ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নও

পর্ব 51

লেখক: মিশু

#তুমি_কারো_নও
#লেখিকা_মিশু

-----

সবাইকে এভাবে থমকে যেতে দেখে তাসিফার ভ্রু কুঁচকে গেল। একে একে সবার মুখের দিকে তাকাল সে। একটা নাম শুনে সবাই এমন অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন কেন, তা কিছুতেই বুঝতে পারছিল না। বিশেষ করে আফসানা শিকদারের মুখের বিস্ময়টা তার চোখ এড়াল না।

এরই মধ্যে জিনিয়া নীরবতা ভেঙে বলল,
-“তোমার মায়ের সঙ্গে কি আমাদের দেখা করাতে পারবে, তাসিফা?”

প্রশ্নটা শুনে তাসিফা একটু অবাক হলো। কিছু বলার আগেই আফসানা শিকদার বলে উঠলেন,
-“আমি দেখা করতে চাই।”

তাসিফা এবার আরও অবাক হয়ে তাঁদের দিকে তাকাল। হঠাৎ করে সবাই তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন কেন, সেটাই বুঝতে পারছিল না সে। তার মায়ের নাম শুনে তাঁদের মধ্যে এমন কী ঘটেছে, যার কারণে এখন তাঁরা সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন?

কৌতূহল নিয়ে একবার জুয়িনের দিকে তাকাল তাসিফা। তার চোখেমুখে স্পষ্ট প্রশ্ন, এত কিছু হচ্ছে কেন?

জুয়িনও তখন গম্ভীর মুখে বসে ছিল। তাসিফার দিকে তাকিয়ে সে ধীরে মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাল। তার ইশারা পেয়ে তাসিফা আবার সবার দিকে তাকাল। যদিও তার মনে তখনও অনেক প্রশ্ন ঘুরছিল, তবু সে বুঝতে পারল, জুয়িনও চায় সে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করানোর ব্যবস্থা করুক।

----

সবাই তাসিফাদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। তাসিফা সবার আগে এগিয়ে গিয়ে কলিং বেল চাপল। ভেতরে তখন আয়রা বেগম নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কলিং বেলের শব্দ কানে আসতেই তিনি দরজার দিকে এগিয়ে এলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজা খুলে দিলেন।

কিন্তু দরজার সামনে একসঙ্গে এতগুলো মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি খানিকটা অবাক হলেন। তাসিফার পাশে জুয়িনকে দেখে অবশ্য বুঝতে পারলেন, এরা নিশ্চয়ই জুয়িনের পরিবারের সদস্য। তবে সবাই একসঙ্গে তাঁদের বাসায় এসেছেন কেন, সেটা তাঁর বোধগম্য হলো না।

তাসিফা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“মা, উনারা জুয়িন ভাইয়ার পরিবারের লোক।”

আয়রা বেগম মেয়ের কথা শুনে সবার দিকে তাকালেন। মুখে স্বাভাবিক হাসি ফুটিয়ে ভদ্রভাবে বললেন,
-“আসসালামু আলাইকুম। ভালো আছেন সবাই?”

উপস্থিত সবাই সালামের উত্তর দিলেন। এরপর আয়রা বেগম তাঁদের ভেতরে আসার জন্য জায়গা করে দিলেন। তাসিফা সবার আগে ভেতরে ঢুকে পড়ল। তার পেছনে একে একে বাকিরাও ফ্ল্যাটে প্রবেশ করলেন।

কিন্তু তাঁদের মধ্যে আফসানা শিকদারের দৃষ্টি তখন অন্য একজনের মুখে আটকে আছে। তিনি দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে আয়রা বেগমের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এতক্ষণ পর্যন্ত মনের মধ্যে যে সন্দেহটা ঘুরপাক খাচ্ছিল, সামনে মানুষটিকে দেখে সেটা আরও জোরালো হয়ে উঠল।

মুখের আদল, চোখের চাহনি, কোথাও যেন বহু পুরোনো পরিচিতির ছাপ রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে চেহারায় পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু কিছু পরিচিত বৈশিষ্ট্য যেন এখনো রয়ে গেছে।

আফসানা শিকদার একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন দেখে আয়রা বেগমও তাঁর দিকে মনোযোগ দিলেন। অন্য অতিথিদের সঙ্গে কথা বলার আগেই তাঁর চোখ পড়ল এই মহিলার মুখে। প্রথম দেখায় চিনতে পারলেন না, তবু কেন যেন তাঁকে দেখে বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।

আয়রা বেগম ভ্রু সামান্য কুঁচকে মনে করার চেষ্টা করলেন। এই মুখ কি কোথাও দেখেছেন? নাকি কেবলই মনের ভুল? মানুষটিকে ঠিক চিনতে না পারলেও তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কেমন একটা আপন অনুভূতি হচ্ছিল। বহুদিনের পুরোনো কোনো স্মৃতি যেন মনের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে, অথচ সেই স্মৃতির সঙ্গে মুখটা মিলিয়ে নিতে পারছেন না।

দুজনের চোখাচোখি হতেই চারপাশের কথাবার্তা যেন তাঁদের কাছে কিছুক্ষণের জন্য অস্পষ্ট হয়ে গেল। কেউ কিছু বলছেন না। শুধু একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন।

আফসানা শিকদার আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলেন না। তাঁর মনের মধ্যে জমে থাকা সন্দেহটা এবার আর চেপে রাখা সম্ভব হলো না। তিনি ধীরে ধীরে আয়রা বেগমের দিকে এগিয়ে গেলেন।

খুব পরিচিত একটা নাম ঠোঁটে নিয়ে ডাকলেন,
-“আয়রা!”

নিজের নাম শুনে আয়রা বেগমের চোখেমুখে বিস্ময় ফুটে উঠল। এতক্ষণ মানুষটিকে চিনতে না পারলেও নাম ধরে ডাকার ভঙ্গিটা তাঁর ভেতরে কেমন একটা আলোড়ন তুলল। এই সম্বোধন যেন একসময় তাঁর খুব চেনা ছিল। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর স্মৃতির ভেতর থেকে সেই পরিচিত কণ্ঠ আর মুখ খুঁজে বের করা সহজ নয়।

তিনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।

আফসানা শিকদার ততক্ষণে তাঁর আরও কাছে চলে এসেছেন। আয়রা বেগমের মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁর চোখ ছলছল করে উঠল। তবু নিজের সন্দেহ পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যেন মন মানছিল না।

তিনি আয়রা বেগমের হাতটা নিজের হাতে তুলে নিলেন। বহু বছর আগে দেখা সেই ছোট্ট হাতের কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। হাতের দিকে তাকাতেই চোখ আটকে গেল পরিচিত একটি জন্মদাগে।

এই দাগ তার খুব পরিচিত। এবার আর কোনো সন্দেহ রইল না তার। সামনের এই নারীই তাঁর ছোট বোন।

আফসানা শিকদার এক মুহূর্তও দেরি করলেন না। আয়রা বেগমকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। এত বছরের বিচ্ছেদ, অপেক্ষা আর না-পাওয়ার কষ্ট যেন এক মুহূর্তে বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
-“আয়রা, আমি তোর আফসানা আপা!”

কথাটা কানে যেতেই আয়রা বেগমের পুরো শরীর যেন থমকে গেল। তিনি কিছুক্ষণ কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাতে পারলেন না। এত বছর পর বড় বোনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন, অথচ এতক্ষণ চিনতেই পারেননি। চোখের সামনে থাকা মানুষটা তাঁর আফসানা আপা, এই সত্যটা মেনে নিতে যেন কয়েক মুহূর্ত সময় লাগল।

আফসানা শিকদারের কণ্ঠস্বরটা আবারও কানে আসতেই তাঁর মনের মধ্যে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। এই কণ্ঠ তিনি একসময় কতবার শুনেছেন। ছোটবেলায় এই মানুষটিই তো তাঁকে আদর করে ডাকতেন, শাসন করতেন, আগলে রাখতেন। সময়ের ব্যবধানে স্মৃতিগুলো ঝাপসা হয়ে গেলেও সেই কণ্ঠের পরিচিতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

আয়রা বেগম বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলে উঠলেন,
-"আফসানা আপা!”

কথাটা বলেই তিনি বড় বোনকে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর চোখ থেকেও অঝোরে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। যেন এত বছর ধরে জমে থাকা কষ্টগুলো আর ধরে রাখতে পারলেন না।

আফসানা শিকদার ছোট বোনকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর চোখও তখন অশ্রুতে টলমল করছিল। কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
-“হ্যাঁ রে, আমি তোর বড় বোন আফসানা আপা। এত বছর পর তোকে আবার দেখতে পাব, সেটা ভাবতেও পারিনি রে, বোন!”

কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা ধরে আসছিল তাঁর। ছোট বোনকে সামনে পেয়েও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কত বছর কেটে গেছে! কত সময়, কত ঘটনা তাঁদের জীবন থেকে চলে গেছে। অথচ এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, তাঁদের মাঝখানে থাকা এতগুলো বছর যেন এক নিমেষে চোখের সামনে এসে জমা হয়েছে।

আয়রা বেগমও বড় বোনকে ছাড়তে চাইছিলেন না। চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন,
-“আপা, আমি তোকে খুঁজেছিলাম। আমার বিয়ের পর কত খুঁজেছি, জানিস? কিন্তু তোর ঠিকানা কারও কাছ থেকে পাইনি। অনেক খুঁজেছিলাম তোকে। কত জায়গায় খোঁজ নিয়েছি, তবু তোকে খুঁজে পাইনি!”

শেষের কথাগুলো বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে এল। এত বছর পর নিজের বড় বোনকে ফিরে পেয়ে প্রথমেই মনে পড়ল সেই দিনগুলোর কথা, যখন তিনি বিয়ের পর বোনকে খুঁজে বেড়িয়েছেন। যোগাযোগের কোনো উপায় না পেয়ে কতটা অসহায় বোধ করেছিলেন, তা আজও তাঁর মনে আছে।

আফসানা শিকদার ছোট বোনের কথা শুনে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। দুজনের কেউই যেন এই মুহূর্তে নিজেদের চোখের পানি আটকে রাখতে পারছেন না। এত দিনের বিচ্ছেদের পর তাঁদের দেখা হওয়াটা শুধু আকস্মিকই নয়, দুজনের কাছেই অবিশ্বাস্য।

এদিকে ঘরের অন্য সবাই নীরবে তাঁদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এমন একটি মুহূর্তের সাক্ষী হবেন, তা তাঁদের কেউই ভাবেননি। জিসান শিকদার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। জুয়িনের চাচা-চাচিরাও অবাক হয়ে দুই বোনের পুনর্মিলন দেখছিলেন। জিনিয়ার চোখেমুখেও বিস্ময়।

কিন্তু তাসিফার মাথায় তখন অন্য হিসাব চলছে।

সে প্রথমে নিজের মায়ের দিকে তাকাল, তারপর আফসানা শিকদারের দিকে। দুজনের আবেগমাখা কথোপকথন শুনে তার মাথার মধ্যে একটা একটা করে বিষয় পরিষ্কার হতে লাগল।

আফসানা শিকদার তার মায়ের বড় বোন। অর্থাৎ, তিনি তাসিফার খালামণি! আর জুয়িন?

তাসিফার চোখ হঠাৎ বড় হয়ে গেল। এতক্ষণ যে মানুষটিকে সে নিজের পছন্দের মানুষ হিসেবে দেখেছে, যার সঙ্গে তার সম্পর্কটা নিয়ে এত কিছু ভাবনা, সেই জুয়িনই কিনা তার খালাতো ভাই।

ভাবনাটা মাথায় আসতেই তাসিফা চটজলদি জুয়িনের দিকে তাকাল।

জুয়িনও তখন ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখের গম্ভীর ভাবটা পুরোপুরি বজায় থাকলেও চোখেমুখে বিস্ময় স্পষ্ট। এতক্ষণে জুয়িন বুঝতে পারল, তাসিফার মায়ের সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্কটা কী। এত বছর ধরে যে ছোট খালামণির কথা সে শুনে এসেছে, সেই খালামণিই যে তাসিফার মা, তা তার কল্পনাতেও ছিল না।

তাসিফার দিকে তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হলো।

এক মুহূর্তের জন্য কেউই চোখ সরাল না। দুজনের মুখেই একই রকম হতভম্ব ভাব। তাসিফা ভ্রু নাচিয়ে জুয়িনকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করল। জুয়িনও ভ্রু তুলে তার দিকে তাকাল, যেন সেও বলতে চাইছে,
-"এটা কী হয়ে গেল?"

কেউ মুখে কিছু বলল না। কিন্তু চোখের ইশারাতেই যেন দুজনের মনের কথা আদান-প্রদান হয়ে গেল।

দুজনের মনে একই সঙ্গে একটা গান বেজে উঠল,
“সম্পর্ক বদলে গেল একটি পলকে!”

অন্যদিকে, আফসানা শিকদার আর আয়রা বেগম তখনো একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। তাঁদের চোখেমুখে এত বছরের বিচ্ছেদের কষ্ট আর ফিরে পাওয়ার আনন্দ একসঙ্গে মিশে আছে। আশপাশে যে আরও অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন, সেদিকে যেন তাঁদের খেয়ালই নেই।

অবশেষে জিনিয়া এগিয়ে এসে দুজনের কাছে দাঁড়াল। নরম কণ্ঠে বলল,
-“তোমরা দুজন একটু শান্ত হও। বসে কথা বলো। এভাবে কাঁদতে থাকলে শরীর খারাপ করবে।”

জিনিয়ার কথা শুনে বাকিরাও সম্মতি জানালেন। জিসান শিকদারও এগিয়ে এসে বললেন,
-“হ্যাঁ, আগে বসো তোমরা। এত বছর পর দেখা হয়েছে, অনেক কথা বলার আছে নিশ্চয়ই। দাঁড়িয়ে থেকে কেঁদো না।”

তাঁদের কথায় আফসানা শিকদার আর আয়রা বেগম একটু সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলেন। তবে একজন আরেকজনের হাত তখনো ধরে রেখেছেন। যেন আবার ছেড়ে দিলে আরও একবার হারিয়ে ফেলবেন, এমন একটা অদ্ভুত ভয় তাঁদের মনে কাজ করছে।

আয়রা বেগম চোখ মুছতে মুছতে বড় বোনের মুখের দিকে তাকালেন। আফসানা শিকদারও ছোট বোনকে দেখে মৃদু কাঁদো কাঁদো হাসি দিলেন।

এত বছর পর দুই বোন আবার এক ছাদের নিচে। কত কথা জমে আছে তাঁদের। কত স্মৃতি, কত প্রশ্ন, কত না বলা অভিমান, সবকিছুর উত্তর হয়তো আজই পাওয়া যাবে না। তবে অন্তত এতটুকু নিশ্চিত, আজ থেকে তাঁদের মাঝখানের দীর্ঘ বিচ্ছেদ আর আগের মতো থাকবে না।

----

সবাই সোফা আর চেয়ারগুলোতে জায়গা করে বসেছে। কিছুক্ষণ আগেও যে ঘরটা অচেনা মানুষের উপস্থিতিতে ভরে ছিল, এখন সেখানে এক অন্যরকম পরিবেশ। এত বছরের বিচ্ছেদ পেরিয়ে দুই বোনের দেখা হয়েছে। দুজনের চোখেমুখেই আনন্দ, বিস্ময় আর জমে থাকা অসংখ্য না-বলা কথার ছাপ।

আয়রা বেগম ও আফসানা শিকদার পাশাপাশি বসে আছেন। দুজনের হাত পরস্পরের হাতের মুঠোয় বন্দি। যেন একটু অসতর্ক হলেই আবার হারিয়ে যাবেন একে অপরের কাছ থেকে। জিনিয়া বসেছে মায়ের পাশে। সে মাঝেমধ্যেই মায়ের দিকে তাকাচ্ছে, আবার তাকাচ্ছে আয়রা বেগমের দিকে। এত দিন যার কথা শুধু মায়ের মুখে শুনেছে, আজ সেই মানুষটিকেই সামনে বসে থাকতে দেখছে।

আফসানা শিকদার কিছুক্ষণ আয়রার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। যেন বোনের চেহারার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া সেই পুরোনো দিনগুলো খুঁজছেন। কত বছর পেরিয়ে গেছে! অথচ আজও আয়রাকে দেখলে তাঁর মনে হচ্ছে, সেই ছোট্ট মেয়েটাই যেন তাঁর পাশে বসে আছে।

একসময় নীরবতা ভেঙে তিনি প্রশ্ন করলেন,
-“আয়রা, তুই কি ঢাকাতেই থাকতিস?”

আয়রা বেগম মৃদু স্বরে উত্তর দিলেন,
-“না আপা। তাসিফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর এখানে এসে স্থায়ীভাবে থাকা শুরু করেছি।”

-“তার আগে গ্রামে থাকতিস?”

-“হ্যাঁ আপা।”

আফসানা শিকদার আবার জানতে চাইলেন,
-“আর তোর হাজবেন্ড কোথায়?”

-“আলমগীর কাজে বাইরে গেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন।”

কথা বলতে বলতেই আয়রা বোনের হাতটা আরও শক্ত করে ধরলেন। এত বছর পর দেখা হয়েছে, অথচ কত কথা এখনো বলা বাকি। কোথা থেকে শুরু করবেন, কোন কথাটা আগে বলবেন, কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছেন না।

এতক্ষণ সবাই চুপচাপ তাঁদের কথা শুনছিল। কিন্তু তাসিফার মনে তখন একের পর এক প্রশ্ন জমা হচ্ছে। তার মা আর আফসানা আন্টি যে আপন বোন, সেটা সে কিছুক্ষণ আগে জানতে পারল। এত বছর তাঁরা আলাদা ছিলেন কেন? কী এমন হয়েছিল যে একজন আরেকজনের কোনো খোঁজই পাননি?

আর চুপ করে থাকতে পারল না তাসিফা। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“তোমাদের কী হয়েছিল? আর এত বছর তোমাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না কেন?”

প্রশ্নটা শুনে আফসানা শিকদার মেয়েটির দিকে তাকালেন। তাসিফার চোখেমুখে কৌতূহল স্পষ্ট। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে তাঁকে ফিরে যেতে হবে বহু বছর আগের সেই দিনগুলোতে, যেসব স্মৃতি তিনি চাইলেও ভুলতে পারেননি।

আফসানা শিকদার ধীরে বললেন,
-“অনেক কিছু হয়েছিল, মা।”

কথাটা বলেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন তিনি। আয়রার হাতের ওপর নিজের অন্য হাতটাও রাখলেন। তারপর বলতে শুরু করলেন,
-“আমি আর আয়রা আমাদের আব্বা-আম্মার সঙ্গে সমিজপুর গ্রামে থাকতাম। আমাদের ছোট্ট একটা সংসার ছিল। কিন্তু সেই সংসারে শান্তি খুব একটা ছিল না। আব্বা আমাদের দুজনকে কখনোই তেমন পছন্দ করতেন না। কারণ, আমরা মেয়ে। তাঁর ইচ্ছে ছিল একটা ছেলে সন্তানের। তাঁর ধারণা ছিল, ছেলে সন্তান হলে তবেই তাঁর বংশের নাম এগিয়ে যাবে।”

কথাগুলো বলতে গিয়ে আফসানার কণ্ঠে চাপা অভিমানের সুর ফুটে উঠল।
-“একসময় আব্বা রিনা নামের এক মহিলাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। শুধু ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার আশায়। আব্বার এই সিদ্ধান্তে আম্মা ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু কিছু বলার সাহস পেতেন না। সবকিছু নীরবে সহ্য করতেন।
তখন আয়রা ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ত আর আমি অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে। আয়রা ছোটবেলা থেকেই একটু জেদি ছিল। কোনো অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকতে পারত না। আব্বার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ত, তাঁর অন্যায় কথার প্রতিবাদ করত। আর এ কারণেই আব্বার রাগের বেশির ভাগটা ওর ওপর গিয়ে পড়ত।
একদিন আব্বার সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলেছিল বলে তিনি আয়রাকে বেধড়ক মারধর করেন। আম্মা মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মার খেতে হয়। সেদিনও আমি সামনে দাঁড়িয়ে সব দেখেছিলাম। কিন্তু কিছু বলতে পারিনি।”

আফসানা একবার থামলেন। তাঁর দৃষ্টি তখনও আয়রার দিকে। আয়রা মাথা নিচু করে বসে আছেন। পুরোনো দিনের কথা শুনতে শুনতে তাঁর মুখের হাসিটুকু ম্লান হয়ে গেছে।

আফসানা আবার বলতে শুরু করলেন,
-“আমি জানি, আমার চুপ করে থাকাটা ঠিক ছিল না। কিন্তু তখন আমিও আব্বাকে ভয় পেতাম। প্রতিবাদ করার সাহস হতো না। এভাবেই দিন কাটছিল। আব্বার অত্যাচারে আম্মা আর আয়রার জীবন দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছিল। অন্যদিকে, রিনা আমাকে বেশ পছন্দ করতেন। আমার গায়ের রং ফর্সা বলে তিনি আমার প্রতি একটু আলাদা আচরণ করতেন। আমাকে দিয়ে কোনো কাজ করাতেন না। ঘরের সব কাজ আম্মা আর আয়রাকেই করতে হতো। তাঁদের সারাক্ষণ কাজ করতে দেখেও আমার ভালো লাগত না। কিন্তু প্রতিবাদ করব, সেই সাহসটাও ছিল না।”

কথাগুলো শুনে জিনিয়ার মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল। পাশে বসে থাকা জুয়িনও চুপচাপ শুনছিল। ঘরের অন্যরাও কেউ কথা বলছে না।

আফসানা এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
-"কয়েক দিনের মধ্যেই জানতে পারলাম, রিনার পেটে সন্তান এসেছে। আব্বা তখন ভীষণ খুশি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এবার তাঁর ছেলে সন্তান হবে। এরপর থেকে রিনার সেবা-যত্নের সব দায়িত্বও আম্মার ওপর পড়ে।

একদিন রিনা রান্নাঘরে যাওয়ার সময় পা পিছলে পড়ে যান। আর সেই ঘটনার সব দোষ গিয়ে পড়ে আয়রার ওপর। রিনা আব্বাকে গিয়ে মিথ্যা বলেন, আয়রা নাকি ইচ্ছে করে মেঝেতে পানি ঢেলে রেখেছিল, যাতে তিনি পিছলে পড়ে যান আর তাঁর পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।

আসলে রিনা শুরু থেকেই আয়রাকে সহ্য করতে পারতেন না। তিনি চেয়েছিলেন, কোনোভাবে আয়রাকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিতে। সেদিন যেন সেই সুযোগটাই পেয়ে গেলেন।

আফসানা শিকদারের কণ্ঠে এবার ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠল।
-“আব্বা তাঁর কথা বিশ্বাস করে আয়রাকে মারধর করতে শুরু করেন। আয়রা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে সে কিছু করেনি। কিন্তু আব্বা ওর কোনো কথাই শুনতে চাননি।

আম্মা যখন মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন, তখন আব্বা আরও রেগে গেলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আম্মা আর আয়রা, দুজনকেই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। শুধু তা-ই নয়, বলে দেন, তাঁরা যেন আর কখনো ওই বাড়িতে ফিরে না আসেন।"

কথাটা শেষ করেই আফসানা থেমে গেলেন। ঘরের মধ্যে নীরবতা নেমে এল।

তাসিফা অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। এত দিন সে জানত, তার মা ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করেছেন। কিন্তু সেই কষ্টের পেছনে এত ভয়াবহ ঘটনা লুকিয়ে আছে, তা কখনো কল্পনাও করেনি।

আফসানা আবার বললেন,
-“আয়রা কাঁদতে কাঁদতে আম্মাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সেদিন আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম তাঁদের আটকাতে। আব্বাকে বুঝিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমার কোনো কথাই শুনতে চাননি। শেষ পর্যন্ত আম্মা আর আয়রা চলে গেল। আমি বাড়িতে একা পড়ে রইলাম। ওরা চলে যাওয়ার পর আমারও খুব খারাপ লাগত। বারবার মনে হতো, ওদের খুঁজে বের করি। কিন্তু কোথায় খুঁজব, কিছুই জানতাম না। তখন আম্মার কাছে একটা বাটন ফোন ছিল। কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ফোনটা সেখানেই রেখে গিয়েছিলেন। আয়রার কাছেও কোনো ফোন ছিল না।

তারপরও আমি একা একা ওদের খুঁজতে বের হতাম। পরিচিত জায়গাগুলোতে খোঁজ নিতাম, আশপাশের মানুষের কাছে জানতে চাইতাম। কিন্তু কোথাও ওদের সন্ধান পাইনি। এভাবে কত দিন যে কেটে গেছে! একসময় আর কোনো উপায় না দেখে খোঁজা বন্ধ করতে বাধ্য হই।”

কথা শেষ করে আফসানা চোখ নামিয়ে নিলেন। তাঁর হাত তখনও আয়রার হাতের ওপর রাখা।

তাসিফার চোখ দুটো টলমল করছে। নিজের মায়ের জীবনের এত কষ্টের কথা শুনে সে নিজেকে সামলে রাখতে পারছে না। যে মানুষটাকে সে সব সময় নিজের পাশে পেয়েছে, সেই মানুষটিরও একটা কঠিন অতীত আছে, যেখানে তাকে একসময় একা একা লড়াই করতে হয়েছে।

জিনিয়া আয়রা বেগমের দিকে তাকিয়ে রইল। তারও মন খারাপ হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণ পর আফসানা শিকদার আবার আয়রার দিকে ফিরলেন। এবার তাঁর কণ্ঠে উদ্বেগ।
-“তুই আর আম্মা কোথায় চলে গিয়েছিলি? কীভাবে দিন কাটিয়েছিস তোরা? আর আম্মা কি বেঁচে আছেন?”

শেষ প্রশ্নটা করতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ যেন একটু কেঁপে উঠল। এত বছর পর বোনকে ফিরে পেয়েছেন, কিন্তু মাকে ফিরে পাওয়ার আশা কি এখনো আছে?

আয়রা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন,
-“আমি আমার জমানো টাকাগুলো নিয়ে আম্মাকে সঙ্গে করে অন্য একটা গ্রামে চলে যাই। সেখানে গিয়ে একটা কলেজে ভর্তি হই। আগের কলেজ থেকে টিসি নিয়ে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করি। তখন আমার কাছে খুব বেশি টাকা ছিল না। যা ছিল, তা দিয়েই আম্মাকে নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করি। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতাম। যা টাকা পেতাম, তা দিয়ে আমাদের থাকা-খাওয়া আর পড়াশোনার খরচ চালাতাম। অনেক কষ্ট হতো, আপা। কিন্তু তখন আমার আর কিছু করারও ছিল না। আম্মাকে নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে, পড়াশোনাটাও শেষ করতে হবে এই চিন্তা করেই দিন পার করতাম।”

আয়রা একটু থামলেন। চোখের কোণে জমে থাকা পানি মুছে আবার বললেন,
-“এভাবেই দিন কাটছিল। আমার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর হঠাৎ একদিন আম্মার হার্ট অ্যাটাক হয়। আমি তখন একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। কী করব, কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অনেক চেষ্টা করেও আম্মাকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি মারা যান।”

শেষ কথাটা বলতে গিয়ে আয়রার গলা ধরে এল।

আফসানা শিকদার বোনের হাত চেপে ধরলেন। তাঁর চোখেও পানি জমেছে। এত বছর ধরে তিনি ভেবেছেন, একদিন হয়তো বোন আর মায়ের খোঁজ পাবেন। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর খবরটা শুনে তাঁর বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল।
-“আম্মা নেই?” তিনি অস্ফুট স্বরে বললেন।

আয়রা মাথা নেড়ে জানালেন, সত্যিই আম্মা আর বেঁচে নেই।

আফসানা আর কিছু বলতে পারলেন না। শুধু বোনের হাতটা শক্ত করে ধরে রইলেন। তাঁদের মা আর নেই, এই সত্যটা মেনে নেওয়া সহজ নয়। যে মায়ের কাছ থেকে তাঁরা একদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে আর কোনো দিন দেখা হবে না।

কিছুক্ষণ পর আয়রা নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন,
-“আম্মাকে হারানোর পর আমি একেবারে একা হয়ে পড়ি। এরপর একটা মেসে আরও অনেক মেয়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করি। পরে গ্রামের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু আম্মাকে হারানোর শোক কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারতাম না। পড়াশোনায় মন বসাতে কষ্ট হতো। তবুও নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করতাম।

আব্বার ভয়ে আর কখনো সমিজপুরে ফিরে যাওয়ার সাহস হয়নি। তোর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে যে হতো না, তা নয়। কতবার ভেবেছি, একবার গিয়ে তোকে দেখে আসি। কিন্তু আব্বার কথা মনে পড়লেই ভয় হতো। আবার যদি আগের মতো কিছু ঘটে?"

আফসানা শিকদার বোনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এত বছর ধরে আয়রাও তাঁকে খুঁজতে পারেনি, আর তিনিও বোনকে খুঁজে পাননি। দুজনেরই মনে ছিল একে অপরের জন্য টান, অথচ পরিস্থিতি তাঁদের আলাদা করে রেখেছিল।

আয়রা আবার বললেন,
-“এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে আলমগীর আলমের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সে আমার তিন ব্যাচ সিনিয়র ছিল। আলমগীর গ্রামের একজন সচ্ছল পরিবারের ছেলে ছিল, কিন্তু প্রথম দিকে আমি সেটা জানতাম না। আমার কাছে সে ছিল এমন একজন মানুষ, যে প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াত। পড়াশোনার জন্য কোনো নোটস লাগলে সে সাহায্য করত। কোনো সমস্যায় পড়লে এগিয়ে আসত। আমার সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহার করত। তখন আমার জীবনে আপন বলতে কেউ ছিল না। আম্মাকে হারিয়ে একা হয়ে গিয়েছিলাম। আলমগীরের সঙ্গে কথা বললে নিজের অজান্তেই একটু ভালো লাগত।
এভাবেই ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। একসময় আমরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। পরে আলমগীর আমাকে বিয়ে করতে চায়। আমিও রাজি হয়ে যাই।”

কথাগুলো বলার সময় আয়রার মুখে পুরোনো দিনের স্মৃতির আভাস ফুটে উঠল।
-“আলমগীর আমাকে তার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রথমে তার বাবা আমাদের সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। কিন্তু আলমগীর হাল ছাড়েনি। অনেক চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত বাবাকে রাজি করায়। এরপর আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমি আলমগীরকে নিয়ে সমিজপুরে যাই। এত দিন পর নিজের গ্রামে ফিরে মনে হয়েছিল, হয়তো এবার তোকে খুঁজে পাব। মনে মনে কত কিছু ভেবেছিলাম! ভেবেছিলাম, তুই কোথায় আছিস, কেমন আছিস, সব জানতে পারব। হয়তো আবার আমাদের দেখা হবে।”

আয়রা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন,
-“কিন্তু বাড়িতে গিয়ে দেখি, দরজায় তালা ঝুলছে। আশপাশের লোকজনের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আব্বা তোকে এক বড়লোকের বাড়িতে বিয়ে দিয়েছেন। তখন নাকি দুই বছর আগেই তোর বিয়ে হয়ে গেছে।”

কথাটা শুনে আফসানা শিকদারের মুখে বিস্ময় ফুটে উঠল।

আয়রা বললেন,
-“আরও জানতে পারি, আব্বা, রিনা আর তাদের ছেলে এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। খবরটা শুনে আমার কেমন লেগেছিল, তা তোকে বোঝাতে পারব না। এত কিছু ঘটে গেল, অথচ আমি কিছুই জানতাম না।

আমি গ্রামের লোকজনের কাছে তোর ঠিকানা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ ঠিকমতো কিছু বলতে পারেনি। তোর ফোন নম্বরও কারও কাছে ছিল না। অনেক চেষ্টা করেও তোকে খুঁজে পাইনি। শেষ পর্যন্ত আলমগীরকে নিয়ে ফিরে আসি।”

আয়রা এবার মেয়ের দিকে তাকালেন। তাসিফা চুপচাপ বসে মায়ের কথা শুনছে। তার চোখেমুখে এখনো বিষণ্নতা।

আয়রা মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললেন,
-“এরপর পাঁচ বছর পর আমাদের ঘর আলো করে তাসিফার জন্ম হয়। মেয়েকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করি। তারপর থেকে গ্রামেই থাকতাম। এত বছর ধরে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু তোকে ভুলে যাইনি, আপা। তোর কথা আমার সব সময় মনে পড়ত।”

আফসানা শিকদার আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলেন না। বোনের হাত ছেড়ে তাঁকে কাছে টেনে নিলেন। দুজন আবারও একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন।
-“আমিও তোকে ভুলিনি, আয়রা। কত খুঁজেছি তোকে! যদি একবার জানতাম, তুই কোথায় আছিস, তাহলে কখনোই তোকে এভাবে হারিয়ে যেতে দিতাম না।”

আয়রা বোনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
-“আমিও তোকে অনেক মিস করেছি, আপা। কতবার মনে হয়েছে, তুই কেমন আছিস, কোথায় আছিস! কিন্তু তোকে খুঁজে বের করার কোনো উপায় ছিল না।”

তাসিফা মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। এত দিন সে জানত, তার মা জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু মায়ের জীবনের এই অধ্যায়টা তার কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল।

জিনিয়া মায়ের পাশে বসে নীরবে সব দেখছিল। তারও ইচ্ছে হচ্ছিল দুই বোনের কাছে গিয়ে তাঁদের সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের দুজনকে নিজেদের মতো করে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে হলো তার।

ঘরের সবাই চুপচাপ বসে রইল। এত বছরের বিচ্ছেদ, অভিমান আর হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির পর আজ দুই বোন আবার একসঙ্গে বসেছেন। তাঁদের জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু এত দিন পর অন্তত একে অপরের হাতটা আবার ফিরে পেয়েছেন তাঁরা।

----

কিছুক্ষণের মধ্যেই আলমগীর আলম বাসায় ফিরে এলেন। ঘরে ঢুকেই এতগুলো মানুষকে দেখে কিছুটা চমকে গেলেন। বসার ঘরে উপস্থিত মানুষগুলোর কাউকেই তিনি চিনতে পারলেন না।

জিসান শিকদার, জাইম শিকদার ও জাওয়াদ শিকদার তাঁর দিকে এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। আলমগীরও সৌজন্যবশত তাঁদের সঙ্গে হাত মেলালেন। এরপর কৌতূহলী দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে বললেন,
-“আপনাদের তো চিনতে পারলাম না!”

জিসান শিকদার মৃদু হেসে বললেন,
-“আমি আয়রার বড় বোনের হাজবেন্ড।”

কথাটা শুনে আলমগীর কিছুটা অবাক হলেন। তিনি আয়রার দিকে তাকালেন। আয়রা বেগম তখন হাসিমুখে বললেন,
-“আলমগীর, আমি আমার বড় বোনকে ফিরে পেয়েছি! ইনি জুয়িনের আম্মু, আমার আফসানা আপা।”

আলমগীরের বিস্ময় যেন আরও বেড়ে গেল। এত বছর ধরে স্ত্রীর মুখে তাঁর পরিবারের কথা শুনেছেন, কিন্তু আজ যে এভাবে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।

আয়রা বেগম তাঁকে এতক্ষণ ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বললেন। কীভাবে এত বছর পর আফসানা শিকদারের সঙ্গে তাঁর দেখা হলো, কীভাবে তাঁদের সম্পর্কের পরিচয় সামনে এল, কিছুই বাদ রাখলেন না।

সব শুনে আলমগীরও ভীষণ খুশি হলেন। স্ত্রীর জীবনের হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে এভাবে ফিরে পেতে দেখে তাঁর ভালো লাগছিল। তিনি আফসানা শিকদার ও জিসান শিকদারের সঙ্গে আবারও কথা বললেন। এরপর একে একে সবার সঙ্গে পরিচিত হলেন।

এতক্ষণে আয়রা বেগমও ভালোভাবে সবার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেলেন। এত কিছু একসঙ্গে ঘটে যাওয়ায় শুরুতে কারও সঙ্গেই ঠিকমতো কথা বলা হয়নি তাঁর। এবার সবার পরিচয় জেনে তাঁদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠলেন।

কিছুক্ষণ পর আফসানা শিকদার হাসিমুখে আয়রার দিকে তাকিয়ে বললেন,
-“আয়রা, তোর মেয়েটা খুব লক্ষ্মী।”

আয়রা বেগমের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। মেয়ের প্রশংসা শুনে মায়ের ভালো লাগবে, এটাই স্বাভাবিক।

তাসিফা পাশেই বসেছিল। আন্টির মুখে নিজের প্রশংসা শুনে সে একটু লজ্জা পেল। মৃদু হেসে বলল,
-“ধন্যবাদ, আন্টি।”

কিন্তু ‘আন্টি’ সম্বোধনটা শুনে আফসানা শিকদারের মুখটা মুহূর্তেই কালো হয়ে গেল। তিনি ভ্রু কুঁচকে বললেন,
-“আন্টি বললে চলবে না। এখন থেকে খালামণি ডাকতে হবে।”

তাসিফা হেসে ফেলল। মনে মনে ভাবল,
"খালামণি কেন? শাশুড়ি আম্মা ডাকতেও তো রাজি আছি।"
অবশ্য মনের কথাটা মনেই রাখল সে। মুখে মিষ্টি হেসে বলল,
-“আচ্ছা, খালামণি।”

তাসিফার কথা শুনে আফসানা শিকদারের মুখে আবার হাসি ফুটে উঠল।

এবার আয়রা বেগম জুয়িনের দিকে তাকালেন। ছেলেটাকে তিনি এত দিন ধরে চেনেন। অথচ একবারও বুঝতে পারেননি, সে তাঁরই বোনের ছেলে। হালকা বিস্ময় নিয়ে বললেন,
-“জুয়িনকে এত দিন ধরে চিনি, অথচ বুঝতেই পারিনি ও আমার বোনের ছেলে।"

জুয়িন মৃদু হেসে বলল,
-“এখন তো জেনে গেছেন আমি আপনার বোনের ছেলে, খালামণি। এতেই চলবে।”

জুয়িনের মুখে ‘খালামণি’ ডাকটা শুনে আয়রা বেগমের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এত দিন যাকে পরিচিত একজন ছেলে হিসেবেই জানতেন, সে যে তাঁর নিজের ভাগনে, এই উপলব্ধিটা তাঁর কাছে ভীষণ আনন্দের।

এরপর আয়রা বেগম জুয়িনের চাচা-চাচিদের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন। পরিবারের সবাই একে অপরের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরের পরিবেশ বেশ আন্তরিক হয়ে উঠল।

এদিকে জিনিয়া সোফা থেকে উঠে তাসিফার কাছে এগিয়ে গেল। এতক্ষণ সবার কথাবার্তা শুনলেও তাসিফার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলা হয়নি তার।

তাসিফার পাশে বসে হাসিমুখে বলল,
-“তুমি তাহলে আমার খালাতো বোন! তোমাকে তুই করে ডাকি? তুমি তো আমার ছোট হবে।”

তাসিফা মিষ্টি হেসে উত্তর দিল,
-“সমস্যা নেই, আপু। ডাকো।”

জিনিয়া খুশি হয়ে তাসিফার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
-“আচ্ছা।”

তাসিফাও হাসল। অল্প সময়ের মধ্যেই এতগুলো নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। যে মানুষগুলোকে এতক্ষণ আলাদা একটা পরিবারের সদস্য বলে মনে হচ্ছিল, এখন তারাই নিজের মানুষ।

কিছুক্ষণ পর আয়রা বেগমের হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ল। তিনি সবার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন,
-“আচ্ছা, তোমরা হঠাৎ এখানে এলে কেন? মানে, জুয়িনের বাসায় কী হয়েছিল?”

প্রশ্নটা শুনে আফসানা শিকদার ও জিসান শিকদার একে অপরের দিকে তাকালেন। এরপর তাঁরা জুয়িনের বাসায় আসার কারণ, জুয়িনের সঙ্গে তাঁদের দেখা হওয়া এবং এতক্ষণে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আয়রাকে বিস্তারিত জানালেন।

সব শুনে আয়রা বেগম মাথা নাড়লেন। এবার তাঁর কাছে সবকিছু পরিষ্কার হলো। এত কিছুর মধ্যেও যে তাঁদের পরিবারের পুনর্মিলন ঘটবে, তা সত্যিই কল্পনার বাইরে ছিল।

কিছুক্ষণ ভেবে তিনি আন্তরিকভাবে বললেন,
-“আজ সবাই আমাদের বাসায় থেকে যাও।”

জাইম শিকদার একটু ইতস্তত করে বললেন,
-“বাসায় তো ছেলে-মেয়েরা আছে। তাদের বলে আসিনি যে আজ এখানে থাকব।”

জিনিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলল,
-“চাচ্চু, তাদের ফোন করে জানিয়ে দাও। তাহলেই তো হয়ে যায়!”

জাইম শিকদার মেয়ের কথায় সম্মতি জানালেন। তবে তার আগেই জিসান শিকদার বলে উঠলেন,
-“তাহলে আমি বাড়িতে জানিয়ে দিচ্ছি।”

কথাটা বলেই তিনি বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিলেন, আজ তাঁরা সবাই আয়রাদের বাসায় থাকবেন।

ফোন রেখে তিনি সবার দিকে তাকালেন। এত বছর পর পরিবারের হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে ফিরে পাওয়া, আর সেই সুবাদে নতুন করে আত্মীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ, সব মিলিয়ে দিনটা যেন সবার জন্যই বিশেষ হয়ে উঠল।

----

সন্ধ্যা গড়িয়ে এখন সাতটা বাজে। সবাই আয়রা বেগমের বাসায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। গল্প যেন আর শেষই হতে চাইছে না। কখনো পারিবারিক টুকিটাকি কথা, কখনো পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ, আবার কখনো বাড়ির ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আলোচনা, সব মিলিয়ে বেশ জমে উঠেছে আড্ডা।

এরই মাঝে তাসিফার মোবাইল বেজে উঠল। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল, ভণ্ডপার্টি ভিডিও কল করেছে।

তাসিফা সবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে সবার চোখ এড়িয়ে ছাদের দিকে পা বাড়াল। এত মানুষের ভিড়ে বসে কথা বলা সম্ভব নয়। তার ওপর সবার কথার আওয়াজ আর হাসি-ঠাট্টায় ঘরজুড়ে বেশ হইচই চলছে।

ছাদে এসে তাসিফা কলটা রিসিভ করল।
-"হ্যালো"

ওপাশ থেকে ইয়াশ জিজ্ঞেস করল,
-"কালকে ভার্সিটিতে যাবি তোরা?"

সবাই একসঙ্গে হ্যাঁ-সূচক উত্তর দিল। তাসিফাও সম্মতি জানাল। তারপর হঠাৎ তার মনে পড়ল কিছু একটা। উত্তেজিত কণ্ঠে বলে উঠল,
-"ভাই, জানিস! জুয়িন ভাই আর আমি কাজিন হই।"

কথাটা শুনে ওপাশের সবাই যেন একসঙ্গে থমকে গেল।

ইয়াশ অবাক হয়ে বলল,
-"কী! কেমনে? কীভাবে হলো এসব? আগে পুরো ঘটনা বল!"

তাসিফা হেসে তাদের সবটা খুলে বলল। হারিয়ে যাওয়া দুই বোনের এত বছর পর দেখা হওয়া থেকে শুরু করে জুয়িনের সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বেরিয়ে আসা, কোনো কিছুই বাদ দিল না। পুরো ঘটনা বলতে বেশ খানিকটা সময় লেগে গেল।

সব শুনে ইয়াশ বলে উঠল,
-"ভাই, পুরাই সিনেমার কাহিনি।"

তাসনিমও অবাক হয়ে বলল,
-"তার মানে তোরা খালাতো ভাই-বোন?"

তাসিফা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

সাদ এবার জানতে চাইল,
-"জুয়িন ভাই কি কালকে চলে যাবেন বাড়িতে?"

তাসিফা আবারও মাথা নাড়ল। তারপর একটু মন খারাপ করা কণ্ঠে বলল,
-"হুম। উনাকে মিস করব।"

কথাটা শেষ হতে না হতেই পেছন থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল,
-"আমিও করব।"

তাসিফা চমকে দ্রুত পেছনে ফিরে তাকাল। জুয়িনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। কখন যে লোকটা পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে, টেরই পায়নি।

জুয়িন এগিয়ে এসে তার পাশে দাঁড়াল। তারপর মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সবাইকে উদ্দেশ করে বলল,
-"হেই।"

ওপাশ থেকেও সবাই একসঙ্গে হেই জানাল।

ইয়াশ দাঁত বের করে হেসে বলল,
-"জুয়িন ভাই, জামাই থেকে ভাই হয়ে গেলেন। ফিলিংস কেমন?"

জুয়িনের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।
-"আপন ভাই তো আর হইনি। শুধু কাজিন হয়েছি।"

তার কথা শুনে ওপাশে আবারও হাসির রোল উঠল। এরপর কিছুক্ষণ চলল ঠাট্টা-মশকরা। একপর্যায়ে সবাইকে বিদায় জানিয়ে কল কেটে দিল তাসিফা।

মোবাইলটা নামিয়ে জুয়িনের দিকে তাকাল সে।
-"আপনি কী করে বুঝলেন আমি ছাদে আছি?"

জুয়িন মৃদু হেসে বলল,
-"সবার চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও আমার চোখ ফাঁকি দিতে পারবি না। আমি তোকে ছাদের দিকে যেতে দেখেছি। আর আমিও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছাদে চলে এসেছি।"

তাসিফার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল। এরপর দুজন পাশাপাশি গিয়ে ছাদের রেলিংয়ের পাশে দাঁড়াল।

কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর তাসিফা জিজ্ঞেস করল,
-"আচ্ছা, আপনি যদি কাল চলে যান, তাহলে ফুলগাছগুলোর কী হবে?"

জুয়িন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
-"এগুলোও সঙ্গে করে নিয়ে যাব।"

-"ওহ!"

তাসিফার ছোট্ট উত্তর শুনে জুয়িন তার দিকে তাকাল।
-"মন খারাপ?"

তাসিফা একটু থেমে বলল,
-"আমার যখন ইচ্ছে করবে, তখন আমি আপনার সঙ্গে দেখা করব কীভাবে?"

কথাটা শুনে জুয়িন হেসে ফেলল।
-"শুধু একটা কল করবি। তারপর আমি তোর সামনে এসে হাজির।"

জুয়িনের কথা শুনে তাসিফাও হেসে উঠল। তার মনটা যেন মুহূর্তেই হালকা হয়ে গেল।

এরপর ধীরে ধীরে জুয়িনের বাহুতে মাথা ঠেকাল সে। জুয়িনও মৃদু হেসে এক বাহু দিয়ে তাসিফাকে নিজের কাছে টেনে নিল। তারপর দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইল বাইরের দিকে।

ছাদের ওপর নেমে আসা সন্ধ্যার নরম আলোয় দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল। তাদের মাঝে কোনো কথা নেই, তবু নীরবতার মধ্যেও যেন অনেক কথা বলা হয়ে গেল।

#চলবে
(আজকের পর্ব দেওয়ার জন্য ইনবক্সে একের পর এক মেসেজ আসছে। তোমাদের সবার এত অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলাম না। তাই অনেকক্ষণ সময় নিয়ে শেষ পর্যন্ত আজকের পর্বটা লিখলাম। তোমাদের এত আগ্রহ আর ভালোবাসার পর আর না করতে পারলাম না। ❤ আজকের পর্বটা কেমন লাগল, সবাই জানাবে কিন্তু।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 51 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন