গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ৪৭
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন যেন ধীরে ধীরে শূন্য হয়ে যাচ্ছে। এক অদ্ভুত ফাঁকা অনুভূতি তাকে গ্রাস করে রেখেছে। বুকের বাঁ পাশে যেন কেউ নিষ্ঠুরভাবে হাত ঢুকিয়ে তার হৃৎপিণ্ডটাকে টেনে বের করে নিতে চাইছে। ব্যথাটা শুধু শরীরে নয়—গভীরভাবে মনের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
ত্রিয়াশ মেঝেতে এলোমেলো হয়ে বসে আছে, হাতে ত্রিয়ার ফিডারটা ধরা। হারানোর যন্ত্রণা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। আজ দুই দিন পর সে তার মেয়েকে বুকের মাঝে আগলে নিবে। নিষ্পাপ সেই মুখখানা আবার দেখতে পারবে। এই দুই দিন মেয়ের থেকে দূরে ছিল তার কাছে যেন অনন্ত সময়ের মতো মনে হয়েছে। ত্রিয়ার থেকে দূরে থাকা প্রতিটা মুহূর্ত তাকে মনে করিয়েছে, যেন বহু বছর হয়ে গেছে সে “পাপা” ডাকটি শোনেনি।
কোনো এক জরুরি প্রয়োজনে তাকে বাইরে যেতে হয়েছিল। ফেরার পথে হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নাম দেখে তার মেজাজ মুহূর্তেই বিগড়ে যায় লিসার নাম্বার দেখে । সেই লিসা, যাকে সে এখন আকাশচুম্বী ঘৃণা করে। কলটা ধরবে না ভেবেও শেষ পর্যন্ত ধরে। আর তারপরই সবকিছু যেন বদলে যায়।
সে জানতে পারে, প্রায় দুই মাস আগে লিসা ভয়াবহভাবে আগুনে দগ্ধ হয়েছে—শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। সেদিন লিসা খুব বিনয়ী কণ্ঠে শুধু একবার তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেছিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ত্রিয়াশ শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে যায়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখে লিসার বাবা-মা সবাই ভেঙে পড়েছে। লিসার সঙ্গে দেখা হলে সে বারবার ত্রিয়াশের কাছে ক্ষমা চায়। তার কারণে ত্রিয়াশের সুন্দর সংসার নষ্ট হয়েছে । কথোপকথনের মাঝেই ত্রিয়াশ জানতে পারে, এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য দায়ী লিসার নিজের স্বামী। ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সত্য শুনে ত্রিয়াশ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। লিসার বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়ে। ত্রিয়াশ বুঝতে পারে—এখানে তার করার মতো কিছুই নেই। প্রত্যেককেই তার নিজের কর্মফল ভোগ করতে হয়। তবুও সে লিসাকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে বলে দেয়। কিন্তু লিসা বাধা দেয়। সে চায় না, তার ভালোবাসার মানুষটা জেলের চার দেয়ালে বন্দি হয়ে থাকুক। হয়তো ভালোবাসা এমনই—শত অন্যায়ও সেখানে ক্ষমা পেয়ে যায়।
সেদিন নানা কারণে ত্রিয়াশ হাসপাতালে আটকে যায়। তার মনে হয়েছে , লিসার স্বামীর সঙ্গে একবার দেখা করবে। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছেও পূরণ হয়। কিন্তু দেখা করেই সে যেন আরও বেশি স্তব্ধ হয়ে পড়ে—লিসার স্বামী আর কেউ নয়, তারই স্কুল জীবনের বন্ধু লাবিব।
অনেক কথা কাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। এইসব ঝামেলার ভিড়ে ত্রিয়াশ আর তার মেয়ের কাছে ফিরতে পারেনি।
আজ, অবশেষে ফিরে এসেও তার চারপাশটা কেমন যেন শূন্য লাগছে।
ত্রিয়াশ আস্তে করে উঠে দাঁড়ায়। তার চোখে-মুখে জমাট বাঁধা রাগ স্পষ্ট। দৃঢ় পদক্ষেপে সে এগিয়ে যায়—সদর দরজা পেরিয়ে বাইরে চলে আসে।
বড় বড় পা ফেলে ত্রিয়াশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তার হাঁটার ভঙ্গিতেই অস্থিরতা স্পষ্ট মনে যেন ঝড় বইছে। একটু সামনে যেতেই সে দেখতে পেল, একটি গাড়ি এসে থামল, আর সেখান থেকে নামছে রুদ্র আর রানিয়া চৌধুরী। চারপাশে হালকা নীরবতা, আকাশ মেঘে ঢাকা, যেন প্রকৃতিও কোনো অশনি সংকেত দিচ্ছে।
রুদ্র গাড়ির দরজা বন্ধ করে পেছনের দিকে ঘুরতেই ত্রিয়াশকে দেখতে পেল। মুহূর্তের মধ্যে তার মুখে উদ্বেগ আর স্বস্তির মিশ্র ছাপ ফুটে উঠল। কোনো কিছু না ভেবেই সে দৌড়ে এসে ত্রিয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে এক নিঃশ্বাসে বলে উঠল,
“ত্রিয়াশ, তুই ঠিক আছিস? এই দুই দিন কোথায় ছিলি? যেখানেই যাস, অন্তত একটা ফোন করে জানাবি! তোর জন্য ত্রিয়া কান্না করতে করতে শেষ। বাচ্চা মেয়েটা তোকে ছাড়া খেতেই চাইছিল না। সারাদিন ‘পাপা, পাপা’ করে কাঁদছে। প্লিজ ভাই, এমন খামখেয়ালী কাজ আর করিস না!”
রুদ্রের কথাগুলো যেন ছুরির মতো বিঁধতে লাগল ত্রিয়াশের বুকে। “ত্রিয়া সারাদিন তাকে খুঁজেছে” এই কথাটা শুনেই তার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল। এক অদ্ভুত অসহায়ত্ব তাকে গ্রাস করল। মনে হচ্ছিল, স চিৎকার করে কাঁদতে , বুকের সব কষ্ট বের করে দিতে। কিন্তু সমাজের অদৃশ্য শিকল তাকে বেঁধে রেখেছে—“ছেলেরা কাঁদে না” এই ধারণা যেন তার গলা চেপে ধরেছে।
ত্রিয়াশ কিছু না বলায় রুদ্র আবারও বলল,
“এভাবে বাইরে দাঁড়িয়ে না থেকে চল, ভেতরে যাই। ত্রিয়া হয়তো অপেক্ষা করছে।”
ত্রিয়াশ চোখ তুলে তাকাল। তার চোখ জলে টইটম্বুর। সেই দৃষ্টি দেখে রুদ্র হতভম্ব হয়ে গেল। এতটা ভাঙা, এতটা অসহায় ত্রিয়াশকে সে কখনো দেখেনি। রুদ্র আলতো করে তার কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কি হয়েছে? সব ঠিক আছে তো?”
ত্রিয়াশ কয়েকবার শুকনো ঢোক গিলে, কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“আইলিন… আর ত্রিয়া নেই।”
রুদ্র থমকে গেল।
“নেই মানে? কোথায় গেছে?”
ত্রিয়াশের গলা আরও ভারী হয়ে এল,
“জানি না… আমি এসে দেখি পুরো ঘর এলোমেলো। মেঝেতে র'ক্ত…”
কথাটা শেষ হতেই চারপাশের বাতাস যেন জমে গেল। রানিয়া চৌধুরীর পুরো শরীর কেঁপে উঠল। তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না, কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বললেন,
“এই রুদ্র, আমার জান বাচ্চাগুলো কোথায় গেল? তাড়াতাড়ি খুঁজে আন… আমার খুব কষ্ট হচ্ছে!”
ঠিক তখনই বাইরে থেকে রাত্রি দৌড়ে এসে উপস্থিত হলো। সে ইতিমধ্যে সব শুনে ফেলেছে। ত্রিয়া তাদের সবার প্রাণ। ত্রিয়া নেই এই কথাটা যেন মুহূর্তেই তার চোখে মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠল। সে ছুটে এসে আকুল স্বরে বলল,
“ভাইয়া… ও ভাইয়া, ত্রিয়াকে খুঁজে আনো না! ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না!”
পরিস্থিতি ক্রমেই ভারী হয়ে উঠছিল। কিন্তু রুদ্র নিজেকে শক্ত করল। কোনোভাবে মা আর বোনকে শান্ত করে সে ত্রিয়াশকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
গাড়িতে উঠে রুদ্র ড্রাইভিং সিটে বসল, আর পাশে নিঃশব্দে বসে রইল ত্রিয়াশ। তার চোখে মুখে গভীর উদ্বেগের ছাপ। অজানা আশঙ্কায় তার বুক কেঁপে উঠছে বারবার, শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে।
বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। মাঝে মাঝে সেই বৃষ্টি ঝুম আকার ধারণ করছে—যেন প্রকৃতিও তাদের ভেতরের অস্থিরতা প্রতিফলিত করছে। দিনের আলো বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে মিশে এক অদ্ভুত মায়াবী অথচ ভয়ংকর পরিবেশ তৈরি করেছে।
তারা এগিয়ে চলেছে এক অজানা গন্তব্যের দিকে—একটি ঠিকানা, যেটি কিছুক্ষণ আগেই একটি অচেনা নাম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়েছে।
~~~~~
গাড়ি এসে থামল রেডিসন ব্লু হোটেলের সামনে। চকচকে কাঁচের দরজা আর আলোকিত প্রবেশপথ যেন এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে রেখেছে। গাড়ির দরজা খুলে একে একে নেমে পড়ল ইউভি, নিশি, নিয়তি, নিভান এবং নিলয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্লান্তি থাকলেও তাদের চোখে ছিল অদ্ভুত এক উত্তেজনা ও অস্থিরতা।
তাদের দেখামাত্রই ছুটে এল শাওন। তার পেছন পেছন দ্রুত পায়ে এগিয়ে এল রাফসান, রাহি এবং রিদিশা। সবাই এক জায়গায় এসে দাঁড়ালেও পরিবেশটা যেন কিছুটা ভারী হয়ে উঠল। বিশেষ করে রিদিশার আচরণটা চোখে পড়ার মতো—এক সময় যে ইউভিকে ভীষণ ভালোবাসত, সে আজ একবারের জন্যও ইউভির দিকে তাকাল না। সময় বদলেছে, সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলেছে। এখন ইউভি অন্য কারও স্বামী, একটি সন্তানের বাবা এখন এটাই চরম সত্য। ইউভি সরাসরি প্রশ্ন করল,
“ত্রিয়াশ কোথায়?”
শাওন কিছুটা থমকে গেল। তার চোখেমুখে দ্বিধা, তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“স্যারের সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।”
এরই মধ্যে নিয়তি হঠাৎ করে নিভানের হাত ঝাঁকিয়ে উত্তেজিত স্বরে বলে উঠল,
“এই নিভান ভাই, চলো! ত্রিয়ার কাছে যাই, ভাইয়া মনে হয় ওখানেই আছে।”
নিয়তির কথায় শাওন, রিদিশা, রাফসান তিনজনই একসাথে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। তাদের মুখে স্পষ্ট বিস্ময়। ‘ত্রিয়া’ নামটা যেন তাদের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা।
অবাক হয়ে শাওন প্রশ্ন করল,
“ত্রিয়া কে? স্যার ওখানে কেন যাবে?”
ইউভি শান্ত দৃষ্টিতে শাওনের দিকে তাকিয়ে বলল, “ত্রিয়া আমাদের ভাতিজি—ত্রিয়াশের মেয়ে। আজ আসার পথে ত্রিয়াশ ফোন করেছিল। ও আইলিন আর ত্রিয়াকে খুঁজে পেয়েছে।”
শাওনের চোখ মুহূর্তেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল। “সত্যি?”
ইউভি হালকা মাথা নেড়ে বলল, “হুম।”
খবরটা শুনে শাওনের মুখে স্বস্তি আর আনন্দ একসাথে ফুটে উঠল। রিদিশা, রাফসান, রাহি—তারাও যেন অনেকটা হালকা হয়ে গেল। এতদিনের অনিশ্চয়তার পর এই খবরটা তাদের জন্য আশার আলো হয়ে এলো।
এদিকে নিলয় তাড়াহুড়ো করে বলল,
“এই নিভান, আমাদের রাত্রিদের বাড়িতে নিয়ে চল।”
এখন আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। কেউ আর অতিরিক্ত প্রশ্ন করল না। সবাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে গেল গন্তব্যের দিকে। নিভানের গাড়িতে উঠে বসল ইউভিরা, আর শাওন আরেকটি গাড়ি নিয়ে রিদিশা, রাফসান ও রাহিকে নিয়ে রওনা দিল।
নিভানদের গাড়ি এসে থামল রাত্রিদের বাড়ির সামনে। অচেনা মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করতে গিয়ে সবার মনেই এক ধরনের সংকোচ কাজ করছিল। তবে পরিস্থিতির কারণে তাদের আর দ্বিধায় থাকার সুযোগ নেই—যেতেই হবে।
কিছুটা এগোতেই চোখে পড়ল বাগানে দাঁড়িয়ে আছে রাত্রি দোলনার পাশে। এটা সেই দোলনা, যেখানে রাত্রি আর ত্রিয়া একসঙ্গে কত সময় কাটিয়েছে। স্মৃতিগুলো হঠাৎ করেই তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। ত্রিয়ার কথা মনে হতেই রাত্রির ঠোঁট কেঁপে উঠল, আর চোখ ভরে গেল অশ্রুতে। কান্নার মাঝেই হঠাৎ সে দেখতে পেল নিভান দাঁড়িয়ে আছে, তার সঙ্গে আরও কয়েকজন।
দ্রুত চোখের পানি মুছে রাত্রি এগিয়ে এলো। নিভান তো বলেছিল একদিন পরিবার নিয়ে আসবে বিয়ের কথা বলতে—তাহলে আজ হঠাৎ এভাবে? একটু অবাক হয়ে রাত্রি বলল,
“তুমি এখানে হঠাৎ না বলেই এলে?”
এই মুহূর্তে অন্য কোনো কথা বলা ঠিক হবে না ভেবে নিভান আজকের সব ঘটনা খুলে বলল। ত্রিয়া যে আসলে তাদেরই পরিবারের তাদের ভাইয়ের মেয়ে—এই সত্যটাও জানাল। সব শুনে রাত্রির কণ্ঠ আরও ভারী হয়ে উঠল। কান্নাজড়ানো স্বরে সে বলল,
“ত্রিয়া আর আইলিন আপুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
“মানে?”
রাত্রি তখন কাঁদতে কাঁদতেই সব খুলে বলল—ত্রিয়া আর আইলিনকে অপহরণ করা হয়েছে। কথাগুলো শুনে সবার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউভি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করল। তারপর জিজ্ঞেস করল,
“ত্রিয়াশ এখন কোথায় গেছে?”
রাত্রি অসহায় স্বরে বলল,
“জানি না… রুদ্র আর ত্রিয়াশ ভাইয়া কোথাও চলে গেছে।”
রুদ্রের নাম শুনে ইউভি কিছুটা বিস্মিত হলো। রুদ্রের বোন রাত্রি এটা আগে জানা ছিল না। সে দ্রুত রুদ্রকে ফোন করে তাদের লোকেশন জানার চেষ্টা করল। এরপর আর দেরি না করে ইউভি, শাওনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। যাওয়ার আগে সে বাকিদের বলে গেল—লোকেশন পাঠানো হলে সবাই যেন সাবধানতার সাথে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়।
চলবে,,,,,
[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। ]