#প্রণয়ের_আউড়ে
#পার্ট৪৫(শেষাংশ)
#সুমাইয়া_আক্তার_শিলা
হাসপাতালের করিডোরের চারপাশের বাতাস যেন এক নিমেষে ভারী হয়ে উঠল। সাবা আর সাব্বির কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাবির দু-পা এগিয়ে এসে তাদের একদম মুখোমুখি দাঁড়াল। তার চোয়াল শক্ত, চোখ দুটো রাগে রি রি করছে।
কাবির সাবা আর সাব্বিরের চোখের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে বরফশীতল কণ্ঠে বলল,
— "আমি তোমায় একটা লাস্ট চান্স দিচ্ছি সাবা। তোমরা দুজনে কি নিজ থেকে এখন তিথির সামনে গিয়ে স্বীকার করবে কাল রাতে তোমরা আমার সাথে কী করেছ? নাকি আমি অ্যাকশন নেওয়া শুরু করব?"
কাবিরের গলার ওই ভয়ানক সুর শুনে সাবার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। কিন্তু সে চট করে নিজের ভয় আড়াল করে আগের মতোই আদুরে গলায় বলল,
— "কাবির ডার্লিং! এইসব কী বলছ তুমি? ওই আনকালচারড মেয়েটার জন্য আমার সাথে এইভাবে কথা বলছ কেন? কাল রাতে যা হয়েছে, তা তো তুমি নিজের ইচ্ছায়..."
— "শাট আপ সাবা!"
কাবির বাঘের মতো গর্জে উঠল। তার চিৎকারে হাসপাতালের করিডোরটা কেঁপে উঠল।
কাবির এবার সাব্বিরের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। সাব্বিরের চোখে তখন অপরাধবোধ আর ভয়ের মিশ্রণ। কাবির সাব্বিরের কলারটা এক হাতে শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
— "দিস ইজ টু মাচ সাব্বির!কাল রাতের পর তোমার ওপর আমার যেটুকু রেসপেক্ট ছিল, সব শেষ। আমি তোমার থেকে আর যাই হোক, আমার আর তিথির লাইফ নিয়ে এমন নোংরা গেম এক্সপেক্ট করিনি!"
সাব্বির মুখ নামিয়ে চুপ করে রইল। সে কোনো উত্তর দিতে পারল না।
কাবির সাব্বিরকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে নিজের গায়ের লাল শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত ওপরে তুলল। তার ঠোঁটের কোণে এবার এক ভয়ঙ্কর, পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। সে সাবা আর সাব্বির—দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল,
— "নাউ ইটস মাই টার্ন! তোমরা দুজন যে আমার আর আমার স্ত্রীর মাঝে এসেছ, তাদের তো এখন আমার নিজের হাতে আপ্যায়ন করতেই হয়। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ, কাবির রহমান কায়নাত এখন তোমাদের সাথে কী করে!"
কাবিরের এই রূপ দেখে সাবার ফর্সা মুখটা ভয়ে একদম ফ্যাকাসে হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, ড্রাগের নেশা কেটে যাওয়ার পর কাবির এখন আর সেই কাবির নেই—সে আসল ঘটনা জানতে পেরে এখন এক হিংস্র সিংহ হয়ে উঠে।
হাসপাতালের কেবিনের ভেতরে তখন প্রমা তিথিকে রেডি হতে সাহায্য করছিল। তিথি তার সাদা ওজি গাউনের ওপর কালো চাদরটা টেনে নিচ্ছিল, চোখে-মুখে এখনো সেই তীব্র বিষাদের মেঘ। সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, এই মুহূর্তে সে আর কাবিরের সাথে থাকবে না,যে করেই হোক নিজের বাড়িতেই ফিরে যাবে। ঠিক তখনই কেবিনের দরজাটা সজোরে আছড়ে খুলে গেল!ভেতরের দৃশ্য দেখে তিথি আর প্রমা দুজনেই স্তব্ধ হয়ে গেল।
কাবির সাব্বিরের শার্টের কলার এক হাতে ধরে হিড়হিড় করে টেনে হিঁচড়ে কেবিনের ভেতরে নিয়ে আসছে। সাব্বিরের মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে, চোখ-মুখ ফুলে গেছে। কাবিরের অন্য হাতটা রক্তে রাঙানো—সেটা সাব্বিরেরই রক্ত। সাবা পেছনে দাঁড়িয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার করছে, কিন্তু কাবিরকে থামানোর সাহস তার নেই।
তিথি আঁতকে উঠে দু-পা পিছিয়ে গেল। তার ফর্সা মুখটা ভয়ে শুকিয়ে গেল। সে কাঁপা গলায় বলল,
— "আরে! আরে আপ—আপনি ওনাকে মারছেন কেন? উনি কী করেছেন? ছেড়ে দিন ওনাকে!"
কাবির সাব্বিরকে ঝনঝন করে মেঝের ওপর ছুড়ে ফেলল, ঠিক যেমন করে কোনো আবর্জনা ফেলে দেওয়া হয়। এরপর সে নিজের হাতের রক্ত মাখা আঙুলগুলো ঝেড়ে, ধীর পায়ে তিথির দিকে এগিয়ে গেল। কাবিরের চোখে তখন এক চরম প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। সে তিথির একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পকেটে হাত রাখল, তারপর এক অদ্ভুত ঠান্ডা ধারালো গলায় বলতে শুরু করল,
— "বিবিজান! তুমি আমায় যেই জন্য ইগনোর করছো? এই যে তোমার সামনে পড়ে থাকা সো-কল্ড জেন্টলম্যান, এনারাই ওটার কারণ।আর ওই দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ড্রামা কুইন—এরা দুজন মিলে কাল রাতে একটা মাস্টারপ্ল্যান করেছিল। যে ড্রিংকসটা তুমি পাঠিয়েছ বলে আমাকে খাওয়ানো হয়েছিল, সেটায় ড্রাগ মেশানো ছিল। উদ্দেশ্য? আমাকে অজ্ঞান করে সাবার রুমে আটকে রাখা, যাতে তুমি আমাকে ভুল বোঝো। আর এই সাব্বির? সে তোমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার বাহানায় নিজের করে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। দিস ওয়াজ দেয়ার ডার্টি গেম, বিবিজান!"
কাবিরের প্রতিটি কথা যেন কেবিনের ভেতরে চাবুকের মতো শোনাল। তিথি হা করে সাব্বির আর সাবার দিকে তাকাল। সাব্বির মেঝের দিকে তাকিয়ে অপরাধীর মতো ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
তিথি তার ফোলা পেটটার ওপর হাত রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখ দিয়ে দু-ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, তবে সেই চোখে এবার আর দুর্বলতা ছিল না, ছিল এক চরম ঘৃণা। সে কাবিরের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
— "আমি ওনাদের দুজনকে ক্ষমা করে দেব। তবে আমার একটা শর্ত আছে। ওনাদের দুজনকে এক্কেবারে আমাদের জীবন থেকে, আমাদের চারপাশ থেকে চিরকালের মতো সরে যেতে হবে। আর কোনোদিন যেন ওনাদের ছায়াও আমাদের ওপর না পড়ে।"
কাবির সাব্বিরের দিকে একনজর তাকিয়ে আবার তার পেটে সজোরে একটা লাথি বসাল। বুটের আঘাতে সাব্বির কুঁকড়ে উঠতেই কাবির বাঘের মতো গর্জে বলল,
— "শুনতে পেয়েছিস আমার বিবিজান কী বলেছে? গেট আউট ফ্রম আওয়ার লাইফ রাইট নাউ!"
সাব্বির ব্যথায় গোঙাতে গোঙাতে কোনোমতে বলল,
— "আ….আমরা আজই... আজই এ দেশ ছেড়ে চলে যাব কাবির ভাই। আর কোনোদিন তোমাদের সামনে আসব না। আমরা আজই ফ্লাই করব।"
সাবা আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না, সাব্বিরকে
টেনে তুলে নিয়ে প্রায় দৌড়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেল।
কেবিনে তখন এক অদ্ভুত নীরবতা। কাবির তিথির দিকে এগোতে চাইল, তার চোখে তখন একরাশ আকুতি—সবকিছু ঠিক করে নেওয়ার আকুলতা। প্রমার হাত ধরে সে কাবিরের দিকে শেষবারের মতো তাকাল। সে কাবিরকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— "আমি আমার নিজের বাসায় গেলাম। কারো যদি আমায় দেখার খুব বেশি মনে চায়, তবে সে যেন কষ্ট করে সেখানে গিয়ে আমায় দেখে আসে।"
কথাটা শেষ করেই তিথি কাবিরকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে প্রমাকে নিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। কাবির সেখানে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার ঠোঁটের কোণে একটা ম্লান হাসি ফুটে উঠল। সে মনে মনে বলল, "অভিমান করেছ বিবিজান? ঠিক আছে, এই কাবির রহমান কায়নাত নিজের সব রাগ ধুয়েমুছে তোমার ওই ভাঙা মন জোড়া লাগাতে তোমার দুয়ারেই আসবে।"
বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই তিথির মনটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। ধীরপায়ে নিজের চেনা রুমে এসে সে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর গড়িয়েছে। তিথি আর দেরি না করে অজু করে জোহরের নামাজ আদায় করে নিল। নামাজ শেষে জায়নামাজে বসেই আল্লাহর কাছে নিজের অনাগত সন্তানের জন্য আর নিজের সংসারের জন্য চোখের জল ফেলল।
মনটা শান্ত করার জন্য সে আলমারি থেকে কোরআন আর হাদিসের বই নিয়ে বসল। উল্টাতে উল্টাতে তার চোখ আটকে গেল একটি অধ্যায়ে—"সুখী-সংসারের সাতকাহন"। আল্লামা মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধিয়ানাবী এর লেখা।
তিথি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তে লাগল। সেখানে সুন্দর একটি জান্নাতি সংসার গড়ে তোলার ব্যাপারে ৩টি চমৎকার হাদিস উল্লেখ করা ছিল-
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যিনি তার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের নিকট তোমাদের চেয়েও উত্তম।"
— [তিরমিজি: ৩৮৯৫]
আরও রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমি কি তোমাদের জান্নাতি রমণীদের সম্পর্কে জানাব না? তারা হলো এমন নারী, যারা স্বামীকে গভীরভাবে ভালোবাসে এবং অধিক সন্তান প্রসবকারিনী। স্বামী তার ওপর রাগান্বিত হলে সে তার স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে—আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি চোখের পাতা এক করব না।"
— [সিলসিলাতুস সহীহাহ: ২৮৭]
ছোট ছোট বিষয়েও নেকি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যা-ই খরচ করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দাও, তার জন্যও।"
— [বুখারী: ৫৬]
হাদিসগুলো পড়তে পড়তে তিথির চোখজোড়া ভিজে উঠল। সে মনে মনে ভাবল, কাবির তো তাকে কত ভালোবাসে, তাহলে সে কেন এত অভিমান করে চলে এল?
ঠিক তখনই রুমে প্রবেশ করলেন তিথির মা তানিয়া মিথু। মেয়ের বিষণ্ণ মুখটা দেখে তিনি পাশে এসে বসলেন। তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু গলায় বললেন,
— "কিরে মা? আবারও জামাইয়ের সাথে ঝগড়া হয়েছে?"
তিথি চোখ মুছে মায়ের দিকে তাকিয়ে জোর করে একটু হেসে বলল,
— "না আম্মু, কোনো ঝগড়া হয়নি।"
— "তাহলে হুট করে এভাবে চলে এলি যে?"
তানিয়া মিথু কৌতূহলী চোখে চাইলেন।
— "এমনিই আম্মু, তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল, তাই।"
তিথি আমতা আমতা করে জবাব দিল।
তানিয়া মিথু মেয়ের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে আর ঘাঁটালেন না। আদর করে বললেন,
— "আচ্ছা ঠিক আছে, তুই বোস। আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি।"
তিথি মাথা নেড়ে বলল, "আচ্ছা।"
খাবারের টেবিলে বসার পর তিথি চারপাশটা দেখে জিজ্ঞেস করল, "আম্মু, আব্বু আসেনি এখনো?"
তানিয়া মিথু তরকারি বেড়ে দিতে দিতে বললেন, "তোর আব্বুর একটা ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস ছিল। তাই এই পিরিয়ড টাইমে আসতে পারেনি। বিকেলের দিকে ফিরবে।"
তিথি ভাতের থালায় হাত দিয়ে একটু ইতস্তত করে বলল, "আচ্ছা আম্মু, আব্বু যখন তোমার ওপর কখনো রাগ করত, তুমি কীভাবে সেই রাগ ভাঙাতে?"
তানিয়া মিথু মেয়ের মুখে এমন প্রশ্ন শুনে হেসেই ফেললেন। অতীতে ফিরে গিয়ে লজ্জামাখা হাসিতে বললেন,
— "তোর আব্বু আমার ওপর রাগ করলে আমি তার পছন্দমতো থাকার ট্রাই করতাম। যেমন ধর-তার পছন্দের রান্নাগুলো করতাম, সুন্দর করে সেজে তার সামনে যেতাম। ব্যস! তরল মনের মানুষ তো, এক নিমেষেই গলে জল হয়ে যেত।"
মায়ের কথা শুনে তিথি মনে মনে ভাবল, "তবে কি আমারও কাবিরের রাগ ওভাবে ভাঙানো উচিত?"
কিন্তু পরক্ষণেই সকালের কথা মনে পড়তেই তার পেটটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। ভাতের লোকমা মুখে দিতেই সে মুখ চেপে ধরল।
— "ওহ আম্মু, আর খাবো না। আমার খুব বমি পাচ্ছে!"
তানিয়া মিথু ব্যস্ত হয়ে বললেন,
— "না রে মা, আর দুটো লোকমা অন্তত খা। শরীর খারাপ করবে তো। জানিস, তুই যখন আমার পেটে ছিলি, তখন তোর আব্বু সারাদিন আমার সেবা করত। ওনার তো কোনো ফ্যামিলি ছিল না, আমাকে বিয়ে করে আনার পর থেকে আজ অবধি রানী করে রেখেছেন।"
মায়ের কথা শুনতে শুনতে তিথির চোখের সামনে কাবিরের মুখটা ভেসে উঠল। কাবিরও তো তাকে রানীর মতোই আগলে রাখে। তিথির মনে হতে লাগল—কাবির যদি এই মুহূর্তে তার পাশে থাকত, তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত, তবে কতই না ভালো হতো! বুকের ভেতরটা কাবিরের জন্য হু হু করে উঠল তার।
তিথি খাওয়া শেষ করে ক্লান্ত গলায় বলল,
— "আম্মু, আমি একটু ঘুমাব। গতকাল রাতে একদম ঘুম হয়নি।"
তানিয়া বেগম মেয়ের কপালে হাত দিয়ে বললেন, —"আচ্ছা মা, যা একটু জিরিয়ে নে।"
কাবির তার দীর্ঘ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আর চওড়া কাঁধের ওপর কালো ব্লেজারটা টান টান করে টেবিলের প্রধান চেয়ারটার দিকে এগিয়ে গেল। টেবিলে তখন সাজানো একগাদা ফাইল আর স্যাটেলাইট ম্যাপ।
চিফ কমান্ডার কাবিরের দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসলেন। কড়া লিকারের কফির মগটা হাতে নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বললেন,
— "কি কাবির রহমান কায়নাত! স্ত্রীকে খুঁজে পেয়ে তো আমাদের কথা ভুলেই গিয়েছো।"
কাবির নিজের স্বভাবসুলভ বাঁকা হাসিটা দিয়ে বসল। ঘড়ির চেইনটা একটু ঠিক করে নিয়ে বলল,
— "স্যার, আপনি রিটায়ার করছেন শুনে ভাবলাম শেষবারের মতো আপনার কাছ থেকে একটা বড়সড় শিকারের পারমিশন নিয়ে যাই। র্যাংক ১-এর চেয়ারটা তো খালি রাখা যাবে না।"
চিফ কমান্ডার এবার গম্ভীর হলেন। প্রজেক্টরের রিমোটটা চেপে স্ক্রিনে একটা ছবি ভাসিয়ে তুললেন।ঠান্ডা স্বরে বললেন,
— "গুড। তাহলে এবার কাজের কথায় আয়। এবারের মিশনটা লোকাল কোনো গ্যাংস্টারকে নিয়ে নয়। সরাসরি আন্তর্জাতিক মাফিয়া নেটওয়ার্ক জড়ো হয়েছে। কেসটা হলো—গড অফ ইতালি-র একমাত্র ছেলের মিসিং কেস।"
ইতালির আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্রাট,গড অফ ইতালিকে কাবির খুব ভালোভাবেই চিনে। সে এই কাজে লাগিয়ে গড অফ ইতালির মুখোশ সকলের সামনে খোলে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করলো।
কেসের জটিলতা নিয়ে কাবির তার চিফ এবং টিমের অন্যান্য পুলিশ মেম্বারদের সাথে গভীর আলোচনায় ডুবে গেল। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলল নিখুঁত স্ট্র্যাটেজি প্ল্যানিং। মিটিং শেষে যখন বাকিরা ফাইলপত্র গোছাচ্ছিল, কাবির তখনো স্ক্রিনের ম্যাপটার দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে ছিল।
ঠিক তখনই জুনিয়র অফিসার রাইসা কফির দুটো মাগ হাতে নিয়ে কাবিরের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। রাইসা বেশ কিছুদিন ধরেই কাবিরের এই ড্যাশিং পারসোনালিটি আর ঠান্ডা মেজাজের ওপর ক্রাশ খেয়ে বসে আছে। সে মগটা টেবিলের ওপর রেখে একটু নার্ভাস কিন্তু সরাসরি কাবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— "স্যার... আই মিন কাবির! একটা কথা বলার ছিল। আসলে অলরেডি সবাই জানে, তাও আমি লুকাতে পারছি না। আই রিয়েলি লাইক ইউ, কাবির!"
রাইসার এমন আকস্মিক প্রপোজাল শুনে কাবিরের হাত এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। কিন্তু তার চোখে-মুখে কোনো হেলদোল দেখা গেল না। সে এটিটিউড নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। সিক্স-ফিট উচ্চতার কাবিরের সেই তীক্ষ্ণ চাউনি আর গম্ভীর ব্যক্তিত্বের সামনে রাইসা নিমেষেই কেঁপে উঠল। কাবির এক পা এগিয়ে এসে নিজের প্রফেশনাল ভয়েসে বলল,
— “মিস, দিস ইজ হেডকোয়ার্টার। এখানে পার্সোনাল ফিলিংসের কোনো জায়গা নেই। অ্যান্ড ফর ইয়োর কাইন্ড ইনফরমেশন, কাবির রহমান কায়নাত অলরেডি বুকড বাই হিজ বিবিজান।"
রাইসা দমে গেলেও হাল ছাড়ল না। সে কাবিরের চলে যাওয়ার পথের সামনে দাঁড়িয়ে মিনতি করার মতো করে বলল,
— "আই নো স্যার! আমি আপনার পার্সোনাল লাইফে ইন্টারফেয়ার করতে চাই না। বাট অন্ততপক্ষে আমার সাথে এক কাপ কফি তো খেতেই পারেন? জাস্ট এজ আ ফ্রেন্ড?"
কাবির রাইসার দিকে তাকাল। তার চোখে তখন এক ভয়ঙ্কর সুন্দর ডেভিল হাসি ফুটে উঠল। সে নিজের সানগ্লাসটা চোখে পরে রাইসার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
— "আমার কফির কাঁপে শুধু আমার বিবিজানের হাতের স্পর্শ থাকে,মিস। অন্য কারো ইনভাইটেশন এক্সেপ্ট করার অভ্যাস কাবির রহমান কায়নাতের নেই। ডোন্ট ট্রাই টু ক্রস ইয়োর লিমিট!"
রাইসাকে পুরো স্তব্ধ আর হতভম্ব করে দিয়ে কাবির এক ঝটকায় রুম থেকে বের হয়ে তার নিজের ৫০ লাখ দিয়ে কিনা হোন্ডা সিভিকের দিকে পা বাড়াল।
#চলবে…
(বোনাস আরেকটা রোমান্টিক পার্ট দিয়েছি ওটাও পড়ে নিয়ো🤍✨)