ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার নজরে

জাগরণ

লেখক: তাহমিনা

ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। আর হাসপাতালের জানালার কাঁচে রাতভর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো জমে আছে। কেবিনের ভেতরে জীবাণুনাশকের গন্ধ, মেশিনের আলো আর একটানা বিপ... বিপ... শব্দ ছাড়া আর কিছুই নেই। সময় যেন এখানে অনেক আগেই থেমে গেছে।সাদা বিছানায় শুয়ে আছে একজন তরুনী। তার চোখ দুটো বন্ধ। মুখটা খুবই শান্ত, যেন মনে হচ্ছে সে গভীর ঘুমে ডুবে আছে।কিন্তু এই ঘুম কোনো সাধারণ ঘুম নয়।আজ ঠিক এক বছর তিন মাস সতেরো দিন ধরে সেই তরুণীটি কোমায়।দুর্ঘটনার পর ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন।তার অপারেশনটাও সফল হয়েছিল। কিন্তু মস্তিষ্কে আঘাত এতটাই গভীর দীর্ঘ ছিল যে তার চেতনা আর ফিরে আসেনি। ডাক্তাররা বলেছিলেন—"শরীর বেঁচে আছে, কিন্তু তার মস্তিষ্ক নিজের ভেতর একটা আলাদা জগতে আটকে আছে।"প্রথম কয়েক মাস সবাই ভেবেছিল, আজ না হয় কাল সে ঠিকই জেগে উঠবে।তারপর সপ্তাহ কেটে গেল আর মাস এর পর মাস আসলো একটা বছরও পার হয়ে গেল কিন্তু তার জ্ঞান ফেরার কোনো নাম গন্ধ নেই। তার পরিবারের লোকেরা অনেকেই আশা হারিয়ে ফেলল।কিন্তু রিয়ান হারায়নি।প্রতিদিন সে তার আপুর পাশে এসে বসত। নিজের দৈনন্দিন জীবনের গল্প করত। নতুন বন্ধুদের কথা বলত। কখনো পরীক্ষার দুশ্চিন্তা, কখনো নোভার নতুন ডিজাইন, কখনো এলিসার দুষ্টুমি—সবই বলত।নাহার আক্তার হলো নোভার মা। নোভারা এক ভাই এক বোন। ভাই-এর নাম হলো সাফোয়ান যে কি-না এখন বিদেশে তাদের কোম্পানির কাজের জন্য গেছে অল্প কিছু দিনের ভিতর বাংলাদেশে আসবে।ও তাদের বাবা মাহমুদ চৌধুরী। আফরোজা সে প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করতেনও সালাত আদায় করতেন তার মেয়ের জন্য। বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ চাইলে এক মুহূর্তেই সব বদলে যেতে পারে।কিন্তু কেউ জানত না...এই দীর্ঘ এক বছর তিন মাসে অরোরা কোথায় ছিল।...অরোরা অন্ধকারে ছিল না আবার সে নিঃসঙ্গও ছিল না।বরং সে এমন এক পৃথিবীতে বাস করছিল, যেটা তার কাছে বাস্তবের থেকেও বাস্তব ছিল।সেখানে একটা বিশাল চৌধুরী ম্যানশন ছিল।সেখানে নোভা ছিল, এলিসা ছিল,সাফওয়ান ছিল,রিয়ানও ছিল আর ছিল...একজন মানুষ।যে তাকে "পাখি" বলে ডাকত।যে তার অভিমান ভাঙাত।বৃষ্টিতে তাকে আগলে রাখত।তার হাসির জন্য নিজের রাগ ভুলে যেত।সেই মানুষটার নাম—সাইফ।সেখানে অরোরার অন্য এক পরিচয়ও ছিলো। সেটা হলো সবার আদরের সাইফা।কাছে ওটা কোনো স্বপ্ন ছিল না।সে কখনো বুঝতেই পারেনি, সে কোমায় আছে।তার কাছে প্রতিটা সকাল সত্যি ছিল।কলেজে যাওয়া সত্যি ছিল।বৃষ্টিভেজা ছাদ সত্যি ছিল।চৌধুরী ম্যানশনের প্রতিটা দেয়াল, প্রতিটা করিডোর, প্রতিটা মানুষ সত্যি ছিল।আরমানও সত্যি ছিল।Shadow Order-ও সত্যি ছিল।ভালোবাসা সত্যি ছিল।ভয়ও সত্যি ছিল।সে কেঁদেছিল,হেসেছিল,অভিমান করেছিল।ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল।সে বিশ্বাস করেছিল—এই পৃথিবীটাই তার বাস্তব জীবন।...ঠিক তখনই হাসপাতালের মনিটরের শব্দ বদলে গেল।বিপ... বিপ... বিপ...ডিউটি নার্স অবাক হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকালেন।অরোরার ডান হাতের আঙুল সামান্য নড়ে উঠেছে।তারপর আবার তিনি দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেন।

—"ডাক্তার! পেশেন্ট রেসপন্ড করছে!"কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পুরো কেবিন ভরে গেল ডাক্তার আর নার্সে।রিয়ান চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে আপুর হাত শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে রইল।ধীরে ধীরে...অরোরার চোখের পাতা কাঁপল।একবার না দুই থেকে তিনবার।তারপর...সে চোখ খুলল।তীব্র সাদা আলোয় তার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল।কয়েক সেকেন্ড পর যখন দৃষ্টি পরিষ্কার হলো...সে চারদিকে তাকাল।এটা চৌধুরী ম্যানশন নয়, এখানে সেই বড় বারান্দা নেই,বৃষ্টিভেজা ছাদ নেই আর না আছে তার ভালোবাসার মানুষ সাইফ।কোথাও সাইফ নেই।তার বুকের ভেতর হঠাৎ এক অজানা শূন্যতা নেমে এল।ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে সে শুধু একটাই নাম উচ্চারণ করল—"...সাইফ..."রিয়ান চোখ মুছতে মুছতে হাসল আর কাপা কন্ঠে বলেতে লাগলো

—"আ..আপু তুই জেগে উঠছিস আমি এখনই বাকিদের জানাবো।"কিন্তু পরের প্রশ্নটা শুনে সে থমকে গেল।

—"সাইফ কোথায়...?"রিয়ান বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল।

—"আপু...সাইফ কে?"প্রশ্নটা শুনে সাইফার চোখ বড় হয়ে গেল।তার মাথার ভেতর ঝড় বয়ে যেতে লাগল।একটার পর একটা স্মৃতি...বৃষ্টির রাত...সাদা শার্ট...চৌধুরী ম্যানশন...সাইফের চোখ...সাইফের হাসি...সবকিছু যেন একসঙ্গে ভেঙে পড়ল।সে বুঝতে পারছিল না—সে কি স্বপ্ন থেকে জেগে উঠেছে?নাকি...এই পৃথিবীটাই আসল স্বপ্ন?তার চোখ বেয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।কারণ তার কাছে সাইফ কোনো স্বপ্নের মানুষ ছিল না।সে ছিল তার জীবন।সে ছিল তার প্রথম ভালোবাসা।আর আজ...সবাই বলছে...এমন কেউ কোনোদিন ছিলই না।বাইরে আবার বৃষ্টি শুরু হলো।সেই বৃষ্টির শব্দ শুনে সাইফার বুকটা হুহু করে উঠল।কারণ...সে জানত না...সে কি একজন মানুষকে হারিয়েছে...নাকি এমন একজনের জন্য কাঁদছে, যে শুধু তার কোমার পৃথিবীতেই ছিল।

"...সাইফ কোথায়...?"

মেয়েটির কাঁপা কণ্ঠে উচ্চারিত মাত্র দুটি শব্দ যেন পুরো কেবিনটাকে মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ করে দিয়েছিলো।রিয়ান প্রথমে ভেবেছিল তার আপু হয়তো এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। কোমা থেকে জেগে ওঠা রোগীদের অনেকেই নাকি কিছু সময় বাস্তব আর কল্পনার পার্থক্য বুঝতে পারে না—ডাক্তারদের কাছ থেকে সে এমনটাই শুনেছিল।

তবুও...এই নামটা সে আগে কখনো শোনেনি।রিয়ান ধীরে ধীরে আপুর হাতটা আরও শক্ত করে ধরল।

—"আপু... আমি রিয়ান। আমাকে চিনতে পারছিস?"সাইফা তার দিকে তাকাল। চোখ দুটো ভেজা। তবু সে মাথা নাড়ল।

—"চিনতে পারছি..."

রিয়ানের মনে অনেক প্রশ্ন জেগে উঠেছে সেই কৌতুহল থেকেই সাইফাকে না চাইতেই প্রশ্ন করলে —"তাহলে... সাইফ কে?"

প্রশ্নটা শুনেই যেন সাইফার জন্য সময় থেমে গেল।সাইফার বুকের ভেতরটা অল্প কম্পন হয়ে উঠল। তার ঠোঁট শুকিয়ে এলো।

—"সাইফ..."

শব্দটা আবারও তার মুখ থেকে খুব আস্তে বেরিয়ে এলো।

—"ও... ও আমার..."

কথাটা শেষ করার আগেই তার মাথার ভেতর অসংখ্য দৃশ্য বজ্রপাতের মতো ঝলসে উঠতে লাগল।বৃষ্টিভেজা ছাদ একসাথে ভিজা...চৌধুরী ম্যানশনের বিশাল বারান্দা তাদের খুনসুটি...

অন্ধকার কবরস্থানে তাদের প্রথম মিলন...

কালো শার্ট পরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ...

তার গভীর কণ্ঠ বলে উঠা ...

"পাখি..."

শুধু একটি ডাক তার শতবার অভিমান ভেঙেছে, শতবার হেসেছে,শতবার ভালোবেসেছে।সবকিছু যেন একসঙ্গে তার মাথার ভেতর বিস্ফোরিত হতে লাগল। হঠাৎ করেই মনিটরের শব্দ দ্রুত হয়ে উঠল।বিপ... বিপ... বিপ... বিপ...

"নার্স!"

একজন নার্স দ্রুত এগিয়ে এলেন অরোরার কাছে নার্সটি শান্ত গলায় বললেন,

—"ওকে চাপ দেবেন না। একসঙ্গে অনেক স্মৃতি ফিরে আসছে। এটা স্বাভাবিক।"

কিন্তু সাইফার কাছে কিছুই স্বাভাবিক লাগছিল না।

তার মনে হচ্ছিল—এই মানুষগুলো সবাই ভুল বলছে।তারা কীভাবে বলছে সাইফ কে?

সেই হাসি?সেই কান্না?সেই ভালোবাসা?সব মিথ্যে?

এইটা কোনোদিনই সম্ভব না।একদম অসম্ভব।

তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল।

সাইফা হঠাৎ করেই বলে উঠে

—"সে কি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে?সাইফ তো প্রমিস করে ছিলো আমাকে একা রেখে কোনোদিন যাবে না।কিন্তু আজ কিভাবে আমাকে একা রেখে গেলো?"

সে কোনো উত্তর দিতে পারল না কারণ সে সত্যিই জানে না।তার আপু এমন একজন মানুষের কথা বলছে, যাকে এই পৃথিবীর কেউ চেনে না।ঠিক তখনই কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন নাহার আক্তার,নোভা,এলিসা,আরোরার মা আফরোজা,এলিসার মা এভেলিনা,এলিসার ভাই আরিয়ান

নোভা,এলিসা, ও আরোরার তাদের বাবাদের তখন ও কেউ জানাই নেই কারণ তারা তখনই পাগলের মতো চলে আসতো তাই।সাফোয়ানের আজকে রাতে ফ্লাইটে দেশে আশার কথা ছিলো।এক বছর তিন মাস ধরে প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করে ও সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে যিনি একটি অলৌকিক মুহূর্ত চেয়েছিলেন...আজ সেই মুহূর্ত সত্যি হয়েছে। আফরোজা দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন।তিনি দরজায় দাঁড়িয়েই স্থির হয়ে গেলেন।বিছানায় শুয়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে তার মেয়ে..চোখ খুলে তাকিয়ে আছে।

—"অরোরা..."শব্দটা বের হতেই তার গলা ভেঙে গেল।পরের মুহূর্তেই তিনি ছুটে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।

—"আলহামদুলিল্লাহ... আলহামদুলিল্লাহ..."

তার কান্নায় পুরো কেবিন ভরে গেল।সাইফা ধীরে ধীরে মায়ের দিকে তাকাল।চোখের কোণে পানি জমে উঠল।

"মা..."শব্দটা উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই আফরোজা আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।

এক বছর তিন মাসের জমে থাকা সমস্ত কষ্ট, ভয়, অপেক্ষা আর প্রার্থনা অশ্রু হয়ে ঝরে পড়তে লাগল।সবাই দাঁড়িয়ে তাদের মা ও মেয়ের ভালোবাসা মুহুর্ত দেখছে।এই দৃশ্যের জন্যই তো তারা এতদিন অপেক্ষা করেছে।কিন্তু...এই আনন্দের মাঝেও একটা অদ্ভুত অস্বস্তি রয়ে গেল।কারণ অরোরার চোখ বারবার দরজার দিকে চলে যাচ্ছে।যেন সে এখনো অপেক্ষা করছে—কেউ একজন দরজা খুলে ঢুকবে।তার পরিচিত ভারী কণ্ঠে বলবে—"পাখি..."

কিন্তু...দরজা আর খুললে আর কেউ আসলো না।কেউ এল না।শুধু বাইরের বৃষ্টির শব্দ আরও ঘন হয়ে উঠল।সাইফা চোখ বন্ধ করল।তার মনে হলো—সে যেন আবার সেই ম্যানশনের করিডোরে হাঁটছে।দেয়ালে ঝুলছে পুরোনো ছবিগুলো।সিঁড়ির ধাপে দাঁড়িয়ে আছে এলিসা।নোভা হাসতে হাসতে তাকে ডাকছে।সাফওয়ান কোনো একটা ফাইল হাতে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে নিচে নামছে।

আর দূরে...বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সাইফ।তার চোখে সেই চিরচেনা কঠোরতা।কিন্তু সাইফার দিকে তাকাতেই ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি।

—"এত দেরি করলি কেন, পাখি?"সাইফা দৌড়ে তার দিকে এগিয়ে যেতে চাইল।

কিন্তু..এক মুহূর্তেই পুরো দৃশ্যটা কাঁচের মতো ভেঙে হাজার টুকরো হয়ে গেল।সে হঠাৎ চোখ খুলে ফেলল।সামনে হাসপাতালের সাদা ছাদ।অচেনা আলো।চেনা মানুষ হলেও আজ তার কাছে অচেনা লাগছে।আর বুকভরা এক অসহনীয় শূন্যতা।সে বুঝতে পারছিল না—কোন পৃথিবীটা সত্যি?যেখানে সে এতদিন ছিল...নাকি যেখানে সে আজ জেগে উঠেছে?হয়তো...বাস্তব মানুষকে ভুলে যাওয়া যায়।কিন্তু হৃদয় দিয়ে যাকে ভালোবেসে ফেলা হয়...সে যদি শুধুই স্মৃতি হয়, তবুও তাকে ভুলে থাকা যায় না।বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।জানালার কাঁচ বেয়ে ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছে।সাইফা নিঃশব্দে সেই বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইল।তার মনে হচ্ছিল—কোথাও না কোথাও...এই একই বৃষ্টির নিচে...সাইফও হয়তো তাকে খুঁজছে।

অথবা...সাইফ সত্যিই কোনোদিন ছিল না।শুধু তার কোমায় বন্দী হৃদয়ের সৃষ্টি এক মানুষ ছিল।কিন্তু যদি তাই-ই হয়...তাহলে কেন এখনো তার বুকের প্রতিটি স্পন্দনে সেই মানুষটার অস্তিত্ব এত জীবন্ত?কেন এখনো মনে হচ্ছে—এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বাস্তব মানুষটির নাম...সাইফ।

চলবে...

[NOTE:

প্রিয় পাঠিকার/পাঠক,

সরি, আমার হানিবিজ। 🥹🤍

আমি একটু বেশি অলস হয়ে গিয়েছিলাম, তাই গত কয়েকদিন ধরে নতুন চ্যাপ্টার দিতে পারিনি। জানি, তোমাদের অনেকেই অপেক্ষা করছিলে। সেই অপেক্ষা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সত্যিই দুঃখিত।

তবে একটা কথা দিচ্ছি—এবার থেকে নিয়মিত চ্যাপ্টার দেওয়ার চেষ্টা করব। তোমাদের প্রতিটা কমেন্ট, ভালোবাসা আর অপেক্ষাই আমাকে এই গল্পটা আরও সুন্দরভাবে লিখতে অনুপ্রাণিত করে।

ধন্যবাদ, এতটা ধৈর্য নিয়ে আমার আর আমার গল্পের পাশে থাকার জন্য।

অনেক অনেক ভালোবাসা রইল। 🤍

— তোমাদের লেখিকা AVAKO

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে জাগরণ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন