🍁
তিথির হাতটা যখন কাবিরের শক্ত মুঠোয় বন্দি হলো, তখন রুমের ১৮ ডিগ্রি এসির ঠান্ডাও যেন নিমিষেই বাষ্প হয়ে উড়ে গেল।
কাবির ল্যাপটপটা দূরে সরিয়ে রেখে একদম তিথির শরীরের ঘেঁষে বসল। তার শার্টলেস শরীরের পেশিগুলোর টানটান উত্তেজনা তিথি খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারছে।
কাবির তিথির কানের খুব কাছে নিজের মুখটা নিয়ে এল। তার তপ্ত নিঃশ্বাস তিথির গলায় লাগতেই তিথি চোখ বন্ধ করে ফেলল।
কাবির খুব নিচু আর গাঢ় গলায় বলল,
—“তিথি, তুমি কি জানো? শশী লজের ওই অন্ধকার গম্বুজে যখন তুমি আমার ওপর আছড়ে পড়েছিলে, তখন আমার মনে হচ্ছিল সময়টা ওখানেই থেমে যাক। ওই অন্ধকারটা আজ এই উজ্জ্বল আলোয় কেন জানি আরও বেশি গভীর মনে হচ্ছে আমার কাছে।”
তিথি নার্ভাস হয়ে ফিসফিস করে বলল,
—“আপনি... আপনি এসব কী বলছেন? ওটা তো অ্যাক্সিডেন্ট ছিল।”
কাবির এবার তিথির চিবুকটা আলতো করে ধরে নিজের দিকে ঘোরাল। তার চোখের মনিতে এক ধরনের অন্ধকার নেশা।
সে সরাসরি তিথির ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে বলল,
—“অ্যাক্সিডেন্ট তো একবার হয় বিবিজান। কিন্তু এখন আমি যা করতে চাইছি, সেটা কোনো অ্যাক্সিডেন্ট নয়। এই যে এসি চলছে, রুম লক করা, বাইরে সবাই ঘুমে—এই নিস্তব্ধতায় আমার হার্টবিট কি শুনতে পাচ্ছো?”
🌺
তিথি থরথর করে কাঁপছে। কাবিরের সুঠাম বুক আর তার পেশিবহুল শরীরের মাঝখানে সে নিজেকে খুব ছোট মনে করছে।
কাবির তার ঠোঁটের খুব কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে এসে আরও গাঢ় স্বরে বলল,
—“তোমার এই কাঁপুনি আমাকে আরও বেশি পাগল করে দিচ্ছে। ওই গম্বুজে তো বাদুড় ছিল, এখানে তো কেউ নেই। এখন যদি আমি ওই অ্যাক্সিডেন্টটা আবার রিপিট করতে চাই, তবে কি তুমি আগের মতোই আমায় জাপটে ধরবে?”
তিথি কোনোমতে বলল,
—“আপনি... আপনি খুব বেশি অশ্লীল কথা বলছেন। আমার... আমার খুব ভয় লাগছে।”
কাবির বাঁকা হাসল। সে তিথির পিঠের ওপর নিজের একটা হাত রাখল, যা টি-শার্টের ওপর দিয়েও তিথির শরীর পুড়িয়ে দিচ্ছে।
সে বলল,
—“ভয় পাওয়াটা ভালো বিবিজান। কারণ ভয়ের পরেই তো চরম আনন্দ লুকিয়ে থাকে। তোমার ঘাড়ের ওই বিন্দু বিন্দু ঘামগুলো বলছে, তুমিও ঠিক সেটাই ভাবছো যা আমি ভাবছি। আজ রাতটা শুধু ঘুমের জন্য নয়, আজ রাতটা তোমার আর আমার ওই ভুলগুলোকে সঠিক করার জন্য।”
কাবির এবার তিথির খুব কাছে ঝুঁকে এল। ল্যাম্পশেডের নীল আলো আর এসির কনকনে ঠান্ডায় তাদের দুজনের শরীরের উষ্ণতা এক হয়ে যাচ্ছে। কাবির তিথির একদম ঠোঁটের কাছে ফিসফিস করে বলল,
—“ওই যে শশী লজে চুমুটা অর্ধেক থেকে গেছিল না? ওটা আজ রাতে পূর্ণতা পাবে। তুমি কি তৈরি আছো আমার এই ডার্ক লাভের স্বাদ নিতে?”
তিথি উত্তর দেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। সে শুধু বুঝল, কাবিরের এক হাত তার কোমর বেষ্টন করে ফেলেছে আর অন্য হাত তার চুলে খেলা করছে। কাবিরের সেই সুঠাম দেহ আর ডার্ক ফ্লার্টের সামনে তিথি আজ পুরোপুরিভাবে পরাজিত।
*
তিথির নার্ভাসনেস চরমে। কাবিরের সেই সুঠাম দেহ আর নেশা লাগানো চোখের চাহনি সহ্য করতে না পেরে তিথি আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
হঠাৎ করেই তিথির ঠোঁট দুটো উল্টে এল আর সে হউ হউ করে শব্দ করে বাচ্চাদের মতো কান্না শুরু করে দিল!
যেই কাবির কয়েক সেকেন্ড আগে একজন রোমান্টিক হিরোর মতো ফ্লার্ট করছিল, তিথির কান্না দেখে সে মুহূর্তের মধ্যে থতমত খেয়ে গেল। তার সব রোমান্টিসিজম যেন এক বালতি বরফ জলে ধুয়ে গেল।
সে নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে সোজা হয়ে বসে বলল,
—“আরে! আরে বিবি! তুমি কাঁদছো কেন? কী হলো? আমি কি খুব বেশি ভয় দেখিয়ে ফেলেছি?”
তিথি বালিশটা জাপটে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, —“আপনি... আপনি একটা আস্ত রাক্ষস! আপনি শার্ট না পরে আমাকে ওসব বাজে কথা কেন বলছেন? আমার খুব ভয় লাগছে! আমি... আমি প্রমার কাছে যাব!”
সুঠামদেহী সেই ড্যাশিং কাবির এখন তিথির কান্না থামাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। সে বেকায়দায় পড়ে দ্রুত বিছানা থেকে নেমে আলমারি থেকে একটা ব্লু কালার শার্ট বের করে গায়ে পরে নিল। শার্টের বোতামগুলোও ঠিকমতো লাগাতে পারছে না সে।
কাবির তিথির কাছে এসে কাঁচুমাচু মুখে বলল,
—“এই দেখো, আমি শার্ট পরেছি। এবার কান্না থামাও তো! আমি তো জাস্ট একটু মজা করছিলাম।”
তিথি কান্নার তোড়ে হিঁচকি তুলতে তুলতে বলল, —“মজা? আপনি জানেন না আমি কত নার্ভাস ছিলাম? আপনি ওভাবে কেন তাকাচ্ছিলেন? আর... আর ওসব কথা কেন বলছিলেন?
তিথির কান্না একটু থামতেই কাবির এক ঝটকায় তাকে টেনে নিজের বুকের ওপর শুইয়ে দিল। তিথি ছটফট করে ওঠার চেষ্টা করতেই কাবির তার দুই বাহু দিয়ে তাকে লোহার খাঁচার মতো আটকে ফেলল।
তিথি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
—“ছাড়ুন আমাকে! আপনি শার্ট পরার পর আরও বেশি বদমাশ হয়ে গেছেন!”
কাবির তিথির চুলে নাক ঘষে একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বলল,
—“চুপচাপ শুয়ে থাকো তো। অনেকক্ষণ তো কাঁদলে, এখন একটু ইন্টারভিউ দাও দেখি। আচ্ছা বিবিজান, তোমার যেন বয়স কত? আমার তো মনে হচ্ছে তুমি এখনো প্রাইমারি স্কুলে পড়ো।”
তিথি নাক টেনে জেদের সাথে তড়বড়িয়ে বলে উঠল, —“আপনি কি আমাকে ছোট বাচ্চা ভাবছেন? আমার বয়স ১৭ বছর! আর আসছে মার্চের ২০ তারিখ আমার জন্মদিন। আমি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কলেজে উঠব! আপনি জানেন না আমি কত বড় হয়ে গেছি?”
কাবিরের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া তিথির মুখ থেকে বয়স আর কলেজে উঠব কথাটা শুনেই কাবিরের হাসি যেন এক সেকেন্ডের জন্য হাওয়া হয়ে গেল। সে ঝট করে তিথির দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে তুলল।
—“কী বললে? তুমি কেবল এসএসসি পরীক্ষা দিবে? মানে তুমি এখনো স্কুলের গণ্ডিই পার হওনি? ওরে আল্লাহ! আমি তো ভেবেছিলাম আমি কোনো ম্যাচিউর মেয়ের সাথে প্রেম করছি।”
🤦♂️
কাবির এবার নিজের কপাল চাপড়ে আবার বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। সে হাসতে হাসতে প্রায় অস্থির হয়ে গেল।
—“আরে তিথি! তুমি তো এখনো নাবালিকা!তোমাকে কি আমি এখন রোমান্টিক ডায়ালগ শোনাব নাকি পদার্থবিদ্যার সূত্র মুখস্থ করাব? ১৮ বছরের আগে তোমাকে ছোঁয়াও তো দেখি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।আমি কী না আস্ত একটা পিচ্চির সাথে ফ্লার্ট করছি!”
তিথি এবার রাগে বিছানায় শুইয়েই কাবিরের বুকে ধুপধাপ কিল মারতে মারতে চিৎকার করে উঠল, —“খবরদার! পিচ্চি বলবেন না! স্কুলের মেয়েরা কি কিছু বোঝে না? আর আমি কি আপনার পারমিশন নিয়ে বড় হবো? মার্চের ২০ তারিখ আসতে আর মাত্র দুমাস বাকি! তখন দেখবেন আমি কত ম্যাচিউর হয়ে গেছি!”
কাবির এবার আরও বেশি মজা পেয়ে মুচকি হেসে বলল,
—“ওরে বাবা! ম্যাডাম তো দেখি খেপে আগুন। আচ্ছা, তোমার ওই জন্মদিনে কি আমি বার্বি ডল গিফট পাঠাব নাকি জ্যামিতি বক্স?”
তিথি রাগে এবার কাবিরের শার্টের কলারটা খামচে ধরে বলল,
—“আপনি একটা অসভ্য সিংহ! আপনি আমার পড়াশোনা আর বয়স নিয়ে কথা বলবেন না। আমি কলেজে উঠি আর যেখানেই যাই, আপনি আমার হার্টবিট নিয়ে কেন খেলছেন?”
কাবির তিথির কপালে একটা আলতো চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল,
—“রাগলে তোমাকে আরও বেশি কিউট লাগে বিবিজান।এখন ভালো বাচ্চার মতো ঘুমিয়ে পড়, না হলে কাল সকালে কিন্তু চোখ ফুলে আলুর মতো হয়ে যাবে।"
তিথি রাগে কথা বলা বন্ধ করে দিল, কিন্তু কাবিরের উষ্ণ বুকের ভেতর তার হার্টবিট এখন ড্রাম বাজানোর মতো শব্দ করছে। সে মনে মনে ভাবল, "এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কলেজে উঠতে দিন শুধু, তখন আপনাকে বুঝিয়ে দেব আমি কত বড় হয়েছি!"
#প্রণয়ের_আউড়ে
#পার্ট১১
#লেখনীতে_সুমাইয়া_আক্তার_শিলা
#চলবে