#তুমি_কারো_নও
#লেখিকা_মিশু
----
রাতে সবাই একসঙ্গে ডিনার করল। আয়রা বেগম বেশ খুশি। অনেক দিন পর সবার সঙ্গে এভাবে সময় কাটাতে পেরে মনটা ভরে গেছে তাঁর। জিসান শিকদার আর আলমগীর আলমের মধ্যেও বেশ ভালো সখ্যতা গড়ে উঠেছে। জাওয়াদ শিকদার ও জাইম শিকদারের সঙ্গেও আলমগীর আলমের বেশ ভালোই জমেছে।
খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই মিলে গল্প করতে করতে সময় পার করল। দেখতে দেখতে রাত প্রায় বারোটা বেজে গেল। আগামীকাল জুয়িন আর তাসিফা দুজনেরই ভার্সিটি আছে। তাই এবার সবার ঘুমাতে যাওয়া উচিত।
আয়রা বেগম হঠাৎ বলে উঠলেন,
-"আজ আমি আমার আপার সঙ্গে ঘুমাবো।"
আলমগীর আলম স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
-"ঠিক আছে। দুজনের অনেক কথা জমে আছে, বুঝতেই পারছি।"
তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
-"তাহলে আমি আর জিনিয়া আপু আমার রুমে ঘুমাই?"
জুয়িন এবার মুখ খুলল,
-"এই বাসায় তো সবার জায়গা হবে না। তার চেয়ে চাচ্চু, চাচি, বাবা আর আঙ্কেল আমার ফ্ল্যাটে ঘুমাক।"
জুয়িনের প্রস্তাবে সবাই সম্মতি জানাল।
কথাবার্তা শেষে সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করল। যে যার মতো নিজেদের রুমের দিকে এগিয়ে গেল।
সবাই যখন ব্যস্ত, তখন জুয়িন আড়চোখে তাসিফার দিকে তাকাল। এরপর চোখের ইশারায় তাকে বিদায় জানাল।
তাসিফাও মুচকি হেসে সেখান থেকে চলে গেল।
----
তাসিফা জিনিয়াকে নিজের একটা গেঞ্জি আর প্যান্ট দিল। আজ যে এখানে থাকতে হবে, সেটা জিনিয়া আগে থেকে জানত না। তাই বাসা থেকে অতিরিক্ত জামাকাপড় নিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়েই তাসিফার কাছ থেকে চেয়ে নিল।
জামাকাপড় নিয়ে জিনিয়া ফ্রেশ হতে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বিছানায় বসল। তাসিফাও তখন বিছানার একপাশে বসে ছিল। জিনিয়া তার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ প্রশ্ন করল,
-"তাসিফা, তোর চাচাতো কিংবা ফুপাতো ভাই-বোন আছে?"
তাসিফা একটু ভেবে উত্তর দিল,
-"বেশি নেই। শুধু দুজন ফুপাতো ভাই-বোন আছে।"
জিনিয়া অবাক হয়ে বলল,
-"ওহ! আমাদের তো অনেক চাচাতো ভাই-বোন আছে। আমরা সবাই একসঙ্গেই থাকি। আমাদের বাড়িতে সব সময় হইচই লেগে থাকে। একজন দুষ্টুমি শুরু করলে বাকিরাও তার সঙ্গে যোগ দেয়।"
তাসিফা হেসে বলল,
-"তোমরা তো তাহলে খুব মজা করো!"
জিনিয়া হেসে বলল,
-"হ্যাঁ। সবাই বদের হাড্ডি একেকটা! সারাক্ষণ একজন আরেকজনের পেছনে লেগে থাকে। কখনো খুনসুটি, কখনো ঝগড়া, আবার কিছুক্ষণ পর নিজেরাই সব ভুলে একসঙ্গে বসে গল্প করে। আমাদের বাড়িতে কখনো একঘেয়েমি লাগবে না।"
তাসিফা হেসে বলল,
-"আচ্ছা, তোমরা তাহলে সবাই খুব ফ্রেন্ডলি।"
-"হ্যাঁ রে! সবাই মিলে থাকি তো, তাই একজনের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্কও বেশ ভালো। অবশ্য ঝগড়াঝাঁটি যে হয় না, তা কিন্তু নয়।"
জিনিয়ার কথা শুনে তাসিফা হেসে ফেলল।
-"একসঙ্গে থাকলে একটু-আধটু ঝগড়া তো হবেই।"
-"একদম! তবে আমাদের ঝগড়া বেশিক্ষণ টেকে না। একটু পরেই আবার সব ঠিক হয়ে যায়।"
তাসিফা মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।
জিনিয়া আবার বলল,
-"তুই আমাদের বাড়িতে গেলে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব। তোকে দেখলে ওদেরও ভালো লাগবে।"
তাসিফা হেসে মাথা নাড়ল। জিনিয়ার সঙ্গে কথা বলতে তার বেশ ভালো লাগছিল। মেয়েটা খুব সহজেই আপন করে নিতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যেই দুজনের মধ্যে বেশ ভালো একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গেছে।
এরপর দুজন আরও কিছুক্ষণ গল্প করল। কখনো পরিবারের কথা, কখনো নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কথা বলতে বলতে সময় কেটে গেল।
একসময় জিনিয়া হাই তুলে বলল,
-"আর পারছি না রে। ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। কাল আবার সকালে উঠতে হবে।"
তাসিফা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, রাত অনেক হয়েছে। সকালে ভার্সিটি আছে, তাই আর জেগে থাকা ঠিক হবে না।
সে রুমের লাইট নিভিয়ে বিছানায় ফিরে এল। দুজন নিজেদের মতো শুয়ে পড়ল।
----
পরের দিন,
তাসিফা ভার্সিটিতে এসে বন্ধুদের সঙ্গে বসে আছে। তার বন্ধুরা সকাল থেকেই ট্রিটের জন্য পেছনে লেগে আছে। অথচ কী উপলক্ষে ট্রিট দিতে হবে, সেটাই তাসিফার বোধগম্য হচ্ছে না।
তাসিফা বিরক্ত হয়ে বলল,
-"কিসের ট্রিট দিবো? কেন দিবো?"
ইয়াশ সঙ্গে সঙ্গে বলল,
-"পল্টি মারিস না। তুই তোর খালামণি আর খালাতো ভাইকে খুঁজে পেয়েছিস। সেই সুবাদে ট্রিট দে।"
তাসিফা চোখ বড় বড় করে বলল,
-"টাকা আমার গাছে ধরে? শালা, তুই বড়লোক হয়ে আমার মতো মিসকিনের কাছে ট্রিট চাস? লজ্জা করে না?"
সাদ হেসে বলল,
-"তুই তো জানিসই, ইয়াশের লজ্জা নেই। তবুও বারবার এই কথা বলে ওকে লজ্জা দিচ্ছিস কেন?"
তাসনিম হেসে উঠল। ইয়াশ সাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
-"এই, চুপ কর শালা! তোকে কে বলছে আমার লজ্জা নেই? আলবাত আছে!"
-"তাই নাকি? তোর কথা শুনে তো মনে হচ্ছে, লজ্জা শব্দটার সঙ্গে তোর কোনো পরিচয়ই নেই।"
সাদের কথা শুনে তাসনিম আবারও হেসে দিল। তাসিফাও হাসি চেপে রাখতে পারল না।
ইয়াশ বিরক্ত হয়ে বলল,
-"তোরা সবাই মিলে আমার পেছনে লাগছিস কেন? ট্রিট চাইছি, নিজের সম্পত্তি তো আর চাইছি না।"
তাসিফা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
-"ট্রিট চাইছিস না, আমার পকেট খালি করার ধান্দা করছিস।"
তাদের কথার মাঝেই জুয়িন এসে তাদের সঙ্গে বসে পড়ল। তাকে দেখামাত্র ভণ্ডপার্টির সদস্যরা যেন নতুন শিকার পেয়ে গেল। ইয়াশ সবার আগে জুয়িনের দিকে ঝুঁকে বলল,
-"জুয়িন ভাই, ট্রিট দেন। আপনার বউ কিপটা, সে দিচ্ছে না"
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।
-"কিসের ট্রিট? আমি মনে হয় ভুল করেছি এখানে বসে।"
তাসিফা হেসে বলল,
-"আসলেই ভুল করেছেন। এখনো সময় আছে, উঠে চলে যান।"
সাদ এবার জুয়িনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-"সিয়াম ভাই আর রিদ ভাই কোথায়, জুয়িন ভাই?"
জুয়িন উত্তর দিল,
-"ওরা আজ আসেনি। রিদ গ্রামের বাড়িতে গেছে। আগামীকাল চলে আসবে। আর সিয়ামের পা ব্যথা, তাই সে আসেনি।"
সবাই একসঙ্গে বলে উঠল,
-"ওহ!"
কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর জুয়িন আশপাশে তাকিয়ে বলল,
-"আজ ক্লাস করতে ইচ্ছে করছে না।"
তাসিফা তার দিকে তাকিয়ে বলল,
-"তাহলে আপনি এখানে বসে থাকুন। আমি শুধু একটা ক্লাস করে আপনার সঙ্গে বাসায় চলে যাব।"
জুয়িন মাথা নাড়ল। তার সম্মতি পেয়ে তাসিফা উঠে দাঁড়াল।
ইয়াশ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
-"তাহলে তো আমরা একা হয়ে যাব।"
তাসিফা ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।
-"কীভাবে? তোরা তো থাকবিই।"
-"আরে, তুই চলে গেলে আমাদের কে জ্বালাবে? আমাদের আড্ডার অর্ধেক মজাই তো তুই।"
তাসিফা হেসে বলল,
-"হয়েছে আর তেল মারতে হবে না।"
কথাটা বলে তাসিফা তাসনিমের হাত ধরে ক্লাসের দিকে এগিয়ে গেল। ভণ্ডপার্টির বাকি সদস্যরাও তার পিছু নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ক্লাসের দিকে চলে গেল।
এদিকে জুয়িন একা বসে রইল মাঠের ওপর। চারপাশে তাকিয়ে দেখল, কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘাসের ওপর বসে গল্প করছে, কেউ কেউ আবার দল বেঁধে হেঁটে যাচ্ছে।
জুয়িন পকেট থেকে মোবাইল বের করল। এরপর স্ক্রিনে চোখ রেখে এদিক-ওদিক স্ক্রল করতে শুরু করল। আজ ক্লাস করার ইচ্ছা নেই, তাই আপাতত এভাবেই সময় কাটানো ছাড়া তার আর কোনো কাজ নেই।
----
প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর তাসিফা ক্লাস থেকে বেরিয়ে এলো। ভণ্ডপার্টির বাকি সদস্যরা ক্লাস করবে। তাসিফা তাদের কথা দিয়েছে, কয়েক দিন পর ট্রিট দেবে। আপাতত এই আশ্বাসেই তারা রাজি হয়ে গেছে।
তাসিফা মাঠে এসে দেখল, জুয়িন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। সে জুয়িনের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। এরপর বলল,
-"চলুন।"
জুয়িন মোবাইল পকেটে রেখে উঠে দাঁড়াল। মাথা নেড়ে বলল,
-"চল। বাইক সামনে দাঁড় করানো আছে।"
তাসিফা জুয়িনের পেছন পেছন হাঁটতে লাগল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজন বাইকের কাছে পৌঁছে গেল। জুয়িন বাইকে উঠে বসল। তাসিফাও তার পেছনে বসে পড়ল। এখন আর এত মানুষের সামনে জুয়িনের সঙ্গে বাইকে বসতে তাসিফার অস্বস্তি লাগে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপারটা তার কাছে বেশ স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
জুয়িন বাইক স্টার্ট দিল। ধীরে ধীরে বাইক এগিয়ে চলল। ভার্সিটির চেনা পরিবেশ পেছনে ফেলে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। তাসিফা সামনের দিকে তাকিয়ে রইল, আর জুয়িন মনোযোগ দিয়ে বাইক চালাতে লাগল।
----
বাসায় ফিরে তাসিফা ও জুয়িন বসার ঘরে এসে সোফায় বসল। বাইরে থেকে ফেরার পর তাসিফা ফ্রেশ হতে নিজের রুমে চলে গেছে। জুয়িন অবশ্য বসার ঘরেই বসে রইল।
কিছুক্ষণ পর আয়রা বেগম রান্নাঘর থেকে এক গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত নিয়ে এলেন। জুয়িনের সামনে এসে গ্লাসটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন,
-"নিশ্চয়ই অনেক গরম লাগছে। এই গরমে বাইরে থেকে ফিরেছ। শরবতটা খাও, ভালো লাগবে।"
জুয়িন হেসে গ্লাসটা হাতে নিল। তারপর এক মুহূর্তও দেরি না করে ঢকঢক করে পুরো শরবতটুকু খেয়ে ফেলল। ঠান্ডা শরবত খেয়ে তার বেশ ভালো লাগল।
আয়রা বেগম ছেলের মতো স্নেহ নিয়ে জুয়িনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। তাসিফার জন্যও তিনি শরবত বানিয়ে রেখেছেন। মেয়েটা ফ্রেশ হয়ে নিলেই তাকে দেবেন।
----
তাসিফা নিজের রুমে এসে দেখল, জিনিয়া জামা-কাপড় পরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। তাকে এভাবে তৈরি হয়ে থাকতে দেখে তাসিফার মনটা খারাপ হয়ে গেল। এতক্ষণ একসঙ্গে সময় কাটানোর পর এবার বিদায় নেওয়ার পালা। অথচ তাসিফার ইচ্ছে, জিনিয়া আরও কিছুক্ষণ তাদের বাসায় থাকুক।
তাসিফা জিনিয়ার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। তারপর মায়াভরা কণ্ঠে বলল,
-"দুপুরে খেয়ে-দেয়ে যাবে না, আপু?"
জিনিয়া হেসে তাসিফার দিকে এগিয়ে এলো। কাছে এসে স্নেহভরে তার গাল টেনে বলল,
-"নারে। এখন নাশতা করেই সবাই বের হবো।"
তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল,
-"দুপুরে গেলে হয় না? আরেকটু থাকো না।"
জিনিয়া তাসিফার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। মেয়েটার এমন আবদার দেখে তারও মায়া লাগল। তবু এখন তাদের ফিরতে হবে। তাসিফার গালে আলতো করে হাত বুলিয়ে বলল,
-"আরে পাগলি, মন খারাপ করিস না। আমাদের তো আবার দেখা হবে। তুই এমন করছিস, যেন আর কখনো দেখা হবে না।"
তাসিফা ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেলে জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরল। তাকে ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করছে না। অল্প সময়ের মধ্যেই জিনিয়ার সঙ্গে তার বেশ ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। তাই বিদায়ের কথা ভাবতেই মনটা খারাপ হয়ে আসছে।
তাসিফা জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-"মিস করব তোমাকে, আপু।"
জিনিয়াও তাকে দুহাতে জড়িয়ে নিল। আদুরে স্বরে বলল, -"আমিও মিস করব আমার এই ছোট্ট পাখিটাকে।"
কিছুক্ষণ এভাবেই থাকার পর তাসিফা জিনিয়ার কাছ থেকে সরে এলো। হঠাৎ তার কী যেন মনে পড়ল। সে জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
-"তোমার নাম্বারটা দাও, আপু।"
জিনিয়া হেসে বলল,
-"নাম্বার দিয়ে কী করবি?"
তাসিফা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
-"তোমাকে কল করব। আর কী।"
জিনিয়া হেসে তাসিফার হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে তাতে নিজের নম্বর লিখে দিল। এরপর তাসিফার মোবাইল থেকে নিজের ফোনে কল করল। নিজের ফোনে কল আসতেই জিনিয়া নম্বরটি পেয়ে গেল। তারপর নিজের মোবাইলেও তাসিফার নম্বরটি সেভ করে নিল।
মোবাইলটা তাসিফার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে জিনিয়া বলল,
-"এইবার খুশি?"
তাসিফা হাসিমুখে মাথা নাড়ল।
জিনিয়া তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
-"বাড়ি ফিরেই তোকে কল করব।"
তাসিফা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। এবার অন্তত যোগাযোগ রাখার একটা উপায় হলো। জিনিয়া চলে গেলেও ফোনে কথা বলা যাবে, ইচ্ছে হলেই খোঁজ নেওয়া যাবে।
----
সবাই একসঙ্গে নাশতা করতে বসেছে। খাওয়া শেষ করেই জুয়িনরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাবে।
আফসানা ও আয়রা বেগম গল্প করতে করতে নাশতা করছিলেন। এরই মধ্যে জিসান শিকদার জুয়িনের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-"জুয়িন, তোমার ফুলগাছগুলোর জন্য কি পিকআপ গাড়ির ব্যবস্থা করব?"
জিনিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলল,
-"বাড়িতে তো ফুলগাছের অভাব নেই। সেগুলো এখানেই থাকুক না।"
জুয়িন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,
-"ফুলগাছগুলো এখানে থাকলে যত্ন নেবে কে? তাসিফার জন্য অযথা ঝামেলা হয়ে যাবে। প্রতিদিন এতগুলো গাছের যত্ন নেওয়া সহজ নয়। এর চেয়ে ভালো, বাড়িতে নিয়ে যাই।"
জিনিয়া ছোট ভাইয়ের কথা বুঝতে পেরে মাথা নাড়ল। তাসিফাও কিছু বলল না। কথাটা অবশ্য ঠিকই। এতগুলো ফুলগাছের নিয়মিত যত্ন নেওয়া তার জন্য বাড়তি ঝামেলা হয়ে দাঁড়াবে।
জিসান শিকদার বললেন,
-"তাহলে দুপুরে একটা পিকআপ গাড়ি এখানে আসবে। ছাদ থেকে ফুলগাছগুলো নিয়ে আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দেবে।"
জুয়িন সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল। এরপর সবাই আবার নাশতায় মনোযোগ দিল।
খাওয়া শেষে বিদায়ের সময় এলো। আফসানা ও আয়রা বেগম একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। অনেক বছর পর দুই বোনের দেখা হয়েছে। আবার বিদায় নেওয়ার সময়ও এসে গেল।
আফসানা ছোট বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, -"আগামীকাল আমাদের বাড়িতে আসিস। মোবাইলে ঠিকানা পাঠিয়ে দেবো। জুয়িন দুবছর পর বাড়িতে ফিরছে, আর তোকে এত বছর পর কাছে পেলাম। তাই কাল একটা অনুষ্ঠান রেখেছি। সবাইকে নিয়ে চলে আসিস।"
আয়রা বেগম হেসে বললেন,
-"আচ্ছা আপা, চলে আসব। তোমরা সাবধানে যেয়ো। বাড়িতে পৌঁছে ফোন করে জানিয়ে দিও।"
আফসানা মাথা নাড়ল। অন্যরাও সম্মতি জানাল।
এরপর সবাই একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে জুয়িন মোবাইল বের করে তাসিফাকে একটা টেক্সট পাঠাল।
"বাই, সোনা।"
মেসেজটা দেখে তাসিফার ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। জুয়িন চলে যাচ্ছে, অথচ তার মনে হচ্ছে, মানুষটাকে এখন থেকেই মিস করতে শুরু করেছে।
#চলবে