ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৪৮তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৪৮

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

লোকেশন অনুযায়ী পৌঁছাতে ত্রিয়াশ আর রুদ্রের প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছিল। জায়গাটা ছিল একেবারে নির্জন—লোকসমাগম বলতে গেলে নেই বললেই চলে। মনে হচ্ছিল পাহাড়ঘেরা কোনো অচেনা উপকূলীয় এলাকা। দূর থেকে সমুদ্রের কলকল ধ্বনি ভেসে আসছিল, আর মাঝেমধ্যে তীব্র বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ নিস্তব্ধ পরিবেশটাকে আরও ভয়ংকর করে তুলছিল।

ফাঁকা, জনমানবহীন একটা রাস্তায় গাড়িটা থামিয়ে দুজনেই নেমে এল। গাড়ি থেকে নামতেই ত্রিয়াশ অনুভব করল বুকের ভেতরের যন্ত্রণাটা যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বক্ষপিঞ্জরের চাপা ব্যথায় তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। কয়েকবার গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল সে। এখন ভেঙে পড়লে চলবে না—যে কোনো মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত সবকিছু শেষ করে দিতে পারে।

রুদ্রকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিয়াশ ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে শুকনো পাতাগুলো মড়মড় শব্দ করে ভাঙছিল। চারপাশে বড় বড় গাছ আর ভেজা মাটির গন্ধ। কোথাও কোথাও বন্য পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু সেই শব্দও যেন এই ভয়ংকর নীরবতাকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলছিল।

প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর তারা একটা পোড়া বাড়ি দেখতে পেল। বাড়িটার দেয়ালগুলো কালচে হয়ে আছে, যেন বহু বছর আগে আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর আর কখনো মেরামত করা হয়নি। জায়গাটার দিকে তাকালেই গা শিউরে উঠছিল। ত্রিয়াশ দ্রুত পা চালাল। রুদ্রও তার পেছন পেছন এগিয়ে গেল।

বাড়িটার সামনে এসে তারা থমকে দাঁড়াল। চারপাশে কোনো সাড়াশব্দ নেই। মনে হচ্ছিল বহু বছর ধরে এখানে কেউ আসে না।

আর কোনো কিছু না ভেবে বড় বড় পা ফেলে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ল সে। পেছনে রুদ্র। বাড়িটার ভেতরে অনেকগুলো বড় বড় কক্ষ। প্রতিটা রুম তারা দ্রুত খুঁজে দেখতে লাগল। বাতাসে পোড়া কাঠ আর স্যাঁতসেঁতে গন্ধ মিশে ছিল।

হঠাৎ একটা কক্ষের সামনে এসে ত্রিয়াশ থেমে গেল।

মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল। চোখ লাল হয়ে উঠল, শরীর তীব্র রাগে কাঁপতে লাগল।

সামনে বাবলা আর লাবীব দাঁড়িয়ে আছে।

ঘরের মাঝখানে কারেন্টের তার দিয়ে ঘেরা একটা অংশ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একটা চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে ত্রিয়াকে। ছোট্ট মেয়েটার মুখ ভেজা কান্নায়, চোখদুটো আতঙ্কে বড় বড় হয়ে আছে।

আর ঠিক তার ওপরে আইলিনকে ঝুলিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার শরীরটা দড়িতে ঝুলছে, আর নিচে মাটিতে পাতা রয়েছে অসংখ্য ধারালো, চৌকো লোহার রড। সামান্য নিচে পড়ে গেলেই শরীরটা মুহূর্তে বিদ্ধ হয়ে যাবে।

দৃশ্যটা দেখে ত্রিয়াশের বুকের ভেতর যেন আগুন জ্বলে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই সে নিজেকে সামলে নিল। এখন মাথা গরম করলে চলবে না। একটা ভুল মানেই সব শেষ।

নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল সে। কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়, দ্রুত মাথার ভেতর হিসাব কষতে লাগল।

ঠিক তখনই ত্রিয়া তার পাপাকে দেখতে পেল।

চোখ দুটো মুহূর্তে উজ্জ্বল হয়ে উঠল মেয়েটার। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে উঠল

“পাপা…!”

মেয়ের কণ্ঠ শুনে ত্রিয়াশের বুকটা কেঁপে উঠল। গলা শুকিয়ে এলো তার। জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে মরিয়া হয়ে চিৎকার করে বলল,

“সোনা মা, এদিকে একদম আসবে না! পাপা গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসবে। তুমি ওখানেই চুপচাপ বসে থাকো।”

ত্রিয়া কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বলল,

“পাপা… তুমি আসো… কোলে নাও…”

ত্রিয়াশের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। তবুও নিজেকে শক্ত করে বলল,

“নেবো মা… অবশ্যই নেবো। কিন্তু এখন তুমি একদম নড়বে না। চুপচাপ বসে থাকবে, ঠিক আছে?”

ত্রিয়া ছোট্ট করে মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দিল, সে আর এগোবে না।

মেয়েটার মনে ভয় ঢুকে গেছে—পাপার কথা না শুনলে যদি পাপা আবার চলে যায়! সেই আতঙ্কে সে চুপটি করে আবার চেয়ারে বসে পড়ল।

আর ত্রিয়াশ দাঁড়িয়ে রইল আগুনজ্বলা চোখে… সামনে তার শত্রুরা, আর মাঝখানে তার পুরো পৃথিবী।

রুদ্র বাবলাকে দেখামাত্রই যেন নিজের রাগ আর ধরে রাখতে পারলো না। চোখমুখ লাল করে তেড়ে এসে দাঁত চেপে বলল,

“তোর সাহস দেখে আমি সত্যিই অবাক হচ্ছি। একবার হাতের কাছে পাই, সোজা যমের বাড়ি পাঠিয়ে দিব!”

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই ত্রিয়াশ হাত তুলে রুদ্রকে থামাল। তারপর শান্ত অথচ ভয়ংকর স্থির দৃষ্টিতে লাবিবের দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বলল,

“কি চাই তোর?”

লাবিব ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,

“বেশি কিছু না। তোকে ভিখারির মতো পথে বসতে দেখতে চাই। তোর সব সম্পত্তি আমার নামে লিখে দিবি।”

কথাটা শুনে ত্রিয়াশ হালকা হাসল। তবে সেই হাসির ভেতরে আনন্দের চেয়ে ভয়ই বেশি ছিল। তার শান্ত চাহনিতে এমন কিছু ছিল, যা দেখে মুহূর্তেই গা শিউরে উঠতে পারে যে কেউ।

রুদ্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলল,

“তুই না আমাদের স্কুল-কলেজের ফ্রেন্ড ছিলি? এসব করতে তোর লজ্জা করে না?”

লাবিব তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে উত্তর দিল,

“না, একদমই না। বরং ভালো লাগছে। জানিস, এই ত্রিয়াশের জন্যই ছোটবেলা থেকে আমার বাবা আমাকে অপমান করেছে। সবসময় বলত ত্রিয়াশের মতো ভালো রেজাল্ট করতে পারিস না কেন? ব্যবসায় মন দিস না কেন?

সবকিছুতেই ওর সাথে তুলনা করত। আমি কেন ওর মতো হতে পারিনি— এই কথাই শুনে বড় হয়েছি।”

রুদ্র তীব্র কণ্ঠে বলল,

“ভালো পথে চললে তোকে কেউ কথা শোনাত না। শেষবারের মতো বলছি, ত্রিয়া আর আইলিনকে ছেড়ে দে।”

ত্রিয়াশ তখনও নিশ্চুপ। তার নীরবতা যেন ঝড়ের আগের ভয়ংকর শান্তি। হঠাৎ রুদ্র খেঁকিয়ে উঠে বলল,

“ত্রিয়াশকে নিঃস্ব আর অসহায় দেখতে চেয়েই কি লিসাকে ব্যবহার করেছিলি?”

লাবিব নির্লজ্জভাবে মাথা নেড়ে বলল,

“হ্যাঁ। ভেবেছিলাম ভালোবাসার যন্ত্রণায় ছটফট করবে। কিন্তু শালা দমলই না!”

হঠাৎ পুরো ঘর কাঁপিয়ে হাসতে শুরু করল ত্রিয়াশ। এমন হাসি যেন জীবনে প্রথম হাসছে সে। হাসতে হাসতে চোখের কোণে পানি জমে গেল। কিছুক্ষণ পর হাসি থামিয়ে সে বলল,

“ভালোবাসার যন্ত্রণা? যাকে আমি কোনোদিন ভালোই বাসিনি, তার জন্য কষ্ট পাব কোন দুঃখে?”

লাবিব যেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। চিৎকার করে বলল,

“তাই তো তোর বউ আর বাচ্চাকে নিজের কাছে তুলে এনেছি!”

ত্রিয়াশের চোখ মুহূর্তে রক্তিম হয়ে উঠল।

“ওদের গায়ে ফুলের টোকাও দিয়ে দেখ। জান নিয়ে নিবো!”

লাবিব শয়তানি হাসি দিয়ে আরও নিচে নামল।

“ফুলের টোকা কেন? তোর সামনেই আজ তোর বউয়ের সাথে বাসর করব!”

কথাটা শেষ হতেই ত্রিয়াশ নিজের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে লাবিবের নাক বরাবর প্রচণ্ড একটা ঘুষি মা'রল। লাবিব ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল।

এরপর শুরু হলো ভয়ংকর মা'রা'মা'রি।

ত্রিয়াশ যেন উন্মাদ হয়ে গেছে। একের পর এক ঘুষি মারছে। এদিকে বাবলার সাঙ্গু পাঙ্গু দৌড়ে চলে এলো। মুহূর্তেই পুরো জায়গাটা রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। রুদ্র আর ত্রিয়াশ দুজনেই মা'রছে, আবার মা'রও খাচ্ছে।

চারদিকে চিৎকার, ধস্তাধস্তি আর বিশৃঙ্খলা।

ছোট্ট ত্রিয়া ভয় পেয়ে এক কোণে গুটিশুটি মেরে বসে আছে। তার কাঁপতে থাকা ছোট্ট শরীরটা দেখলে যে কারও বুক কেঁপে উঠবে।

একপর্যায়ে যারা মার খেয়ে নেতিয়ে পড়ল, রুদ্র তাদের টেনে হিঁচড়ে একটা রুমে আটকে দিল।

লাবিবের নাক দিয়ে টপটপ করে র'ক্ত ঝরছে। কিন্তু তার মুখে তখনও সেই ভয়ংকর শয়তানি হাসি।

হঠাৎ সে পাশ ফিরে ঝুলন্ত আইলিনের দড়িতে গু'লি করল।

সঙ্গে সঙ্গে ত্রিয়াশ বুকফাটা চিৎকার দিয়ে উঠল,

“আইলিননননননন!”

দৌড়ে গিয়ে আইলিনকে জড়িয়ে ধরে ফেলল সে। কিন্তু ভারসাম্য রাখতে না পেরে দুজনেই মেঝেতে পড়ে গেল।

আইলিনের কপাল কোথাও লেগে হালকা কেটে গেল। র'ক্ত বের হতে দেখে ত্রিয়াশ পুরোপুরি বিচলিত হয়ে উঠল।

“ঠিক আছো? কোথাও বেশি লেগেছে? কথা বলো!”

বলতে বলতেই পাগলের মতো আইলিনের চোখে-মুখে চুমু দিতে লাগল সে।

আইলিন কাঁপা গলায় শুধু বলল,

“ত্রিয়া...”

মেয়ের কথা মনে পড়তেই ত্রিয়াশ দৌড়ে গেল ত্রিয়ার কাছে।

এদিকে রুদ্র লাবিবকে প্রায় আধমরা করে ফেলেছে। ঠিক তখনই নিলয় আর ইউভি সেখানে পৌঁছে গেল।

খুব সাবধানে ইলেকট্রিসিটির সব লাইন বন্ধ করে তারা ত্রিয়াকে বের করল।

ত্রিয়াশ নিজের মেয়েকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। যেন এক মুহূর্তের জন্যও আর ছাড়তে চায় না।

“আমার মা... আমার সোনা মা... পাপা এসে গেছে... কিছু হবে না তোমার...”

ত্রিয়া শক্ত করে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।

কিছুক্ষণ পর নিভান আর রাফসানও এসে পৌঁছাল। তারা মেয়েদের কাউকে সঙ্গে আনেনি।

এক এক করে সবাই ত্রিয়াকে আদর করছে। আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছে আইলিন। তার চোখে জমে থাকা পানিগুলো চিকচিক করছে।

ত্রিয়া তখন রুদ্রের কোলে গুটিশুটি মেরে আছে। মেয়েটা এতটাই ভয় পেয়েছে যে কাউকে ছাড়তেই চাইছে না।

রুদ্র চারদিকে তাকিয়ে বলল,

“আমি ত্রিয়াকে নিয়ে যাচ্ছি। তোরা পরে আয়।”

এরপর সে ত্রিয়াকে নিয়ে বেরিয়ে গেল।

চারপাশ একটু শান্ত হতেই ত্রিয়াশ ধীরে আইলিনের কাছে এগিয়ে এলো। খুব আলতো করে তার হাত ধরল।

আইলিন তখনও মূর্তির মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ভেতরের অভিমান যেন এত সহজে ভাঙার নয়।

ত্রিয়াশ দুহাতে আইলিনের মুখ তুলে ধরে চোখের পানি মুছে দিল। নরম গলায় বলল,

“এখনও অভিমান কমেনি? একবার আমার দিকে তাকাও...”

আইলিন ধীরে চোখ খুলে তাকাল সেই চিরচেনা মানুষটার দিকে— তার ব্যক্তিগত পুরুষ, তার ভালোবাসা, তার সবকিছু।

চোখভর্তি পানি। ঠোঁট কাঁপছে। কান্নাজড়ানো গলায় সে বলল,

“যেখানে ভালোবাসাই নেই, সেখানে অভিমান করে লাভ কী?”

কথাটা বলেই হনহনিয়ে সামনে হাঁটতে শুরু করল আইলিন। হঠাৎ তার কানে ত্রিয়াশের কন্ঠে গানের কয়েকটি লাইন বাজতে থাকে,

এ মন শুধু তোমার, তুমি শুধু আমার

খুঁজে ফিরি আজও তোমাকে বারে বার

ভালোবাসি তোমায় কাছে চাই বারবার

তোমায় ছাড়া জগৎ লাগে বড়ই আধার

ভালোবাসি তোমায় কাছে চাই বারবার

আইলিনের পা জোড়া থমকে গেল, গানের লাইনের মধ্যে ত্রিয়াশ তাকে ভালোবাসা প্রকাশ করছে আনন্দে চোখ বন্ধ করে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো এক ফোটা অশ্রু। আনন্দের অশ্রু, হঠাৎ বিকট গু'লির শব্দে আইলিন চমকে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ চোখ খুলে গেল, তড়িৎগতিতে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে ত্রিয়াশ মাটিতে পড়ে আছে বাহু চেপে। র'ক্ত দিয়ে মেঝে ভেসে যাচ্ছে, আইলিন চিৎকার করে,

“ নাআআআআআ। ”

এলোমেলো পায়ে দৌড়ে এসে ত্রিয়াশের মাথা কোলে তুলে অঝোরে কাঁদছে। কান্নার মাঝে বলছে,

“ কিছু হবে না আপনার, আপনার সাথে সংসার করা এখনো বাকি। আমার সব অভিমান, সব ভালোবাসা—সবই আপনার জন্য জমা। আপনি ছাড়া আমার কোনো পথ নেই, কোনো গতি নেই। আপনি আমার শান্তি, আমার ঠিকানা, আমার পুরো পৃথিবী।”

র'ক্তাক্ত হাত আইলিনের গালে স্পর্শ করলো ত্রিয়াশ, ঠোঁটে তার বিশ্ব জয়ের হাসি। আইলিন পাগলের মতো কান্না করছে আর এটা সেটা বলছে। নিভান, ইউভি আর রাফসান যেন হতভম্ব হয়ে গেছে। গু'লিটা লাবিব করেছে।

ত্রিয়াশ চোখ বন্ধ করবে করবে আইলিন আরও বিচলিত হয়ে,

“ এই চোখ বন্ধ করবেন না, আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন। ”

আইলিন ঘাড় ঘুরিয়ে ইউভিকে বলে,

“ ইউভি ভাইয়া, উনাকে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে চলুন। ”

নিভান আর রাফসান ধরাধরি করে ত্রিয়াশকে নিয়ে গাড়ির কাছে গেল, পেছনে এলোমেলো পায়ে ছুটে আসছে আইলিন। তার প্রতিটি পদক্ষেপে কাঁপন, চোখের পানি থামার নাম নেই। বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসছে বারবার। অভিমানে যত দূরেই সে সরে যাক না কেন, প্রিয় মানুষের যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করার শক্তি তার নেই। ভালোবাসা এমনই এক অনুভূতি—রাগ-অভিমান সবকিছুর ভিড়েও যেখানে কষ্টটাই সবচেয়ে আগে এসে দাঁড়ায়। আইলিনও ব্যতিক্রম নয়; তার হৃদয়ও এখন শুধুই ত্রিয়াশের যন্ত্রণায় ভারী হয়ে আছে।

এদিকে ইউভি বের হয়ে আসার সময় রুম তালা বদ্ধ করে আ'গুন লাগিয়ে দিয়ে আসে। কিছু মানুষ কে আইনের হাতে নয় এভাবে তাদের পাপ মুছতে হয়। ভেতর থেকে লাবিবসহ বাবলার চিৎকার ভেসে আসছে।

অজানা জায়গা থেকে আসতেই দেড় ঘন্টা লেগেছে। এতক্ষণ গাড়িতে আইলিন শুধু কেঁদে গেছে। কিছুক্ষণ আগে ত্রিয়াশকে ওটিতে নিয়ে গেছে কাধ থেকে বুলেট বের করার জন্য। কাঁধে বুলেট লাগার কারণে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

এতক্ষণে হাসপাতালে সবাই এসেছে। রুদ্র ওটিতে আছে। প্রায় শেষ দিকে।

সব বাঁধা পেরিয়ে ত্রিয়াশ এখন সুস্থ আছে তাকে বেডে দেওয়া হয়েছে। এই মূহুর্তে সকলে ত্রিয়াশের বেডে শুধু রানিয়া চৌধুরী ত্রিয়াকে নিয়ে বাইরের বেঞ্চে বসে আছে। ত্রিয়াশের জ্ঞান ফিরেছে একধ্যানে আইলিন কে দেখতে ব্যস্ত। রুদ্র ত্রিয়াশের হাতে ক্যানোলা ঠিকঠাক করছে। ত্রিয়াশ জোড় করে রুদ্র কে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে আইলিনের সামনে এসে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। আজ ত্রিয়াশ যেন নির্লজ্জ হয়েছে কিন্তু আইলিনের লজ্জায় জ্ঞান যায় যায় অবস্থা।

হঠাৎ ইউভি গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলো। অন্য বিচ্ছু গুলো চোখ ধরে পিছনে ঘুরে আছে। ত্রিয়াশ নড়েচড়ে বসলো। আইলিন একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে পড়ে লজ্জায় তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। বাসায় ফিরতে এখনো দুই আড়াই ঘন্টা লাগবে, ত্রিয়াশের স্যালাইন শেষ হলেই সে ফিরতে চায়। রানিয়া চৌধুরী ত্রিয়াকে কোলে নিয়ে কেবিনে ঢুকলো। ত্রিয়া কোল থেকে নেমে পাপার কাছে ছুটে গেল। একহাত দিয়ে মেয়েকে বুকের সাথে আগলে নিলো। ইউভি দুই পা সামনে এগিয়ে এসে বলে,

“ জানিস কি হয়েছে? ”

সকলে এই মূহুর্তে ইউভির দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। ইউভি গলা পরিষ্কার করে বলে,

“ আমাদের নিভান প্রেম করছে, রুদ্রের বোনের সাথে। ”

যারা জানে তারা মুখ টিপে হাসছে, যারা জানে না তাদের চোখ যেন কোটর থেকে বের হয়ে আসবে। ত্রিয়াশ ইউভির দিকে তাকিয়ে,

“ মা কে কল দে। ”

নিভান ভয়ে চোখ বড়সড় করে। ইউভি সঙ্গে সঙ্গে কল দিল নাহিদ মির্জা কল ধরলো।লাউডস্পিকারে দেওয়া ত্রিয়াশ বলে উঠে,

“ আসসালামু আলাইকুম, বাবা।"

“ ওয়ালাইকুম আসসালাম আব্বা, কেমন আছো? ”

“ ভালো আছি। বাবা.. মা কে বলো তার পুত্র বধূ নিয়ে আসছি। বরণ ডালা যেন সাজিয়ে রাখে। ”

“ কিহ.. তুমি আবার বিয়ে করে বউ আনবে বেয়াদব ছেলে। ”

পাশেই তিশা বেগম দাড়িয়ে ছিল তিনি একথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বলে,

“ বরণ ডালা নয় ঝাটা নিয়ে অপেক্ষা করবো। তোমার বিয়ের শখ ঘুচাবো। ”

সঙ্গে সঙ্গে ত্রিয়াশ কল কেটে দিল। নিভান কিছু বলতেই চাচ্ছে তার আগে ত্রিয়াশ বলে,

“আমার বউয়ের জন্য বরণ ডালা সাজাতে বললাম, তোরও বিয়ে করতে মন চায়লে করে ফেল। ”

ইউভি চট করে বলে,,

“ কাজি ডাকি? ”

রুদ্র গলা খাকারি দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

“ বাসায় গিয়ে এব্যপারে কথা বলি বোন দিবো কি দিবো না। ”

ত্রিয়াশ চেচিয়ে বলে,

“ চোপ শালা, বউ বাচ্চা নিয়ে যাবো দরকার পড়লে তোকে নিবো তবুও বউ বাচ্চা রেখে যাবো না কোথাও। তা না হলে ঘর জামাই থাকবো। ”

রুদ্র আগের থেকে আরও গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

“ ভেবে দেখবো। "

চলবে,,

[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন