সকালের ব্রেকফাস্টের পরেই তিথির মা-বাবা বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু যাওয়ার আগে তারা কাবিরের বাবা-মা এবং প্রমার কাছে তিথিকে এক প্রকার আমানত হিসেবে রেখে গেছেন।
তিথির মা-বাবাকে চলে যায়। তিথি একটু দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে প্রমার দিকে হাত বাড়ায়। নতুন পরিকল্পনা করার উদ্দেশ্যে। কাবির ব্যাপারটা বুঝতে পারে টেবিল ছেড়ে সোজা গিয়ে তিথির সামনে দাঁড়ায়।
কাবির খুব শান্ত ভাবেই বলে,
—“তিথি উপরে চলো। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসবে।"
কাবির সাথে সাথেই ধুপধাপ পা ফেলে তার ঘরে ঢুকে যায়।প্রমা তিথির হাতে চিমটি কেটে হুশ ফিরায়।
প্রমা : কী তিথি ভাবি, ভাইয়া তো তোকে চোখে হারায়। কী এমন করলি রাতের বেলায় হুম হুম....!
তিথি লজ্জাস্বরে কাবিরের মা-বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
—“আন্টি, আংকেল আমি যাই উনি ডাকছেন।"
আলতাফ রহমান : যাও আম্মু, অনুমতি চাওয়ার দরকার নেই। তোমরা তো বিবাহিত।
তিথি লজ্জায় এবার মুখ লাল হয়ে যায়।
সারা ইয়াসমিন মুচকি হেসে তিথির কাঁধে হাত রেখে বললেন,
—“যাও মা, ও একটু জেদি হতে পারে কিন্তু মনের দিক থেকে ও খারাপ না। তুমি উপরে গিয়ে ওর সাথে কথা বলো। এখন তো এই বাড়িটাই তোমার আপন ঘর, আর কাবির তোমার আপন মানুষ। লজ্জা পেয়ে
থেমে থেকো না।”
তিথি মাথা নিচু করে ধীর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে থাকে। প্রমা পেছন থেকে ফিসফিস করে বলে,
— “তোর কপাল তো খুলে গেল রে তিথি! দেখিস পাঁচ মিনিট যেন পাঁচ ঘণ্টা না হয়ে যায়!”
তিথি পেছনে ফিরে প্রমাকে একবার চোখ রাঙিয়ে দ্রুত পায়ে কাবিরের ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়।
তিথি দেখল দরজাটা সামান্য ভেজানো। সে খুব সাবধানে ভেতরে পা রাখল। দেখল কাবির জানালার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। তিথি কিছু বলার আগেই কাবির আড়চোখে একবার ঘড়ির দিকে তাকাল।
কাবির: “চার মিনিট পঞ্চাশ সেকেন্ড। সময়ের জ্ঞানটা অন্তত আছে তোমার।”
তিথি একটু থতমত খেয়ে,
—“আপনি এভাবে প্রমার সামনে আর আন্টি আংকেলের সামনে ওভাবে ডাকলেন কেন? সবাই কী ভাবছে জানেন?”
কাবির ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখে এক অদ্ভুত চাউনি, যেটা তিথি আগে কখনো দেখেনি। কাবির শান্ত গলায় বলল,
“সবাই যা ভাবছে, আমি চাই তুমিও সেটাই ভাবো। এপ্রিল মাসে তো তোমার বোর্ড পরীক্ষা তা কী কী পড়া হয়েছে শুনি।"
"আমি আসলে না....মানে...এখন কী আপনি আমায় পড়াবেন নাকি?"
"হ্যাঁ,কেন সমস্যা আছে? থাকলেও প্রবলেম নেই আমি সলভ করপ দিবো।"
কাবিরের গলার স্বর হঠাত্ আরও নিচু হয়ে এল। সে এক পা এগিয়ে আসতেই তিথি দেওয়ালের সাথে লেপ্টে গেল। কাবিরের দু'টো হাত তিথির দু'পাশে দেওয়ালের ওপর শক্ত হয়ে বসল। তিথি খাঁচায় বন্দি পাখির মতো কাঁপছে।
কাবির তিথির কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—“কী হলো? কাঁপছ কেন? নিচে তো খুব তেজ দেখাচ্ছিলে। এখন আমার খুব কাছে আসতে ইচ্ছা করছে না?”
তিথি ভয়ে আর লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। কাবিরের তপ্ত নিঃশ্বাস তার ঘাড়ে লাগছে। তিথি কোনোমতে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
—“আ... আমি নিচে যাচ্ছি। প্রমা একা আছে...”
কাবির বাঁকা হাসল। কোনো কথা না বলে আচমকা তিথিকে পাজাখোলা করে কোলে তুলে নিল। তিথি আর্তনাদ করে উঠে দু-হাতে কাবিরের শক্ত কাঁধ খামচে ধরল। তার বুকটা তখন ঢিপঢিপ করছে।
কাবির তিথিকে কোলে নিয়েই বিছানার দিকে এগোতে লাগল।
তিথি আমতা আমতা করে বলল,
—“কী করছেন? ছাড়ুন আমাকে! কেউ দেখে ফেলবে তো!”
কাবির বিছানায় তিথিকে আলতো করে নামিয়ে দিয়ে তার ওপর ঝুঁকে এল। কাবিরের চোখের চাউনি এবার একদম অন্যরকম, যেন কোনো এক নেশায় বুঁদ হয়ে আছে।
“ফিল করতে পারছ? আমার হার্টবিটটা কত জোরে চলছে বুঝতে পারছ?”
তিথি লজ্জায় আর থাকতে না পেরে হঠাত্ বলেই ফেলল,
—“আপনার বুকে কী জেনারেটর চলছে নাকি? এত ধকধক শব্দ হচ্ছে কেন? বেশি চা খেয়েছেন মনে হয়!”
মুহূর্তেই কাবিরের রোমান্টিক মুডের বারোটা বেজে গেল। সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। ভ্রু কুঁচকে তিথির দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
“কী বললে? জেনারেটর? আমি এখানে তোমার সাথে সিরিয়াস হওয়ার চেষ্টা করছি আর তুমি আমার হার্টবিটকে জেনারেটর বলছো?”
“হ্যাঁ তো কী! আন্টি বলছিলেন আপনার নাকি প্রেসারের সমস্যা আছে। জেনারেটর ফেটে গেলে তো আমাকে সুদ্ধ উড়িয়ে দেবেন!”
কাবির রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বিছানা থেকে সরে দাঁড়াল। শার্টের হাতা গুটিয়ে গজগজ করতে করতে বলল,
—“অসহ্য!যাও, ওই জেনারেটর নিয়েই সারারাত বসে থাকো। একদম আমার ধারেকাছে আসবে না!”
কাবির হনহনিয়ে বারান্দার দিকে চলে গেল। আর তিথি বিছানায় বালিশে মুখ গুঁজে হাসতে হাসতে শেষ!
★
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এল, কিন্তু তিথি আর কাবিরের সামনে পড়ার সাহস পাচ্ছে না। তিথি জানে সামনে পড়লেই কপালে শনি আছে! তিথি এখন ইঁদুর-বেড়াল খেলায় মেতেছে। কাবির যখন ড্রয়িং রুমে থাকে, তিথি তখন রান্নাঘরে লুকায়। আবার কাবির সিঁড়ি দিয়ে নামার শব্দ পেলেই তিথি চট করে বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
কাবির ড্রয়িং রুমে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল, হঠাৎ পানির পিপাসা পাওয়ায় সে রান্নাঘরের দিকে এগোলো। তিথি তখন মনের সুখে ফ্রিজ থেকে আপেল বের করছিল। কাবিরের পায়ের শব্দ পেতেই তিথির কলিজা শুকিয়ে গেল! সে তড়িঘড়ি করে ফ্রিজের দরজার আড়ালে মুখ লুকালো।
"ফ্রিজের পেছনে কী করছ? তেলাপোকা খুঁজছ?"
"নাহ... মানে... ফ্রিজটা খুব সুন্দর তো, তাই দেখছিলাম বাতাস কেমন বের হয়!"
কাবির এক পা এগিয়ে আসতেই তিথি আপেল হাতে নিয়ে উল্টো দিকে দৌড় দিল। কাবির শুধু বাঁকা চোখে তাকিয়ে রইল।
কাবির: (মনে মনে) "কতক্ষণ পালাবে? রাত তো এই ঘরেই কাটাতে হবে, তখন দেখব তোমার জেনারেটর কোথায় যায়!"
*
বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা নামছে, আর তিথি এখনো ডাইনিং টেবিলের নিচে বা পর্দার আড়ালে কাবিরের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। প্রমা দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে হাসতে হাসতে শেষ!
বিকেল ৫টা। বাড়ির সামনে একটি কালো কুচকুচে বুলেটপ্রুফ ক্যাডিলাক এসে থামল। লম্বা লম্বা বিদেশি বডিগার্ডরা নেমে চারপাশ ঘিরে ফেলল। গাড়ি থেকে নামলেন আরশাদ চৌধুরী—চোখে রোদচশমা, পরনে দামী ওভারকোট, হাতে একটি রুপালি হাতলওয়ালা লাঠি। তার পাশেই নামল রাইনা। স্লিভলেস রেড ড্রেস আর হাই হিল জুতোয় তাকে কোনো হলিউড হিরোইন মনে হচ্ছে।
ড্রয়িংরুমে তখন কাবির সোফায় বসা। তার পাশে লাল শাড়িতে তিথি—যে নিজেকে কাবিরের কাজিন হিসেবে তৈরি করে নিয়েছে। কাবিরের বাবা-মা এবং প্রমাও সেখানে উপস্থিত, সবার মুখেই আতঙ্কের ছাপ।
আরশাদ চৌধুরী রুমে ঢুকেই তার ভারি গলার স্বরে বললেন,
—“হ্যালো কাবির! জুম মিটিংয়ে তোমার ওই বিবির কথা শুনে থাকতে পারলাম না। রাইনা তো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল। তাই ভাবলাম সচক্ষে দেখে যাই মিলানের লায়নকে কোন হরিণী কাবু করল।”
রাইনা ঘৃণাভরা চোখে তিথির দিকে তাকিয়ে বলল,
—“ড্যাড, ইজ দিস দ্য গার্ল? ও তো স্রেফ একটা বাচ্চা! একেই তুমি তোমার বিবি বলছিলে কাবির?”
তিথি এবার তার কাজিন অ্যাক্টিং শুরু করল। সে উঠে দাঁড়িয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,
—“আরে না আপু! তুমি ভুল বুঝেছো। আমি কাবির ভাইয়ার দূর সম্পর্কের কাজিন। ভাইয়া আসলে খুব রসিক মানুষ তো, তাই জুম মিটিংয়ে আমাকে নিয়ে তোমাদের সাথে মজা করছিলো। আমাদের দেশে ভাই-বোনদের মধ্যে এমন খুনসুটি খুব চলে। তাই না ভাইয়া?”
তিথি ভাইয়া ডাকায় কাবির তিথির দিকে চোখ পাকিয়ে বলল,
—“হ্যাঁ স্যার। ও তো ছোট মানুষ, মাথায় একটু দুষ্টু বুদ্ধি বেশি। ও জাস্ট মজা করছিল।
আরশাদ চৌধুরী সোফায় বসে টেবিলে নিজের রিভলভারটা রাখলেন।
তিনি ঠান্ডা চোখে সবার দিকে তাকিয়ে বললেন,
—“কাজিন?আপনার ভাইজি কি আপনার ছেলের সাথে এমন ভাবে মিশে থাকে যে সেটা জুম মিটিংয়ে স্ত্রী মতো মনে হয়? শোনো কাবির, মাফিয়াদের সাথে চালাকি করলে তার ফল ভালো হয় না। রাইনা তোমাকে পছন্দ করে। যদি আমি প্রমাণ পাই যে তোমরা মিথ্যা বলছো এবং এই মেয়েটিই তোমার গার্লফ্রেন্ড বা বউ—তবে এই বাড়ির প্রতিটি ইটের নিচে রক্ত বইবে। আমার ডিকশনারিতে মিথ্যা মানেই হলো মৃত্যু।”
রাইনা তিথির একদম সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার মেকআপ করা মুখটা তিথির কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—“যদি জানতে পারি তুমি কোনোভাবে কাবিরের সাথে ইনভলভড, তবে তোমার এই সুন্দর মুখটা আমি এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেব। কাবির শুধু আমার!”
তিথি মনে মনে ভয় পেলেও বাইরে একদম শান্ত। সে রাইনার দিকে তাকিয়ে হাসল।
—“আপু,তুমি তো অনেক সুন্দর! ইতালির ফ্যাশন আর বাংলাদেশের গ্রাম্য কাজিন কি এক হলো? কাবির ভাইয়া তো আমাকে পিচ্চি বলে খেপায়।"
আরশাদ চৌধুরী ঘোষণা করলেন তারা আজ রাতেই এখানে থাকছেন। তিনি তার বডিগার্ডদের পাহারা দিতে বললেন। কাবির যখন করিডোরে তিথির দেখা পেল, সে তাকে এক কোণায় টেনে নিয়ে ফিসফিস করে বলল।
—“তুমি কি পাগল হয়েছ? আরশাদ চৌধুরী যদি একবার সন্দেহ করে, তবে আমাদের কারোরই নিস্তার নেই!”
তিথি কাবিরের শার্টের কলার ধরে নিজের দিকে টেনে বলল,
—“শান্ত হোন সিইও সাহেব! কাজিন হয়েছি বলে কি আপনার ওপর ওই রাইনার অধিকার মেনে নেব? আপনি শুধু আপনার এই কাজিনকে সামলান, রাইনাকে আমি দেখে নেব!”
আরশাদ চৌধুরী ড্রয়িংরুমের সোফায় আয়েশ করে বসে আলতাফ সাহেবের দিকে তাকালেন। পরিবেশটা এতটাই থমথমে যে মনে হচ্ছে বাতাসের শব্দও শোনা যাচ্ছে।
“আলতাফ সাহেব, অনেকদিন পর দেখা। কিন্তু পরিস্থিতিটা ঠিক সামাজিক ভিজিটের মতো মনে হচ্ছে না, তাই না? আমার মেয়ে রাইনার আবদার আমি কখনো ফেলিনি। ও যখন বলল কাবির বাংলাদেশে ফিরে বিয়ে করে ফেলেছে, আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। মিলানের ডন আরশাদ চৌধুরীর জামাই হওয়ার যোগ্যতা সবার থাকে না।”
“আসলে আরশাদ সাহেব, আপনি ভুল বুঝেছেন। আমাদের ছেলে আপনাদের অনেক সম্মান করে। আর এই মেয়েটি... ও তো আমাদের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়র মেয়ে। একটু চঞ্চল তো, তাই হয়তো রসিকতা করে কিছু বলে ফেলেছে।”
“রসিকতা আমি পছন্দ করি না আলতাফ সাহেব। আমার বডিগার্ডরা সারা বাড়িতে নজর রাখছে। যদি কোনো গড়বড় দেখি, তবে মনে রাখবেন আপনার এই সুন্দর বাগানটা কবরস্থানে পরিণত হতে বেশিক্ষণ লাগবে না।”
সারা ইয়াসমিন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে,
— “না না ভাই সাহেব, আপনি ভুল ভাবছেন। আমরা তো রাইনাকেই পছন্দ করি। ও কত আধুনিকা, কত সুন্দর! আমাদের ছেলের জন্য ওই তো মানানসই।”
এদিকে রাইনা কাবিরের হাত জাপটে ধরে একদম লেপ্টে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার মেকি সুরেলা গলায় বলতে শুরু করল,
“ওহ কাবির বেবি! তুমি এই অজ পাড়াগাঁয়ে এসে কীভাবে আছো? আই মিসড ইউ সো মাচ! ড্যাড তো বললে আজ রাতেই থাকব। চলো না, তোমাদের এই বাড়ি আর ওই যে বাইরে বড় বাগানটা দেখলাম ওটা আমাকে ঘুরিয়ে দেখাবে। আই ওয়ান্ট টু সি হোয়াই ইউ লাভ দিস প্লেস সো মাচ!”
কাবির অসহায়ের মতো তিথির দিকে তাকাল। তিথি মুচকি হেসে প্রমার দিকে ইশারা করল।
তিথি: “অবশ্যই আপু! কেন দেখাবে না? ভাইয়া তো আমাদের এই বাগান নিয়ে খুব গর্ব করে। চলো না আমরা সবাই মিলে ঘুরি। প্রমা, তুইও চল, আপুকে আমাদের স্পেশাল বাগানটা ঘুরিয়ে দেখাই।”
সবাই বাগানে বের হলো। রাইনা কাবিরের বাহু আঁকড়ে ধরে হাঁটছে আর নানা রকম ঢং করছে।
“উফ কাবির, এখানে কত মশা! আর এই ঘাসগুলো আমার জুতো নষ্ট করে দিচ্ছে। তুমি কেন আমাকে কোলে তুলে নিচ্ছ না?”
তিথি পাশ থেকে ফিসফিস করে প্রমাকে বলল, —“শুনলি তো? কোলে নিতে হবে! দাড়া, দিচ্ছি ব্যবস্থা করে।”
তিথি পা টিপে টিপে রাইনার একটু আগে গিয়ে ঘাসের ওপর বিছিয়ে রাখা একটা চিকন পানির পাইপের মুখটা আলগা করে দিল, যেখানে কাদা জমে ছিল।
তিথি:“আপু, এই দিকটা দেখো, এখানে খুব সুন্দর বিদেশি ক্যাকটাস আছে। ভাইয়া তোমার জন্যই লাগিয়েছে!”
রাইনা যেই না হিল জুতো নিয়ে সেদিকে পা বাড়িয়েছে, অমনি কাদার ওপর পা পিছলে সোজা গিয়ে পড়ল একটা ঝোপের ওপর। তার দামী রেড ড্রেস কাদায় একাকার!
“আআআহ! মাই ড্রেস! মাই মেকআপ! কাবির, হেল্প মি!”
প্রমা মুখ চেপে হাসি থামিয়ে দৌড়ে গেল।
— “ওহ খোদা! আপু আপনি এখানে পড়লেন? এখানে তো আমরা কালই গরুর সার দিয়েছি! দাঁড়ান দাঁড়ান, আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।”
প্রমা পরিষ্কার করার নাম করে পাশেই থাকা বালতির ঘোলা পানি রাইনার গায়ে ঢেলে দিল।
তিথি পাশ থেকে নিরীহ মুখে বলল,
“ইশ রে! আপু তো একদম চুবানি খেয়ে গেলো। ভাইয়া,আপনি রাইনা আপুকে নিয়ে ভেতরে যান।”
রাইনা রাগে ফুসফুস করতে করতে ভেতরে চলে গেল। কাবির তিথির দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে তাকাল, কিন্তু তিথি শুধু একটা বিজয়ের হাসি দিয়ে নিজের ওড়না ঠিক করতে করতে ভেতরে ঢুকল।
তিথি যে আরশাদ চৌধুরীর ঘুম হারাম করে ছাড়বে, সেটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!
#প্রণয়ের_আউড়ে
#পার্ট১৪
#লেখনীতে_সুমাইয়া_আক্তার_শিলা
#চলবে