড়িতে আসেনি ত্রিয়াশ, আর এখন আবার তার কোনো খোঁজ নেই! এই ভাবনাগুলো নিয়তির বুকের ভেতর ঝড় তুলতে থাকে। সে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।
ইউভি বুঝতে পারে, নিয়তিকে রেখে যাওয়া সম্ভব না। কিন্তু তাকে সঙ্গে নিলে আবার প্রশ্ন উঠবে—তাহলে নিশিকে কেন রেখে যাওয়া হবে? বাড়ির বড়দের সন্দেহ তৈরি হবে, বাড়বে ঝামেলাও। সবদিক ভেবে শেষ পর্যন্ত ইউভি সিদ্ধান্ত নেয় নিয়তি, নিশি আর তাদের ছোট্ট মেয়ে ইউশাকেও সঙ্গে নেওয়া হবে।
তবে এত রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়া সহজ ছিল না। বড়দের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। ইউভি কোনোভাবে বুঝিয়ে বলে—তারা দুদিনের জন্য কক্সবাজার ট্যুরে যাচ্ছে। শেষমেশ বড়রা আর কিছু বলেনি, শুধু সাবধানে যেতে বলেছে।
এখন সকাল প্রায় নয়টা। আর এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই তারা কক্সবাজার পৌঁছে যাবে। কিন্তু নিয়তির কান্না থামেনি এখনো সে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে ভাইয়ের চিন্তায়।
ঠিক তখনই ইউভির ফোন বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি নাম—ত্রিয়াশ।
এক মুহূর্ত দেরি না করে ফোন রিসিভ করে ইউভি উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে বলে ওঠে,
“তুই ঠিক আছিস? এখন কোথায় আছিস? ভাই, এতো টেনশনে ফেলাস কেন?”
ইউভির কথা শুনেই বাকিরা বুঝতে পারে ত্রিয়াশ লাইনে আছে। সবাই ইশারা করে বলে, লাউডস্পিকারে দিতে।
ওপাশ থেকে ভেসে আসে কাঁপা কাঁপা গলা,
“ভাই... আমি আমার সুখ খুঁজে পেয়েছি।”
এই কথা শুনে সবাই থমকে যায়। কেউ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না সে কী বলতে চায়। নিলয় আর নিজেকে সামলাতে না পেরে বলে ওঠে
“কি বলছিস তুই? কি খুঁজে পেয়েছিস?”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎই হাসিমাখা গলায় ত্রিয়াশ বলে,
“আমি আমার বউ আর বাচ্চাকে পেয়েছি। এতদিন যাদের খুঁজে মরেছি, আজ তাদেরকে পেয়েছি। জানিস ইউভি, আমার একটা পরীর মতো মেয়ে আছে… আমার সোনা মা, আমার কলিজা, আমার অস্তিত্ব।”
বলেই ত্রিয়াশ হেসে ওঠে একটা প্রাণখোলা, নির্ভার হাসি। অনেকদিন পর তারা এই হাসি শুনছে।
নিয়তি চোখের পানি মুছে নরম গলায় বলে,
“ভাইয়া, আমাদের সোনা মায়ের একটা ছবি পাঠাও না… দেখতে চাই।”
“ঠিক আছে, এখন রাখছি।”
আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কল কেটে দেয় ত্রিয়াশ।
মিনিট দুয়েক পরেই ইউভির ফোনে মেসেজের শব্দ। সবাই যেন এই মুহূর্তটার অপেক্ষাতেই ছিল। একে একে ছবিগুলো দেখতে থাকে তারা।
ছোট্ট মেয়েটা মায়াবী হাসি মুখে বসে আছে কোথাও, আবার কোনো ছবিতে অভিমানী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। তবুও তাকে অসম্ভব মিষ্টি লাগছে। যেন দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে।
হঠাৎ নিভান আবেগভরা কণ্ঠে বলে ওঠে,
“আরে, ত্রিয়া তো আমাদের র’ক্ত… আমাদের বাড়ির মেয়ে! এত কাছে পেয়েও তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি!”
নিয়তি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,
“নিভান ভাই, পরিষ্কার করে বলো তো! আমি এত এক্সাইটেড হচ্ছি। আমরা আমাদের সোনা মায়ের কাছে যাবো, তাকে কোলে নেবো…”
সবাই এবার তাকিয়ে থাকে নিভানের দিকে প্রশ্নভরা চোখে। নিভান বুঝতে পারে, আর লুকিয়ে লাভ নেই। একটু ইতস্তত করে সে বলতে শুরু করে,
“আ… আসলে গত বছর আমরা যখন সমুদ্রে ঘুরতে এসেছিলাম, তখন রাত্রি নামে একটা মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর… আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। আর ত্রিয়া… রাত্রির ভাইয়ের মেয়ে—এটাই জানতাম।”
সবাই অবাক হয়ে যায়। এক বছর ধরে প্রেম করছে নিভান, অথচ কেউ কিছুই জানতো না!
ইউভি হালকা গলা খাঁকারি দিয়ে হাসতে হাসতে বলে,
“উহুম… বুঝলে নিলয় ভাই? মনে হচ্ছে আমরা বাড়িতে একসাথে দুই দুইটা বউ নিয়ে ফিরবো!”
ইউভির কথা শুনে সকলে মিটমিটিয়ে হাসলো, মনে হচ্ছে এবার তাদের পরিবারে সুখ ফিরে আসবে —আবারও মির্জা বাড়িতে হইচইপূর্ণ হবে।
মেয়ের কাছে যাওয়ার জন্য ত্রিয়াশের মন অস্থির হয়ে উঠেছিল। দুই দিন পর মেয়ের মুখখানা দেখবে। সে মেয়ের জন্য অনেক খেলনা কিনে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু সদর দরজাটা খোলা দেখে তার ভ্রু কুঁচকে যায়। এই অসময়ে দরজা খোলা কেন—তা বুঝতে পারে না। আশপাশে কাউকে না দেখে তার ভেতরে অজানা এক অস্বস্তি কাজ করতে থাকে।
এক পা দু পা করে দরজা পেরিয়ে হলরুমে ঢুকতেই ত্রিয়াশ স্তব্ধ হয়ে যায়। পুরো ঘর এলোমেলো জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে চারদিকে। এই দৃশ্য দেখে তার হাত থেকে মেয়ের জন্য আনা খেলনাগুলো মেঝেতে পড়ে যায়। টেবিলের কোণায় পরে আছে ত্রিয়ার দুধভর্তি ফিডারটা, চোখে পড়তেই মনে হয় একটু আগেই ওকে খাওয়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ছোট্ট মেয়েটা তো এই ফিডার মুখে দিয়ে চুকচুক করে দুধ খেত…
হঠাৎ ত্রিয়াশের চোখ যায় মেঝের দিকে—ছোপ ছোপ র'ক্তের দাগ। তার পাশেই পড়ে আছে আইলিনের কানের দুল। বুকের ভেতরটা যেন হাহাকার করে ওঠে। তড়িঘড়ি করে সে পুরো বাড়ি খুঁজে দেখে, কিন্তু কোথাও কেউ নেই।
সবকিছু মিলিয়ে ভয়ংকর এক শূন্যতা আর আতঙ্ক তাকে গ্রাস করে। অসহায় রাগে ফেটে পড়ে ত্রিয়াশ চিৎকার করে ওঠে,
“বাস্টার্ড! তোকে আমি ছাড়বো না। আমার কলিজাদের গায়ে একটুও আঁচড় লাগলে মাটিতে পুঁতে ফেলবো কু"ত্তার বাচ্চা !”
চলবে,,
[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। ]