ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

৩২তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট৩২

#সুমাইয়া_আক্তার_শিলা

সাইফ তো এক কদম বাড়িয়ে সরাসরি কাবিরের হাঁটু জড়িয়ে ধরল। দাঁত বের করে হেসেই সে কড়া এক আবদার করে বসল।

"ও পুলিশ আঙ্কেল! আপনি কি হাচা কইতাছেন? কতদিন ধইরা কোনো বিয়ার দাওয়াত খাই না! আপার লগে এই কালা আঙ্কেলের (রানা) বিয়াটা হইয়া গেলে তো মেলা বিরিয়ানি খাওয়া যাইবো! দাওয়াত কি অহনই পাক্কা?"

সাইফের এই বিরিয়ানির কথা শুনে আমজাদ মিয়া আর রানা দুজনেই শব্দ করে হেসে উঠলেন। রোজিনা বানু সাইফকে হালকা ধমক দিয়ে বললেন,

"চুপ কর তো বাচাল! বড়দের মাঝে একদম কথা কবি না।"

তারপর কাবিরের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"তবে বাজান, প্রস্তাবটা আমার মেলা পছন্দ হইছে। জিমের মতো শান্ত মেয়ার জন্য এমন অফিসার পোলা পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার।"

আমজাদ মিয়াও মাথা নেড়ে সায় দিলেন। ঠিক হলো আগামীকাল দুই পক্ষ বসে কথা পাকা করবে। বিয়ের কথায় জিম যেন লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল। সে দ্রুত পায়ে ওপাশ ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করল।

*******

ওদিকে পর্দার আড়ালে তিথি রাগে ফোঁস ফোঁস করছে। এই পুলিশ অফিসারটার হাসি তার একদম সহ্য হচ্ছে না। সে বিরক্তি নিয়ে একটা চাদর টেনে মুড়ি দিয়ে আবার শুয়ে পড়ল। মনে মনে গজগজ করে বলল,

"হাসি দেখলে বাঁচি না! মাইনষের বিয়ার কথা শুইনা নিজের বিয়ার মতো হাসতাছে ক্যা ঢং কইরা?"

তিথি পাশ ফিরে শুয়ে পড়ার সময় ইচ্ছে করেই খাটে একটা জোরে লাথি মারল, যেন তার বিরক্তি ওপাশে পৌঁছায়।

কাবির সেটা বুঝতে পেরে ঠোঁট টিপে হাসল। সে জানে, এই মান-অভিমানটুকুই তার প্রাণের স্পন্দন।

যাওয়ার সময় রানা যখন সদর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, জিম পানির গ্লাস নিয়ে ওপাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

রানা খুব নিচু স্বরে ডাকল

"শুনুন..."

জিম থমকে দাঁড়াল। হিজাবের আড়াল থেকে তার শুধু কাজলকালো চোখ দুটি দেখা যাচ্ছে।

"আপনার অমতে কিছু হচ্ছে না তো? মানে আপনি চাইলে আমি স্যারকে মানা করে দিতে পারি।"

"আব্বাজানের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আর... নেককার জামাই পাওয়া তো আল্লাহর নেয়ামত। আপনেগো মতো মানুষের লগে মেয়া দিলে বাপ-মা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো।"

"ইনশাআল্লাহ, আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব।"

জিম দ্রুত পায়ে ভেতরে চলে গেল, আর রানা এক বুক তৃপ্তি নিয়ে কাবিরের পেছন পেছন চলল। কাবির আর রানা যখন আমজাদ মিয়ার বাড়ি থেকে বের হয়ে মেঠো পথে পা রাখল, তখন পাহাড়ের শীতল বাতাস তাদের চোখেমুখে ঝাপটা দিচ্ছিল। চাঁদের আবছা আলোয় দেখা যাচ্ছিল কাবিরের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টুমিভরা হাসি। সে রানার কাঁধে একটা চাপড় দিয়ে বলল,

"কী রানা? খুব খুশি মনে হচ্ছে? কাল তো তোমার বিয়ের তারিখ ঠিক করা হবে! হবু শালী তো পর্দার ওপাশ থেকে লাথি মেরে আসর গরম করে দিয়েছে, আর হবু বিবি তো লাজুক হাসিতে তোমাকে একেবারে কুপোকাত করে দিল!"

রানা অন্ধকারেই মাথা নিচু করে লাজুক হাসল। তার মতো গম্ভীর অফিসার যে এভাবে ধরা খাবে, সেটা সে নিজেও ভাবেনি।

"স্যার, আপনি যা ভালো মনে করেন। আমি তো আপনার সিদ্ধান্তের বাইরে যাই না।"

"সিদ্ধান্ত? ধুর মিয়া! আমি কি তোমাকে বিয়ে করার আদেশ দিয়েছি? আমি তো প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু তোমার আর জিমের চোখের চাউনি দেখে তো মনে হলো তোমরা মুহূর্তেই একে অপরের মায়ায় পড়ে গেছো। রানা, তোমাকে দেখেই বোঝা যায় তুমি জিমকে পছন্দ করে ফেলেছ।"

রানা চোখে কৃতজ্ঞতার জল চিকচিক করে উঠল। সে থেমে দাঁড়িয়ে কাবিরের দিকে তাকাল।

"স্যার, আপনি তো জানেন আমি এতিম। পৃথিবীতে নিজের বলতে তেমন কেউ নেই। গত সাত মাস ধরে আপনি নিজের সব কাজ একদিকে রেখে তিথি ম্যামকে যেভাবে দিন-রাত এক করে খুঁজেছেন, সেটা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। ম্যামকে যে আজ আল্লাহর রহমতে আমরা খুঁজে পেয়েছি, এর চেয়ে বড় খুশি আমার জন্য আর কিছু হতে পারে না। আপনি আমার শুধু বস নন স্যার, আপনি আমার অভিভাবক। আপনি যেখানে আমার মঙ্গল দেখছেন, সেখানে আমার আর দ্বিমত করার কী আছে?"

কাবির রানার কথা শুনে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ল। সে রানার হাত ধরে বলল,

"রানা, তিথি আমার প্রাণ, আর তুমি আমার ভাই। আজ তিথিকে খুঁজে পাওয়ার খুশিতে আমি তোমাকে এই উপহারটা দিতে চেয়েছি। জিম খুব ভালো মেয়ে, ও তোমাকে অনেক সুখে রাখবে। কাল ইনশাআল্লাহ কথা পাক্কা করে ফেলব।"

"ইনশাআল্লাহ স্যার। তবে ম্যামের স্মৃতি ফেরানোর ব্যাপারটা নিয়ে আমি কিছুটা চিন্তিত। উনি তো আপনাকে এখনও চিনতে পারছেন না।"

কাবির দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের চাঁদের দিকে তাকাল।

"চিনবে রানা, নিশ্চয়ই চিনবে। ভালোবাসার টান যদি সত্যি হয়, তবে ও বেশিদিন নূর হয়ে থাকতে পারবে না। আমার তিথি আমার কাছে ফিরে আসবেই।"

(চলবে...)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন