ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের আউড়ে

৫০তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার শিলা

#প্রণয়ের_আউড়ে

#পার্ট৫০

#সুমাইয়া_আক্তার_শিলা

​কাবির এবার সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। ও সেলসগার্লদের দিকে এক রাশ তীব্র ক্ষোভ আর চোখ রাঙিয়ে ধমকে উঠল,

​"উই উইল নট বাই এনিথিং ফ্রম ইওর শপ! এন্ড স্টপ দিস চিপ ট্রিকস রাইট নাউ, আদারওয়াইজ আই উইল টেক লিগ্যাল স্টেপস এগেইনস্ট ইউ!" 😡🔥

​কাবিরের মারাত্মক ধমক আর হুঙ্কার শুনে শোরুমের সবকটা মেয়ে এক নিমেষে ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ওদের ওমন ভয়ার্ত চেহারা দেখে তিথির মনে যেন পুরো আনন্দের বন্যা বয়ে গেল! মেয়েগুলোর হাত থেকে নিজের হ্যান্ডসাম স্বামীকে এভাবে রক্ষা করতে পেরে ও যেন খুশিতে নাচতে নাচতে শোরুমের দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

​খুশির চোটে তিথি ডানে-বামে না তাকিয়ে নাচতে নাচতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই শোরুমের কাঁচের দরজার কাছে আসা অন্য এক কাস্টমারের সাথে ওর জোরে ধাক্কা লেগে গেল! ভারসাম্য হারিয়ে তিথি পিছলে পড়ে যেতে নিলেই পেছন থেকে এক জোড়া শক্ত এবং পরিচিত বাহু ওকে এক ঝটকায় আগলে নিজের বুকের মাঝে টেনে নিল। কাবির ওকে শক্ত করে ধরে বুক ধড়ফড় করা গলায় বলল,

​"দেখে চলতে পারো না বিবিজান? পড়ে গেলে কী হতো?"

​তিথি কাবিরের চওড়া বুকে হাত রেখে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে নিতে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। ধাক্কা লাগা সামলে নিয়ে তিথি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই দেখল, সামনে এক মধ্যবয়সী দম্পতি দাঁড়িয়ে আছেন। ভদ্রমহিলার বয়স ৩২ আর ওনার স্বামীর বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর হবে। ধাক্কা লাগার পর তিথি আমতা আমতা করে দুঃখ প্রকাশ করতেই ওনারা বড্ড অমায়িক আর আন্তরিক একটা হাসি দিলেন। ওনারা আসলে এই শোরুমের অন্য একটা সেকশনের দায়িত্বে ছিলেন। তিথির ওই মলিন বোরকা আর কাবিরের লুক দেখে ওনারা অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করে ওনাদের একটা স্পেশাল প্রিমিয়াম ট্রায়াল রুমে নিয়ে গেলেন।

​কাবির নিজেই ওনাদের কালেকশন থেকে চমৎকার একটা কুচকুচে কালো রঙের দুবাই চেরি কাপড়ের বোরকা পছন্দ করল। ও তিথিকে চেঞ্জিং রুমে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হাত-পায়ের মোজা, হিজাব, নিকাবসহ সবকিছু নিখুঁতভাবে পরিয়ে বাইরে নিয়ে এল। কালো বোরকায় তিথিকে একেবারে এক টুকরো চাঁদের মতো লাগছিল। কাবির তিথির মাথায় হাত রেখে ওখানের সেলস পারসনকে ইশারা করে বলল,

​"বিবিজান, এবার এই শোরুমে তোমার যে যে বোরকা পছন্দ হয়, সব কটা নিয়ে নাও। কোনো দ্বিধা করবে না।"

​তিথি নিজের নতুন বোরকাটার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে মাথা নেড়ে বলল,

​"না না, আমার আর লাগবে না। এই একটা বোরকা হলেই আমার চলে যাবে।"

​কিন্তু কাবির কি আর স্ত্রীর এই সামান্য আবদারে দমে যাওয়ার পাত্র? ও নিজের পছন্দ অনুযায়ী কালো, কফি, অ্যাশ আর বিভিন্ন হালকা কালারের প্রায় ১০০টা প্রিমিয়াম বোরকা, আবায়া, সাথে ম্যাচিং হিজাব আর নিকাব একবারে প্যাক করার অর্ডার দিয়ে দিল! এতগুলো কাপড়ের ব্যাগ দেখে তিথি চোখ কপালে তুলে বলল,

​"ওরে বাবারে! এতগুলো বোরকা দিয়ে আমি কী করব বলুন তো?"

​কাবির তিথির কোমরে আলতো চাপ দিয়ে বলল,

​"কেন বিবিজান, প্রতিদিন একটা একটা করে পরবে আর আমার সামনে ক্যাটওয়াক করবে!"

​শপিং শেষ করে গাড়িতে চড়ে যখন কাবির আর তিথি বাড়ির চড়পাড়ায় পৌঁছাল, ঠিক তখনই চারপাশ মুখরিত করে মাগরিবের আজান ধ্বনিত হলো। সারা দিনের ক্লান্তি ভুলে দুজনেই দ্রুত ফ্রেশ হয়ে, ওজু সম্পন্ন করে নামাজের ঘরে গিয়ে দাঁড়াল।

​নামাজ শেষ হতেই কাবির জায়নামাজে বসে তিথির দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,

​"বিবিজান, আজ আমি কুরআন তিলাওয়াত করব, তুমি মন দিয়ে শুনবে।"

​তিথি মাথা নেড়ে কাবিরের মুখোমুখি হয়ে বসল। কাবির অত্যন্ত সুমধুর সুরে সুরা ওয়া-কিয়াহ তিলাওয়াত করতে শুরু করল।

​রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করবে, সে কখনো দারিদ্র্যের মুখোমুখি হবে না।" (বায়হাকি, শুআবুল ইমান: ২৪৯৮)

​ঘরের ভেতর এক জান্নাতী শান্তি নেমে এল। তিলাওয়াত শেষ করে কাবির পরম যত্নে তিথির হাত দুটি নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

​"বিবিজান, জান্নাতে আমাদের এই সম্পর্কটা কেমন হবে? সেখানে কোনো দুঃখ থাকবে না, কোনো ক্লান্তি থাকবে না। আর তুমি হবে সেখানকার হুরদের চেয়েও হাজার গুণ রূপবতী, আমার চিরস্থায়ী অর্ধাঙ্গিনী।"

​তিথি কাবিরের বুকে আলতো কিল মেরে হেসে উঠল,

​"ধুর! আপনি না... জান্নাতেও আপনার এই দুষ্টুমি কমবে না!"

​ঠিক তখনই রুমের নীরবতা ভেঙে তিথির পেটের ভেতর থেকে বিকট এক শব্দ ডেকে উঠল গুড়ুড়ুড়ু...! 🤣😂

​তিথি তড়িৎ গতিতে নিজের পেটে হাত দিয়ে চোখ গোল গোল করে বলল,

​"এই! আপনার পেটে এত জোরে ক্ষুধা লেগেছে? এভাবে আপনার পেট কথা বলছে কেন?"

​

কাবির নিজের পেটে হাত বুলিয়ে হেসে কুটি কুটি হয়ে বলল,

​"আরে বিবিজান, ওটা আমার পেট না, ওটা তোমার পেটের ভেতরের ইঁদুরগুলো ড্রাম বাজাচ্ছে! ক্ষিধে তো তোমার লেগেছে!"

​তিথি জিভ কেটে লজ্জা পেয়ে বলল,

​"ওওও... হ্যাঁ! তাই তো বলি! যাই হোক, চটপট রান্নাঘরে গিয়ে কিছু বানিয়ে খাইয়ে আসি। আপনি খাবেন তো?"

​কাবির তিথির গালটা টেনে দিয়ে বলল,

​"না বিবিজান, আজ তুমি কিচ্ছু করবে না। আজ রান্না আমি করব, তুমি শুধু বসে বসে দেখবে।”

রান্নাঘরে গিয়ে কাবির নুডলস রান্নার তোড়জোড় শুরু করল। তিথি রান্নাঘরের একটু উঁচু স্ল্যাবের ওপর পা দুলিয়ে বসে রইল। কিন্তু ও তো দমবার পাত্রী নয়! ও জেদ ধরল,

"আপনি নুডলস বানাচ্ছেন বানান, আমি পেঁয়াজটা কেটে দিই।"

কাবির ফুটন্ত গরম পানিতে নুডলসগুলো ছেড়ে দিয়ে তিথির দিকে তাকাল। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে তিথির কিউট মুখটা কেমন যেন কুঁচকে গেছে। এই অপরূপ দৃশ্য দেখে কাবির নিজেকে আর সামলাতে পারল না। ও ধীর পায়ে তিথির একদম কাছে এগিয়ে গেল। আলতো হাতে তিথির কানের পিউনে কালো চুলগুলো সরিয়ে দিল। তিথির গালটা নিজের হাতের ছোঁয়ায় আগলে নিয়ে যেই না ঠোঁট জোড়া তিথির গালে ছোঁয়াতে যাবে, ঠিক তখনই পেঁয়াজের তীব্র ঝাঁঝের চোটে তিথি কাবিরের একদম মুখের ওপর হ্যাঁক--চ্ছোওওও! করে এক মারাত্মক হাঁচি দিয়ে দিল! 🤣😭

কাবির এক ঝটকায় চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তিথি ভয়ে আর লজ্জায় নিজের চোখ-মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরল। কাবির মুখ মুছে করুণ গলায় বলল,

"এইটা কী হলো বিবিজান? আমি তো রোমান্টিক মুডে গালে একটা কিস খেতে চেয়েছিলাম! তুমি এভাবে ডিরেক্ট রিজেক্ট না করলেও পারতে!"

তিথি হাত সরিয়ে আমতা আমতা করে বলল,

"আরে... আমি কি ইচ্ছা করে করেছি নাকি? এই পেঁয়াজ কাটতে কাটতে হঠাৎ হাঁচি চলে আসল..."

পেঁয়াজ কাটার কারণে এমনিতেই তিথির চোখে পানি চলে এসেছিল। এখন কাবিরের ওই রাগী রাগী মুখ দেখে ও একদম কান্নার ভান করে ফেলল। এমনিতে চোখে পানি ছিলই, তাই আলাদা করে আর কাঁদতে হলো না। তিথি মাথা নিচু করে কান্নোভেজা গলায় বলল,

"সরি... আমি একদম বুঝতে পারি নাই। প্লিজ রাগ করবেন না। আমি আর কখনো হাঁচি দেব না। এর পরের বার হাঁচি আসলে আমি টপ করে পানি খেয়ে নেব, তাও হাঁচিকে আসতে দেব না, ওকে? তাও রাগ করবেন না..." 🤣😭😭

তিথির এই নিষ্পাপ কথা শুনে কাবির আর নিজের রাগ ধরে রাখতে পারল না। ও ফিক করে হেসে দিল। তিথিকে টেনে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলল,

"পাগলী একটা! আমি তো একটু টিজ করে দেখছিলাম তুমি কী করো। তুমি তো দেখছি সবকিছুই বড্ড সহজে বিশ্বাস করে নাও!"

প্রায় ৩০ মিনিট পর ধোঁয়া ওঠা সুস্বাদু নুডলস রান্না শেষ হলো। দুজনে মিলে প্লেটে নিয়ে খেতে বসবে, ঠিক তখনই বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল।

তিথি জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে মাথায় হাত দিয়ে উঠল,

"হায় খোদা! আমার সুন্দর সুন্দর জামাকাপড়গুলো সব বাইরে বাতাসে উড়ছে! ওগুলো তো ভিজে গেল গো!"

বলেই তিথি ছোট ছোট পায়ে দৌড় দিল বাগানের দিকে কাপড়গুলো তুলতে। কিন্তু ও বাগানে পৌঁছানো মাত্রই বৃষ্টির বেগ এক ধাক্কায় যেন হাজার গুণ বেড়ে গেল। তিথির গায়ে থাকা সুতি বেগুনি শাড়িটা মুহূর্তের মধ্যেই একদম ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে গেল। বৃষ্টির পানির ছোঁয়ায় বেগুনি শাড়ি যেন ওর শরীরের বাঁকে বাঁকে জড়িয়ে গেছে। কাপড় তুলতে তুলতে একসময় ওর শরীরের আঁচলটা বুক থেকে সরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

*********

কাবির তখন ঘরের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিল। পরনে তার পুরনো সাদা টাওজার আর কালো স্লিভলেস গেঞ্জি, যেখান থেকে ওর সুঠাম কালো বাহুগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কাবির একদৃষ্টে বাগানে ভেজা শাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা তিথির দিকে তাকিয়ে রইল। বৃষ্টির জল তিথির চিবুক বেয়ে, গলা বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে... এই মোহময়ী দৃশ্য দেখে কাবিরের গলা যেন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল! তিথি কাপড়গুলো এক জায়গায় দলা পাকিয়ে ধরে কাবিরের দিকে তাকিয়ে বাচ্চার মতো আবদার করল,

"আমি এই বৃষ্টিতে একটু ভিজব? প্লিজ, আমায় অনুমতি দিন না!"

কাবির গম্ভীর গলায় বলল, "না।"

তিথি পা ঠুকে বলল,

"না, আমি ভিজবই ভিজব!"

কাবির বারান্দা থেকে নেমে বৃষ্টির মাঝেই ধীর পায়ে তিথির দিকে এগিয়ে এল। ওর একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভেজা চুলে হাত রেখে বলল,

"ভিজতে দেব বিবিজান, তবে দুটো কন্ডিশন আছে।"

তিথি বৃষ্টিতে কাঁপতে কাঁপতে বলল,

"হুম ওকে ওকে, আমি সব মানতে রাজি! তাড়াতাড়ি বলুন, বৃষ্টি আমায় ডাকছে!"

কাবির তিথির কোমরে হাত দিয়ে নিজের একদম কাছে টেনে আনল। ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“শর্ত ১-আমার সাথে বৃষ্টিতে কাছাকাছি থাকতে হবে, আই মিন, রোমান্স করতে হবে...।”🤤

তিথির বুক ধড়ফড়ানি বেড়ে গেল। কাবির ওর ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট এনে আবার বলল,

"শর্ত ২- আজ রাতে আমাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না। আশা করি বুঝতে পারছ, ডার্লিং...।"

এতটা খোলামেলা ও রোমান্টিক শর্ত শুনে তিথি লজ্জায় একদম লাল হয়ে গেল। ও কাবিরের বুক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল,

"না... ধুর! আমি পারব না।"

কাবির দুষ্টুমি ভরা হেসে তিথিকে ছেড়ে দেওয়ার ভান করে বলল,

"ওকে, তাহলে আর বৃষ্টিতে ভেজার দরকার নেই। চলো ঘরের ভেতরে চলো।"

তিথি কাবিরের শার্টের হাতা খপ করে ধরে ফেলল। আমতা আমতা করে বলল,

"না না... আমি পারব।"

কাবির ভ্রু নাচিয়ে বলল,

"ভেবে বলছ তো বিবিজান?"

"না মানে... হ্যাঁ, আচ্ছা! পারব!"

তিথি লজ্জায় মুখ লুকিয়ে কাবিরের বুকেই মুখ গুঁজল। কাবির তিথির থুতনি ধরে মুখটা ওপরে তুলে ধরে বলল,

"ওকে ডার্লিং, চলো তাহলে এবার একসাথে ভিজি!"

ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। কাবির তিথির হাত ধরে ওকে বৃষ্টির একদম মাঝখানে নিয়ে এল। কিন্তু তিথি বৃষ্টিতে গা ভাসিয়ে দেওয়ার আগে হুট করেই দুই হাত আকাশের দিকে তুলে চোখ বন্ধ করে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে একটি দোয়া পড়তে শুরু করল,

"আল্লাহুম্মা ছয়্যিবান নাফিয়া।"

(অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ওপর কল্যাণকর ও উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন।)

তিথিকে এভাবে বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে হাত তুলে পরম আকুলতায় দোয়া পড়তে দেখে কাবির থমকে দাঁড়িয়ে গেল। ইসলামে বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের যে বিশেষ ফজিলত রয়েছে, তিথি যেন ঠিক সেটাই করছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুই সময়ের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না এক আজানের সময়, আর দুই বৃষ্টির সময়। তিথির ভেজা চিবুক বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে, ঠোঁট দুটো কাঁপছে দোয়ার উচ্চারণে। এই পবিত্র দৃশ্য দেখে কাবিরের বুকের ভেতর কেমন যেন এক অদ্ভুত তোলপাড় শুরু হয়ে গেল।

-------

দোয়া শেষ করে তিথি চোখ খুলে পেছনে তাকাতেই দেখল কাবির এক দৃষ্টিতে, একদম নেশাতুর চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। সেই চাহনিতে এক তীব্র টান আর ভালোবাসা মিশ্রিত অন্ধকার গভীরতা।

কাবির আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। ও ধীর পায়ে এগিয়ে এসে তিথির ভেজা কোমরটা এক ঝটকায় নিজের শক্ত শরীরের সাথে লেপ্টে ধরল। কাবিরের শরীরের তীব্র উত্তাপ তিথির ভেজা বেগুনি শাড়ি ভেদ করে ওর ত্বকে এসে লাগল। কাবির তিথির কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে গাঢ় মাতাল গলায় ফিসফিস বলল,

"টেল মি বিবিজান, তোমার মধ্যে কী আছে এমন? বলো না... আই হ্যাভ নেভার ফলেন ইন লাভ লাইক দিস ইন মাই এনটায়ার লাইফ, আই সোয়্যার! আমি আমার পুরো জীবনে এভাবে কখনো কারও প্রেমে পড়িনি, কসম! বাট আফটার সিয়িং ইউ... তোমাকে দেখার পর থেকে আমি আর নিজের কন্ট্রোলে নেই এনিমোর…।”

তিথি কাবিরের এমন উম্মাদ কথা শুনে শিউরে উঠল। ও নিজের ছোট ছোট হাত দুটো কাবিরের চওড়া ভেজা বুকে চেপে ধরে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,

"আপ--আপনি এইসব কী বলছেন? আপনি তো আমার স্বামী... আমার ওপর তো আপনার পুরো অধিকার।"

কাবির তিথির ভেজা মুখের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি হাসল। ওর হাত তিথির কোমরে আরও শক্ত হলো, যেন ও তিথিকে নিজের শরীরের ভেতর ঢুকিয়ে নিতে চায়। ও বলল,

"হ্যাঁ, তুমি আমার বিবাহিত স্ত্রী। কিন্তু তোমার বয়স তো মাত্র ১৮, তাই না?"

তিথি ধক করে ওঠা বুক নিয়ে কোনোমতে মাথা নেড়ে বলল,

"হুম..."

কাবির ওর ঠোঁটের খুব কাছে নিজের ঠোঁট এনে ফিসফিস করল,

"এই ১৮ বছর বয়সে এত তেজ, এত মায়া আর পুরুষকে পাগল করার মতো এই মারাত্মক মোহ একটা মেয়ের মধ্যে কোথা থেকে আসে, বিবিজান? ইউ ডোন্ট নো, তুমি কতটা বিপজ্জনক! তোমার এই নিষ্পাপ রূপ আমার ভেতরের অন্ধকার পুরুষটাকে জাগিয়ে তোলে। তোমাকে যত দেখি, আমার ভেতরের ক্ষুধা তত বাড়ে। মনে হয় তোমাকে পুরোটা গ্রাস করে নিই...।"

তিথি কাবিরের চোখের দিকে তাকাতেই ভেতরে ভেতরে কেঁপে উঠল। ও কথা ঘোরানোর জন্য বলল,

"আপনি... আপনি আমায় ভিজতে দিন। আমি বৃষ্টিতে ভিজব...।"

কাবির তিথির ভেজা চুলে নিজের আঙুল গলিয়ে দিয়ে আরও গভীর, রোমহর্ষক গলায় বলল,

"ভিজবে? হ্যাঁ, ভিজবে। আমার সাথেই ভিজবে বিবিজান। বৃষ্টির এই প্রতিটা ফোঁটা যেমন তোমার শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি আজ রাতে আমার শরীরের স্পর্শ, আমার ভালোবাসার প্রতিটা কণা তোমার শরীরের প্রতিটা জায়গায় পৌঁছাবে... আমি সেটাই চাই। আজ রাতে প্রকৃতির এই বৃষ্টির চেয়েও বড় এক ঝড় উঠবে আমাদের মাঝে..."

কাবিরের এমন শুনে তিথি লজ্জায় আর উত্তেজনায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। কাবির তিথির ভেজা কপালে, গালে আর ঠোঁটের কোণে পরম তৃষ্ণায় নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। বৃষ্টির পানির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেল তাদের নিশ্বাসের তপ্ত হাওয়ায়।

°°°°°°°°°°°°°°°

ঠিক তখনই ঘটল সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো পরিবেশকে স্তব্ধ করে দিল!

বাগানের দেয়ালের ঠিক ওপাশেই, অর্থাৎ মেইন রোডের দিক থেকে হঠাৎ করেই একটা গাড়ির চাকা বিকট শব্দে ব্রেক করার আওয়াজ পাওয়া গেল—ক্রীীীচচচ!

তার পরপরই একটা প্রচণ্ড ধাক্কা লাগার আর কাঁচ ভাঙার শব্দে পুরো চড়পাড়া এলাকা যেন কেঁপে উঠল! কোনো একটা গাড়ি মারাত্মকভাবে রোড এক্সিডেন্টের শিকার হয়েছে।

তিথি এক ঝটকায় চোখ মেলে কাবিরকে জড়িয়ে ধরল,

"ওরে বাবারে! ওটা কীসের শব্দ?"

কিন্তু কাবির তিথির কথার উত্তর দিল না। ও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকাল। কাবিরের মুখের সেই রোমান্টিক ভাবটা এক সেকেন্ডে উধাও হয়ে ওর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। রোডের দিক থেকে মানুষের চিৎকার আর হইচই শোনা যেতে লাগল। বৃষ্টি তখনো ঝমঝম করে পড়ছে।

_____

কাবির তিথিকে এক হাত দিয়ে আগলে রেখে পকেট থেকে ফোনটা বের করতে চাইল, কিন্তু ঠিক তখনই বাগানের পেছনের অন্ধকার কোণ থেকে হুট করে একটা মানুষের অবয়ব ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোয় ভেসে উঠল! লোকটার শরীর রক্তাক্ত, আর সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কাবিরদের বাগানের গেটের দিকেই এগিয়ে আসছে।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, লোকটা রক্তাক্ত হাত দিয়ে কাবিরের দিকে ইশারা করে খুব চেনা কিন্তু কাঁপাকাঁপা গলায় আর্তনাদ করে উঠল,

"কাবির...! ওরা... ওরা জেনে গেছে! পালাও..."

কথাটা শেষ করেই লোকটা বাগানের কাদার ওপর ধপাস করে লুটিয়ে পড়ল।

তিথি ভয়ে এক চিৎকার দিয়ে কাবিরের বুক ঘেঁষে দাঁড়াল। ও কাঁপতে কাঁপতে বলল,

"এই লোকটা কে? আর আপনাকে চেনে কীভাবে? ও কীসের কথা বলছে?"

তিথি কাবিরের দিকে তাকাতেই আরও বেশি চমকে গেল। কাবিরের চোখে এখন আর কোনো সাধারণ মানুষের নরম ভাব নেই। ওর চোখ দুটো যেন হিংস্র কোনো শিকারী চিতার মতো জ্বলছে। কাবির তিথির দিকে না তাকিয়েই ঠান্ডা আর বরফশীতল গলায় বলল,

"তিথি, তুমি এখনই ঘরের ভেতর যাও। দরজা-জানলা সব বন্ধ করো। আমি না আসা পর্যন্ত একদম বের হবে না!”

#চলবে……

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন