— " এতক্ষণে আসার সময় হলো বুঝি?
সায়মা একটু ভয় পেয়ে যায় ইভানের কথাতে ! সে তোতলাতে থাকে — " না মানে..... আসলে..... আমি না.... একটু........."
— "তুমি একটু?"
— " আমি "
— " তুমি?"
সায়মা কিছু বলতে পারছে না। তার মনে হচ্ছে ইভান হয়তো তাকে বকা দিবে। তবে সে তো শুধু একটু গিফট কিনতে গিয়েছিল।
ইভান উঠে এসে সায়মা কে জড়িয়ে ধরে, " বেশিক্ষণ দূরে থাকবে না বুঝলে? তোমাকে নিয়ে আমার ভীষণ চিন্তা হয়.। এমনিতেই পিচ্চি মানুষ তার উপর কিছু হলে ভীষণ কষ্ট পাবো!"
সায়মার চোখে পানি এসে যায়। যা গড়িয়ে গিয়ে ইভানের কাঁধে পড়ে। ইভান টের পেয়ে সায়মা কে তার সামনে দাঁড় করায়।
" কি হলো কাঁদছো কেনো? কেউ কিছু বলেছে? আমাকে বলো?
সায়মা ফুপিয়ে উঠে বলে, "তুমি এত ভালো কেনো?"
ইভান মুচকি হেসে বলে, "তোমার হাজব্যান্ড যে তাই!"
— " আমার না মাঝে মাঝে ভয় হয় যদি তুমি আমায় ছেড়ে চলে যাও?? আমি এমনিতেই দেখতে কা..........."
বাকি কথা শেষ করার আগে ইভান সায়মার ঠোঁটে আঙুল রেখে চুপ করিয়ে দেয়
— " শশশশশশ, এই কথা যেনো আর কোনোদিন ও না শুনি মুখে, এমনকি নিজের ভাবনাতে ও না.. আমি তোমাকে এই ইহজীবনে ছাড়ছি না! কারণ তোমায় আমি ভীষণ ভালোবাসি বউ .. understand????? You are only mine and I'm only your ......."
সায়মা কান্না নিয়েই হেসে দেয়, মাথা উপর নিচ করে মানে সে বুঝেছে । এরপর তার গিফট বের করে দেয় ।ইভান দেখেই খুশি, কত গুলো চুমু দেয় সায়মা কে। সায়মার চোখ বড় বড় হয়ে যায়. এমন হুট করে চুমু দিলে ভয় তো পাবেই !
— এই ঘড়িটা আমার জীবনের বেস্ট ঘড়ি। আমি সারা জীবনে এইটা হাত থেকে খুলবো না "
ইভানের এমন কথাতে সায়মা কিছুটা লজ্জা পায়।
________
সন্ধ্যাবেলা যখন সবাই হোটেল থেকে বাইরে বের হওয়ার জন্য জড়ো হলো, ইভানের তীক্ষ্ণ নজরে পড়ল অ্যারিসের হাতের ব্যান্ডেজটি। ইভান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, "ভাইয়া, তোমার হাতে কী হয়েছে?"
অ্যারিস হালকাভাবে এড়িয়ে গিয়ে বলল, "তেমন কিছু না।"
ইভান এবার ভ্রু কুঁচকে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমির সুরে বলল, "ভাবী, তোমরা কি মারামারি করেছ নাকি?
ইনায়া মুচকি হেসে জবাব দিল, "না তো। রুমে গিয়ে দেখি একাই নিজেকে মেরে রক্তাক্ত করে বসে আছে।"
কথাটা শুনে সবাই আড়ালে একটু হেসে নিলো।
একটু পর রোহান এসে ইনায়ার হাতে একটি নতুন ফোন বক্স তুলে দিল— লেটেস্ট Samsung S24 Ultra, আর 'Dior Sauvage Eau de Toilette' পারফিউম। ইনায়া তা অ্যারিস কে দেয়। অ্যারিস পারফিউমটা দেখে বলে, " আমি তো অন্যটা ইউজ করি!"
— "জানি "
— " তাহলে এইটা কেনো দিলে?"
— ওইটা ঘ্রাণ অনেক বেশি স্ট্রং , এইটা লাইট তাই দিয়েছি। খবরদার! আবার রাগ করে এটাও ভেঙে ফেলো না যেন।"
অ্যারিস অসহায় ভঙ্গিতে মাথা নাড়িয়ে নেড়ে জানালো, "এমন ভুল আর হবে না।"
পরদিন সবাই মিলে কক্সবাজারের আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখল। ঘুরাঘুরির মাঝখানে রোহান হঠাৎ ইনায়ার পাশে এসে চুপিচুপি বলল, "বস, এখানে ইষানের ফোনের লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে। ও আশেপাশেই কোথাও আছে।"
ইনায়া বেশ বিরক্ত হলো কথাটা শুনে। এই ছেলে তার হাতে মরতে চায় তাতে কোনো সন্দেহ নেই!
ইনায়া শান্ত গলায় বলল, "এখানে সবাই একসাথে আছে, আমি চাই না কোনো ঝামেলা হোক। ওকে খুঁজে বের করো, তারপর অজ্ঞান করে সোজা ঢাকা পাঠিয়ে দিয়ে আসো।"
রোহান হাসিমুখে বলল, "বুদ্ধিটা মন্দ না!"— রোহান তার লোকদের ফোন করতেই কাজ শুরু হয়ে গেল।
ইষানকে পিছন থেকে ক্লোরোফোম দিয়ে অজ্ঞান করে গাড়িতে তুলে ঢাকার একটি হাসপাতালে রেখে আসা হলো। যেনো আর কোনো ঝামেলা করতে না পারে।
ফেরার সময় হয়ে এলে, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল দিনের আলোতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। অ্যারিসের হাতে ব্যান্ডেজ থাকায় এবার ইনায়া ড্রাইভ করল। দীর্ঘ পথ ড্রাইভ করে দিনের আলো ফুরানোর আগেই সবাই নিরাপদে নিজ নিজ বাসায় ফিরে এল।