ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি

পর্ব 54

লেখক: F. Tabassum

অ্যারিস চায়নাতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা আর নিজের কেয়ার দিয়ে যেন তার সমস্ত সত্তা দিয়ে আগলে রেখেছে ইনায়াকে। নিজের হাতে খাইয়ে দেওয়া, চুল শুকিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে পায়ের তলা মালিশ করে দেওয়া— এমন কোনো কাজ নেই যা সে করেনি।
নীলা অবাক হয়ে দেখত, একজন মানুষ কাউকে কতটা পাগলের মতো ভালোবাসলে এতটা করতে পারে! তবে মুখে কিছু বলতো না। বললেই অ্যারিস বকা দেয়। যেহেতু নীলার স্মৃতি নেই তাই উল্টা পাল্টা কথা বলে ফেলে যা শুনলে অ্যারিসের মেজাজ প্রচুর খারাপ হয়। এর জন্যই বকা দেয়......

এভাবেই কেটে গেল দশটি দিন।

সেদিন সকালবেলা অ্যারিস জিম থেকে ফিরে আসতেই দেখল নীলা রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছে। বারবার ডাকার পরেও কোনো সাড়া শব্দ নেই। অ্যারিসের বুকের ভেতরটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠল। তাঁর চেঁচামেচি আর দরজায় ধাক্কা দেওয়ার শব্দ শুনে ইভান, সায়মা, আদিয়ান, সুবা ও দৌড়ে চলে এলো। সবাই আতঙ্কে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে, আর বলছে, "নীলা দরজা খোলো!"
ঠিক তখনই খট করে দরজাটা খুলে গেল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে সবার চোখ কপালে ওঠার দশা! খুঁজে পাওয়ার পর থেকে যে মেয়েটি সবসময় সালোয়ার কামিজ পরত, সে আজ কালো টি-শার্ট আর প্যান্ট চোখের দৃষ্টিতে সেই আগের চিরচেনা তীক্ষ্ণতা আর আভিজাত্য।
সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে সে পরিষ্কার ভাষায় বলে উঠল, "আই অ্যাম নট নীলা, আই অ্যাম ইনায়া ফোং!"

অ্যারিসের কানে যেন অমৃত বর্ষণ হলো। ইনায়া স্মৃতি ফিরে পেয়েছে! আনন্দের আতিশয্যে অ্যারিস এক মুহূর্ত দেরি না করে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরল, "আই লাভ ইউ সো মাচ ইনায়া, আই মিস ইউ সো মাচ!" বলেই সে ইনায়ার গালে এলোপাথাড়ি কিস করা শুরু করল, যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না তার ইনু ফিরে এসেছে।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আদিয়ান নাক কুঁচকে বলল, "আরে ভাই থাম! আমি তোর বড়, একটু তো জায়গা-কাল বিবেচনা কর।"
কিন্তু অ্যারিসের তখন দুনিয়া ভুলে যাওয়ার দশা, সে তার হারানো প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

খবরটা দ্রুত আফরিন সুলতানা, আনিসুর রহমান, শামীমা বেগম , জিয়ান ফেং-কে জানানো হলো। তারা ভীষণ খুশি মেয়ে-পুত্রবধূকে ফিরে পেয়ে।
ফোন করে ইনায়ার সাথে কথা বলে, ইনায়া আগের করা ব্যবহারের জন্য মাফ চায় !

বাংলাদেশে ইষান গত কয়েক দিনে সে যেন নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। চোখের নিচে গভীর কালো ছায়া, গাল দুটো ভেঙে বসে গেছে— তাকে দেখলে এখন চেনা দায়। তার মুখে এখন কেবল একটাই আর্তনাদ, একটাই প্রার্থনা— সে শুধু তার ইনায়াকে ফিরে পেতে চায়। নিজের মন বিড়বিড় করে— যার জন্য আমি মরি, তার কি আমাকে মনে করে?
ইনায়াকে ব্লক করে দেওয়ায়, ইনায়ার কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না ইষান। উন্মাদনার এক পর্যায়ে মনে পড়ল মারিয়ার কথা। ইষান সাথে সাথে এক বুক আশা নিয়ে মারিয়াকে মেসেজ পাঠাল, ইনায়ার খবর জানতে চেয়ে তার সেই আকুতি ছিল করুন। মারিয়া যখন মেসেজটা দেখল, তার মনটা খারাপ হয়ে গেল। এই পর্যায়ে এসেও ইষান ইনায়ার জন্য এতটা পাগলামি করছে! তা ছিল তার ভাবনার বাইরে। তবুও মায়াজড়িত ইনায়ার রিসেন্টলি পোস্ট করা ছবিগুলো ইষানকে দেয়। ইষান যখন কাঁপতে কাঁপতে ফোনের স্ক্রিনে ছবিগুলো ওপেন করল, তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। এক মুহূর্তও বুঝতে দেরি হলো না যে, ইনায়া স্মৃতি ফিরে পেয়েছে। ইষানের মনে হলো তার হৃৎপিণ্ডটা কেউ ছিঁড়ে নিয়েছে। সে ফোনের স্ক্রিনে ইনায়ার হাসিমুখটা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চেপে ধরল সেই নিস্প্রাণ ছবিটাকে। অস্ফুট সুরে, ভরা গলায় সে গেয়ে উঠল এক বিচ্ছেদের সুর —

"তুমি যে আমায় ছেড়ে,
চলে গেছে অনেক দূরে..
সুখে আছো শুনলাম আমি,
ভাসাইয়া আমায় সুরে..
আমারে পড়লে মনে,
তুমিও কাইন্দো গোপনে
সুখে থাকো প্রাণের প্রিয়,
আমার ভালোবাসা নিও...
আমি এক এমন পাখি,
বুকেতে কষ্ট রাখি
মুখে তে দেখাই হাসি,
যেন আমি সুখ নিবাসী।"

গানের প্রতিটি শব্দ যেন তার বুক চিরে বেরিয়ে আসছিল। দুই চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরে ফোনের স্ক্রিনটা ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছিল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 54 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন