গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া
লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি
পর্বঃ ৫০
🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫
পুরো ড্রয়িংরুমজুড়ে তখন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল। চারপাশে এত মানুষ থাকা সত্ত্বেও যেন কেউ কোনো শব্দ করার সাহস পাচ্ছিল না। আইলিনকে হঠাৎ সামনে দেখে সকলে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু বাড়ির ছেলে মেয়ের বিয়ের কথা শুনে বাড়ির প্রতিটি মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। সবার চোখে-মুখে ছিল অবিশ্বাস আর হাজারো প্রশ্নের ছাপ।
নিলয় শক্ত করে নিয়তিকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রেখেছিল। মেয়েটা বারবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠছিল, ভাইয়ের বুকে মুখ গুঁজে নিজের কান্না আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করছিল। সামনে সোফায় গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন নাহিদ মির্জা ও নিখিল মির্জা। একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিশা বেগম, তার পাশেই মুনিরা বেগম। আর বাকি সবাই যেন অপরাধীর ন্যায় দাড়িয়ে ছিল।
ত্রিয়াশের ক্ষতস্থানে তখনো ব্যথা করছিল। তবুও সে নিজেকে সামলে নিয়ে বাবা ও চাচার সামনে বসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু খুলে বলল—তাদের সঙ্গে কী কী হয়েছিল, কীভাবে হঠাৎ করেই বিয়েটা হয়ে গেল, কোন পরিস্থিতি তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল।
সবকিছু শোনার পর আশ্চর্যজনকভাবে কেউ আর এই বিয়েতে আপত্তি জানাল না। কারণ নাহিদ মির্জার রুদ্রকে মেয়ে জামাই হিসেবে বেশ পছন্দ হয়েছে। তার মনে হয়েছে, মেয়েটা রুদ্রের কাছে ভালোই থাকবে। একইভাবে রাত্রিকেও নিভানের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে তাদের আপত্তি রইল না। শাওনের সাথে রিদিশার বিয়ে হয়েছে এতেও বেশ খুশি হলেন।
এরই মধ্যে রাত অনেক গড়িয়ে গেছে। নাহিদ মির্জা সবাইকে ঘুমাতে যেতে বললেন।
“এখন আর কোনো কথা নয়। যা আলোচনা হবে, কাল সকালে হবে।”
তার কথায় সবাই নিজেদের কক্ষে চলে গেল।
কিন্তু আইলিন তখনও ড্রয়িংরুমে স্থির দাঁড়িয়ে ছিল। সে খুব ভালো করেই লক্ষ করেছে, সবাই তার সঙ্গে কথা বললেও তিশা বেগম একবারও তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলেননি। শুধু ত্রিয়াকে আদর করেছেন। বিষয়টা বুঝতে আইলিনের অসুবিধা হলো না—শাশুড়ি মা এখনো তার ওপর ভীষণ রেগে আছেন।
ত্রিয়াশ ধীরে এসে আইলিনের হাত ধরল। কোনো কথা না বলে তাকে নিয়ে নিজেদের ঘরের দিকে হাঁটল।
ঘরে ঢুকতেই আইলিনের বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
আগেই ঘুমন্ত ত্রিয়াকে বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট্ট মেয়েটা সবার সঙ্গে এতক্ষণ পরিচিত হয়েছে।
আইলিন ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে পা রাখল। দীর্ঘ চার বছর পর সে আবার এই ঘরে ফিরেছে। অথচ অবাক করার মতো বিষয় হলো—ঘরটা এখনো আগের মতোই আছে। সবকিছু যেন ঠিক সেভাবেই সাজানো, যেমনটা সে রেখে গিয়েছিল।
ত্রিয়াশ বিছানায় বসতে বসতে শান্ত কণ্ঠে বলল,
“তোমার সাজানো মতোই সব রেখেছি। কিছু বদলাইনি… কারণ এই ঘরের প্রতিটা কোণায় তোমার স্পর্শ মিশে আছে।”
কথাগুলো শুনে আইলিনের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
সে আলমারির দিকে এগিয়ে গেল। আলমারি খুলতেই বিস্ময়ে তার চোখ বড় হয়ে গেল। ভেতরে সারি সারি করে সাজানো অসংখ্য শাড়ি। প্রতিটা শাড়ি ত্রিয়াশ তার জন্য কিনেছিল—সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে। অথচ এত বছর পরও সেগুলো ঠিক তেমনি যত্ন করে গুছিয়ে রাখা আছে।
আইলিন কাঁপা হাতে এক এক করে শাড়িগুলো ছুঁয়ে দেখছিল। চোখ বেয়ে নীরবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। এই চার বছরে কত অভিমান, কত কষ্ট জমে ছিল তার ভেতরে।
কিছু বলার জন্য আইলিন পিছনে ঘুরল। কিন্তু ঘুরতেই থমকে গেল।
ত্রিয়াশ মেয়ের পাশে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে। ক্লান্ত মুখেও এক অদ্ভুত শান্তি লেগে আছে।
দৃশ্যটা দেখে আইলিনের ঠোঁটে স্মিত হাসি ফুটে উঠল।
সে আলতো করে আলমারিটা বন্ধ করল। তারপর ঘরের প্রতিটি কোণ ছুঁয়ে দেখতে লাগল—যেন চার বছর আগের ফেলে যাওয়া স্মৃতিগুলো আবার অনুভব করতে চাইছে। অনেক রাত হয়ে গেছে।
শেষমেশ মেয়ের পাশে শুয়ে পড়ল । বুকভরা অনুভূতি আর অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়েই দীর্ঘ চার বছর পর নিজের মানুষগুলোর কাছে ফিরে পাওয়া শান্তিতে ঘুমিয়ে গেল।
————
আজ খুব ভোরে ঘুম ভাঙে আইলিনের। জানালার ফাঁক গলে আসা আলোয় ঘরটা তখনও আধো অন্ধকার। পাশে ঘুমিয়ে আছে ত্রিয়াশ আর ছোট্ট ত্রিয়া। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে তাদের দু’জনের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি জমে ওঠে—শান্তি, অপরাধবোধ আর ভালোবাসার।
ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় আইলিন। মাথায় ওড়না টেনে আস্তে পায়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে যায়। এত সকালে সাধারণত রান্নাঘরে কেউ থাকে না, কিন্তু আজ সে জানে তিশা বেগম থাকবেন। অনেকদিনের জমে থাকা কথাগুলো বলার এটাই হয়তো সবচেয়ে ভালো সময়।
রান্নাঘরে গিয়ে নিঃশব্দে তিশা বেগমের পাশে দাঁড়ায় আইলিন। তিশা বেগম তার উপস্থিতি টের পেলেও কিছু বলেন না। নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। আর সেই নীরবতাই যেন আইলিনের বুকের ভেতরটা আরও ভারী করে তোলে।
সে কয়েকবার ঠোঁট ভিজিয়ে সাহস সঞ্চয় করার চেষ্টা করে। তারপর খুব আস্তে ডাকে,
“মা…”
তবুও কোনো উত্তর আসে না।
আইলিনের চোখ ভিজে ওঠে। আর নিজেকে সামলাতে না পেরে তিশা বেগমের হাত ধরে কাঁপা গলায় বলে ওঠে,
“মা… কথা বলেন। এভাবে চুপ করে থাকবেন না। আমার খুব কষ্ট হয়…”
তিশা বেগম এবার ধীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকান। কণ্ঠে অভিমান স্পষ্ট,
“আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমার ছেলেটাকে আঁচলে বেঁধে রেখো। আর তুমি কী করলে? আমার ছেলেকে ছেড়ে চলে গেলে…”
কথাগুলো শুনে আইলিন ডুকরে কেঁদে ওঠে।
“মাফ করে দেন মা… তখন পরিস্থিতি এমন হয়ে গিয়েছিল যে কিছুই বুঝতে পারিনি। কী থেকে কী হয়ে গেল…”
তিশা বেগমের চোখও ভিজে ওঠে। তিনি আলতো করে আইলিনের মাথায় হাত রাখেন। সেই স্পর্শে মায়ের মমতা মিশে থাকে।
“আল্লাহর অশেষ রহমতে তোমার রুদ্রের পরিবারের মতো একটা ভালো পরিবারের দেখা পেয়েছিলে বলেই আজ সব আবার ঠিক হওয়ার সুযোগ এসেছে…”
কথা শেষ করতে পারেন না তিনি। গলা ধরে আসে। চোখের পানি মুছে আবার বলেন,
“আমার ছেলেটাকে আর কষ্ট দিও না মা। এবার দু’জনে মিলে সংসারটা গুছিয়ে নাও। সংসারে মান-অভিমান থাকবে, ঝগড়া হবে, কিন্তু তাই বলে দূরে চলে যেতে নেই…”
আইলিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। তিশা বেগমকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিছু কান্না থাকে শুধুই দুঃখের নয়—সেখানে স্বস্তি থাকে, ফিরে পাওয়ার আনন্দ থাকে, ভালোবাসা থাকে।
অনেকক্ষণ পর কান্না থামলে তিশা বেগম তার হাতে এক মগ কফি ধরিয়ে দিয়ে মৃদু হেসে বলেন,
“এই কফিটা ত্রিয়াশকে দিয়ে আয় তো মা।”
আইলিন কফির মগ হাতে নিয়ে নিজেদের ঘরের দিকে হাঁটে।
ঘরে এসে দেখে ত্রিয়াশ ফ্রেশ হয়ে বসে আছে। চোখে এখনও ঘুমের ছাপ। সে কফির মগটা এগিয়ে দেয়। তারপর ছোট্ট ত্রিয়াকে কোলে নিয়ে ফ্রেশ করাতে চলে যায়।
এর মধ্যেই নির্ঝর এসে ত্রিয়াকে নিয়ে যায়। দু’জনে একসাথে খেলবে, খাবে। বাচ্চা দুটো দৌড়াতে দৌড়াতে বেরিয়ে যায়।
ত্রিয়াশ একটু উঁচু গলায় বলে ওঠে,
“আস্তে যাও! পড়ে গেলে ব্যথা পাবে!”
কিন্তু কে শোনে কার কথা! বলার আগেই তারা দৌড়ে আইরার কাছে চলে যায়। আইরা তাদের জন্য খাবার তৈরি করেছে।
আইলিন একটু ইতস্তত করে এসে ত্রিয়াশের পাশে বসে। নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করে,
“ব্যথা কমেছে?”
ত্রিয়াশ আড়চোখে তাকিয়ে স্মিত হাসে। মেয়েটা তাকে ভীষণ ভালোবাসে, অথচ অভিমানের দেয়াল তুলে এতদিন দূরে ছিল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে শান্ত গলায় বলে,
“হুম…”
তারপর কফির মগটা টেবিলে রেখে পুরো মনোযোগ আইলিনের দিকে দেয়।
“তুমি সেদিন পিল খাওনি?”
প্রশ্নটা শুনে আইলিন একটু চমকে ওঠে। সেই সময় হয়তো পুরো বিষয়টা বুঝত না, কিন্তু এখন ঠিকই বোঝে কোন পিলের কথা বলা হচ্ছে।
সে আস্তে মাথা নাড়ে।
“না…”
“কেন?”
আইলিন চোখ নামিয়ে ফেলে।
“এত কথা বলতে পারবো না… আচ্ছা, সেদিন যদি পিল খেতাম, তাহলে কি ত্রিয়াকে পেতেন?”
ত্রিয়াশ গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে।
“পেয়েছি… তবে অনেক দেরিতে। তুমি আমাকে অনেক অনুভূতি থেকে বঞ্চিত করেছো, আইলিন। আমার মেয়েটা হাঁটতে শিখেছে, অথচ আমি পাশে ছিলাম না। ‘পাপা’ বলতে শিখেছে, তবুও আমি শুনতে পারিনি। ওর ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আমি অনুভবই করতে পারিনি। কেন এমন শাস্তি দিলে আমাকে? মেরে ফে....”
কথা শেষ হওয়ার আগেই আইলিন তাড়াতাড়ি তার মুখ চেপে ধরে।
চোখভরা কান্না নিয়ে ত্রিয়াশের ডান হাতটা নিজের কপালে ঠেকিয়ে বলে
“এভাবে বলবেন না। আমিও ভালো ছিলাম না… খুব কষ্টে ছিলাম। কিন্তু সেই কষ্টের কথা আমি কাউকে বলিনি। কারণ এই কষ্ট আমি নিজেই নিজের জন্য তৈরি করেছিলাম সামান্য একটা ভুল বোঝাবুঝি জন্য …”
কথা শেষ করেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে আইলিন।
ত্রিয়াশ আর কিছু না বলে তাকে নিজের বুকে টেনে নেয়। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। তারপর খুব যত্ন করে তার মাথায় একটা চুমু এঁকে দেয়।
নিচতলা থেকে হঠাৎ হৈচৈ আর কান্নার শব্দ ভেসে এলো। শব্দ শুনে আইলিন আর ত্রিয়াশ তাড়াতাড়ি নিচে নেমে আসে। নিচে এসে তারা দেখে, আইলিনের বাবা-মা এসে পৌঁছেছেন। অনেকদিন পর মেয়েকে সামনে পেয়ে দুজনেই আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠলেন তারা। তবে এ কান্না কষ্টের নয়, এ যেন বহুদিনের অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া সুখের কান্না। মুহূর্তেই পুরো মির্জা বাড়ি আনন্দ আর আবেগে ভরে ওঠে।
দেখতে দেখতে আরও দুইদিন কেটে যায়। এই দুই দিনে মির্জা বাড়ি যেন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গ্রাম থেকে রিদিশার বাবা-মাকেও নিয়ে আসা হয়েছে। প্রথমে আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারাও রিদিশা আর শাওনের সম্পর্ক মেনে নিয়েছেন। বাড়ির সবাইকে এই কয়েকদিনে দেখলেও আইলিন শুধু পৃথার সাথেই দেখা করেনি। তবে নিশির কাছ থেকে সে শুনেছে, আইলিন চলে যাওয়ার পর প্রতিদিন পৃথা বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করত। পরে ধীরে ধীরে আসা কমিয়ে দেয়।
এখন সন্ধ্যা সাতটা। আইলিনের ঘরে মুখোমুখি বসে আছে পৃথা। মূলত সবাই মিলে তাকে জোর করেই এখানে নিয়ে এসেছে। ঘরে এক মুহূর্তের নীরবতা। তারপর আইলিন আস্তে করে পৃথার হাত ধরে বলল,
“কথা বলবি না?”
পৃথা অভিমানভরা কণ্ঠে উত্তর দিল,
“যে মানুষ চারটা বছর কোনো কথা না বলে, কোনো দেখা না দিয়ে থাকতে পারে, তার সাথে এখন আমি কী কথা বলব?”
কথাগুলো শুনেই আইলিন আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে হঠাৎ পৃথাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। পৃথাও আর নিজের অভিমান ধরে রাখতে পারল না। সেও চোখের জল ফেলতে ফেলতে বান্ধবী কে জড়িয়ে ধরল।
অভিমান, কান্না আর না বলা হাজারো কথার পরে আবারও মিল হয়ে গেল দুই বান্ধবীর। হয়তো এটাই সত্যিকারের বন্ধুত্ব— যত দূরত্বই আসুক, শেষ পর্যন্ত টানটা কখনো ফুরায় না।
________
সেদিনের ঘটনার পর কেটে গেছে পুরো সাতটা দিন। অথচ এই সাতদিনে আইলিন একবারের জন্যও ত্রিয়াশের সাথে ঠিকভাবে কথা বলতে পারেনি। ত্রিয়াশ যেন ইচ্ছে করেই তাকে এড়িয়ে চলছে। তার চোখে স্পষ্ট অভিমান, চাপা রাগ।
সেদিন রাত আনুমানিক এগারোটা। চারপাশে নিস্তব্ধতা, বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। ত্রিয়া অনেক আগেই ঘুমিয়ে গেছে। আইলিন একা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ নিঃশব্দে ত্রিয়াশ এসে তার পেছনে দাঁড়ায়। আলতো করে তাকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে থুতনি রাখে।
বাইরের দিকে তাকিয়েই আইলিন ধীর গলায় ,
“শুনছেন?”
“হুম।”
“আপনি কি লিসাকে ভালোবাসেন?”
ত্রিয়াশ একটু থেমে গম্ভীর স্বরে বলেছিল,
“প্রশ্নই আসে না।”
“আগেও বাসেননি?”
“না। ও-ই সবসময় আমার পেছনে ঘুরত। পরে পরিবার থেকে বিয়ের কথা ঠিক হয়। কিন্তু এর মধ্যেই জানতে পারি, ও অন্য কারও সাথে সম্পর্কে ছিল।”
আইলিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলেছিল,
“আচ্ছা… আপনি কি লিসাকে কখনো কিস করেছেন?”
ত্রিয়াশ এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল,
“নো। তুমি যেদিনের কথা বলছ, সেদিন ও ইচ্ছে করেই আমাকে কিস করেছিল। আর তুমি সেটা দেখে ফেলেছিলে। ওইদিন রাগে আমি লিসাকে, এমনকি তোমাকেও থাপ্পড় মেরেছিলাম…”
কথাগুলো বলার পর হালকা হেসে ত্রিয়াশ আইলিনের গালে চুমু এঁকে দেয়। তারপর তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে গলায় মুখ গুঁজে দেয়। মুহূর্তেই আইলিনের বুক ধড়ফড় করে ওঠে। ত্রিয়াশ যেন নিজেকে সামলাতে পারছিল না, এক উন্মাদ প্রেমিক হয়ে উঠছিল ধীরে ধীরে।
কিন্তু আইলিনের শরীর তখন ভীষণ অস্বস্তিতে ছিল। সকাল থেকেই তার পিরিয়ড শুরু হয়েছিল। সে বুঝতে পারছিল, ত্রিয়াশকে এখন আর এগোতে দেওয়া যাবে না। অস্থির হয়ে ছটফট করতে গিয়েই হঠাৎ তার হাত উঠে ত্রিয়াশের গালে থাপ্পড় লেগে যায়।
মুহূর্তেই সবকিছু বদলে যায়। ত্রিয়াশের চোখে তখন কষ্ট আর অভিমান জমে ওঠে। হয়তো সে ভেবেছে, আইলিন এখনও তাকে অবিশ্বাস করে। কোনো কথা না বলেই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
তারপর থেকে সবকিছু যেন পাল্টে গেছে। পরদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলেও ত্রিয়াশ শুধু ত্রিয়ার সাথেই কথা বলেছে। মেয়েকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে গেছে, মেয়েকে নিয়েই ঘুমিয়েছে। অথচ আইলিন কিছু বলতে গেলেই সে এড়িয়ে গেছে। এই মান অভিমানের মধ্যে কেটে গেছে সাতটা দীর্ঘ দিন।
চলবে,,,
[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। ]