ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নও

পর্ব 45

লেখক: মিশু

#তুমি_কারো_নও
#লেখিকা_মিশু

-----

এখন দুপুর বারোটা বাজছে।

রাত জেগে থাকার ক্লান্তি যেন পুরো ড্রয়িং রুমজুড়ে ছড়িয়ে আছে। কেউ সোফায় কাত হয়ে ঘুমাচ্ছে, কেউ মেঝেতে কুশন নিয়ে গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে। যে যেখানে পেরেছে, সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে।

অথচ রাতের শুরুতে সবার কতই না পরিকল্পনা ছিল, আজ কেউ ঘুমাবে না। সারারাত গল্প, আড্ডা আর মজা করেই কাটাবে। শেষমেশ ভোর চারটা পর্যন্ত ডোরেমন দেখতে দেখতে সবার চোখ এতটাই ভারী হয়ে এসেছিল যে, আর কেউ চোখ মেলে রাখতে পারেনি। একে একে সবাই ঘুমের কাছে হার মেনে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

সবার আগে জুয়িনের ঘুম ভাঙল।

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে সে চারপাশে তাকাল। তারপর উঠে প্রথমে রিদ আর সিয়ামকে ডাকল।
-"রিদ, ওঠ। সিয়াম, ওঠ।"

দুজনকে বেশ কয়েকবার ডাকার পর অবশেষে তারা নড়েচড়ে উঠল।

এরপর সিয়াম গিয়ে সাদ আর তাসনিমকে ডেকে তুলল।

এদিকে জুয়িন গেল তাসিফাকে ডাকতে। তাসিফা প্রথমে কোনোভাবেই উঠতে চাইছিল না। ঘুমের মধ্যে কেবল এপাশ-ওপাশ করছিল।

জুয়িন কয়েকবার ডাকলেও যখন কোনো কাজ হলো না, তখন একটু ধমকের সুরে বলল,
-"তাসিফা, ওঠ।"

ধমকটা কানে যেতেই তাসিফা ধড়ফড় করে উঠে বসল। ঘুমজড়ানো চোখে কিছুক্ষণ সামনে তাকিয়ে থেকে বুঝতে চেষ্টা করল, কোথায় আছে সে।

তবে ইয়াশকে কিছুতেই উঠানো যাচ্ছে না।

শালায় সোফার ওপর একটা কুশনকে কোলবালিশ বানিয়ে এমন আরামে ঘুমাচ্ছে, যেন পৃথিবীতে তার কোনো দায়িত্বই নেই। নাক টেনে টেনে এমনভাবে ঘুমাচ্ছে যে, আশপাশে কী হচ্ছে সে বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।

অন্যদিকে তাসিফা আর তাসনিম ফ্রেশ হতে চলে গেল।

এদিকে সাদ ইয়াশকে উঠানোর দায়িত্ব নিল। প্রথমে কাঁধ ধরে ঝাঁকাল।
-"ইয়াশ, ওঠ।"

ইয়াশের কোনো সাড়া নেই।

আরেকবার একটু জোরে ঝাঁকাল।
-"ইয়াশ! ওঠ বলছি।"

তবুও ইয়াশের ঘুম ভাঙল না।

সাদ এবার বিরক্ত হয়ে কয়েকবার চেষ্টা করেও যখন কোনো ফল পেল না, তখন তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে ইয়াশের কানের কাছে মুখ নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে বলল,
-"কুত্তার বাচ্চা! ওঠ!"

ইয়াশ যেন সোফার ওপরই বোমা পড়েছে এমনভাবে লাফিয়ে উঠে বসল।

চোখ বড় বড় করে কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক তাকাল। তারপর আশপাশের মানুষগুলোকে দেখে থমকে গেল। কয়েক সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে সব মনে পড়তেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

সিয়াম হেসে বলল,
-"দুপুর বারোটা বাজে। ওঠো।"

ইয়াশ একটা লম্বা হাই তুলে চোখ কচলাতে কচলাতে হেসে বলল,
-"আমি হবো দুপুরবেলার কাক। দুপুর বারোটায় ঘুম থেকে উঠে বলব, হোওয়াদ্দাফাক!"

কথাটা শুনে জুয়িন হেসে ফেলল।

বাকিরাও আর নিজেদের হাসি ধরে রাখতে পারল না।

রিদ বলে উঠল,
-"ঘুম থেকে উঠেই জাউড়ামি শুরু!"
কথাটা শুনে আবারও হেসে উঠল সবাই।

এর মধ্যেই তাসিফা আর তাসনিম ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে ফিরে এলো।

তাসিফা এসে পেটে হাত রেখে ক্লান্ত গলায় বলল,
-"অনেক ক্ষুধা লেগেছে।"

জুয়িন সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে তাকাল। তারপর একবার চারপাশে তাকিয়ে সবাইকে বলল,
-"যারা এখনো ফ্রেশ হওনি, তারা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি নাশতা বানাতে যাচ্ছি।"

কথাটা শুনে সবাই মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। এরপর যে যার মতো ফ্রেশ হওয়ার জন্য উঠে পড়ল।

-----

জুয়িন কিচেনে এসে এপ্রোন পরে নিল। এরপর চুলার ওপর একটা পাত্র বসিয়ে তাতে পানি ঢেলে গরম করতে দিল।

কিচেনে তখন বেশ শান্ত পরিবেশ। ড্রয়িং রুম থেকে সবার টুকটাক কথা আর হাসির শব্দ ভেসে আসছে। জুয়িন সেদিকে মন না দিয়ে নিজের মতো করে নাশতা বানানোর প্রস্তুতি নিতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর পানি গরম হয়ে এলে তাতে পরিমাণমতো লবণ দিল। এরপর ধীরে ধীরে ময়দা দিয়ে খুন্তির সাহায্যে মেশাতে লাগল।

পানি তখনো বেশ গরম। তাই হাত দিয়ে মাখার কোনো উপায় নেই। হাত দিলে পুড়ে যেতে পারে। জুয়িন তাই সাবধানে খুন্তি দিয়েই ময়দা মেখে নিল।

মাখা হয়ে গেলে পাত্রটা চুলা থেকে নামিয়ে পাশে রেখে দিল।

এরপর পরোটা বানানোর জন্য ময়দা নিয়ে বেলতে শুরু করল। একমনে নিজের কাজ করে যাচ্ছিল সে।

ঠিক তখনই তাসিফা চুপিচুপি কিচেনে ঢুকল।

কয়েক পা এগিয়ে জুয়িনের পেছনে এসে দাঁড়াল। জুয়িন তখন নিজের কাজে এতটাই ব্যস্ত যে, তাসিফা কখন তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটাও টের পেল না।

তাসিফা মুখ চেপে হাসি আটকে রাখার চেষ্টা করল। কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ পেছন থেকে জুয়িনকে জড়িয়ে ধরল।

আচমকা এমন কাণ্ডে জুয়িন প্রথমে চমকে উঠল। হাতে থাকা কাজটাও এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তারপর বুঝতে পেরে মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে হালকা অবাক গলায় বলল,
-"ম্যাডামের আজ কী হয়েছে?"

তাসিফা জুয়িনের পিঠে মুখ ঘষতে ঘষতে একেবারে নিরীহ গলায় বলল,
-"কই? কিছু না তো।"

জুয়িন কিছু বলল না। শুধু ঠোঁটের কোণে হাসিটা ধরে রেখে আবার নিজের কাজে মন দিল।

কিছুক্ষণ পর তাসিফা জুয়িনকে ছেড়ে দিল।

তারপর প্লেটের পাশে রাখা সামান্য ময়দা আঙুলে নিয়ে দুষ্টুমি করে জুয়িনের গালে লাগিয়ে দিল।

নিজের কীর্তি দেখে তাসিফার মুখে হাসি আরও চওড়া হয়ে গেল। সে বলল,
-"কিউট লাগছে।"

জুয়িন ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে ভ্রু কুঁচকে তাসিফার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

জুয়িনের ভ্রু কুঁচকে থাকা দেখে তাসিফা বুঝতে পারল, এবার জুয়িনও তাকে ছাড়বে না। তবু সে একটুও সরল না। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল, মুখের দুষ্টু হাসিটাও বরং আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

জুয়িন হাতের কাজটা একপাশে রেখে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে গেল। তারপর সামান্য ময়দা নিয়ে তাসিফার গালেও লাগিয়ে দিল।

তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে মুখ কুঁচকে তাকাল।

জুয়িন মুচকি হেসে বলল,
-"হট লাগছে।"

তাসিফা বিরক্ত মুখে বলল,
-"ছিহ।"
কথাটা শুনে জুয়িন হেসে ফেলল।

কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর জুয়িন নিজের ডান গালটা তাসিফার দিকে এগিয়ে দিয়ে দুষ্টুমি করে বলল,
-"চুমু দে।"

তাসিফার মুখে সঙ্গে সঙ্গে লজ্জার ছাপ ফুটে উঠল। সে নিচু গলায় বলল,
-"কেউ দেখে নিলে?"

জুয়িন ভ্রু নাচিয়ে বলল,
-"যখন জড়িয়ে ধরলি, তখন ভাবিসনি কেউ যদি দেখে নিতো?"

তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু কুঁচকে বলল,
-"জড়িয়ে ধরা আর চুমুর মধ্যে পার্থক্য আছে, বুঝলেন?"

জুয়িনের মুখের হাসিটা আরও স্পষ্ট হলো। সে দুষ্টুমি করে বলল,
-"এত পার্থক্য-টারথক্য বুঝতে চাই না, চুমু দে তুই।"

তাসিফা জুয়িনের এই বাচ্চামিতে হেসে ফেলল। সে জুয়িনের চোখের দিকে একবার তাকাল। তারপর মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে সামান্য পা উঁচু করে জুয়িনের গলা জড়িয়ে ধরল।

কয়েক মুহূর্তের জন্য দুজনেই চুপ করে রইল। তাসিফার মুখে তখন লাজুক একটা হাসি। এরপর সে ধীরে করে জুয়িনের গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।

মুহূর্তটা যেন একটু থেমে গেল।

তাসিফা ধীরে ধীরে সরে আসতেই জুয়িন তার দিকে তাকিয়ে রইল। মুখে ফুটে উঠল তৃপ্তির একটা হাসি। চোখেমুখে এমন একটা দুষ্টু আনন্দ, যেন তাসিফার এই ছোট্ট আদরটুকুই তার চাওয়া ছিল।

তাসিফার দিকে তাকিয়ে জুয়িন একটা চোখ টিপল। তারপর মুচকি হেসে তাসিফার ঠোঁটের দিকে এগোতেই কিচেনের দরজার কাছ থেকে কয়েকজনের কাশির শব্দ ভেসে এলো। জুয়িন আর তাসিফা দুজনেই সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে ফিরে তাকিয়ে দেখল কিচেনের দরজার কাছে ভন্ডপার্টি, রিদ আর সিয়াম গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে। এতক্ষণ যে সবাই মিলে দরজার আড়াল থেকে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল, সেটা বুঝতে তাসিফার আর এক মুহূর্তও লাগল না।

লজ্জায় তাসিফার মুখটা মুহূর্তেই গরম হয়ে উঠল। সে তাড়াতাড়ি জুয়িনকে নিজের সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে একটু সরিয়ে দিল। জুয়িনও বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেল।

ইয়াশ বাকিদের দিকে তাকিয়ে মুখে শয়তানি হাসি ফুটিয়ে বলল,
-"আমরা মনে হয় একটু ভুল টাইমে এন্ট্রি নিয়ে ফেলেছি?"

সবাই একসঙ্গে মাথা ঝাঁকিয়ে প্রথমে ‘না’ বোঝাল। পরমুহূর্তেই আবার তাড়াতাড়ি মাথা ঝাঁকিয়ে ‘হ্যাঁ’ বোঝাল।

ইয়াশ ঠোঁট চেপে হাসল। তাসিফা আর জুয়িনের দিকে একবার তাকিয়ে ভীষণ নিরীহ গলায় বলল,
-"ওহ্, সরি! আমরা তো ভাবছিলাম কিচেনে নাশতার আয়োজন চলছে। এসে দেখি নাশতার আগে তোমরা নিজেদের জন্যই স্পেশাল আয়োজন করে বসে আছ! আমরা গেলাম, তোমরা কন্টিনিউ করো।"

কথাটা বলেই ইয়াশ ঘুরে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে বাকিরাও হেসে তার পেছনে চলে গেল।

সবাই চলে যেতেই তাসিফা বিরক্ত আর লজ্জায় গরম চোখে জুয়িনের দিকে তাকাল। মুখটা এখনো লাল হয়ে আছে।
-"আপনার জন্যই হয়েছে সব! সবার সামনে আমার মান-ইজ্জত বলে আর কিছুই থাকল না!"

জুয়িন অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
-"আমি আবার কী করলাম?"

তাসিফা আর কোনো ব্যাখ্যায় গেল না। কড়া গলায় বলল,
-"দ্রুত নাশতা বানানো শেষ করেন। ক্ষুধা লেগেছে। নাকি আজ নাশতার বদলে আপনাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে?"

বলেই আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। তাসিফা দ্রুত কিচেন থেকে বেরিয়ে গেল।

জুয়িন কয়েক সেকেন্ড বোকার মতো তাসিফার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মাথা নেড়ে আবার নিজের কাজে মন দিল।

-----

প্রায় বিশ মিনিট পর নাশতা তৈরি হয়ে গেল।

জুয়িন ট্রেতে করে সব খাবার নিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে এল। ডাইনিং টেবিলের ওপর একে একে সবকিছু সুন্দর করে রেখে দিল। বেশি কিছু রান্না করেনি সে। সবার জন্য পরোটা, চা আর ডিম পোচ, ব্যস এতটুকুই।

খাবারের গন্ধ পেতেই এতক্ষণ যার যার মতো বসে থাকা সবাই একে একে ডাইনিংয়ে এসে হাজির হতে শুরু করল। সবাই চেয়ার টেনে বসল।

কিন্তু টেবিলে বসার পরও ইয়াশ আর সাদ নিজেদের হাসি সামলাতে পারছে না। দুজনই মুখ চেপে বসে আছে। চোখাচোখি হলেই আবার হাসি চলে আসছে।

রিদ আর সিয়ামও কম যায় না। তারা মুখ নিচু করে হাসি লুকানোর চেষ্টা করছে। তাসনিমও বারবার তাসিফার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। সবাই এমন একটা ভাব করছে, যেন কিছুই হয়নি, অথচ তাদের মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে, একটু আগের কিচেনের ঘটনাটা কারো মাথা থেকে বের হয়নি।

তাসিফা পুরোপুরি অস্বস্তিতে পড়ে গেছে।

সে চুপচাপ নিজের জায়গায় বসে রইল। কারো চোখের দিকে তাকানোর সাহসই হচ্ছে না। একবার ভুল করে ইয়াশের দিকে তাকাতেই ইয়াশ মুখ বাঁকিয়ে হাসল। সঙ্গে সঙ্গে তাসিফা চোখ নামিয়ে নিল।

লজ্জায় তার মুখ এখনো লাল হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, সবাই ইচ্ছা করেই একটু পরপর তাকে আর জুয়িনকে নিয়ে খোঁচা দিচ্ছে।

জুয়িন অবশ্য বেশ স্বাভাবিক। সে নিজের জায়গায় বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে শান্তভাবেই সবার দিকে তাকাচ্ছে। মাঝে মাঝে তাসিফার দিকে চোখ পড়ছে, আর তাসিফা সেটা টের পেলেই আরও মুখ নিচু করে ফেলছে।

সবাই খাওয়া শুরু করল।

ইয়াশ পরোটায় এক কামড় দিয়ে বেশ তৃপ্তির সঙ্গে চিবাতে চিবাতে জুয়িনের দিকে তাকাল। তারপর মাথা নাড়িয়ে প্রশংসার ভঙ্গিতে বলল,
-"জুয়িন ভাই তো পুরাই হাসবেন্ড ম্যাটেরিয়াল! ভাই, আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে!"

তাসনিম সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে সায় দিল।
-"আসলেই। একদম ঠিক বলছিস।"

সাদ হঠাৎ যেন কিছু একটা মনে পড়েছে, এমন ভঙ্গিতে ইয়াশের দিকে তাকাল। তারপর মুখে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল,
-"ওই হারামজাদা, একটা কথা মনে পড়ছে! আজকে তো তোর বার্থডে। তাহলে আজকের লাঞ্চের ট্রিটটা তুই দিবি।"

রিদ আর সিয়ামও সঙ্গে সঙ্গে সুর মেলাল,
-"অবশ্যই দিতে হবে!"

ইয়াশ পরোটার টুকরো মুখে দিয়েই ভ্রু কুঁচকে ফেলল।
-"কোথায় লেখা আছে যে বার্থডে হলেই ট্রিট দিতে হবে?"

তাসনিম আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। চেয়ার থেকে উঠে ইয়াশের পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল,
-"কোথাও লেখা নেই। কিন্তু তুই ট্রিট দিবি। আজকে তোর বার্থডে, তাই আজকে তোকে দিতেই হবে। নাহলে তোকে মেরে ফেলব!"

ইয়াশ তাসনিমের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকাল। তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
-"বইন, ট্রিট না দিলে মেরেই ফেলবি? তোরা দেখি বার্থডের চেয়েও খাবার নিয়ে বেশি সিরিয়াস!"

তাসনিম আবার বসে পড়তে পড়তে বলল,
-"হ্যাঁ, সিরিয়াস। এখন বল, ট্রিট দিবি কিনা।"

ইয়াশ একবার সবার দিকে তাকাল। এতগুলো জোড়া চোখ তার দিকেই তাকিয়ে আছে দেখে শেষমেশ হাল ছেড়ে দিয়ে বলল,
-"আচ্ছা ঠিক আছে, দিবো ভাই। তোদের সঙ্গে তো আর পারব না! আমি এখন খেয়ে বাসায় যাব, আব্বুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসব। তোরা দুপুর তিনটার মধ্যে কাচ্চি ডাইনের সামনে চলে আসিস।"

তাসনিম হেসে ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বলল,
-"কাচ্চি ট্রিট দিবি?"

ইয়াশ সরু চোখে তাসনিমের দিকে তাকাল। তারপর যেন বেশ অনিচ্ছা নিয়েই একবার মাথা নাড়িয়ে বলল,
-"হ্যাঁ।"

ইয়াশের মুখে অনিচ্ছার ছাপ থাকলেও তার ‘হ্যাঁ’ শুনেই সবাই খুশিতে হেসে উঠল।

সাদ সঙ্গে সঙ্গে উঠে ইয়াশকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-"এই তো! আমার ভাই!"

ইয়াশ সঙ্গে সঙ্গে বিরক্ত মুখে সাদের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,
-"ভাই বলিস না। ট্রিট দিতে রাজি হয়েছি বলে এত তেল মারার দরকার নেই!"

কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠল। ইয়াশও মুখ গোমড়া করে বসে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের হাসিটা আর ধরে রাখতে পারল না।

#চলবে

(ছোট পর্ব দেওয়ার জন্য সত্যিই সরি। আসলে মোবাইল হাতে নেওয়ার মতো সময়ই খুব একটা পাই না। যখনই একটু সময় পাই, তখনই যতটুকু পারি লিখে ফেলি। তাই আজকের পর্বটাও একটু ছোট হয়ে গেল। আপনারা প্লিজ মন খারাপ করবেন না। সময় পেলেই চেষ্টা করব পরের পর্বটা একটু বড় করে দেওয়ার।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 45 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন