(1)
ডিনার টেবিলে আরশাদ চৌধুরীর ঘোষণাটা যেন বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো শোনাল। তিনি গ্লাসে চুমুক দিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে বললেন,
—"ময়মনসিংহের আবহাওয়া আর আপনাদের আতিথেয়তা—দুটোই দারুণ। তাই ঠিক করলাম, কাবির যেদিন ইতালি যাবে, আমরাও সেদিনই একসাথে বিদায় নেব। কী বলো কাবির? রাইনার সাথে তোমার সময়টাও ভালো কাটবে।"
কাবির রহস্যজনকভাবে আরশাদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে রইল। সে তো দু মাসের ছুটি নিয়ে ছিলো অফিস থেকে। এতোদিন এই মেয়েটার সাথে একই ছাদে থাকা মানে নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক হওয়া। সে আড়চোখে তিথির দিকে তাকাল। তিথি তখন খুব নিরীহ মুখে নিজের প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন এই মাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনায় তার কোনো হাত নেই।
আলতাফ সাহেব কাচুমাচু হয়ে বললেন,
— "সে তো আমাদের সৌভাগ্য আরশাদ সাহেব। আপনারা আমাদের মেহমান, যত দিন খুশি থাকতে পারেন।"
সারা ইয়াসমিন ও উনার সাথে তাল মিলালেন।
********
রাত এগারোটা। পুরো বাড়ি নিঝুম। আরশাদ চৌধুরীর বডিগার্ডরা সব গেটের বাইরে পাহারায় আছে, কিন্তু বাড়ির ভেতরে এখন পরিবারের লোকজন ছাড়া আর কেউ নেই। আলতাফ সাহেব আর উনার স্ত্রী অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। এই সুযোগটাই কাজে লাগানোর জন্য ওত পেতে ছিল প্রমা আর তিথি।
বাড়ির মেইন সুইচ টিপে প্রমা সব লাইট অফ করে দিয়েছে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে আরশাদ চৌধুরীর রুমের দরজার সামনে দুই মূর্তি দাঁড়িয়ে কান পেতে আছে। ভেতরে আরশাদ চৌধুরী আর রাইনা নিচু স্বরে কথা বলছেন।
"রাইনা, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। ওই তিথি মেয়েটা আর কাবির—ওদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আমার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না। মেয়েটা সারাক্ষণ খাসি খাসি করে চিল্লায় ঠিকই, কিন্তু ওর চোখ থাকে কাবিরের দিকে।"
"আরে না ড্যাড! তুমি সব কিছুতেই গোয়েন্দাগিরি করো। মেয়েটার তো বয়ফ্রেন্ড আছে, দেখলে না ওই বিশ্রী মেসেজটা?"
"মেসেজ ফেক হতে পারে রাইনা। কাল সকালে আমি তিথির ফোনটা আবার চেক করব। এবার গ্যালারি নয়, সরাসরি কল লিস্ট দেখব।"
বাইরে দাঁড়িয়ে তিথির কলিজা কেঁপে গেল। প্রমা তিথির হাতে একটা চিমটি কেটে ইশারা করল— এবার শুরু কর!'
তিথি আর প্রমা আগে থেকেই তৈরি ছিল। তারা সাদা ধবধবে চাদর দিয়ে নিজেদের মুড়িয়ে নিয়েছে, চুলে তেলের বদলে জল দিয়ে একদম জট পাকিয়ে সামনে ফেলে রেখেছে। প্রমা পকেট থেকে একটা ছোট ব্লুটুথ স্পিকার বের করে খুব নিচু স্বরে প্যাঁচের ডাক আর পুরোনো দরজার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ বাজাতে শুরু করল।
হঠাৎ আরশাদ চৌধুরীর রুমের জানলাটা বাইরে থেকে কেউ জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। (আসলে তিথি লম্বা একটা বাঁশ দিয়ে বাইরে থেকে ধাক্কা দিচ্ছে)।
রাইনা আর্তনাদ করে উঠল,
"ড্যাড! ওটা কীসের শব্দ?"
"বাতাস হবে। ভয় পেও না।"
ঠিক তখনই প্রমা দরজার নিচ দিয়ে হালকা ধোঁয়া মশার কয়েলের ধোঁয়া জমিয়ে রাখা হয়েছিল ছেড়ে দিল আর তিথি একদম ভাঙা গলায় ডাইনিদের মতো হাসতে শুরু করল।
—"হিহিহি... আমার বাড়িতে কারা এসেছে? আমার রক্ত চাই... রক্ত!"
— "ড্যাড! এই বাড়িতে ভূত আছে! আমি আগে থেকেই শুনেছিলাম ময়মনসিংহের বাড়িগুলোতে অতৃপ্ত আত্মা থাকে!"
আরশাদ চৌধুরী সাহসের পরিচয় দিতে দরজাটা ঝট করে খুললেন। কিন্তু সামনে যা দেখলেন তাতে উনার মতো জাঁদরেল মানুষেরও হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ঘুটঘুটে অন্ধকারে সাদা চাদর পরা দুইটা মূর্তি বাতাসে ভাসছে আসলে প্রমা আর তিথি টুলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিথির হাতে থাকা টর্চটা নিচের দিক থেকে মুখে ফেলায় তাকে দেখতে একদম বীভৎস লাগছে।
প্রমা ফিসফিস করে বলল,
— "যাও... এখান থেকে চলে যাও... নইলে তোদের কলিজা চিবিয়ে খাব!"
আরশাদ চৌধুরী থতমত খেয়ে পিছিয়ে গেলেন। রাইনা তো ভয়ে অজ্ঞান হওয়ার দশা। সে চিৎকার করে উঠল,
— "বাঁচাও! বাঁচাও!"
ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের রুম থেকে কাবির অন্ধকারের মধ্যে টর্চ জ্বালিয়ে বেরিয়ে এল।
— "কী হয়েছে? এতো চিৎকারের শব্দ কেন?"
তিথি আর প্রমা মুহূর্তের মধ্যে সাদা চাদর ফেলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কিচেনের দিকে দৌড়ে পালাল। কাবির যখন আরশাদ চৌধুরীর রুমে ঢুকল, তখন দেখল আরশাদ চৌধুরী বিছানার এক কোণে বসে জোরে জোরে দোয়া পড়ছেন আর রাইনা কম্বলের নিচে ঢুকে কাঁপছে।
কাবির মনে মনে হাসছে তাদের ভয়ের কারণটা কিছু হলেও আন্দাজ করতে পারছে।
— "কী হয়েছে আঙ্কেল? আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন?"
আরশাদ চৌধুরী তোতলাতে তোতলাতে বললেন, —"কা...কা...কাবির! এই বাড়িতে ভূত আছে! আমি নিজের চোখে দুটো সাদা পেত্নি দেখলাম!"
কাবির খুব গম্ভীর মুখে বলল,
—"ওহ,ওটা তো আমাদের মেজো দাদীর আত্মা হতে পারে। উনি তো বাইরের মানুষ একদম সহ্য করতে পারতেন না। আপনারা কি কাল সকালেই চলে যেতে চান?"
রাইনা কম্বলের নিচ থেকে মাথা বের করে বলল, —"কাল সকালে কেন? এখনই চলো!"
ওদিকে কিচেনে বসে তিথি আর প্রমা মুখ চেপে হাসতে হাসতে মাটিতে গড়িয়ে পড়ছে। তিথি ভাবছে, —"খাসি তো অনেক হলো, এবার ভূতের চোটে আরশাদ চৌধুরীকে ময়মনসিংহের সীমানা পার করাব!"
~
ড্রয়িংরুমে মোমবাতি নিভে এখন মেইন লাইট জ্বলছে। আরশাদ চৌধুরী সোফায় এমনভাবে বুক ফুলিয়ে বসে আছেন যেন তিনি মাত্র কোনো যুদ্ধে জয়লাভ করেছেন। রাইনা উনার হাত শক্ত করে ধরে ভয়ে কুঁকড়ে আছে।
কাবির কাচুমাচু মুখে বলল,
—"আঙ্কেল,মেজো দাদীর আত্মা কিন্তু একবার যাকে টার্গেট করে তাকে সহজে ছাড়ে না। আপনি কি সত্যিই থাকতে চান?"
আরশাদ চৌধুরী উনার চশমাটা নাকে ঠিক করে বললেন,
— "কাবির, ভূত-প্রেত আসলে মনের ভুল। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আর রাইনা ময়মনসিংহের এই ভূতুড়ে বাড়িতেই থাকব। আর তুমি যখন ইতালি যাবে, আমরাও তোমার সাথেই ফ্লাইটে উঠব। আমি অলরেডি টিকেট কনফার্ম করে দিয়েছি। তোমার বিজনেস ডিল আমি নিজের চোখে দেখতে চাই!"
কিচেনের দরজার আড়ালে তিথি আর প্রমা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। তিথি ফিসফিস করে বলল,
—"দেখলি প্রমা? ভিলেন তো দেখি হার মানছে না! ভূত দেখে প্যান্ট লুজ হওয়ার দশা, অথচ ভাব দেখাচ্ছে যেন সে ঘোস্টবাস্টার্স-এর ডিরেক্টর!"
প্রমা মাথা চুলকে বলল,
—"এখন কী করবি? লোকটা তো চুইংগামের মতো লেগে আছে। ইতালিতে গিয়ে তো মেজো দাদী সাজতে পারবি না!"
তিথি দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
—"ইতালি যাওয়ার আগেই ওকে এমন ডোজ দিতে হবে যেন ও ইতালির বদলে পাবনা যাওয়ার টিকিট কাটে! দাঁড়া,মেজো দাদী ফেল করেছে তো কী হয়েছে, এবার মেজো দাদাকে নামাতে হবে!"
আরশাদ চৌধুরী আর রাইনাকে তাদের ঘরের দরজা পর্যন্ত এক প্রকার ঠেলে ঢুকিয়ে দিয়ে আসলো কাবির। আরশাদ চৌধুরী ঢোকার সময়ও সন্দেহী চোখে করিডোরের অন্ধকার কোণাগুলো দেখছিলেন। দরজা বন্ধ হতেই কাবির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের ঘরের দিকে হাঁটা দিল।
*****
ওদিকে বাড়ির মেইন সুইচ অন করতে গিয়ে প্রমা ভাবলো,
— "না, অন্ধকারটা বেশ জমজমাট। ভুতুড়ে পরিবেশে একটু নাটক না হলে হয়?"
সে কিচেনে গিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই একটা টুল নিয়ে বসল। তখনই তার ফোনটা কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল কাবিরের বন্ধু সাদ্দাম-এর নাম।
প্রমা কিচেনের মেঝেতে বসে ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সাদ্দাম বেশ অবাক হয়ে বলল,
—"কি প্রমা! এই মাঝরাতে ফোন করলে যে? সব ঠিক আছে তো? নাকি কাবির আবার কোনো ঝামেলায় পড়েছে?"
প্রমা কিচেনের অন্ধকারে একটা বটি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে গম্ভীর গলায় বলল,
—"সব ঠিক থাকার কোনো লক্ষণই নেই সাদ্দাম ভাইয়া। আমাদের বাড়িতে এখন লঙ্কাকাণ্ড চলছে। আরশাদ চৌধুরী আর রাইনা—এই দুজনে মিলে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।"
সাদ্দাম বেশ ঘাবড়ে গিয়ে বলল,
— "আরশাদ চৌধুরী? উনি আবার ওখানে কেন? আর রাইনাও কি সাথে? তোমার গলার স্বর এমন লাগছে কেন?"
প্রমা একটা ডার্ক হাসি দিয়ে বলল,
— "আপনি তো কিছুই জানেন না সাদ্দাম ভাইয়া। আরশাদ চৌধুরী আর রাইনা এখানে এসেছে কাবির ভাইয়াকে ইতালিতে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। রাইনার সাথে কাবির ভাইয়ের বিয়ের পাকাপাকি কথা বলতে চায় ওরা। আপনি কি চান কাবির ভাই ওই রাইনার মতো প্লাস্টিক পুতুলের সাথে ইতালিতে গিয়ে মমি হয়ে থাকুক?"
সাদ্দাম এবার চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
— "বলছো কী! রাইনা তো কাবিরের জীবনটা বিষিয়ে দেবে। তুমি কি কিছু করছো না? তুমি আর তিথি তো শান্তিতে থাকার পাত্রী নও।"
প্রমা বটিটা দিয়ে একটা আলুর ডগায় খোঁচা দিয়ে বলল,
— "শান্তিতে নেই বলেই তো আমরা মিশন ভুতুড়ে দাদী চালু করেছি। আমরা দুজনে মিলে ওদের এমন ভয় দেখিয়েছি যে, ওরা এখন লেপের নিচে কাঁপছে। রাইনা তো ভাবছে এ বাড়িতে সত্যিই মেজো দাদীর আত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে।"
সাদ্দাম ওপাশ থেকে হো হো করে হেসে উঠল।
— "তুমি তো দেখছি ভয়ংকর মেয়ে! তা তুমি এই অন্ধকারে বটি দিয়ে কী করছো? মেজো দাদী সেজে কি এখন আরশাদ চৌধুরীর ঘাড় মটকাবে নাকি? শোনো প্রমা, তোমার এই বুদ্ধিগুলো মাঝেমধ্যে আমাকেও ভাবিয়ে তোলে। সাবধানে থেকো, জ্যান্ত মানুষ মারতে গিয়ে আবার ফেঁসে যেও না।"
প্রমা একটু হেসে বলল,
— "আপনি আমার জন্য অত চিন্তা করবেন না সাদ্দাম ভাইয়া। আরশাদ চৌধুরী তো কেবল মানুষ! দরকার হলে উনাকে মেজো দাদী'র সাথে চিরস্থায়ী ডেটিংয়ে পাঠিয়ে দেব। আপনি বরং কাল সকালে জলদি ময়মনসিংহে চলে আসুন। আমাদের এই নাটকে আপনার মতো একজন পাগল আর্টিস্ট দরকার।"
সাদ্দাম গলাটা একটু নরম করে বলল,
— "আসছি কাল তুমি যে এই লুকে নিজেকে সাজিয়েছো, কাল সকালে তোমায় চিনতে পারব তো? নাকি তুমিও আমাকে দেখে বটি নিয়ে তেড়ে আসবে?"
( সাদ্দাম আহম্মেদ বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ে অধ্যাপক। বাবা সাইফুল ইসলাম পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী। মা তামান্না কাজী গৃহিণী। তাদের স্থায়ী বাড়ি ময়মনসিংহের সদরে। তবে উনারা সবসময় গ্রামেই থাকতে পছন্দ করে। সাদ্দাম চাকরি সূত্রে ঢাকা থাকে। )
প্রমা মুচকি হাসল।
— "সেটা কাল সকালেই দেখতে পাবেন সাদ্দাম ভাইয়া। এখন রাখি, রাইনা মনে হয় আবার বাথরুমে যাওয়ার জন্য দোয়া পড়া শুরু করেছে!"
সাদ্দাম ওপাশ থেকে নিচু স্বরে বলল,
— "সাবধানে থেকো প্রমা। কাবিরের চেয়েও এখন আমার তোমার জন্য বেশি টেনশন হচ্ছে!"
*******
তিথি পা টিপে টিপে ঘর থেকে বের হলো। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় ওঠার সময় প্রতিটা ধাপে তার মনে হচ্ছিল মেজো দাদী বুঝি সত্যি তার আঁচল টেনে ধরবে। মনে মনে সব দোয়া-দরুদ পড়ে সে কাবিরের ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।
পাসওয়ার্ড ১৬৩৪ তিথি মনে মনে হাসল, আগের ঘটনাটা মনে পরল কাবির তাকে কীভাবে অপদস্ত করেছিলো সেই দিন।ওইসব না ভেবে দুষ্টু হাসি হাসলো
ক্লিক করে দরজাটা খুলল। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, শুধু নীল রঙের একটা ডিমলাইট জ্বলছে। সেই হালকা নীল আলোয় ঘরটাকে কেমন অদ্ভুদ সুন্দর লাগছে। তিথি খুব সাবধানে পা ফেলে খাটের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
কাবির অঘোরে ঘুমাচ্ছে। নীল আলো তার তীক্ষ্ণ নাক আর চিবুকের ওপর পড়ে এক অদ্ভুত ছায়া তৈরি করেছে। তিথি ঝুঁকে পড়ে দেখল।
—"ইশ! লোকটা ঘুমালে কত সুন্দর লাগে, অথচ জাগলে একদম বুনো মহিষ!"
তিথি ভাবল একটু মজা করা যাক। সে তার ওড়নার কোণা দিয়ে কাবিরের নাকে আলতো করে সুড়সুড়ি দিল। কাবির ঘুমের ঘোরেই হাত দিয়ে নাক চুলকাল। তিথি আবার সুড়সুড়ি দিল।
হঠাৎ, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাবির এক ঝটকায় তিথির হাত ধরে ফেলল। তিথি ভয়ে চিৎকার দিতে গিয়েও থেমে গেল। কাবির চোখ খোলেনি, কিন্তু তার ঠোঁটে একটা বাঁকা হাসি।
"মেজো দাদী কি আবার আমার ঘরে হানা দিয়েছে? নাকি কোনো চোর আমার হৃদয় চুরি করতে এসেছে?"
"ছাড়ুন! আমি দেখতে এসেছিলাম আপনি নাক ডাকছেন কি না। আপনার নাকে ময়লা জমেছে, তাই পরিষ্কার করে দিচ্ছিলাম।"
কাবির এক টানে তিথিকে খাটের ওপর বসিয়ে দিল। এবার সে চোখ মেলল। নীল আলোয় কাবিরের চোখের মণিগুলো যেন আরও গভীর আর রহস্যময় লাগছে। সে তিথির একদম কাছে মুখ নিয়ে এল।
"এত রাতে ডোর লক খুলে একটা জ্যান্ত পুরুষের ঘরে ঢোকা যে কতটা রিস্কি, সেটা কি তোমার ওই ছোট্ট মাথাটায় ঢোকে না বিবিজান? নাকি তুমি চাও আমি সত্যিই ওই খাসি হয়ে যাই যে তার মালিককে কামড়ে দেয়?"
"আরেহ! আমি কি ভয় পাই নাকি? আমি তো এসেছি আপনাকে সাবধান করতে। আরশাদ আঙ্কেল কিন্তু আপনার রুমের দিকেই আসছিলেন।"
"মিথ্যে বলো না। উনি এখন ঘুমের ঘোরেও দোয়া পড়ছেন। তুমি আসলে আমার কাছে এসেছ। কেন বিবিজান? এই অন্ধকার আর এই নীল আলো কি তোমাকে খুব টানছে? নাকি তোমার মনে হচ্ছে এই মূহুর্তে আমি তোমাকে দেয়ালে চেপে ধরে আরশাদ চৌধুরীর সব রাগ উসুল করি?"
"উফ! আপনার রোমান্স কি সব দেয়ালে চেপে ধরা আর ভয় দেখানোর ওপর? একটু কি সাধারণ রোমান্স পারেন না? যেমন ধরুন—আমায় একটা চকলেট দেবেন বা চুলে একটা ফুল গুঁজে দেবেন?"
কাবির হাসল, তবে সেই হাসিটা ছিল একদম শয়তানি ভরা। সে তিথির কোমরে হাত দিয়ে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল।
"চকলেট বাচ্চারা খায় বিবিজান। আর আমরা এখন যে গেমে নেমেছি, সেখানে রক্ত আর নেশার খেলা চলে। তুমি কি চাও আমি তোমার ঘাড়ে আমার দাঁতের চিহ্ন বসিয়ে দিয়ে প্রমাণ করি যে তুমি কেবল আমার?"
"থামুন তো ভ্যাম্পায়ার কোথাকার! রোমান্স করতে বলেছি, ড্রাকুলা সাজতে বলিনি। আপনার দাঁত দিয়ে খাসির মাংস চিবান গিয়ে, আমায় ছাড়ুন!"
"যখন ইতালির ফ্লাইটে উঠব, তখন কিন্তু পালানোর রাস্তা থাকবে না।"
"তখন আমি এয়ারপোর্টের সিকিউরিটিকে বলব—এই লোকটা একটা পাগল খাসি, একে ইতালির বদলে চিড়িয়াখানায় পাঠান!"
~~~~~~
নীল ডিমলাইটের আলোয় কাবিরের ঘরটা এখন রহস্যময় কোনো গোলকধাঁধা। তিথি জানলার গ্রিলের সাথে চিপকে দাঁড়িয়ে আছে, আর সামনে কাবির—যেন এক শান্ত কিন্তু ভয়ংকর শিকারি।
"শুনুন মিস্টার চিলড্রেন-ভুলানো খাসি, আপনি যেভাবে তাকাচ্ছেন, মনে হচ্ছে আমাকে এখনই কাঁচা চিবিয়ে খাবেন। আমি কিন্তু হজম হব না, বলে দিচ্ছি!"
কাবির আরও এক ইঞ্চি কাছে এগিয়ে এল। তার ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি। সে তিথির কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"হজম করার চিন্তা পরে হবে বিবিজান। আগে তো দেখি এই মেয়েটার ভেতরে ভয় বলে কিছু আছে কি না। নাকি সারাক্ষণ শুধু আমাকে খেপিয়েই তুমি জীবন পার করবে?"
"ভয়? আমি তো আরশাদ চৌধুরীকে ভূত সাজিয়ে ভয় দেখাই, আর আপনি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন? আপনার রোমান্সটা না একদম ব্যাকডেটেড। একটু আধুনিক হন ওরে আমার মজনু টাইপ পাঠা!"
কাবির ভ্রু কুঁচকাল।
"বিবিজান, আধুনিক রোমান্স কেমন? তুমি কি আমাকে একটু ডেমো দেবে?"
তিথি একটু সাহস সঞ্চয় করে কাবিরের শার্টের কলারটা ঠিক করে দিতে দিতে বলল,
"যেমন ধরুন—আপনি হাঁটু গেড়ে বসে বলবেন, হে আমার জানু, তুমি কি আমার সাথে ইতালির পাস্তা খাবে।তা না করে আপনি যেভাবে আমাকে দেয়ালের সাথে সেঁটে ধরেছেন, তাতে মনে হচ্ছে আপনি আমাকে পাস্তা নয়, বরং নিজেই পিৎজা বানিয়ে ওভেনে ঢুকিয়ে
দেবেন!"
(২)
কাবির শব্দ করে হেসে উঠল। সেই হাসিতে ঘরটা গুমগুম করে উঠল। সে তিথির চিবুকটা আলতো করে ধরে উঁচিয়ে ধরল।
—"পাস্তা খাওয়ার সময় তো অনেক পাবে জান। কিন্তু এই যে মাঝরাতে চোরের মতো আমার ঘরে ঢুকেছ, এর জরিমানা কী হবে?"
তিথি চোখ বড় বড় করে বলল,
— "জরিমানা? আচ্ছা ঠিক আছে, কাল সকালে আপনার জন্য আমি নিজ হাতে চা বানাব। তবে চিনি বদলে লবণ দেব, যাতে আপনার এই রোমান্টিক বলদ মার্কা নেশাটা একটু কাটে!"
কাবির এবার সিরিয়াস হলো। তার চোখ জোড়া তিথির চোখের অতলে ডুবে গেল। সে খুব নিচু স্বরে বলল,
— "একদিকে বাবার সম্মান, অন্যদিকে আরশাদ চৌধুরীর সন্দেহ। আর তার মাঝখানে তুমি—যে আমাকে এক মুহূর্ত শান্তিতে থাকতে দিচ্ছ না।"
তিথি একটু নরম হলো। সে খুব আস্তে বলল,
—"শান্তিতে থাকতে দিচ্ছি না বলেই তো আপনি এখনো টিকে আছেন মিস্টার মটোরু খাসি। নইলে ওই রাইনা তো আপনাকে বিয়ের আগেই মমি বানিয়ে পিরামিডে ঢুকিয়ে রাখত।"
কাবির হঠাৎ তিথির কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। —"তাহলে কি মেনে নেব যে এই কলিজার খাসি'র আসল মালকিন শুধুই তুমি, বার্ডকুইন।
তিথি ঢোক গিলে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,
— "শুনুন মিস্টার হাড়-কিপ্টে রোমিও, আপনি এভাবে তাকালে আমি কিন্তু হার্ট অ্যাটাক করব। তখন আমার অতৃপ্ত আত্মা কিন্তু আপনার ওই ইতালির প্লেন মাঝ আকাশে থামিয়ে দেবে!"
কাবির এবার আর হাসল না। তার চেহারায় এক অদ্ভুত গাম্ভীর্য ফুটে উঠল। সে তিথির একদম কাছে ঝুঁকে এল, তাদের নাকের ডগা প্রায় ছুঁইছুঁই। কাবির তার ডান হাতটা তিথির গলার কাছে নিয়ে গিয়ে আলতো করে স্লাইড করল।
"তুমি কি জানো তিথি, এই অন্ধকারে তোমার এই ভয় পাওয়া মুখটা দেখতে কতটা নেশাক্ত লাগছে? সারাদিন তো অনেক ফাজলামো করো, অনেক নতুন নতুন নামে ডাকো। কিন্তু এই যে এখন তোমার নিঃশ্বাস আটকে আসছে, এই মুহূর্তটা কি তুমি লুকাতে পারবে?আমি চাইলে কিন্তু এখনই তোমাকে এই ঘর থেকে বের হতে দেব না।"
তিথি এবার সত্যিই ভয় পেয়ে গেল। কাবিরের চোখের দৃষ্টিতে এমন কিছু একটা আছে যা সে আগে কখনো দেখেনি। তিথি আমতা আমতা করে বলল,
—"দেখুন... আপনি কিন্তু লিমিট ক্রস করছেন মিস্টার অসভ্য জমিদার! আমাকে ছাড়ুন!"
কাবির বাঁকা হাসল। সে তিথির কানের লতিটা হালকা করে ছুঁয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—"লিমিট তো তুমি অনেক আগেই ক্রস করেছ। আমার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছ, আরশাদ চৌধুরীকে ভূত দেখিয়েছ। এখন তার পেনাল্টি তো দিতেই হবে। এই যে তোমার গায়ের কাঁপুনি... এটা কি ভয়ের, নাকি তুমিও চাইছ আমি তোমাকে আরও কাছে টেনে নিই?"
—"আপনি... আপনি সত্যি পাগল হয়ে গেছেন। আমি যাচ্ছি এখান থেকে!"
কাবির তাকে ছাড়ল না, উল্টো তার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে আরও শক্ত করে মিশিয়ে নিল। তার চোখের মণিগুলো যেন অন্ধকারের সাথে মিশে গেছে। কাবির বলল,
— "পালানোর পথ আমি অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি বিবিজান। তুমি এই ঘরে ঢুকেছ নিজের ইচ্ছায়, কিন্তু বের হবে আমার ইচ্ছায়।"
তিথির গলার স্বর বুজে এল। সে বড় বড় চোখ করে কাবিরের দিকে তাকিয়ে রইল। কাবিরের ঠোঁট যখন তিথির কপালে প্রায় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
তখনই তিথি যেই না দরজার দিকে এক কদম বাড়িয়েছে পালানোর জন্য, কাবির বিদ্যুৎবেগে এসে তার পথ আটকে দাঁড়াল। ঘরটা নীল ডিমলাইটের আলোয় এক অদ্ভুত রহস্যময় রূপ নিয়েছে।
তিথি ফিসফিস করে বলল,
—"শুনুন মিস্টার জংলি মহিষ! আমাকে পথ ছাড়ুন, প্রমা জেগে গেলে কিন্তু আপনার বিবিগিরি ফাঁস করে দেবে!"
কাবির বাঁকা হাসল। তার চোখের মণিগুলো নীল আলোয় চিকচিক করছে।
— "এত সহজে মুক্তি নেই বিবি।
তিথি কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাবির এক ঝটকায় তাকে পাজাকোলে তুলে নিল। তিথি চমকে উঠে চিৎকার দিতে গিয়েও কাবিরের শার্ট খামচে ধরল। কাবির তাকে সোজা নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল।
তিথি হড়বড় করে বলতে লাগল,
— "একী করছেন মিস্টার বেয়াদব সম্রাট? নামুন আমার ওপর থেকে! আপনি কি কুস্তি লড়বেন নাকি? আপনার ওজন অনেক, আমি কিন্তু এখনই পাঁপড় হয়ে যাব!"
কাবির বিন্দুমাত্র না দমে নিজের শরীরের ভার তিথির ওপর দিয়ে বিছানায় ঝুঁকে এল। সে তিথির দুপাশে হাত দিয়ে তাকে একদম লক করে ফেলল। কাবির এবার এতটাই রোমান্টিক মুডে যে তিথির ফাজলামোও যেন কাজ করছে না।
কাবির তিথির নাকের ডগায় নিজের নাক ঠেকিয়ে খুব নিচু আর ভরাট গলায় বলল,
—"তুমি না আমাকে মজনু টাইপ পাঠা বলছিলে? এখন দেখো, এই পাঠা যখন জেদ ধরে, তখন সে কতটা খতরনাক হতে পারে। ভয় পাচ্ছ বিবিজান?"
তিথি এবার সত্যিই ঢোক গিলল। কাবিরের তপ্ত নিঃশ্বাস তার ঠোঁটের খুব কাছে। সে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,
— "দেখুন... মজা করবেন না। আপনি কিন্তু লিমিট ক্রস করছেন মিস্টার ড্রাকুলা! ছাড়ুন বলছি!"
কাবির তার মুখটা তিথির ঘাড়ের কাছে নামিয়ে নিয়ে গেল। সেখানে ঠোঁট ছোঁয়ানোর মতো দূরত্ব রেখে ফিসফিস করে বলল,
—"লিমিট তো তুমি অনেক আগেই ভেঙেছ তিথি। আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে এখন বলছ লিমিট ক্রস না করতে? আজ রাতে যদি আমি তোমাকে আমার করে নিই, তবে কে আসবে বাঁচাতে? ওই মেজো দাদী?"
তিথির বুক ধড়ফড়ানি এখন ড্রামের মতো বাজছে। কাবিরের এক একটা কথা যেন তিরের মতো বিঁধছে। তিথি কোনোমতে বলল,
—"আপনি একটা আস্ত শয়তান! ইতালিতে গিয়ে রাইনা আপুকেও কি এভাবেই ভয় দেখাবেন?"
কাবির এবার তিথির চোখের দিকে স্থিরভাবে তাকাল। তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত নেশা।
—"রাইনার নাম আমার ঘরে নিবে না। এই ঘরে,এই মুহূর্তে শুধু তুমি আর আমি। আর তোমার এই ভয়ার্ত চোখ দুটো... যা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।"
কাবির যখন তিথির খুব কাছাকাছি, তিথি ভয়ে আর লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। সে ভাবল কাবির হয়তো কিছু একটা করবে, কিন্তু হঠাৎ কাবীর তার চুলে মুখ গুঁজে দিয়ে একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিল।
"বিবি,এখন শুধু তোমার ধরা দেওয়ার পালা।"
"আপনার এই রোমান্টিক চাউনি বন্ধ করুন। আমি তো এখন ঘামতে ঘামতে সুইমিং পুল হয়ে যাচ্ছি!"
"ঘামো। যত ঘামবে, তত তোমার শয়তানি বুদ্ধিগুলো জল হয়ে বেরিয়ে যাবে। আজ রাতটা শুধুই আমাদের বিবিজান।"
নীল ডিমলাইটের আলোয় কাবিরের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। সে তিথির দুপাশে হাত দিয়ে বিছানায় এমনভাবে চেপে ধরেছে যে নড়ারও উপায় নেই। তিথি বারবার কাবিরের বুক ঠেলে সরানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু কাবির যেন আজ পাথর হয়ে গেছে।
কাবির তিথির কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—"কেন কাঁপছো তিথি? সারাদিন তো অনেক সাহস দেখাও। এখন যখন আমি সত্যিই তোমার খুব কাছে, তখন তোমার মুখটা শুকিয়ে গেছে কেন? আমার এই রোমান্স কি তোমার সহ্য হচ্ছে না বিবি?"
— "ছাড়ুন... আপনি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন। আমি এটা পছন্দ করছি না মিস্টার অসভ্য জমিদার!"
কাবির এবার আরও একধাপ এগিয়ে গেল। সে তিথির গলার কাছে নিজের ঠোঁট নামিয়ে আনল। তার তপ্ত নিশ্বাস তিথির চামড়ায় আগুনের মতো বিঁধছে। কাবির খুব নিচু আর নেশাক্ত গলায় বলল,
—"পছন্দ না হলে আজ সারারাত এই ঘরে এভাবেই আটকে থাকো। পালানোর কথা ভুলে যাও। এই রাতটা শুধু আমার আর তোমার।"
তিথি এবার সত্যিই অসহায় বোধ করতে শুরু করল। কাবিরের এই আচরণ, এই লুক আর গলার স্বর—সবকিছু মিলিয়ে তিথির ভেতরে এক অজানা আতঙ্ক দানা বাঁধল। সে কয়েকবার জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিল, কিন্তু কাবির তাকে একচুলও নড়তে দিচ্ছে না।
*
হঠাৎ করেই তিথির দুচোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। তার ঠোঁট দুটো কাঁপতে শুরু করল এবং একটু পরেই একটা চাপা কান্নার শব্দ ঘরটার নিস্তব্ধতা ভেঙে দিল।
"আপনি সত্যিই খুব খারাপ... আমি ভেবেছিলাম আপনি শুধু মজা করেন। কিন্তু আপনি তো আমাকে ভয় পাইয়ে আনন্দ পাচ্ছেন। আমি আর এক মুহূর্তও এই ঘরে থাকব না! আপনি একটা নিষ্ঠুর মানুষ মিস্টার রাক্ষস!"
তিথির কান্নার শব্দ শুনতেই কাবির মুহূর্তের মধ্যে জমে গেল। তার ভেতরে যে নেশা কাজ করছিল, তা এক সেকেন্ডে মধ্যে বাতাসের মতো উড়ে গেল। সে ঝট করে তিথির ওপর থেকে সরে গিয়ে বিছানার একপাশে বসল।
কাবির অবাক হয়ে দেখল, তিথি মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। তার শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। কাবির অপরাধবোধে কুঁকড়ে গেল। সে কাঁপাকাঁপা হাতে তিথির কাঁধ স্পর্শ করতে গিয়েও থমকে গেল।
"তিথি... আরে বিবি, তুমি তো কাঁদছ! আমি... আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম। তুমি আমাকে খেপিয়েছিলে বলেই আমি একটু ভয় দেখাতে চেয়েছিলাম। প্লিজ কাঁদো না!"
"আপনার এই মজা আমার ভালো লাগে না। আপনি সারাক্ষণ নিজের দাপট দেখান। আমি আর কখনও আপনার কাছে আসব না!"
তিথি এক দৌড়ে ঘরের বাইরে চলে গেল। কাবির হতভম্ব হয়ে বিছানায় বসে রইল। নীল আলোটা এখন তার কাছে বড় বেশি ফ্যাকাসে আর বিষণ্ণ লাগছে। সে নিজের চুলে হাত দিয়ে টেনে ধরল। সে বুঝতে পেরেছে, আজ সে সত্যিই লিমিট ক্রস করে ফেলেছে।
#প্রণয়ের_আউড়ে
#পার্ট১৭(১+২)
#লেখনীতে_সুমাইয়া_আক্তার_শিলা
#চলবে
(এই এক রাতের দহন কি তাদের আজন্মের দূরত্ব বাড়িয়ে দিল, নাকি এই অভিমানের আড়ালেই জন্ম নেবে নতুন কোনো দহন?)
বিঃদ্রঃ প্রায় দশ/বারো জন আমায় এসএমএস করে বলেছে পরবর্তী পার্টটা দ্রুত দিতে। তোমাদের কথা ও ভালোবাসা রাখতে আমি এই পার্টটা ইয়া বড় দিয়েছি।কেমন হয়েছে জানাবে। লেখায় ভুল ত্রুটি হলে হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং 💖