ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

২৪তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

এক সপ্তাহ পর।

চট্টগ্রাম বন্দরের আকাশ আজ মেঘলা। সমুদ্রের নোনা বাতাসের সাথে মিশে আছে এক চাপা উত্তেজনা। রাত তখন প্রায় বারোটা। আরশাদ চৌধুরী আর ফাহিম তাদের বিশেষ কন্টেইনার খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। আরশাদ চৌধুরীর মুখে বিজয়ের হাসি, সে ভাবছে এই চালানের পরেই সে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।

ফাহিম তার স্যাটেলাইট ফোনে শেষবারের মতো গড অফ ইতালির সাথে কথা বলে নিল। কিন্তু সে জানত না, এই পুরো এলাকার আকাশ জুড়ে এখন অদৃশ্য ড্রোনের নজরদারি চলছে।

হঠাৎ চারপাশ নিস্তব্ধ করে দিয়ে সাইরেন বেজে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে বন্দরের লাইটগুলো নিভে গেল এবং আকাশ থেকে নেমে এল ব্ল্যাক বক্সের কমান্ডোরা। আরশাদ চৌধুরী কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখল তার চারপাশ ঘিরে ফেলেছে অস্ত্রধারী কিছু লোক।

ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে এল এক দীর্ঘকায় পুরুষ। পরনে ব্ল্যাক ট্যাকটিক্যাল গিয়ার, চোখে নাইট ভিশন গগলস। সে আর কেউ নয়—কাবির।

“কী আরশাদ সাহেব? সারপ্রাইজড? আপনার ২ বিলিয়ন ডলারের ট্রানজ্যাকশন কিন্তু আমি মাঝপথেই আটকে দিয়েছি। আপনি এখন দেউলিয়া।"

ফাহিম দ্রুত পকেট থেকে রিভলভার বের করতে চাইল, কিন্তু কাবির চোখের পলকে ফাহিমের কবজিতে লাথি মেরে অস্ত্রটা ফেলে দিল।

“ফাহিম,তোমার খেলা শেষ। ইতালির গড তোমাকে বাঁচাতে আসবে না, কারণ সে জানে তার ক্যাশিয়ার এখন জিরো।"

ফাহিম আর আরশাদ চৌধুরীকে যখন কমান্ডোরা হ্যান্ডক্যাপ পরাচ্ছিল, তখন আরশাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে তার নিজের লোকই এই গ্রুপের প্রধান। কাবিরের এক ইশারায় ফাহিমের সেই দামী স্যাটেলাইট ফোন আর কন্টেইনারের ভেতর থেকে বের করা অবৈধ অস্ত্রের স্তূপ সিজ করা হলো।

🦋

একসপ্তাহ পর, বৃহস্পতিবার সকাল।

অরণ্য কুটিরে ভয়ঙ্কর তান্ডবের শেষ হয়ে এক অদ্ভুত থমথমে ভাব। কিন্তু তিথি ওসবের ধার ধারে না। তিথি এসব রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের চেয়ে তার পড়াশোনা নিয়ে বেশি চিন্তিত অন্তত লোক দেখানো হলেও।

এপ্রিল মাসে এসএসসি পরীক্ষা। তিথি আর প্রমা আজ একটু বেশিই সিরিয়াস। সকাল ৮টা বাজতেই তিথি রেডি হয়ে গেল।

“প্রমা! জলদি কর। আজ ধোবাউড়া সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়-এ আমাদের কোচিং ক্লাসটা খুব ইম্পর্টেন্ট। দুই ঘণ্টা আগে না গেলে সামনের বেঞ্চ পাওয়া যাবে না।

“তুই এতো আগে যাবি নাকি ফাহিম ভাইয়ার বিরহে কাঁদবি? ইশ! বেচারাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল, রাইনা আপু তো ঘরে খিল দিয়ে কাঁদছে।"

“ধুর! ওই এন্টেনাওয়ালা ফাহিমের জন্য আমার বয়েই গেছে। বরং চল, স্কুলের গেটে গিয়ে মামার দোকানের ঝালমুড়ি খাব। খাড়ুস কাবির ভাইয়া বাসায় নেই, এই সুযোগে একটু ফুর্তি করে নিই!"

তিথি আর প্রমা চুপিচুপি অরণ্য কুটির থেকে বেরিয়ে ধোবাউড়া স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। তিথি ভাবল সে খুব চালাকি করে পালিয়েছে, কিন্তু সে জানত না রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা কালো কাঁচের গাড়ি থেকে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

কাবিরের নির্দেশ ছিল— “তিথি ও প্রমার ছায়ার সাথেও যেন আমার লোক থাকে।”

তিথি যখন স্কুলের গেটে পৌঁছে ঝালমুড়িওয়ালার সাথে দরদাম করছিল, তখন তার মনে হচ্ছিল কেউ একজন তাকে অনুসরণ করছে। সে বারবার পেছনে তাকাচ্ছে, কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।

তিথি মনে মনে ভাবল, “জম্বিগুলো দিনেদুপুরে বের হওয়া শুরু করল?”

স্কুলের মাঠে পা রাখতেই তিথির বুকটা অজানা আশঙ্কায় ধক করে উঠল। সে জানে না, এই শান্ত স্কুলের গেটেই তার জন্য নতুন কোনো বিপদ ওত পেতে আছে কি না।

রিকশাওয়ালা মামা একটু বিরক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিথি রিকশার একপাশে ব্যাগটা রেখে লাফ দিয়ে নামল।

“প্রমা, তুই এই রিকশাতেই উঠে বস, আমি ঝটপট চকলেট আইসক্রিম কিনে নিয়ে আসছি। আইসক্রিম ছাড়া কোচিংয়ের ওই ম্যাথ পড়া মাথায় ঢোকে না!"

“তুই যে হারে আইসক্রিম খাচ্ছিস তিথি, পরীক্ষার আগে তো খেয়ে খেয়ে আস্ত একটা মুটকি হয়ে যাবি!"

তিথি দাঁত কিড়মিড় করে বলে,

“চুপ কর শালী! আমার খাওয়ার দিকে নজর দিলে আমি তোকে আইসক্রিম দেবই না, একাই সব চেটেপুটে খাব। তখন কিন্তু আমার পেছনে পেছনে ঘুরঘুর করবি না।এই বলে দিলাম!"

“ওকে বাবা, মাফ চাইছি! কিচ্ছু বলব না, তুই তাড়াতাড়ি আয়। রিকশাওয়ালা মামা কিন্তু চিল্লামিল্লি শুরু করেছে।"

তিথি দৌড়ে গিয়ে স্কুলের গেটের পাশের দোকানদারকে দু’টো বড় চকলেট আইসক্রিমের অর্ডার দিল। আইসক্রিম হাতে নিয়ে সে যখন আবার রিকশার দিকে ফিরছিল, তখন তার নজর পড়ল রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই কালো কাঁচের জিপটার দিকে। জিপের ভেতরে কাউকে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু তিথির মনে হলো কেউ একজন লেন্স দিয়ে তাকে মেপে নিচ্ছে।

তিথি তড়িঘড়ি করে রিকশায় উঠে এক হাতে আইসক্রিম প্রমার দিকে বাড়িয়ে দিল।

“ধর এটা! আর মামা, তাড়াতাড়ি চালান। মনে হচ্ছে চারপাশের বাতাস খুব বেশিই কাবির ভাইয়া কাবির ভাইয়া গন্ধ ছড়াচ্ছে!

“তোর সব জায়গায় শুধু ভাইয়াকেই মনে পড়ে! ভাইয়া তো চট্টগ্রামে পুলিশ নিয়ে ব্যস্ত, এখানে আসবে কোথা থেকে?”

তিথি কোনো উত্তর দিল না। সে রিকশায় বসে মনের সুখে আইসক্রিম খাচ্ছে আর ভাবছে, ধোবাউড়া স্কুলের ওই বড় মাঠের কোণায় আজ ক্লাস শেষে একটু আড্ডা দেওয়া যাবে। কিন্তু সে জানত না, ওই কালো জিপটা তখনো ধীরগতিতে তাদের রিকশার পিছু পিছু আসতে শুরু করেছে।

~~~

ধোবাউড়া স্কুলের ক্লাসে বসে অংক করার চেষ্টা করছে তিথি, কিন্তু তার মাথায় ঘুরছে এইরাতের সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যগুলো। অরণ্য কুটিরে যা ঘটে গেছে, তা কোনো সিনেমার চেয়ে কম ছিল না।

অরণ্য কুটিরের ড্রয়িংরুমে তখন থমথমে নীরবতা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অপারেশন শেষ করে কাবির যখন সশরীরে বাড়িতে এসে দাঁড়াল, তখন তার পরনের সেই ব্ল্যাক ট্যাকটিক্যাল গিয়ার যা দেখে বাড়ির সবাই পাথর হয়ে গিয়েছিল। কাবির শান্ত স্বরে সবার সামনে নিজের আসল পরিচয় তুলে ধরল,সে গত পাঁচ বছর ধরে ইতালির আন্তর্জাতিক আন্ডারগ্রাউন্ড এজেন্ট নেটওয়ার্ক ব্ল্যাক বক্স গ্রুপের ভাইস লিডার হিসেবে কাজ করছে। আরশাদ চৌধুরীকে হাতেনাতে ধরার জন্যই সে এতোদিন এই জাল বুনেছিল।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছিলেন প্রিয়ার স্বামী ইমরান। নিজের ছোট ভাই ফাহিম যে একজন ইতালিয়ান মাফিয়া কিলার, এটা শোনার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের ভাইয়ের এমন অপকর্মের কথা শুনে তিনি এতটাই লজ্জিত যে কারোর দিকে তাকাতে পারছেন না। তবে কাবিরের এই সাহসিকতা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা শুনে পরিবারের সবাই গর্বিত। এমনকি প্রিয়াও তার চোখের জল মুছে কাবিরকে জড়িয়ে ধরেছে।

এদিকে রাইনার অবস্থা সবচেয়ে করুণ। গত কয়েকদিনে সে কাবিরকে একপাশে সরিয়ে রেখে সুদর্শন ফাহিমকে মন দিয়ে বসেছিল। এখন ফাহিমকে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গেছে শুনে রাইনা সোফায় শুয়ে পা ছুড়ে কান্নাকাটি করছে।

“ আমার ইতালিয়ান হিরোরে! কেন তুই এমন ডাকাত হলি? আমার কপালটাই পোড়া! কাবিরকে ছেড়ে আমি চোর ফাহিমের প্রেমে পড়লাম! এখন আমি মুখ দেখাব কী করে?"

তিথি আর প্রমা তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল। যদিও তিথি মনে মনে হাসছিল রাইনার এই মিনিটে মিনিটে প্রেমিক বদলানোর স্বভাব দেখে।এসব ঝামেলা থেকে মুক্তির জন্য রাইনাকে গতকাল রাতেই ফ্লাইটে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তার মাতৃভূমিতে। কাজটি করপছে একমাত্র সাহসী নায়ক কাবির।

কাবির দৃঢ় কন্ঠে বলেন,

“এতোক্ষণে যেসব কথা আমার মুখে শোনলে সবই সত্য। এখন থেকে বাংলাদেশে থাকার তোমার কোনো কারণ দেখছি না। সানজিদা খালাকে আমি বলে দিয়েছি উনি উনার বাপের বাড়ি চলে যাবে। রাত বারোটায় ফ্লাইট আশা করি নির্দ্বিধায় তুমি চলে যাবে। আর হ্যাঁ আরেকটা কথা তিথি আমার বিবাহিত স্ত্রী আমাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় ছয়,সাত বছর আগে। তোমার বাবাকে ধরার জন্য এসব কিছু আমার পূর্ব পরিকল্পনা,শুনেছ।"

রাইনা ফুঁপিয়ে কাঁদে বলে,

"বিশ্বাস করো কাবির আমি তোমাকে অনেক ভালেবাসি। "আই লাভ ইউ আ লট" কাবির।"

তিথি প্রমা করিডরের আড়ালে দাঁড়িয়ে সব শুনছে।তিথি ব্যঙ্গ করে বলে,

"আই লাভ ইউ আ লট" কাবির যত্তসব ফাউল কাজকর্ম। এই প্রমা আমি গেলাম তুই তোর ভাইয়ের প্রেমকাহিনী দেখ।"

প্রমা তিথির পিছুটে বলে,

“আরে প্রেম কই করছে ভাইয়া তো রিজেক্ট করছে। তিথি তুই কী জেলাস হুম...হুম..।"

তিথি,প্রমা দুজন দুজনকে কাতুকুতু দিয়ে হাসতে থাকে।

পড়ার টেবিলে বসে বইয়ের পাতায় চোখ থাকলেও তিথির মনটা আবার ডুব দিল কিছুদিন আগের সেই স্মৃতিতে। রাইনার সাথে কাবিরকে কথা বলতে দেখে সেদিন তিথির বুকে কী ভীষণ হিংসে দানা বেঁধেছিল! সেই অভিমানে টানা একটা দিন সে কাবিরের সাথে কথা বলেনি। কিন্তু আজ সেসব মনে করে নিজের মনেই মৃদু হাসল সে।

~~

প্রতিদিনের মতো আজকেও তিথি আর প্রমা রাত ১২টা পর্যন্ত মন দিয়ে পড়াশোনা করল। প্রমা চলে যাওয়ার পর তিথির হঠাৎ খুব সাজতে ইচ্ছে হলো। ভাবল কাবিরকে একটা ফোন দেবে, কিন্তু পরক্ষণেই কী মনে করে ফোন আর দিল না। বরং নিজেই ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে বসল।

আলমারি থেকে বের করল টকটকে লাল শাড়ি আর তার সাথে মানানসই কালো ব্লাউজ। ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক মাখল। ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে তিথি থমকে দাঁড়াল। কয়েকদিন আগে জেদ করে কাঁধ পর্যন্ত চুল কেটে ফেলেছিল সে, কিন্তু আজ সেলুনে গিয়ে অনেক সময় নিয়ে হেয়ার এক্সটেনশন করিয়ে চুলগুলো আবার কোমর পর্যন্ত লম্বা করেছে।

চুলে হাত বোলাতে বোলাতে তিথি ভাবল— "আচ্ছা, কাবির ভাইয়া কি দেখে খুশি হবে? নাকি বরাবরের মতো বলবে—তিথি তুমি একটা পিচ্চি মেয়ে, সামনে এসএসসি পরীক্ষা, এখন এসব কীসের সাজগোজ, শুনি?'"

ঠিক সেই মুহূর্তেই দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল কাবির। তাকে দেখে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। আজ টিমের অন্যদের সাথে হালকা ড্রিংকস করার কারণে শরীরটা তার বেশ গরম লাগছে। কিন্তু ঘরের আলোয় লাল শাড়িতে মোড়ানো তিথিকে দেখে তার ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই উবে গেল। সে ধীর পায়ে তিথির দিকে এগিয়ে এল।

"বিবিজান, এই সাজটা কি আমার জন্য?"

তিথি লাজুক হেসে মাথা নিচু করে বলল,

"হুমম। আপনি কি খুশি হয়েছেন?"

"হুম, খুব। একটু এদিকে এসো তো।"

"কেন?"

"আরে এসোই না, তোমাকে চকলেট দেব।"

তিথি চকলেটের কথা শুনে কৌতূহলী হয়ে যেই না কাবিরের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, অমনি কাবির তাকে এক ঝটকায় নিজের নিবিড় সান্নিধ্যে টেনে নিল। তিথি অপ্রস্তুত হয়ে কাবিরের চোখের দিকে তাকাতেই সে তিথির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"সরি বিবিজান, তোমার আঠারো বছর হওয়ার অপেক্ষা আর করতে পারলাম না..."

°°°°°°°°°°°°°°°°বর্তমানে°°°°°°°°°°°°

তিথি আইসক্রিমের শেষ অংশটুকু কামড় দিয়ে

জানালার বাইরে তাকাল। এসব কথা মনে পড়তেই তিথির ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি ফুটে উঠল। তিন রাত আগের সেই মুহূর্তটি যেন আজও তার মনে শিহরণ জাগিয়ে যাচ্ছে।

“প্রমা, দেখ তো ওই গাড়িটা! আমরা কি কোনো বড় আসামী যে আমাদের পাহারা দিতে হবে?"

“হতেও তো পারে! তুই যে হারে রাইনা আপুর মাথায় ভূত আর অতৃপ্ত আত্মার গল্প ঢুকিয়েছিলি, ভাইয়া হয়তো ভাবছে তুই যেকোনো সময় কোনো ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম করে বসবি!”

“চুপ কর! এখন তো আরও ভয় লাগছে। ওইরাতে ভাইয়াকে ওই পোশাকে দেখার পর থেকে আমার কেমন যেন বুক ধকধক করছে। খাড়ুস লোকটা যে এতো বড় অফিসার, আগে জানলে তো ঘাড় কামড়ানোর বদলে অন্য কিছু করতাম!"

ঠিক তখনই ক্লাসের দরজায় কারো ছায়া পড়ল। স্কুলের দপ্তরী এসে জানাল, প্রধান শিক্ষক তিথি আর প্রমাকে তার রুমে ডেকে পাঠিয়েছেন।

তিথি প্রমার হাত শক্ত করে ধরল।

“প্রমা।ওই কালো গাড়ির ভেতর থেকে কেউ আমাদের নামে কমপ্লেন করেছে? চল, আজ মনে হয় কপালে শনির দশা আছে!"

দুই বান্ধবী ভয়ে সিটিয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের রুমের দিকে হাঁটা দিল। তিথির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছে, বড় কোনো রহস্য শুরু হতে যাচ্ছে এই ধোবাউড়া স্কুলেই।

★

ধোবাউড়া স্কুলের গেট দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসার সময় তিথির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। সেই স্যুট-বুট পরা লোকটা যখনই বলল,

“ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মারুফ আহমেদ সাহেবের বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে,”

তখনই তিথি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।

গাড়িতে ওঠার পর থেকেই তিথির বিলাপ শুরু হলো যা শোনার জন্য ওই এজেন্ট মোটেও প্রস্তুত ছিল না।

তিথিগাড়ির সিটে আছাড় খেয়ে পড়ে বলে,

“ওরে আমার স্যার আব্বু গো! সারাজীবন স্কুলের ছেলেদের ইংরেজি গ্রামার শিখিয়ে আজ তুমি নিজেই কোন টেন্স-এ চলে গেলে আব্বু! এখন তোমার এই মেয়েটাকে ভয়েস চেঞ্জ আর ন্যারেশন কে শেখাবে? প্রমা, আমার আব্বু কি তবে পাস্ট টেন্স হয়ে গেল রে!

"আরে চুপ কর তিথি! আঙ্কেল পাস্ট টেন্স হবে কেন? হয়তো সামান্য চোট লেগেছে। তুই এমনভাবে চিল্লাচ্ছিস যেন পুরো ময়মনসিংহ শহরে ভূমিকম্প হয়েছে!"

তিথির লোকটার শার্টের ধরার উপক্রম,

“ও ভাইয়া! ও এস্কিউজ মি! আমার আব্বু কি হাসপাতালে প্যাসিভ ভয়েস এ শুয়ে আছে? ও মাগো!ও আব্বু গো কইগেলা তুমি!"

লোকটি বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে বলে,

“ দেখুন , আমি তো জাস্ট খবর নিয়ে এসেছি। আপনি একটু শান্ত হোন, নইলে তো আমি এক্সিডেন্ট করে ফেলব!

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট২৪

#লেখনীতে_সুমাইয়া_আক্তার_শিলা

#চলবে...

বিঃদ্রঃ সময় পেলে গল্প দিবো ইন শা আল্লাহ। আজকের পার্টটা কেমন হয়েছে জানাবেন🥹🙏

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন