ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

৩৮তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট_৩৮

#সুমাইয়া_আক্তার_শিলা

থানার নিস্তব্ধ চেম্বারে কাবির ফাইলের ওপর কলম ধরে বসে আছে ঠিকই, কিন্তু তার মস্তিষ্ক অচল হয়ে পড়েছে। তিথির শেষ কথাগুলো আমার মরা মুখ দেখার শখ থাকলে কাল সকালেই চলে আইসেন তার কানে তপ্ত সিসার মতো বারবার আছড়ে পড়ছে। কাবির দুই হাতে মুখ ঢাকল। তার দীর্ঘ নিশ্বাসে আজ কেবলই অনুশোচনার দহন। যে তিথির এক ফোঁটা চোখের জল তার কাছে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভারী ছিল, আজ সেই তিথিকে সে মরার কথা বলতে বাধ্য করল?

রাত তখন এগারোটা বেজে পনেরো মিনিট। রানা আর জিম আজ নতুন জীবনের পথে। রানা খুব হাসিমুখে কাবিরের রুমে ঢুকল।

"স্যার, আমি আজ একটু তাড়াতাড়ি বের হতে চাই। ইয়ে না মানে আসলে বাসায় জেমি......।"

কাবির শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল। রানা খুশি মনে চলে যাওয়ার পর পুরো থানাটা যেন কাবিরের কাছে একটা বিশাল খাঁচার মতো মনে হতে লাগল। রাত বারোটা বাজার সাথে সাথেই কাবিরের ধৈর্য বাঁধ ভেঙে গেল। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। টেবিলের ওপর থেকে গাড়ির চাবিটা ছোঁ মেরে নিয়ে সে ধোবাউড়ার সেই কাঠের বাড়ির দিকে রওয়ানা দিল।

রাস্তা আজ একদম ফাঁকা। হেডলাইটের আলো চিরচিরে অন্ধকার চিরে এগিয়ে যাচ্ছে। কাবির স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে গুনগুন করে গেয়ে উঠল—

"সন্ধ্যা হলে,অন্ধ ঘরে,

মনে পড়ে তোরই কথা...

এমন হয়,

কেন যে তোকে পাাহারা পাহারা দিল মন।"

গাড়ির গতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাবিরের হৃদপিণ্ডের স্পন্দন। তার মনে হচ্ছে, এই দূরত্ব যেন হাজার মাইলের সমান। অবশেষে ধোবাউড়ার সেই পরিচিত গেটের সামনে এসে থামল তার গাড়ি। রাত তখন প্রায় একটা। নিঝুম রাতের অন্ধকারে কাঠের বাড়িটি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। মারুফ সাহেব নিচতলায় থাকেন, আর উপরের তলাটা তিথির।

কাবির গেট খুলে ভেতরে পা দিতেই তার নাকে ভেসে এল এক তীব্র মায়াবী ঘ্রাণ। হাসনাহেনা! তিথি এই ফুলটা বড্ড ভালোবাসে, তাই বাড়ির কোণে গাছটি সে নিজেই লাগিয়েছিল। ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে কাবিরের মনটা যেন মুহূর্তেই শান্ত হয়ে এল। সে গাছের কাছে গিয়ে একটি হাসনাহেনা ফুল ছিঁড়ে নিলো। ফুলের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

"ফুল, তোকে আল্লাহ মানুষের মন ভালো করতেই পাঠিয়েছেন। আচ্ছা, তোর মিষ্টি এই হাসনাহেনার ঘ্রাণ আমার ওই অভিমানী ফুলটার রাগ ভাঙাতে পারবে কি !"

সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে এল কাবির। দরজায় একবার নক করার সাথে সাথেই তিথি দরজা খুলে দিল। কাবির কিছুটা চমকে গেল তিথি কি তবে তার জন্যই অপেক্ষা করছিল?

দরজা খুলতেই কাবিরের সামনে এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য ধরা দিল। তিথির পরনে ধবধবে সাদা একটি সিল্কের শাড়ি। কোমর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা তার কালো রেশমি চুলগুলো বাতাসে দুলছে। চোখে জল থাকলেও ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা মিষ্টি হাসিটা ধরে রাখার চেষ্টা করছে সে। কাবিরের হৃদপিণ্ডের গতি এক নিমেষে কয়েক গুণ বেড়ে গেল। তার মনে হলো, সামনে কোনো মানবী নয়, বরং জান্নাতের হুর পরী দাঁড়িয়ে আছে।

"আসসালামু আলাইকুম। এত রাতে এখানে কী কাজ আপনার?"

তিথির কণ্ঠে রাগ থাকলেও সেই মায়াবী রূপ দেখে কাবির নিজেকে স্থির রাখতে পারল না।

"মাই নাইট কুইন, ইউ আর সো মাচ মোর বিউটিফুল দ্যান এনি ফ্লাওয়ার।"

তিথি ঠোঁট উল্টে বাঁকা চোখে তাকালো। ভেংচি কেটে বলল,

"হয়েছে! অনেক ঢং করা হয়েছে, আর দয়া করে তেল দিতে হবে না।"

"না বাবা, সিরিয়াসলি বলছি! আজ তোমাকো এত সুন্দর লাগছে যে আমার চোখ ফেরানো দায়। ইউ আর সাচ আ প্রিটি গার্ল, তিথি!"

তিথি নিজের পেটের ওপর আলতো করে হাত রাখল। কাবিরের প্রশংসায় সে গলল না। গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করল,

"কিছু খেয়েছেন?"

"হুম, রানার সাথে খেয়ে নিয়েছিলাম।"

তিথি একটু সরে দাঁড়িয়ে তাকে ভেতরে আসার পথ করে দিল। তারপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কাবিরের দিকে তাকিয়ে বলল,

"পেট তো ভরা ছিল, তাহলে মাঝরাতে এই অভাগীর কথা মনে পড়ার কারণটা যদি একটু বলতেন মি.পাষাণ ? সন্দেহ কি তবে মিটে গেছে নাকি?"

কাবির শান্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে এল। হাতের হাসনাহেনা ফুলটা অতি সাবধানে তিথির কানের ভাঁজে গুঁজে দিল। তারপর তিথির ললাটে অধর ছুঁইয়ে এক দীর্ঘ চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল,

"অনেক রাগ করে আছো, তাই না?"

"রাগ করব না? আপনি দিন দিন বড্ড পাষাণ হয়ে যাচ্ছেন অসভ্য সিংহ। মানুষের মন ভাঙা কি আপনার পেশার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে?"

কাবির তিথির দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে অনুনয়ের সুরে বলল,

"আমি জানি আমি অন্যায় করেছি। তুমি যে শাস্তি দেবে, আমি মাথা পেতে নেব। শুধু এভাবে দূরে ঠেলে দিও না।"

তিথি একটু সময় নিয়ে নিজেকে সামলে নিল। তারপর মুচকি হেসে খাটের একপাশে শুয়ে থাকা ছোট সাইফের দিকে ইশারা করল।

"ঠিক আছে, শাস্তির প্রথম ধাপ হলো আমি এখন সাইফের পাশেই শুয়ে পড়ছি। আর আপনি আরাম করে বসে আমাকে বই পড়ে শোনাবেন। যতক্ষণ আমার ঘুম না আসবে, ততক্ষণ থামা চলবে না।"

কাবির একটু হেসে বলল,

"ঠিক আছে ম্যাডাম, আপনার আদেশ শিরোধার্য। তা কী বই? ডার্ক রোমান্টিক নাকি প্রেমের গল্প?"

"উঁহু! ওসব পড়ার দিন শেষ। এখন আমি ইসলামিক বই পড়ি। এই নিন, এই বইটা পড়ে শোনান।"

তিথি আলমারি থেকে একটা বই বের করে কাবিরের হাতে ধরিয়ে দিয়ে সাইফের পাশে গা এলিয়ে দিল। কাবির পড়তে শুরু করল, আর তিথি তার এক হাত বাড়িয়ে কাবিরের মাথায় বিলি কাটতে লাগল।

রাত প্রায় ১টা, চারপাশ নিস্তব্ধ কাবিরের গম্ভীর আর স্নিগ্ধ কণ্ঠস্বর ঘরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর কাবির দেখল তিথির চোখ দুটো বুজে এবার ঘুমানোর চেষ্টা করো। এই অবস্থায় রাত জাগলে শরীর খারাপ করবে।"

"না না, আপনি ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাই না? পড়া চালিয়ে যান।"

কাবির আবার বইয়ের পাতায় মনোযোগ দিল। হঠাৎ একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে এসে তার চোখ আটকে গেল। সেখানে সন্তান লালন-পালনের ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিস লেখা ছিল। কাবির একটু থেমে পড়ল,

"রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সম্মান করো এবং তাদের উত্তম আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দাও। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যখন কোনো মুমিন বান্দার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তখন ফেরেশতারা সেই গৃহকে ঘিরে ফেলে এবং বরকতের দোয়া করতে থাকে।"

পড়া শেষ করে কাবির মুচকি হাসল। সে বুঝতে পারল তিথি কেন তাকে ঠিক এই বইটাই পড়তে দিয়েছে। সে আড়চোখে দেখল তিথি তখনো তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। কাবির একটু নড়েচড়ে বসে বইয়ের পরের অংশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাম্পত্য জীবনের একটি সুন্দর উদাহরণ পড়ল,

"উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, আমি যখন কোনো পাত্রে পানি পান করতাম, নবী কারীম (সা.) সেই পাত্রটি নিতেন এবং আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতাম, ঠিক সেখানেই মুখ লাগিয়ে তিনি পানি পান করতেন। এটা ছিল স্ত্রীর প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।"

পড়া শেষে কাবির বইটা বুক পকেটের কাছে চেপে ধরল। তার চোখের কোণে অনুশোচনার জল চিকচিক করছে। সে বুঝতে পারল, ভালোবাসা মানে শুধু সন্দেহ আর অধিকার নয়, ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি সম্মান এবং ছোট ছোট কাজে মায়ার প্রকাশ।

তিথি তখনও এক দৃষ্টিতে কাবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। কাবির বইটা পাশে রেখে তিথির একদম কাছে সরে এল। তার কপালে হাত রেখে নরম স্বরে বলল,

"আমি বোধহয় আজ থেকে নতুন করে তোমাকে আর আমাদের এই অনাগত ভালোবাসাকে চিনতে শিখলাম বিবিজান। আমাকে মাফ করে দাও।"

তিথি কিছু বলল না। কাবির বইটা বন্ধ করে বুকের ওপর রাখল। তিথি পরম মমতা সাথে কাবিরের দিকে তাকালো। কাবির এখনো তার ইউনিফর্মটা ছাড়েনি, এই পোশাকে তাকে বড্ড কঠোর দেখায়। কিন্তু তিথি আজ তাকে হৃদয়ের নমনীয়তা শেখাতে চায়।

"জানেন, সন্তান হলো আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় রহমত। একটা ঘর পূর্ণ হয় যখন সেখানে কোনো ছোট্ট প্রাণের স্পন্দন শোনা যায়। আপনি একে পাপ বা অনিশ্চয়তা বলেছিলেন, কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন এই রহমত যখন পৃথিবীতে আসবে, তখন সে আমাদের জান্নাতের পথ সহজ করে দেবে। বাবা হিসেবে আপনার দায়িত্ব তাকে শুধু নাম দেয়া নয়, তাকে সম্মানের সাথে আগলে রাখা।"

কাবির তিথির দিকে ঝুঁকে এল। তার চোখে এখন অবিশ্বাসের লেশমাত্র নেই, আছে অপরাধবোধ আর তীব্র ভালোবাসা। সে আলতো করে তিথিকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। ঠিক তখনই বিপত্তিটা ঘটল। তিথির খোলা রেশমি চুলের কয়েকটা গোছা কাবিরের ইউনিফর্মের ওপরের বড় বোতামে আটকে গেল।

কাবির বিছানায় বসে ছিল, তিথি তার খুব কাছাকাছি আসতেই চুলের টানে দুজনের দূরত্ব একদম ঘুচে গেল। একদম মুখোমুখি তারা। হাসনাহেনার ঘ্রাণ আর তিথির নিশ্বাসের তপ্ত হাওয়া কাবিরের মুখে লাগছে। কাবির মুগ্ধ নয়নে তিথির দিকে তাকিয়ে রইল। এই সাদা সিল্কের শাড়ি আর খোলা চুলে তিথিকে যেন জান্নাতের হুর মনে হচ্ছে।

কাবির ফিসফিস করে তিথির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,

"এই যে রাতের রানি, এই সাজটা কি আমার জন্য?"

"মটেও না! এটা আমার স্বামীর জন্য।"

"তাই নাকি? তা আমি কে শুনি?"

"আপনি? আপনি তো আমার বড় ভাইয়াআআআ!"

বলেই তিথি খিলখিল করে হেসে উঠল। কাবির মুহূর্তের মধ্যে ভড়কে গিয়ে একটু দূরে সরতে চাইল। কিন্তু সমস্যা হলো তিথির চুল তখনো ইউনিফর্মের বোতামে শক্ত করে আটকে আছে। হুট করে সরতে যাওয়ায় চুলে বেশ জোরে টান লাগল।

"উহ! আআহ! লাগছে তো...

তিথি ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। সাইফ পাশে শুয়ে একটু নড়েচড়ে উঠল। কাবির অস্থির হয়ে তিথির চুলে হাত দিল।

"আরে সরি সরি! কী হয়েছে দেখি? চুলে জট লেগে গেছে তো বোতামের সাথে!"

"আপনি যান তো এখান থেকে! অনেক পড়া হয়েছে। আমার লক্ষ্মী ভাইটা কত সুন্দর করে ঘুমাচ্ছে, আপনি এসে সব ডিস্টার্ব করছেন। যান ভাইয়া, আপনার রুমে গিয়ে ঘুমান।

"কিছুক্ষণ আগে কী বললে যেন? আমি তোমার কে?"

"হ্যাঁ, আপনি ভাইয়া। পচা ভাইয়া, খারাপ ভাইয়া, বজ্জাত ভাইয়া, পাষাণ ভাইয়া... শুধু ভাইয়া আর ভাইয়া!"

কাবির আর দেরি করল না। চুলগুলো ছাড়িয়ে নিয়েই এক হ্যাঁচকায় তিথিকে কোলে তুলে নিল। তিথি অপ্রস্তুত হয়ে কাবিরের গলা জড়িয়ে ধরল।

"এবার বলো তো আমি কে? ভাইয়া নাকি অন্য কেউ?"

"বলব না! আপনি ভ্...ভ্...!"

কাবির তিথিকে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিল। দরজাটা এক হাত দিয়ে আটকে দিয়ে সে তিথির একদম কাছে চলে এল। তিথির লিপবাম দেওয়া গোলাপী ওষ্ঠে আলতো করে ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে জয় করে নিল তার সব প্রতিবাদ। কাবির বিরতি দিয়ে দুষ্টুমি করে বলল,

"চলো ডার্লিং, আজকে এই ভাইয়া চ্যাপ্টারটা তোমাকে ভালো করে বুঝিয়ে দিই। দেখি তুমি কতক্ষণ আমায় ভাইয়া ডাকতে পারো।

"থামেন তো! আপনি কী পাইছেন শুনি? কী সব ফাজলামি শুরু করছেন! আপনি আমার ভাই হন, আর আমার সাথে এসব অসভ্যতা করছেন কেন?"

"অসভ্যতা? নিজের বউয়ের সাথে প্রেম করা যদি অসভ্যতা হয়, তবে আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অসভ্য হতে রাজি। আর শোনো বিবিজান, এই ইউনিফর্মটা খুললেই আমি তোমার সেই স্বামী, যে তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না। তাই ভাইয়া ডাকা বন্ধ করে এবার রোমান্সে মন দাও, নাহলে খবর আছে!

তিথি আর কথা খুঁজে পেল না, শুধু কাবিরের বুকে মুখ লুকিয়ে নিঃশব্দে হাসতে লাগল। ধোবাউড়ার সেই নিঝুম রাত আজ সাক্ষী হয়ে রইল ভাইয়া ডাকার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক গভীর আর পবিত্র প্রেমের।"

(চলবে...)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন