ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

৪৬তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট৪৬(বোনাস_পর্ব)

#সুমাইয়া_আক্তার_শিলা

​হেডকোয়ার্টার থেকে বের হয়ে হোন্ডা সিভিকতে উঠেই কাবির সোজা রওনা দিল ময়মনসিংহের সবচেয়ে বড় শপিং মল "আড়ং”এর দিকে। তার মাথার ভেতর এখন একটাই চিন্তা তার অভিমানী বিবিজানের মুখে হাসি ফোটানো। তিথি কী কী পছন্দ করে, তা কাবিরের চেয়ে ভালো আর কে জানে! তার বিবিজানের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো কাঁচের চুড়ি, লিপস্টিক,কসমেটিস আর বই।

​কাবির কালী শংকর গুহ রোড, নতুন বাজার, ময়মনসিংহের আড়ং একটা এক্সক্লুসিভ কসমেটিকস আর জুয়েলারি শপে গিয়ে ঢুকল। সে দোকানে ঢুকল, সেলসম্যানরা বেশ আন্তরিকতার সাথে করে এগিয়ে এল।

​কাবির কাউন্টারে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

— "আমাকে সবচেয়ে বেস্ট কোয়ালিটির লাল আর গাঢ় মেরুন রঙের কাঁচের চুড়ি দেখান। আর হ্যাঁ, লিপস্টিকের শেডটা যেন একদম ন্যাচারাল ডার্ক রেড হয়।"

​দোকানদার মুচকি হেসে বলল, "স্যার, ম্যাডামের জন্য বুঝি? উনার চয়েস তো দারুণ!"

কাবির চোখের সানগ্লাসটা একটু নামিয়ে দোকানদারের দিকে তাকিয়ে একটা হালকা ডেভিল স্মাইল দিল। তারপর গভীর গলায় বলল,

— "চয়েস তো দারুণ হবেই, কারণ সে কাবির রহমান কায়নাতের বিবিজান। শোনো, চুড়িগুলো যেন একটু সাবধানে প্যাক করো। ওর হাতটা খুব নরম, একটু শক্ত কিছু লাগলেই লাল হয়ে যায়। আর লিপস্টিকটা যেন একদম লং-লাস্টিং হয়, কারণ ও যখন রেগে গিয়ে ঠোঁট কামড়ায়, তখন যেন কালারটা নষ্ট না হয়।"

​কাবিরের মুখে এমন খোলামেলা শুনে মাঝবয়সী দোকানদার পুরো থতমত খেয়ে গেল। সে লজ্জায় লাল হয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,

–"আ…আচ্ছা স্যার, আমি একদম সাবধানে প্যাক করে দিচ্ছি।" 😌

​এরপর কাবির পাশের জুয়েলারি সেকশনে গেল। সেখানে গিয়ে সে বলল,

"আমাকে একটা ডায়মন্ডের লকেট দেখান, যেটাতে 'K' লেটারটা খোদাই করা থাকবে।"

​জুয়েলারি এসিস্ট্যান্ট লকেটটি এনে দিতেই কাবির সেটা হাতে নিয়ে দেখল। 'K' ফর কাবির। সে মনে মনে ভাবল, এই লকেটটা যখন তিথির ওই ফর্সা গলায় ঝুলবে, তখন পুরো দুনিয়ার নজর ওর ওপর আটকে যাবে। লকেটটা নিয়ে সে পেমেন্ট ক্লিয়ার করল।

প্রায় ৫০ ডজন ​চুড়ি,১০০টি লিপস্টিকসহ কসমেটিকস আর জুয়েলারি কিনাকাটা করে কাবির সোজা গিয়ে ঢুকল। আড়ংয়ের বিশাল শাড়ি সেকশনে পা রাখতেই কাবিরের চোখ জুড়িয়ে গেল। তার মনের ভেতর তখন এই রাতের শুধু লাল শাড়ি পরা তিথির ওই মায়াবী রূপটা ভাসছে। সে মনে মনে ভাবল,

—"আমার বিবিজান তো একেকটা শাড়িতে একেকটা পরীর মতো লাগবে!"

​কাবির শোরুমের ম্যানেজারকে ডেকে একদম রাজকীয় ভঙ্গিতে বলল,

— "আমাকে আপনাদের এখানে থাকা সবচেয়ে বেস্ট কোয়ালিটির সিল্ক, কাতান আর জামদানী শাড়ি দেখান। একটা বা দুটো নয়, আপনাদের কালেকশনে যত ভালো ডিজাইন আছে—সব বের করুন।"

​ম্যানেজার এবং সেলস বয়রা মিলে কিছুক্ষণের মধ্যে কাবিরের সামনে শাড়ির এক বিশাল সমুদ্র মেলে ধরল। কাবির একে একে শাড়িগুলো দেখতে লাগল এবং তার রাজকীয় পছন্দের বহর দেখে আড়ংয়ের স্টাফদের চোখ চড়কগাছ হয়ে গেল! সে প্রায় ৫০০টি বিভিন্ন ডিজাইন ও কালারের শাড়ি সিলেক্ট করে ফেলল।

​সেখানে ছিল,​জামদানী শাড়ি একদম খাঁটি সুতোর তৈরি হালকা তুত কালার,মিষ্টি গোলাপী, এবং দুধ-সাদা রং।গাঢ় মেরুন, আর টকটকে লাল রঙের বেনারসি ও জর্জেট কাতান।​সিল্ক শাড়ি ছিল কাঁচা হলুদ, টিয়া গ্রিন, আর বেগুনী রঙের পিওর রাজশাহী সিল্ক এবং তসর সিল্ক।

​কাবিরের এই এলাহী কাণ্ড দেখে কাউন্টারে থাকা একজন সিনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

— "ভাইয়া, আপনি এক সাথে এত শাড়ি... কোনো গিফটের জন্য নিচ্ছেন নাকি পাইকারি ব্যবসার জন্য?"

​কাবির মানিব্যাগ থেকে তার গোল্ডেন ক্রেডিট কার্ডটা বের করে কাউন্টারে রাখল। তারপর তার চোখের সানগ্লাসটা হালকা নামিয়ে সেই পরিচিত ডেভিল স্মাইল দিয়ে গভীর গলায় বলল,

​— "আরে না ভাইয়া, কোনো গিফট বা বিজনেসের জন্য না। এই সবকটা শাড়ি আমার একমাত্র বিবির জন্য। ওর একেকটা মুডের জন্য একেকটা শাড়ি লাগবে। আর হ্যাঁ..."

​কাবির হঠাৎ ঝুঁকে এসে কাউন্টারের সেলস বয়দের চোখের দিকে তাকিয়ে কড়া আর গম্ভীর গলায় বলল,

— "অ্যান্ড ইয়েস, দ্য ফেব্রিক অফ দ্য শাড়িস মাস্ট বি এক্সিলেন্ট, আদারওয়াইজ আই উইল রিপোর্ট ইট টু ইয়োর হাইয়ার অথরিটি!"

—“জ…জ…জ্বী স্যার এখানের সবগুলোই আমাদের কালেকশনের বেস্ট। আপনি পছন্দ মতো নিতে পারেন।”

​ তারা দ্রুত অতি সাবধানে ৫০০টি শাড়ি বড় বড় লাক্সারি বক্সে প্যাক করতে শুরু করল।<br><br>

​সব শপিং শেষে হোন্ডা সিভিকের ব্যাক সিট আর বুট স্পেস এখন গিফট বক্স, শাড়ি, হাওয়াই মিঠাই, ইসলামিক বই আর বেলি ফুলের মালায় পুরো ঠাসা। কাবির এবার গাড়ির গিয়ার চেঞ্জ করে ফুল স্পিডে স্টিয়ারিং ঘোরাল তিথির বাবার বাড়ির দিকে।

​বিকেল ৪টা। বাড়ির সামনে এসে থামল কাবিরের কালো হোন্ডা সিভিক। গাড়ি থেকে নেমে দু-হাত ভর্তি শপিং ব্যাগ, বই আর ফুলের মালা নিয়ে কাবির যখন তিথিদের কলিং বেল বাজাল, দরজা খুললেন তানিয়া মিথু। জামাইকে এই অসময়ে এতসব জিনিসসহ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি ভীষণ খুশি হলেন। মুখে একগাল হাসি নিয়ে বললেন,

— "আরে কাবির! এসো বাবা, ভেতরে এসো। সব ঠিকঠাক আছে তো? তোমার তো এই সময়ে অফিসে থাকার কথা।"

​কাবির ভেতরে ঢুকে সোফায় জিনিসগুলো রেখে মিষ্টি করে হেসে বলল,

— "হ্যাঁ আম্মু, সব ঠিক আছে। আসলে ডিপার্টমেন্ট থেকে একটা নতুন আর খুব বড় মিশন পেয়েছি। এটা সলভ করতে পারলেই আপনার জামাই একদম র‍্যাংক ১ এ চলে আসবে। পুরো ফোর্সের সুপ্রীম পাওয়ার পাব। আর এই মিশনের জন্যই অফিস থেকে কয়েক সপ্তাহের একটা লম্বা ছুটি নিয়ে নিয়েছি।"

​ছুটির কথা শুনে তানিয়া বেগমের মুখটা খুশিতে চকচক করে উঠল। কাবির চারপাশটা একটু দেখে নিয়ে আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল,

— "আচ্ছা আম্মু... মানে আন্টি, ও কী করছে?"

— "কী বললে বাবা? আন্টি? তুমি আমাকে আম্মুই ডাকবে। আমার তো আর কোনো ছেলে নেই, তুমিই তো আমার ছেলে, নাকি?"

— "জি আম্মু, ভুল হয়ে গেছে।বাড়িটা খুব শান্ত মনে হচ্ছে, ও কি ঘুমাচ্ছে?"

—"হ্যাঁ বাবা। এই অবস্থায় মেয়েরা একটু বেশিই ঘুমায়। শরীর দুর্বল থাকে তো। তুমি এক কাজ করো, রুমে গিয়ে ওকে জাগাও। আমি রান্নাঘরে গিয়ে তোমার জন্য ঝটপট কিছু নাস্তা বানিয়ে নিয়ে আসছি।"

​কাবির মনে মনে এই সুযোগটাই খুঁজছিল। সে তানিয়া মিথুকে ধন্যবাদ জানিয়ে ধীরপায়ে তিথির রুমের দিকে পা বাড়াল।

​কালো ব্লেজারটা সোফায় ছুড়ে ফেলে কাবির অত্যন্ত ধীরপায়ে তিথির অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমে গিয়ে ঢুকল। ঘরের মৃদু আলোয় বিছানায় শুয়ে থাকা তিথির মায়ায় ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে কাবির পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তিথি তখনো অবোধ শিশুর মতো হালকা হা করে ঘুমাচ্ছে। ওর ওই মিষ্টি ঘুমন্ত রূপ দেখে কাবিরের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। সে বিছানার পাশে বসে আলতো করে তিথির মুখের ওপর ফুঁ দিল।

​কাবির ঝুঁকে পড়ে অত্যন্ত সুন্দর আর আকুল গলায় ডাকল,

— "বিবিজান! শুনছো? ও বিবিজান, ওঠো আর দয়া করে রেগে থেকো না আমার ওপর।"

​তিথি চোখের পাতা দুটো আলতো করে মেলল। ঝাপসা দৃষ্টিতে কাবিরকে সামনে দেখে ওর বুকের ভেতরটা খুশিতে নেচে উঠল। আজ কাবিরকে এত কাছে দেখে তিথির বড্ড বেশি ভালো লাগছিল, কিন্তু মুখে সে নিজের অভিমানী ভাবটা বজায় রাখল। ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসতেই তিথি ডানে-বায়ে নিজের ওড়নাটা খুঁজতে লাগল। ওর পরনে তখন একটা গাঢ় নীল রঙের থ্রিপিস, যা ওর ফর্সা শরীরে দারুণ মানিয়ে গেছে। তবে প্রেগন্যান্সির কারণে ওর পেটটা এখন অনেক বড় দেখাচ্ছে।

​কাবির তিথিকে ওড়না খুঁজতে দেখে বিছানা থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়াল। তিথির ওড়নাটা নিজের গলায় পেঁচিয়ে নিয়ে একটা দুষ্টুমি ভরা হাসি দিয়ে বলল,

— "কী খুঁজছ বিবিজান? এই নাও, ওড়নাটা এখন আমার গলা থেকে এসে নিয়ে পরো দেখি!"

​তিথি লজ্জায় লাল হয়ে দুই হাতে মুখ আড়াল করে বলল,

— "ইশ! এমন করছেন কেন? আমার লজ্জা লাগে না বুঝি? ওড়নাটা দিন না প্লিজ, কেমন জানি লাগছে ওড়না ছাড়া!"

​— "নো নো বিবিজান! আগে আমার কাছে এসো, তারপর ওড়না দেব।"

কাবির একরোখা গলায় বলল।​তিথি বাধ্য হয়ে বিছানা থেকে নেমে এক পা, দু পা করে কাবিরের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তিথিকে এই রূপে দেখে কাবির শুকনো ঢোক গিলল। নীল কাপড়ের ওপর দিয়ে তিথির শরীরের প্রতিটা ভাঁজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ছোটখাটো দেহের মাঝে ওর গর্ভবতী পেটটা বিশাল বড় মনে হচ্ছে। কোমর পর্যন্ত ঘণ কালো চুলগুলো দুলছে। কাবির পলকহীন চোখে এক বুক নিশ্বাস চেপে ধরে তিথির দিকে চেয়ে রইল।

​তিথি কাবিরের নাগালের মধ্যে আসতেই কাবির এক ঝটকায় ওকে শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। তিথির মাথাটা কাবিরের চওড়া বুক পর্যন্ত এসেই ঠেকে গেল। কিন্তু আচমকা এই টানে তিথির বড় পেটটা কাবিরের শক্ত শরীরের সাথে চেপে যাওয়ায় সে একটু ব্যথা পেল।

"উফফ!"

তিথি পেটে হাত দিয়ে ককিয়ে উঠল।

​কাবির একদম মরিয়া হয়ে গেল,

— "কী হয়েছে বিবিজান? বেশি লেগেছে?"

তিথি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,

— "কিছু হয়নি। ওড়নাটা দিন না, কেমন ওদাম ওদাম লাগছে আমার।

​কাবির ওড়নাটা নিজের হাত উঁচুতে তুলে ধরে বলল,

— "হাত উঁচু করে ওড়নাটা কেড়ে নাও এটা আমার থেকে।"

​তিথি যেই ওড়নাটা নিতে হাত বাড়াল, কাবির সুযোগ বুঝে তিথির গোলাপী ঠোঁটে একটা গভীর চুমু খেয়ে বসল। তিথি স্তব্ধ হয়ে যেতেই কাবির ফিসফিস করে বলল,

—"এইবার রাগটা কমেছে বিবিজান?"

​তিথি ওড়নাটা না নিয়েই মুখটা ঘুরিয়ে নিল। নিজের পিঠের লম্বা চুলগুলো টেনে বুকের ওপর এনে শরীরটা ঢাকতে ঢাকতে বললো,

— "হুম, কিছুটা। কিন্তু আপনি দিন দিন এত বেখেয়ালী হয়ে যাচ্ছেন কেন? যে কেউ আপনাকে যা ড্রিংক দেবে, আপনি সেটাই চোখ বন্ধ করে খেয়ে নেবেন?"

​কাবির তিথির কোমরে হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর কণ্ঠে বলল,

— "ইফ অ্যানিওয়ান গিভস মি পয়জন ইন ইয়োর নেম, আই উইল ড্রিংক ইট উইদাউট অ্যানি হেজিটেশন, বিবিজান!"

​তিথি চট করে কাবিরের মুখের ওপর নিজের নরম হাতটা চেপে ধরল। চোখ বড় বড় করে বলল,

— "এইসব ফালতু কথা কক্ষনও বলবেন না! এইসব অলক্ষণে কথা শুনতে আমার একদম ভালো লাগে না।"

​ঠিক তখনই দরজার ওপাশ থেকে তানিয়া মিথু মিষ্টি গলায় কাবিরকে ডাকতে লাগলেন,

— "কাবির বাবা! তুমি ড্রেসটা চেঞ্জ করে নাও। এই যে তোমার আঙ্কেলের—মানে আব্বুর একটা নতুন লুঙ্গি আর গেঞ্জি রেখে গেলাম, পরে নাও।"

​—"হুম আম্মু, আমি একটু গোসল করব। খুব ফ্রেশ হওয়া দরকার।"

তারপর তিথির দিকে তাকিয়ে নাক কুঁচকে বলল, "তিথি, তুমি কি আজকে গোসল করেছ? তোমার শরীর থেকে কেমন পচা গন্ধ আসছে!"

​— "কীহ!আমি শুধু আজকে একটু গোসল করিনি, তাই বলে পচা গন্ধ আসছে? দেখুন ডানে বায়ে তাকিয়ে, চোখে বুঝি ছানি পড়েছে?"

​তানিয়া মিথু দরজার আড়াল থেকেই হেসে ফেলে বললেন,

— "হ্যাঁ বাবা কাবির, পারলে ওর শরীরটা একটু মুছে দিও আর মাথায় ভালো করে শ্যাম্পু করে দিও। মেয়েটা আজকাল নিজের একদম যত্ন নেয় না।"

​কাবির দরজার দিকে তাকিয়ে একটা চরম দুষ্টু হাসি দিয়ে চড়া গলায় বলল,

— "ঠিক আছে শাশুড়ি আম্মু! আপনার মেয়েকে এখন আমার ওপর ছেড়ে দিন। আমি ওকে একটু অন্যভাবে সেবা করব এখন।" 😉

​কাবিরের এমন কথা শুনে তানিয়া মিথু লজ্জায় লাল হয়ে "আচ্ছা বাবা" বলে দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলেন।

​তিথি কাবিরের বুকে একটা কিল মেরে বলল, —"এই! আপনি আম্মুর সামনে একী বললেন হ্যাঁ? আম্মু এখন আমাদের নিয়ে কী ভাববে? আপনি দিন দিন একটা অসভ্য সিংহ হয়ে যাচ্ছেন!"

​— "কী বললে বিবিজান? আর একবার বলো তো? ভালো শুনতে পাইনি, একটু জোরে বলো।"

​বলেই কাবির কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তিথিকে এক ঝটকায় দু-হাতে পাঁজাকোলা করে কোলের ওপর তুলে নিল।​তিথি আঁতকে উঠে কাবিরের গলা জড়িয়ে ধরতেই কাবির ওকে নিয়ে সোজা বাথরুমের দিকে পা বাড়াল। কিন্তু তিথি ছটফট করতে করতে ওর শক্ত বুকে ধাক্কা দিয়ে বলল,

— "এই ছাড়ুন! কী করছেন কী? আম্মু ডাইনিংয়ে আছে। আর আমার পেটে এখনও হালকা ব্যথা করছে, নামান আমায়!"

পেটে ব্যথা শব্দটা শুনতেই কাবিরের ভেতরের তপ্ত সিংহটা এক নিমেষে শান্ত হয়ে গেল। সে অত্যন্ত সাবধানে তিথিকে বাথরুমের মার্বেল মেঝের ওপর নামিয়ে দিল। তিথি নেমেই দু-পা পিছিয়ে গেল। লজ্জায় ওর পুরো ফর্সা গাল আপেলের মতো লাল হয়ে গেছে, কান দিয়ে যেন গরম ভাপ বেরোচ্ছে। সে কাবিরের দিকে তাকাতেই পারছে না।

​কাবির ততক্ষণে নিজের শার্টের বোতামগুলো খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলেছে। ওর পরনে এখন শুধু একটা সাদা টাউজার, উন্মুক্ত চওড়া বুক আর অ্যাবস একদম খালি। ভেজা বাথরুমের আবছা আলোয় ওর এই পেশিবহুল, সুঠাম শরীরটা দেখতে মারাত্মক লাগছিল। তিথি এক নজর কেবিনের কাঁচের আয়নায় কাবিরের ওই রূপ দেখেই চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল।

​কাবির তিথির এই অবস্থা দেখে ঠোঁটের কোণে এক চিরচেনা ডেভিল স্মাইল ফুটিয়ে তুলল। সে ধীরপায়ে এগিয়ে এসে তিথির ভেজা চুলে আঙুল ডুবিয়ে ওকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। ওর তপ্ত নিশ্বাস তিথির কপালে আছড়ে পড়তেই সে ফিসফিস করে বলল,

— "তুমি কি জানো না বিবিজান, স্বামী-স্ত্রী একসাথে গোসল করা সুন্নাত? সেখানে এত লজ্জা পাওয়ার কী আছে? আর তুমি যদি নিজের বরের সামনেই এত লজ্জা পাও, তাহলে কীভাবে হবে?"

​তিথি দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কোনোমতে নিজের ওড়নাটা বুকের ওপর টেনে নিয়ে কাঁপা গলায় বলল,

— "না... আমি জানি ওটা সুন্নাত। তাও আমি আপনার সাথে গোসল করব না। আমার কেমন জানি লাগছে... প্লিজ আপনি বাইরে যান।"

​কাবির তিথির এতটুকু দূরত্বও সহ্য করতে পারছিল না। সে তিথির আরও কাছে ঝুঁকে এল, যেন ওদের দুজনের মাঝে একটা সুতো গলে যাওয়ারও জায়গা নেই। সে তিথির কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে একদম উম্মাদ গলায় ফিসফিস করে বলল,

— "এখনও কেমন জানি লাগছে বিবিজান? নো প্রবলেম! এই একটা বেবি তো কেবল শুরু। আমাদের লাইফে যখন আরও ৫-১০টা বেবি আসবে, তখন দেখবে এই কেমন জানি লাগা আর লজ্জা পাওয়া—সব এক্কেবারে ভ্যানিশ হয়ে গেছে। তখন আর এই বরের থেকে এভাবে দূরে পালাতে পারবে না।"

​কাবিরের এই লাগামছাড়া কথাগুলো তিথির কানে পৌঁছাতেই ওর মাথায় যেন বজ্রপাত হলো! ৫-১০টা বাচ্চা! লজ্জায় তিথির মাথা একেবারে নুয়ে পড়ল। সে নিজের দুই হাতের তালুতে মুখটা পুরো লুকিয়ে ফেলল। লজ্জার তীব্রতায় ওর ফর্সা ঘাড় আর বুক পর্যন্ত লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ল।

​কাবির তিথির এই চরম লজ্জাবনত রূপ দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে মুচকি হেসে শাওয়ারের নবটা অন করে দিল। সাথে সাথেই ঠাণ্ডা জলের ধারা ওদের দুজনের ওপর আছড়ে পড়ল। নীল থ্রিপিসটা ভিজে তিথির শরীরের সাথে লেপ্টে যেতেই কাবির রহমান কায়নাত তার চুলে হাত গলিয়ে নিজের অধরের তৃষ্ণা মেটাতে মরিয়া হয়ে উঠল।

​#চলবে….....

(🐯অসভ্য সিংহটা বেশ ভালোই রোমান্স করতে যানে কী বলো তোমরা 🐣?? আজকের পার্ট কেমন হয়েছে জানাবে পাখিরা তাহলে কালকেও দু পার্ট দিবো 🐱। রিয়েক্ট আর বড় বড় কমেন্ট করে জানাবে কিন্তু 🫠)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন