ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি সিজন-২

পর্ব 44

লেখক: F. Tabassum

পরদিন সকাল।
ইনায়া খুব ভোরেই ঘুম থেকে উঠে পড়ল। রাতে ঘুম কিছুটা কম হলেও তার চোখে কোনো ক্লান্তির ছায়া ছিল না; বরং তার পুরো অবয়ব জুড়ে ছিল নতুন এক এনার্জি। সে একটি সাদা ফরমাল ড্রেস পরল, চুলগুলো বাঁধল এবং ফাইলটা হাতে নিয়ে আভা গ্রুপের অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল।
আভা গ্রুপ – হেড অফিস
বিশাল এক কাঁচের গগনচুম্বী ভবন। ভেতরে পা রাখতেই লাক্সারি, নিয়মানুবর্তিতা আর এক নীরবতা—সব মিলিয়ে কিছুটা ভয় ধরানো পরিবেশ চারপাশকে ঘিরে রেখেছে। ইনায়াকে সরাসরি রিসেপশন থেকে দশম তলার মিটিং রুমের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।
মিটিং রুম
ঘরের মাঝখানে একটি দীর্ঘ কাঁচের টেবিল পাতা। তার ওপাশে আভা গ্রুপের তিনজন এক্সিকিউটিভ অত্যন্ত গম্ভীর মুখে বসে আছেন। ঠিক মাঝখানে বসে থাকা ব্যক্তিটি হলেন কোম্পানির ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর । তিনি টেবিলের ওপর রাখা ফাইলটি খুলে ইনায়ার দিকে তাকালেন।
ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর: "মিশেল ইনায়া রহমান?"
(Ms. Inaya Rahman?)
ইনায়া: "শি।"
(হ্যাঁ।)
রুমে কয়েক সেকেন্ডের একটি স্তব্ধতা নেমে এল। তার সিভি আর বিজনেসের মূল প্রপোজালটা টেবিলের ওপর অলসভাবে পড়ে আছে। ডিরেক্টর ফাইল থেকে চোখ না সরিয়েই ধীর গলায় বললেন—
"ওমেন ঝিদাও নি ইছিয়ান হান অ্যারিস জিথুয়ান দে গুয়ানঝি।" (আমরা অ্যারিস গ্রুপের সাথে আপনার অতীতের যুক্ত থাকার বিষয়টি ভালো করেই জানি।)"
এই একটি বাক্যে ইনায়ার মুখের অভিব্যক্তি মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য শক্ত হয়ে গেল। বুকের ভেতর অতীতের হাজারটা স্মৃতি মোচড় দিয়ে উঠল, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল। নিজের ভেতরের অস্থিরতা বাইরে প্রকাশ পেতে দিল না।
ইনায়া শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় বলল,: "না শি ইছিয়ান দে শিছিন।" (সেটা অন্য সময় ছিল। অতীত।)
ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর কুটিল চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন : "শাইনজাই নে?" (আর এখন?)
— "শাইনজাই ও জাই চিয়ানলি শুইউ ও যিজি দে দোংশি।(এখন আমি সম্পূর্ণ নিজের একটা কিছু তৈরি করছি।)"
কথাটা শেষ করেই সে নিজের ল্যাপটপটা খুলল এবং অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে তার প্রেজেন্টেশন শুরু করল। তার তৈরি করা গয়নার ডিজাইন, বর্তমান বাজারের শূন্যতা  এবং লাক্সারি পোশাকের সাথে ম্যাচিং জুয়েলারির ইউনিক কনসেপ্ট—সবকিছু সে এক এক করে তুলে ধরল। তার প্রতিটি শব্দ ছিল পরিষ্কার এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তার কণ্ঠে বিন্দুমাত্র কোনো দ্বিধা বা জড়তা ছিল না।
ইনায়ার কথা বলার ধরন আর তার স্ট্র্যাটেজি দেখে উপস্থিত এক্সিকিউটিভদের চোখে ধীরে ধীরে আগ্রহের ছাপ স্পষ্ট হতে লাগল। তাদের মধ্যে একজন অন্যজনের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন—
১ম এক্সিকিউটিভ: "তা বু জিন ইউ ছুয়াংই, আর ছিয়ে ফে ছাং দোং শিছাং শিনলি।" (তিনি শুধু একজন সৃজনশীল ডিজাইনারই নন... তিনি বাজারের মনস্তত্ত্বও খুব ভালো বোঝেন।)
প্রেজেন্টেশন শেষ......
রুমে আবার কিছুক্ষণের জন্য এক গভীর নীরবতা নেমে এল। সবাই যেন মনে মনে হিসাব মেলাচ্ছিল। তারপর ডিরেক্টর ধীর পায়ে ফাইলের পাতা উল্টে বললেন— "নি শুও জেগা ফিনিক্স জুয়েলারি?" (আপনি বললেন কোম্পানির নাম 'ফিনিক্স জুয়েলারি'?)
—  "শি দে।" (হ্যাঁ।)
ডিরেক্টর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,"ওমেন উইশেনমা বু থৌজী ইগা ছেনশু দে পিনপাই, আর শি থৌজী নি দে শিন পিনপাই? (কিন্তু আমরা কেন একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের বদলে আপনার এই নতুন ব্র্যান্ডে ইনভেস্ট করব?)"
ইনায়া এক মুহূর্ত চুপ রইল। তার চোখ দুটো যেন তার পেটের অনাগত সন্তান আর দূরে থাকা আইরার মুখটা একবার হাতড়ে এল। তারপর একটি হালকা শ্বাস নিয়ে সে বলল—
"ইনওই ছেনশু দে পিনপাই চিশি জাই ছংফু ইছিয়ান দে ছেনগোং... আর ও শি ছোং শিবাঈ আর লিং খাইশি দে। শেই ইয়ে বু নেং জুঝি ইগা ছোং হুশিন ঝোং ফেই ছুলাই দে রেন। (কারণ সুপ্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো তাদের অতীতের সাফল্যকে বারবার পুনরাবৃত্তি থাকে... আর আমি শুরু করছি আমার ব্যর্থতা থেকে, শূন্য থেকে। আর যে নিজের ছাই থেকে উঠতে জানে, তাকে থামানো যায় না।)"
রুমে আবার এক নিথর নীরবতা। ইনায়ার এই একটি বাক্য যেন তীরের মতো গিয়ে সবার বুকে বিঁধল।
ডিরেক্টর আর কথা না বাড়িয়ে তার সামনের ফাইলটা সশব্দে বন্ধ করলেন। ইনায়ার বুকের ভেতরটা তখন ধক করে উঠেছিল, কিন্তু তার মুখের অভিব্যক্তি রইল একদম শান্ত ।
ডিরেক্টর বললেন: ওমেন শাইনজাই বুহুই থিজোং ছুয়ানবু দে থৌজী।" (আমরা এই মুহূর্তে আপনাকে পুরো ইনভেস্টমেন্টটা দেব না।)
ইনায়া মনে মনে যেন কিছুটা দমে গেল,"দানশি..."(কিন্তু...)
ডিরেক্টর হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, "ওমেন শিয়াং ঝিছি নি, জুওই আভা জিথুয়ান শিয়া ইজি শিজুয়ান শিয়েন দে শিংমু হেজুও। (আমরা আভা গ্রুপের আগামী ফ্যাশন লাইনের সাথে একটি পাইলট কোলাবোরেশন প্রজেক্ট হিসেবে আপনাকে সাপোর্ট করতে চাই।)"
কথাটা শুনে ইনায়ার চোখ দুটো সামান্য বড় হয়ে গেল,  " ইসি শি...?" (এর অর্থ হলো...?)
ডিরেক্টর বুঝিয়ে বললেন , "শাও গুইমো তুইছু। শিয়ানলিয়াং শিলিয়ের, দান জুইউ ছিউয়াংশিং দে ফাংইং।" (ছোট পরিসরে লঞ্চ। লিমিটেড কালেকশন, কিন্তু এর গ্লোবাল এক্সপোজার থাকবে।)
ইনায়া এক সেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করল। তার বুকের ভেতর আনন্দের এক বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ল। এই সুযোগটাই তো সে চাচ্ছিল! সে চোখ খুলে ধীর অথচ স্পষ্ট গলায় বলল— Accepted
মিটিং শেষ।
সে যখন রুম থেকে বের হয়ে আসছিল, কাঁচের দেয়াল দিয়ে বাইরের বেইজিং শহরের বিশাল আকাশ আর বড় বড় বিল্ডিংগুলোর ওপর তার চোখ পড়ল। ইনায়া এক মুহূর্তের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ল। একটি গভীর ও স্বস্তির শ্বাস নিল সে।

আভা গ্রুপের সেই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং শেষ করে ইনায়া যখন ভবনটি থেকে বাইরে পা রাখল, তখন চারপাশের পরিবেশটা একদম বদলে গেছে। চীনের সেই ব্যস্ত শহরের চেনা রাস্তাঘাট, গাড়ির হর্ন আর মানুষের উপচে পড়া ভিড়—সবকিছুই বাইরে নিজের গতিতে চলছিল। কিন্তু ইনায়ার ভেতরের দুনিয়াটা তখন সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেছে। তার বুকের ভেতর এখন আর কোনো সংশয় নেই। নিজের হাতে থাকা আভা গ্রুপের দেওয়া ফাইলটা সে আরও শক্ত করে চেপে ধরল।
তার মাথায় এখন একটাই শব্দ বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে—"Pilot project..."
শুরুটা হয়তো ছোট, কিন্তু এর ভেতরের সুযোগটা যে বিশাল, তা সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে।
ইনায়া হেঁটে রাস্তার মোড়ে থাকা একটা শান্ত ক্যাফের দিকে এগিয়ে গেল। ক্যাফেতে ঢুকে কোণের একটা টেবিল বেছে নিয়ে সে বসল। ল্যাপটপটা বের করে অন করতেই আভা গ্রুপের পাঠানো কনফার্মেশন মেইলটা স্ক্রিনে ভেসে উঠল। সে আরও একবার গভীর মনোযোগ দিয়ে মেইলটি পড়ল। তারপর বুক ভরে একটা শ্বাস নিয়ে ওপেন করল তার স্বপ্নের 'Phoenix Jewellery'-এর মেইন ডিজাইন ফোল্ডারটি।
আজ সে শুধু একজন সাধারণ ডিজাইনার নয়; এই কোম্পানির ফাউন্ডার, প্ল্যানার এবং মার্কেটার—সবকিছুই সে একা। সব দায়িত্ব এখন তার নিজের কাঁধে। সে নতুন একটা কালেকশন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিল। ল্যাপটপের পাতায় নতুন এই কালেকশনের থিম হিসেবে বড় বড় অক্ষরে লিখল—
"REBIRTH"
নামটা লেখার সাথে সাথেই ইনায়ার চোখের সামনে তার নিজের পুরো জীবনটা ভেসে উঠল। অ্যারিসের সাথে সেই গভীর কিন্তু ভাঙা সম্পর্ক, আইরাকে ছেড়ে আসার বুকফাটা কষ্ট, হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সময় , রাতের পর রাত একা একা কেঁদে কাটানো একাকীত্ব আর ভবিষ্যতের অজানা ভয়—সবকিছু এক নিমেষে তার মনের পর্দায় ভিড় করে এল। কিন্তু এবার সে এই কষ্টগুলোকে নিজের দুর্বলতা হতে দিল না; বরং সেগুলোকে বানাল তার নতুন শক্তির উৎস। নিজের সব অতীতকে ঢেলে দিয়ে সে স্কেচ করতে শুরু করল:
একটি নেকলেস : যেটির ডিজাইন দেখতে কিছুটা ভাঙা, কিন্তু খুব সুন্দরভাবে আবার জোড়া লাগানো।
একটি আংটি : একটি ভাঙা বৃত্তের মতো নকশা, কিন্তু ঠিক তার মাঝখান থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে এক অদ্ভুত আলো।
এক জোড়া কানের দুল : যার একটি অংশ ভীষণ শক্ত, অন্য অংশটি ভাঙা; কিন্তু তারপরও তারা একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।

সেদিন সন্ধ্যা নামার আগেই ফিনিক্স জুয়েলারির প্রথম ঐতিহাসিক কালেকশন—"Rebirth collection" -এর পুরো কাজ শেষ হলো। বেইজিংয়ের মাটিতে ইনায়ার নতুন সাম্রাজ্য গড়ার প্রথম ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে গেল।

.
.

আভা গ্রুপের সাথে পাইলট কোলাবোরেশনটি অফিশিয়ালি শুরু হওয়ার পর থেকেই ইনায়ার জীবন এক তীব্র ব্যস্ততার মুখে পড়ল।  তার তৈরি করা "Rebirth Collection" বা পুনর্জন্ম কালেকশনটি আভা গ্রুপের বোর্ড মেম্বারদের দ্বারা অনুমোদিত হতেই কাজের চাপ হুহু করে বাড়তে লাগল। চীনের ফ্যাশন ডিপার্টমেন্ট, আভা গ্রুপের মূল ডিজাইন টিম এবং ইনায়ার নিজস্ব জুয়েলারি ইউনিট—সবাই একসাথে দিনরাত এক করে কাজ করা শুরু করল।
নতুন করে সাপ্লায়ার ফাইনাল করা, গয়না তৈরির নিজস্ব ওয়ার্কশপ সেটআপ করা, নিখুঁত পাথরের সন্ধান করা এবং দক্ষ একটি প্রোডাকশন টিম হায়ার করার মতো প্রতিটি খুঁটিনাটি কাজ সে নিজের কাঁধে তুলে নিল। আভা গ্রুপের লাক্সারি ড্রেস লাইনের সাথে মিলিয়ে জুয়েলারির ম্যাচিং ডিজাইনগুলো ফাইনাল করার সময় প্রতিটি ছোট বিষয় সে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে রিভিউ করছিল।
এই হাড়ভাঙা খাটুনির পর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেল তাদের প্রথম নমুনা গয়না। ইনায়ার টেবিলের ওপর যখন প্রথম স্যাম্পল হিসেবে "Rebirth Necklace" এনে রাখা হলো, সে মন্ত্রমুগ্ধের মতো কিছুক্ষণ শুধু সেটির দিকে তাকিয়ে রইল। এই নেকলেসের ডিজাইনটা যেন অবিকল তার নিজের ভাঙা জীবনেরই এক রূপক প্রতিচ্ছবি—যা একসময় চুরমার হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আজ তা সুন্দর এবং শক্তভাবে আবার জোড়া লেগেছে। অ্যারিসের সাথে ডিভোর্স, বুক খালি করে আইরাকে ফেলে আসা আর নিজের পেটে বেড়ে ওঠা অনাগত সন্তানের গোপন সত্য—সব যন্ত্রণার ছাপ যেন লুকিয়ে ছিল ওই ডিজাইনে। ইনায়া নেকলেসটি ছুঁয়ে স্পষ্ট গলায় বলল, "Approved।"

আভা গ্রুপের ডিজাইন হেড যখন সেই প্রথম স্যাম্পলটি নিজের চোখে দেখলেন, তিনি ইনায়ার দিকে তাকিয়ে সরাসরি প্রশংসা করে বললেন, "এটি শুধু কোনো গয়না নয়... এটি একটি আস্ত গল্প।"
ইনায়া তার ভেতরের সমস্ত আবেগ চেপে রেখে শান্তভাবে জবাব দিল, "ঠিক তাই।"
আভা গ্রুপের পক্ষ থেকে তখনই তাকে একটি বড় সুখবর জানানো হলো। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই বিশেষ কালেকশনটি আভা গ্রুপের আগামী বড় ফ্যাশন রানওয়ে শো-তে শোকেস করা হবে। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে থাকা নামী লাক্সারি বায়ারদের জন্য এটি একটি লিমিটেড এডিশন হিসেবে লঞ্চ করা হবে এবং ব্র্যান্ডের নাম থাকবে "Phoenix x Ava Collaboration"। ইনায়ার নতুন ক্যারিয়ারের জন্য এটি একটি বিশাল বড় সাফল্য ছিল। কিন্তু ইনায়া বাইরে কোনো উত্তেজনাই প্রকাশ করল না। সে শুধু সামান্য মাথা নেড়ে মতো বলল, "চলুন, সামনের দিকে এগোনো যাক।"

বাইরে কর্পোরেট দুনিয়ায় এত বড় সাফল্যের আলো জ্বললেও, ইনায়ার ব্যক্তিগত জীবনটা কিন্তু তখন এক নিঝুম নিস্তব্ধতায় ঢাকা ছিল। নতুন ফ্ল্যাটের চার দেয়ালের মাঝে রাত হলেই তার চেনা একাকীত্ব ফিরে আসত। গভীর রাতে একা টেবিলে বসে যখন সে ল্যাপটপে তার ডিজাইনগুলো আরও নিখুঁত করার কাজ করত, তখন হুট করেই তার মনে পড়ে যেত ফেলে আসা ছোট্ট মেয়ে আইরার মুখের কথা। বুকের ভেতর তোলপাড় করে উঠত অ্যারিসের সাথে কাটানো অতীতের সব ভাঙা মুহূর্ত আর যন্ত্রণার স্মৃতি। সে অ্যারিসকে ভালোবাসত বলেই তো অজ্ঞাত শত্রুদের হাত থেকে ওদের বাঁচাতে নিজে দূরে সরে এসেছে। নিজের শরীরের ভেতরে অন্য এক প্রাণের অস্তিত্ব টের পেয়েও সে আর আগের মতো ভেঙে পড়ল না। সে শুধু শক্ত করে চোখ দুটো বন্ধ করল এবং চোখের জলকে ভেতরে চেপে রেখে জানালার কাঁচের পাশে গিয়ে দাঁড়াল ইনায়া। কাঁচের গায়ে প্রতিফলিত নিজের অবয়বের দিকে তাকিয়ে সে নিজেকে নিজে খুব ধীর গলায় বলল, "আমি টিকে গেছি। এবার আমি গড়ে তুলব।" ঠিক তখনই আভা গ্রুপ থেকে পরবর্তী ধাপের একটি বড় আপডেট এল। রানওয়ে শোর আর মাত্র ৩ সপ্তাহ বাকি। এই রানওয়ে শো-টাই আসলে নির্ধারণ করে দেবে যে ফিনিক্স জুয়েলারি ভবিষ্যতে একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে কি না।
কাজের ব্যস্ততায় ডুবে থাকা ইনায়ার পড়ার টেবিলে হঠাৎ করেই ফোনটা কেঁপে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই তার বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 44 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন