#প্রণয়ের_আউড়ে
#পার্ট_৪১
#সুমাইয়া_আক্তার_শিলা
দুপুরের সেই খাবার টেবিলের কাণ্ড আর কাবিরের প্রটেক্টিভ রূপ দেখে তিথি তো খুশিতে গদগদ। রুমে এসেই সে প্রমার বিছানার ওপর এক চোট নেচে নিল। পেটের পিচ্চিটার দিকে তাকিয়ে বলল,
"দেখলি বাপ? তোর হিটলার বাপটার জেলাসি দেখলি? লন্ডনী সাব্বির ভাইয়ের হাত আমার হাতের ওপর পড়া মাত্রই একদম ড্রাকুলা হয়ে গিয়েছিল!"
তবে কিছুক্ষণ পর সাবা আর কাবিরের সেই সারাজীবন পাশে থাকব কথাগুলো মনে পড়তেই আবার মনটা তেতো হয়ে গেল। রাগে গজগজ করতে করতে তিথি রুমের দরজা ভেতর থেকে লক করে দিয়ে বসে রইল।
বিকেল নাগাদ কাবির কয়েকবার দরজায় নক করল। গম্ভীর গলায় ডাকল,
"তিথি, দরজা খোলো। কথা আছে।"
তিথি দরজা খুলল ঠিকই, কিন্তু মুখটা বাংলা পাঁচের মতো করে দাঁড়িয়ে রইল। কাবির ভেতরে ঢুকতে গেলেই সে হাত দিয়ে আটকে দিয়ে বাঁকা গলায় বলল,
"আরেহ! লন্ডন ফেরত সাবার মাই হার্ট, কিডনি, কলিজা আপনি এখানে কেন? যান না, প্রেমিকার সাথে গিয়ে টু আওয়ার্স গল্প করুন। এখন আবার আমার কাছে ঢং করতে কেন এসেছেন?"
কাবির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কপালে হাত রাখল। ধীরস্থলি রুমে ঢুকে বলল,
"তিথি, প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। আমি পরে সব বুঝিয়ে বলব। তুমি এখানে শান্ত হয়ে বসো, আমার কথাটা শোনো।"
তিথির চোখের কোণে অমনি জল চিকচিক করে উঠল। অভিমানী গলায় বলল,
"এই ছিল আপনার মনে? আমার সাথে সারাদিন কাটিয়ে এখন অন্য মেয়েকে বলছেন সারাজীবন পাশে থাকবেন? আপনি একটা আস্ত মিথ্যাবাদী বেটা মানুষ! প্রথমে ওই রায়না ডাইনী ছিল, ওটাকে কোনোমতে ভাগালাম, এখন আবার এই সাবা পেত্নী এসে জুটেছে।"
কাবির এবার তিথির খুব কাছে এসে দাঁড়াল। তিথির টলমল চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে ইংরেজিতে বলল,
"আর ইউ জেলাস, বিবিজান? তুমি কি হিংসে করছ,হুম ?"
"জেলাস? আমি? এই আপনার মতো ড্রাকুলাকে নিয়ে আমি জেলাস হতে যাব কোন দুঃখে? আমি তো ভাবছি সাবা আন্টি থুরি আপুর কপাল কত খারাপ যে আপনার মতো একটা তিতকুটে করলার সাথে তাকে সারাজীবন থাকতে হবে! আমি তো ওর জন্য শোকসভা করার কথা ভাবছি!"
তিথির এমন উত্তর শুনে কাবির মৃদু হাসলো। আলতো করে তিথিকে সরিয়ে দিয়ে রুমে ঢুকল।
"প্লিজ, ১০ মিনিটের জন্য ভেতরে বসতে দাও।"
"হ্যাঁ, আসবেন না কেন? এই বাড়ি আপনার, এই বাড়ির ধূলাবালিও আপনার। শুধু আমিই তো আপনার কেউ না!"
কাবির এবার সরাসরি তিথির সামনে এসে ওর দু হাত ধরল। নরম গলায় বলল,
"এই তুমিও আমার সব। শোনো, বিকেলে আমরা ঘুরতে যাব।"
"কোথায় শুনি।"
"আমি ময়মনসিংহে রিসেন্টলি নতুন রিসোট সিলভার ক্যাসেল বুক করেছি। আজকের রাতটা আমরা ওখানেই থাকব। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।"
"আমি কোনো সিলভার গোল্ডেন রিসোর্টে যাব না। আপনার মতো এমন পাষাণ মানুষের সাথে তো একদমই না!"
"আমি কি এতটাই খারাপ বিবিজান।"
"এই! আপনি আমায় বিবিজান বলে ডাকবেন না বলে দিলাম। ওসব আপনার সাবার জন্য তুলে রাখুন।"
"আমার ওপর এত রাগ?"
"রাগ তাদের ওপরই করা যায় যারা আপন হয়। কিন্তু আপনি তো মাঝেমধ্যে এমন কষ্ট দেন যে মনে হয় আপনি আমার কেউ না।"
কাবির আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। হেঁচকা টানে তিথিকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে বুকে মিশে বলল,
"প্লিজ বিবিজান, এভাবে রাগ করে থেকো না। সত্যি বলছি, খুব কষ্ট হয়।"
"হ্যাঁ হ্যাঁ তিথি, তোর অ্যাক্টিং তো কাজে দিচ্ছে! এবার একটু নাটক বাড়া।" (মনে মনে)
"উহ্! দেখুন আপনার ড্রাকুলা ছানাটা নড়ছে। মনে হয় বাপকে গালি দিচ্ছে!"
"সত্যি? দেখি তো!"
সে তিথির পেটে হাত রাখল। সত্যিই ভেতর থেকে বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করা যাচ্ছে। কাবিরের চোখে-মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠল। সে খুশিতে পাগল হয়ে তিথির পেটে মাথা ঠেকিয়ে একটা গভীর চুমু খেল।
"এই! আপনি আমার পারমিশন না নিয়ে চুমু খেলেন কেন?"
"নিজের জিনিসের ছোঁয়া নিতে কারো পারমিশন লাগে না বিবিজান।"
"থাক, আমি রিসোর্ট ক্যানসেল করে দিচ্ছি। তুমি আর বেবির যদি কোনো ক্ষতি হয়? জার্নি করলে হয়তো সমস্যা হতে পারে।"
"না না! ক্যানসেল করার দরকার নেই। আজকে রোনা আপুরাও আসবে। আমরা সবাই মিলেই সিলভার ক্যাসেল যাব। আমি ঠিক আছি।"
"ঠিক আছে, আই উইল ম্যানেজ। এখন কি রাগটা একটু কমেছে?"
"না, কমেনি। আপনি জানেন আপনার পাশে কাউকে দেখলে আমার কতটা কষ্ট হয়? তবুও কেন আপনি অন্য মেয়েদের পাত্তা দেন?"
"আমি কষ্ট দেই? আর তুমি যে দুপুরে ওই সাব্বিরের হাতের সাথে হাত লাগিয়ে বসে ছিলে? সেই খেয়াল আছে?"
বলেই তিথির দুই হাতে এলোপাথাড়ি চুমু খেতে লাগল কাবির। তিথি খিলখিল করে হেসে উঠল। এই মানুষটা যেমন জেদি, তেমনই পাগল। কিন্তু এই পাগলামিটাই যে তিথি পাগলের মতো ভালোবাসে!
সন্ধ্যা ৬টা। মাগরিবের নামাজ শেষ করে তিথি আর প্রমা নিজেদের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত। সিলভার ক্যাসেল রিসোর্টে যাওয়ার জন্য তিথি আজ বেশ পরিপাটি হয়ে তৈরি হয়েছে। পরনে একটা লাল গোল জামা এর উপর ল্যাভেন্ডার রঙের একটা চমৎকার বোরকা, সাথে ম্যাচিং হিজাব আর হাত-পায়ের মোজা। হালকা একটু কাজল দিয়েছে চোখে, যা তার ফর্সা মুখে মায়াবী আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিথিকে এখন ভীষণ স্নিগ্ধ লাগছে।
প্রমাও জিন্স আর টপসের ওপর একটা স্টাইলিশ আবায়া পরে নিয়েছে। সে তিথির দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে তুলে বলল,
"তিথি, তুই কি আজ ভাবি থেকে নায়িকা হতে যাচ্ছিস নাকি? তোর এই লুক দেখলে তো ভাইয়া আজ নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করবে!"
"ধুর পাগল! কিছুই তো করিনি। আর তোর ভাইয়া তো সারাক্ষণ ওই সাবা আন্টির বেবি ডাক শুনতেই ব্যস্ত, আমাকে দেখার সময় কই উনার?"
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল। কিছু না বলেই ঘরে ঢুকল কাবির। ওর পরনে নেভি ব্লু শার্ট আর সাদা প্যান্ট, হাতাগুলো কনুই পর্যন্ত গুটানো। ঘরে ঢুকেই ওর চোখ আটকে গেল আয়নায় তাকিয়ে থাকা তিথির ওপর। কয়েক সেকেন্ডের জন্য কাবির যেন পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তিথির এই স্নিগ্ধ রূপ দেখে ওর হৃদস্পন্দন যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
তিথি ঘাবড়ে গিয়ে প্রমার দিকে তাকাল। প্রমা তখন মুচকি হাসতে হাসতে ড্রয়িংরুমের দিকে সটকে পড়ল। কাবির বিদ্যুৎ গতিতে তিথির কাছে এগিয়ে এল। ওর গলার স্বর কিছুটা ভারী হয়ে এল। কাবির তিথির একদম সামনে দাঁড়িয়ে নিচু গলায় বলল,
"তোমায় কোনো আয়না দেখবে—এটা আমি কখনোই মানতে পারবো না, বিবিজান। তোমায় শুধু আমি দেখবো, আর আল্লাহ দেখবেন।"
তিথি একটু ভাব নিয়ে বলল,
"কেন? আপনার তো লন্ডন ফেরত বেবি তো আছেই। আমাকে দেখে আবার হিংসা করছেন কেন?"
তিথি কাবিরের পরিয়ে দেওয়া কালো নেকাবটা একটু ঠিক করে দিয়ে বলল,
"বেবি তো অনেক থাকে বিবিজান, কিন্তু আমার অন্ধকার জীবনে আলো ছড়ানোর মতো ধ্রুবতারা তো একটাই। তোমার এই মায়াবী রূপটা আজ বড় বেশি ডিস্টার্ব করছে আমায়।"
তিথি নিজের হার্টবিট সামলাতে পারছিল না। সে একটু সরে গিয়ে বলল,<br>
"চলেন, দেরি হয়ে যাচ্ছে। রোনা আপুরা হয়তো পৌঁছে গেছে। আর সাবা আপুকে কি সাথে নিচ্ছেন?"
কাবিরের মুখটা মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল। সে তিথির হাত ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,
"আজকের রাতটা শুধু তোমার, আমার আর আমাদের অনাগত সন্তানের। ওখানে অন্য কারোর জায়গা নেই। সাবা বাড়িতেই থাকবে। এবার চলো, গাড়ি রেডি।"
তিথি মনে মনে।
"ইয়েস! লন্ডনী পেত্নী আজ বাড়িতেই পচবে!"
সে কাবিরের সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ড্রয়িংরুমে সাবা দাঁড়িয়ে ছিল খুব সুন্দর করে সেজে, ভেবেছিল হয়তো সে-ও যাবে। কিন্তু কাবির যখন সাবাকে ছাড়াই যাওয়ার ইশারা করল, তখন সাবার ফর্সা মুখটা রাগে নীল হয়ে গেল।
তিথি আর কাবির বের হতে যাবে, ঠিক তখনই সাব্বির ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে এল। সাব্বিরের পরনে এখন ব্ল্যাক ফরমাল শার্ট আর গ্রে কালারের ট্রাউজার। হাতে দামি ঘড়ি, চুলে পরিপাটি কাট—সব মিলিয়ে তাকে বেশ হ্যান্ডসাম লাগছে। সাব্বির কাবিরের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলল,
"কাবির ভাইয়া,আই থিঙ্ক উই শুড অল জয়েন ইউ। সবাই একসাথে থাকলে বেশ ভালো লাগবে, তাই না? ইট উইল বি গ্রেট ফান!"
কাবির কিছুটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও সাব্বিরের উপকারের কথা ভেবে না করতে পারল না। সে সংক্ষেপে উত্তর দিল,
"হ্যাঁ, চাইলে যেতে পারো। তোমাদের গাড়ি নিয়ে আসো, আমাদের গাড়ি ফলো করো।"
কাবিররা গেট দিয়ে বের হতে যাবে, এমন সময় সারা ইয়াসমিন পেছন থেকে ডাক দিলেন। তিনি তিথির কাছে এসে চিন্তিত মুখে বললেন,
"তিথি মা, সাবধানে চলাফেরা করবি। আর কাবির, তোকেও বলিহারি! এই রাত-বিরেতে মেয়েটার এই অবস্থায় কোথায় যাচ্ছিস? একটু সাবধানে থাকিস।"
কাবির মায়ের কাঁধে হাত রেখে আশ্বস্ত করে বলল,
"আম্মু, টেনশন করো না তো। আমি আছি তো সাথে।"
পাশে দাঁড়িয়ে প্রমা মুখ টিপে হেসে বলল,
"হ্যাঁ আম্মু, আমার সুপার হিরো ভাইয়া থাকতে তিথির কোনো বিপদ হতেই পারবে না। ভাইয়া তো এখন তিথির জন্য বডিগার্ড হয়ে গেছে!"
সারা ইয়াসমিন হেসে তিথির মাথায় একটা চুমু খেয়ে বললেন,
"যা মা, নিজের খেয়াল রাখিস।"
তিথি অমনি ফিক করে হেসে দিয়ে বলল,
"আম্মু, তুমি তো শুধু কপালে চুমু দিলে! ওদিকে ড্রাকুলার তো ভাবছে তার ভাগ কমে যাচ্ছে কি না! উনার নজর কিন্তু খুব কড়া।"
তিথির এই হুট করে বলা মজার কথা শুনে সাব্বির শব্দ করে হেসে দিল। সাব্বিরের সেই হাসির দিকে তাকিয়ে কাবিরের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার বুক জ্বলে উঠল প্রবল ঈর্ষায়।
ঠিক তখনই আলতাফ রহমান অফিস থেকে ফিরলেন। বাড়ির সামনের জটলা দেখে তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
"তোমরা সবাই মিলে কোথায় যাচ্ছ কাবির?"
কাবির বলল,
"সিলভার ক্যাসেল রিসোর্টে, আব্বু।"
"এই অবস্থায় রাত-বিরেতে বাইরে যাওয়া কি ঠিক? তিথিকে নিয়ে আজকে যাওয়ার দরকার নেই, ও বাড়িতেই থাকুক।"
"আব্বু, তুমি চিন্তা করো না তো। আমি ঠিক নিজের খেয়াল রাখতে পারব। আর আপনার ছেলে তো আছেই, এক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল হতে দেয় না!"
"আব্বু, তুমি শুধু তিথিকেই আদর করছ কেন? আমি কি কেউ না?"
"আয় মা, বুড়ি মা আমার, তুইও আয়।"
তিনি প্রমাকেও আদর করে দিলেন।
"তাহলে যাও, ভালোমতো ফিরে এসো।"
সবকিছু ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু হঠাৎ সাবার মা আয়েশা আফরোজ মুখ বাঁকিয়ে বিদ্রূপের সুরে বললেন—
"ভাইয়া, এই অবস্থায় মেয়েদের (তিথিকে ইঙ্গিত করে) এত নড়াচড়া করা ঠিক না। দেখতেও কেমন জানি লাগে, শরীরের তো কোনো শেপ নেই এখন।"
"আরে চাচি আন্টি! আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আমার তো তাও বাচ্চার জন্য শরীর এমন হয়েছে, কিন্তু আপনার মেয়ের যে অবস্থা—ওকে দেখলে তো মনে হয় লন্ডনের বাতাস খেয়েই পেট ভরিয়ে রেখেছে! হাড়গুলো গোনা যাচ্ছে একদম!"
"হাউ ডেয়ার ইউ! এই মেয়ে, তুমি আমার মমের সাথে এভাবে কথা বলছ কেন? কাবির বেবি! সি হার ম্যানার্স!"
"সাবা, ও ভুল কিছু বলেনি। বড়দেরও উচিত
ছোটদের সম্মান দিয়ে কথা বলা। এবার থামো।"
কাবিরের ধমক শুনে সাবা এবার নেকা কান্না শুরু করল। সাইমন রহমান মেয়ের কান্না দেখে কাবিরের দিকে করুণ চোখে তাকালেন। কাবির এক মুহূর্ত দ্বিধায় পড়ল। মেহমানদের সামনে অপমান করাটা ঠিক হচ্ছে না ভেবে সে তিথির হাত ছেড়ে দিয়ে সাবার কাছে গেল সান্ত্বনা দিতে।
তিথি এটা সহ্য করতে পারল না। সে অপমানে আর রাগে গটগট করে পার্কিং স্পেসের দিকে চলে গেল। রাগের মাথায় সে নিজের গাড়ি কোনটা সেটা না দেখেই সামনের একটা কালো গাড়িতে গিয়ে বসে পড়ল যেটা ছিল সাব্বিরদের গাড়ি।
এদিকে সাবা কাবিরের হাত ধরে কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলল,
"কাবির বেবি! তোমার সাথেই আমি যাব, নয়তো আমি এই দেয়ালে মাথা ফাটিয়ে ফেলব!"
সাবার মা বলল,
"হ্যাঁ বাবা, মেয়েটা যখন এত করে বলছে, ও তোমার গাড়িতেই যাক।"
কাবির অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হলো। সে পার্কিং স্পেসে এসে দেখল তার গাড়ি ফাঁকা, তিথি নেই! কিছুক্ষণ পর তার নজর গেল সাব্বিরের গাড়ির দিকে। দেখল তিথি সাব্বিরের গাড়ির পেছনের সিটে বসে আছে। কাবির যেই না সামনে এগোতে যাবে, অমনি সাব্বির এসে গাড়িতে ঢুকল। তিথি সাব্বিরের দিকে তাকিয়ে খুব সুন্দর করে হেসে কথা বলছে।
সাবা এবার কাবিরের হাত টেনে ধরে বলল,
"কাবির জান, চলো না! লেট হয়ে যাচ্ছে তো।"
প্রমা এসব নাটক আর সহ্য করতে পারছিল না। সে তিথির কাছে যাওয়ার জন্য সাব্বিরের গাড়ির দিকে পা বাড়াতেই সাব্বির গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে গেল।
কাবির স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার নিজের বউ অন্য একজনের গাড়িতে ! সে অপমানে আর রাগে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। অগত্য সাবা আর প্রমাকে নিয়ে সে-ও রিসোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হলো, কিন্তু তার মন পড়ে রইল ওই সামনের গাড়িটার দিকে।
(চলবে...)