ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

১৫তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

করিডোরের এক কোণে ছায়াঘেরা অন্ধকারে তিথি একা দাঁড়িয়ে রাইনার অবস্থা ভেবে মনে মনে হাসছিল।

বাগানের সেই কোণটা ছিল বাড়ির একদম পেছনের দিকে, যেখানে পুরোনো একটা শ্বেতপাথরের ফোয়ারা ঘেরা লতাগুল্মের আড়াল। চাঁদের আলো সেখানে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ঠিকরে পড়ছে, যা পরিবেশটাকে একটা মায়াবী রূপ দিয়েছে। চারদিকে কামিনী ফুলের তীব্র মিষ্টি গন্ধ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক—সব মিলিয়ে জায়গাটা এক টুকরো শান্তির দ্বীপ মনে হচ্ছে।

হঠাৎ করেই পেছন থেকে একটা শক্ত হাত তিথির কোমর জড়িয়ে ধরল এবং চোখের পলকে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল কাবির। তিথি চমকে উঠে চিৎকার করতে চেয়েছিল, কিন্তু কাবির অন্য হাতে তার মুখ চেপে ধরল।

তাদের মাঝে এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির দূরত্ব। কাবিরের চোখ দুটো অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে, আর তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।

তিথিআস্তে করে কাবিরের হাত সরিয়ে ফিসফিস করে,

—"আরে ছাড়ুন! কী করছেন সিইও সাহেব? কেউ দেখে ফেললে কিন্তু জ্যান্ত কবর দিয়ে দেবে আরশাদ চৌধুরী।"

"জ্যান্ত কবর তো ও পরে দেবে, তার আগে আমি তোমায় কী করব সেটা ভেবেছ? তুমি কি বুঝতে পারছ তুমি কত বড় আগুন নিয়ে খেলছ? রাইনার ড্রেসে কাদা লাগানো, তাকে ইনসাল্ট করা— এসবের মানে জানো?"

কাবির তিথির কোমরের বাঁধন আরও শক্ত করে নিজের দিকে টেনে নিল। তিথি এবার একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল,

—"আমি... আমি তো শুধু আপনাকে সাহায্য করছিলাম। ওই রাইনাকে তো আপনার পছন্দ না, তাই না?"

"পছন্দ কি না সেটা বড় কথা নয় তিথি। বড় কথা হলো, আরশাদ চৌধুরীর সন্দেহ। তুমি তো খুব সাহসী সেজেছ, কিন্তু এখন যদি আমি এই অবস্থাতেই ড্রয়িংরুমে গিয়ে বলি যে তুমি আমার কাজিন নও, তুমিই আমার সেই বিবি—তাহলে কী হবে ভেবেছ?"

কাবির তার মুখটা তিথির খুব কাছে নিয়ে এল, যেন এখনই তাকে চুমু খাবে। তিথি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। সে বুঝতে পারছে কাবির তাকে ভয় দেখানোর জন্য এমন করছে। কাবিরের স্পর্শে তিথির সারা শরীর কাঁপছে।

"কী হলো? এতক্ষণ তো খুব বড় বড় কথা বলছিলে? এখন কাঁপছ কেন? কাজিন হিসেবে ভাইয়ার সাথে একটু রোমান্স করতে ভয় লাগছে?"

তিথি বুঝতে পারল কাবির তাকে তার নিজের জালে আটকাতে চাইছে। সে হুট করে চোখ খুলে কাবিরের চোখের দিকে সোজাসুজি তাকাল। তারপর দুষ্টুমি ভরা একটা হাসি দিয়ে কাবিরের শার্টের বোতামে হাত দিল।

"ভয়? তিথি আর ভয়? আপনি যদি আমাকে আপনার বিবি হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন, তবে আমি আপনার ওই রাইনা আপুর সামনেই আপনাকে জড়িয়ে ধরে কিস করে দেব। করবেন রিস্কটা নেবেন? আমার কিন্তু হারানোর কিছু নেই, তবে আরশাদ চৌধুরীর রিভলভারটা কিন্তু আপনার বুক লক্ষ্য করেই উঠবে!"

কাবির এবার ভড়কে গেল। সে ভেবেছিল তিথিকে ভয় দেখাবে, কিন্তু এই মেয়ে তো উল্টো তাকেই চ্যালেঞ্জ করে বসছে। সে তিথিকে ছেড়ে দিয়ে এক পা পিছিয়ে এল এবং নিজের গলার টাইটা একটু আলগা করল।

"তুমি একটা আস্ত পাগল! মাথা খারাপ তোমার।"

"পাগল না হলে কি আপনার মতো খড়খড়ে মানুষের প্রেমে... থুড়ি, আপনার মতো মানুষের কাজিন হওয়ার অভিনয় করি? যান, গিয়ে আপনার হবু বউয়ের সেবা করুন, আমি দেখি রাতে খাবারে আর কী কী মেশানো যায়!"

কাবির গুমরিয়ে ওখান থেকে চলে গেল, আর তিথি দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার নিজের হৃৎপিণ্ডের শব্দ সে নিজেই শুনতে পাচ্ছে।

~~~

সন্ধ্যা ৭টা। আবহাওয়াটা বেশ থমথমে। আরশাদ চৌধুরীর বডিগার্ডরা পুরো বাড়ি ঘিরে রেখেছে। এদিকে বাড়িতে অতিথি অনেক, তাই কাবির আর তার বাবা আলতাফ সাহেব বাজারে গিয়েছেন রাতের জন্য ভালো কিছু কেনাকাটা করতে। আসলে বাজার তো উছিলা, তারা মূলত চাইছিলেন এই দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে একটু বাইরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে।

এদিকে ঘরের ভেতর তখন অন্য নাটক চলছে।

তিথির মা-বাবার কাছে তিথিকে আমানত হিসেবে রেখে যাওয়ার পর কাবিরের মা সারা ইয়াসমিন যে এভাবে বিপদে পড়বেন সেটা ভাবেননি। তিনি রান্নাঘরে গিয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তিথির মা তানিয়া মিথুকে ফোন দিলেন।

"হ্যালো! ও তিথির মা, শুনতে পাচ্ছো? আরে সর্বনাশ হয়ে গেছে গো! তোমরা তো মেয়েকে রেখে গেলে, কিন্তু এখানে তো সাক্ষাৎ যমদূত এসে হাজির হয়েছে।"

"কেন আপা? কী হয়েছে? তিথি ঠিক আছে তো?"

"তিথি তো বাঘের বাচ্চার মতো লড়ছে, কিন্তু আমরা তো ভয়ে শেষ! সেই যে ইতালির ডন আরশাদ চৌধুরী, সে তার মেয়ে রাইনাকে নিয়ে সশরীরে হাজির। সাথে এক ডজন বন্দুকধারী বডিগার্ড। আর আরশাদ সাহেব তো টেবিলের ওপর রিভলভার রেখে হুমকি দিচ্ছে—যদি জানতে পারে তিথি আর কাবিরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে, তবে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবে।"

"বলেন কী! তিথি কী করছে এখন?"

"সেটাই তো মরণ! মেয়েটা একটুও ভয় পাচ্ছে না। সে নিজেকে কাবিরের কাজিন সাজিয়ে রাইনার সাথে এমন সব কথা বলছে যে আমার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার জোগাড়। একবার তো রাইনাকে কাদা-পানিতে চুবিয়ে ছেড়েছে। এদিকে কাবির আর তার বাবা তো বাজার করার নাম করে বাইরে গেছে একটু পরামর্শ করতে। আমি যে কী করি! যদি কোনো অঘটন ঘটে, তোমরা কিন্তু আমাকে ক্ষমা করো। তোমাদের আমানত রক্ষা করতে গিয়ে তো দেখছি আমাদের পুরো গুষ্টিই শেষ হবে!"

ফোনের ওপাশে তিথির মা স্তব্ধ হয়ে রইলেন। আর এদিকে তিথি রান্নাঘরের দরজার আড়াল থেকে মায়ের এই কথাগুলো শুনে একটু হাসল। সে ভাবল,

—"আন্টি তো ঠিকই বলেছে, আমানত রক্ষা করতে গিয়ে এখন দেখছি সিইও সাহেবের পুরো ক্যারিয়ারই আমার হাতে!"

তখনি সে দেখল আরশাদ চৌধুরী করিডোর দিয়ে আসছেন। তিথি ঝটপট ফোনটা সরিয়ে নিয়ে রান্নার কাজে মন দেওয়ার ভান করল।

~

কিছুক্ষণ পর তিথি আর প্রমা তখন করিডোর দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ রাইনাদের রুমের দরজাটা একটু খোলা দেখে তারা থমকে দাঁড়াল। ভেতর থেকে আরশাদ চৌধুরী আর রাইনার গম্ভীর কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। তিথি প্রমার মুখে হাত দিয়ে ইশারা করল চুপ থাকতে। তারা দরজার আড়ালে কান পাতল।

"ড্যাড, আমার একদম বিশ্বাস হচ্ছে না ওই মেয়েটা কাবিরের কাজিন। কাজিনরা ভাইয়ার সামনে ওরকম শাড়ি পরে ঢং করে ঘুরে বেড়ায় না। ওর চোখের চাউনি ভালো না ড্যাড!"

"আমিও তাই ভাবছি রাইনা। আলতাফ সাহেব আর তার স্ত্রী খুব নার্ভাস। কিছু একটা লুকাচ্ছে তারা। আর ওই মেয়েটা... তিথি... ও খুব বেশি স্মার্ট। সাধারণ গ্রামের মেয়েদের মতো ও ভয় পাচ্ছে না। আমি আমার বডিগার্ডদের বলেছি ওদের ওপর নজর রাখতে। যদি কাবির আর তিথির মধ্যে বিন্দুমাত্র প্রেমের সম্পর্ক পাই, তবে কাবিরকে তো ইতালিতে নিয়ে গিয়ে শেষ করবই, আর ওই মেয়েটাকে আমি বাংলাদেশ থেকে ভ্যানিশ করে দেব।"

"শুধু ভ্যানিশ করলে হবে না ড্যাড। আমি চাই কাবির নিজের চোখে দেখুক ওর এই কাজিন কীভাবে শাস্তি পায়। আমি আজ রাতেই ওর ফোনটা চেক করার ব্যবস্থা করছি।"

বাইরে তিথি আর প্রমা একে অপরের দিকে তাকাল। প্রমার হাত-পা কাঁপছে ভয়ে, কিন্তু তিথির চোখে এখন জেদ। সে বুঝতে পেরেছে আরশাদ চৌধুরী দমবার পাত্র নন।

প্রমা ফিসফিস করে বলল,

— "তিথি, চল পালাই! তোর ফোন চেক করলে তো সব ধরা পড়ে যাবে। তোর গ্যালারিতে তো কাবির ভাইয়ের সাথে তোলা ছবি আছে!"

"শান্ত হ প্রমা। ওরা আমার ফোন চেক করবে? তার আগে আমি ওদের মগজ চেক করে নেব। রাইনা যে চালটা চালছে, সেটা আমি ওর দিকেই ঘুরিয়ে দেব। চল, রান্নাঘরে যাই। ডিনারের আগে এদের একটু স্পেশাল ট্রিটমেন্ট দেওয়া দরকার।"

তিথি মনে মনে ভাবল, কাবির বাজার থেকে ফেরার আগেই তাকে আরশাদ চৌধুরীর এই ষড়যন্ত্রের কথা জানাতে হবে। কিন্তু কীভাবে? চারদিকে তো বডিগার্ডের পাহারা!

~~

আধা ঘন্টা পর। তিথি ট্রে হাতে নিয়ে রাইনার রুমে ঢুকল। রাইনা তখনো বিরক্ত মুখে আয়নায় নিজের চুল ঠিক করছিল। প্রমা দরজার বাইরে একদম রোবটের মতো খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেন ভেতরে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে সে অন্তত পালানোর রাস্তাটা তৈরি রাখতে পারে।

তিথি টেবিলে নুডলস রেখে রাইনার একদম পাশে গিয়ে দাঁড়াল। তার চোখে-মুখে কোনো ভয় নেই, বরং একটা অদ্ভুত শাসন করার ভাব। তিথির জুড়াজুড়িতে রাইনা নুডলস খেতে রাজি হলো।রাইনা রাগে কাঁপতে কাঁপতে এক চামচ নুডলস মুখে দিল। আর দেওয়া মাত্রই তার চোখ-মুখ দিয়ে যেন আগুন বের হতে শুরু করল! তিথি যে পরিমাণ ঝাল আর গোলমরিচ দিয়েছে, তা রাইনার মতো মানুষের কল্পনার বাইরে।

"ওয়াটার! ওয়াটার! ওহ মাই গড, তুমি এতে কী দিয়েছ?"

"কেন? একটু ঝাল হয়েছে বুঝি? আমাদের দেশের খাবার তো একটু এমনই হয়। সহ্য করতে শেখো রাইনা, কাবির ভাইয়ার দেশে থাকতে হলে তো এগুলোই খেতে হবে!"

রাইনা যখন ঝালের চোটে হাহাকার করছে, তিথি তখন খুব শান্তভাবে গ্লাস ভর্তি পানি তার দিকে এগিয়ে দিল। রাইনা এক নিঃশ্বাসে পানিটুকু খেয়ে লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে লাগল। তার ফর্সা মুখটা এখন টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে।

তিথি একটুও না ঘাবড়ে রাইনার পাশে বিছানায় আয়েশ করে বসল। সে এমন এক ভঙ্গি করল যেন তারা ছোটবেলার দুই বান্ধবী গল্প করতে বসেছে।

"আহা রে! একদম বাচ্চা তুমি রাইনা আপু। এতটুকু ঝাল সহ্য করতে পারো না? বসো তো দেখি শান্ত হয়ে। তোমার সাথে একটু মন খুলে কথা বলি।"

"তুমি... তুমি আমাকে বসতে বলছো? তুমি জানো ড্যাড জানলে তোমার কী অবস্থা হবে?"

"আরে রাইনা আপু, সবসময় ড্যাড ড্যাড করলে চলে? দেখো, আমি আর তুমি তো প্রায় সমবয়সী। কাবির ভাইয়ার কাছে তোমার কত গল্প শুনেছি! উনি তো বলেন রাইনা খুব সুইট, রাইনা ইতালিতে সবার ক্রাশ। এখন তুমি যদি এখানে এসে এভাবে রাগ করে থাকো, তবে তো আমাদেরই খারাপ লাগে। আমি তো চেয়েছিলাম তোমার সাথে একটু ভাব জমাতে, তোমাকে এখানকার মেয়েদের সিক্রেটগুলো শেখাতে।"

তিথির এই হঠাৎ পাল্টে যাওয়া অমায়িক আচরণে রাইনা একটু থতমত খেয়ে গেল। মেয়েটা কি আসলেই ভালো নাকি এটা কোনো চাল? রাইনা একটু ইতস্তত করে বসল।

"শোনো রাইনা আপু, কাবির ভাইয়াকে তুমি যতটা চেনো, তার চেয়ে বেশি আমি চিনি। উনি আসলে একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ তো, সরাসরি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেন না। তাই আমি ভাবলাম, তুমি যখন এসেছই, তখন তোমাকে একটু টিপস দিই। কীভাবে কাবির ভাইয়াকে পটাতে হয়, সেটা কি তুমি জানো?"

কাবিরকে পটানো'র কথা শুনে রাইনার কান খাড়া হয়ে গেল। তার রাগ যেন মুহূর্তেই জল হয়ে গেল। সে উৎসুক হয়ে তিথির দিকে তাকাল।

"রিয়েলি? তুমি আমাকে হেল্প করবে? কিন্তু তুমি তো জুম মিটিংয়ে বলছিলে তুমি ওর বিবি!"

"আরে ওটা তো ভাইয়ার সাথে বাজি ধরেছিলাম! ভাইয়া বলেছিল তুমি নাকি খুব হিংসুটে, তাই তোমাকে একটু খেপাতে ওটা বলেছিলাম। তুমি তো দেখছি আসলেই খুব সিম্পল। তুমি থাকলে কি আর ভাইয়া আমার দিকে তাকাতো? আমি তো স্রেফ একটা গেঁয়ো কাজিন!"

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে প্রমা তিথির এই অস্কার লেভেল অভিনয় শুনে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। সে ভাবছে,

— "এই মেয়ে তো পুরো আগুন! এত সুন্দর করে যে মিথ্যা বলতে পারে, এর তো হলিউডে থাকা উচিত ছিল!"

রাইনা এবার তিথির হাত ধরে ফেলল।

"আই অ্যাম সরি তিথি! আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম। আসলে আমি কাবিরকে খুব ভালোবাসি তো, তাই একটু ইনসিকিউরড হয়ে পড়েছিলাম।"

তিথি মনে মনে হাসল। বাঘিনীকে খাঁচায় বন্দি করার প্রথম ধাপ সফল! সে রাইনার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলতে শুরু করল আর রাইনা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা শুনতে লাগল।

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট১৫

#লেখনীতে_উম্মে_ফুল

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন