ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ চৈত্রের মৃদু ছোঁয়া

৫১তম পর্ব

লেখক: আফরিনা আক্তার সুইটি

গল্পঃ #শেষ_চৈত্রের_মৃদু_ছোঁয়া

লেখনীতেঃ #আফরিনা_আক্তার_সুইটি

পর্বঃ ৫১

🚫কপি নিষিদ্ধ 🚫

বিকাল ছয়টা কিংবা সাড়ে ছয়টা। এখনো পুরোপুরি সন্ধ্যা নেমে আসেনি। পশ্চিম আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছে। দিনের শেষ আলোয় শহরটাকে অদ্ভুত শান্ত লাগছে। সারাদিনের ক্লান্তি শরীরে নিয়ে মাত্র অফিস থেকে বাসায় ফিরল ত্রিয়াশ। গরমে ঘেমে একাকার অবস্থা। টাইটা আলগা করতে করতে সে ধীর পায়ে সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। তারপর আস্তে করে কলিং বেল চাপল।

কিছু সময় পর দরজা খুলে গেল।

ত্রিয়াশ সামনে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। সাধারণত অন্যদিন আইলিনই দরজা খুলে দেয়, কিন্তু আজ তাকে দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে ঢুকতে গিয়েও হঠাৎ নিচের দিকে তাকাতেই সে থমকে গেল।

ছোট্ট ত্রিয়া নাক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

গোলাপি রঙের ছোট্ট শাড়ি পরে সুন্দর করে সেজেছে সে। হাতে কাঁচের চুড়ি, কপালে ছোট্ট টিপ, চোখে হালকা কাজল। মনে হচ্ছে যেন ছোট্ট এক পুতুল। কিন্তু মুখটা ভার হয়ে আছে। কারণ এতক্ষণেও তার পাপা তাকে একবারও প্রশংসা করেনি।

মেয়ের অভিমানী মুখ দেখে ত্রিয়াশের ঠোঁটে ক্লান্তির মাঝেও মায়াভরা হাসি ফুটে উঠল। সে ঝুঁকে ত্রিয়াকে কোলে তুলে নিল। তারপর ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে নরম গলায় বলল,

“আমার আম্মাজানকে তো একদম পুতুলের মতো লাগছে।”

মুহূর্তেই ত্রিয়ার মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে পাপার গলা জড়িয়ে ধরে মিষ্টি স্বরে ডাকল,

“পাপা…”

“হু…”

“আমি বউ সেজেছি।”

ত্রিয়াশ মেয়ের নাকটা আলতো টেনে দিয়ে আদুরে স্বরে বলল,

“তাই নাকি? তাহলে আমার আম্মাজানের বর লাগবে? পাপাকে ছেড়ে চলে যাবে? পাপা কিন্তু খুব কষ্ট পাবে।”

কথাটা শুনতেই ত্রিয়া মুখ গুঁজে দিল বাবার গলায়। ছোট্ট কণ্ঠ কেঁপে উঠল কান্নায়।

“আমি পাপার কাছেই থাকব।”

ত্রিয়াশ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে বলল,

“আচ্ছা আচ্ছা… কান্না করতে হবে না। কান্না করলে তো সাজ নষ্ট হয়ে যাবে। আমার সোনা মায়েকে এত সুন্দর করে সাজিয়ে দিল কে?”

ত্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,

, “মাম্মাম!”

কথাটা বলেই সে বাবার কোল থেকে নেমে গেল। ছোট ছোট হাতে চুড়ির ঝংকার তুলে আনন্দে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল,

“আমি সবাইকে দেখিয়ে আসি!”

ত্রিয়াশ মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে বলল,

“সাবধানে যেও।”

গুটিগুটি পায়ে ত্রিয়া দাদুর ঘরের দিকে চলে গেল। আর ত্রিয়াশ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল।

রুমে ঢুকে বিছানার ওপর ব্লেজারটা রাখল । শরীরটা ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। ফ্রেশ হওয়া দরকার। তাই কোনো কথা না বলে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।

এরই মধ্যে আইলিন কড়া করে এক মগ কফি বানিয়ে নিয়ে এলো। ত্রিয়াশ ফ্রেশ হয়ে বেরোতেই টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে কফির মগে চুমুক দিল।

আইলিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। একদম খাম্বার মতো। ত্রিয়াশ কিছু বলল না। কফির মগ হাতে নিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। আকাশে তখন শেষ বিকেলের আলো। হালকা বাতাস বইছে। আইলিনও পেছন পেছন এসে দাঁড়াল।

গত কয়েকদিন ধরে সে বহু চেষ্টা করেছে ত্রিয়াশকে কথা বলানোর। কিন্তু পারেনি। ত্রিয়াশ প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথাই বলছে না। তার এই নীরবতা আইলিনকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

আজ আর সে পিছিয়ে থাকবে না।

ত্রিয়াশের পাশে এসে খুব আস্তে, মিনমিনে গলায় বলল,

“কি হয়েছে? কথা বলেন না কেন? আসলে ভুল করে লেগেছিল… আমার অপরাধের শাস্তি দিন, তবুও এভাবে চুপ করে থাকবেন না।”

ত্রিয়াশ নিশ্চুপ।

সে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়েই রইল।

আইলিন আরও একটু কাছে এগিয়ে এল। আস্তে করে ত্রিয়াশের হাতটা ধরল। কণ্ঠটা কেঁপে উঠল।

“আপনার চুপ করে থাকা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। আমি যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। প্লিজ… কথা বলুন। আমার ভেতরটা শান্ত করে দিন।”

কথা শেষ করতেই তার চোখ ভরে উঠল পানিতে।

একফোঁটা, দুইফোঁটা করে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল।

ত্রিয়াশ নিঃশব্দে কফির মগটা পাশে দেয়ালের ওপর রেখে দিল। তারপর দু’হাতে আলতো করে আইলিনের মুখটা তুলে ধরল। আঙুলের ডগায় তার চোখের পানি মুছে দিল খুব যত্নে।

তারপর কপালে শব্দ করে একটা চুমু খেল।

এই সামান্য স্পর্শেই যেন আইলিনের বুকভরা কষ্ট বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এলো। সে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল ত্রিয়াশের বুকে। মুখ লুকিয়ে নীরবে কাঁদতে লাগল।

চারপাশ নিস্তব্ধ।

শুধু শোনা যাচ্ছে আইলিনের চাপা কান্না আর ত্রিয়াশের বুকের ধুকপুক শব্দ।

আইলিন চোখ বন্ধ করে সেই শব্দ শুনতে লাগল। যেন এই বুকের ভেতরেই তার সমস্ত শান্তি লুকিয়ে আছে।

ত্রিয়াশ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তারপর খুব নরম, মোলায়েম কণ্ঠে ডাকল,

“জান…”

এমন ডাকে আইলিন চমকিত হলো। এখন পর্যন্ত ত্রিয়াশের মুখে এমন ডাক শোনেনি। তবে তার কাছে ডাকটা ভালো লেগেছে অন্য এক অনুভূতির মেঘেরা ভেসে যাচ্ছে। আগের মতোই ত্রিয়াশ নরম কন্ঠে বলে,

“তুমি আমার জীবনের সেই ল্যাভেন্ডার সুবাস,

যা অদৃশ্য থেকেও প্রতিটি অনুভূতিতে মিশে থাকে।

তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত

বেগুনি রঙের নরম এক ভালোবাসার গল্প।

তুমি পাশে থাকলে হৃদয় শান্ত হয়, আর পৃথিবীটা স্বপ্নের মতো সুন্দর লাগে।”

আইলিন ত্রিয়াশের বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে প্রতিটা কথা মনোযোগ সহকারে শুনছে। ত্রিয়াশ স্মিত হাসলো, আইলিনের চুলের ভাজে ঠোঁট ছুয়ে গভীর কন্ঠে বলে,

”ল্যাভেন্ডার স্কাইজ, সফট কিসেস, এন্ডলেস

ফিলিংস ”

ত্রিয়াশের বুকে মাথা রেখেই বলে,

“ ভালোবাসেন প্রকাশ করেন না। সাতদিন কেন কথা বললেন না?”

“ কথা বলিনি বলেই তুমি উতলা হয়েছিলে, তোমার এই উতলা হওয়া দেখে বারবার মনে হয়েছে আমারও একান্ত একজন আছে সে আমার ল্যাভেন্ডার ফুল। ”

ত্রিয়াশের বুকে থেকে মাথা তুলে অবিশ্বাস্য কান্ড করে বসে আইলিন। যা ত্রিয়াশ কখনো কল্পনা করে নাই। আইলিন নিজের পায়ের পাতায় ভড় দিয়ে একটু উঁচু হয়ে ত্রিয়াশের ঠোঁটে চুমু একে দিল। শুধু ঠোঁটে না পুরো মুখে নিজের ভালোবাসার স্পর্শ দিতে লাগল। ত্রিয়াশ অবাক হয়ে গেছে, আইলিনের হুশ আসতেই ছুটে চলে গেল। ত্রিয়াশ নিজের ঠোঁটে হাত দিয়ে স্মিত হাসলো। ঠোঁটে হাত রেখেই বিরবির করে,

“তুমি আমার সর্বাঙ্গে তোমার ভালোবাসার মিষ্টি বিষ ছড়িয়ে দিয়ে পালাচ্ছো। অথচ জানো কি, এই বিষই এখন আমার বেঁচে থাকার একমাত্র নেশা। তোমার ভালোবাসার আগুনে আমি প্রতিদিন একটু একটু করে পুড়ছি, তবুও এই দহন থেকে মুক্তি চাই না। কারণ এই কষ্টের মাঝেও তোমার অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে। এভাবে পালিয়ে যেও না বউ… ধরা দাও। ”

এই সন্ধ্যায় ড্রয়িংরুমে সকলে আড্ডা দিচ্ছে। পুরো হলরুমে প্রাণচাঞ্চল্যে ভড়ে গেছে। ত্রিয়াশ আস্তে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। নামার সময় দেখল আইলিন রান্না ঘরে, বাচ্চারা মেঝেতে খেলছে। ত্রিয়াশ এসে রুদ্র আর ইউভির মাঝখানে বসে পড়ে। তিনজনে গুজরগুজর করে কিছু একটা বললো। এ-র মধ্যে জড়িনা এসে হালকা নাস্তা দিয়ে গেল। অনেক দিন পর ভাই বোনগুলো আবারও একসাথে হয়েছে অনেক্ষন আড্ডা দেওয়া হলো।

এরপর রাতের খাবার খেয়ে যার যার ঘরে চলে গেছে।

ত্রিয়াশ ঘরে একাই আছে ত্রিয়া তার দাদুর কাছে গেছে। দাদু রাজকুমারীর গল্প শোনাবে আজ সেখানেই থাকবে মেয়েটা অল্প সময়ের মধ্যে সবার ভক্ত হয়ে গেছে। ওড়নার কোনা দিয়ে হাত মুছতে মুছতে আইলিন ঘরে আসে। ঘরে ত্রিয়াশকে না দেখে বেলকনিতে যায়, ত্রিয়াশ দাঁড়িয়ে আছে। ত্রিয়াশ আইলিনের উপস্থিতি টের পায়। ঠোঁটে তার অমায়িক হাসি। আইলিনের হাত ধরে হেঁচকা টানে একেবারে নিজের বুকের মধ্যে ফেলে। আইলিন ছটফটালো না চুপটি করে রইলো যেন নিঃশব্দে ত্রিয়াশের শরীরের ঘ্রাণ নিচ্ছে। মিনমিন করে আইলিন বলে,

"ভার্সিটির জবটা আর করবেন না? "

“না.. ইচ্ছে নেই। ”

”ওহ ”

“ তুমি কি চাও আমি জবটা করি? ”

“ না।”

ত্রিয়াশ স্মিত হাসলো, কারণ আইলিন চায় না তার স্বামী একগাদা মেয়েদের পড়াক তার স্বামীর দিকে মেয়েরা তাকিয়ে থাকুক এটা মোটেও সে চায়না।

ত্রিয়াশ আস্তে করে ডাকে,

“ জান...

“ হু। ”

“যেদিন তুমি যাও, সেইদিন বাতাসও বিষণ্ণ ছিল। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ”

আইলিন আরও শক্ত করে জড়িয়ে যার অর্থ আর ছাড়বে না। এই বুকের মধ্যে সারাজীবন লুকিয়ে থাকবে। দুজনের কেউ আর কথা বললো না। ত্রিয়াশ আইলিনের পিঠে এক হাত আর হাটুর কাছে একহাত দিয়ে তাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা ধরে বিছানার কাছে।

আইলিনকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে নিজের সবটুকু ভার তার ওপর দিল। গলায় মুখ ডুবিয়ে দিল, এতে আইলিন কেঁপে উঠে ত্রিয়াশের চুল খামছে ধরে। আইলিন আস্তে করে ডেকে উঠে,

“ শুনছেন.. ”

“ হু.. ”

“ আপনি কি এখনো আমার ওপর রেগে আছেন? ”

“ কোন ব্যপারে? "

“ সেদিন আপনার গালে থাপ্পড় লেগে গেল। কি করে লেগে গেছে আমি বুঝতে পারিনি... আমি সরি মাফ করেন। ”

“ করবো না। ”

“ কেন? ”

“ তুমি করে ডাকো। ”

আইলিন চুপ হয়ে গেল। ত্রিয়াশ তার গলায় থেকে মুখ তুলে, আইলিনের চোখে চোখ রেখে বলে,

“ তুমি বলে ডাকো। ”

“ তু....তুমি। ”

সঙ্গে সঙ্গেই ত্রিয়াশ পর পর আইলিনের ঠোঁটে চুমু খেল। আইলিনের লজ্জা লাগছে, লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে। নাক গাল লাল হয়ে গেছে। ত্রিয়াশ নিঃশব্দে মৃদু হাসলো, ফিসফিস করে বলে,

“ নাম ধরে ডাকো.. ”

আজকে ত্রিয়াশ যা বলছে আইলিন তাই করছে। একটু সময় নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,

“ ত্রি..ত্রিয়াশ ”

ত্রিয়াশ আইলিনের বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে। আইলিনের হৃৎস্পন্দনের প্রতিটা পদক্ষেপ নিঃশব্দে শুনছে। ত্রিয়াশের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আইলিন প্রশ্ন করে,

“ আমাকে ভালোবাসেন?”

“ভালোবাসা সবসময় প্রকাশ করতে নেই,

কিছু ভালোবাসা গোপন থাকলেই বেশি সুন্দর লাগে।

নীরব অনুভূতির মাঝেও গভীর মায়া লুকিয়ে থাকে,

যেখানে শব্দের চেয়ে চোখের ভাষাই বেশি কথা বলে।কিছু ভালোবাসা শুধু হৃদয়ে থাকলেই সবচেয়ে পবিত্র থাকে।”

আইলিন মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো, এত ব্যখ্যা না দিয়ে বললেই হয় ভালোবাসি। কিন্তু এই ছেলে তা শিকার করবে না। আইলিনও কিছু বললো না, সে বুঝে নিয়েছে তার বিপরীত পাশের মানুষ টা তাকে ভীষণ ভালোবাসে। এভাবে কিছু সময় দুজনে নীরব থাকল। ত্রিয়াশ বালিশে মাথা দিয়ে ঠিক করে শুয়ে আইলিন কে বুকে জড়িয়ে নিল। কিছু সময়ের মধ্যে আইলিনের ভারী নিঃশ্বাস তার বুকে আছড়ে পড়ছে। আস্তে করে নীরবে প্রিয়তমার মাথায় বিলি কাটছে।

শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে বিড়বিড় করে,

“ ভালোবাসি বউ..”

______

ভোরের নরম স্নিগ্ধ আলো জানালার ফাঁক গলে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। সকালের মিষ্টি রোদ এসে আইলিনের চোখে-মুখে আলতো করে আছড়ে পড়তেই সে বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে ফেলল। ঘুম তখনও তার চোখজুড়ে ঘন হয়ে লেগে আছে। মনে হচ্ছিল, আরেকটু যদি চোখ বুজে থাকা যেত! কিন্তু তীব্র আলোয় বাধ্য হয়েই সে ধীরে ধীরে চোখ মেলল।

কয়টা বাজে, কোথায় আছে— কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছিল না সে। আধো ঘুমের ঘোরে বিছানায় উঠে বসতেই তার চোখ চারপাশে ঘুরে বেড়ালো। আর পরমুহূর্তেই সে চমকে উঠল।

এটা তো তাদের ঘর নয়!

এক নিমিষেই যেন তার সমস্ত ঘুম উড়ে গেল। আতঙ্কে বুক ধড়ফড় করতে লাগল। কাল রাতেও তো সে আর ত্রিয়াশ একসাথে নিজেদের ঘরেই ঘুমিয়েছিল। আর ত্রিয়া ছিল তার দাদা-দাদির সঙ্গে। তাহলে সে এখানে এলো কীভাবে?

ভয়ে তার গলা শুকিয়ে এলো। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সে ত্রিয়াশ ডাকতে লাগল,

“শুনছেন… এই যে শুনছেন… কোথায় আপনি?”

কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে ত্রিয়াশ ভেতরে ঢুকতেই আইলিন এক দৌড়ে গিয়ে তাকে জাপ্টে ধরল। ভয়ে তার পুরো শরীর কাঁপছে। ত্রিয়াশ মৃদু হেসে তার মাথায় হাত রাখল, শান্ত গলায় বলল,

“আমি আছি তো।”

আইলিন আরও শক্ত করে তাকে আঁকড়ে ধরে বলল

“আমরা এখানে কী করছি? এখানে এলাম কীভাবে?”

ত্রিয়াশ ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে বলল,

“উড়ে উড়ে।”

আইলিন সঙ্গে সঙ্গে মুখ তুলে বিরক্ত স্বরে বলল

“মজা করবেন না। আমি সিরিয়াস।”

ঠিক তখনই হঠাৎ তার মনে পড়ল ত্রিয়ার কথা। সে তড়িঘড়ি ত্রিয়াশকে ছেড়ে দিয়ে উৎকণ্ঠিত গলায় বলে উঠল

“আমার মেয়ে কোথায়? ওর হয়তো খিদে পেয়েছে! আল্লাহ… আমি এত বেলা কীভাবে ঘুমালাম!”

“আমার মেয়ে বলো কেন? আমাদের মেয়ে বলবে। আর আমাদের মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে একটু আগেই খেয়েছে, এখন তার ফুপির সঙ্গে খেলছে। তোমার চিন্তার কোনো কারণ নেই।”

আইলিন অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

“কী সব বলছেন আপনি?”

ত্রিয়াশ তাকে পাশে বসিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

“তোমাকে তো কখনো ঠিকমতো সময় দেওয়া হয়নি। কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তাই এবার ভাবলাম, তোমাকে নিয়ে একটু দূরে কোথাও যাই।”

আইলিন বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে বলল,

“কোথায় এসেছি আমরা?”

ত্রিয়াশ জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

“তামিলনাড়ু। ভারতের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত এক সুন্দর জায়গা।”

আইলিন যেন আরও হতবাক হয়ে গেল।

“একরাতের মধ্যে এখানে এলাম কীভাবে?”

ত্রিয়াশ নাটকীয় ভঙ্গিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“অনেক দিনের পরিশ্রমের পরে আসলাম। এর জন্য আমাকে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। এখন সেসব বাদ দাও… বুকে আসো, ঘুমাই।”

আইলিন ভুরু কুঁচকে বলল,

“মাত্র তো ঘুম থেকে উঠলাম!”

ত্রিয়াশ চোখ বন্ধ করেই বলল,

“এখন আমি ঘুমাবো, তুমি পাহারা দিবে।”

কথা শেষ করেই সে হঠাৎ আইলিনকে টেনে নিজের বুকের ওপর ফেলে দিল। তারপর চোখ বন্ধ করে নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়ল।

আইলিন কিছুক্ষণ চুপচাপ তার বুকের ওপর মাথা রেখে রইল। তার ভয় কেটে গিয়ে অন্যরকম এক অনুভূতি এসে মন ভরে দিল।

এখন সবকিছু পরিষ্কার লাগছে তার কাছে।

গত সাতদিন ত্রিয়াশ তার সঙ্গে খুব কম কথা বলেছিল। তখন থেকেই সে লক্ষ্য করেছিল, রুদ্র আর ইউভির সঙ্গে ত্রিয়াশ ফিসফিস করে কী যেন পরিকল্পনা করছে। সে ভেবেছিল অফিসের কোনো কাজ হয়তো। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে— সবটাই ছিল এই সফরের পরিকল্পনা।

এই প্রথম সে ত্রিয়াশের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে এসেছে।

ভাবতেই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক ভালো লাগা ছড়িয়ে পড়ল। জানালার বাইরে ভোরের আলো আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আর আইলিনের মনেও যেন নতুন এক সকাল নেমে এসেছে।

চলবে,,,

[ বিঃদ্রঃ জনরাঃ (সামাজিক +রোমান্টিক) ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন। দয়া করে গল্প সম্পর্কে কিছু বলেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন