ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

৪২তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট_৪২(প্রথমাংশ)

#সুমাইয়া_আক্তার_শিলা

ময়মনসিংহের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি দুটো সিলভার ক্যাসেল রিসোর্টের দিকে ধেয়ে চলছে। সাবা অনবরত লন্ডনের গল্প আর নিজের রুপ নিয়ে প্যাচাল পেড়েই যাচ্ছে। কাবির একবার জোরে স্টিয়ারিংয়ে থাপ্পড় মারল। সাবার ওপর তার বিরক্তি এখন চরমে। তার পুরো ধ্যান-জ্ঞান আর নজর এখন আয়নায় দেখা পেছনের ওই কালো গাড়িটার দিকে। যেখানে তার বিবিজান অন্য এক পুরুষের সাথে বসে আছে।

অন্যদিকে, সাব্বিরের গাড়িতে তিথি একদম মূর্তির মতো চুপচাপ। জানালা দিয়ে বাইরের নিকষ কালো অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেও তার বুকের ভেতরটা অভিমানে ফেটে যাচ্ছে। সাব্বির মাঝেমধ্যে কথা বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু তিথি শুধু 'হুঁ-হ্যাঁ' বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ কাবির আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে সজোরে ব্রেক কষল সাব্বিরের গাড়ির ঠিক সামনে। গাড়ি থামতেই কাবির ঝড়ের বেগে নেমে এল। কোনো কথা না বলে সরাসরি সাব্বিরের গাড়ির পেছনের দরজা খুলে তিথির হাত ধরে এক টান দিয়ে নামিয়ে আনল। কাবিরের চোখ দুটো অপমানে আর ঈর্ষায় টকটকে লাল হয়ে আছে। সে তিথিকে নিজের বুকের খুব কাছে টেনে এনে একদম নিচু কিন্তু ভয়ানক গম্ভীর গলায় বলল,

"তিথি, দয়া করো! আমার ধৈর্য আর পরীক্ষা নিও না। ওই সাব্বিরকে তোমার পাশে দেখে আমার বুকের ভেতরটা আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। আমি শপথ করে বলছি, তুমি যদি এখন আমার সাথে না চলো, তবে আমি ওকে এখনই খুন করে ফেলব! আমি জাস্ট কিল করে ফেলবো ওকে! আমার মাথা পুরো গরম হয়ে যাচ্ছে বিবিজান, প্লিজ তুমি কিছু একটা করো!"

কাবিরের এমন পাগলামি আর প্রটেক্টিভ রূপ দেখে তিথি মনে মনে বেশ খুশি হলো। সে একটু ভাব নিয়ে আলতো গলায় বলল,

"ওহ, তাই নাকি? তা আপনার কথামতো আপনার গাড়িতে ফিরলে আমায় কী দেবেন শুনি?"

কাবির মরিয়া হয়ে তিথির চোখে চোখ রেখে বলল,

"তুমি যা চাইবে আমি তাই দেব বিবিজান! আমার সাথে এসে বসো, জাস্ট আমার পাশে এসে বসো—এটুকুই চাই।"

তিথি মনে মনে ভাবল, "ইয়েস! এই তো সুযোগ।"

সে এবার তার মাস্টারপ্ল্যান শুরু করল। সাবার উইন্ডো গ্লাসের কাছে গিয়ে তিথি প্রমাকে একটা চোখ টিপ দিতেই প্রমা বুঝে ফেলল বন্ধুর মতলব। সে অমনি মায়াকান্না শুরু করে দিল।

প্রমা চড়া গলায় আহাজারি করে বলল,

"ওরে আল্লাহ! সাবা আপু, তুমি তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নামো তো! আমার ভাবিটার মাথা ঘুরছে, শরীরটা একদম খারাপ লাগছে। ওকে একটু সামনে বসতে দাও গো, নয়তো বড় কোনো বিপদ হয়ে যাবে!"

তিথিও একদম পাকা অভিনেত্রীর মতো কপালে হাত দিয়ে মাথা ঘুরছে এমন ভান করে কাবিরের গায়ের ওপর ঢলে পড়ল। সাবা এই অবস্থায় ভয়ে আর বিরক্তির চোটে গাড়ি থেকে নামতেই তিথি এক ঝটকায় কাবিরের পাশের সিটে গিয়ে বিজয়ীর বেশে বসল। সাবা বাইরে ধুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে অপমানে থ হয়ে রইল!

সাব্বির পুরো দৃশ্যটা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তিথি মেয়েটার প্রতি তার মনে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছিল, কিন্তু সে জানত এই লড়াইতে সে হেরে গেছে। কাবির গাড়ির জানালা দিয়ে হাত নাড়িয়ে সাব্বিরকে এক গাল বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বলল,

"বেস্ট অফ লাক সাব্বির!"

গাড়ির ভেতর প্রমা তিথিকে জড়িয়ে ধরে বলল,

"দোস্ত! তুই তো পুরাই ফাটিয়ে দিয়েছিস! কী অ্যাক্টিং রে বাপ!"

তিথি লজ্জিত হাসির বদলে বেশ গর্ব করে বলল,

"হবে না? তোর বান্ধবী না? ১০০টা সাবা এলেও আমি তাকে আমার উনার কাছে ঘেঁষতে দেব না, দেখে নিস!"

প্রমা চোখ টিপে বলল, "হুম বুঝি, ভাইয়াকে কতটা পাগলের মতো ভালোবাসিস তুই!"

তিথি এবার লজ্জা না পেয়ে উল্টো খোঁচা দিয়ে বলল, "এহ্! বড় মহিলা হয়ে গেছেন! দাড়া, সাদ্দাম ভাইয়া আসুক, তোকে আজই তার সাথে বিয়ে দিয়ে দেব। আমার পেছনে লাগা!"

পথের মাঝে জিম আর সাইফকেও তারা নিজেদের গাড়িতে তুলে নিল।

অবশেষে সবাই রিসোর্টে পৌঁছাল। রিসোর্টে ঢোকার সময় তিথির হাত ধরে আছে ছোট ভাই সাইফ। তার পাশে জিম, প্রমা আর রোনা। পেছনে গম্ভীর মুখে কাবির, আহনাফ, সাদ্দাম আর সাব্বির। আর সবার শেষে মুখ কালো করে সাবা।

হঠাৎ সাবার মনে হলো কাবিরের নজর কাড়া দরকার। সে ওহ্ করে একটা শব্দ করে ঢং করে মাটিতে বসে পড়ল। যেন পায়ে দারুণ চোট পেয়েছে! তিথি সব বুঝতে পেরে দ্রুত সাইফের হাতে একটা কড়া চিমটি দিল। সাইফ আকাশফাটানো চিৎকার দিয়ে উঠল!

কাবির সাবার কাছে যাওয়ার উপক্রম করেছিল, কিন্তু সাইফের ওই ভয়ানক চিৎকার শুনে সে আঁতকে উঠল। সাবার কথা মুহূর্তেই ভুলে গিয়ে সে এক লাফে তিথির কাছে এসে তাকে জাপটে ধরল।

"তিথি! কী হয়েছে? তোমার কিছু হয়নি তো? তুমি ঠিক আছো তো বিবিজান?"

তিথি কাবিরের বুকের মাঝে মুখ লুকিয়ে মনে মনে হাসছে, আর সাবা ওদিকে রিসোর্টের ঠান্ডা মাটির ওপর বসে হা করে কাবিরের কর্মকাণ্ড দেখছে। ড্রাকুলা যে আজ তার বিবিজান ছাড়া দুনিয়া অন্ধকার দেখছে!

রাত তখন ৮টা। সিলভার ক্যাসেল রিসোর্টের চারপাশটা আলোয় ঝলমল করছে। কাবির অত্যন্ত সাবধানে তিথিকে আগলে নিয়ে ডিনার টেবিলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিথি মনে মনে ভাবছে, "ইশ! আজ উনি যেভাবে রাগ করল, সবটাই তো ওই সাব্বির ভাইয়ের সামনে যাওয়ার জন্য। লোকটা তো আসলেই হিটলার!"

রিসোর্টের বিশাল ডাইনিং হলের এক কোণে কাবির তিথিকে নিয়ে একটু নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়াল। চারদিকে মানুষের ভিড় থাকলেও কাবিরের পুরো মনোযোগ শুধু তার বিবিজানের ওপর। সে তিথির খুব কাছে এসে একদম নিচু স্বরে, গভীর ইমোশন নিয়ে বলল,

"শোনো বিবিজান, আজ যা হয়েছে হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে ভুলেও আর কখনো ওই সাব্বিরের সামনে মুখ খুলবে না। তোমার এই রূপ, তোমার এই মায়াবী হাসি—সবই শুধু আমার জন্য। শুধু আমার! গট ইট?"

তিথি কাবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে তার অধিকারবোধটা অনুভব করল। সে বুঝল, কাবির শুধু রাগ করছে না, বরং তাকে আগলে রাখতে চাইছে। কাবির আবার গম্ভীর গলায় বলল,

"ইসলামে গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা বা কথা বলা নিষিদ্ধ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

'কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, যতক্ষণ না তার সাথে কোনো মাহরাম থাকে।' (সহীহ বুখারী)

আর তোমার সৌন্দর্য কেবল তোমার স্বামীর জন্য।

অন্যদিকে,আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

'তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের স্বামী... ব্যতীত।' (সূরা আন-নূর: ৩১)

তুমি আমার আমানত তিথি। এই আমানতে অন্য কারো ভাগ আমি সহ্য করতে পারব না।"

তিথি চুপ করে শুনছিল। কাবিরের মুখে হাদিসের এই ব্যাখ্যা শুনে তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এল। সে প্রতিজ্ঞা করল, এরপর থেকে সে আরও সতর্ক হবে।

তিথি আজ একটা ঢিলেঢালা চমৎকার আবায়া পরেছে। পেটের ভেতরের ছোট্ট প্রাণটার জন্য তার শরীরটা আগের চেয়ে একটু ভারী দেখছে, আবায়ার ওপর দিয়েও সেটা বোঝা যাচ্ছে। আয়নায় নিজেকে দেখে তিথি খুব খুশি হলো। সে মনে মনে বলল, "আমার ড্রাকুলা ছানাটা বড় হচ্ছে!"

ডিনার টেবিলের কাছে গিয়ে সবাই জড়ো হলো। কাবির তার বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে ঘোষণা দিল,

"এখানে মেয়েরা যারা আছো, তোমাদের জন্য আমি পাশের আলাদা একটা টেবিল বুক করেছি। তোমরা ওখানে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে ডিনার করো। এখানে পুরুষদের ভিড়ে তোমাদের বসার দরকার নেই।"

তিথি বার আগে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। এই অবস্থায় নেকাব পরে থাকা তার জন্য বেশ কষ্টকর হচ্ছে, তাই সে চাচ্ছে তাড়াতাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসতে। কিন্তু বিপত্তি ঘটাল সাবা! সে চেয়ার আঁকড়ে বসে রইল।

সাবা নেকা স্বরে কান্না শুরু করে দিয়ে বলল,

"কাবির বেবি! আমি ওখানে যাব না। আমি তোমার সাথেই খাব, নাহলে আমি আজই নিজের হাত কেটে ফেলব!"

সাবার এই নাটক দেখে তিথির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। কাবির কিছু বলার আগেই তিথি সাবার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ গলায় বলল,

"শুনুন সাবা আপু! অনেক হয়েছে বেবি ডাকা। এরপর যদি আরেকবার আমার স্বামীর সাথে কথা বলেন বা বেবি বলে ডাকেন, তবে হাত কাটার কষ্ট আপনাকে করতে হবে না। আমি নিজেই আপনাকে কুচিকুচি করে কেটে একদম সাগরে ভাসিয়ে দেব! বুঝেছেন?"

সাবা রাগে অপমানে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই সাব্বির পেছন থেকে সাবার হাত ধরে থামিয়ে দিল। সাব্বির শান্ত কিন্তু কঠোর গলায় বলল,

"থামো সাবা! অনেক হয়েছে। তিথি যা বলছে ঠিকই বলছে। আমাদের নিজেদের সীমানা বোঝা উচিত। চলো এখান থেকে।"

সাবা সাব্বিরের কথা শুনে গটগট করে পা আছাড় দিয়ে মেয়েদের টেবিলের দিকে চলে গেল। তিথি বিজয়ের হাসি হেসে কাবিরের দিকে তাকাল। কাবিরও মনে মনে তার সাহসী বিবিজানের ওপর বেশ গর্ব বোধ করল।

তিথিদের টেবিলের পরিবেশটা তখন বেশ থমথমে। সাবার বাঁকা কথা শুনে রোনার মেজাজ বিগড়ে গেল। সাবা নাক উঁচিয়ে তিথিকে বলল,

— "আজকের এই চাঁদনি রাতটা প্রাণভরে দেখে নাও তিথি, কারণ কাল থেকে তোমার জায়গা হবে আমার পায়ের নিচে। মনে রেখো, কাবির শুধু আমার,তোমার মতো সাধারণ কারো নয়!"

জিম এক গাল বিদ্রুপের হাসি হেসে বলল,

— "অন্যের স্বামীকে নিজের বানানোর স্বপ্ন দেখা তো এক ধরণের মানসিক রোগ সাবা। তুমি বরং ডাক্তার দেখাও।"

রোনাও ধমকের সুরে বলল,

—"একদম ঠিক! সাবা আপু, তুমি কি শুরু করেছো এসব? মেহমান হয়ে এসেছো, মেহমানের মতো থাকো।"

প্রমা তখন তিথির পেটের ওপর হাত রেখে আদুরে গলায় বলল,

— "সাবা আপু, তুমি ভুল জায়গায় বাজি ধরছো। আমার ভাইয়া আর ভাবির ভালোবাসার ফল তো ভাবির পেটেই বড় হচ্ছে! তুমি বরং নিজের হাড় কঙ্কাল নিয়ে চিন্তা করো।"

সাবা এবার ডুকরে কেঁদে ওঠার ভান করল। তিথি প্লেটে খাবার সাজাতে সাজাতে মনে মনে ভাবল, "এই পেত্নীর মুখ বন্ধ করা দরকার।"

সে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল,

— "আচ্ছা সাবা আপু, আপনি তো লন্ডনে অনেক পড়াশোনা করেছেন। একটা চ্যালেঞ্জ নেবেন? যদি আপনি আমার সাথে টানা ১০ মিনিট ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন, তবে কথা দিচ্ছি আমার স্বামী একদিনের জন্য আপনার হবে!"

জিম ভয়ে তিথির উরুতে একটা চিমটি কাটল। ইশারায় বলল, "পাগল হয়েছিস নাকি?" তিথি চোখ টিপে আশ্বস্ত করল যে সে জানে সে কী করছে।

সাবা খিলখিল করে হেসে উঠল।

— "হোয়াট? লন্ডনে থাকতে আমি ক্লাস টপার ছিলাম! ইংরেজিতে আমার থেকে ভালো কেউ ছিল না। তোমার মতো আনকালচারড মেয়ে আমার সাথে পাল্লা দেবে? ইটস ইমপসিবল!"

তিথি অবলীলায় উত্তর দিল, "রিয়েলি? আসলে আমার বাবা তো ইংরেজি শিক্ষক, সেই হিসেবে জন্ম থেকেই আমি একটু একটু ইংরেজি পারি। তো চ্যালেঞ্জটা শুরু হোক? তবে আপনি হেরে গেলে আমি যা বলব, তাই করতে হবে। রাজি?"

সাবা দম্ভের সাথে বলল, "ডান!"

অন্য টেবিলে কাবির, আহনাফ, সাদ্দাম আর সাব্বির বসেছে। চারপাশটা শান্ত থাকলেও কাবিরের বন্ধুদের মাঝে উত্তেজনার শেষ নেই। সাদ্দাম পানির গ্লাসে চুমুক দিয়ে হাসতে হাসতে বলল,

— "দোস্ত কাবির! তুই তিথিকে কীভাবে পেলি বল তো? আর ওই গড অফ ইতালিরকে ধরতে পেরেছিস?"

আহনাফ খাবার নাড়তে নাড়তে ফিসফিস করে বলল,

— "আরে ওসব ছাড়! দোস্ত, তিথি কি প্রেগন্যান্ট? ওর পেটটা তো একটু ফোলা লাগল। মামা, তুই যে আমাদের এতো আগে চলে যাবি সেটা বুঝি নাই! কংগ্রাচুলেশনস ব্রো!"

কাবির আলতো করে হাসল। সেই হাসিতে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছিল। সে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

— "আহনাফ, ওসব ফাজলামি বাদ দে। তিথি এখন আমার অস্তিত্ব। ওকে আমার কাছ থেকে কেউ নিতে পারবে না। যদি নিতে হয়, তবে আমাকে কিল করে তারপর নিতে হবে।"

টেবিলের পরিবেশটা মুহূর্তেই ভারি হয়ে এল। সাব্বির এতোক্ষণ চুপচাপ ছিল। সে তার প্লেটটা একপাশে সরিয়ে রেখে বলল,

— "আমার খাওয়া শেষ। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। আপনারা এনজয় করুন।"

আহনাফ সাব্বিরের হাত ধরে টেনে বসাল,

— "আরে বোসো বোসো! এভাবে একে একে কোথায় যাবা? খাবার তো কিছুই মুখে দিলে না।"

সাদ্দামও সায় দিয়ে বলল, "হ্যাঁ সাব্বির, বসো না। একটু আড্ডা দিই।"

কাবির সাব্বিরের দিকে তাকিয়ে একটু বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,

— "বসো সাব্বির, খাও। না খেলে স্বাস্থ্য ভালো হবে না তো!"

এরপর কাবির একটু গম্ভীর হয়ে তার বন্ধুদের কাছে তিথি নিখোঁজ হওয়ার সেই দুর্বিষহ দিনগুলোর কথা বলতে লাগল। তিথি যখন প্রেগন্যান্ট—এই খবরটা কাবির প্রথম যখন জানতে পারল, তখন সে কী পরিমাণ ঘাবড়ে গিয়েছিল আর একইসাথে খুশিতে পাগল হয়েছিল, সেই স্মৃতিগুলো শেয়ার করল।

আহনাফ সব শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— "সে যাই হোক কাবির, তুই তিথিকে ভুল বুঝে একদম ঠিক করিসনি। মেয়েটা স্মৃতি হারিয়েও কত কিছুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছে!"

সাদ্দাম মাথা নাড়িয়ে বলল, "হ্যাঁ রে দোস্ত, তিথি এমনিতে অনেক ঝামেলা পোহাচ্ছে। সেই অবস্থায় তুই ওকে যেভাবে ট্রিট করলি, ও অনেক কষ্ট পেয়েছে।"

কাবির মাথা নিচু করে বলল,

— "জানি রে! এখন সব আল্লাহর রহমতে ঠিক হয়ে গেছে। তবে সাদ্দাম, তোর সাথে আমার একটা জরুরি কথা আছে। আমার বোন প্রমার বিষয়ে।"

সাদ্দাম অপ্রস্তুত হয়ে গেল। কাবির বলল,

— "আমার বোন তোকে কতটা ভালোবাসে সেটা তুই জানিস।"

#চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন